
Lacicard4 mg
Aristopharma Ltd.

L-Cardin একটি দীর্ঘ কার্যকরী ডাইহাইড্রোপাইরিডিন গোত্রের ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার, যা উচ্চ রক্তচাপ চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।
হার্ট অ্যাটাকের পরবর্তী সেকেন্ডারি প্রতিরোধে L-Cardin এর কোনো বাড়তি উপকারিতা প্রমাণিত হয়নি, তাই এই কাজে এটি ব্যবহার করা হয় না। ম্যালিগন্যান্ট হাইপারটেনশনের মতো জরুরি অবস্থায় L-Cardin এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রমাণিত নয়, তাই সেখানেও এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।
L-Cardin ডাইহাইড্রোপাইরিডিন গোত্রের ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার শ্রেণির একটি ওষুধ, যা মূলত রক্তনালীর মসৃণ পেশীর উপর কাজ করে থাকে।
Lacidipine রক্তনালীর মসৃণ পেশী কোষের ঝিল্লিতে থাকা এল টাইপ ক্যালসিয়াম চ্যানেল বন্ধ করে দেয়, ফলে কোষের ভেতরে ক্যালসিয়াম প্রবেশ কমে যায়। এর ফলে রক্তনালীর পেশী শিথিল হয়ে যায়, রক্তনালী প্রশস্ত হয় এবং রক্তচাপ কমে যায়।
Lacidipine অত্যন্ত চর্বি দ্রবণীয় হওয়ায় এটি কোষের ঝিল্লিতে জমা হয়ে থাকে, যার ফলে এর কাজ শুরু হতে সময় লাগে কিন্তু কার্যকারিতা দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়, যদিও এর প্লাজমা অর্ধায়ু প্রায় তেরো থেকে উনিশ ঘন্টা। Lacidipine যকৃতে ভালোভাবে বিপাক হয়, মুখে খাওয়ার পর এর জৈব উপলভ্যতা প্রায় দশ শতাংশ, এবং এটি পঁচানব্বই শতাংশের বেশি রক্তের প্রোটিনের সাথে যুক্ত থাকে।
| ধাপ | L-Cardin এর মাত্রা | মন্তব্য |
|---|---|---|
| শুরুর মাত্রা | দিনে একবার ২ মি.গ্রা. | সকালে খাওয়া ভালো |
| মাত্রা বাড়ানো | প্রয়োজনে তিন থেকে চার সপ্তাহ পর দিনে একবার ৪ মি.গ্রা. পর্যন্ত বাড়ানো যায় | রক্তচাপের উন্নতির উপর নির্ভর করে |
| সর্বোচ্চ মাত্রা | দিনে একবার ৬ মি.গ্রা. | এর চেয়ে বেশি মাত্রায় বাড়তি কোনো উপকার পাওয়া যায় না |
শিশুদের ক্ষেত্রে L-Cardin এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়নি, তাই শিশুদের জন্য এটি সুপারিশ করা হয় না।
L-Cardin কিডনির মাধ্যমে তেমন বের হয় না বলে সাধারণত মাত্রা পরিবর্তনের দরকার হয় না, তবে গুরুতর কিডনি সমস্যায় সতর্ক থাকা উচিত।
যকৃতে ভালোভাবে বিপাক হওয়ায়, যকৃতের সমস্যা থাকলে L-Cardin এর রক্তের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাই কম মাত্রায় শুরু করে সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত এবং গুরুতর যকৃতের সমস্যায় L-Cardin বিশেষ সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।
গ্রেপফ্রুট জুস অন্ত্রে এনজাইম বাধা দিয়ে L-Cardin এর রক্তের মাত্রা অনেকটা বাড়িয়ে দিতে পারে, যার ফলে রক্তচাপ অতিরিক্ত কমে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই L-Cardin খাওয়ার সময় গ্রেপফ্রুট বা এর জুস এড়িয়ে চলা উচিত।
কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, রিটোনাভির, সিমেটিডিনের মতো ওষুধ L-Cardin এর রক্তের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, তাই এসব ওষুধের সাথে L-Cardin একসাথে খেলে সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রয়োজনে মাত্রা কমাতে হতে পারে।
রিফাম্পিসিন, কার্বামাজেপিন বা ফেনিটোইনের মতো ওষুধ L-Cardin এর রক্তের মাত্রা কমিয়ে এর কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে, তাই এসব ওষুধ একসাথে খেলে রক্তচাপ নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।
অন্য উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রক ওষুধ বা মূত্রবর্ধক ওষুধের সাথে L-Cardin একসাথে খেলে রক্তচাপ কমানোর প্রভাব যোগ হয়ে যেতে পারে, তাই মাত্রা ঠিক করা ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
কর্টিকোস্টেরয়েড শরীরে পানি ধরে রাখার মাধ্যমে L-Cardin এর রক্তচাপ কমানোর কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে।
নিচের ক্ষেত্রে Lacidipine ব্যবহার করা যাবে না:
L-Cardin এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত মাত্রার উপর নির্ভরশীল এবং রক্তনালী প্রশস্ত হওয়ার সাথে সম্পর্কিত।
| মাত্রা | পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া |
|---|---|
| সাধারণ | মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, মুখ লাল হয়ে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা, পায়ের গোড়ালিতে পানি জমা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া |
| মাঝেমধ্যে | হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, অ্যানজাইনা বেড়ে যাওয়া, পেটে অস্বস্তি, র্যাশ, দীর্ঘদিন ব্যবহারে মাড়ি ফুলে যাওয়া |
| বিরল | কাঁপুনি, পেশিতে টান লাগা, চুলকানি, এলার্জিজনিত ফোলাভাব |
| খুবই বিরল | বিষণ্ণতা, যকৃতের এনজাইম বেড়ে যাওয়া |
পায়ে পানি জমা রক্তনালী প্রশস্তকারী এই গোত্রের ওষুধের একটি পরিচিত ও মাত্রার উপর নির্ভরশীল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, যা শরীরে পানি জমার কারণে হয় না বরং রক্তনালী প্রশস্ত হওয়ার কারণে হয়।
মানুষের গর্ভাবস্থায় L-Cardin এর নিরাপত্তা এখনও প্রমাণিত হয়নি। মায়ের জন্য সম্ভাব্য উপকার সন্তানের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলে তবেই চিকিৎসকের পরামর্শে L-Cardin ব্যবহার করা উচিত।
L-Cardin মায়ের বুকের দুধে যায় কিনা তা মানুষের ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে জানা নেই। স্তন্যদানকারী মায়েদের L-Cardin ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
L-Cardin বেশি মাত্রায় খেলে রক্তনালী অতিরিক্ত প্রশস্ত হয়ে রক্তচাপ অনেক কমে যেতে পারে, হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে, এবং গুরুতর ক্ষেত্রে হৃদস্পন্দন কমে গিয়ে হৃদয়ের বিদ্যুৎ পরিবহনে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
L-Cardin এর অতিরিক্ত মাত্রার জন্য নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই। কেউ বেশি মাত্রায় L-Cardin খেয়ে ফেললে সাথে সাথে চিকিৎসকের কাছে যান অথবা নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করুন। চিকিৎসা মূলত সহায়ক পদ্ধতিতে করা হয়, যেমন হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে শিরাপথে তরল দেওয়া। এই অবস্থা নিজে বাড়িতে সামলানোর চেষ্টা করবেন না।
L-Cardin ট্যাবলেট ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায়, ত্রিশ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে L-Cardin এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়নি, তাই এই বয়সে এটি ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয় না।
বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে L-Cardin ব্যবহার করা যায়। সাধারণত আলাদা মাত্রা প্রয়োজন হয় না, তবে সবচেয়ে কম কার্যকর মাত্রা দিয়ে শুরু করাই ভালো।
কিডনি সমস্যায় সাধারণত মাত্রা পরিবর্তনের দরকার হয় না, তবে যকৃতের সমস্যায় L-Cardin কম মাত্রায় এবং সতর্ক পর্যবেক্ষণের সাথে ব্যবহার করতে হয়, বিস্তারিত মাত্রা ও সেবনবিধি অংশে দেখুন।
Q: L-Cardin 4 mg Tablet কী কাজে ব্যবহার করা হয়?
A: L-Cardin 4 mg Tablet উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়, এককভাবে অথবা অন্য উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের সাথে একসাথে।
Q: L-Cardin 4 mg Tablet কীভাবে খেতে হবে?
A: L-Cardin 4 mg Tablet প্রতিদিন একবার, সকালে, প্রায় একই সময়ে খাওয়া উচিত। খাবারের সাথে বা ছাড়াই খাওয়া যায়, তবে গ্রেপফ্রুট বা এর জুসের সাথে L-Cardin 4 mg Tablet খাওয়া উচিত নয়, কারণ এতে রক্তের মাত্রা অনেক বেড়ে যেতে পারে।
Q: L-Cardin 4 mg Tablet এর সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী কী?
A: L-Cardin 4 mg Tablet খেলে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, মুখ লাল হয়ে যাওয়া এবং পায়ের গোড়ালিতে পানি জমা হতে পারে। এসব সাধারণত সময়ের সাথে কমে যায়, তবে সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।
Q: গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে কি L-Cardin 4 mg Tablet খাওয়া যাবে?
A: গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানের সময় L-Cardin 4 mg Tablet এর নিরাপত্তা প্রমাণিত নয়। সম্ভাব্য উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে হলে তবেই চিকিৎসকের পরামর্শে এটি ব্যবহার করা উচিত। গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী হলে L-Cardin 4 mg Tablet খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।
Q: কাদের L-Cardin 4 mg Tablet খাওয়া উচিত নয়?
A: যাদের L-Cardin 4 mg Tablet বা একই গোত্রের ওষুধে এলার্জি আছে, যাদের আনস্টেবল অ্যানজাইনা আছে, যারা কার্ডিওজেনিক শকে আছেন, যাদের গুরুতর অ্যাওর্টিক স্টেনোসিস আছে, বা যারা সম্প্রতি এক মাসের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের L-Cardin 4 mg Tablet খাওয়া উচিত নয়। L-Cardin 4 mg Tablet শুরু করার আগে আপনার পুরো চিকিৎসা ইতিহাস চিকিৎসককে জানান।
Q: L-Cardin 4 mg Tablet এর কোনো মাত্রা মিস হয়ে গেলে বা বেশি খেয়ে ফেললে কী করব?
A: মাত্রা মিস হলে মনে পড়ার সাথে সাথে খেয়ে নিন, তবে পরের মাত্রার সময় কাছাকাছি হলে মিস হওয়া মাত্রাটি বাদ দিয়ে স্বাভাবিক সময়সূচি মেনে চলুন, একসাথে দুই মাত্রা খাবেন না। কেউ বেশি মাত্রায় L-Cardin 4 mg Tablet খেয়ে ফেললে সাথে সাথে চিকিৎসকের কাছে যান বা জরুরি সেবায় যোগাযোগ করুন, কারণ এতে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে।
ডিসক্লেইমার
এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।