Product gallery

Sinamox125 mg/1.25 ml

Pediatric Drops

Amoxicillin Trihydrate

MRP ৩০.০০১০ % ডিস্কাউন্ট
Best PriceTk ২৭.০০/15 ml bottle
Section

Medicine overview

নির্দেশনা

অ্যামোক্সিসিলিন ট্রাইহাইড্রেট একটি ব্রড-স্পেকট্রাম পেনিসিলিন গ্রুপের অ্যান্টিবায়োটিক, যা সংবেদনশীল বিটা-ল্যাকটামেজ-নেগেটিভ জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় নির্দেশিত। এটি বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকগুলোর একটি এবং গ্রাম-পজিটিভ ও গ্রাম-নেগেটিভ উভয় ধরনের বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর।

কান, নাক ও গলার (ENT) সংক্রমণ

শ্বাসতন্ত্রের ঊর্ধ্বাংশ এবং কান, নাক ও গলার নিম্নলিখিত সংক্রমণে অ্যামোক্সিসিলিন ট্রাইহাইড্রেট নির্দেশিত:

  • ওটাইটিস মিডিয়া — মধ্যকর্ণের তীব্র ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, যা শিশুরোগ চিকিৎসায় এই ওষুধের অন্যতম সাধারণ ব্যবহার
  • সাইনোসাইটিস — নাকের পার্শ্ববর্তী সাইনাসের ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ
  • টনসিলাইটিস — টনসিলের ব্যাকটেরিয়াজনিত প্রদাহ, যা সাধারণত Streptococcus pyogenes দ্বারা সৃষ্ট হয়
  • ফ্যারিঞ্জাইটিস — গলার ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ
  • ল্যারিঞ্জাইটিস — স্বরযন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ

শ্বাসতন্ত্রের নিম্নাংশের সংক্রমণ

শ্বাসতন্ত্রের নিম্নাংশের বিভিন্ন সংক্রমণে অ্যামোক্সিসিলিন নির্দেশিত, যেমন:

  • কমিউনিটি-অ্যাকোয়ার্ড নিউমোনিয়াStreptococcus pneumoniaeHaemophilus influenzae সহ সংবেদনশীল জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট নিউমোনিয়া
  • তীব্র ও দীর্ঘমেয়াদি ব্রঙ্কাইটিস
  • ফুসফুসের ফোড়া (লাং অ্যাবসেস)
  • এম্পায়েমা — ফুসফুসের আবরণী গহ্বরে (প্লুরাল ক্যাভিটি) পুঁজযুক্ত সংক্রমণ
  • ব্রঙ্কিয়েক্টেসিস — সংক্রমণজনিত অবনতির সময়

ত্বক ও নরম কলার সংক্রমণ

সংবেদনশীল জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট ত্বক ও নরম কলার জটিলতাহীন সংক্রমণে নির্দেশিত, যেমন:

  • সেলুলাইটিস
  • কার্বাঙ্কল ও ফোঁড়া
  • সংক্রমিত ক্ষত
  • ত্বকের ফোড়া (স্কিন অ্যাবসেস)

মূত্র ও জননতন্ত্রের সংক্রমণ

মূত্র ও জননতন্ত্রের নিম্নলিখিত সংক্রমণের চিকিৎসায় অ্যামোক্সিসিলিন ট্রাইহাইড্রেট নির্দেশিত:

  • পাইলোনেফ্রাইটিস — কিডনির ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ
  • সিস্টাইটিস — মূত্রথলির সংক্রমণ
  • ইউরেথ্রাইটিস — মূত্রনালির সংক্রমণ

যৌনবাহিত রোগ (গনোরিয়া)

সংবেদনশীল Neisseria gonorrhoeae দ্বারা সৃষ্ট তীব্র ও জটিলতাহীন গনোরিয়ার চিকিৎসায় অ্যামোক্সিসিলিন নির্দেশিত। এ ক্ষেত্রে সাধারণত প্রোবেনেসিডের সঙ্গে একত্রে একক উচ্চ মাত্রায় প্রয়োগ করা হয়।

দাঁতের ফোড়া (ডেন্টাল অ্যাবসেস)

দাঁতের ফোড়ার চিকিৎসায় স্বল্পমেয়াদি সহায়ক অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে অ্যামোক্সিসিলিন ট্রাইহাইড্রেট ব্যবহৃত হয়, বিশেষত যখন সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার লক্ষণ থাকে বা সারা শরীরে এর প্রভাব দেখা যায়।

হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি নির্মূল — ট্রিপল থেরাপি

সক্রিয় ডিওডেনাল আলসারে আক্রান্ত রোগীদের Helicobacter pylori সংক্রমণের চিকিৎসায় ট্রিপল থেরাপির অংশ হিসেবে অ্যামোক্সিসিলিন নির্দেশিত — ক্ল্যারিথ্রোমাইসিনল্যান্সোপ্রাজল (অথবা ওমিপ্রাজল বা ইসোমিপ্রাজলের মতো অন্য কোনো প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর) এর সঙ্গে একত্রে। এই চিকিৎসা পদ্ধতি H. pylori নির্মূল করে এবং ডিওডেনাল আলসার পুনরায় হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়।

থেরাপিউটিক ক্লাস

Broad spectrum penicillins

ফার্মাকোলজি

অ্যামোক্সিসিলিন ট্রাইহাইড্রেট হলো অ্যামোক্সিসিলিন-এর ট্রাইহাইড্রেট রূপ। এটি পেনিসিলিনের মূল কাঠামো (৬-অ্যামিনোপেনিসিল্যানিক অ্যাসিড) থেকে তৈরি একটি সেমি-সিনথেটিক, ব্রড-স্পেকট্রাম অ্যামাইনোপেনিসিলিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক। এটি বিটা-ল্যাকটাম শ্রেণির অ্যান্টিবায়োটিক এবং বিশ্বব্যাপী প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু উভয়ের ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকগুলোর একটি।

কার্যপদ্ধতি (মেকানিজম অব অ্যাকশন)

অ্যামোক্সিসিলিন ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর তৈরির প্রক্রিয়াকে বাধা দিয়ে জীবাণু ধ্বংস করে। এটি ব্যাকটেরিয়ার কোষঝিল্লির ভেতরের পৃষ্ঠে অবস্থিত নির্দিষ্ট পেনিসিলিন-বাইন্ডিং প্রোটিন (PBPs)-এর সঙ্গে যুক্ত হয় এবং পেপটাইডোগ্লাইক্যান তৈরির চূড়ান্ত ক্রস-লিঙ্কিং ধাপ (ট্রান্সপেপটাইডেশন) বন্ধ করে দেয়। পেপটাইডোগ্লাইক্যান ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীরের একটি অপরিহার্য কাঠামোগত উপাদান। কার্যকর কোষপ্রাচীর ছাড়া ব্যাকটেরিয়া নিজের গঠন ধরে রাখতে পারে না, ফলে কোষটি ফেটে গিয়ে জীবাণু মারা যায়। যেহেতু অ্যামোক্সিসিলিন কেবল ব্যাকটেরিয়ার নিজস্ব একটি প্রক্রিয়াকে লক্ষ্য করে, তাই মানবদেহের কোষের জন্য এর বিষক্রিয়া খুবই কম।

অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল স্পেকট্রাম

চিকিৎসাগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বহু গ্রাম-পজিটিভ ও গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে অ্যামোক্সিসিলিন কার্যকর, যেমন:

  • গ্রাম-পজিটিভ জীবাণু: Streptococcus pneumoniae, Streptococcus pyogenes (গ্রুপ এ স্ট্রেপ), Streptococcus viridans, Enterococcus faecalis, Staphylococcus aureus (কেবল বিটা-ল্যাকটামেজ উৎপাদন করে না এমন স্ট্রেইন), Listeria monocytogenes
  • গ্রাম-নেগেটিভ জীবাণু: Haemophilus influenzae (বিটা-ল্যাকটামেজ উৎপাদন করে না এমন), Escherichia coli, Klebsiella pneumoniae, Proteus mirabilis, Neisseria gonorrhoeae, Helicobacter pylori, Salmonella spp., Shigella spp.

গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা: প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া থেকে নিঃসৃত বিটা-ল্যাকটামেজ এনজাইম অ্যামোক্সিসিলিনকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। তাই এটি কেবল বিটা-ল্যাকটামেজ-নেগেটিভ স্ট্রেইনের বিরুদ্ধেই কার্যকর। বিটা-ল্যাকটামেজ উৎপাদনকারী জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট সংক্রমণে অ্যামোক্সিসিলিন ও ক্ল্যাভুল্যানিক অ্যাসিডের সমন্বিত রূপ (কো-অ্যামোক্সিক্লাভ) ব্যবহার করাই শ্রেয়।

ফার্মাকোকাইনেটিক্স

  • শোষণ: অ্যামপিসিলিনের বিপরীতে অ্যামোক্সিসিলিন ট্রাইহাইড্রেট পাকস্থলীর অ্যাসিডে স্থিতিশীল এবং মুখে সেবনের পর দ্রুত ও ভালোভাবে শোষিত হয়। মুখে সেবনে জৈব-প্রাপ্যতা প্রায় ৭০–৯০%, এবং খাবার শোষণের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে না — তাই এটি খাবারের আগে বা পরে যেকোনো সময় সেবন করা যায়।
  • সর্বোচ্চ রক্তরস ঘনত্ব (Cmax): মুখে সেবনের ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যে অর্জিত হয়।
  • বিস্তার: অ্যামোক্সিসিলিন দেহের বিভিন্ন কলা ও তরলে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে — যেমন ফুসফুস, মধ্যকর্ণের তরল, সাইনাস, ব্রঙ্কিয়াল নিঃসরণ, পিত্ত, প্লুরাল ও পেরিটোনিয়াল তরল, মূত্র এবং হাড়। স্বাভাবিক অবস্থায় সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইডে (CSF) এর ঘনত্ব কম থাকে, তবে মেনিনজেসের প্রদাহ হলে তা বাড়তে পারে। রক্তরস প্রোটিনের সঙ্গে বন্ধনের হার প্রায় ১৭–২০%।
  • অর্ধায়ু (হাফ-লাইফ): কিডনির কার্যকারিতা স্বাভাবিক এমন রোগীদের ক্ষেত্রে প্রায় ১ থেকে ১.৫ ঘণ্টা
  • বিপাক: ওষুধের একটি অংশ যকৃতে বিপাকিত হয়ে পেনিসিলোয়িক অ্যাসিডে রূপান্তরিত হয়, যা একটি নিষ্ক্রিয় উপাদান। বেশির ভাগ অংশই অপরিবর্তিত অবস্থায় দেহ থেকে বেরিয়ে যায়।
  • নিষ্কাশন: অ্যামোক্সিসিলিন মূলত কিডনির মাধ্যমে গ্লোমেরুলার পরিস্রাবণ ও সক্রিয় টিউবুলার নিঃসরণের মাধ্যমে দেহ থেকে বের হয়। মুখে সেবন করা মাত্রার প্রায় ৬০–৭০% ৬ ঘণ্টার মধ্যে অপরিবর্তিত অবস্থায় মূত্রের সঙ্গে নিষ্কাশিত হয়। প্রোবেনেসিড টিউবুলার নিঃসরণ বাধাগ্রস্ত করে, ফলে রক্তে ওষুধের মাত্রা বেড়ে যায় এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

অ্যামোক্সিসিলিন ট্রাইহাইড্রেটের মাত্রা নির্ভর করে সংক্রমণের ধরন ও তীব্রতা, রোগীর বয়স, শরীরের ওজন এবং কিডনির কার্যকারিতার ওপর। সর্বদা নিবন্ধিত চিকিৎসকের নির্ধারিত মাত্রা অনুসরণ করুন। নিজে নিজে ওষুধ সেবন করবেন না।

প্রাপ্তবয়স্ক — মুখে সেবনের সাধারণ মাত্রা

নির্দেশনা মাত্রা সেবনবিধি মন্তব্য
মৃদু থেকে মাঝারি সংক্রমণ (সাধারণ) ২৫০ মি.গ্রা. দিনে তিনবার (প্রতি ৮ ঘণ্টা পর পর) সাধারণ সংক্রমণের ক্ষেত্রে প্রচলিত মাত্রা
তীব্র সংক্রমণ (সাধারণ) ৫০০ মি.গ্রা. দিনে তিনবার (প্রতি ৮ ঘণ্টা পর পর) রোগের তীব্রতা অনুযায়ী মাত্রা বাড়ানো হয়
তীব্র বা বারবার হওয়া পুঁজযুক্ত শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ৩ গ্রাম প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর স্বল্পমেয়াদি উচ্চ মাত্রার পদ্ধতি
ওটাইটিস মিডিয়া (মধ্যকর্ণের সংক্রমণ) ১ গ্রাম দিনে তিনবার তীব্র বা বারবার হওয়া ওটাইটিস মিডিয়ার ক্ষেত্রে
নিউমোনিয়া ৫০০ মি.গ্রা.–১ গ্রাম দিনে তিনবার তীব্রতা অনুযায়ী ৫–১০ দিন
দাঁতের ফোড়া (ডেন্টাল অ্যাবসেস) ৩ গ্রাম ১০–১২ ঘণ্টা পর পুনরায় একবার দুই মাত্রার স্বল্পমেয়াদি পদ্ধতি
মূত্রনালির সংক্রমণ ৩ গ্রাম ১০–১২ ঘণ্টা পর পুনরায় একবার দুই মাত্রার স্বল্পমেয়াদি পদ্ধতি
গনোরিয়া (জটিলতাহীন) ২–৩ গ্রাম, সঙ্গে প্রোবেনেসিড ১ গ্রাম একক মাত্রা ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে প্রোবেনেসিড নিষিদ্ধ
H. pylori নির্মূল — ট্রিপল থেরাপি ১ গ্রাম (সঙ্গে ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন ৫০০ মি.গ্রা. + ল্যান্সোপ্রাজল ৩০ মি.গ্রা. বা অন্য কোনো PPI) দিনে দুইবার মেয়াদ: ৭–১৪ দিন

শিশু (১০ বছর বয়স পর্যন্ত) — মুখে সেবনের সাধারণ মাত্রা

নির্দেশনা মাত্রা সেবনবিধি মন্তব্য
মৃদু থেকে মাঝারি সংক্রমণ (সাধারণ) ১২৫ মি.গ্রা. দিনে তিনবার (প্রতি ৮ ঘণ্টা পর পর) শিশুদের ক্ষেত্রে প্রচলিত মাত্রা
তীব্র সংক্রমণ (সাধারণ) ২৫০ মি.গ্রা. দিনে তিনবার তীব্র সংক্রমণে মাত্রা বাড়ানো হয়
ওটাইটিস মিডিয়া (মধ্যকর্ণের সংক্রমণ) প্রতিদিন প্রতি কেজি ওজনে ৪০ মি.গ্রা. ৩ ভাগে বিভক্ত করে (প্রতি ৮ ঘণ্টা পর পর) দৈনিক সর্বোচ্চ ৩ গ্রাম

ইনজেকশনের মাধ্যমে (IM/IV) — প্রাপ্তবয়স্ক

প্রয়োগপথ মাত্রা প্রয়োগবিধি মন্তব্য
মাংসপেশিতে (IM) বা শিরায় (IV) ৫০০ মি.গ্রা. প্রতি ৮ ঘণ্টা পর পর ইনজেকশনের প্রয়োজন হয় এমন মাঝারি সংক্রমণে
শিরায় (IV) — তীব্র সংক্রমণে ১ গ্রাম প্রতি ৬–৮ ঘণ্টা পর পর সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়া তীব্র সংক্রমণে; এর বেশি মাত্রা কেবল চিকিৎসকের নির্দেশে

বিশেষ ক্ষেত্রে মাত্রা

কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে: অ্যামোক্সিসিলিন মূলত কিডনির মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয় বলে কিডনির কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে মাত্রা কমাতে হয় বা দুই মাত্রার মধ্যে বিরতি বাড়াতে হয়:

  • GFR ১০–৩০ মি.লি./মিনিট: স্বাভাবিক মাত্রা, প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর
  • GFR ১০ মি.লি./মিনিটের কম: স্বাভাবিক মাত্রা, প্রতি ২৪ ঘণ্টা পর পর
  • ডায়ালাইসিস গ্রহণকারী রোগী: প্রতিটি ডায়ালাইসিস সেশনের পর একটি অতিরিক্ত মাত্রা দিতে হবে

বয়স্ক রোগী: মাত্রা নির্ধারণ করা হয় বয়সের ভিত্তিতে নয়, বরং কিডনির কার্যকারিতার ভিত্তিতে। চিকিৎসা শুরুর আগে কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।

যকৃতের সমস্যা: অ্যামোক্সিসিলিন মূলত কিডনির মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয় বলে যকৃতের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে মাত্রা পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না।

চিকিৎসার মেয়াদ

সাধারণত সংক্রমণের লক্ষণ ও উপসর্গ পুরোপুরি চলে যাওয়ার পরও আরও ২ থেকে ৩ দিন ওষুধ চালিয়ে যেতে হয়। সাধারণ মেয়াদগুলো হলো:

  • জটিলতাহীন কান-নাক-গলা ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ: ৫–১০ দিন
  • মূত্রনালির সংক্রমণ: ৫–৭ দিন (স্বল্পমেয়াদি) অথবা ৭–১৪ দিন (জটিল ক্ষেত্রে)
  • H. pylori নির্মূল: ৭–১৪ দিন
  • স্ট্রেপটোকক্কাল সংক্রমণ: বাতজ্বর প্রতিরোধে কমপক্ষে ১০ দিন

মুখে সেবনযোগ্য ক্যাপসুল ও ট্যাবলেট

  • অ্যামোক্সিসিলিন ট্রাইহাইড্রেট ক্যাপসুল ও ট্যাবলেট খাবারের আগে বা পরে যেকোনো সময় সেবন করা যায়। খাবার শোষণের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে না, বরং পাকস্থলীর অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
  • ক্যাপসুল বা ট্যাবলেট না ভেঙে বা না চিবিয়ে এক গ্লাস পানির সঙ্গে গিলে খান।
  • দিনের মধ্যে সমান বিরতিতে মাত্রাগুলো সেবন করুন — দিনে তিনবারের নিয়মে প্রায় প্রতি ৮ ঘণ্টা পর পর সেবন করলে রক্তে ওষুধের কার্যকর মাত্রা ধারাবাহিকভাবে বজায় থাকে।
  • চিকিৎসকের নির্ধারিত পূর্ণ কোর্সটি শেষ করুন — কোর্স শেষ হওয়ার আগেই ভালো বোধ করলেও ওষুধ বন্ধ করবেন না। আগেভাগে বন্ধ করলে কিছু জীবাণু বেঁচে যেতে পারে, রোগ আবার ফিরে আসতে পারে এবং অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে পারে।

মুখে সেবনযোগ্য সাসপেনশন (পানি মেশানোর পর)

  • শিশু এবং যাঁরা ক্যাপসুল বা ট্যাবলেট গিলতে পারেন না, তাঁদের জন্য সাসপেনশন বিশেষভাবে উপযোগী।
  • ব্যবহারের আগে শুকনো পাউডারে নির্দেশিত পরিমাণ পানি মিশিয়ে ভালোভাবে ঝাঁকান, যতক্ষণ না মিশ্রণটি সমানভাবে মিশে যায়।
  • সঠিক মাত্রা নিশ্চিত করতে প্রতিবার ব্যবহারের আগে বোতলটি ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন।
  • তৈরি করা সাসপেনশন দুধ, ফলের রস বা পানির সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ানো যায় এবং মেশানোর সঙ্গে সঙ্গেই সেবন করতে হবে — আগে থেকে তৈরি করে রেখে দেওয়া যাবে না।
  • মাত্রা সঠিকভাবে পরিমাপের জন্য সঙ্গে দেওয়া চামচ বা ওরাল সিরিঞ্জ ব্যবহার করুন। ঘরে ব্যবহৃত সাধারণ চা-চামচ ব্যবহার করবেন না।
  • তৈরি করা সাসপেনশন ঠান্ডা জায়গায় (২°সে–৮°সে, ফ্রিজে) সংরক্ষণ করুন এবং লেবেলে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে (সাধারণত পানি মেশানোর পর ৭–১৪ দিন) ব্যবহার করুন।

শিশুদের জন্য ড্রপ (পেডিয়াট্রিক ড্রপস)

  • নবজাতক ও খুব ছোট শিশুদের জন্য পেডিয়াট্রিক ড্রপ উপযোগী।
  • মাত্রা পরিমাপের জন্য সঙ্গে দেওয়া ড্রপার ব্যবহার করুন। সরাসরি মুখে দিন অথবা অল্প পরিমাণ দুধ, ফর্মুলা বা ফলের রসের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ান।
  • পরিমাপ করার সঙ্গে সঙ্গেই খাওয়াতে হবে। প্রতিবার ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন।

ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ (IM/IV)

মাংসপেশিতে (IM) ইনজেকশন — ৫০০ মি.গ্রা.

অ্যামোক্সিসিলিন ৫০০ মি.গ্রা. ভায়ালে ২.৫ মি.লি. ওয়াটার ফর ইনজেকশন মিশিয়ে আলতোভাবে ঝাঁকিয়ে সম্পূর্ণ দ্রবীভূত করুন। এরপর বড় কোনো মাংসপেশিতে গভীরভাবে ইনজেকশন দিন (যেমন নিতম্বের উপরের বাইরের অংশে, অথবা শিশুদের ক্ষেত্রে ঊরুর সামনের-পাশের অংশে)।

শিরায় (IV) ইনজেকশন — ৫০০ মি.গ্রা.

অ্যামোক্সিসিলিন ৫০০ মি.গ্রা. ১০ মি.লি. ওয়াটার ফর ইনজেকশনে দ্রবীভূত করে ৩ থেকে ৪ মিনিট ধরে ধীরে ধীরে শিরায় প্রয়োগ করুন। আইভি ইনফিউশনের ক্ষেত্রে উপযুক্ত আইভি ফ্লুইডে (নরমাল স্যালাইন ০.৯% অথবা ৫% ডেক্সট্রোজ ইন ওয়াটার) আরও পাতলা করে ৩০–৬০ মিনিট ধরে ইনফিউশন দিন।

যতটা সম্ভব সদ্য তৈরি করা ইনজেকশনের দ্রবণ ব্যবহার করুন। তৈরি করা দ্রবণ ঘরের তাপমাত্রায় ১ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করতে হবে। অ্যামোক্সিসিলিন কখনোই অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড জাতীয় ওষুধের সঙ্গে একই ইনফিউশন পাত্রে মেশানো যাবে না।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

প্রোবেনেসিড

গেঁটে বাত (গাউট) চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রোবেনেসিড-এর সঙ্গে অ্যামোক্সিসিলিন একসঙ্গে সেবন করলে রক্তে অ্যামোক্সিসিলিনের মাত্রা বেড়ে যায় এবং তা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে। প্রোবেনেসিড কিডনির টিউবুল থেকে অ্যামোক্সিসিলিন নিঃসরণে বাধা দেয়, ফলে ওষুধটি দেহ থেকে ধীরে ধীরে বের হয়। কখনো কখনো ইচ্ছাকৃতভাবেই এই প্রতিক্রিয়া কাজে লাগানো হয় (যেমন গনোরিয়ার চিকিৎসায়), যাতে অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রা বেশি ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। তবে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি আছে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে। ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে প্রোবেনেসিড ব্যবহার নিষিদ্ধ।

জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি (সম্মিলিত ইস্ট্রোজেন/প্রোজেস্টেরন)

অ্যামোক্সিসিলিন অন্ত্রের স্বাভাবিক উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এতে ইস্ট্রোজেনের এন্টেরোহেপাটিক পুনঃসঞ্চালন কমে যায় এবং সম্মিলিত ইস্ট্রোজেন/প্রোজেস্টেরনযুক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। তাই সন্তান ধারণক্ষম বয়সের যেসব নারী সম্মিলিত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন করেন, তাঁদের অ্যামোক্সিসিলিন চলাকালীন এবং কোর্স শেষ হওয়ার পরবর্তী 7 দিন পর্যন্ত বাড়তি জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (যেমন কনডম জাতীয় ব্যারিয়ার পদ্ধতি) ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া উচিত।

রক্ত তরলকারী ওষুধ (ওয়ারফারিন)

অন্ত্রের যেসব ব্যাকটেরিয়া ভিটামিন কে তৈরি করে, অ্যামোক্সিসিলিন সেগুলো কমিয়ে দিতে পারে। ফলে কখনো কখনো ওয়ারফারিনের রক্ত তরলকারী প্রভাব বেড়ে যেতে পারে। ওয়ারফারিন সেবনকারী রোগীদের ক্ষেত্রে অ্যামোক্সিসিলিন শুরু বা বন্ধ করার সময় INR আরও ঘন ঘন পরীক্ষা করা উচিত।

মেথোট্রেক্সেট

অ্যামোক্সিসিলিনসহ পেনিসিলিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক কিডনির মাধ্যমে মেথোট্রেক্সেট নিষ্কাশনের হার কমিয়ে দিতে পারে, যার ফলে মেথোট্রেক্সেটের বিষক্রিয়া দেখা দিতে পারে। মেথোট্রেক্সেট গ্রহণকারী কোনো রোগীর অ্যামোক্সিসিলিন প্রয়োজন হলে তাঁকে বিষক্রিয়ার লক্ষণের (বমি বমি ভাব, মুখের ভেতরে ঘা, রক্তের উপাদানে পরিবর্তন) জন্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।

অ্যালোপিউরিনল

অ্যামোক্সিসিলিনের সঙ্গে অ্যালোপিউরিনল একসঙ্গে সেবন করলে ত্বকে র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি হওয়ার প্রবণতা বাড়ে বলে জানা গেছে। দুটি ওষুধ একসঙ্গে সেবনকারী রোগীদের ত্বকের প্রতিক্রিয়ার জন্য পর্যবেক্ষণে রাখা উচিত।

ব্যাকটেরিওস্ট্যাটিক অ্যান্টিবায়োটিক

অ্যামোক্সিসিলিন সবচেয়ে ভালো কাজ করে সক্রিয়ভাবে বিভাজনরত ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে। তাই ব্যাকটেরিওস্ট্যাটিক অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন টেট্রাসাইক্লিন, ম্যাক্রোলাইড, ক্লোরামফেনিকল) ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ধীর করে দিয়ে অ্যামোক্সিসিলিনের জীবাণু ধ্বংসকারী ক্ষমতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। সুস্পষ্ট প্রয়োজন না থাকলে এসব অ্যান্টিবায়োটিক একসঙ্গে ব্যবহার করা সাধারণত পরামর্শযোগ্য নয়।

জীবাণুযুক্ত জীবন্ত টিকা (লাইভ ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাকসিন)

অ্যামোক্সিসিলিন মুখে খাওয়ার জীবন্ত ব্যাকটেরিয়াযুক্ত টিকার (যেমন মুখে খাওয়ার টাইফয়েড টিকা, বিসিজি) কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। তাই অ্যামোক্সিসিলিন চলাকালীন বা কোর্স শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ধরনের জীবন্ত টিকা দেওয়া উচিত নয়।

প্রতিনির্দেশনা

নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে অ্যামোক্সিসিলিন ট্রাইহাইড্রেট ব্যবহার নিষিদ্ধ:

  • অ্যামোক্সিসিলিনের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা (অ্যালার্জি), অন্য কোনো পেনিসিলিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক বা এই ওষুধের যেকোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা থাকলে। এ ধরনের প্রতিক্রিয়া হালকা ত্বকের র‌্যাশ থেকে শুরু করে জীবনসংশয়কারী অ্যানাফাইল্যাক্সিস পর্যন্ত হতে পারে।
  • সেফালোস্পোরিনসহ যেকোনো বিটা-ল্যাকটাম জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি তীব্র ও তাৎক্ষণিক অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার (অ্যানাফাইল্যাক্সিস, অ্যাঞ্জিওইডিমা, ব্রঙ্কোস্পাজম, আমবাত) ইতিহাস থাকলে — কারণ এসব ওষুধের মধ্যে ক্রস-রিঅ্যাকশন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
  • ইনফেকশাস মনোনিউক্লিওসিস (এপস্টাইন-বার ভাইরাসজনিত গ্ল্যান্ডুলার ফিভার) আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে — এসব রোগীকে অ্যামোক্সিসিলিন দিলে অ্যালার্জি ছাড়াই ত্বকে র‌্যাশ (ম্যাকুলোপ্যাপুলার র‌্যাশ) হওয়ার হার অনেক বেশি, যা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং তীব্র আকার নিতে পারে। মনোনিউক্লিওসিস সন্দেহ করা হলে বা নিশ্চিত হলে অ্যামোক্সিসিলিন ব্যবহার করা যাবে না।
  • ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে প্রোবেনেসিড ব্যবহার (অ্যামোক্সিসিলিন + প্রোবেনেসিড একসঙ্গে ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

অ্যামোক্সিসিলিন ট্রাইহাইড্রেট সাধারণত সহনীয়। বেশির ভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হালকা ও সাময়িক এবং কোর্স শেষ হলে বা ওষুধ বন্ধ করলে সেরে যায়।

সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (পরিপাকতন্ত্র — সবচেয়ে বেশি দেখা যায়)

  • ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা — সবচেয়ে বেশি রিপোর্ট করা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
  • বমি বমি ভাব ও বমি
  • বদহজম (ডিসপেপসিয়া) ও পেটে অস্বস্তি
  • খাবারে অরুচি

ত্বকের প্রতিক্রিয়া

  • ম্যাকুলোপ্যাপুলার র‌্যাশ — প্রায় ৩-৫ % রোগীর ক্ষেত্রে দেখা যায়; ভাইরাসজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত রোগীদের (বিশেষত ইনফেকশাস মনোনিউক্লিওসিস) এবং যাঁরা একই সঙ্গে অ্যালোপিউরিনল সেবন করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হয়
  • আমবাত (আর্টিকেরিয়া) ও ত্বকে চুলকানি
  • ত্বক লালচে হয়ে যাওয়া (এরিদেমা)
  • খুব বিরল ক্ষেত্রে ত্বকের তীব্র প্রতিক্রিয়া, যেমন স্টিভেন্স-জনসন সিনড্রোমটক্সিক এপিডার্মাল নেক্রোলাইসিস (TEN) — এমন সন্দেহ হলে সঙ্গে সঙ্গে ওষুধ বন্ধ করতে হবে

মারাত্মক অতিসংবেদনশীলতা প্রতিক্রিয়া (বিরল, তবে জীবনসংশয়কারী)

  • অ্যানাফাইল্যাক্সিস — সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়া তীব্র অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া, যা প্রাণঘাতী হতে পারে। এতে শ্বাসনালি সংকুচিত হয়ে যাওয়া, রক্তসঞ্চালন ভেঙে পড়া এবং জ্ঞান হারানোর মতো লক্ষণ দেখা দেয়। ০.০১ – ০.০৫ %  -এরও কম রোগীর ক্ষেত্রে এটি ঘটে। এ ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে অ্যাড্রেনালিন (এপিনেফ্রিন) দিয়ে চিকিৎসা করতে হয়।
  • অ্যাঞ্জিওইডিমা — ঠোঁট, জিহ্বা, মুখমণ্ডল বা গলা ফুলে যাওয়া
  • সিরাম সিকনেসের মতো প্রতিক্রিয়া

ইনজেকশনের প্রথম মাত্রা দেওয়ার পর রোগীকে অন্তত ৩০ মিনিট পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। আগে কখনো পেনিসিলিনে অ্যালার্জি হয়েছে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি।

রক্তসংক্রান্ত প্রভাব (কম দেখা যায়)

  • শ্বেত রক্তকণিকা কমে যাওয়া (লিউকোপেনিয়া) — যা সাধারণত আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়
  • অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট কমে যাওয়া (থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া)
  • হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া (রক্তকণিকা ভেঙে গিয়ে রক্তস্বল্পতা)
  • ইওসিনোফিলিয়া

যকৃতের ওপর প্রভাব (বিরল)

  • যকৃতের এনজাইম (ALT, AST) সাময়িকভাবে বেড়ে যাওয়া
  • কোলেস্ট্যাটিক জন্ডিস — এটি সাধারণত অ্যামোক্সিসিলিন ও ক্ল্যাভুল্যানিক অ্যাসিডের সমন্বিত রূপের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়, তবে শুধু অ্যামোক্সিসিলিন সেবনেও এমন ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে
  • খুব বিরল ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস

স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব (বিরল)

  • খিঁচুনি — মূলত উচ্চ মাত্রায় সেবনে, অথবা কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে, যেখানে দেহে ওষুধ জমে যেতে পারে
  • মাথা ঘোরা ও মাথাব্যথা

সুপারইনফেকশন

সব ব্রড-স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিকের মতোই, দীর্ঘদিন অ্যামোক্সিসিলিন ব্যবহারে এই ওষুধে সংবেদনশীল নয় এমন জীবাণুর অতিরিক্ত বৃদ্ধি ঘটতে পারে — যেমন Candida spp. (মুখে ছত্রাক সংক্রমণ বা থ্রাশ, যোনিপথে ক্যানডিডিয়াসিস) এবং প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া। Clostridioides difficile দ্বারা সৃষ্ট সিউডোমেমব্রেনাস কোলাইটিসের ঘটনাও বিরলভাবে রিপোর্ট হয়েছে। কোনো রোগীর তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া দেখা দিলে C. difficile-জনিত রোগ আছে কি না তা দ্রুত পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থা

অ্যামোক্সিসিলিন ট্রাইহাইড্রেট যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ (US FDA) নির্ধারিত গর্ভাবস্থার ক্যাটাগরি বি-এর অন্তর্ভুক্ত। প্রাণীর ওপর উচ্চ মাত্রায় চালানো প্রজননবিষয়ক গবেষণায় গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি, জন্মগত ত্রুটি বা প্রজননক্ষমতা হ্রাসের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে গর্ভবতী নারীদের ওপর পর্যাপ্ত ও সুনিয়ন্ত্রিত কোনো গবেষণা নেই। যেহেতু প্রাণীর ওপর করা গবেষণার ফল মানুষের ক্ষেত্রে সবসময় হুবহু প্রযোজ্য হয় না, তাই গর্ভাবস্থায় অ্যামোক্সিসিলিন কেবল সুস্পষ্ট প্রয়োজন হলেই ব্যবহার করা উচিত এবং তখনই, যখন এর উপকারিতা গর্ভস্থ শিশুর সম্ভাব্য ঝুঁকির তুলনায় বেশি বলে বিবেচিত হয়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান অপরিহার্য।

প্রয়োজন থাকলে গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের জন্য অ্যামোক্সিসিলিনকে তুলনামূলক নিরাপদ অ্যান্টিবায়োটিকগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়। গর্ভবতী নারীদের মূত্রনালির সংক্রমণ এবং গ্রুপ বি স্ট্রেপটোকক্কাল সংক্রমণের চিকিৎসায় এটি নিয়মিতভাবেই ব্যবহৃত হয়। গর্ভাবস্থায় অ্যামোক্সিসিলিন ব্যবহার করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত চিকিৎসক প্রতিটি রোগীর অবস্থা আলাদাভাবে বিবেচনা করে নেবেন।

স্তন্যদান

অ্যামোক্সিসিলিন মায়ের বুকের দুধে অল্প পরিমাণে চলে যায়। শিশুর দেহে পৌঁছানো এই মাত্রা সাধারণত খুবই কম হলেও এর কারণে শিশুর অন্ত্রের স্বাভাবিক জীবাণুর ভারসাম্যে পরিবর্তন, পেনিসিলিনের প্রতি সংবেদনশীলতা তৈরি হওয়া এবং বিরল ক্ষেত্রে ডায়রিয়া বা মুখে ছত্রাক সংক্রমণ (ওরাল ক্যানডিডিয়াসিস) দেখা দিতে পারে। তাই স্তন্যদানকারী মায়েদের অ্যামোক্সিসিলিন দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। একান্তই প্রয়োজন হলে শিশুর পরিপাকতন্ত্রে কোনো সমস্যা দেখা দিচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। চিকিৎসক বুকের দুধ খাওয়ানোর উপকারিতা ও শিশুর সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

সতর্কতা

অ্যালার্জি এবং সেফালোস্পোরিনের সঙ্গে ক্রস-রিঅ্যাকশন

অ্যামোক্সিসিলিন শুরু করার আগে রোগীর পেনিসিলিন, সেফালোস্পোরিন বা অন্য কোনো উপাদানে অ্যালার্জি আছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত ইতিহাস জেনে নিতে হবে। পেনিসিলিন জাতীয় ওষুধে মারাত্মক এবং কখনো কখনো প্রাণঘাতী অ্যানাফাইল্যাকটিক প্রতিক্রিয়ার ঘটনা ঘটেছে। পেনিসিলিনে অ্যালার্জির ইতিহাস আছে এমন রোগীদের সেফালোস্পোরিনেও ক্রস-অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হওয়ার ঝুঁকি বেশি (আনুমানিক হার প্রায় 1–2%)। পেনিসিলিনে হালকা অ্যালার্জির ইতিহাস থাকলে অ্যামোক্সিসিলিন সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে। আর যেসব রোগীর কোনো পেনিসিলিন বা সেফালোস্পোরিনে অ্যানাফাইল্যাক্সিস বা তাৎক্ষণিক ধরনের অতিসংবেদনশীলতার ইতিহাস আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ইনফেকশাস মনোনিউক্লিওসিস

ইনফেকশাস মনোনিউক্লিওসিস (এপস্টাইন-বার ভাইরাস সংক্রমণ) নিশ্চিত হলে বা সন্দেহ করা হলে অ্যামোক্সিসিলিন ব্যবহার করা যাবে না। মনোনিউক্লিওসিসে আক্রান্ত রোগীদের অ্যামপিসিলিন বা অ্যামোক্সিসিলিন দিলে তাঁদের একটি বড় অংশের শরীরজুড়ে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ম্যাকুলোপ্যাপুলার র‌্যাশ দেখা দেয়, যা তীব্র আকার নিতে পারে। এই র‌্যাশ প্রকৃত পেনিসিলিন অ্যালার্জি নয়, বরং এই ভাইরাস সংক্রমণের ক্ষেত্রেই বিশেষভাবে দেখা যায়।

সুপারইনফেকশন

দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চললে ছত্রাক (যেমন Candida) বা অ্যামোক্সিসিলিন-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সুপারইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনার কথা মাথায় রাখতে হবে। সুপারইনফেকশন দেখা দিলে অ্যামোক্সিসিলিন বন্ধ করে উপযুক্ত ছত্রাকনাশক বা বিকল্প অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা শুরু করতে হবে।

Clostridioides difficile-জনিত রোগ

অ্যামোক্সিসিলিন ব্যবহারে সিউডোমেমব্রেনাস কোলাইটিস এবং C. difficile-জনিত ডায়রিয়ার (CDAD) ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে। চিকিৎসা চলাকালীন বা চিকিৎসার পর কোনো রোগীর তীব্র, দীর্ঘস্থায়ী বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে CDAD আছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। CDAD সন্দেহ হলে পায়খানা বন্ধ করার ওষুধ (অ্যান্টিপেরিস্টালটিক) ব্যবহার করা যাবে না, কারণ এতে অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে।

কিডনির কার্যকারিতা কমে যাওয়া

অ্যামোক্সিসিলিন মূলত কিডনির মাধ্যমে দেহ থেকে বের হয়। তাই কিডনির কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে (CrCl <30 mL/min) দেহে ওষুধ জমে গিয়ে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে মাত্রা কমাতে হবে অথবা দুই মাত্রার মধ্যে বিরতি বাড়াতে হবে। কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের রক্তে পেনিসিলিনের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে বিরল ক্ষেত্রে খিঁচুনিসহ স্নায়ুতন্ত্রের বিষক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা

যেসব সংক্রমণ সংবেদনশীল ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়েছে বলে প্রমাণিত বা প্রবলভাবে সন্দেহ করা হয়, কেবল সেসব ক্ষেত্রেই অ্যামোক্সিসিলিন ব্যবহার করা উচিত। অপ্রয়োজনে বা অনিয়মিতভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে জীবাণুর মধ্যে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। সম্ভব হলে কালচার ও সেনসিটিভিটি পরীক্ষার ফল অনুযায়ী চিকিৎসা নির্ধারণ করা উচিত।

গাড়ি চালানো ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার

অ্যামোক্সিসিলিন সেবনে বিরল ক্ষেত্রে মাথা ঘোরা ও খিঁচুনির কথা জানা গেছে। এমন উপসর্গ দেখা দিলে গাড়ি চালানো বা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।

মাত্রাধিক্যতা

অ্যামোক্সিসিলিনের মাত্রাধিক্যের (ওভারডোজ) জন্য নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই। এই ওষুধের থেরাপিউটিক ইনডেক্স যথেষ্ট প্রশস্ত হওয়ায় মাত্রাধিক্যে মারাত্মক বিষক্রিয়া সাধারণত দেখা যায় না। তবে রক্তে ওষুধের মাত্রা অত্যন্ত বেড়ে গেলে — বিশেষত কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে — নিম্নলিখিত সমস্যা দেখা দিতে পারে:

  • বমি বমি ভাব, বমি ও ডায়রিয়া
  • পেটে ব্যথা ও মোচড়ানো
  • ক্রিস্টালুরিয়া — প্রস্রাবে কেলাস বা দানা তৈরি হওয়া, যার ফলে কিডনিতে অস্বস্তি হতে পারে এবং প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যেতে পারে; এই ঝুঁকি কমাতে পর্যাপ্ত পানি পান নিশ্চিত করতে হবে
  • স্নায়ুতন্ত্রের বিষক্রিয়া: অস্থিরতা, বিভ্রান্তি, আচরণে পরিবর্তন এবং খিঁচুনি — বিশেষত খুব উচ্চ মাত্রায় সেবনে, অথবা কিডনি বিকল রোগীদের ক্ষেত্রে, যেখানে দেহে ওষুধ জমে যায়
  • শিরায় খুব উচ্চ মাত্রায় ওষুধ নেওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা (লবণের রূপ থেকে দেহে সোডিয়াম বা পটাসিয়ামের আধিক্য)

এ ক্ষেত্রে চিকিৎসা হয় উপসর্গভিত্তিক ও সহায়ক। কিডনির মাধ্যমে ওষুধ নিষ্কাশনে সহায়তা করতে এবং ক্রিস্টালুরিয়া প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পানি পান নিশ্চিত করতে হবে। হিমোডায়ালাইসিস ও পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে অ্যামোক্সিসিলিনের একটি অংশ দেহ থেকে বের করা যায়; কিডনির সমস্যাসহ মারাত্মক মাত্রাধিক্যের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি বিবেচনা করা যেতে পারে। মাত্রাধিক্যের সন্দেহ হলে সঙ্গে সঙ্গে বিষক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন অথবা জরুরি চিকিৎসাসেবা নিন

সংরক্ষণ

  • ক্যাপসুল, ট্যাবলেট ও শুকনো পাউডার ২৫°সে–৩০°সে-এর নিচে ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করুন; সরাসরি আলো, তাপ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন।
  • সব ধরনের ওষুধ শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
  • মোড়কে উল্লেখিত মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ পার হয়ে গেলে কোনো ওষুধই ব্যবহার করবেন না।
  • সাসপেনশনের শুকনো পাউডার (পানি মেশানোর আগে): ঘরের তাপমাত্রায় ৩০°সে-এর নিচে, আলো ও আর্দ্রতা থেকে সুরক্ষিত রেখে সংরক্ষণ করুন।
  • তৈরি করা সাসপেনশন: ফ্রিজে (২°সে–৮°সে) সংরক্ষণ করুন এবং পানি মেশানোর পর ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবহার করুন (নির্দিষ্ট পণ্যের লেবেলে দেওয়া নির্দেশ অনুযায়ী)। কোর্স শেষ হওয়ার পর অবশিষ্ট সাসপেনশন ফেলে দিন। ডিপ ফ্রিজে বা বরফে জমাবেন না।
  • শিশুদের ড্রপ (বোতল খোলার পর): ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে অথবা লেবেলে দেওয়া নির্দেশ অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন। বোতল খোলার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবহার করুন।
  • ইনজেকশনের ভায়াল: ৩০°সে-এর নিচে, আলো থেকে সুরক্ষিত রেখে সংরক্ষণ করুন। যতটা সম্ভব সদ্য তৈরি করা দ্রবণ সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার করুন। দ্রবণের রং বদলে গেলে বা এতে কোনো কণা ভেসে থাকতে দেখলে তা ব্যবহার করবেন না।

শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার

শিশু রোগী

নবজাতকসহ সব বয়সের শিশুদের ক্ষেত্রে অ্যামোক্সিসিলিন ট্রাইহাইড্রেট নিরাপদ এবং ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। শিশুদের মাত্রা নির্ধারণ করা হয় শরীরের ওজন অনুযায়ী, এবং ছোট শিশু ও নবজাতকের জন্য সাসপেনশন বা পেডিয়াট্রিক ড্রপই সবচেয়ে উপযোগী। ওটাইটিস মিডিয়া, নিউমোনিয়া ও স্ট্রেপটোকক্কাল ফ্যারিঞ্জাইটিসের চিকিৎসায় শিশুদের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকগুলোর একটি। শিশুর বর্তমান ওজনের ভিত্তিতে মাত্রা সতর্কতার সঙ্গে হিসাব করতে হবে এবং কোনোভাবেই সর্বোচ্চ মাত্রা অতিক্রম করা যাবে না।

বয়স্ক রোগী

শুধু বয়সের ভিত্তিতে মাত্রা পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিডনির কার্যকারিতা কমে যায়, তাই কিডনির কার্যকারিতা (ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স) পরীক্ষা করে সেই অনুযায়ী মাত্রা নির্ধারণ করা উচিত। এ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের পর বয়স্ক রোগীদের C. difficile-জনিত ডায়রিয়া হওয়ার ঝুঁকিও বেশি থাকে।

কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত রোগী

কিডনির কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে মাত্রা পরিবর্তন করা প্রয়োজন। ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স অনুযায়ী দুই মাত্রার মধ্যে বিরতি বাড়াতে হবে অথবা দৈনিক মোট মাত্রা কমাতে হবে (মাত্রা ও সেবনবিধি অংশ দেখুন)। অ্যামোক্সিসিলিনের একটি অংশ ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে দেহ থেকে বেরিয়ে যায়, তাই ডায়ালাইসিস গ্রহণকারী রোগীদের প্রতিটি সেশনের পর একটি অতিরিক্ত মাত্রা দিতে হবে।

যকৃতের সমস্যায় আক্রান্ত রোগী

অ্যামোক্সিসিলিন মূলত কিডনির মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয় বলে যকৃতের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে মাত্রা পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না। তবে যকৃতের কার্যকারিতা মারাত্মকভাবে কমে গেলে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং প্রয়োজন মনে হলে যকৃতের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে পর্যবেক্ষণে রাখা উচিত।

Disclaimer

The information provided is accurate to our best practices, but it does not replace professional medical advice. We cannot guarantee its completeness or accuracy. The absence of specific information about a drug should not be seen as an endorsement. We are not responsible for any consequences resulting from this information, so consult a healthcare professional for any concerns or questions.

Doctor
Cart
Account