
Xidolac Meltab10 mg
Beximco Pharmaceuticals Ltd.

কিটোরোলাক ট্রোমেথামিন একটি শক্তিশালী নন-ওপিওয়েড, নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি ড্রাগ (NSAID) ব্যথানাশক, যা তীব্র (অ্যাকিউট) ব্যথার স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থাপনায় নির্দেশিত। উপযুক্ত মাত্রায় এর ব্যথানাশক ক্ষমতা মরফিনের সমতুল্য, যা তীব্র ব্যথার ক্ষেত্রে একে একটি মূল্যবান ওপিওয়েড-সাশ্রয়ী বিকল্প করে তোলে। কিটোরোলাক একাধিক ফর্মুলেশনে পাওয়া যায় — ট্যাবলেট, ইনজেকশন, চোখের ড্রপ এবং নাসাল স্প্রে — যার প্রতিটির নির্দিষ্ট অনুমোদিত ইঙ্গিত রয়েছে।
প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে যখন ওপিওয়েড-স্তরের ব্যথানাশক প্রয়োজন হয় কিন্তু ওপিওয়েড এড়িয়ে চলা বা সীমিত করা প্রয়োজন হয়, তখন মাঝারি থেকে তীব্র অ্যাকিউট পোস্ট-অপারেটিভ ব্যথার স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থাপনায় কিটোরোলাক ট্রোমেথামিন নির্দেশিত। এটি বিশেষভাবে কার্যকর:
গুরুত্বপূর্ণ: কিটোরোলাক শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদি ব্যবহারের জন্য নির্দেশিত (প্যারেন্টেরাল ও মুখে সেবনযোগ্য মিলিয়ে সর্বোচ্চ ৫ দিন) এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার সমস্যার জন্য এটি নির্দেশিত নয়।
কিটোরোলাক ট্রোমেথামিন ০.৫% চোখের ড্রপ নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে নির্দেশিত:
কিটোরোলাক ট্রোমেথামিন নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি ড্রাগ (NSAID) শ্রেণির একটি শক্তিশালী নন-ওপিওয়েড ব্যথানাশক। এর ব্যথানাশক মাত্রায় এর অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি (প্রদাহ-বিরোধী) কার্যকারিতা খুবই সামান্য — যা অন্যান্য বেশিরভাগ NSAID থেকে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য, কারণ সেগুলোর অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি ও ব্যথানাশক বৈশিষ্ট্য প্রায় সমতুল্য।
কিটোরোলাক প্রধানত সাইক্লো-অক্সিজেনেজ (COX) এনজাইম সিস্টেমকে বাধা দিয়ে — নির্দিষ্টভাবে COX-1 এবং COX-2 উভয় আইসোফর্মকে বাধা দিয়ে — এর ফার্মাকোলজিক্যাল প্রভাব প্রয়োগ করে, ফলে অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিডের প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন, প্রোস্টাসাইক্লিন এবং থ্রম্বোক্সেনে রূপান্তর বাধাপ্রাপ্ত হয়। যেহেতু প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন আঘাতের স্থানে ব্যথা-সংবেদনশীলতা (পেরিফেরাল সেনসিটাইজেশন) ও প্রদাহের মূল মধ্যস্থতাকারী, তাই এর সংশ্লেষণ কমিয়ে দেওয়া উল্লেখযোগ্য ব্যথানাশক, প্রদাহ-বিরোধী এবং জ্বর-নিরোধক প্রভাব সৃষ্টি করে। কিটোরোলাককে পেরিফেরালি অ্যাক্টিং অ্যানালজেসিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এর মূল ব্যথানাশক কার্যপ্রণালী মস্তিষ্কে কেন্দ্রীয়ভাবে না ঘটে টিস্যুর আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে ঘটে।
মূল ফার্মাকোলজিক্যাল বৈশিষ্ট্য:
কিটোরোলাক ট্রোমেথামিন শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদি ব্যবহারের জন্য নির্দেশিত। প্যারেন্টেরাল ও মুখে সেবনযোগ্য কিটোরোলাক থেরাপির সম্মিলিত মোট মেয়াদ ৫ দিনের বেশি হওয়া উচিত নয়। শুধুমাত্র মুখে সেবনযোগ্য কিটোরোলাক ৭ দিনের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। সর্বদা আপনার নিবন্ধিত চিকিৎসকের নির্ধারিত মাত্রা অনুসরণ করুন। নিজে থেকে ওষুধ সেবন করবেন না।
উল্লেখ্য: মুখে সেবনযোগ্য কিটোরোলাকের ক্ষেত্রে দৈনিক ৪০ মি.গ্রা.-এর বেশি মাত্রার পরামর্শ দেওয়া হয় না।
গুরুত্বপূর্ণ: ব্রেকথ্রু ব্যথার ক্ষেত্রে কিটোরোলাকের মাত্রা বা সেবনবিধি বাড়াবেন না। প্যারেন্টেরাল চিকিৎসার সর্বোচ্চ মেয়াদ ৫ দিন।
IV/IM কিটোরোলাক থেকে মুখে সেবনযোগ্য কিটোরোলাক ট্যাবলেটে রূপান্তরের সময়:
আক্রান্ত চোখে (চোখগুলোতে) দিনে ৪ বার ১ ফোঁটা করে দিন। ব্যবহারের মেয়াদ নির্দিষ্ট চোখের সমস্যার ধরন ও ক্লিনিক্যাল প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে চিকিৎসাকারী চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।
কিটোরোলাক ট্রোমেথামিনের বেশ কিছু ক্লিনিক্যালি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ ইন্টারঅ্যাকশন রয়েছে, যেগুলোর জন্য সতর্ক পর্যবেক্ষণ অথবা একসাথে ব্যবহার এড়িয়ে চলা প্রয়োজন:
কিটোরোলাকের সাথে অন্যান্য NSAID (যেমন আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক, ন্যাপ্রোক্সেন) অথবা অ্যাসপিরিনের একসাথে ব্যবহার পেপটিক আলসারেশন, পরিপাকতন্ত্রের রক্তক্ষরণ এবং পারফোরেশনসহ পরিপাকতন্ত্র সংক্রান্ত বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। এটি কিডনির বিষক্রিয়া এবং অন্যান্য NSAID-সংশ্লিষ্ট বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও বাড়ায়। কিটোরোলাকের সাথে অন্যান্য NSAID মেশালে অতিরিক্ত কোনো ব্যথানাশক উপকারিতা পাওয়া যায় না, বরং গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এই সংমিশ্রণ এড়িয়ে চলা উচিত।
কিটোরোলাক দুটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওয়ারফারিন এবং অন্যান্য অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্টের অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট প্রভাব বাড়িয়ে দেয়: (১) থ্রম্বোক্সেন A2 দমনের মাধ্যমে প্লেটলেট একত্রীকরণ বাধা, এবং (২) প্লাজমা প্রোটিন বাইন্ডিং সাইট থেকে ওয়ারফারিনকে সম্ভাব্য প্রতিস্থাপন — যার ফলে মুক্ত ওয়ারফারিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এই সংমিশ্রণ গুরুতর রক্তপাতের ঝুঁকি যথেষ্ট বাড়িয়ে দেয়। অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন; জমাট বাঁধার মাত্রা (INR/PT) ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা অপরিহার্য, এবং সাধারণত একসাথে ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত অথবা ঘন ঘন পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে খুব সতর্কতার সাথে পরিচালনা করা উচিত।
কিটোরোলাকসহ NSAID প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন-মধ্যস্থ ভ্যাসোডাইলেশনকে বাধা দিয়ে এবং সোডিয়াম ও পানি ধরে রাখার প্রবণতা বাড়িয়ে বিটা-ব্লকার (যেমন অ্যাটেনোলল, মেটোপ্রোলল, প্রোপ্রানোলল) এবং অন্যান্য অ্যান্টিহাইপারটেনসিভ ওষুধের (ACE ইনহিবিটর, ARB এবং ডাই়ুরেটিকসহ) রক্তচাপ কমানোর কার্যকারিতা হ্রাস করতে পারে। অ্যান্টিহাইপারটেনসিভ থেরাপিতে থাকা রোগীরা কিটোরোলাক গ্রহণ করলে তাদের রক্তচাপ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
কিটোরোলাকসহ NSAID-এর সাথে ACE ইনহিবিটর (যেমন এনালাপ্রিল, লিসিনোপ্রিল, রামিপ্রিল) অথবা ARB-এর একসাথে ব্যবহার, বিশেষত যেসব রোগীর শরীরে তরলের ঘাটতি আছে, যারা বয়স্ক অথবা যাদের পূর্ব থেকে কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে তীব্র কিডনি ক্ষতির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এই সংমিশ্রণ এসব ওষুধের রক্তচাপ কমানোর কার্যকারিতাও হ্রাস করতে পারে। একসাথে ব্যবহারের সময় কিডনির কার্যকারিতা সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করুন।
বিশেষত উচ্চ মাত্রায়, কিটোরোলাকসহ NSAID-এর সাথে মেথোট্রেক্সেটের একসাথে ব্যবহার টিউবুলার সিক্রেশন পথের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এর কিডনির মাধ্যমে নিষ্কাশন কমিয়ে মেথোট্রেক্সেটের বিষক্রিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে মেথোট্রেক্সেটের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গুরুতর মায়েলোসাপ্রেশন, মিউকোসাইটিস এবং নেফ্রোটক্সিসিটি ঘটাতে পারে। এই সংমিশ্রণ এড়িয়ে চলা উচিত, বিশেষত যেসব রোগী অনকোলজি ইঙ্গিতের জন্য মেথোট্রেক্সেট গ্রহণ করছেন।
কিটোরোলাকসহ NSAID লুপ ও থায়াজাইড ডাই়ুরেটিকের ন্যাট্রিউরেটিক (সোডিয়াম-নিষ্কাশনকারী) ও মূত্রবর্ধক প্রভাব কমাতে পারে। হৃদযন্ত্র বা কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে, এই ইন্টারঅ্যাকশন তীব্র কিডনি ফেইলিউর অথবা কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলিউর ঘটাতে পারে। একসাথে ব্যবহারের সময় কিডনির কার্যকারিতা ও তরল ভারসাম্য পর্যবেক্ষণ করুন।
কিটোরোলাকসহ NSAID লিথিয়ামের কিডনির মাধ্যমে নিষ্কাশন কমিয়ে দিতে পারে, ফলে প্লাজমায় লিথিয়ামের মাত্রা এবং লিথিয়াম বিষক্রিয়ার (কম্পন, বমি বমি ভাব, অতিরিক্ত প্রস্রাব, স্নায়বিক প্রভাব) ঝুঁকি বাড়ে। লিথিয়াম থেরাপিতে থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে কিটোরোলাক শুরু বা বন্ধ করার সময় লিথিয়ামের মাত্রা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করুন।
প্রোবেনেসিড কিটোরোলাকের কিডনির মাধ্যমে নিষ্কাশন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়, যার ফলে প্লাজমায় কিটোরোলাকের মাত্রা যথেষ্ট বৃদ্ধি পায় ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। কিটোরোলাক ও প্রোবেনেসিডের একসাথে ব্যবহার নিষিদ্ধ — এটি কিডনি সমস্যা ও পরিপাকতন্ত্র সংক্রান্ত বিরূপ প্রতিক্রিয়াসহ কিটোরোলাক বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
কিটোরোলাকসহ NSAID-এর সাথে সিলেক্টিভ সেরোটোনিন রিআপটেক ইনহিবিটর (SSRI) অথবা সেরোটোনিন-নরএপিনেফ্রিন রিআপটেক ইনহিবিটর (SNRI)-এর একসাথে ব্যবহার পরিপাকতন্ত্রের রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। একসাথে ব্যবহারের সময় পরিপাকতন্ত্রের রক্তক্ষরণের লক্ষণের জন্য পর্যবেক্ষণ করুন।
নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে কিটোরোলাক ট্রোমেথামিন ব্যবহার নিষিদ্ধ:
কিটোরোলাক ট্রোমেথামিন বেশ কিছু বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষত উচ্চ মাত্রায় ব্যবহার করলে অথবা প্রস্তাবিত সর্বোচ্চ ৫ দিনের মেয়াদের চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করলে। ক্লিনিক্যালি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিরূপ প্রতিক্রিয়াগুলো পরিপাকতন্ত্র, কিডনি এবং হৃদযন্ত্র সংক্রান্ত।
কিটোরোলাক ট্রোমেথামিনের জন্য US FDA প্রেগন্যান্সি ক্যাটাগরি হলো (প্রথম ও দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে) ক্যাটাগরি C এবং (তৃতীয় ত্রৈমাসিকে) ক্যাটাগরি D। ভ্রূণের জন্য সম্ভাব্য উপকারিতা সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে স্পষ্টভাবে বেশি না হলে এবং শুধুমাত্র ঘনিষ্ঠ চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে না হলে, গর্ভাবস্থায় কিটোরোলাক ট্রোমেথামিন এড়িয়ে চলা উচিত।
তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ব্যবহার বিশেষভাবে নিষিদ্ধ, কারণ তৃতীয় ত্রৈমাসিকে NSAID ব্যবহারে নিম্নলিখিত সমস্যা হতে পারে:
গর্ভাবস্থায় (প্রথম বা দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে) কিটোরোলাক আবশ্যক বিবেচিত হলে, সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় এবং সর্বনিম্ন সম্ভাব্য সময়ের জন্য ব্যবহার করুন, এবং ভ্রূণের সুস্থতা যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করুন।
কিটোরোলাক অল্প পরিমাণে মানুষের বুকের দুধে নিঃসৃত হয়। স্তন্যপান করা শিশুর উপর বিরূপ প্রভাবের সম্ভাবনার কারণে — যার মধ্যে রয়েছে পরিপাকতন্ত্রের অস্বস্তি, প্লেটলেট কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়া এবং তাত্ত্বিক কিডনি সংক্রান্ত প্রভাব — মায়ের জন্য সম্ভাব্য উপকারিতা শিশুর জন্য ঝুঁকির চেয়ে স্পষ্টভাবে বেশি না হলে, স্তন্যদানকালীন কিটোরোলাক এড়িয়ে চলা উচিত। স্তন্যদানকারী মায়ের ক্ষেত্রে কিটোরোলাক ব্যবহার করতেই হলে, চিকিৎসাকালীন এবং শেষ মাত্রার পর কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা স্তন্যদান বন্ধ রাখা উচিত।
কিটোরোলাক ট্রোমেথামিন প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন-নির্ভর ফলিকুলার রাপচার (ডিম্বস্ফোটন) বাধা দিয়ে নারীদের উর্বরতা ব্যাহত করতে পারে। এটি NSAID শ্রেণির একটি সাধারণ প্রভাব এবং ওষুধ বন্ধ করলে এটি প্রত্যাবর্তনযোগ্য। গর্ভধারণের চেষ্টারত নারীদের কিটোরোলাক এড়িয়ে চলা এবং বিকল্প ব্যথা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে তাদের চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা উচিত।
কিটোরোলাক ট্রোমেথামিন শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদি ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত। প্যারেন্টেরাল ও মুখে সেবনযোগ্য কিটোরোলাকের সম্মিলিত মোট মেয়াদ ৫ দিনের বেশি হওয়া উচিত নয়। শুধুমাত্র মুখে সেবনযোগ্য কিটোরোলাক ৭ দিনের বেশি হওয়া উচিত নয়। প্রস্তাবিত মাত্রা বা চিকিৎসার মেয়াদ অতিক্রম করলে গুরুতর পরিপাকতন্ত্র, কিডনি এবং হৃদযন্ত্র সংক্রান্ত বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। কিটোরোলাক দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার সমস্যার জন্য উপযুক্ত নয়।
বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে কিটোরোলাক-সংশ্লিষ্ট বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, বিশেষত:
৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রে মাত্রা কমানো আবশ্যক (ডোজেজ অংশ দেখুন)। সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় সর্বনিম্ন সময়ের জন্য ব্যবহার করুন এবং ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করুন।
নিম্নলিখিত রোগীদের ক্ষেত্রে কিটোরোলাক অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত — অথবা এড়িয়ে চলা উচিত:
বিশেষত বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে, প্রাথমিক পর্যায়ে পরিপাকতন্ত্রের রক্তক্ষরণের কোনো লক্ষণ নাও থাকতে পারে। রোগীদের পাকস্থলীর অস্বস্তি, কালো আলকাতরার মতো মল, অথবা বমিতে রক্তের যেকোনো উপসর্গ অবিলম্বে জানাতে পরামর্শ দেওয়া উচিত।
রক্ত সঞ্চালনের পরিমাণ বা হৃদযন্ত্রের আউটপুট কমে যাওয়া অবস্থায় কিডনিতে রক্ত প্রবাহ বজায় রাখতে কিটোরোলাকসহ NSAID প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের উপর নির্ভরশীল। নিম্নলিখিত রোগীদের ক্ষেত্রে কিটোরোলাক অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত:
কিডনি সমস্যাযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে মাত্রা কমানো প্রয়োজন। চিকিৎসাকালীন কিডনির কার্যকারিতা (সিরাম ক্রিয়েটিনিন, BUN, প্রস্রাবের পরিমাণ) পর্যবেক্ষণ করুন।
অ্যাসপিরিন-সংবেদনশীল হাঁপানি (অ্যাসপিরিন ট্রায়াড: হাঁপানি, নাকের পলিপ এবং অ্যাসপিরিন/NSAID অতি সংবেদনশীলতা — যা স্যামটার'স ট্রায়াড নামেও পরিচিত) রোগীদের ক্ষেত্রে কিটোরোলাক নিষিদ্ধ। এসব রোগীর যেকোনো NSAID-এর সংস্পর্শে গুরুতর ব্রঙ্কোস্পাজম, আর্টিকেরিয়া বা অ্যানাফাইল্যাক্সিস দেখা দিতে পারে। ব্যবহারের আগে সকল হাঁপানি রোগীর NSAID সংবেদনশীলতার জন্য মূল্যায়ন করা উচিত।
লিভার রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে কিটোরোলাক সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন। ট্রান্সঅ্যামিনেজ বৃদ্ধির ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে। গুরুতর লিভার সমস্যা বা সক্রিয় লিভার রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে কিটোরোলাক এড়িয়ে চলা উচিত। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের সময় লিভার কার্যকারিতা পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করুন।
সব NSAID-এর মতো, কিটোরোলাকও হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকসহ গুরুতর হৃদযন্ত্র সংক্রান্ত থ্রম্বোটিক ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে — বিশেষত দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে, উচ্চ মাত্রায় এবং যেসব রোগীর ইতোমধ্যে হৃদরোগ বা এর ঝুঁকিপূর্ণ কারণ রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে। হৃদযন্ত্র সংক্রান্ত ঝুঁকি কমাতে কিটোরোলাক সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় সর্বনিম্ন প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য ব্যবহার করা উচিত।
কিটোরোলাক প্লেটলেট একত্রীকরণ বাধা দেয় এবং রক্তপাতের সময় দীর্ঘায়িত করে। এটি প্রফাইল্যাক্টিক প্রি-অপারেটিভ ব্যথানাশক হিসেবে নিষিদ্ধ। পোস্ট-অপারেটিভ পরিস্থিতিতে, ব্যবহারের আগে ও চলাকালীন রক্তক্ষরণের ঝুঁকি সতর্কতার সাথে মূল্যায়ন করা অপরিহার্য। জানা জমাট বাঁধার সমস্যা থাকা রোগী অথবা পূর্ণ-মাত্রার অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট থেরাপি গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।
কিটোরোলাক ট্রোমেথামিন ওভারডোজের জন্য কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক (অ্যান্টিডোট) নেই। কিটোরোলাক ওভারডোজের লক্ষণগুলো NSAID-এর অতিরিক্ত ফার্মাকোলজিক্যাল প্রভাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে:
ব্যবস্থাপনা উপসর্গভিত্তিক ও সহায়ক (সাপোর্টিভ):
ওভারডোজের সন্দেহ হলে, অবিলম্বে বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন অথবা জরুরি চিকিৎসা নিন।
মুখে সেবনযোগ্য এবং একাধিক-মাত্রার প্যারেন্টেরাল কিটোরোলাক ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ। অ্যাকিউট পোস্ট-অপারেটিভ ব্যথার ক্ষেত্রে ২ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ওজন-ভিত্তিক মাত্রায় (IM: প্রতি কেজিতে ১ মি.গ্রা., সর্বোচ্চ ৩০ মি.গ্রা.; IV: প্রতি কেজিতে ০.৫ মি.গ্রা., সর্বোচ্চ ১৫ মি.গ্রা.) একক-মাত্রার প্যারেন্টেরাল (IV বা IM) ব্যবহার অনুমোদিত। শুধুমাত্র ক্লিনিক্যালি প্রয়োজন হলে এবং ঘনিষ্ঠ চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে শিশু রোগীদের ক্ষেত্রে কিটোরোলাক ব্যবহার করা উচিত।
কিটোরোলাকের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার প্রতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি সংবেদনশীলতার কারণে বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে মাত্রা কমানো আবশ্যক। বয়স্ক রোগীদের জন্য প্রস্তাবিত মাত্রা কম বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রস্তাবিত মাত্রার অর্ধেক (ডোজেজ অংশ দেখুন)। সর্বোচ্চ দৈনিক মাত্রাও কমানো হয়। বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে মূল ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে পরিপাকতন্ত্রের রক্তক্ষরণ (যা ব্যথাহীনও হতে পারে), তীব্র কিডনি ফেইলিউর এবং হৃদযন্ত্র সংক্রান্ত ঘটনা। সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় সর্বনিম্ন সম্ভাব্য সময়ের জন্য ব্যবহার করুন। কিডনির কার্যকারিতা, রক্তচাপ এবং পরিপাকতন্ত্রের উপসর্গ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা অপরিহার্য।
কিটোরোলাক প্রধানত কিডনির মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয়। মাঝারি মাত্রার কিডনি সমস্যাযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে কম মাত্রা ব্যবহার করুন (বয়স্ক/কম শরীরের ওজনের রোগীদের মাত্রা নির্ধারণ সূচির সমতুল্য) এবং কিডনির কার্যকারিতা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। গুরুতর কিডনি সমস্যাযুক্ত (CrCl ৩০ মি.লি./মিনিটের কম) রোগী অথবা তীব্র কিডনি ফেইলিউরের ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে কিটোরোলাক নিষিদ্ধ। কিটোরোলাক ব্যাপকভাবে প্রোটিনের সাথে আবদ্ধ থাকায়, হিমোডায়ালাইসিসের মাধ্যমে এটি কার্যকরভাবে অপসারিত হয় না।
কিটোরোলাক লিভারে ব্যাপকভাবে বিপাকিত হয়। লিভার সমস্যাযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে বিপাক কমে যেতে পারে, ফলে প্লাজমায় ওষুধের মাত্রা বেড়ে যায়। মৃদু থেকে মাঝারি লিভার সমস্যায় সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন। গুরুতর লিভার সমস্যায় কিটোরোলাক নিষিদ্ধ। পূর্ব থেকে জানা লিভার রোগ থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসাকালীন লিভার কার্যকারিতা পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
বয়স নির্বিশেষে, ৫০ কেজির কম ওজনের রোগীদের বয়স্ক রোগীদের জন্য প্রস্তাবিত মাত্রা কমানোর সূচির সমতুল্য মাত্রা দেওয়া উচিত (একক-মাত্রা IM: ৩০ মি.গ্রা.; একক-মাত্রা IV: ১৫ মি.গ্রা.; একাধিক-মাত্রা IV/IM: প্রতি ৬ ঘণ্টায় ১৫ মি.গ্রা., সর্বোচ্চ ৬০ মি.গ্রা./দিন)। কম লিন বডি মাসযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ওষুধ জমা হওয়া ও প্লাজমায় অতিরিক্ত মাত্রা প্রতিরোধ করতে এটি করা হয়।
The information provided is accurate to our best practices, but it does not replace professional medical advice. We cannot guarantee its completeness or accuracy. The absence of specific information about a drug should not be seen as an endorsement. We are not responsible for any consequences resulting from this information, so consult a healthcare professional for any concerns or questions.