Product gallery

Domaid5 mg/5 ml

Oral Suspension

Domperidone Maleate

MRP ৩৫.০০১০ % ডিস্কাউন্ট
Best PriceTk ৩১.৫০/60 ml bottle
Section

বিকল্প

Price
Section

Medicine overview

নির্দেশনা

ডম্পেরিডন ম্যালেয়েট একটি পেরিফেরালি অ্যাক্টিং ডোপামিন অ্যান্টাগোনিস্ট এবং প্রোকাইনেটিক এজেন্ট, যা উপরের পরিপাকতন্ত্রের গতিশীলতা সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা এবং বিভিন্ন কারণে সৃষ্ট বমি বমি ভাব ও বমির উপসর্গগত উপশমে নির্দেশিত।

ডিসপেপটিক উপসর্গ কমপ্লেক্স

ডম্পেরিডন ফাংশনাল ডিসপেপসিয়া এবং প্রায়ই পাকস্থলী খালি হতে বিলম্ব, গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স (GERD), এবং ইসোফ্যাজাইটিসের সাথে সম্পর্কিত ডিসপেপটিক উপসর্গের ব্যবস্থাপনায় নির্দেশিত, যার মধ্যে রয়েছে:

  • এপিগ্যাস্ট্রিক ভারবোধ — খাবার খাওয়ার পর উপরের পেটে ভারী বা চাপ অনুভূতি
  • পেট ফোলা অনুভূতি — পেট ফাঁপা ও পেট ফুলে যাওয়া
  • উপরের পেটে ব্যথা — এপিগ্যাস্ট্রিক অঞ্চলে অস্বস্তি বা ব্যথা
  • ঢেঁকুর তোলা — অতিরিক্ত গ্যাসের কারণে বারবার অনিচ্ছাকৃত ঢেঁকুর
  • পেট ফাঁপা — পরিপাকতন্ত্রে অতিরিক্ত গ্যাস
  • দ্রুত পেট ভরে যাওয়া — অল্প পরিমাণ খাবার খাওয়ার পরও পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি (গ্যাস্ট্রোপেরেসিসের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য)
  • ডিসপেপসিয়ার সাথে সম্পর্কিত বমি বমি ভাব ও বমি
  • মুখে পাকস্থলীর উপাদান উঠে আসা বা না আসাসহ বুক জ্বালাপোড়া
  • নন-আলসার ডিসপেপসিয়া — গঠনগত কোনো কারণ ছাড়া ফাংশনাল ডিসপেপসিয়া

তীব্র বমি বমি ভাব ও বমি

ডম্পেরিডন বিভিন্ন কারণে সৃষ্ট তীব্র বমি বমি ভাব ও বমির উপসর্গগত উপশমে নির্দেশিত, যার মধ্যে রয়েছে:

  • ফাংশনাল উৎস — পরিপাকতন্ত্রের গতিশীলতা সমস্যা সম্পর্কিত বমি বমি ভাব
  • অর্গানিক উৎস — সিস্টেমিক বা অর্গানিক রোগের কারণে বমি বমি ভাব
  • সংক্রামক উৎস — গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস এবং অন্যান্য সংক্রমণের সাথে সম্পর্কিত বমি বমি ভাব ও বমি
  • খাদ্যতান্ত্রিক উৎস — খাদ্যগত অসতর্কতা বা খাদ্য অসহনশীলতা থেকে সৃষ্ট বমি বমি ভাব
  • ওষুধ-জনিত বমি বমি ভাব ও বমি — ডোপামিনার্জিক ওষুধের সাথে সম্পর্কিতসহ
  • রেডিওথেরাপি-জনিত বমি বমি ভাব ও বমি
  • মাইগ্রেন-সম্পর্কিত বমি বমি ভাব ও বমি — মাইগ্রেনের আক্রমণের সময় পাকস্থলী খালি হওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুততর করে ডম্পেরিডন ওরাল অ্যান্টিমাইগ্রেন ওষুধের শোষণও উন্নত করতে পারে

পারকিনসন্স রোগ

পারকিনসন্স রোগীদের ক্ষেত্রে ডোপামিন অ্যাগোনিস্ট দ্বারা সৃষ্ট বমি বমি ভাব ও বমির (যেমন, লেভোডোপা, ব্রোমোক্রিপ্টিন, রোপিনিরোল, প্রামিপেক্সোল, অ্যাপোমরফিন) ব্যবস্থাপনায় ডম্পেরিডন বিশেষভাবে নির্দেশিত। থেরাপিউটিক মাত্রায় ডম্পেরিডন রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধক (ব্লাড-ব্রেইন ব্যারিয়ার) অতিক্রম করে না বলে, এটি ডোপামিনার্জিক থেরাপির মোটর ফাংশনের উপর কেন্দ্রীয় থেরাপিউটিক প্রভাবকে বাধা না দিয়েই পেরিফেরাল পরিপাকতন্ত্রের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করে।

রেডিওলজিক্যাল স্টাডি

পরিপাকতন্ত্রের ফলো-থ্রু রেডিওলজিক্যাল স্টাডিতে বেরিয়ামের চলাচল দ্রুততর করতে ডম্পেরিডন ব্যবহার করা যেতে পারে, যা এই ডায়াগনস্টিক পদ্ধতিগুলোর মান ও দক্ষতা উন্নত করে।

থেরাপিউটিক ক্লাস

Motility Stimulants, Motility stimulants/Dopamine antagonist, Prokinetic drugs

ফার্মাকোলজি

ডম্পেরিডন ম্যালেয়েট একটি বেনজিমিডাজল ডেরিভেটিভ এবং নির্বাচিত ডোপামিন D2/D3 রিসেপ্টর অ্যান্টাগোনিস্ট, যার অ্যান্টিইমেটিক এবং গ্যাস্ট্রিক প্রোকাইনেটিক উভয় ধরনের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এর অনন্য ফার্মাকোলজিক্যাল প্রোফাইল — কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে ন্যূনতম অনুপ্রবেশসহ পেরিফেরাল কার্যকারিতা — একে মেটোক্লোপ্রামাইড ও প্রোক্লোরপেরাজিনের মতো অন্যান্য ডোপামিন অ্যান্টাগোনিস্ট অ্যান্টিইমেটিক থেকে আলাদা করে।

কার্যপ্রণালী (Mechanism of Action)

ডম্পেরিডন দুটি গুরুত্বপূর্ণ শারীরস্থানিক স্থানে ডোপামিন D2 ও D3 রিসেপ্টর বাধা দিয়ে তার প্রভাব প্রদর্শন করে:

১. কেমোরিসেপ্টর ট্রিগার জোন (CTZ) — অ্যান্টিইমেটিক প্রভাব

CTZ মস্তিষ্কের এরিয়া পোস্টরেমায় অবস্থিত, যা রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধকের বাইরে থাকে। ডম্পেরিডন CTZ-এ পৌঁছে সেখানকার ডোপামিন রিসেপ্টর বাধা দেয়, যা বমি কেন্দ্রের ডোপামিন-নিয়ন্ত্রিত উদ্দীপনা প্রতিরোধ করে। এর ফলে মস্তিষ্কের বাকি অংশে উল্লেখযোগ্যভাবে অনুপ্রবেশ না করেই এটি শক্তিশালী অ্যান্টিইমেটিক (বমি বমি ভাব/বমি প্রতিরোধী) প্রভাব প্রদর্শন করে।

২. পরিপাকতন্ত্র — গ্যাস্ট্রোপ্রোকাইনেটিক প্রভাব

ডোপামিন সাধারণত অন্ত্রের প্রাচীরের D2 রিসেপ্টরে কাজ করে পরিপাকতন্ত্রের গতিশীলতা বাধা দেয়। এই পেরিফেরাল ডোপামিন রিসেপ্টর বাধা দিয়ে, ডম্পেরিডন উপরের পরিপাকতন্ত্রের গতিশীলতায় সমন্বিত উন্নতি ঘটায়, বিশেষত:

  • উপরের পরিপাকতন্ত্রের স্বাভাবিক গতিশীলতা ও টোন পুনরুদ্ধার করে
  • পাকস্থলী খালি হওয়ার প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুততর করে — পাকস্থলীতে খাবার থাকার সময় কমিয়ে দেয়
  • অ্যানট্রাল ও ডিউডেনাল পেরিস্টালসিস বৃদ্ধি করে — খাবারকে পাকস্থলী থেকে ছোট অন্ত্রে নিয়ে যাওয়ার সমন্বিত পেশী সংকোচন উন্নত করে
  • পাইলোরিক সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে — পাইলোরিক স্ফিংক্টারের সমন্বিত খোলা ও বন্ধ হওয়াকে স্বাভাবিক করে
  • ইসোফেজিয়াল পেরিস্টালসিস বাড়ায় — খাদ্যনালী থেকে রিফ্লাক্স হওয়া উপাদান পরিষ্কার হওয়ার প্রক্রিয়া উন্নত করে
  • নিম্ন ইসোফেজিয়াল স্ফিংক্টার (LES)-এর চাপ বাড়ায় — পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালীতে ফিরে আসা কমায়, ফলে গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ও রিগার্জিটেশন প্রতিরোধ করে

রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধকের নির্বাচনশীলতা — মূল নিরাপত্তা সুবিধা

ডম্পেরিডনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফার্মাকোলজিক্যাল বৈশিষ্ট্য হলো এর অক্ষত রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধক অতিক্রম করার ক্ষমতা অত্যন্ত দুর্বল। মেটোক্লোপ্রামাইডের বিপরীতে, যা সহজেই কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে প্রবেশ করে স্ট্রায়াটাল D2 রিসেপ্টর বাধা দেয়, ডম্পেরিডন থেরাপিউটিক মাত্রায় মূলত পেরিফেরাল রক্তসংবহনেই থেকে যায়। ফলস্বরূপ:

  • অক্ষত রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধকসম্পন্ন প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে থেরাপিউটিক মাত্রায় এটি প্রায় কোনো কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রীয় ডোপামিনার্জিক বাধা সৃষ্টি করে না
  • স্বাভাবিক অবস্থায় প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি কোনো সাইকোট্রপিক (তন্দ্রা, উদ্বেগ, বিষণ্নতা) বা এক্সট্রাপিরামিডাল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (পারকিনসনিজম, অ্যাকাথিসিয়া, টারডিভ ডিসকাইনেশিয়া) ঘটায় না
  • পারকিনসন্স রোগে ব্যবহৃত ডোপামিনার্জিক ওষুধের কেন্দ্রীয় থেরাপিউটিক প্রভাবে হস্তক্ষেপ করে না

গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম: নবজাতক ও কম বয়সী শিশুদের (১ বছরের কম) ক্ষেত্রে রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধক সম্পূর্ণরূপে পরিণত হয়নি, এবং রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধকের অখণ্ডতা ব্যাহত হয়েছে এমন রোগীদের (মাথায় আঘাত, মেনিনজাইটিস, স্ট্রোক) ক্ষেত্রে ডম্পেরিডনের স্নায়বিক প্রভাব সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া যায় না।

প্রোল্যাক্টিন নিঃসরণ

পিটুইটারি গ্রন্থি রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধকের বাইরে অবস্থিত হওয়ায়, ডম্পেরিডন পিটুইটারি ল্যাক্টোট্রফ কোষে পৌঁছে প্রোল্যাক্টিন নিঃসরণের উপর ডোপামিনের বাধাদানকারী প্রভাব প্রতিরোধ করতে পারে। এর ফলে প্রোল্যাক্টিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায় (হাইপারপ্রোল্যাক্টিনেমিয়া), যা একইসাথে একটি সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং একটি ক্লিনিক্যাল ব্যবহার উভয় ক্ষেত্রেই প্রাসঙ্গিক — দুধ উৎপাদন কম এমন স্তন্যপান করানো মায়েদের ক্ষেত্রে দুধ উৎপাদন (গ্যালাক্টোরিয়া) বাড়াতে ডম্পেরিডন কখনো কখনো অফ-লেবেল ব্যবহৃত হয়।


ফার্মাকোকাইনেটিক্স

  • শোষণ: ওরাল প্রয়োগের পর পরিপাকতন্ত্র থেকে দ্রুত শোষিত হয়। উল্লেখযোগ্য ফার্স্ট-পাস হেপাটিক বিপাকের কারণে ওরাল বায়োঅ্যাভেইলেবিলিটি প্রায় ১৫%। খাবারের ১৫–৩০ মিনিট আগে ডম্পেরিডন সেবন করলে বায়োঅ্যাভেইলেবিলিটি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় (খাবারের ১৫–৩০ মিনিট আগে সেবনে সর্বোচ্চ প্লাজমা ঘনত্ব খাবারের পরে সেবনের চেয়ে ৬০% বেশি হয়)।
  • সর্বোচ্চ প্লাজমা ঘনত্ব (Cmax): ওরাল ডোজ গ্রহণের প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে পৌঁছায়।
  • বিতরণ: শরীরের টিস্যুতে ব্যাপকভাবে বিতরিত হয়। প্লাজমা প্রোটিনের সাথে সংযুক্তি কম (প্রায় ৯০%)। বিতরণ আয়তন বড় (প্রায় ৫.৭ লিটার/কেজি), যা ব্যাপক টিস্যু সংযুক্তি নির্দেশ করে।
  • বিপাক: লিভারে CYP3A4 (প্রধান পথ) এবং CYP1A2 ও CYP2E1-এর মাধ্যমেও ব্যাপকভাবে বিপাকিত হয়। এই ব্যাপক ফার্স্ট-পাস বিপাক এর কম ওরাল বায়োঅ্যাভেইলেবিলিটির কারণ ব্যাখ্যা করে।
  • অর্ধায়ু (Half-life): স্বাভাবিক লিভার ও কিডনি কার্যকারিতাসম্পন্ন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা। গুরুতর কিডনি কার্যকারিতা হ্রাসপ্রাপ্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এটি প্রায় ২০.৮ ঘণ্টা পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হয়।
  • নিষ্কাশন: মূলত মলের মাধ্যমে (প্রায় ৬৬% মেটাবোলাইট হিসেবে) এবং কিছুটা কম পরিমাণে প্রস্রাবের মাধ্যমে (প্রায় ৩১%) নিষ্কাশিত হয়। প্রস্রাবে শুধুমাত্র অত্যন্ত সামান্য পরিমাণ অপরিবর্তিত ওষুধ নিষ্কাশিত হয়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

ডম্পেরিডন খাবারের ১৫ থেকে ৩০ মিনিট আগে এবং প্রয়োজনে ঘুমাতে যাওয়ার আগে সেবন করা উচিত। সর্বোত্তম শোষণ ও গ্যাস্ট্রোপ্রোকাইনেটিক প্রভাবের জন্য এই সময় গুরুত্বপূর্ণ। সবসময় আপনার নিবন্ধিত চিকিৎসকের নির্ধারিত ডোজ অনুসরণ করুন। নিজে থেকে ওষুধ সেবন করবেন না।

প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে — ওরাল (ট্যাবলেট বা সাসপেনশন)


ইনডিকেশন ডোজ প্রয়োগের মাত্রা সর্বোচ্চ দৈনিক ডোজ
ডিসপেপটিক উপসর্গ কমপ্লেক্স (সাধারণ) ১০–২০ মি.গ্রা. (১–২টি ট্যাবলেট অথবা ১০–২০ মি.লি. সাসপেনশন) প্রতি ৬–৮ ঘণ্টায় ৮০ মি.গ্রা./দিন
তীব্র বমি বমি ভাব ও বমি (সাব-অ্যাকিউট অবস্থা) ২০ মি.গ্রা. (২টি ট্যাবলেট অথবা ২০ মি.লি. সাসপেনশন) প্রতি ৬–৮ ঘণ্টায় ৮০ মি.গ্রা./দিন

বিঃদ্রঃ তীব্র বমি বমি ভাব ও বমির ক্ষেত্রে, ওরাল চিকিৎসার সর্বোচ্চ সুপারিশকৃত সময়কাল ১২ সপ্তাহ

শিশুদের ক্ষেত্রে — ওরাল (সাসপেনশন বা পেডিয়াট্রিক ড্রপস)


ইনডিকেশন ডোজ প্রয়োগের মাত্রা
ডিসপেপটিক উপসর্গ কমপ্লেক্স শরীরের ওজনের ০.২–০.৪ মি.গ্রা./কেজি (প্রতি ১০ কেজিতে ২–৪ মি.লি. সাসপেনশন, অথবা প্রতি ১০ কেজিতে ০.৪–০.৮ মি.লি. পেডিয়াট্রিক ড্রপস) প্রতি ৬–৮ ঘণ্টায়
তীব্র বমি বমি ভাব ও বমি শরীরের ওজনের ০.২–০.৪ মি.গ্রা./কেজি (প্রতি ১০ কেজিতে ২–৪ মি.লি. সাসপেনশন, অথবা প্রতি ১০ কেজিতে ০.৪–০.৮ মি.লি. পেডিয়াট্রিক ড্রপস) প্রতি ৬–৮ ঘণ্টায়

প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে — রেক্টাল (সাপোজিটরি)


রোগীর গ্রুপ ডোজ প্রয়োগের মাত্রা
প্রাপ্তবয়স্ক (বয়স্করাসহ) ৩০–৬০ মি.গ্রা. প্রতি ৪–৮ ঘণ্টায়

শিশুদের ক্ষেত্রে — রেক্টাল (সাপোজিটরি)


শিশুর ওজন সর্বোচ্চ দৈনিক রেক্টাল ডোজ মন্তব্য
১০–২৫ কেজি ৩০ মি.গ্রা./দিন প্রয়োজনে দিনের বিভিন্ন সময়ে ভাগ করে দেওয়া যেতে পারে

বিঃদ্রঃ রেক্টাল চিকিৎসার সর্বোচ্চ সময়কাল ১২ সপ্তাহ

চিকিৎসার সময়কাল

উপসর্গ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় সবচেয়ে কম সময়ের জন্য ডম্পেরিডন ব্যবহার করা উচিত। বর্তমান নিয়ন্ত্রক সুপারিশ অনুযায়ী, চিকিৎসকের পর্যালোচনা ছাড়া নিজে থেকে ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে সাধারণত ৭ দিনের বেশি এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে বমি বমি ভাব ও বমির চিকিৎসার ক্ষেত্রে ১২ সপ্তাহের বেশি চিকিৎসা চালানো উচিত নয়। দীর্ঘস্থায়ী অবস্থার (যেমন, গ্যাস্ট্রোপেরেসিস, দীর্ঘস্থায়ী ডিসপেপসিয়া) ক্ষেত্রে ব্যবহার শুধুমাত্র চিকিৎসকের ক্রমাগত তত্ত্বাবধানে সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় চালিয়ে যাওয়া উচিত।

ওরাল ট্যাবলেট (স্ট্যান্ডার্ড ও ডিসপার্সিবল)

  • ডম্পেরিডন ট্যাবলেট খাবারের ১৫ থেকে ৩০ মিনিট আগে সেবন করুন। এই খাবার-পূর্ব সময় গুরুত্বপূর্ণ — খাবারের পর সেবনের তুলনায় খালি পেটে খাবারের আগে সেবন করলে বায়োঅ্যাভেইলেবিলিটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হয়।
  • রাতের ডোজের প্রয়োজন হলে (রাত্রিকালীন রিফ্লাক্স বা বমি বমি ভাবের জন্য), ঘুমাতে যাওয়ার আগে সেবন করুন।
  • স্ট্যান্ডার্ড ট্যাবলেট এক গ্লাস পানির সাথে পুরোটা গিলে ফেলুন।
  • ডিসপার্সিবল/মেল্টাব ট্যাবলেট: জিহ্বার উপর রাখুন এবং লালা বা এক চুমুক পানির সাহায্যে গেলার আগে গলে যেতে দিন — চিবানোর প্রয়োজন নেই। যেসব রোগী ট্যাবলেট গিলতে অসুবিধা বোধ করেন, তাদের জন্য এই ফর্মুলেশন বিশেষভাবে সুবিধাজনক।
  • ডম্পেরিডনের ঠিক একই সময়ে অ্যান্টাসিড বা অ্যান্টিসিক্রেটরি ওষুধ (যেমন, H2 ব্লকার, PPI) সেবন করবেন না, কারণ এগুলো ডম্পেরিডনের ওরাল বায়োঅ্যাভেইলেবিলিটি কমিয়ে দেয় (ওষুধ মিথস্ক্রিয়া দেখুন)।

ওরাল সাসপেনশন

  • প্রতিবার ব্যবহারের আগে বোতলটি ভালোভাবে ঝাঁকান।
  • প্রদত্ত মাপার চামচ বা ওরাল সিরিঞ্জ দিয়ে প্রতিটি ডোজ পরিমাপ করুন। সাধারণ ঘরোয়া চা-চামচ ব্যবহার করবেন না।
  • খাবারের ১৫ থেকে ৩০ মিনিট আগে প্রয়োগ করুন।
  • যেসব শিশু ট্যাবলেট গিলতে পারে না এবং যেসব প্রাপ্তবয়স্ক তরল ফর্মুলেশন পছন্দ করেন, তাদের জন্য ওরাল সাসপেনশন বিশেষভাবে উপযোগী।
  • লেবেলে নির্দেশিত অনুযায়ী খোলা বোতল সংরক্ষণ করুন (সাধারণত ৩০°সে-এর নিচে ঘরের তাপমাত্রায়) এবং খোলার পর নির্দিষ্ট শেলফ-লাইফের মধ্যে ব্যবহার করুন।

পেডিয়াট্রিক ড্রপস

  • শুধুমাত্র পণ্যের সাথে প্রদত্ত ক্যালিব্রেটেড ড্রপার ব্যবহার করুন। প্রতি ১ মি.লি.-তে ৫ মি.গ্রা. ডম্পেরিডন থাকে।
  • প্রতিটি খাবারের ১৫ থেকে ৩০ মিনিট আগে সঠিক ওজন-ভিত্তিক ডোজ প্রয়োগ করুন।
  • ড্রপস সরাসরি শিশুর মুখে দেওয়া যেতে পারে অথবা সামান্য পানি, দুধ বা ফর্মুলার সাথে মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
  • প্রতিবার ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ঝাঁকান।

সাপোজিটরি (রেক্টাল প্রয়োগ)

  • ওরাল প্রয়োগ সম্ভব না হলে সাপোজিটরি নির্দেশিত — উদাহরণস্বরূপ, তীব্র বমি হওয়া রোগী যারা ওরাল ওষুধ ধরে রাখতে পারেন না।
  • প্রয়োগের আগে ও পরে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন।
  • ঘরের তাপমাত্রায় সাপোজিটরি খুব নরম হয়ে গেলে, ব্যবহারের আগে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য (১০–১৫ মিনিট) ফ্রিজে রাখুন।
  • ফয়েল মোড়ক সরিয়ে, সূচালো প্রান্ত আগে দিয়ে আলতোভাবে সাপোজিটরি মলদ্বারে প্রবেশ করান।
  • পর্যাপ্ত শোষণের জন্য প্রবেশ করানোর পর রোগীর কয়েক মিনিট স্থির থাকা উচিত।
  • সাপোজিটরি ২৫°সে-এর নিচে সংরক্ষণ করুন — তাপে এগুলো নরম বা গলে যেতে পারে।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

অ্যান্টিকোলিনার্জিক ওষুধ (কার্যকারিতা হ্রাস)

অ্যান্টিকোলিনার্জিক ওষুধ (যেমন, অ্যাট্রোপিন, হায়োসিন, ডাইসাইক্লোভেরিন) ডম্পেরিডনের অ্যান্টিডিসপেপটিক ও গ্যাস্ট্রোপ্রোকাইনেটিক প্রভাবকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। অ্যাসিটাইলকোলিন পরিপাকতন্ত্রের গতিশীলতা বৃদ্ধিতে একটি প্রধান নিউরোট্রান্সমিটার; অ্যান্টিকোলিনার্জিক ওষুধ পরিপাকতন্ত্রের গতিশীলতা কমিয়ে দেয় এবং ডম্পেরিডনের প্রোকাইনেটিক প্রভাবের বিরোধিতা করে। ডম্পেরিডনের গ্যাস্ট্রোপ্রোকাইনেটিক প্রভাবই যখন চিকিৎসার প্রধান লক্ষ্য, তখন একসাথে ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত।

অ্যান্টাসিড ও অ্যান্টিসিক্রেটরি ওষুধ (শোষণ হ্রাস)

অ্যান্টাসিড (অ্যালুমিনিয়াম/ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রক্সাইড) এবং অ্যান্টিসিক্রেটরি ওষুধ (র‍্যানিটিডিনের মতো H2-রিসেপ্টর অ্যান্টাগোনিস্ট; ওমিপ্রাজলের মতো প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর) ডম্পেরিডনের সাথে একইসাথে দেওয়া উচিত নয়। এই ওষুধগুলো পাকস্থলীর ভেতরের পিএইচ বাড়িয়ে দেয়, যা ডম্পেরিডনের ওরাল বায়োঅ্যাভেইলেবিলিটি কমিয়ে দেয় (অম্লীয় পরিবেশে ডম্পেরিডন ভালোভাবে দ্রবীভূত হয়)। পর্যাপ্ত ডম্পেরিডন শোষণ নিশ্চিত করতে, খাবারের আগে ডম্পেরিডন সেবন করুন এবং অ্যান্টাসিড/অ্যান্টিসিক্রেটরি ওষুধের মধ্যে অন্তত ২ ঘণ্টার ব্যবধান রাখুন।

CYP3A4 বাধাদানকারী — ক্লিনিক্যালি গুরুত্বপূর্ণ মিথস্ক্রিয়া

ডম্পেরিডন মূলত CYP3A4 হেপাটিক এনজাইম দ্বারা বিপাকিত হয়। যেসব ওষুধ CYP3A4-কে উল্লেখযোগ্যভাবে বাধা দেয়, তারা ডম্পেরিডনের বিপাক কমিয়ে দেয়, যার ফলে ডম্পেরিডনের প্লাজমা ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এটি ক্লিনিক্যালি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ডম্পেরিডনের বর্ধিত মাত্রা QT ব্যবধান দীর্ঘায়ন ও কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। যেসব CYP3A4 বাধাদানকারী ওষুধ সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত বা এড়িয়ে চলা উচিত, তার মধ্যে রয়েছে:

  • অ্যাজোল অ্যান্টিফাংগাল: কিটোকোনাজোল, ইট্রাকোনাজোল, ফ্লুকোনাজোল, ভোরিকোনাজোল
  • ম্যাক্রোলাইড অ্যান্টিবায়োটিক: এরিথ্রোমাইসিন, ক্লারিথ্রোমাইসিন
  • এইচআইভি প্রোটিয়েজ ইনহিবিটর: রিটোনাভির, লোপিনাভির, ইন্ডিনাভির, স্যাকুইনাভির
  • নেফাজোডোন (অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট)
  • অন্যান্য শক্তিশালী CYP3A4 বাধাদানকারী: অ্যামিওডারোন, অ্যাপ্রেপিট্যান্ট

QT ব্যবধান দীর্ঘায়িত করে এমন শক্তিশালী CYP3A4 বাধাদানকারী ওষুধের সাথে ডম্পেরিডনের একসাথে ব্যবহার নিষিদ্ধ

QT-দীর্ঘায়নকারী ওষুধ

ডম্পেরিডন নিজেই হৃদযন্ত্রের QTc ব্যবধান দীর্ঘায়িত করতে পারে — বিশেষত উচ্চতর মাত্রায় বা প্লাজমা ঘনত্ব বেড়ে গেলে। QT ব্যবধান দীর্ঘায়িত করে এমন অন্যান্য ওষুধের (অ্যান্টিঅ্যারিদমিক, কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক, কিছু ম্যাক্রোলাইড অ্যান্টিবায়োটিক, ফ্লুরোকুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিম্যালেরিয়াল) সাথে একসাথে ব্যবহার টরসাদ দ্য পয়েন্টেসসহ গুরুতর ভেন্ট্রিকুলার অ্যারিদমিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। অন্যান্য QT-দীর্ঘায়নকারী ওষুধের সাথে সংমিশ্রণ এড়িয়ে চলুন; অপরিহার্য হলে ECG পর্যবেক্ষণ অত্যাবশ্যক।

ডোপামিনার্জিক অ্যাগোনিস্ট (উপকারী সংমিশ্রণ)

পারকিনসন্স রোগে ব্যবহৃত ডোপামিন অ্যাগোনিস্টের (যেমন, ব্রোমোক্রিপ্টিন, লেভোডোপা, রোপিনিরোল, প্রামিপেক্সোল, অ্যাপোমরফিন) সাথে সংমিশ্রণে ডম্পেরিডন বিশেষভাবে সুপারিশকৃত। ডম্পেরিডন এই ওষুধগুলোর কেন্দ্রীয় মোটর থেরাপিউটিক বৈশিষ্ট্যকে বাধা না দিয়েই তাদের সমস্যাসৃষ্টিকারী পেরিফেরাল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া — বিশেষত বমি বমি ভাব, বমি এবং পরিপাকতন্ত্রের অস্বস্তি — কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করে। কারণ ডম্পেরিডন অক্ষত রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধক অতিক্রম করে না এবং তাই বেসাল গ্যাংলিয়ায় ডোপামিনের বিরোধিতা করে না।

নিউরোলেপ্টিক (অ্যান্টিসাইকোটিক)

ডম্পেরিডন নিউরোলেপ্টিক ওষুধের (যেমন, হ্যালোপেরিডল, ক্লোরপ্রোমাজিন) কেন্দ্রীয় প্রভাব বাড়িয়ে দেয় না। এটিকে কেন্দ্রীয় ডোপামিন অ্যান্টাগোনিস্টের সাথে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়, যা নিউরোলেপ্টিকের অ্যান্টিসাইকোটিক বা এক্সট্রাপিরামিডাল প্রভাবকে বাড়িয়ে দেয় বা যোগ করে।

ডিগোক্সিন ও প্যারাসিটামল

যেসব রোগী ইতিমধ্যে ডিগোক্সিন বা প্যারাসিটামল (অ্যাসিটামিনোফেন)-এ স্থিতিশীল, তাদের ক্ষেত্রে ডম্পেরিডনের সাথে একসাথে প্রয়োগ এই ওষুধগুলোর রক্তের মাত্রায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেনি। স্বাভাবিক মাত্রার ডম্পেরিডনে এই ওষুধগুলোর সাথে ক্লিনিক্যালি উল্লেখযোগ্য ফার্মাকোকাইনেটিক মিথস্ক্রিয়া প্রত্যাশিত নয়।

সাসটেইনড-রিলিজ বা এন্টেরিক-কোটেড ফর্মুলেশনযুক্ত ওষুধ

তাত্ত্বিকভাবে, যেহেতু ডম্পেরিডন পাকস্থলী খালি হওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুততর করে, তাই এটি একসাথে সেবন করা ওরাল ওষুধের পরিপাকতন্ত্রীয় শোষণের হারকে প্রভাবিত করতে পারে — বিশেষত সাসটেইনড-রিলিজ (এক্সটেন্ডেড-রিলিজ) বা এন্টেরিক-কোটেড ফর্মুলেশনযুক্ত ওষুধের ক্ষেত্রে। দ্রুততর গ্যাস্ট্রিক ট্রানজিট এই ধরনের ওষুধের শোষণ প্রোফাইল পরিবর্তন করতে পারে। নির্দিষ্ট ওষুধের উপর ভিত্তি করে ক্লিনিক্যাল গুরুত্ব ভিন্ন হয়; সাসটেইনড-রিলিজ ফর্মুলেশন গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রে ডম্পেরিডন শুরু করার সময় প্রেসক্রাইবারদের এই সম্ভাব্য মিথস্ক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন থাকা উচিত।

প্রতিনির্দেশনা

নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ডম্পেরিডন ম্যালেয়েট নিষিদ্ধ:

  • ডম্পেরিডন ম্যালেয়েট অথবা ফর্মুলেশনের যেকোনো এক্সিপিয়েন্টের প্রতি জানা অতি সংবেদনশীলতা।
  • নবজাতক — অপরিণত বিপাক প্রক্রিয়া, অসম্পূর্ণভাবে বিকশিত রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধক, এবং এই বয়সের ক্ষেত্রে স্নায়বিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়ার উল্লেখযোগ্যভাবে বর্ধিত ঝুঁকির কারণে নবজাতকদের ক্ষেত্রে ডম্পেরিডন নিষিদ্ধ।
  • পরিপাকতন্ত্রের গতিশীলতার উদ্দীপনা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এমন যেকোনো অবস্থা, যার মধ্যে রয়েছে:
    • পরিপাকতন্ত্রের রক্তক্ষরণ — সক্রিয় বা সাম্প্রতিক পরিপাকতন্ত্রের রক্তক্ষরণ
    • যান্ত্রিক অন্ত্র বাধা — পরিপাকতন্ত্রের যেকোনো শারীরিক বাধা, যা বর্ধিত গতিশীলতায় আরও খারাপ হতে পারে
    • পরিপাকতন্ত্রের ছিদ্র (পারফোরেশন) — পাকস্থলী, ছোট অন্ত্র বা বৃহদন্ত্রের প্রকৃত বা সন্দেহভাজন ছিদ্র
  • প্রোল্যাক্টিন-নিঃসরণকারী পিটুইটারি টিউমার (প্রোল্যাক্টিনোমা) আক্রান্ত রোগী — যেহেতু ডম্পেরিডন প্রোল্যাক্টিন নিঃসরণ বাড়ায়, তাত্ত্বিকভাবে এটি প্রোল্যাক্টিন-নির্ভর টিউমারের বৃদ্ধি উদ্দীপিত করতে পারে।
  • গুরুতর লিভার কার্যকারিতা হ্রাসপ্রাপ্ত রোগী — ডম্পেরিডন লিভারে ব্যাপকভাবে বিপাকিত হয়; গুরুতর লিভার কার্যকারিতা হ্রাসে প্লাজমা ওষুধের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় এবং কার্ডিয়াক টক্সিসিটির ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • QT ব্যবধান দীর্ঘায়িত করে এমন শক্তিশালী CYP3A4 বাধাদানকারী ওষুধের (যেমন, কিটোকোনাজোল, এরিথ্রোমাইসিন, ক্লারিথ্রোমাইসিন, এইচআইভি প্রোটিয়েজ ইনহিবিটর, অ্যামিওডারোন) সাথে একসাথে ব্যবহার — এই সংমিশ্রণ গুরুতর কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।
  • যেসব রোগীর হৃদযন্ত্রের পরিবহন ব্যবধান দীর্ঘায়িত (QTc দীর্ঘায়ন) বলে জানা আছে, উল্লেখযোগ্য ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা (হাইপোক্যালেমিয়া, হাইপোম্যাগনেসেমিয়া) রয়েছে, অথবা অ্যারিদমিয়ার প্রবণতা সৃষ্টিকারী অন্যান্য অবস্থা রয়েছে।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

স্বল্পমেয়াদী চিকিৎসায় সুপারিশকৃত মাত্রায় ডম্পেরিডন সাধারণত সহনীয়। অধিকাংশ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিরল এবং মাত্রা-নির্ভর। নিম্নলিখিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো রিপোর্ট করা হয়েছে:

পরিপাকতন্ত্রের প্রভাব (বিরল)

  • ক্ষণস্থায়ী অন্ত্রের খিঁচুনি — মাঝেমধ্যে রিপোর্ট করা হয়; সাধারণত মৃদু এবং নিজে থেকেই কমে যায়
  • মুখ শুকিয়ে যাওয়া — কদাচিৎ রিপোর্ট করা হয়েছে
  • ডায়রিয়া — বিরল
  • তৃষ্ণা

স্নায়বিক / এক্সট্রাপিরামিডাল প্রভাব (প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বিরল, শিশুদের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক)

প্রাপ্তবয়স্কদের থেরাপিউটিক মাত্রায় ডম্পেরিডনের রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধক অতিক্রম করার ক্ষমতা দুর্বল হওয়ায়, ক্লাসিক্যাল ডোপামিন অ্যান্টাগোনিস্ট-সম্পর্কিত এক্সট্রাপিরামিডাল প্রতিক্রিয়া বিরল। তবে:

  • এক্সট্রাপিরামিডাল লক্ষণ (তীব্র ডিসটোনিয়া, অ্যাকাথিসিয়া, সিউডো-পারকিনসনিজম) — ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে বিরল এবং অক্ষত রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধকসম্পন্ন প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী। চিকিৎসা বন্ধ করার সাথে সাথে এই প্রতিক্রিয়াগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে ও সম্পূর্ণরূপে সেরে যায় — কোনো স্থায়ী স্নায়বিক জটিলতার কথা রিপোর্ট করা হয়নি।
  • ১ বছরের কম বয়সী শিশুদের (যাদের রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধক অপরিণত) এবং রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধক ক্ষতিগ্রস্ত রোগীদের ক্ষেত্রে, স্নায়বিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া যায় না এবং বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন।
  • মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা — কদাচিৎ রিপোর্ট করা হয়েছে
  • তন্দ্রা (ঘুম ঘুম ভাব) — স্বাভাবিক মাত্রায় বিরল

এন্ডোক্রাইন / নিউরোএন্ডোক্রাইন প্রভাব

  • হাইপারপ্রোল্যাক্টিনেমিয়া (প্রোল্যাক্টিনের মাত্রা বৃদ্ধি) — পিটুইটারি গ্রন্থি রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধকের বাইরে অবস্থিত হওয়ায়, ডম্পেরিডন সব রোগীর ক্ষেত্রেই প্রোল্যাক্টিনের মাত্রা বাড়াতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি ক্লিনিক্যালিভাবে উপসর্গহীন। বিরল ক্ষেত্রে, নিম্নলিখিত প্রোল্যাক্টিন-নিয়ন্ত্রিত প্রভাবগুলো দেখা দিতে পারে:
    • গ্যালাক্টোরিয়া — স্তন থেকে স্বতঃস্ফূর্ত দুধ নিঃসরণ (নারী এবং কদাচিৎ পুরুষদের ক্ষেত্রে)
    • গাইনেকোমাস্টিয়া — পুরুষদের স্তন বড় হয়ে যাওয়া
    • নারীদের স্তনে কোমলতা বা ফুলে যাওয়া
    • দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে মাসিক অনিয়ম (যেমন, ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়া, ঋতুস্রাব কমে যাওয়া)
  • ডম্পেরিডন বন্ধ করার পর এই প্রভাবগুলো সাধারণত পুনরুদ্ধারযোগ্য।

কার্ডিয়াক প্রভাব — QT দীর্ঘায়ন (গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা)

  • QTc ব্যবধান দীর্ঘায়ন — ডম্পেরিডন হৃদযন্ত্রের রিপোলারাইজেশন (QTc ব্যবধান) দীর্ঘায়িত করার সম্ভাবনা রাখে, যা টরসাদ দ্য পয়েন্টেসসহ ভেন্ট্রিকুলার অ্যারিদমিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। উচ্চতর মাত্রায়, পূর্ব থেকে QT দীর্ঘায়ন বা হৃদরোগ থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে, CYP3A4 বাধাদানকারীর সাথে এবং অন্যান্য QT-দীর্ঘায়নকারী ওষুধের সাথে এই ঝুঁকি বেশি।
  • মার্কেটিং-পরবর্তী পর্যবেক্ষণে গুরুতর ভেন্ট্রিকুলার অ্যারিদমিয়া ও আকস্মিক কার্ডিয়াক মৃত্যুর বিরল ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে, যা মূলত সুপারিশকৃত মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রা গ্রহণকারী অথবা একইসাথে QT-দীর্ঘায়নকারী ওষুধ গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে। এই কারণেই নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ডম্পেরিডনকে প্রয়োজনীয় সবচেয়ে কম সময়ের জন্য সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় সীমাবদ্ধ করেছে।

অতি সংবেদনশীলতা / অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া (বিরল)

  • ত্বকে র‍্যাশ ও আর্টিকেরিয়া (চাকা চাকা দাগ)
  • প্রুরাইটাস (চুলকানি)
  • অ্যাঞ্জিওএডিমা — বিরল তবে রিপোর্ট করা হয়েছে
  • অ্যানাফাইল্যাক্সিস — অত্যন্ত বিরল

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থা

প্রাণী গবেষণায় ডম্পেরিডন দিনে ১৬০ মি.গ্রা./কেজি পর্যন্ত মাত্রায় প্রয়োগ করা হয়েছে — যা মানবদেহের সর্বোচ্চ থেরাপিউটিক মাত্রার চেয়ে বহুগুণ বেশি — তবুও এতে কোনো teratogenic প্রভাব বা ভ্রূণের বিকৃতি দেখা যায়নি। আজ পর্যন্ত মানবদেহে মার্কেটিং-পরবর্তী তথ্যে সুপারিশকৃত মাত্রায় জন্মগত ত্রুটি বা ভ্রূণের ক্ষতিকর ফলাফলের ঝুঁকি বৃদ্ধির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তবে, অধিকাংশ ওষুধের মতোই, প্রত্যাশিত থেরাপিউটিক উপকারিতা সম্ভাব্য ঝুঁকিকে স্পষ্টভাবে ন্যায্যতা দিলেই কেবল গর্ভাবস্থায় ডম্পেরিডন ব্যবহার করা উচিত। প্রথম ত্রৈমাসিকে ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সতর্ক ন্যায্যতার প্রয়োজন, কারণ এই সময়ে ভ্রূণের অঙ্গ গঠন ঘটে। গর্ভবতী নারীদের ডম্পেরিডন সেবনের আগে সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

স্তন্যপান

ডম্পেরিডন মায়ের বুকের দুধে নিঃসৃত হয়। বুকের দুধে এর ঘনত্ব মায়ের প্লাজমা ঘনত্বের তুলনায় প্রায় ৪ গুণ কম, যার ফলে শিশুর সংস্পর্শের আনুমানিক পরিমাণও কম হয়। স্তন্যপানকারী শিশুর দৈনিক গ্রহণকৃত মাত্রা শিশুদের উপর ফার্মাকোলজিক্যাল প্রভাব সৃষ্টির প্রতিষ্ঠিত সীমার চেয়ে অনেক কম বলে অনুমান করা হয়।

মায়ের জন্য প্রত্যাশিত থেরাপিউটিক উপকারিতা স্তন্যপানকারী শিশুর সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে স্পষ্টভাবে বেশি না হলে, ডম্পেরিডন গ্রহণকারী মায়েদের জন্য স্তন্যপান করানোর পরামর্শ দেওয়া হয় না। ডম্পেরিডন অপরিহার্য মনে করা হলে, শিশুর যেকোনো ক্ষতিকর প্রভাবের (বিশেষত নবজাতকদের ক্ষেত্রে এক্সট্রাপিরামিডাল প্রতিক্রিয়া) পর্যবেক্ষণসহ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে স্তন্যপান চালিয়ে যাওয়া যেতে পারে।

বিঃদ্রঃ দুধ উৎপাদন কম এমন মায়েদের ক্ষেত্রে দুধ উৎপাদন উদ্দীপিত বা বাড়াতে (প্রোল্যাক্টিন বৃদ্ধির মাধ্যমে গ্যালাক্টোরিয়া প্রভাব) কখনো কখনো কম মাত্রায় ডম্পেরিডন অফ-লেবেল ব্যবহৃত হয়। এই ব্যবহার অনুমোদিত ইনডিকেশনের বাইরে এবং কার্যকারিতার সীমিত প্রমাণকে কার্ডিয়াক ঝুঁকির বিপরীতে বিবেচনা করে শুধুমাত্র চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে গ্রহণ করা উচিত।

গাড়ি চালানো ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারের উপর প্রভাব

অক্ষত রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধকসম্পন্ন প্রাপ্তবয়স্কদের থেরাপিউটিক মাত্রায় ডম্পেরিডন মানসিক সতর্কতার উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে না। রোগীরা স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চালাতে ও যন্ত্রপাতি পরিচালনা করতে পারেন। তবে, মাথা ঘোরা ও তন্দ্রার কথা কদাচিৎ রিপোর্ট করা হয়েছে — গাড়ি চালানোর আগে রোগীদের নিজস্ব প্রতিক্রিয়া যাচাই করে নেওয়া উচিত।

সতর্কতা

কার্ডিয়াক ঝুঁকি — QT দীর্ঘায়ন (গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা)

ডম্পেরিডন হৃদযন্ত্রের QTc ব্যবধান দীর্ঘায়িত করতে পারে এবং সম্ভাব্য প্রাণঘাতী টরসাদ দ্য পয়েন্টেসসহ ভেন্ট্রিকুলার অ্যারিদমিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এই ঝুঁকি নিম্নলিখিত কারণে বেড়ে যায়:

  • সুপারিশকৃত সর্বোচ্চ মাত্রার (ওরাল দিনে ৮০ মি.গ্রা.) বেশি মাত্রা
  • একইসাথে CYP3A4 বাধাদানকারী ওষুধের ব্যবহার (যা ডম্পেরিডনের প্লাজমা মাত্রা বাড়ায়)
  • একইসাথে অন্যান্য QT-দীর্ঘায়নকারী ওষুধের ব্যবহার
  • পূর্ব থেকে হৃদরোগ, জন্মগত QT দীর্ঘায়ন, বা কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়া
  • ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা (হাইপোক্যালেমিয়া, হাইপোম্যাগনেসেমিয়া)

প্রয়োজনীয় সবচেয়ে কম সময়ের জন্য সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রা ব্যবহার করুন। বর্তমান যুক্তরাজ্য/ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রক নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দিনে তিনবার ১০ মি.গ্রা. (দিনে ৩০ মি.গ্রা.)-এর বেশি ব্যবহার করবেন না — এটি MedEx-এ তালিকাভুক্ত দিনে ৮০ মি.গ্রা. সর্বোচ্চ মাত্রার তুলনায় অধিকতর সতর্ক সুপারিশ, যা হালনাগাদকৃত নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা প্রতিফলিত করে। সবসময় সর্বাধিক হালনাগাদ জাতীয় প্রেসক্রাইবিং নির্দেশিকা অনুসরণ করুন। QT দীর্ঘায়নের ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে ডম্পেরিডন শুরু করার আগে একটি বেসলাইন ECG বিবেচনা করা উচিত।

শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার — এক্সট্রাপিরামিডাল প্রতিক্রিয়ার বর্ধিত ঝুঁকি

অসম্পূর্ণভাবে বিকশিত রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধকের কারণে এক্সট্রাপিরামিডাল প্রতিক্রিয়ার বর্ধিত ঝুঁকির জন্য শিশুদের ক্ষেত্রে ডম্পেরিডন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় ছোট শিশুরা স্নায়বিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার প্রতি বেশি সংবেদনশীল। শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার শুধুমাত্র সতর্ক চিকিৎসাগত তত্ত্বাবধানে, ওজন-ভিত্তিক ডোজিং এবং সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রা ব্যবহার করে হওয়া উচিত।

শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার (১ বছরের কম বয়সী)

১ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে, বিপাক ও রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধকের কার্যকারিতা সম্পূর্ণভাবে বিকশিত হয় না। যেকোনো ওষুধ শিশুদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এবং নিবিড় চিকিৎসাগত তত্ত্বাবধানে দেওয়া উচিত। এই বয়সের ক্ষেত্রে অন্যান্য ডোপামিন অ্যান্টাগোনিস্টের তুলনায় ডম্পেরিডনের স্নায়বিক নিরাপত্তা সুবিধা নিশ্চিত করা যায় না। উপরন্তু, খুব ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়ার ঝুঁকি বেশি হতে পারে। নবজাতকদের ক্ষেত্রে ডম্পেরিডন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।

লিভারের কার্যকারিতা হ্রাস

যেহেতু ডম্পেরিডন লিভারে ব্যাপক ফার্স্ট-পাস ও সিস্টেমিক বিপাক (মূলত CYP3A4-এর মাধ্যমে) সম্পন্ন করে, তাই লিভার কার্যকারিতা হ্রাসপ্রাপ্ত রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত। লিভারের কার্যকারিতা হ্রাস ওষুধের নিষ্কাশন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়, যার ফলে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্লাজমা মাত্রায় ডম্পেরিডন জমা হয় এবং কার্ডিয়াক ও স্নায়বিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ডোজ হ্রাস ও সতর্ক পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। গুরুতর লিভার কার্যকারিতা হ্রাসে ডম্পেরিডন নিষিদ্ধ।

কিডনির কার্যকারিতা হ্রাস

গুরুতর কিডনি কার্যকারিতা হ্রাসপ্রাপ্ত রোগীদের ক্ষেত্রে (সিরাম ক্রিয়েটিনিন >৬ মি.গ্রা./১০০ মি.লি., অর্থাৎ >০.৬ mmol/L), ডম্পেরিডনের নিষ্কাশন অর্ধায়ু প্রায় ৭.৪ ঘণ্টা থেকে বেড়ে ২০.৮ ঘণ্টা হয়ে যায়। যদিও (পরিবর্তিত বিতরণের কারণে) প্লাজমা ওষুধের মাত্রা বৈপরীত্যমূলকভাবে কম হতে পারে, তবুও দীর্ঘায়িত অর্ধায়ুর কারণে বারবার ডোজ প্রয়োগে জমা হতে পারে। গুরুতর কিডনি কার্যকারিতা হ্রাসপ্রাপ্ত রোগীদের ক্ষেত্রে একাধিক-ডোজ প্রয়োগের ক্ষেত্রে, তীব্রতার উপর ভিত্তি করে ডোজের মাত্রা দিনে একবার বা দুবারে কমিয়ে আনা উচিত। দীর্ঘমেয়াদী থেরাপিতে থাকা রোগীদের নিয়মিত পর্যালোচনার পরামর্শ দেওয়া হয়।

চিকিৎসার সময়কাল

ডম্পেরিডন সবচেয়ে কম কার্যকর সময়ের জন্য ব্যবহার করা উচিত। দীর্ঘমেয়াদী বা উচ্চ-মাত্রার ব্যবহার কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়া, হাইপারপ্রোল্যাক্টিনেমিয়া-সম্পর্কিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং — সংবেদনশীল রোগীদের ক্ষেত্রে — এক্সট্রাপিরামিডাল প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। বমি বমি ভাব ও বমির চিকিৎসায় চিকিৎসাগত পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া ১২ সপ্তাহের বেশি চিকিৎসা চালিয়ে যাবেন না।

একইসাথে QT-দীর্ঘায়নকারী ওষুধ এড়িয়ে চলুন

ডম্পেরিডন প্রেসক্রাইব করার আগে সবধরনের সহ-প্রয়োগকৃত ওষুধের একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করা উচিত। QT ব্যবধান দীর্ঘায়িত করে বা CYP3A4 বাধা দেয় এমন ওষুধের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া উচিত। QT ব্যবধান দীর্ঘায়িত করে এমন শক্তিশালী CYP3A4 বাধাদানকারী ওষুধের সাথে ডম্পেরিডনের সংমিশ্রণ নিষিদ্ধ

মাত্রাধিক্যতা

ডম্পেরিডনের থেরাপিউটিক মার্জিন তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত, তবে অতিরিক্ত মাত্রা সেবনে ক্লিনিক্যালিভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব দেখা দিতে পারে, বিশেষত শিশুদের ক্ষেত্রে। ডম্পেরিডনের অতিরিক্ত মাত্রা সেবনের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারে:

  • তন্দ্রা ও শান্তকরণ (sedation)
  • দিকভ্রম ও বিভ্রান্তি
  • এক্সট্রাপিরামিডাল প্রতিক্রিয়া — তীব্র ডিসটোনিয়া (বিশেষত ঘাড় ও মুখের স্থায়ী বা বারবার অনিচ্ছাকৃত পেশী সংকোচন), অ্যাকাথিসিয়া (তীব্র অস্থিরতা), এবং সিউডো-পারকিনসনিজম (কম্পন, শক্ত হয়ে যাওয়া, ধীরগতির নড়াচড়া)সহ। শিশুদের রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধক কম পরিণত হওয়ায় এই প্রতিক্রিয়াগুলো শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি, এবং উচ্চ প্লাজমা ডম্পেরিডন ঘনত্বসম্পন্ন রোগীদের ক্ষেত্রেও। ওষুধ শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে এই প্রতিক্রিয়াগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেরে যায়।
  • QT ব্যবধান দীর্ঘায়ন ও কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়া — টরসাদ দ্য পয়েন্টেসসহ; গুরুতর অতিরিক্ত মাত্রা সেবনে প্রাণঘাতী হতে পারে

অতিরিক্ত মাত্রা সেবনের ব্যবস্থাপনা

ডম্পেরিডনের অতিরিক্ত মাত্রা সেবনের কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক (অ্যান্টিডোট) নেই। চিকিৎসা উপসর্গভিত্তিক ও সহায়ক:

  • অ্যাক্টিভেটেড চারকোল — অতিরিক্ত মাত্রা সেবনের পর যত দ্রুত সম্ভব, রোগী নিজের শ্বাসনালী সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হলে, আরও ওষুধ শোষণ কমাতে প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়
  • নিবিড় ক্লিনিক্যাল পর্যবেক্ষণ — গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় লক্ষণ, হৃদস্পন্দনের ছন্দ (QT দীর্ঘায়নের জন্য ECG), এবং স্নায়বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করুন
  • এক্সট্রাপিরামিডাল প্রতিক্রিয়া: অ্যান্টিকোলিনার্জিক ওষুধ (যেমন, বাইপেরিডেন, বেনজট্রোপিন), অ্যান্টিপারকিনসন ওষুধ, বা অ্যান্টিকোলিনার্জিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অ্যান্টিহিস্টামিন (যেমন, প্রোমেথাজিন, ডাইফেনহাইড্রামিন) দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। এই ওষুধগুলো মোটর পথের উপর ডোপামিন-বাধাদানকারী প্রভাব প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
  • কার্ডিয়াক পর্যবেক্ষণ: উল্লেখযোগ্য অতিরিক্ত মাত্রা সেবনের ক্ষেত্রে ক্রমাগত ECG পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়। হাইপোক্যালেমিয়া ও হাইপোম্যাগনেসেমিয়া (যা QT দীর্ঘায়ন আরও খারাপ করে) ইলেকট্রোলাইট প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে দ্রুত সংশোধন করা উচিত।

ডম্পেরিডনের অতিরিক্ত মাত্রা সেবনের সন্দেহ হলে, অবিলম্বে বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন অথবা জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিন

সংরক্ষণ

  • ট্যাবলেট, সাসপেনশন এবং পেডিয়াট্রিক ড্রপস ৩০°সে-এর নিচে, আলো ও আর্দ্রতা থেকে সুরক্ষিত অবস্থায় সংরক্ষণ করুন।
  • সব ধরনের ফর্মুলেশন শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
  • লেবেল বা প্যাকেজিংয়ে মুদ্রিত মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখের পর কোনো ফর্মুলেশন ব্যবহার করবেন না।
  • ওরাল সাসপেনশন (খোলার পর): আলো থেকে সুরক্ষিত অবস্থায় ৩০°সে-এর নিচে ঘরের তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করুন। প্রথমবার খোলার পর লেবেলে উল্লেখিত সময়সীমার মধ্যে ব্যবহার করুন (সাধারণত ৩০ দিন)। প্রতিবার ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ঝাঁকান।
  • সাপোজিটরি: ২৫°সে-এর নিচে সংরক্ষণ করুন। উচ্চ পরিবেশগত তাপমাত্রায় সাপোজিটরি নরম হয়ে যেতে পারে — ঠান্ডা স্থানে সংরক্ষণ করুন অথবা নরম হয়ে গেলে ব্যবহারের আগে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ফ্রিজে রাখুন। জমাট বাঁধতে দেবেন না।
  • আলো ও আর্দ্রতা থেকে রক্ষা করতে মূল প্যাকেজিংয়ে সংরক্ষণ করুন।
  • ইফারভেসেন্ট গ্রানিউল স্যাশে: সিল করা স্যাশেতে ঠান্ডা ও শুকনো স্থানে সংরক্ষণ করুন। খোলা স্যাশে সংরক্ষণ করবেন না। পানিতে দ্রবীভূত করার সাথে সাথেই প্রস্তুত করে সেবন করুন।

শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার

শিশু (১ বছরের কম বয়সী)

নবজাতকদের ক্ষেত্রে ডম্পেরিডন নিষিদ্ধ। ১ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে, বিপাক ও রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধকের কার্যকারিতা সম্পূর্ণভাবে বিকশিত হয় না। যেহেতু প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ডম্পেরিডনের স্নায়বিক নিরাপত্তা প্রোফাইল দুর্বল রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধক অতিক্রমের উপর নির্ভরশীল, তাই খুব ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এই সুবিধার উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করা যায় না। এই বয়সের ক্ষেত্রে এক্সট্রাপিরামিডাল ও অন্যান্য স্নায়বিক প্রভাবের সম্ভাব্য উপস্থিতি সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া যায় না। ১ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে যেকোনো ব্যবহার শুধুমাত্র কঠোর চিকিৎসাগত তত্ত্বাবধানে বিবেচনা করা উচিত, যখন উপকারিতা ঝুঁকির চেয়ে স্পষ্টভাবে বেশি, ওজন-ভিত্তিক ডোজিং এবং সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রা ব্যবহার করে।

শিশু রোগী (১ বছরের বেশি বয়সী)

১ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ওজন-ভিত্তিক ডোজিংয়ে (প্রতি ডোজে ০.২–০.৪ মি.গ্রা./কেজি, প্রতি ৬–৮ ঘণ্টায়) ডম্পেরিডন ব্যবহার করা যেতে পারে। ছোট শিশুদের রক্ত-মস্তিষ্ক প্রতিবন্ধক কম সম্পূর্ণভাবে বিকশিত হওয়ায় এবং প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় এক্সট্রাপিরামিডাল প্রতিক্রিয়ার প্রতি বেশি সংবেদনশীল হওয়ায় অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। ব্যবহার সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় চিকিৎসাগত তত্ত্বাবধানে হওয়া উচিত।

বয়স্ক রোগী

শুধুমাত্র বয়সের ভিত্তিতে বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ডোজ সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই। তবে, বয়স্ক রোগীদের পূর্ব থেকে হৃদরোগ, কিডনি বা লিভারের কার্যকারিতা হ্রাস, ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা এবং একাধিক ওষুধ সেবনের সম্ভাবনা বেশি — এই সবগুলোই QT দীর্ঘায়ন ও অ্যারিদমিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে প্রেসক্রাইব করার আগে কার্ডিয়াক ঝুঁকির কারণগুলোর সতর্ক মূল্যায়ন এবং সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রা ব্যবহার বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

লিভারের কার্যকারিতা হ্রাসপ্রাপ্ত রোগী

যেহেতু ডম্পেরিডন লিভারে ব্যাপকভাবে বিপাকিত হয়, তাই হালকা থেকে মাঝারি লিভার কার্যকারিতা হ্রাসপ্রাপ্ত রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত। গুরুতর লিভার কার্যকারিতা হ্রাসপ্রাপ্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ডম্পেরিডন নিষিদ্ধ। হালকা থেকে মাঝারি কার্যকারিতা হ্রাসের ক্ষেত্রে, ডোজ হ্রাস বিবেচনা করা উচিত এবং চিকিৎসাকালীন লিভারের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

কিডনির কার্যকারিতা হ্রাসপ্রাপ্ত রোগী

একক তাৎক্ষণিক প্রয়োগের ক্ষেত্রে, কিডনি কার্যকারিতা হ্রাসপ্রাপ্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ডোজ সমন্বয়ের প্রয়োজন হওয়ার সম্ভাবনা কম। বারবার একাধিক-ডোজ প্রয়োগের ক্ষেত্রে, তীব্রতার উপর ভিত্তি করে ডোজের মাত্রা কমাতে হবে:

  • হালকা কিডনি কার্যকারিতা হ্রাস: পর্যবেক্ষণসহ স্বাভাবিক ডোজিং বজায় রাখা যেতে পারে
  • মাঝারি কিডনি কার্যকারিতা হ্রাস: ডোজের মাত্রা দিনে একবার বা দুবারে কমিয়ে আনুন
  • গুরুতর কিডনি কার্যকারিতা হ্রাস (ক্রিয়েটিনিন >৬ মি.গ্রা./১০০ মি.লি.): নিবিড় পর্যবেক্ষণের অধীনে শুধুমাত্র দিনে একবার ডোজ দিন

দীর্ঘমেয়াদী ডম্পেরিডন থেরাপিতে থাকা রোগীদের — বিশেষত কিডনি কার্যকারিতা হ্রাসপ্রাপ্ত রোগীদের — চিকিৎসকের নিয়মিত পর্যালোচনার মধ্যে থাকা উচিত।

Disclaimer

The information provided is accurate to our best practices, but it does not replace professional medical advice. We cannot guarantee its completeness or accuracy. The absence of specific information about a drug should not be seen as an endorsement. We are not responsible for any consequences resulting from this information, so consult a healthcare professional for any concerns or questions.

Doctor
Cart
Account