Product gallery

Chlorphen0.5%

Eye/Ear Drop

Chloramphenicol

MRP ৩০.০০১০ % ডিস্কাউন্ট
Best PriceTk ২৭.০০/10 ml drop
Section

বিকল্প

Price
Section

Medicine overview

নির্দেশনা

চোখে ব্যবহারের ক্ষেত্রে (আই ড্রপ / আই মলম) — প্রতিষ্ঠিত ব্যবহার

Chlorphen আই ড্রপ (০.৫%) ও আই মলম (১%) চোখের উপরিভাগের ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, যেমন ব্যাকটেরিয়াল কনজাংটিভাইটিস এবং কর্নিয়া/কনজাংটিভার অন্যান্য সংক্রমণে ব্যবহৃত হয়, যা Staphylococcus aureus, Streptococcus pneumoniae, Escherichia coli, Haemophilus influenzae, Klebsiella/Enterobacter প্রজাতি, Moraxella lacunata এবং Neisseria প্রজাতির মতো সংবেদনশীল জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট হয়ে থাকে। Chlorphen চোখের সংক্রমণে একটি প্রতিষ্ঠিত ও নির্দেশিকা-সমর্থিত প্রথম সারির স্থানীয় (topical) চিকিৎসা। সামান্য বা এমনিতেই সেরে যাওয়ার মতো সংক্রমণে বা কেবল প্রতিরোধমূলকভাবে Chlorphen ব্যবহার করা উচিত নয়।

মুখে খাওয়ার ক্ষেত্রে (ক্যাপসুল / সাসপেনশন) — কেবল গুরুতর সংক্রমণে সংরক্ষিত

মুখে খাওয়ার Chlorphen শুধুমাত্র গুরুতর, প্রাণঘাতী হতে পারে এমন সংক্রমণের জন্য সংরক্ষিত, যেখানে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়, প্রতিনির্দেশিত, বা পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে রয়েছে টাইফয়েড জ্বর (Salmonella typhi ও অন্যান্য Salmonella প্রজাতি), Haemophilus influenzae দ্বারা সৃষ্ট ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস এবং গুরুতর রিকেটসিয়াল সংক্রমণ। সাধারণ সর্দি-কাশি, ভাইরাল ইনফ্লুয়েঞ্জা বা সাধারণ গলাব্যথার মতো সামান্য সংক্রমণে বা প্রতিরোধমূলকভাবে Chlorphen কখনোই ব্যবহার করা উচিত নয়। মারাত্মক অস্থিমজ্জা বিষক্রিয়ার ঝুঁকির কারণে (সতর্কতা অংশ দেখুন), মুখে খাওয়ার Chlorphen কেবল চিকিৎসক ও রক্ত পরীক্ষার নিবিড় তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করা হয়।

থেরাপিউটিক ক্লাস

থেরাপিউটিক শ্রেণি: অ্যান্টিবায়োটিক (অ্যামফেনিকল গোত্র) — স্থানীয় (চোখে ব্যবহারযোগ্য) ও সিস্টেমিক (মুখে খাওয়ার) উভয় প্রকার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল।

ঔষধ শ্রেণি: অ্যামফেনিকল অ্যান্টিবায়োটিক; ব্রড-স্পেকট্রাম অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল।

উপাদান: প্রতিটি ফরমুলেশনে সক্রিয় উপাদান হিসেবে শুধু Chlorphen থাকে। বাংলাদেশে Chlorphen নিম্নোক্ত রূপে পাওয়া যায় - আই ড্রপ (Chlorphen ০.৫% w/v), আই মলম (Chlorphen ১% w/w), ক্যাপসুল (Chlorphen ২৫০ মি.গ্রা.) এবং ওরাল সাসপেনশন (Chlorphen ১২৫ মি.গ্রা./৫ মি.লি.)।

সংক্ষিপ্ত বিবরণ: Chlorphen একটি ব্রড-স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিক যা দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন উপায়ে ব্যবহৃত হয়। আই ড্রপ বা আই মলম হিসেবে Chlorphen ব্যাকটেরিয়াল কনজাংটিভাইটিস ও চোখের উপরিভাগের সংক্রমণে একটি সাধারণ ও সাধারণত ভালোভাবে সহনীয় চিকিৎসা। অন্যদিকে ক্যাপসুল বা সাসপেনশন আকারে Chlorphen একটি শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক যা টাইফয়েড জ্বরের মতো গুরুতর সংক্রমণে সংরক্ষিত থাকে, কারণ সিস্টেমিক Chlorphen বিরল কিন্তু মারাত্মক অস্থিমজ্জা বিষক্রিয়া (অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া) এবং নবজাতকদের ক্ষেত্রে গ্রে বেবি সিনড্রোম নামক প্রাণঘাতী প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বহন করে। এই কারণে মুখে খাওয়ার Chlorphen কেবল চিকিৎসকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করা উচিত, যদিও চোখে ব্যবহারযোগ্য Chlorphen এখনও চোখের সংক্রমণে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

ফার্মাকোলজি

Chloramphenicol একটি ব্রড-স্পেকট্রাম, মূলত ব্যাকটেরিওস্ট্যাটিক (জীবাণুর বৃদ্ধি রোধকারী) অ্যান্টিবায়োটিক। Chloramphenicol ব্যাকটেরিয়া কোষে প্রবেশ করে ব্যাকটেরিয়ার রাইবোজোমের 50S সাব-ইউনিটের সাথে বিপরীতমুখীভাবে (reversibly) যুক্ত হয়, যা পেপটিডিল ট্রান্সফারেজ বিক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে এবং ক্রমবর্ধমান পেপটাইড শৃঙ্খলে অ্যামিনো অ্যাসিড স্থানান্তর প্রতিরোধ করে - এভাবে ব্যাকটেরিয়ার প্রোটিন সংশ্লেষণ বন্ধ হয়ে যায়। এই ক্রিয়া গ্রাম-পজিটিভ ও গ্রাম-নেগেটিভ উভয় ধরনের জীবাণু, রিকেটসিয়া এবং কিছু অ্যানএরোবিক জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকর। মুখে খাওয়ার পর Chloramphenicol ভালোভাবে শোষিত হয়, ১ গ্রাম মাত্রার পর প্রায় ১-৩ ঘণ্টার মধ্যে সর্বোচ্চ রক্ত-ঘনত্ব (প্রায় ১১ mcg/mL) পৌঁছায়; Chloramphenicol যকৃত, বৃক্ক এবং সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড (মেনিনজেসের প্রদাহ না থাকলেও ব্লাড-ব্রেন ব্যারিয়ার অতিক্রম করে) সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে, এবং মূলত যকৃতে গ্লুকুরোনিডেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপাক হয়। নবজাতক ও কম বয়সী শিশুদের যকৃতের গ্লুকুরোনিডেশন ক্ষমতা অপরিণত থাকায় Chloramphenicol তাদের শরীরে বিষাক্ত মাত্রায় জমা হতে পারে (দেখুন - শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার অংশে গ্রে বেবি সিনড্রোম)। চোখে প্রয়োগের পর সিস্টেমিক শোষণ খুবই সামান্য, তাই চোখে ব্যবহারযোগ্য ফরমুলেশনের ক্ষেত্রে সিস্টেমিক ফার্মাকোকাইনেটিক প্রভাব সাধারণত প্রাসঙ্গিক নয়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

Chlorphen-এর মাত্রা ও সেবনবিধি ফরমুলেশন ও নির্দেশনা অনুযায়ী উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন হয়, এবং সর্বদা একজন যোগ্য চিকিৎসকের দ্বারা নির্ধারিত হতে হবে - নিচের তথ্য একটি সাধারণ নির্দেশিকা মাত্র, সব রোগী বা সব সংক্রমণের জন্য একই মাত্রা প্রযোজ্য নয়।

ফরমুলেশননির্দেশনাজনগোষ্ঠীসাধারণ মাত্রা
আই ড্রপ (Chlorphen ০.৫%)ব্যাকটেরিয়াল কনজাংটিভাইটিস / চোখের উপরিভাগের সংক্রমণপ্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুআক্রান্ত চোখে প্রতি ১-৪ ঘণ্টা অন্তর ১-২ ফোঁটা (তীব্র পর্যায়ে সাধারণত প্রথম ৭২ ঘণ্টায় দিনে ৪-৬ বার), উন্নতি হলে ব্যবহারের মাত্রা কমানো হয়; সাধারণত চিকিৎসার মেয়াদ প্রায় ৭ দিন এবং চিকিৎসকের পুনঃমূল্যায়ন ছাড়া ৩ সপ্তাহের বেশি চালিয়ে যাওয়া উচিত নয়।
আই মলম (Chlorphen ১%)ব্যাকটেরিয়াল কনজাংটিভাইটিস / চোখের উপরিভাগের সংক্রমণপ্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুনিচের নেত্রপল্লবের ভেতরে দিনে ৩-৪ বার (প্রতি ৪-৬ ঘণ্টা অন্তর) প্রায় ১ সেন্টিমিটার পরিমাণ মলম প্রয়োগ, অথবা দিনের বেলার ড্রপের পাশাপাশি রাতে শোবার আগে একবার, চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী।
ক্যাপসুল / সাসপেনশনগুরুতর সিস্টেমিক সংক্রমণ (যেমন টাইফয়েড জ্বর), যেখানে নিরাপদ অ্যান্টিবায়োটিক উপযুক্ত নয়প্রাপ্তবয়স্কপ্রতি ৬ ঘণ্টা অন্তর বিভক্ত মাত্রায় দৈনিক ৫০ মি.গ্রা./কেজি; কম সংবেদনশীল জীবাণুর ক্ষেত্রে নিবিড় রক্ত পরীক্ষার তত্ত্বাবধানে দৈনিক ১০০ মি.গ্রা./কেজি পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে এবং যত দ্রুত সম্ভব কমিয়ে আনা হয়।
ক্যাপসুল / সাসপেনশনগুরুতর সিস্টেমিক সংক্রমণনবজাতক-উত্তর শিশুপ্রতি ৬ ঘণ্টা অন্তর বিভক্ত মাত্রায় দৈনিক ৫০ মি.গ্রা./কেজি; গুরুতর সংক্রমণে বিশেষজ্ঞ তত্ত্বাবধানে ও রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে দৈনিক ১০০ মি.গ্রা./কেজি পর্যন্ত ব্যবহার করা যেতে পারে।
ক্যাপসুল / সাসপেনশনগুরুতর সিস্টেমিক সংক্রমণনবজাতকযকৃতের অপরিণত বিপাক ক্ষমতার কারণে বিশেষজ্ঞ (শিশু/নবজাতক বিশেষজ্ঞ) দ্বারা পৃথকভাবে নির্ধারিত মাত্রা প্রয়োজন; প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী বড় শিশুদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম মাত্রা ব্যবহৃত হয়, সাথে সিরাম মাত্রা ও রক্ত পরীক্ষার বাধ্যতামূলক পর্যবেক্ষণ থাকে। বিশেষজ্ঞের নির্দেশনা ছাড়া কখনও নিজে থেকে দেওয়া উচিত নয়।
ক্যাপসুল / সাসপেনশনযকৃত বা বৃক্কের কার্যক্ষমতা হ্রাসপ্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুমাত্রা হ্রাস ও ঘন ঘন পর্যবেক্ষণ সুপারিশ করা হয়; সুনির্দিষ্ট সমন্বয় চিকিৎসক অঙ্গের কার্যক্ষমতা ও সম্ভব হলে সিরাম Chlorphen মাত্রার ভিত্তিতে ঠিক করেন।

প্রয়োগ পদ্ধতি

আই ড্রপ: হাত ধুয়ে নিন, মাথা পেছনে হেলিয়ে নিচের নেত্রপল্লব আলতোভাবে টেনে একটি ফোঁটা ফেলুন, চোখ বন্ধ করে ভেতরের কোণায় প্রায় এক মিনিট আলতো চাপ দিন যাতে ঔষধ নাক দিয়ে চলে না যায়।

আই মলম: একইভাবে নেত্রপল্লব টেনে প্রায় ১ সেন্টিমিটার মলম প্রয়োগ করুন এবং চোখ বন্ধ করে আলতোভাবে পলক ফেলুন; রাতে শোবার আগে প্রয়োগ করলে ঔষধ দীর্ঘক্ষণ কার্যকর থাকে।

ক্যাপসুল/সাসপেনশন: ক্যাপসুল পূর্ণ গ্লাস পানি দিয়ে গিলে নিন; সাসপেনশন প্রতিবার ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাপক দিয়ে মাপুন (সাধারণ চামচ নয়); সমান বিরতিতে (সাধারণত প্রতি ৬ ঘণ্টা) সেবন করুন এবং চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া কোর্স মাঝপথে বন্ধ করবেন না। কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহারকারীরা Chlorphen প্রয়োগের আগে লেন্স খুলে রাখবেন এবং সফট লেন্স পরার আগে শেষ মাত্রার পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করবেন।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

  • ফেনিটোইন: Chlorphen ফেনিটোইনের যকৃতে বিপাক বাধাগ্রস্ত করে, ফলে রক্তে ফেনিটোইনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে এবং বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে; মাত্রা সমন্বয় ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হতে পারে।
  • ওয়ারফারিন জাতীয় অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট: Chlorphen এদের বিপাক বাধাগ্রস্ত করে প্রভাব বাড়িয়ে দেয়, ফলে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়; একসাথে ব্যবহারে INR নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
  • টলবিউটামাইড ও সংশ্লিষ্ট সালফোনাইলইউরিয়া: Chlorphen এই ঔষধগুলোর বিপাক ধীর করে দেয়, যা রক্তে শর্করা কমানোর প্রভাব বাড়িয়ে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
  • সাইক্লোফসফামাইড: Chlorphen এই ঔষধ সক্রিয় করার জন্য প্রয়োজনীয় যকৃতের বিপাক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে পারে; চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া একসাথে ব্যবহার করা উচিত নয়।
  • রিফাম্পিন: রিফাম্পিন যকৃতের এনজাইম সক্রিয় করে Chlorphen-এর বিপাক বাড়িয়ে দেয়, ফলে রক্তে Chlorphen-এর মাত্রা কমে যেতে পারে এবং এর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল কার্যকারিতা হ্রাস পেতে পারে।
  • অস্থিমজ্জা দমনকারী অন্যান্য ঔষধ (যেমন কিছু অ্যান্টিনিওপ্লাস্টিক ঔষধ): Chlorphen-এর সাথে একসাথে ব্যবহার করলে অস্থিমজ্জার বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়, তাই সাধারণত এড়িয়ে চলা উচিত (দেখুন সতর্কতা অংশে অস্থিমজ্জা বিষক্রিয়া)।
  • এরিথ্রোমাইসিন, ক্লিন্ডামাইসিন বা লিনকোমাইসিন: এই অ্যান্টিবায়োটিকগুলো রাইবোজোমের একই এলাকায় কাজ করে বলে Chlorphen-এর সাথে একত্রে ব্যবহারে উভয়ের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে; একসাথে ব্যবহার সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়।
  • ভিটামিন B12, আয়রন বা ফলিক অ্যাসিড (রক্তস্বল্পতার চিকিৎসায়): Chlorphen ব্যবহারকালে এসব ঔষধের প্রতি রক্তের সাড়া কমিয়ে দিতে পারে।
  • কাইমোট্রিপসিন (চোখে ব্যবহারের ক্ষেত্রে): চোখে Chlorphen ও কাইমোট্রিপসিন একসাথে ব্যবহার করলে কাইমোট্রিপসিনের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

প্রতিনির্দেশনা

  • Chloramphenicol বা এর যেকোনো উপাদানের প্রতি জানা অ্যালার্জি বা অতি-সংবেদনশীলতা থাকলে।
  • পূর্বে Chloramphenicol ব্যবহারে অ্যালার্জিজনিত বা গুরুতর বিষক্রিয়াজনিত প্রতিক্রিয়ার ইতিহাস থাকলে।

সাধারণ সর্দি-কাশি, ভাইরাল ইনফ্লুয়েঞ্জা বা সাধারণ গলাব্যথার মতো সামান্য সংক্রমণে অথবা প্রতিরোধমূলকভাবে Chloramphenicol কখনোই ব্যবহার করা উচিত নয়; এটি অ্যালার্জিভিত্তিক প্রতিনির্দেশনা না হলেও, সামান্য অসুখের তুলনায় Chloramphenicol-এর সম্ভাব্য গুরুতর বিষক্রিয়ার কারণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লিনিক্যাল সীমাবদ্ধতা।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

চোখে ব্যবহারের ক্ষেত্রে (আই ড্রপ / আই মলম)

সাধারণ: প্রয়োগের সময় সাময়িক জ্বালাপোড়া বা চোখ কামড়ানো, চোখ লাল হওয়া, চুলকানি এবং সামান্য জ্বালা।

গুরুতর - দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: অ্যালার্জি বা অতি-সংবেদনশীলতার লক্ষণ (চোখের চারপাশে র‍্যাশ, ফোলাভাব, ফুসকুড়িজনিত ত্বকীয় প্রতিক্রিয়া); দীর্ঘমেয়াদী বা বারবার চোখে ব্যবহারে বিরল ক্ষেত্রে রক্তের সমস্যা দেখা দিতে পারে (দেখুন সতর্কতা অংশে অস্থিমজ্জা বিষক্রিয়া) - অস্বাভাবিক কালশিটে পড়া, রক্তক্ষরণ বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে ঔষধ বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

মুখে খাওয়ার ক্ষেত্রে (ক্যাপসুল / সাসপেনশন)

সাধারণ: বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া ও মাথাব্যথা; সামান্য ত্বকীয় র‍্যাশ।

গুরুতর - দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: অস্থিমজ্জা দমন বা অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ার লক্ষণ যেমন অস্বাভাবিক কালশিটে পড়া বা রক্তক্ষরণ, গলাব্যথা, জ্বর বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি (সম্পূর্ণ ব্যাখ্যার জন্য সতর্কতা অংশ দেখুন); দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে অপটিক নিউরাইটিস (দৃষ্টি ঝাপসা বা কমে যাওয়া) ও পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি; নবজাতক ও কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে গ্রে বেবি সিনড্রোমের লক্ষণ - পেট ফোলা, বমি, ধীরে ধীরে ধূসর-নীলাভ ত্বকের রং, শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়া (দেখুন শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার অংশ); এবং তীব্র অ্যালার্জি/অ্যানাফাইল্যাক্সিসের লক্ষণ (শ্বাসকষ্ট, মুখ ফুলে যাওয়া, তীব্র র‍্যাশ)।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থা

মানুষের গর্ভাবস্থায় Chlorphen ব্যবহার সম্পর্কে তথ্য সীমিত; নিয়ন্ত্রিত গবেষণায় এর নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং প্রাণীদেহে গবেষণার তথ্যও সুস্পষ্ট নয়। Chlorphen প্লাসেন্টা অতিক্রম করতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হলো গর্ভাবস্থার শেষভাগে, প্রসবের কাছাকাছি সময়ে ব্যবহার, যা নবজাতকের মধ্যে গ্রে বেবি সিনড্রোমের মতো গুরুতর প্রতিক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত পাওয়া গেছে, কারণ নবজাতক Chlorphen পর্যাপ্তভাবে বিপাক করতে পারে না (দেখুন শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার অংশ)। এই কারণে, বিশেষত মুখে খাওয়ার/সিস্টেমিক Chlorphen গর্ভাবস্থায় কেবল তখনই ব্যবহার করা উচিত যখন চিকিৎসক মনে করেন সম্ভাব্য উপকারিতা ভ্রূণ/নবজাতকের সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি, এবং বিকল্প থাকলে প্রসবের কাছাকাছি সময়ে Chlorphen এড়িয়ে চলা উচিত। চোখে ব্যবহারযোগ্য ফর্মের সিস্টেমিক শোষণ অনেক কম, তবুও গর্ভাবস্থায় কেবল চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত।

স্তন্যদান

মুখে খাওয়ার/সিস্টেমিক Chlorphen বুকের দুধে এমন পরিমাণে প্রবেশ করতে পারে যা স্তন্যপান করা শিশুর মধ্যে বমি, অতিরিক্ত গ্যাস এবং ঘুম ঘুম ভাবের মতো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে; দুধে ঘনত্ব তুলনামূলক কম থাকায় শুধু স্তন্যদানের মাধ্যমে প্রকৃত গ্রে বেবি সিনড্রোম হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হয়, তবে অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ার বিরল, মাত্রা-নির্ভরহীন ঝুঁকি একেবারে বাতিল করা যায় না। এই কারণে, বিশেষত নবজাতক বা অপরিণত শিশুর মায়েদের ক্ষেত্রে স্তন্যদানকালে বিকল্প অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা সাধারণত অগ্রাধিকার পায়; মুখে খাওয়ার Chlorphen অপরিহার্য হলে শিশুকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চোখে ব্যবহারযোগ্য Chlorphen শিশুর শরীরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নেই, তবুও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত।

সতর্কতা

  • অস্থিমজ্জা বিষক্রিয়া / অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া (মূল সতর্কতা): সিস্টেমিক Chlorphen গুরুতর এবং কখনও কখনও প্রাণঘাতী রক্তের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। দুটি স্বতন্ত্র ধরন চিহ্নিত করা হয়েছে - একটি অনুমানযোগ্য, মাত্রা-নির্ভর, বিপরীতমুখী (reversible) ধরন যা সাধারণত ঔষধ বন্ধ করলে সেরে যায় এবং হালকা রক্তস্বল্পতা, প্লেটলেট বা শ্বেত রক্তকণিকা কমে যাওয়ার কারণ হয়; এবং একটি বিরল, অনুমানের অতীত, মাত্রা-নিরপেক্ষ এবং প্রায়শই অপরিবর্তনীয় (irreversible) ধরন যা প্রাণঘাতী অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ায় রূপ নিতে পারে, যার ঝুঁকি আনুমানিক প্রতি ২৪,০০০ থেকে ৪০,০০০ চিকিৎসাপ্রাপ্ত রোগীর মধ্যে ১ জন, এবং কখনও কখনও চিকিৎসা শেষ হওয়ার সপ্তাহ থেকে মাস পরেও দেখা দিতে পারে। এই ঝুঁকির কারণে, মুখে খাওয়ার Chlorphen শুধুমাত্র গুরুতর সংক্রমণে সংরক্ষিত রাখা উচিত যেখানে নিরাপদ বিকল্প উপযুক্ত নয়, চিকিৎসার আগে এবং চিকিৎসাকালে নিয়মিত (নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রায় প্রতি দুই দিন অন্তর) রক্ত পরীক্ষা করা উচিত, এবং রেটিকুলোসাইটোপেনিয়া, লিউকোপেনিয়া, থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া বা রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে দ্রুত ঔষধ বন্ধ করা উচিত। দীর্ঘমেয়াদী বা বারবার চোখে ব্যবহারেও বিরল ক্ষেত্রে রক্তের সমস্যা দেখা যাওয়ার প্রতিবেদন রয়েছে, তাই Chlorphen আই ড্রপ/মলমের বারবার কোর্স এড়িয়ে চলা উচিত।
  • গ্রে বেবি সিনড্রোম (নবজাতক/শিশু): নবজাতক ও কম বয়সী শিশুদের মধ্যে যারা Chlorphen পর্যাপ্তভাবে বিপাক করতে পারে না, তাদের মধ্যে সম্ভাব্য প্রাণঘাতী বিষক্রিয়া; সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা ও সতর্কতা লক্ষণের জন্য শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার অংশ দেখুন।
  • শুধুমাত্র গুরুতর সংক্রমণে সংরক্ষিত: মুখে খাওয়ার Chlorphen সামান্য সংক্রমণ, সর্দি-কাশি, ভাইরাল ইনফ্লুয়েঞ্জা বা সাধারণ গলাব্যথায় ব্যবহার করা উচিত নয়, এবং প্রতিরোধমূলকভাবেও ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ নিরাপদ অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর হলে এর গুরুতর বিষক্রিয়ার ঝুঁকি নেওয়ার যৌক্তিকতা থাকে না।
  • বারবার বা দীর্ঘমেয়াদী কোর্স এড়িয়ে চলুন: চোখে বা মুখে যেভাবেই ব্যবহার করা হোক না কেন, Chlorphen-এর বারবার কোর্স রক্তের সমস্যার সম্মিলিত ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়; চোখে ব্যবহারের কোর্স সাধারণত চিকিৎসকের পুনঃমূল্যায়ন ছাড়া প্রায় ৩ সপ্তাহের বেশি হওয়া উচিত নয়।
  • যকৃত ও বৃক্কের কার্যক্ষমতা: Chlorphen যকৃতে বিপাক হয় এবং নিষ্কাশন কমে গেলে এর মাত্রা বেড়ে যেতে পারে বলে, যকৃত বা বৃক্কের কার্যক্ষমতা হ্রাসপ্রাপ্ত রোগীদের ক্ষেত্রে মুখে খাওয়ার/সিস্টেমিক ফর্মের মাত্রা সমন্বয় ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ সুপারিশ করা হয়।
  • অস্থিমজ্জা দমনকারী অন্যান্য ঔষধ এড়িয়ে চলুন: Chlorphen-এর সাথে অস্থিমজ্জা দমনকারী অন্য ঔষধ একসাথে ব্যবহার করলে রক্তের বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় (দেখুন ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া)।
  • দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসায় স্নায়বিক বিষক্রিয়া: দীর্ঘমেয়াদী সিস্টেমিক Chlorphen ব্যবহারে অপটিক নিউরাইটিস ও পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথির প্রতিবেদন রয়েছে; দৃষ্টিতে পরিবর্তন বা অস্বাভাবিক অসাড়তা/ঝিনঝিন অনুভূতি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসককে জানান।

মাত্রাধিক্যতা

Chlorphen-এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট বিষাক্ত মাত্রার সীমা প্রতিষ্ঠিত হয়নি, এবং অতিরিক্ত মাত্রার প্রভাব ফরমুলেশন, মাত্রা ও রোগীর বয়সভেদে পরিবর্তিত হয়। মুখে খাওয়ার/সিস্টেমিক অতিরিক্ত মাত্রার উল্লেখযোগ্য প্রভাবের মধ্যে রয়েছে পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা (বমি বমি ভাব, বমি), এবং বিশেষত নবজাতক, শিশু বা অত্যন্ত উচ্চ সিস্টেমিক এক্সপোজারের ক্ষেত্রে গ্রে বেবি সিনড্রোমের মতো লক্ষণ, যেমন পেট ফোলা, খেতে অসুবিধা, শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়া, ধীরে ধীরে ধূসর-নীলাভ ত্বকের রং, মেটাবলিক অ্যাসিডোসিস এবং সংবহনতন্ত্রের বিপর্যয়, যা একটি জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি। এর কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক (antidote) নেই; চিকিৎসা সহায়ক (supportive) এবং হাসপাতালে প্রদান করা হয়। Chlorphen-এর (মুখে খাওয়ার, বা কম সম্ভাবনায় চোখে ব্যবহারযোগ্য) অতিরিক্ত মাত্রার সন্দেহ হলে, চিকিৎসক বা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ছাড়া বমি করানোর চেষ্টা করবেন না, এবং অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা সেবা বা জাতীয় বিষ তথ্য/জরুরি সেবায় যোগাযোগ করুন, ঔষধের প্যাকেজিং সাথে নিয়ে যান।

সংরক্ষণ

পণ্যের গায়ে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী Chlorphen সংরক্ষণ করুন। সাধারণভাবে, ক্যাপসুল ও সাসপেনশন ঠান্ডা, শুষ্ক স্থানে সরাসরি আলো ও তাপ থেকে দূরে রাখুন এবং সাসপেনশনের মুখ শক্তভাবে বন্ধ রাখুন; কিছু Chlorphen আই ড্রপ পণ্য খোলার পর রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করতে হয় এবং লেবেলে উল্লিখিত সময়ের (সাধারণত খোলার প্রায় ৪ সপ্তাহের মধ্যে) পর তা ফেলে দিতে হয় - পণ্যভেদে সংরক্ষণের নির্দেশনা ভিন্ন হতে পারে বলে নির্দিষ্ট পণ্যের লেবেল দেখে নিন। সকল Chlorphen পণ্য শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর ব্যবহার করবেন না।

শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার

গ্রে বেবি সিনড্রোম (মূল ব্যাখ্যা)

নবজাতক, বিশেষত অপরিণত (প্রিম্যাচিউর) শিশু এবং কম বয়সী শিশুদের যকৃতের গ্লুকুরোনিডেশন প্রক্রিয়া ও বৃক্কের কার্যক্ষমতা অপরিণত থাকে, ফলে তারা বড় শিশু বা প্রাপ্তবয়স্কদের মতো দক্ষতার সাথে Chlorphen নিষ্কাশন করতে পারে না। উচ্চ মাত্রা, দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার, বা যথাযথ মাত্রা সমন্বয় ও পর্যবেক্ষণ ছাড়া নবজাতক পর্যায়ে ব্যবহারের ফলে সিস্টেমিক (মুখে খাওয়ার বা ইনজেকশনযোগ্য) Chlorphen শরীরে জমা হলে গ্রে বেবি সিনড্রোম নামক বিষাক্ত প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এটি সাধারণত উচ্চ-মাত্রার চিকিৎসার প্রায় ৩-৪ দিন পর দেখা দেয় এবং এর বৈশিষ্ট্য হলো - খাওয়াতে অসুবিধা, বমিসহ বা বমি ছাড়া পেট ফোলা, খিটখিটে ভাব, ধীরে ধীরে ফ্যাকাশে বা ধূসর-নীলাভ ত্বকের রং, শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়া এবং সংবহনতন্ত্রের বিপর্যয় (vasomotor/cardiovascular collapse), যা দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা না করলে প্রাণঘাতী হতে পারে; প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে সাথে সাথে ঔষধ বন্ধ করলে অবস্থার উন্নতি হতে পারে। এই ঝুঁকির কারণে, নবজাতক ও কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে সিস্টেমিক Chlorphen শুধুমাত্র বিশেষজ্ঞ (শিশু/নবজাতক বিশেষজ্ঞ) তত্ত্বাবধানে দেওয়া উচিত, শিশুর বয়স অনুযায়ী পৃথকভাবে মাত্রা নির্ধারণ এবং সম্ভব হলে সিরাম মাত্রা পর্যবেক্ষণসহ, এবং নিরাপদ বিকল্প অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারযোগ্য হলে Chlorphen সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা উচিত।

বড় শিশু

নবজাতক পর্যায়ের পরে, মুখে খাওয়ার Chlorphen-এর মাত্রা শরীরের ওজন অনুযায়ী নির্ধারিত হয় (দেখুন মাত্রা সংক্রান্ত টেবিল), তবে প্রাপ্তবয়স্কদের মতো একই অস্থিমজ্জা বিষক্রিয়ার ঝুঁকির কারণে Chlorphen এখনও শুধুমাত্র গুরুতর সংক্রমণের জন্য সংরক্ষিত থাকে যেখানে নিরাপদ অ্যান্টিবায়োটিক উপযুক্ত নয় (দেখুন সতর্কতা অংশ)। চোখে ব্যবহারযোগ্য Chlorphen আই ড্রপ/মলম সকল বয়সের শিশুদের ব্যাকটেরিয়াল কনজাংটিভাইটিসে সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়, প্রাপ্তবয়স্কদের মতোই একই নির্দেশনা অনুসরণ করে, চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী।

বয়স্ক রোগী

বয়স্কদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মাত্রা সংক্রান্ত গবেষণা সীমিত। সিস্টেমিক Chlorphen-এর অস্থিমজ্জা বিষক্রিয়ার ঝুঁকি সরাসরি বয়সের সাথে সম্পর্কিত না হলেও, সামগ্রিক শারীরবৃত্তীয় সক্ষমতা ও অঙ্গের কার্যক্ষমতা বয়সের সাথে কমতে থাকে বলে, বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে মুখে খাওয়ার Chlorphen সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত, যকৃত ও বৃক্কের কার্যক্ষমতার প্রতি বিশেষ নজর এবং নিবিড় রক্ত পরীক্ষার পর্যবেক্ষণসহ।

বৃক্ক ও যকৃতের কার্যক্ষমতা হ্রাস

বৃক্ক বা যকৃতের কার্যক্ষমতা হ্রাসপ্রাপ্ত রোগীদের ক্ষেত্রে মুখে খাওয়ার/সিস্টেমিক Chlorphen-এর মাত্রা সমন্বয় ও ঘন ঘন পর্যবেক্ষণ সুপারিশ করা হয়, যা চিকিৎসক ব্যক্তিভেদে নির্ধারণ করেন। চোখে ব্যবহারযোগ্য Chlorphen-এর সিস্টেমিক শোষণ সামান্য হওয়ায় সাধারণত মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন হয় না।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

Q: Chlorphen 0.5% Eye/Ear Drop কী কাজে ব্যবহৃত হয়?

A: Chlorphen 0.5% Eye/Ear Drop একটি অ্যান্টিবায়োটিক যা প্রধানত দুইভাবে ব্যবহৃত হয় - আই ড্রপ বা আই মলম হিসেবে ব্যাকটেরিয়াল কনজাংটিভাইটিস ও চোখের উপরিভাগের অন্যান্য সংক্রমণে, এবং ক্যাপসুল বা সাসপেনশন হিসেবে গুরুতর সংক্রমণে (যেমন টাইফয়েড জ্বর) যখন নিরাপদ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা যায় না।

Q: Chlorphen 0.5% Eye/Ear Drop আই ড্রপ কি মুখে খাওয়ার Chlorphen 0.5% Eye/Ear Drop-এর মতোই?

A: না। উভয়েই একই সক্রিয় উপাদান Chlorphen 0.5% Eye/Ear Drop ধারণ করে, তবে চোখে ব্যবহারযোগ্য ফর্ম (আই ড্রপ/মলম) স্থানীয়ভাবে চোখে কাজ করে এবং শরীরে সামান্যই শোষিত হয়, অন্যদিকে মুখে খাওয়ার ফর্ম সম্পূর্ণভাবে শরীরে শোষিত হয় এবং এর সাথে বিরল কিন্তু গুরুতর অস্থিমজ্জা বিষক্রিয়ার ঝুঁকি জড়িত, যা চোখে ব্যবহারযোগ্য ফর্মের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়।

Q: Chlorphen 0.5% Eye/Ear Drop-এর মাত্রা কীভাবে নির্ধারিত হয়?

A: Chlorphen 0.5% Eye/Ear Drop-এর মাত্রা, ফরমুলেশন ও চিকিৎসার মেয়াদ একজন যোগ্য চিকিৎসক দ্বারা সংক্রমণের ধরন ও তীব্রতা, রোগীর বয়স, ওজন এবং অঙ্গের কার্যক্ষমতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। সব রোগী বা সব সংক্রমণের জন্য প্রযোজ্য এমন কোনো একক মাত্রা Chlorphen 0.5% Eye/Ear Drop-এর নেই - সবসময় আপনার চিকিৎসকের নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

Q: গর্ভাবস্থায় কি Chlorphen 0.5% Eye/Ear Drop ব্যবহার করা যায়?

A: বিশেষত মুখে খাওয়ার/সিস্টেমিক Chlorphen 0.5% Eye/Ear Drop গর্ভাবস্থায় কেবল তখনই ব্যবহার করা উচিত যখন চিকিৎসক মনে করেন উপকারিতা ঝুঁকির চেয়ে বেশি, কারণ গর্ভাবস্থার শেষভাগে ব্যবহার নবজাতকের মধ্যে গ্রে বেবি সিনড্রোমের মতো গুরুতর প্রতিক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত পাওয়া গেছে। নিরাপদ বিকল্প না থাকলে প্রসবের কাছাকাছি সময়ে Chlorphen 0.5% Eye/Ear Drop সাধারণত এড়িয়ে চলা উচিত।

Q: শিশু ও নবজাতকের জন্য Chlorphen 0.5% Eye/Ear Drop কি নিরাপদ?

A: চোখে ব্যবহারযোগ্য Chlorphen 0.5% Eye/Ear Drop সকল বয়সের শিশুদের চোখের সংক্রমণে চিকিৎসকের পরামর্শে সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। তবে মুখে খাওয়ার/সিস্টেমিক Chlorphen 0.5% Eye/Ear Drop নবজাতক ও কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে গ্রে বেবি সিনড্রোম নামে একটি বিশেষ ঝুঁকি বহন করে, যা তাদের অপরিণত নিষ্কাশন ক্ষমতার কারণে হয়, তাই এই বয়সে Chlorphen 0.5% Eye/Ear Drop শুধুমাত্র বিশেষজ্ঞের নিবিড় তত্ত্বাবধানে সতর্ক মাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণসহ দেওয়া হয়।

Q: Chlorphen 0.5% Eye/Ear Drop-এর সবচেয়ে গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কী?

A: মুখে খাওয়ার/সিস্টেমিক Chlorphen 0.5% Eye/Ear Drop-এর সবচেয়ে গুরুতর ঝুঁকি হলো অস্থিমজ্জা বিষক্রিয়া, যা বিরল ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া সৃষ্টি করতে পারে; এটি পর্যবেক্ষণের জন্য নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা হয়। নবজাতকদের ক্ষেত্রে সিস্টেমিক Chlorphen 0.5% Eye/Ear Drop গ্রে বেবি সিনড্রোমও সৃষ্টি করতে পারে। চোখে ব্যবহারযোগ্য Chlorphen 0.5% Eye/Ear Drop সাধারণত ভালোভাবে সহনীয়, যদিও দীর্ঘমেয়াদী বা বারবার ব্যবহারে বিরল ক্ষেত্রে রক্তের সমস্যার সাথেও সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

Q: Chlorphen 0.5% Eye/Ear Drop কি অন্য ঔষধের সাথে মিথষ্ক্রিয়া করে?

A: হ্যাঁ। মুখে খাওয়ার Chlorphen 0.5% Eye/Ear Drop ফেনিটোইন ও ওয়ারফারিন জাতীয় অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্টের মতো ঔষধের যকৃতে বিপাক ধীর করে দিয়ে তাদের রক্তের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, এবং সাধারণত অস্থিমজ্জা দমনকারী অন্য ঔষধের সাথে একত্রে ব্যবহার করা উচিত নয়। Chlorphen 0.5% Eye/Ear Drop শুরু করার আগে আপনি যেসব ঔষধ সেবন করছেন তা সবসময় চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জানান।

Q: ভালো বোধ করলেই কি Chlorphen 0.5% Eye/Ear Drop বন্ধ করা যায়?

A: না। Chlorphen 0.5% Eye/Ear Drop আই ড্রপ, মলম বা মুখে খাওয়ার ক্যাপসুল/সাসপেনশন যেভাবেই ব্যবহার করা হোক না কেন, চিকিৎসকের নির্ধারিত সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করা উচিত যতক্ষণ না চিকিৎসক বন্ধ করতে বলেন, কারণ আগেই বন্ধ করলে সংক্রমণ থেকে যেতে পারে বা ফিরে আসতে পারে, এবং Chlorphen 0.5% Eye/Ear Drop-এর বারবার ছোট কোর্স সম্মিলিত ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

Q: Chlorphen 0.5% Eye/Ear Drop-এর একটি মাত্রা মিস হয়ে গেলে কী করব?

A: Chlorphen 0.5% Eye/Ear Drop-এর কোনো মাত্রা মিস হয়ে গেলে, মনে পড়ামাত্র তা সেবন করুন। যদি পরবর্তী মাত্রার সময় প্রায় হয়ে যায়, তাহলে মিস হওয়া মাত্রাটি বাদ দিয়ে নিয়মিত সময়সূচী অনুসরণ করুন - চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মিস হওয়া মাত্রা পূরণের জন্য দ্বিগুণ মাত্রা সেবন করবেন না।

ডিসক্লেইমার

এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।

Doctor
Cart
Account