মাত্রা ও সেবনবিধি
ডাইক্লোফেনাক ট্যাবলেট: প্রাপ্তবয়স্ক: ৭৫-১৫০ মিলিগ্রাম প্রতিদিন খাবারের পরে ২ থেকে ৩ টি বিভক্ত মাত্রায় নির্দেশিত। দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে ডোজ হ্রাস করতে হবে। ডাইক্লোফেনাক এসআর ট্যাবলেট:
প্রাপ্তবয়স্ক: প্রতিদিন ১ টি ট্যাবলেট, সাধারণত খাবারের সময় না ভেঙ্গে পানি দিয়ে খেতে হবে। প্রয়োজনে প্রচলিত ট্যাবলেটগুলির সাথে পরিপূরক দ্বারা প্রতিদিনের ডোজ ১৫০ মিলিগ্রাম বাড়ানো যেতে পারে।
শিশু: ডাইক্লোফেনাক ১-৩ মিগ্রা/কেজি বিভক্ত ডোজ প্রতিদিন প্রয়োগ করতে হবে
বয়স্ক রোগী: প্রবীণ বা দুর্বল রোগীদের ক্ষেত্রে, সবচেয়ে কম কার্যকর ডোজ দেওয়া বাঞ্ছনীয়।
ডাইক্লোফেনাক ডিসপারসিবল ট্যাবলেট:
প্রাপ্তবয়স্ক: প্রস্তাবিত দৈনিক ডোজটি ২-৩ ট্যাবলেট এবং সর্বাধিক দৈনিক ডোজ ১৫০ মিলিগ্রাম। কিছু ক্ষেত্রে, প্রতিদিন ডাইক্লোফেনাক ডিটি এর ২ টি ট্যাবলেট পর্যাপ্ত। ডিক্লোফেনাক ডিটি খাবারের আগে অবশ্যই খাওয়া উচিত।
শিশু: Juvenile rheumatoid arthritis ছাড়া অন্য কোন উপসর্গে ডাইক্লোফেনাক নির্দেশিত নয়। Juvenile rheumatoid arthritis এ প্রস্তাবিত ডোজ ১-৩ মিলিগ্রাম/কেজি শরীরের ওজন।
ডাইক্লোফেনাক ডিটি আধা গ্লাস জলে নিতে হবে এবং ঔষধটি সম্পূর্ন ভাবে ছড়িয়ে পড়া পর্জন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ৩ মাসের বেশি সময় ধরে ডাইক্লোফেনাক ডিটি ব্যবহার সম্পর্কিত কোনও তথ্য নেই।
ডাইক্লোফেনাক টিআর ক্যাপসুল: দৈনিক একটি আরডন ১০০ টিআর ক্যাপসুল খাওয়ার পরে সেবন করা উচিত। ডাইক্লোফেনাক সাপোজিটরি: প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ মি.গ্রা. সাপোজিটরি দিনে ২-৩ বার। সর্বোচ্চ দৈনিক মাত্রা ১৫০ মি.গ্রা.।ডাইক্লোফেনাক ইনজেকশন: বয়স্কদের জন্য প্রতিদিনের ডোজ ১ এমপুল। গুরুতর ক্ষেত্রে এই ডোজটি প্রতিদিন ২ এমপুল পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।ডাইক্লোফেনাক জেল: যে ক্ষত স্থানের চিকিৎসা করতে হবে তার উপর নির্ভর করে দৈনিক ৩-৪ বার ২-৪ গ্রাম ডাইক্লোফেনাক জেল প্রয়োগ করতে হবে। ডাইক্লোফেনাক জেল এর সাথে মুখে খাওয়ার ক্যাপসুল বা ইনজেকশন দিয়ে চিকিৎসা করা যাবে।
নির্দেশনা
বাত সংক্রান্ত রোগ: প্রদাহঘটিত ও অবশকারী বাত, দীর্ঘস্থায়ী, হাড়ের জটিল বহুমুখী প্রদাহ, কশেরুকার আড়ষ্টকারী প্রদাহ, হাড়ের প্রদাহ, কশেরুকার বিচ্যুতি, তীব্র বাত, গেঁটে বাত (অর্থ্রাইটিস)।অস্ত্রোপচার ও আঘাতজনিত: মচকানো, কালশিরে, বিচ্যুতি, হাড়ের আঘাত, কোমল পেশীর গভীর ক্ষত, তীব্র ব্যথা অস্ত্রোপচারজনিত ক্ষত ও আঘাত।ধাত্রী ও স্ত্রীরোগ: ব্যথাযুক্ত ঋতুস্রাব, জরায়ুর প্রদাহ, জনননালীর প্রদাহ, স্তনে প্রদাহ এবং ফোলা। নাক-কান-গলা: নাক, কান ও গলা সংক্রান্ত যে কোন ধরনের ব্যথা ও প্রদাহ। অস্ত্রোপচার-পূর্ববর্তী প্রদাহ ও ফোলা বিরোধী চিকিৎসায়।দাঁত ব্যথা: অস্ত্রোপচারের পরবর্তী ও আঘাতের ফলে সৃষ্ট ব্যথা, প্রদাহ এবং ফোলা। অন্যান্য: মূত্রনালী ও জননেন্দ্রীয়ে ব্যথা, ফুলে যাওয়া, অস্ত্রোপচারোত্তর ব্যথা ও প্রদাহ, কিডনী পিত্তনালীর ব্যথায় ব্যবহার্য।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম রোগীর শরীরে ভালভাবেই সহনীয়। তবে চিকিৎসার প্রাথমিক অবস্থায় পরিপাকতন্ত্রের গোলযোগ, বমি বমি ভাব, মাথা ব্যথা, মাথা ঝিমঝিম করা অথবা ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে। এ প্রতিক্রিয়াগুলো সাধারণত মৃদু ধরনের এবং চিকিৎসা চলতে থাকলে মিলিয়ে যায়। পেরিফেরাল ইডেমা, চামড়া লাল হওয়া, একজিমাও হতে পারে। স্থানীয়ভাবে জ্বালা পোড়া, চামড়া লাল হয়ে যাওয়া এবং কখনও কখনও চামড়াতে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে।
সতর্কতা
পেপটিক আলসার অথবা পরিপাকতন্ত্রের রক্তক্ষরণ হচ্ছে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত। বেশি বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রেও সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত। চোখ অথবা মিউকাস মেমব্রেনকে আরডন জেল এর সংস্পর্শে আনা যাবে না। প্রয়োগের পর হাত ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে। মুখে সেবন করা অনুচিত।
প্রতিনির্দেশনা
ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম অতিসংবেদনশীল, সক্রিয় পেপটিক আলসার এবং হাঁপানী রোগীদের ক্ষেত্রে নির্দেশিত নয়। ডাইক্লোফেনাক অথবা এর জেল বেস, অ্যাসিটাইল স্যালিসাইলিক এসিড অথবা অন্যান্য ননষ্টেরয়েডাল প্রদাহরোধী উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীল রোগীদের ক্ষেত্রে আরডন জেল ব্যবহার করা যাবে না। বন্ধ এবং বায়ুরোধী ড্রেসিং এর ক্ষেত্রে আব্রডন জেল ব্যবহার করা যাবে না।
থেরাপিউটিক ক্লাস
Drugs for Osteoarthritis, Drugs used for Rheumatoid Arthritis, Non-steroidal Anti-inflammatory Drugs (NSAIDs)
ফার্মাকোলজি
ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম একটি শক্তিশালী নন-স্টেরয়ডাল প্রদাহবিরোধী ঔষধ যার রিউমাটয়েড ও প্রদাহবিরোধী এবং ব্যথানাশক ও জ্বরবিরোধী গুণাগুণ যথার্থ রয়েছে। এর কিছুটা ইউরোকোসুরিক কার্যকারিতাও রয়েছে। ডাইক্লোফেনাক, প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন সংশ্লেষণ বন্ধ করে। প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন প্রদাহ, ব্যথা ও জ্বরের জন্য প্রধানত দায়ী। ডাইক্লোফেনাক খাবারের সাথে বা পরে সেবন করলে পরিপাকতন্ত্র থেকে অত্যন্ত দ্রুত ও সম্পূর্ণভাবে বিশোষিত হয়। গড়পড়তা ২ ঘন্টা সময়ের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ প্লাজমা ঘনত্বে পৌঁছায়। কার্যকরী ঘনত্বে এটি ৯৯.৭% প্লাজমা প্রোটিনের সাথে যুক্তাবস্থায় থাকে। ডাইক্লোফেনাকের বিপাকীয় কার্যাবলী লিভারে সংঘটিত হয় এবং এর ফার্স্ট-পাস বিপাক হয়ে থাকে।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
গর্ভবর্তী মায়েদের ক্ষেত্রে অপরিহার্য না হলে ব্যবহার না করাই উত্তম। ক্ষেত্রবিশেষে স্বল্প মাত্রায় ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রথম ট্রাইমেস্টারে ব্যবহার করা উচিত নয়। অপর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল তথ্যের কারণে ডাইক্লোফেনাক সোডিয়াম জেল গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা অনুচিত। মাতৃদুগ্ধে অতি অল্প পরিমাণ ডাইক্লোফেনাক থাকতে পারে, তবে তা নবজাতকের কোন ক্ষতি করার কথা নয়।
সংরক্ষণ
আলো থেকে দূরে, ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে রাখুন। ৩০°সে. তাপমাত্রার নিচে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।