
Gatsina400 mg
Ibn-Sina Pharmaceuticals Ltd.

Gaticin একটি ফ্লুরোকুইনোলোন গোত্রের অ্যান্টিবায়োটিক চোখের ড্রপ, যা চোখের ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের স্থানীয় (topical) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
উল্লেখ্য: বাংলাদেশে Gaticin শুধুমাত্র চোখের ড্রপ আকারে পাওয়া যায়; মুখে খাওয়ার বা ইনজেকশনযোগ্য (সিস্টেমিক) ফর্ম বাংলাদেশে পাওয়া যায় না এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রার গুরুতর তারতম্যজনিত ঝুঁকির কারণে বিভিন্ন দেশে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে (বিস্তারিত সতর্কতা অংশে দেখুন)।
চক্ষু-সংক্রান্ত (ophthalmic) অ্যান্টি-ইনফেক্টিভ; ফ্লুরোকুইনোলোন গোত্রের অ্যান্টিবায়োটিক, স্থানীয়/টপিক্যাল ব্যবহারের জন্য। এই ওষুধের নাম Gaticin।
Gatifloxacin একটি বিস্তৃত-বর্ণালী ফ্লুরোকুইনোলোন অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, যা ব্যাকটেরিয়ার DNA gyrase (টপোইসোমারেজ II) এবং টপোইসোমারেজ IV এনজাইমকে বাধা দিয়ে কাজ করে। এই এনজাইমগুলো ব্যাকটেরিয়ার DNA প্রতিলিপি, প্রতিলেখন ও মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয়; এগুলো বাধাগ্রস্ত হলে ব্যাকটেরিয়া মারা যায়।
চোখে টপিক্যালি প্রয়োগের পর Gatifloxacin এর সিস্টেমিক (রক্তে) শোষণ খুবই সামান্য।
| মাত্রা | প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু (≥১ বছর) |
|---|---|
| ০.৩% | ১ম-২য় দিন: আক্রান্ত চোখে প্রতি ২ ঘণ্টায় ১ ফোঁটা, জেগে থাকা অবস্থায় দিনে সর্বোচ্চ ৮ বার। ৩য়-৭ম দিন: দিনে সর্বোচ্চ ৪ বার ১ ফোঁটা করে। |
| ০.৫% | ১ম দিন: প্রতি ২ ঘণ্টায় ১ ফোঁটা, সর্বোচ্চ ৮ বার। ২য়-৭ম দিন: দিনে ২-৪ বার ১ ফোঁটা। |
সাধারণত চিকিৎসা ৭ দিন ধরে চলে। চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী Gaticin এর সম্পূর্ণ কোর্স ব্যবহার করুন; লক্ষণ কমে গেলেও নিজে থেকে ব্যবহার বন্ধ, বৃদ্ধি, বাদ বা অন্য কাউকে দেওয়া উচিত নয়, কারণ এতে চিকিৎসা ব্যর্থতা ও অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির ঝুঁকি বাড়ে।
Gaticin চোখে স্থানীয়ভাবে প্রয়োগ করা হয় এবং সিস্টেমিক শোষণ খুবই কম হওয়ায় উল্লেখযোগ্য ওষুধ-মিথষ্ক্রিয়ার সম্ভাবনা কম।
Gatifloxacin, অন্যান্য ফ্লুরোকুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক, অথবা এই প্রস্তুতির যেকোনো উপাদানের প্রতি অতি সংবেদনশীলতা (hypersensitivity) থাকলে এই ওষুধ ব্যবহার করা যাবে না।
Gaticin ব্যবহারে সাধারণত মৃদু ও স্থানীয় পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায়:
কম ক্ষেত্রে কেরাটাইটিস, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস, বা অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া (চোখের পাতা ফুলে যাওয়া, লালভাব) হতে পারে। লক্ষণ বেড়ে গেলে বা র্যাশ, তীব্র চোখে ব্যথা বা দৃষ্টি পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
গর্ভাবস্থায় Gaticin শুধুমাত্র সুস্পষ্ট প্রয়োজন হলে এবং সম্ভাব্য উপকারিতা সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে হলে ব্যবহার করা উচিত; চোখের ড্রপের সিস্টেমিক শোষণ সামান্য হলেও প্রাণী গবেষণায় সিস্টেমিক ফ্লুরোকুইনোলোনের সাথে অস্থি-সন্ধি সম্পর্কিত প্রভাব দেখা গেছে, তাই গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
স্তন্যদানকালে Gaticin উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মায়ের দুধে নিঃসৃত হয় কিনা তা সুনির্দিষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। স্তন্যদানকালে ব্যবহারের আগে সতর্কতা অবলম্বন করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Gaticin ড্রপ শুধুমাত্র চোখে বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য; এটি চোখের কনজাংটিভার নিচে ইনজেকশন বা চোখের ভেতরে সরাসরি প্রয়োগ করা যাবে না।
চোখে বেশি মাত্রায় Gaticin প্রয়োগ করলে সাধারণত সিস্টেমিক বিষক্রিয়ার আশঙ্কা কম। অতিরিক্ত ড্রপ হালকা গরম পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলা যেতে পারে। ভুলবশত Gaticin মুখে খেয়ে ফেললে দ্রুত চিকিৎসক, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন বা জরুরি চিকিৎসা নিন। বাসায় নিজে চিকিৎসা করার চেষ্টা করবেন না।
ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় (৩০°C এর নিচে), আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। বোতলের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখের পর Gaticin ব্যবহার করবেন না, এবং নির্ধারিত কোর্স শেষ হওয়ার পর অবশিষ্ট ওষুধ ফেলে দিন বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নিন।
Gaticin চোখের ড্রপ ১ বছর ও তার বেশি বয়সী শিশুদের ব্যাকটেরিয়াজনিত কনজাংটিভাইটিস চিকিৎসায় প্রাপ্তবয়স্কদের মতোই মাত্রায় অনুমোদিত। ১ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত নয়।
বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে Gaticin এর মাত্রা পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই।
সিস্টেমিক শোষণ সামান্য হওয়ায় বৃক্ক (কিডনি) বা লিভারের সমস্যায় Gaticin চোখের ড্রপের মাত্রা পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই বলে ধারণা করা হয়।
Q: Gaticin 400 mg Tablet চোখের ড্রপ কেন ব্যবহার করা হয়?
A: Gaticin 400 mg Tablet চোখের ড্রপ সংবেদনশীল ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্ট ব্যাকটেরিয়াজনিত কনজাংটিভাইটিস (চোখ ওঠা) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি সরাসরি আক্রান্ত চোখে প্রয়োগ করা হয় এবং ভাইরাসজনিত বা অ্যালার্জিজনিত কনজাংটিভাইটিসে কার্যকর নয়।
Q: Gaticin 400 mg Tablet চোখের ড্রপ কতদিন ব্যবহার করতে হয়?
A: সাধারণত চিকিৎসা ৭ দিন চলে। ০.৩% দ্রবণের ক্ষেত্রে প্রথম ১-২ দিন প্রতি ২ ঘণ্টায় ১ ফোঁটা (দিনে সর্বোচ্চ ৮ বার), এরপর ৭ম দিন পর্যন্ত দিনে সর্বোচ্চ ৪ বার ১ ফোঁটা; ০.৫% দ্রবণের ক্ষেত্রে ১ম দিন প্রতি ২ ঘণ্টায় ১ ফোঁটা (সর্বোচ্চ ৮ বার), এরপর ২য়-৭ম দিন দিনে ২-৪ বার ১ ফোঁটা। চোখ ভালো বোধ হলেও চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী Gaticin 400 mg Tablet এর সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করুন; নিজে থেকে বন্ধ, বৃদ্ধি, বাদ বা অন্য কাউকে দেবেন না।
Q: Gaticin 400 mg Tablet ব্যবহারকালে কি কন্টাক্ট লেন্স পরা যাবে?
A: না। ব্যাকটেরিয়াজনিত কনজাংটিভাইটিসের লক্ষণ থাকা অবস্থায় এবং Gaticin 400 mg Tablet দিয়ে চিকিৎসা চলাকালীন কন্টাক্ট লেন্স পরা উচিত নয়। কখন আবার লেন্স পরা নিরাপদ তা চিকিৎসককে জিজ্ঞাসা করুন।
Q: গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে Gaticin 400 mg Tablet ব্যবহার কি নিরাপদ?
A: গর্ভাবস্থায় Gaticin 400 mg Tablet শুধুমাত্র সুস্পষ্ট প্রয়োজন হলে এবং উপকারিতা ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে হলে ব্যবহার করা উচিত, কারণ চোখের ড্রপ থেকে শোষণ সামান্য হলেও প্রাণী গবেষণায় সিস্টেমিক ফ্লুরোকুইনোলোনের সাথে অস্থি-সন্ধি সম্পর্কিত প্রভাব দেখা গেছে। স্তন্যদানকালে টপিক্যাল Gaticin 400 mg Tablet উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মায়ের দুধে যায় কিনা তাও সুনির্দিষ্টভাবে জানা নেই। উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Q: Gaticin 400 mg Tablet চোখের ড্রপের সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কী কী?
A: সাধারণত মৃদু ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া হয়, যেমন কনজাংটিভাল জ্বালাপোড়া, পানি পড়া, চোখে অস্বস্তি, ঝাপসা দৃষ্টি, ড্রপ দেওয়ার পর তেতো স্বাদ এবং চুলকানি। কম ক্ষেত্রে কেরাটাইটিস, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস বা অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। লক্ষণ বেড়ে গেলে বা র্যাশ, তীব্র ব্যথা বা দৃষ্টি পরিবর্তন হলে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
Q: ভুলবশত Gaticin 400 mg Tablet চোখের ড্রপ মুখে খেয়ে ফেললে কী করা উচিত?
A: সামান্য পরিমাণ Gaticin 400 mg Tablet চোখের ড্রপ ভুলবশত মুখে খেয়ে ফেললে সাধারণত গুরুতর সিস্টেমিক বিষক্রিয়ার আশঙ্কা কম, তবে বাসায় নিজে চিকিৎসা না করে দ্রুত চিকিৎসক, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ বা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন বা জরুরি চিকিৎসা নিন।
ডিসক্লেইমার
এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।