
Hysomide20 mg/ml
Opsonin Pharma Ltd.

G-Hyoscine একটি অ্যান্টিমাসকারিনিক (অ্যান্টিকোলিনার্জিক) অ্যান্টিস্প্যাসমোডিক ওষুধ, যা পাকস্থলী-অন্ত্র এবং মূত্র-জননতন্ত্রের মসৃণ পেশির স্প্যাজম (খিঁচুনি জাতীয় ব্যথা) ও কোলিক উপশমে ব্যবহৃত হয়। এটি বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ও বাজারজাত হয়।
G-Hyoscine শুধু স্প্যাজম ও ব্যথা উপশম করে, মূল কারণের চিকিৎসা করে না - তাই দীর্ঘস্থায়ী বা বারবার পেটে ব্যথা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে কারণ নির্ণয় করা উচিত।
G-Hyoscine অ্যান্টিমাসকারিনিক (অ্যান্টিকোলিনার্জিক) অ্যান্টিস্প্যাসমোডিক শ্রেণির ওষুধ - নির্দিষ্টভাবে সিন্থেটিক কোয়াটারনারি অ্যামোনিয়াম গোত্রের অ্যান্টিমাসকারিনিক, যা মসৃণ পেশি শিথিল করতে ব্যবহৃত হয়।
Hyoscine Butylbromide পাকস্থলী-অন্ত্র, পিত্তনালী ও মূত্র-জননতন্ত্রের মসৃণ পেশিতে থাকা মাসকারিনিক অ্যাসিটাইলকোলিন রিসেপ্টরে প্রতিযোগিতামূলকভাবে বাধা দেয়। অ্যাসিটাইলকোলিনের কার্যক্রম বন্ধ করে Hyoscine Butylbromide মসৃণ পেশির টান ও সংকোচনশীলতা কমায়, ফলে স্প্যাজমজনিত ব্যথা উপশম হয়। এর কোয়াটারনারি অ্যামোনিয়াম গঠনের কারণে মুখে খাওয়ার পর শোষণ কম (সাধারণত ১০ শতাংশের নিচে) এবং এটি সহজে রক্ত-মস্তিষ্ক বাধা অতিক্রম করে না, তাই প্রচলিত মাত্রায় কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব সাধারণত কম থাকে। শিরাপথে দেওয়ার পর কার্যকারিতা দ্রুত (মিনিটের মধ্যে) শুরু হয়; মুখে খাওয়ার পর তুলনামূলক ধীরে শুরু হয়। Hyoscine Butylbromide প্রধানত এস্টার হাইড্রোলাইসিসের মাধ্যমে বিপাক হয় এবং কিডনি ও পিত্তের মাধ্যমে নির্গত হয়।
| নির্দেশনা/রোগী | পথ | সাধারণ মাত্রা |
|---|---|---|
| প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছরের বেশি কিশোর - পেট/মূত্রনালীর স্প্যাজম | মুখে (ট্যাবলেট) | ১০-২০ মি.গ্রা., দিনে ৩-৪ বার (সর্বোচ্চ ১০০ মি.গ্রা./দিন) |
| প্রাপ্তবয়স্ক - ডিসমেনোরিয়া | মুখে (ট্যাবলেট) | ১০-২০ মি.গ্রা., দিনে ৩-৪ বার, মাসিক শুরুর ১-২ দিন আগে থেকে শুরু করে প্রথম কয়েক দিন পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া |
| ৬-১২ বছর বয়সী শিশু - পেটের স্প্যাজম | মুখে (ট্যাবলেট) | ১০ মি.গ্রা., দিনে ৩ বার, চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে |
| ৬ বছরের কম বয়সী শিশু | মুখে | সুপারিশ করা হয় না; নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত নয় |
| প্রাপ্তবয়স্ক - তীব্র স্প্যাজম/কোলিক, প্রসিডিউরের আগে | মাংসপেশি/ত্বকের নিচে/ধীরে শিরাপথে ইনজেকশন | ১০-২০ মি.গ্রা. (০.৫-১ মি.লি.) একক মাত্রা, প্রয়োজনে ২০-৩০ মিনিট পর পুনরাবৃত্তি (সর্বোচ্চ ১০০ মি.গ্রা./দিন) |
| শিশু - ইনজেকশন | ইনজেকশন | বর্তমানে সুপারিশ করা হয় না; বিকল্প না থাকলে শুধু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে |
উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় ও সংক্ষিপ্ততম সময়ের জন্য G-Hyoscine ব্যবহার করা উচিত। ব্যবহারের পরও পেটে ব্যথা অব্যাহত বা পুনরাবৃত্তি হলে মূল কারণ চিকিৎসকের মাধ্যমে নির্ণয় করা উচিত, দীর্ঘমেয়াদে না চালিয়ে।
G-Hyoscine-এর নিম্নলিখিত ক্লিনিক্যালি গুরুত্বপূর্ণ মিথষ্ক্রিয়া রয়েছে:
G-Hyoscine শুরু করার আগে আপনি যেসব ওষুধ সেবন করছেন তা চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জানান।
নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে Hyoscine Butylbromide ব্যবহার করা যাবে না:
এসব ক্ষেত্রে Hyoscine Butylbromide ব্যবহার করা উচিত নয়; অন্যান্য সতর্কতা (যেমন প্রস্রাব আটকে না গেলে প্রস্টেট বৃদ্ধি, হৃদরোগ, আলসারেটিভ কোলাইটিস) সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে চিকিৎসকের সতর্ক বিবেচনার বিষয় - বিস্তারিত সতর্কতা অংশে দেখুন।
G-Hyoscine-এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মূলত এর অ্যান্টিমাসকারিনিক প্রভাব থেকে হয় এবং সাধারণত হালকা ও প্রত্যাবর্তনযোগ্য।
G-Hyoscine ব্যবহারকালে গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার (মুখ/গলা ফুলে যাওয়া, তীব্র র্যাশ, শ্বাসকষ্ট) কোনো লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা: মানুষের গর্ভাবস্থায় G-Hyoscine ব্যবহারের তথ্য সীমিত। প্রাণী গবেষণায় টেরাটোজেনিক (জন্মগত ত্রুটি সৃষ্টিকারী) প্রভাব দেখা যায়নি, তবে মানুষের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সুনিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। শুধুমাত্র স্পষ্ট প্রয়োজন হলে এবং সম্ভাব্য উপকারিতা ভ্রূণের সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলেই গর্ভাবস্থায় G-Hyoscine ব্যবহার করা উচিত; বিশেষত প্রথম ত্রৈমাসিকে ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
স্তন্যদান: G-Hyoscine বা এর বিপাকীয় পদার্থ মাতৃদুগ্ধে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে নির্গত হয় কিনা তা জানা নেই। সতর্কতা হিসেবে, স্তন্যদানকালে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়া উচিত, মায়ের উপকারিতা ও শিশুর সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করে।
নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সতর্কতার সাথে G-Hyoscine ব্যবহার করুন:
G-Hyoscine ঝাপসা দৃষ্টি বা মাথা ঘোরা সৃষ্টি করতে পারে; এর প্রভাব বোঝার আগ পর্যন্ত গাড়ি চালানো বা যন্ত্রপাতি পরিচালনা এড়িয়ে চলুন এবং অ্যালকোহল পরিহার করুন। অজানা পেটের ব্যথা ঢাকতে দীর্ঘমেয়াদে চালিয়ে যাওয়া উচিত নয় - মূল কারণ নির্ণয় করা প্রয়োজন। বিশেষত ইনজেকশন ফর্মে অতি সংবেদনশীলতা/অ্যানাফাইল্যাক্সিসের সামান্য ঝুঁকি থাকে; প্রয়োগের পর রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখা উচিত এবং প্রশিক্ষিত ব্যক্তি দ্বারা, জরুরি প্রতিরোধ ব্যবস্থাসহ পরিবেশে প্রয়োগ করা উচিত। যেসব ক্ষেত্রে G-Hyoscine একেবারেই ব্যবহার করা যাবে না তার জন্য প্রতিনির্দেশনা অংশ দেখুন।
G-Hyoscine-এর মাত্রাধিক্যতায় অ্যান্টিকোলিনার্জিক টক্সিসিটির লক্ষণ দেখা দেয়: মুখ ও ত্বক শুকিয়ে যাওয়া, তৃষ্ণা, ত্বক লালচে হওয়া, টাকিকার্ডিয়া, ঝাপসা দৃষ্টি ও চোখের মণি বড় হয়ে যাওয়া, প্রস্রাব আটকে যাওয়া, অন্ত্রের শব্দ কমে যাওয়া, অস্থিরতা বা তন্দ্রা। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি অস্থিরতা, উচ্চ শরীরের তাপমাত্রা, শ্বাস-প্রশ্বাসের অবনতি, রক্তসংবহনতন্ত্রের পতন এবং কোমায় পরিণত হতে পারে।
G-Hyoscine-এর মাত্রাধিক্যতা সন্দেহ হলে তা একটি চিকিৎসা জরুরি অবস্থা - অবিলম্বে চিকিৎসকের সাহায্য নিন অথবা নিকটস্থ জরুরি বিভাগ/বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। বাড়িতে নিজে থেকে মাত্রাধিক্যতার চিকিৎসা করার চেষ্টা করবেন না। ব্যবস্থাপনা সহায়ক ধরনের এবং চিকিৎসা পেশাদারদের দ্বারা পরিচালিত হতে হবে (প্রয়োজনে গ্যাস্ট্রিক ডিকনটামিনেশন, পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসকের নির্দেশনায় নির্দিষ্ট প্রতিষেধক থেরাপি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে)।
ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় (৩০°C এর নিচে), আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। ইনজেকশন হিমায়িত করবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
শিশু: ৬-১২ বছর বয়সী শিশুদের পাকস্থলী-অন্ত্রের স্প্যাজমে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে কম মাত্রায় (দিনে ৩ বার ১০ মি.গ্রা.) মুখে খাওয়া G-Hyoscine ব্যবহার করা যেতে পারে। ৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় সুপারিশ করা হয় না। ইনজেকশন ফর্মের G-Hyoscine সাধারণত শিশুদের জন্য সুপারিশ করা হয় না; প্রয়োজন মনে হলে শুধুমাত্র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে দেওয়া উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুকে G-Hyoscine দেওয়া উচিত নয়।
বয়স্ক রোগী: অ্যান্টিকোলিনার্জিক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া (প্রস্রাব আটকে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, বিভ্রান্তি) প্রতি বেশি সংবেদনশীল হতে পারেন বলে সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় G-Hyoscine ব্যবহার করা উচিত।
Q: G-Hyoscine 20 mg/ml Injection কীসের জন্য ব্যবহৃত হয়?
A: G-Hyoscine 20 mg/ml Injection পাকস্থলী, অন্ত্র, পিত্তথলি/পিত্তনালী ও মূত্রনালীর ব্যথাযুক্ত স্প্যাজম এবং মাসিকের ব্যথাযুক্ত খিঁচুনি (ডিসমেনোরিয়া) উপশমে ব্যবহৃত হয়। এন্ডোস্কোপির মতো কিছু ডায়াগনস্টিক প্রসিডিউরের আগে অন্ত্রের স্প্যাজম শিথিল করতেও এটি ব্যবহার করা হয়।
Q: G-Hyoscine 20 mg/ml Injection কীভাবে সেবন করব?
A: প্রাপ্তবয়স্করা সাধারণত G-Hyoscine 20 mg/ml Injection ১০-২০ মি.গ্রা. মুখে দিনে ৩-৪ বার (সর্বোচ্চ ১০০ মি.গ্রা./দিন) পানির সাথে সেবন করেন, সাধারণত খাবারের আগে। ইনজেকশন ফর্ম শুধুমাত্র চিকিৎসা পেশাদার দ্বারা প্রয়োগ করা হয়। সবসময় চিকিৎসকের নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
Q: কাদের G-Hyoscine 20 mg/ml Injection ব্যবহার করা উচিত নয়?
A: মায়াস্থেনিয়া গ্রেভিস, যান্ত্রিক অন্ত্র বাধা বা প্যারালাইটিক ইলিয়াস, মেগাকোলন, অচিকিৎসিত অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমা, প্রস্টেট বা মূত্রথলির বাধাজনিত প্রস্রাব আটকে যাওয়া, উল্লেখযোগ্য অনিয়ন্ত্রিত দ্রুত হৃদস্পন্দন, অথবা এই ওষুধে পরিচিত অতি সংবেদনশীলতা থাকলে G-Hyoscine 20 mg/ml Injection ব্যবহার করা উচিত নয়। G-Hyoscine 20 mg/ml Injection শুরু করার আগে আপনার সম্পূর্ণ চিকিৎসা ইতিহাস চিকিৎসককে জানান।
Q: গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে কি G-Hyoscine 20 mg/ml Injection ব্যবহার করা যায়?
A: এ বিষয়ে তথ্য সীমিত। শুধুমাত্র স্পষ্ট প্রয়োজন হলে এবং সম্ভাব্য উপকারিতা ভ্রূণের সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলে, বিশেষত প্রথম ত্রৈমাসিকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী G-Hyoscine 20 mg/ml Injection ব্যবহার করা উচিত। এটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মাতৃদুগ্ধে নির্গত হয় কিনা জানা নেই, তাই স্তন্যদানকালেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত।
Q: G-Hyoscine 20 mg/ml Injection-এর সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কী কী?
A: G-Hyoscine 20 mg/ml Injection-এর সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলো মুখ শুকিয়ে যাওয়া, ঘাম কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা এবং তন্দ্রা। কম সাধারণভাবে এটি দ্রুত হৃদস্পন্দন, ঝাপসা দৃষ্টি, কোষ্ঠকাঠিন্য বা প্রস্রাব করতে অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে। বিরলভাবে গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া (অ্যানাফাইল্যাক্সিসসহ) হতে পারে, বিশেষত ইনজেকশনে - এমন হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
Q: G-Hyoscine 20 mg/ml Injection বেশি মাত্রায় সেবন করে ফেললে কী করব?
A: G-Hyoscine 20 mg/ml Injection-এর মাত্রাধিক্যতায় মুখ শুকিয়ে যাওয়া, ঝাপসা দৃষ্টি, দ্রুত হৃদস্পন্দন, প্রস্রাব আটকে যাওয়া, অস্থিরতা বা তন্দ্রা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে আরও মারাত্মক প্রভাব দেখা দিতে পারে। অবিলম্বে চিকিৎসকের সাহায্য নিন অথবা জরুরি সেবা/বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন; বাড়িতে নিজে থেকে মাত্রাধিক্যতা সামলানোর চেষ্টা করবেন না।
ডিসক্লেইমার
এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।