Product gallery
MRP ৬০.০০১০ % ডিস্কাউন্ট
Best PriceTk ৫৪.০০/10's strip
Section

বিকল্প

Price
Section

Medicine overview

নির্দেশনা

এসোমিপ্রাজল ম্যাগনেসিয়াম ট্রাইহাইড্রেট একটি প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (PPI), যা প্রাপ্তবয়স্ক এবং উপযুক্ত শিশু রোগীদের অ্যাসিড-সম্পর্কিত বিভিন্ন গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল (পাকস্থলী ও অন্ত্রনালীর) সমস্যার চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দেশিত। এটি পাকস্থলীর অ্যাসিড উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে কাজ করে এবং নিম্নলিখিত অবস্থাগুলোতে ব্যবহৃত হয়:

গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD)

ইরোসিভ ইসোফ্যাজাইটিস নিরাময়: দীর্ঘস্থায়ী অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণে ইসোফেগাসের (খাদ্যনালীর) আস্তরণে সৃষ্ট ক্ষতি অর্থাৎ নিশ্চিতভাবে নির্ণয়কৃত ইরোসিভ ইসোফ্যাজাইটিসের স্বল্পমেয়াদী চিকিৎসার (৪ থেকে ৮ সপ্তাহ) জন্য এসোমিপ্রাজল নির্দেশিত। প্রাথমিক কোর্সের পরও যেসব রোগীর সম্পূর্ণ নিরাময় হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে আরও ৪ থেকে ৮ সপ্তাহের অতিরিক্ত চিকিৎসা বিবেচনা করা যেতে পারে।

ইরোসিভ ইসোফ্যাজাইটিস নিরাময় বজায় রাখা: প্রাথমিক নিরাময়ের পর, ইরোসিভ ইসোফ্যাজাইটিসের পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধ এবং উপসর্গমুক্ত সময় বজায় রাখতে দীর্ঘমেয়াদী মেইনটেন্যান্স থেরাপি হিসেবে এসোমিপ্রাজল নির্দেশিত।

উপসর্গযুক্ত GERD: ১ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ সম্পর্কিত বুক জ্বালাপোড়া (হার্টবার্ন) ও অন্যান্য উপসর্গ থেকে স্বল্পমেয়াদী (৪ থেকে ৮ সপ্তাহ) উপশম দেয় এসোমিপ্রাজল।

হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি (H. pylori) নির্মূলকরণ

উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিকের (অ্যামোক্সিসিলিন ও ক্লারিথ্রোমাইসিন — ট্রিপল থেরাপি) সাথে সমন্বয়ে, হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি সংক্রমণের চিকিৎসায় এসোমিপ্রাজল ম্যাগনেসিয়াম নির্দেশিত, যা H. pylori-সম্পর্কিত সক্রিয় ডুওডেনাল আলসার নিরাময়ে সহায়তা করে এবং ডুওডেনাল আলসার পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি কমায়। এই ট্রিপল থেরাপি পদ্ধতি ল্যাবরেটরি ও ক্লিনিক্যাল উভয় ক্ষেত্রেই বেশিরভাগ সংবেদনশীল H. pylori স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

NSAID-সম্পর্কিত গ্যাস্ট্রিক আলসারের ঝুঁকি হ্রাস

যেসব রোগী দীর্ঘমেয়াদী NSAID (নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি ড্রাগ) থেরাপির কারণে ঝুঁকিপূর্ণ, তাদের গ্যাস্ট্রিক আলসার প্রতিরোধে এসোমিপ্রাজল নির্দেশিত। ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী এবং যাদের পূর্বে গ্যাস্ট্রিক আলসারের নথিভুক্ত ইতিহাস আছে, তাদের অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া যেসব ক্ষেত্রে NSAID থেরাপি বন্ধ করা সম্ভব নয়, সেসব ক্ষেত্রে NSAID-সম্পর্কিত গ্যাস্ট্রিক আলসার নিরাময়েও এটি নির্দেশিত।

প্যাথলজিক্যাল হাইপারসিক্রেটরি কন্ডিশন — জোলিঙ্গার-এলিসন সিনড্রোম

জোলিঙ্গার-এলিসন সিনড্রোমসহ প্যাথলজিক্যাল হাইপারসিক্রেটরি অবস্থার দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসায় এসোমিপ্রাজল নির্দেশিত — এটি একটি বিরল অবস্থা, যেখানে এক বা একাধিক টিউমার (গ্যাস্ট্রিনোমা) পাকস্থলীকে অতিরিক্ত অ্যাসিড উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করে, যার ফলে তীব্র ও বারবার পেপটিক আলসার দেখা দেয়।

থেরাপিউটিক এন্ডোস্কোপির পর পুনরায় রক্তক্ষরণ প্রতিরোধ (IV ফর্মুলেশন)

প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে থেরাপিউটিক এন্ডোস্কোপির পর গ্যাস্ট্রিক বা ডুওডেনাল আলসার থেকে পুনরায় রক্তক্ষরণের ঝুঁকি কমাতে ইন্ট্রাভেনাস (শিরায় প্রয়োগযোগ্য) এসোমিপ্রাজল নির্দেশিত।

শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার

১ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু রোগীদের ক্ষেত্রে বয়স ও ওজন অনুযায়ী উপযুক্ত মাত্রায়, স্বল্পমেয়াদী (সর্বোচ্চ ৮ সপ্তাহ) GERD চিকিৎসার জন্য এসোমিপ্রাজল অনুমোদিত।

ফার্মাকোলজি

এসোমিপ্রাজল ম্যাগনেসিয়াম ট্রাইহাইড্রেট হলো এসোমিপ্রাজল ট্রাইহাইড্রেটের ম্যাগনেসিয়াম সল্ট, যা ওমিপ্রাজলের বিশুদ্ধ S-এনানশিওমার (অপটিক্যাল আইসোমার)। এটি প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (PPI) নামে পরিচিত ওষুধের শ্রেণিভুক্ত এবং একক অপটিক্যাল আইসোমার হিসেবে তৈরি প্রথম PPI, যা রেসেমিক ওমিপ্রাজল ও অন্যান্য PPI-এর তুলনায় উন্নত ফার্মাকোকাইনেটিক বৈশিষ্ট্য, অধিক সিস্টেমিক এক্সপোজার, ব্যক্তিভেদে কম তারতম্য, এবং অধিক কার্যকর অ্যাসিড দমন প্রদান করে।

কার্যপ্রণালী (Mechanism of Action)

এসোমিপ্রাজল পাকস্থলীর প্যারাইটাল কোষের ক্ষরণকারী পৃষ্ঠে অবস্থিত হাইড্রোজেন-পটাসিয়াম ATPase এনজাইম সিস্টেম (H⁺/K⁺-ATPase) — যা সাধারণভাবে "প্রোটন পাম্প" নামে পরিচিত — তা অপরিবর্তনীয়ভাবে (irreversibly) বাধাদান করার মাধ্যমে এর ফার্মাকোলজিক্যাল প্রভাব ফেলে। এই এনজাইমটি পাকস্থলীর অ্যাসিড ক্ষরণের চূড়ান্ত ধাপ। এই পাম্পের সাথে সমযোজীভাবে (covalently) যুক্ত হয়ে ও তা অবরুদ্ধ করে, এসোমিপ্রাজল উদ্দীপকের ধরন নির্বিশেষে (হিস্টামিন, গ্যাস্ট্রিন, অথবা অ্যাসিটাইলকোলিন) বেসাল ও উদ্দীপিত উভয় ধরনের পাকস্থলীর অ্যাসিড ক্ষরণ দমন করে, যার ফলে পাকস্থলীর ভেতরের অ্যাসিডিটি দীর্ঘস্থায়ীভাবে হ্রাস পায়।

এসোমিপ্রাজল একটি প্রোড্রাগ, যাকে সক্রিয় হওয়ার জন্য পাকস্থলীর প্যারাইটাল কোষের ক্ষরণকারী ক্যানালিকুলির অ্যাসিডিক পরিবেশের প্রয়োজন হয়। শোষিত হওয়ার পর এটি প্যারাইটাল কোষে পরিবাহিত হয়, যেখানে এটি সক্রিয় সালফেনামাইড রূপে রূপান্তরিত হয় এবং এরপর প্রোটন পাম্পের সাথে অপরিবর্তনীয়ভাবে যুক্ত হয়। যেহেতু ওষুধটি সক্রিয়ভাবে ক্ষরণরত পাম্পের উপর কাজ করে, তাই খাবার গ্রহণের আগে সেবন করলে অ্যাসিড-দমনকারী প্রভাব সর্বোচ্চ হয়।

ফার্মাকোকাইনেটিক্স (Pharmacokinetics)

  • শোষণ (Absorption): এসোমিপ্রাজল অ্যাসিড-অস্থিতিশীল (acid-labile), তাই পাকস্থলীতে ক্ষয় থেকে রক্ষা করতে এটি ডিলেড-রিলিজ ক্যাপসুলে এন্টেরিক-কোটেড পেলেট আকারে প্রস্তুত করা হয়। এন্টেরিক কোটিং ক্ষুদ্রান্ত্রে pH ৬-এর বেশি হলে দ্রবীভূত হয়। একক ৪০ মি.গ্রা. মৌখিক মাত্রা সেবনের পর, রক্তে সর্বোচ্চ ঘনত্ব (Cmax) প্রায় ১.৫ ঘণ্টায় (Tmax) পৌঁছায়। একক ৪০ মি.গ্রা. মাত্রার পর জৈব-উপলভ্যতা (bioavailability) প্রায় ৬৪%, যা বারবার প্রতিদিন একবার সেবনের ক্ষেত্রে প্রায় ৯০%-এ বৃদ্ধি পায় — কারণ বারবার সেবনের ফলে ফার্স্ট-পাস মেটাবলিজম হ্রাস পায়।
  • খাবারের প্রভাব: খাবার শোষণের হার ও পরিমাণ উভয়ই কমিয়ে দেয়। সর্বোত্তম কার্যকারিতার জন্য এসোমিপ্রাজল খাবারের কমপক্ষে ১ ঘণ্টা আগে সেবন করা উচিত।
  • বিতরণ (Distribution): এসোমিপ্রাজল শরীরের টিস্যুতে ব্যাপকভাবে বিতরিত হয়। এর প্লাজমা প্রোটিন বাইন্ডিং প্রায় ৯৭%, যা মূলত অ্যালবুমিন ও আলফা-১-অ্যাসিড গ্লাইকোপ্রোটিনের সাথে ঘটে।
  • বিপাক (Metabolism): এসোমিপ্রাজল যকৃতে ব্যাপকভাবে বিপাকিত হয়, মূলত সাইটোক্রোম P450 এনজাইম CYP2C19-এর মাধ্যমে (হাইড্রক্সি ও ডেসমিথাইল মেটাবোলাইট তৈরি করে) এবং কিছুটা CYP3A4-এর মাধ্যমে (এসোমিপ্রাজল সালফোন তৈরি করে)। সকল মেটাবোলাইটই ফার্মাকোলজিক্যালি নিষ্ক্রিয়। যেসব রোগী CYP2C19 "পুওর মেটাবোলাইজার" (ককেশীয় জনগোষ্ঠীর প্রায় ২–৩% এবং এশীয় জনগোষ্ঠীর ১৫–২০%), তাদের ক্ষেত্রে যকৃতের ক্লিয়ারেন্স কম হওয়ার কারণে রক্তে ওষুধের ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হবে।
  • অর্ধায়ু (Half-life): প্রতিদিন একবার সেবনের ক্ষেত্রে প্রায় ১ থেকে ১.৫ ঘণ্টা। প্লাজমা অর্ধায়ু কম হলেও, প্রোটন পাম্পের সাথে অপরিবর্তনীয় বন্ধনের কারণে ফার্মাকোডাইনামিক প্রভাব (অ্যাসিড দমন) ২৪ ঘণ্টা স্থায়ী হয়।
  • নিষ্কাশন (Elimination): মেটাবোলাইটগুলো মূলত প্রস্রাবের মাধ্যমে (প্রায় ৮০%) এবং বাকি অংশ মলের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয়। মূল ওষুধের ১%-এরও কম অপরিবর্তিত অবস্থায় প্রস্রাবের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয়।

ফার্মাকোডাইনামিক্স (Pharmacodynamics)

প্রতিদিন একবার ৪০ মি.গ্রা. এসোমিপ্রাজল বারবার সেবনের পর, ২৪ ঘণ্টার গড় ইন্ট্রাগ্যাস্ট্রিক pH উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ক্লিনিক্যাল গবেষণায় দেখা গেছে, ৪০ মি.গ্রা. মাত্রায় প্রায় ৬৮% রোগীর ক্ষেত্রে দিনে ১৬ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ইন্ট্রাগ্যাস্ট্রিক pH >৪ বজায় থাকে। ইরোসিভ ইসোফ্যাজাইটিস নিরাময় এবং অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে সমন্বয়ে H. pylori নির্মূলের ক্ষেত্রে এই দীর্ঘস্থায়ী অ্যাসিড দমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

এসোমিপ্রাজল ম্যাগনেসিয়াম ট্রাইহাইড্রেটের মাত্রা নির্ভর করে চিকিৎসাধীন রোগের ধরন, রোগীর বয়স এবং যকৃতের কার্যক্ষমতার উপর। সবসময় আপনার নিবন্ধিত চিকিৎসকের নির্ধারিত মাত্রা অনুসরণ করুন। নিজে থেকে ওষুধ সেবন করবেন না। এসোমিপ্রাজল খাবারের কমপক্ষে ১ ঘণ্টা আগে সেবন করা উচিত।

প্রাপ্তবয়স্ক — মৌখিক (Oral)

নির্দেশনা মাত্রা সেবনের মাত্রা সময়কাল
ইরোসিভ ইসোফ্যাজাইটিস নিরাময় ২০ মি.গ্রা. বা ৪০ মি.গ্রা. দিনে একবার ৪–৮ সপ্তাহ (প্রয়োজনে আরও ৪–৮ সপ্তাহ বাড়ানো যেতে পারে)
ইরোসিভ ইসোফ্যাজাইটিস নিরাময় বজায় রাখা ২০ মি.গ্রা. দিনে একবার দীর্ঘমেয়াদী (নিয়ন্ত্রিত গবেষণায় ৬ মাস পর্যন্ত)
উপসর্গযুক্ত GERD ২০ মি.গ্রা. দিনে একবার ৪ সপ্তাহ (উপসর্গ অব্যাহত থাকলে পুনর্মূল্যায়ন করুন)
H. pylori নির্মূলকরণ — ট্রিপল থেরাপি (অ্যামোক্সিসিলিন ১০০০ মি.গ্রা. + ক্লারিথ্রোমাইসিন ৫০০ মি.গ্রা.-এর সাথে) ৪০ মি.গ্রা. দিনে একবার ১০ দিন
NSAID-সম্পর্কিত গ্যাস্ট্রিক আলসারের ঝুঁকি হ্রাস ২০ মি.গ্রা. বা ৪০ মি.গ্রা. দিনে একবার সর্বোচ্চ ৬ মাস
NSAID-সম্পর্কিত গ্যাস্ট্রিক আলসার নিরাময় ২০ মি.গ্রা. দিনে একবার ৪–৮ সপ্তাহ
জোলিঙ্গার-এলিসন সিনড্রোম (প্যাথলজিক্যাল হাইপারসিক্রেটরি কন্ডিশন) ৪০ মি.গ্রা. (প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী মাত্রা সমন্বয় করতে হবে; দৈনিক ২৪০ মি.গ্রা. পর্যন্ত মাত্রা প্রয়োগের নজির আছে) দিনে দুইবার (প্রাথমিক মাত্রা) প্রয়োজন অনুসারে দীর্ঘমেয়াদী

শিশু রোগী — মৌখিক (Oral)

বয়সসীমা নির্দেশনা মাত্রা সময়কাল
১২–১৭ বছর ইরোসিভ ইসোফ্যাজাইটিস নিরাময় ২০ মি.গ্রা. বা ৪০ মি.গ্রা., দিনে একবার ৪–৮ সপ্তাহ
১২–১৭ বছর উপসর্গযুক্ত GERD ২০ মি.গ্রা., দিনে একবার ৪ সপ্তাহ
১–১১ বছর (ওজন ২০ কেজির কম) উপসর্গযুক্ত GERD / ইরোসিভ ইসোফ্যাজাইটিস ১০ মি.গ্রা., দিনে একবার সর্বোচ্চ ৮ সপ্তাহ
১–১১ বছর (ওজন ২০ কেজি বা তার বেশি) উপসর্গযুক্ত GERD / ইরোসিভ ইসোফ্যাজাইটিস ১০ মি.গ্রা. বা ২০ মি.গ্রা., দিনে একবার সর্বোচ্চ ৮ সপ্তাহ

প্রাপ্তবয়স্ক — ইন্ট্রাভেনাস (IV)

IV এসোমিপ্রাজল কেবল সেইসব রোগীর জন্য নির্ধারিত, যারা মৌখিক ওষুধ সেবনে অক্ষম।

নির্দেশনা মাত্রা প্রয়োগ পদ্ধতি
ইরোসিভ ইসোফ্যাজাইটিসসহ GERD-এর স্বল্পমেয়াদী চিকিৎসা (মৌখিক থেরাপি সম্ভব না হলে) ২০ মি.গ্রা. বা ৪০ মি.গ্রা., দিনে একবার কমপক্ষে ৩ মিনিট ধরে IV ইনজেকশন, অথবা ১০–৩০ মিনিট ধরে IV ইনফিউশন
থেরাপিউটিক এন্ডোস্কোপির পর পুনরায় রক্তক্ষরণ প্রতিরোধ ৩০ মিনিট ধরে ৮০ মি.গ্রা. ইনফিউশন, এরপর প্রতি ঘণ্টায় ৮ মি.গ্রা. হারে নিরবচ্ছিন্ন IV ইনফিউশন মোট চিকিৎসার সময়কাল ৭২ ঘণ্টা, এরপর মৌখিক থেরাপিতে স্থানান্তর

বিশেষ মাত্রা সংক্রান্ত বিবেচনা

যকৃতের কার্যক্ষমতা হ্রাস (Hepatic Impairment): মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার যকৃতের কার্যক্ষমতা হ্রাসপ্রাপ্ত (Child-Pugh শ্রেণি A ও B) রোগীদের ক্ষেত্রে মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই। তবে তীব্র যকৃতের কার্যক্ষমতা হ্রাসপ্রাপ্ত (Child-Pugh শ্রেণি C) রোগীদের ক্ষেত্রে, ওষুধের ক্লিয়ারেন্স উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার কারণে সর্বোচ্চ মাত্রা দিনে একবার ২০ মি.গ্রা.-এর বেশি হওয়া উচিত নয়।

কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস (Renal Impairment): যেকোনো মাত্রার কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাসপ্রাপ্ত রোগীদের ক্ষেত্রে মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই, কারণ ওষুধের ১%-এরও কম অংশ অপরিবর্তিত অবস্থায় প্রস্রাবের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয়।

বয়স্ক রোগী (Elderly Patients): বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই।

মৌখিক ডিলেড-রিলিজ ক্যাপসুল

  • সর্বোত্তম কার্যকারিতার জন্য এসোমিপ্রাজল ম্যাগনেসিয়াম ক্যাপসুল খাবারের কমপক্ষে ১ ঘণ্টা আগে — বিশেষত সকালের নাশতার আগে — সেবন করতে হবে। খাবার শোষণ কমিয়ে দেয় এবং ওষুধের অ্যাসিড-দমনকারী প্রভাব হ্রাস করে।
  • ক্যাপসুলটি এক গ্লাস পানির সাথে সম্পূর্ণভাবে গিলে ফেলুন। ক্যাপসুল বা এর ভেতরের এন্টেরিক-কোটেড পেলেট চূর্ণ, ভাঙা, বা চিবানো যাবে না, কারণ এতে অ্যাসিড-প্রতিরোধী আবরণ নষ্ট হয়ে যাবে এবং ওষুধটি অকার্যকর হয়ে পড়বে।
  • যেসব রোগীর ক্যাপসুল গিলতে সমস্যা হয়, তাদের ক্ষেত্রে ক্যাপসুল খুলে এর অক্ষত এন্টেরিক-কোটেড পেলেটগুলো এক টেবিল-চামচ নরম আপেল সস বা দইয়ের সাথে মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে। মিশ্রণটি না চিবিয়ে সাথে সাথে গিলে ফেলতে হবে এবং পরবর্তীতে ব্যবহারের জন্য এই মিশ্রণ সংরক্ষণ করা যাবে না।
  • নাসোগ্যাস্ট্রিক (NG) টিউবের মাধ্যমে প্রয়োগের ক্ষেত্রে, ক্যাপসুলের ভেতরের উপাদান পানিতে মিশিয়ে টিউবের মাধ্যমে প্রয়োগ করা যেতে পারে — নির্দিষ্ট পদ্ধতির জন্য প্রেসক্রাইবিং তথ্য অনুসরণ করুন।
  • চিকিৎসা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই উপসর্গের উন্নতি হলেও, নির্ধারিত পুরো কোর্স সম্পূর্ণ করুন।

মৌখিক ডিলেড-রিলিজ সাসপেনশন (গ্র্যানিউলস/পাউডার স্যাশে)

  • একটি স্যাশের সম্পূর্ণ উপাদান ১৫ মিলি পানিযুক্ত একটি পাত্রে ঢেলে দিন। নাড়ুন এবং ২–৩ মিনিট ঘন হতে দিন। আবার নাড়ুন এবং ৩০ মিনিটের মধ্যে সাসপেনশনটি পান করুন।
  • পাত্রে পুনরায় পানি ভরে তা পান করুন, যাতে সম্পূর্ণ মাত্রা গ্রহণ করা নিশ্চিত হয়।
  • সাসপেনশন তৈরিতে অন্য কোনো তরল ব্যবহার করবেন না।

ইন্ট্রাভেনাস (IV) প্রয়োগ পদ্ধতি

  • লাইওফিলাইজড পাউডারকে ৫ মিলি ০.৯% সোডিয়াম ক্লোরাইড ইনজেকশনের সাথে পুনর্গঠন (reconstitute) করুন, এরপর ইনফিউশনের জন্য ৫০ মিলি পর্যন্ত পাতলা করুন।
  • IV ইনজেকশন: কমপক্ষে ৩ মিনিট ধরে প্রয়োগ করুন।
  • IV ইনফিউশন: ১০ থেকে ৩০ মিনিট ধরে প্রয়োগ করুন।
  • পুনরায় রক্তক্ষরণ প্রতিরোধের জন্য: ৩০ মিনিট ধরে ৮০ মি.গ্রা. IV প্রয়োগ করুন, এরপর ৭১.৫ ঘণ্টা ধরে প্রতি ঘণ্টায় ৮ মি.গ্রা. হারে নিরবচ্ছিন্ন ইনফিউশন দিন।
  • প্রয়োগের আগে দৃশ্যমান কণা বা রঙ পরিবর্তনের জন্য পরীক্ষা করে দেখুন। দ্রবণের রঙ পরিবর্তিত হলে বা দৃশ্যমান কণা থাকলে তা ফেলে দিন।
  • রোগী মৌখিক ওষুধ সহ্য করতে পারলে যত দ্রুত সম্ভব মৌখিক এসোমিপ্রাজলে স্থানান্তর করুন।
  • পুনর্গঠিত IV দ্রবণ কক্ষ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করলে ১২ ঘণ্টার মধ্যে এবং ফ্রিজে সংরক্ষণ করলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করতে হবে।
  • এসোমিপ্রাজল IV একই ইনফিউশন লাইনে অন্য কোনো ওষুধের সাথে মেশাবেন না।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

এসোমিপ্রাজল ম্যাগনেসিয়াম ট্রাইহাইড্রেট মূলত CYP2C19 এবং কিছুটা কম মাত্রায় CYP3A4 দ্বারা বিপাকিত হয়। এটি বিভিন্ন ওষুধের শোষণ, বিপাক ও রক্তে ঘনত্বের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। নিচে ক্লিনিক্যালি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারঅ্যাকশনগুলো উল্লেখ করা হলো:

ক্লোপিডোগ্রেল (একসাথে সেবন এড়িয়ে চলুন)

ক্লোপিডোগ্রেল একটি প্রোড্রাগ, যাকে সক্রিয় মেটাবোলাইটে রূপান্তরিত হতে CYP2C19-এর প্রয়োজন হয়। এসোমিপ্রাজল CYP2C19-কে বাধা দেয়, যার ফলে ক্লোপিডোগ্রেলের অ্যান্টিপ্লেটলেট কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায় — এতে করোনারি আর্টারি ডিজিজে আক্রান্ত রোগীদের হৃদরোগজনিত ঘটনা (হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক) হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এই দুটি ওষুধ একসাথে সেবন এড়িয়ে চলা উচিত; সম্ভব হলে বিকল্প অ্যান্টিপ্লেটলেট বা অ্যাসিড-দমনকারী থেরাপি বিবেচনা করুন।

অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধ

রিলপিভিরিন (প্রতিনির্দেশিত/Contraindicated): এসোমিপ্রাজল পাকস্থলীর pH বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে রিলপিভিরিনের শোষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় (AUC প্রায় ৪০% হ্রাস পায়)। এই ইন্টারঅ্যাকশনের ফলে চিকিৎসা ব্যর্থ হতে পারে এবং HIV-এর ওষুধ-প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে পারে। এই দুটি ওষুধ একসাথে সেবন করা নিষিদ্ধ

অ্যাটাজানাভির ও নেলফিনাভির: পাকস্থলীর pH বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এই অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধগুলোর শোষণ কমে যায়, যা তাদের রক্তে ঘনত্ব হ্রাস করে এবং HIV থেরাপির কার্যকারিতা ব্যাহত করতে পারে। একসাথে ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।

মেথোট্রেক্সেট

উচ্চ মাত্রার মেথোট্রেক্সেটের সাথে এসোমিপ্রাজলসহ PPI-এর একসাথে ব্যবহার মেথোট্রেক্সেট এবং/অথবা এর সক্রিয় মেটাবোলাইট হাইড্রোক্সিমেথোট্রেক্সেটের রক্তে ঘনত্ব বাড়িয়ে দিতে এবং দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে, যা মেথোট্রেক্সেট বিষাক্ততার কারণ হতে পারে। উচ্চ মাত্রার মেথোট্রেক্সেট গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে এসোমিপ্রাজল বন্ধ রাখার কথা বিবেচনা করা যেতে পারে।

যেসব ওষুধের শোষণ পাকস্থলীর pH-এর উপর নির্ভরশীল

  • কিটোকোনাজল ও ইট্রাকোনাজল: এসোমিপ্রাজল পাকস্থলীর pH বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে এই অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধগুলোর মৌখিক শোষণ ও কার্যকারিতা হ্রাস পায়। সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন; অ্যান্টিফাঙ্গাল কার্যকারিতা কমে যাওয়ার লক্ষণের জন্য পর্যবেক্ষণ করুন।
  • আয়রন সল্ট (মৌখিক): পাকস্থলীর pH বেশি থাকলে এর শোষণ কমে যায়। ওষুধ দুটি আলাদা সময়ে সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয়।
  • এরলোটিনিব: এসোমিপ্রাজল এরলোটিনিবের রক্তে ঘনত্ব কমিয়ে দেয়, যা এর ক্যান্সার-বিরোধী কার্যকারিতা হ্রাস করতে পারে। সাধারণত এই দুটি ওষুধ একসাথে সেবন নিষিদ্ধ।
  • মাইকোফেনোলেট মোফেটিল: PPI মাইকোফেনোলিক অ্যাসিডের শোষণ কমিয়ে দিতে পারে, যার ফলে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পর ওষুধের মাত্রা ও ইমিউনোসাপ্রেসিভ কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

ট্যাক্রোলিমাস

এসোমিপ্রাজলের সাথে একসাথে সেবনে ইমিউনোসাপ্রেসেন্ট ওষুধ ট্যাক্রোলিমাসের রক্তে ঘনত্ব বাড়তে পারে। এই সমন্বয় গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রে ট্যাক্রোলিমাসের রক্তের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাত্রা সমন্বয় করা উচিত।

ডিগক্সিন

এসোমিপ্রাজল ডিগক্সিনের রক্তে ঘনত্ব বাড়িয়ে দিতে পারে। কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাসপ্রাপ্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব আরও বেশি উল্লেখযোগ্য। একসাথে ব্যবহারের সময় ডিগক্সিনের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করুন।

মূত্রবর্ধক ওষুধ (Diuretics)

এসোমিপ্রাজলের সাথে মূত্রবর্ধক ওষুধের একসাথে ব্যবহারে হাইপোম্যাগনেসেমিয়া (রক্তে ম্যাগনেসিয়াম কমে যাওয়া) হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে, বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের ক্ষেত্রে। এই সমন্বিত থেরাপির সময়, বিশেষত দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসাধীন রোগীদের ক্ষেত্রে, ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

সেন্ট জনস ওয়ার্ট ও রিফাম্পিন (CYP ইনডিউসার)

সেন্ট জনস ওয়ার্ট (CYP3A4-এর একটি ইনডিউসার) এবং রিফাম্পিন (CYP2C19 ও CYP3A4 উভয়েরই শক্তিশালী ইনডিউসার) এসোমিপ্রাজলের রক্তে ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে, যা এর চিকিৎসাগত কার্যকারিতা হ্রাস করে। একসাথে ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।

ভরিকোনাজল

ভরিকোনাজল (একটি CYP2C19 ও CYP3A4 ইনহিবিটর) এসোমিপ্রাজলের এক্সপোজার বাড়িয়ে দেয়। সাধারণত এসোমিপ্রাজলের মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন হয় না, তবে জোলিঙ্গার-এলিসন সিনড্রোমে আক্রান্ত রোগী যাদের বেশি মাত্রার প্রয়োজন হয়, তাদের ক্ষেত্রে মাত্রা সমন্বয় বিবেচনা করার প্রয়োজন হতে পারে।

ওয়ারফারিন

PPI ও ওয়ারফারিন একসাথে গ্রহণকারী কিছু রোগীর ক্ষেত্রে INR ও প্রোথ্রম্বিন টাইম বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে। অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট থেরাপিতে থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে এসোমিপ্রাজল শুরু বা বন্ধ করার সময় INR পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সিলোস্টাজল ও ডায়াজেপাম

CYP2C19 বাধাদানের মাধ্যমে এসোমিপ্রাজল সিলোস্টাজল ও ডায়াজেপামের রক্তে ঘনত্ব বাড়িয়ে দিতে পারে, যা এদের ফার্মাকোলজিক্যাল প্রভাব ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

প্রতিনির্দেশনা

নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে এসোমিপ্রাজল ম্যাগনেসিয়াম ট্রাইহাইড্রেট সেবন নিষিদ্ধ (contraindicated):

  • এসোমিপ্রাজলের প্রতি জানা হাইপারসেনসিটিভিটি (অতি-সংবেদনশীলতা), অন্য যেকোনো সাবস্টিটিউটেড বেনজিমিডাজল (যেমন — ওমিপ্রাজল, ল্যানসোপ্রাজল, প্যান্টোপ্রাজল), অথবা এই ফর্মুলেশনের যেকোনো উপাদানের প্রতি হাইপারসেনসিটিভিটি থাকলে। হাইপারসেনসিটিভিটি প্রতিক্রিয়ার মধ্যে থাকতে পারে অ্যানাফাইল্যাক্সিস, অ্যানাফাইল্যাকটিক শক, অ্যাঞ্জিওএডিমা, ব্রঙ্কোস্পাজম, তীব্র ইন্টারস্টিশিয়াল নেফ্রাইটিস এবং আর্টিকেরিয়া (চাকা চাকা চুলকানি)।
  • রিলপিভিরিনযুক্ত ওষুধ (যেমন — Complera, Odefsey, Edurant) এর সাথে একসাথে ব্যবহার — এসোমিপ্রাজল রিলপিভিরিনের শোষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়, যা HIV চিকিৎসার ব্যর্থতা এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির কারণ হতে পারে।
  • যেসব ওষুধের ক্লিয়ারেন্স CYP2C19 বাধাদানের দ্বারা উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত হয়, এবং যেসব ক্ষেত্রে সেই ওষুধের রক্তে ঘনত্ব বৃদ্ধি পাওয়া গুরুতর নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে, সেসব ওষুধের সাথে একসাথে ব্যবহার।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

এসোমিপ্রাজল ম্যাগনেসিয়াম ট্রাইহাইড্রেট সাধারণত ভালোভাবে সহনীয়। বেশিরভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মৃদু এবং চিকিৎসা সম্পূর্ণ হওয়ার পর বা বন্ধ করার পর সেরে যায়। নিচে যেসব বিরূপ প্রতিক্রিয়া রিপোর্ট করা হয়েছে তা উল্লেখ করা হলো:

সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (১–১০%)

  • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল (পাকস্থলী ও অন্ত্রনালী সংক্রান্ত): মাথাব্যথা (সবচেয়ে বেশি রিপোর্ট করা হয়), ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, পেট ফাঁপা (গ্যাস), পেটে ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, এবং মুখ শুকিয়ে যাওয়া
  • স্নায়ুতন্ত্র সংক্রান্ত: মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, এবং ঝিমুনি ভাব

অস্বাভাবিক থেকে বিরল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

  • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল: বমি, ডিসপেপসিয়া (হজমে সমস্যা), অ্যাসিড রিগার্জিটেশন (টক ঢেকুর), এবং স্বাদের পরিবর্তন
  • যকৃত সংক্রান্ত: যকৃতের এনজাইম বৃদ্ধি (ALT, AST); বিরল ক্ষেত্রে জন্ডিসসহ বা জন্ডিস ছাড়া হেপাটাইটিস, এবং অত্যন্ত বিরল ক্ষেত্রে যকৃতের বিকল হয়ে যাওয়া
  • ত্বক ও হাইপারসেনসিটিভিটি সংক্রান্ত: র‍্যাশ, চুলকানি, আর্টিকেরিয়া (চাকা চাকা চুলকানি); বিরল ক্ষেত্রে স্টিভেনস-জনসন সিনড্রোম, টক্সিক এপিডার্মাল নেক্রোলাইসিস (TEN), এবং এরিথেমা মাল্টিফর্মি। তীব্র ত্বকের প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে সাথে সাথে এসোমিপ্রাজল বন্ধ করুন।
  • পেশি ও হাড় সংক্রান্ত: আর্থ্রালজিয়া (জয়েন্টের ব্যথা), মায়ালজিয়া (পেশির ব্যথা), এবং দীর্ঘমেয়াদী বা উচ্চ মাত্রার ব্যবহারে নিতম্ব, কব্জি, বা মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যাওয়া
  • কিডনি সংক্রান্ত: তীব্র ইন্টারস্টিশিয়াল নেফ্রাইটিস (AIN) — এর সাথে জ্বর, র‍্যাশ, আর্থ্রালজিয়া, ক্লান্তি, এবং কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যায়। সন্দেহ হলে সাথে সাথে বন্ধ করুন।

গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (যেসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন)

হাইপোম্যাগনেসেমিয়া (রক্তে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি)

দীর্ঘমেয়াদী PPI ব্যবহার (সাধারণত ১ বছরের বেশি) উপসর্গযুক্ত ও উপসর্গহীন উভয় ধরনের হাইপোম্যাগনেসেমিয়া ঘটাতে পারে। যেসব রোগী একইসাথে ডিগক্সিন বা মূত্রবর্ধক ওষুধ সেবন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেড়ে যায়। এর লক্ষণ ও উপসর্গের মধ্যে রয়েছে:

  • খিঁচুনি ও কনভালশন
  • দ্রুত, অনিয়মিত, বা দ্রুতগতির হৃদস্পন্দন (কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়া)
  • পেশিতে খিঁচুনি, ক্র্যাম্প, এবং টিটানি
  • কম্পন ও অস্থিরতা
  • মাথা ঘোরা এবং অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা দুর্বলতা

দীর্ঘমেয়াদী থেরাপি শুরু করার আগে এবং পরবর্তীতে নিয়মিত বিরতিতে রক্তের ম্যাগনেসিয়াম মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত।

ক্লসট্রিডিয়াম ডিফিসাইল-সম্পর্কিত ডায়রিয়া (CDAD)

PPI-এর কারণে পাকস্থলীর অ্যাসিড হ্রাস C. difficile ব্যাকটেরিয়ার অতিরিক্ত বৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। চিকিৎসার সময় বা পরে যেসব রোগীর তীব্র পানির মতো বা রক্তযুক্ত ডায়রিয়া দেখা দেয়, তাদের দ্রুত CDAD-এর জন্য মূল্যায়ন করা উচিত। CDAD নিশ্চিত হলে এসোমিপ্রাজল বন্ধ করুন।

হাড় ভাঙা (Bone Fractures)

বেশ কিছু প্রকাশিত পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় দেখা গেছে যে, PPI থেরাপির সাথে নিতম্ব, কব্জি, ও মেরুদণ্ডের অস্টিওপোরোসিস-সম্পর্কিত হাড় ভাঙার ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে — বিশেষত উচ্চ মাত্রায় দীর্ঘমেয়াদী (১ বছরের বেশি) ব্যবহারের ক্ষেত্রে। ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের উপযুক্ত নির্দেশিকা অনুযায়ী পরিচালনা করা উচিত, এবং ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন D সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের কথা বিবেচনা করা উচিত।

লুপাস এরিথেমাটোসাস

PPI সেবনকারী রোগীদের ক্ষেত্রে কিউটেনিয়াস লুপাস এরিথেমাটোসাস (CLE) এবং সিস্টেমিক লুপাস এরিথেমাটোসাস (SLE) রিপোর্ট করা হয়েছে। বিদ্যমান লুপাস আরও খারাপ হতে পারে। জয়েন্টে ব্যথা বা রোদে গেলে বেড়ে যায় এমন ত্বকের র‍্যাশ দেখা দিলে, এসোমিপ্রাজল বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ফান্ডিক গ্ল্যান্ড পলিপ

দীর্ঘমেয়াদী PPI ব্যবহারের সাথে পাকস্থলীতে ফান্ডিক গ্ল্যান্ড পলিপ তৈরি হওয়ার সম্পর্ক রয়েছে। PPI ব্যবহারের সময়কাল বাড়ার সাথে সাথে, বিশেষত ১ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবহারে, এই ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এই পলিপগুলো সাধারণত ক্ষতিকর নয় (benign)।

ভিটামিন B12-এর ঘাটতি

দীর্ঘমেয়াদী (২ বছরের বেশি) PPI ব্যবহারে পাকস্থলীর অ্যাসিড ক্ষরণ কমে যাওয়ার কারণে খাদ্য থেকে ভিটামিন B12 (সায়ানোকোবালামিন) শোষণ কমে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী PPI থেরাপিতে থাকা রোগীদের, বিশেষত বয়স্ক রোগীদের, B12-এর ঘাটতির জন্য পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থা

গর্ভাবস্থায় এসোমিপ্রাজল ব্যবহার সংক্রান্ত বিদ্যমান এপিডেমিওলজিক্যাল তথ্যে বড় ধরনের জন্মগত ত্রুটি, গর্ভপাত, বা মা বা ভ্রূণের বিরূপ পরিণতির সাথে ওষুধের সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। মানুষের ব্যবহৃত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় এসোমিপ্রাজল ও ওমিপ্রাজল (মূল রেসেমিক যৌগ) নিয়ে প্রাণীদের উপর পরিচালিত গবেষণায় ভ্রূণের বিকৃতি বা টেরাটোজেনিসিটির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে, যেহেতু প্রাণীদের উপর পরিচালিত গবেষণা সবসময় মানুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে, তাই গর্ভাবস্থায় এসোমিপ্রাজল কেবল স্পষ্টভাবে প্রয়োজন হলেই ব্যবহার করা উচিত, যখন মায়ের জন্য সম্ভাব্য উপকারিতা ভ্রূণের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি হয়। গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

স্তন্যদান (Lactation)

এসোমিপ্রাজল হলো ওমিপ্রাজলের S-আইসোমার। সীমিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন ২০ মি.গ্রা. মাত্রায় ওমিপ্রাজল সেবনকারী মায়েদের বুকের দুধে এর মাত্রা কম থাকে। সম্ভবত এসোমিপ্রাজলও অল্প পরিমাণে বুকের দুধে নিঃসৃত হয়। বুকের দুধ পানকারী শিশুর উপর এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে এখনো জানা যায়নি। স্তন্যদানকারী মাকে এসোমিপ্রাজল দেওয়ার সময় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। চিকিৎসাকালীন স্তন্যদান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শিশুর জন্য স্তন্যদানের উপকারিতা, মায়ের এসোমিপ্রাজল গ্রহণের ক্লিনিক্যাল প্রয়োজনীয়তা, এবং শিশুর উপর সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাবের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

সতর্কতা

গ্যাস্ট্রিক ম্যালিগন্যান্সি (পাকস্থলীর ক্যান্সার) আড়াল হওয়ার ঝুঁকি

এসোমিপ্রাজল থেরাপিতে উপসর্গের উন্নতি হলেই তা গ্যাস্ট্রিক ম্যালিগন্যান্সি, যেমন পাকস্থলীর ক্যান্সার, না থাকার নিশ্চয়তা দেয় না। যেসব রোগীর ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক উপসর্গ দেখা যায় (যেমন — উল্লেখযোগ্য ও অনিচ্ছাকৃত ওজন হ্রাস, খাবার গিলতে সমস্যা, ক্রমাগত বমি, রক্তবমি, বা আয়রন-ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা), তাদের ক্ষেত্রে PPI থেরাপি শুরু করার আগে ম্যালিগন্যান্সির সম্ভাবনা বাতিল করা উচিত। ক্রমাগত উপসর্গযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে যথাযথ তদন্ত ছাড়া দীর্ঘমেয়াদী PPI ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত।

হাইপোম্যাগনেসেমিয়া পর্যবেক্ষণ

দীর্ঘমেয়াদী PPI ব্যবহার (সাধারণত ১ বছরের বেশি) হাইপোম্যাগনেসেমিয়া ঘটাতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা শুরু করার আগে এবং চিকিৎসাকালীন নিয়মিত বিরতিতে রক্তের ম্যাগনেসিয়াম মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত — বিশেষত যেসব রোগী একইসাথে ডিগক্সিন বা মূত্রবর্ধক ওষুধ সেবন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে, কারণ এসব ক্ষেত্রে হাইপোম্যাগনেসেমিয়া-সম্পর্কিত জটিলতার (অ্যারিদমিয়া, খিঁচুনি) ঝুঁকি বেশি থাকে। প্রয়োজনে ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট এবং/অথবা এসোমিপ্রাজল বন্ধ করার প্রয়োজন হতে পারে।

হাড় ভাঙার ঝুঁকি

যেসব রোগী উচ্চ মাত্রায় PPI সেবন করেন বা দীর্ঘ সময় (১ বছরের বেশি) ধরে সেবন করেন, তাদের ক্ষেত্রে নিতম্ব, কব্জি, ও মেরুদণ্ডের হাড় ভাঙার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী থেরাপিতে থাকা রোগীদের পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন D গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া উচিত, এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের ক্ষেত্রে হাড়ের ঘনত্ব পর্যবেক্ষণ বিবেচনা করা উচিত।

ডায়াগনস্টিক পরীক্ষায় হস্তক্ষেপ

PPI-এর কারণে পাকস্থলীর অ্যাসিডিটি হ্রাস পাওয়ায় এন্টেরোক্রোমাফিন-লাইক (ECL) কোষের হাইপারপ্লাসিয়া এবং রক্তে ক্রোমোগ্রানিন A (CgA)-এর মাত্রা বৃদ্ধি ঘটে। এই বৃদ্ধি নিউরোএন্ডোক্রাইন টিউমারের ডায়াগনস্টিক তদন্তে হস্তক্ষেপ করতে পারে। CgA-এর মাত্রা পরিমাপের অন্তত ১৪ দিন আগে এসোমিপ্রাজল বন্ধ করা উচিত। যদি মাত্রা তখনও বেশি থাকে, তাহলে আরও ১৪ দিন PPI থেরাপি ছাড়া পুনরায় পরীক্ষা করা উচিত।

C. difficile-সম্পর্কিত রোগ

PPI ব্যবহারের সাথে Clostridioides difficile-সম্পর্কিত ডায়রিয়া (CDAD)-এর ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে। PPI থেরাপির সময় বা পরে যেসব রোগীর ক্রমাগত পানির মতো ডায়রিয়া দেখা দেয়, তাদের সাথে সাথে মূল্যায়ন করা উচিত। অপ্রয়োজনীয় বা দীর্ঘায়িত PPI ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত।

তীব্র ইন্টারস্টিশিয়াল নেফ্রাইটিস

PPI সেবনকারী রোগীদের ক্ষেত্রে তীব্র ইন্টারস্টিশিয়াল নেফ্রাইটিস (AIN) লক্ষ্য করা গেছে, এবং এটি চিকিৎসার যেকোনো পর্যায়ে দেখা দিতে পারে। যেসব রোগীর AIN-এর লক্ষণ (জ্বর, র‍্যাশ, জয়েন্টে ব্যথা, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, বা ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়া) দেখা দেয়, তাদের অবিলম্বে এসোমিপ্রাজল বন্ধ করে চিকিৎসকের মূল্যায়ন নেওয়া উচিত।

অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার এড়িয়ে চলুন

PPI থেরাপির সময়কাল যতটা সম্ভব সংক্ষিপ্ত এবং কার্যকর রাখা উচিত। PPI কেবল তখনই শুরু ও চালিয়ে যাওয়া উচিত, যখন এর ক্লিনিক্যাল উপকারিতা ঝুঁকির চেয়ে বেশি হয়। চলমান PPI থেরাপির প্রয়োজনীয়তা নিয়মিত পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি, বিশেষত যেসব রোগী এমন ইন্ডিকেশনে ওষুধটি সেবন করছেন যেখানে স্বল্পমেয়াদী ব্যবহারই উপযুক্ত।

CYP2C19 পুওর মেটাবোলাইজার

যেসব রোগী CYP2C19 পুওর মেটাবোলাইজার (এশীয় জনগোষ্ঠীতে অধিক প্রচলিত), তাদের ক্ষেত্রে এক্সটেনসিভ মেটাবোলাইজারদের তুলনায় রক্তে এসোমিপ্রাজলের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি থাকে। যদিও নিয়মিতভাবে মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন হয় না, তবে এই ফার্মাকোজেনোমিক ভিন্নতা সম্পর্কে সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষত এসোমিপ্রাজল অন্য ওষুধের সমন্বয়ে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে।

মাত্রাধিক্যতা

এসোমিপ্রাজলের অতিরিক্ত মাত্রার (overdose) জন্য নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক (antidote) নেই। ওমিপ্রাজলের (মূল রেসেমেট) অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে, অতিরিক্ত মাত্রায় সেবনের পর নিম্নলিখিত উপসর্গগুলো দেখা যেতে পারে:

  • বিভ্রান্তি ও ঝিমুনি ভাব
  • ঝাপসা দৃষ্টি
  • টাকিকার্ডিয়া (দ্রুত হৃদস্পন্দন)
  • বমি বমি ভাব ও বমি
  • অতিরিক্ত ঘাম হওয়া ও মুখ লাল হয়ে যাওয়া
  • মাথাব্যথা ও মুখ শুকিয়ে যাওয়া
  • নির্ধারিত মাত্রায় দেখা যাওয়া পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার অনুরূপ অন্যান্য বিরূপ প্রতিক্রিয়া

একক মাত্রায় ৮০ মি.গ্রা. পর্যন্ত এসোমিপ্রাজল সেবনের ক্ষেত্রে কোনো গুরুতর সমস্যার রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। ইচ্ছাকৃত অতিরিক্ত মাত্রায় সেবনের (দৈনিক ২৪০ মি.গ্রা.-এর বেশি) ক্ষেত্রে সাধারণত উপসর্গগুলো সাময়িক হয়ে থাকে। ২,৪০০ মি.গ্রা. পর্যন্ত মাত্রায় ওমিপ্রাজল সেবনের রিপোর্টেও সাধারণত প্রত্যাবর্তনযোগ্য (reversible) প্রভাব দেখা গেছে।

যেহেতু এসোমিপ্রাজল ব্যাপকভাবে প্রোটিনের সাথে যুক্ত থাকে, তাই হেমোডায়ালাইসিসের মাধ্যমে এটি অপসারিত হবে বলে আশা করা যায় না। চিকিৎসা উপসর্গ অনুযায়ী ও সহায়ক (symptomatic and supportive) হয়ে থাকে। অতিরিক্ত মাত্রায় সেবনের ক্ষেত্রে সবসময় একাধিক ওষুধ একসাথে সেবনের সম্ভাবনা বিবেচনা করা উচিত। অতিরিক্ত মাত্রায় সেবনের সন্দেহ হলে, অবিলম্বে পয়জন কন্ট্রোল সেন্টারে যোগাযোগ করুন বা জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিন

সংরক্ষণ

  • ডিলেড-রিলিজ ক্যাপসুল ও সাসপেনশন স্যাশে ৩০°সে (৮৬°ফা) তাপমাত্রার নিচে, আলো ও আর্দ্রতা থেকে সুরক্ষিত একটি ঠান্ডা ও শুকনো স্থানে সংরক্ষণ করুন।
  • শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
  • প্যাকেজিং-এ মুদ্রিত মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখের পর কোনো ফর্মুলেশন ব্যবহার করবেন না।
  • IV ভায়াল (পুনর্গঠনের আগে): ৩০°সে বা তার নিচে, আলো থেকে সুরক্ষিত অবস্থায় সংরক্ষণ করুন। জমাট বাঁধাবেন না (freeze করবেন না)।
  • পুনর্গঠিত IV দ্রবণ: কক্ষ তাপমাত্রায় (≤২৫°সে) ১২ ঘণ্টার মধ্যে অথবা ফ্রিজে (২°সে–৮°সে) সংরক্ষণ করলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করুন। পুনর্গঠিত দ্রবণ জমাট বাঁধাবেন না।
  • এসোমিপ্রাজল অ্যাসিড-অস্থিতিশীল (acid-labile) — মৌখিক সাসপেনশন প্রস্তুত করার পর সংরক্ষণ করবেন না; এটি মিশানোর ৩০ মিনিটের মধ্যে সেবন করা উচিত।
  • আর্দ্রতা ও আলোর সংস্পর্শ থেকে সুরক্ষার জন্য মূল প্যাকেজিং-এ সংরক্ষণ করুন।
Disclaimer

The information provided is accurate to our best practices, but it does not replace professional medical advice. We cannot guarantee its completeness or accuracy. The absence of specific information about a drug should not be seen as an endorsement. We are not responsible for any consequences resulting from this information, so consult a healthcare professional for any concerns or questions.

Doctor
Cart
Account