Product gallery
MRP ১১২.৮৪১০ % ডিস্কাউন্ট
Best PriceTk ১০১.৫৬/14's Strip
Section

Medicine overview

নির্দেশনা

মন্টিলুকাস্ট সোডিয়াম একটি নির্বাচনী ও মুখে সেবনযোগ্য সক্রিয় লিউকোট্রিন রিসেপ্টর অ্যান্টাগোনিস্ট (LTRA), যা প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের শ্বাসতন্ত্রের অ্যালার্জিজনিত সমস্যা প্রতিরোধ ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনায় নির্দেশিত। এটি ৬ মাস বয়সী শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্কদের পর্যন্ত বিস্তৃত বয়সসীমায়, প্রতিটি বয়সগোষ্ঠীর উপযোগী বিভিন্ন ফর্মুলেশনে নির্ধারিত হয়।

অ্যাজমার প্রোফাইল্যাক্সিস ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা

মন্টিলুকাস্ট সোডিয়াম প্রাপ্তবয়স্ক ও ৬ মাস বা তদূর্ধ্ব বয়সের শিশুদের ক্ষেত্রে অ্যাজমার প্রোফাইল্যাক্সিস ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় নির্দেশিত। এটি ব্যবহৃত হয়:

  • দিন ও রাতের অ্যাজমা উপসর্গ প্রতিরোধে
  • অ্যাজমার তীব্রতা বৃদ্ধির (exacerbation) হার কমাতে
  • অ্যালার্জিক ও নন-অ্যালার্জিক অ্যাজমার সাথে সম্পর্কিত শ্বাসনালীর প্রদাহ ও ব্রঙ্কোকনস্ট্রিকশন কমাতে
  • দ্রুত-কার্যকর বিটা-অ্যাগোনিস্ট (SABA) রেসকিউ থেরাপির প্রয়োজনীয়তা কমাতে
  • ভালোভাবে নিয়ন্ত্রিত রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ইনহেলড কর্টিকোস্টেরয়েডের (ICS) ডোজ ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে সহায়তা করতে
  • ফুসফুসের কার্যক্ষমতা উন্নত করতে (FEV1, সকাল ও সন্ধ্যার পিক এক্সপায়ারেটরি ফ্লো)

অ্যাজমা ও অ্যালার্জিক রাইনাইটিস একসাথে থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে মন্টিলুকাস্ট বিশেষভাবে উপকারী ("এক শ্বাসনালী, এক রোগ" ধারণা অনুযায়ী), যেখানে এটি দিনে একবার মুখে সেবনযোগ্য চিকিৎসার মাধ্যমে উভয় সমস্যার সমাধান করতে পারে। অ্যাসপিরিন-প্ররোচিত শ্বাসতন্ত্রের রোগে (AERD / অ্যাসপিরিন-সংবেদনশীল অ্যাজমা) আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রেও এটি বিশেষভাবে কার্যকর, যেখানে লিউকোট্রিনের অতিরিক্ত উৎপাদন একটি মূল প্যাথোফিজিওলজিক্যাল কারণ।

গুরুত্বপূর্ণ: মন্টিলুকাস্ট কোনো রেসকিউ ওষুধ নয়। তীব্র ব্রঙ্কোস্পাজম বা স্ট্যাটাস অ্যাজমাটিকাসের উপশমে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। রোগীর কাছে সবসময় উপযুক্ত দ্রুত-উপশমকারী (রেসকিউ) ব্রঙ্কোডাইলেটর থেরাপি প্রস্তুত থাকতে হবে।

ব্যায়াম-প্ররোচিত ব্রঙ্কোকনস্ট্রিকশনের (EIB) তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ

৬ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যায়াম-প্ররোচিত ব্রঙ্কোকনস্ট্রিকশনের (EIB) তাৎক্ষণিক প্রতিরোধে মন্টিলুকাস্ট সোডিয়াম নির্দেশিত। ব্যায়ামের অন্তত ২ ঘণ্টা আগে একটি একক ডোজ গ্রহণ করলে শারীরিক পরিশ্রমজনিত ব্রঙ্কোকনস্ট্রিক্টর প্রতিক্রিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। যেসব রোগী ইতিমধ্যে অ্যাজমা বা অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের জন্য দিনে একবার মন্টিলুকাস্ট সেবন করছেন, তাদের EIB প্রতিরোধের জন্য অতিরিক্ত ডোজ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। ব্যায়াম-প্ররোচিত ব্রঙ্কোকনস্ট্রিকশনের একমাত্র বা প্রধান চিকিৎসা হিসেবে মন্টিলুকাস্ট ব্যবহার করা উচিত নয় — এটি সামগ্রিক অ্যাজমা ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার একটি অংশ হওয়া উচিত।

সিজনাল অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের (SAR) উপসর্গ উপশম

প্রাপ্তবয়স্ক ও ২ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের শিশুদের ক্ষেত্রে সিজনাল অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের (হে ফিভার) উপসর্গ উপশমে মন্টিলুকাস্ট সোডিয়াম নির্দেশিত। এটি পরাগরেণু, ছত্রাকের বীজাণু এবং অন্যান্য মৌসুমি বহিরাঙ্গন অ্যালার্জেনের কারণে সৃষ্ট নিম্নলিখিত উপসর্গগুলো কমায়:

  • নাক বন্ধ হওয়া ও নাক আটকে যাওয়া
  • স্বচ্ছ ক্ষরণসহ নাক দিয়ে পানি পড়া (রাইনোরিয়া)
  • হাঁচি এবং নাকে চুলকানি (প্রুরিটাস)
  • চোখের উপসর্গ — চুলকানি, পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া (অ্যালার্জিক কনজাংটিভাইটিস)

পেরেনিয়াল অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের (PAR) উপসর্গ উপশম

প্রাপ্তবয়স্ক ও ৬ মাস বা তদূর্ধ্ব বয়সের শিশুদের ক্ষেত্রে পেরেনিয়াল অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের (সারা বছরব্যাপী রাইনাইটিস) উপসর্গ উপশমেও মন্টিলুকাস্ট সোডিয়াম নির্দেশিত। পেরেনিয়াল রাইনাইটিস সারা বছরব্যাপী বিদ্যমান ঘরোয়া অ্যালার্জেন যেমন ধুলাবালির মাইট, তেলাপোকার অ্যান্টিজেন, পোষা প্রাণীর লোম এবং ঘরোয়া ছত্রাকের কারণে সৃষ্ট হয় — বাংলাদেশের আর্দ্র গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আবহাওয়ায় এই অবস্থাগুলো অত্যন্ত সাধারণ।

থেরাপিউটিক ক্লাস

Leukotriene receptor antagonists

ফার্মাকোলজি

মন্টিলুকাস্ট সোডিয়াম হলো সিসটিনাইল লিউকোট্রিন-১ (CysLT1) রিসেপ্টরের একটি সিলেক্টিভ, প্রতিযোগিতামূলক এবং মুখে খাওয়ার উপযোগী সক্রিয় অ্যান্টাগোনিস্ট। এটি লিউকোট্রিন রিসেপ্টর অ্যান্টাগোনিস্ট (LTRA) নামক ওষুধের শ্রেণির অন্তর্গত — একে অ্যান্টিলিউকোট্রিনও বলা হয় — এবং কর্টিকোস্টেরয়েড, বিটা-অ্যাগোনিস্ট ও অ্যান্টিহিস্টামিনের তুলনায় হাঁপানি ও রাইনাইটিস ব্যবস্থাপনায় এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি মেকানিজম অনুসরণ করে।

লিউকোট্রিন পাথওয়ে — পটভূমি

মন্টিলুকাস্টের কার্যপ্রণালী বুঝতে হলে অ্যালার্জিক প্রদাহে লিউকোট্রিনের ভূমিকা জানা প্রয়োজন:

  1. অ্যালার্জেনের (পরাগরেণু, ধুলাবালির মাইট, ছত্রাক, পশুর লোম) সংস্পর্শে এলে শ্বাসনালী ও নাকের মিউকোসায় মাস্ট সেল ও ইওসিনোফিল সক্রিয় হয়ে ওঠে।
  2. এই সক্রিয় কোষগুলো কোষপর্দার অ্যারাকিডোনিক অ্যাসিডকে ৫-লাইপোঅক্সিজেনেজ (5-LOX) পাথওয়ে-র মাধ্যমে বিপাক করে, যা থেকে সিসটিনাইল লিউকোট্রিন (CysLTs) তৈরি হয় — বিশেষত LTC4, LTD4 এবং LTE4।
  3. এই শক্তিশালী লিপিড মেডিয়েটরগুলো CysLT1 রিসেপ্টরের সঙ্গে যুক্ত হয়, যা শ্বাসনালীর মসৃণ পেশিকোষ, মিউকোসাল গবলেট কোষ, ইওসিনোফিল, ম্যাক্রোফেজ ও ডেনড্রাইটিক কোষে থাকে।
  4. CysLT1 রিসেপ্টর সক্রিয় হলে একাধিক ডাউনস্ট্রিম প্রভাব দেখা দেয়, যেগুলো একত্রে হাঁপানি ও অ্যালার্জিক রাইনাইটিস সৃষ্টি করে:
    • শ্বাসনালীর মসৃণ পেশির সংকোচন — ব্রঙ্কোকনস্ট্রিকশন (লিউকোট্রিনগুলো হিস্টামিনের চেয়ে ১,০০০ গুণ বেশি শক্তিশালী ব্রঙ্কোকনস্ট্রিক্টর)
    • শ্বাসনালীতে শোথ (edema) এবং রক্তনালীর প্রবেশযোগ্যতা বৃদ্ধি — যা মিউকোসাল ফোলাভাব ও নাক বন্ধ হওয়ার কারণ
    • মিউকাস অতিরিক্ত ক্ষরণ — গবলেট কোষের নিঃসরণ বৃদ্ধি ও শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে যাওয়া
    • ইওসিনোফিলিক শ্বাসনালী প্রদাহ — দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ বজায় রাখতে ইওসিনোফিলের নিয়োগ ও সক্রিয়করণ
    • ডেনড্রাইটিক কোষ সক্রিয়করণ — Th2 অ্যাডাপ্টিভ ইমিউন রেসপন্সের প্রসার
    • নাক বন্ধ হওয়া — বিশেষত লেট-ফেজ অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার সময়

কার্যপ্রণালী (Mechanism of Action)

মন্টিলুকাস্ট উচ্চ অ্যাফিনিটি ও শক্তির সাথে CysLT1 রিসেপ্টরের সাথে প্রতিযোগিতামূলকভাবে ও নির্বাচিতভাবে যুক্ত হয়, এবং তিনটি সিসটিনাইল লিউকোট্রিন (LTC4, LTD4, LTE4) দ্বারা রিসেপ্টর সক্রিয় হওয়া বাধাগ্রস্ত করে। CysLT1 রিসেপ্টর দখল করে মন্টিলুকাস্ট:

  • লিউকোট্রিন-প্ররোচিত ব্রঙ্কোকনস্ট্রিকশন ও শ্বাসনালীর পেশি সংকোচন প্রতিরোধ করে
  • লিউকোট্রিন-প্ররোচিত শ্বাসনালীর শোথ ও মিউকোসাল ফোলাভাব কমায়
  • মিউকাস ক্ষরণ কমায়
  • শ্বাসনালী ও নাকের মিউকোসায় ইওসিনোফিলের নিয়োগ ও টিকে থাকা হ্রাস করে
  • ব্যায়াম-প্ররোচিত ব্রঙ্কোকনস্ট্রিকশন কমায় — যেহেতু ব্যায়ামের ফলে লিউকোট্রিন নিঃসরণ EIB-র একটি প্রধান কারণ
  • অ্যালার্জিক রাইনাইটিসে নাক বন্ধ হওয়া ও প্রদাহজনিত পরিবর্তন কমায়

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মন্টিলুকাস্ট অ্যান্টিহিস্টামিন (যা H1 হিস্টামিন রিসেপ্টরকে লক্ষ্য করে) ও কর্টিকোস্টেরয়েডের (যা সমস্ত প্রদাহজনক মেডিয়েটরকে ব্যাপকভাবে দমন করে) পরিপূরক একটি প্রদাহজনিত পাথওয়েতে কাজ করে। এর ফলে হাঁপানি ও রাইনাইটিস একসাথে থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্লিনিকাল উপকারের জন্য মন্টিলুকাস্টকে এই ওষুধগুলোর সাথে একত্রে ব্যবহার করা যায়।

ফার্মাকোকাইনেটিক্স

  • শোষণ (Absorption): মুখে খাওয়ার পর মন্টিলুকাস্ট দ্রুত শোষিত হয়। ১০ মি.গ্রা. ফিল্ম-কোটেড ট্যাবলেটের জন্য গড় মৌখিক জৈব-উপলভ্যতা (bioavailability) প্রায় ৬৪%। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ওষুধ সেবনের পর প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে সর্বোচ্চ প্লাজমা ঘনত্ব (Cmax) পৌঁছায়। স্বাভাবিক খাবারের সাথে শোষণের হার বা পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না — মন্টিলুকাস্ট দিনের যেকোনো সময় খাবারের সাথে বা ছাড়া খাওয়া যায়, তবে হাঁপানির ক্ষেত্রে দিনে একবার সন্ধ্যায় সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয় (রাতের বেলা হাঁপানির লক্ষণ সর্বোচ্চ হওয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ)।
  • বিতরণ (Distribution): এটি অত্যন্ত উচ্চমাত্রায় প্লাজমা প্রোটিনের সাথে (প্রধানত অ্যালবুমিনের সাথে) আবদ্ধ হয় — প্রায় ৯৯%। বিতরণের আয়তন (volume of distribution) প্রায় ৮–১১ লিটার, যা নির্দেশ করে যে এটি মূলত টিস্যুর পরিবর্তে রক্তরসেই বিতরিত হয়।
  • বিপাক (Metabolism): লিভারে ব্যাপকভাবে বিপাকিত হয়, প্রধানত CYP3A4 ও CYP2C8 এনজাইমের মাধ্যমে (CYP2C9-এর সামান্য অবদান রয়েছে)। থেরাপিউটিক ঘনত্বে এর বিপাকীয় উপজাতগুলো (metabolites) ফার্মাকোলজিক্যালি নিষ্ক্রিয়। থেরাপিউটিক মাত্রায় মন্টিলুকাস্ট নিজে প্রধান CYP এনজাইমগুলোকে উল্লেখযোগ্যভাবে দমন বা উদ্দীপিত করে না।
  • অর্ধায়ু (Half-life): সুস্থ তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রায় ২.৭ থেকে ৫.৫ ঘণ্টা; বয়স্কদের ক্ষেত্রে সামান্য বেশি (প্রায় ৬ ঘণ্টা)। প্লাজমা অর্ধায়ু তুলনামূলকভাবে কম হলেও, দিনে একবার সেবনের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার ক্লিনিকাল কার্যকারিতা পাওয়া যায় — আংশিকভাবে এর কারণ CysLT1 রিসেপ্টরের সাথে প্রায়-অপরিবর্তনীয় (irreversible-like) বন্ধন এবং দীর্ঘস্থায়ী ফার্মাকোডাইনামিক প্রভাব।
  • নিষ্কাশন (Elimination): প্রধানত বাইলের মাধ্যমে (biliary) — সেবনকৃত মাত্রার প্রায় ৮৬% মলের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয় (যা প্রধানত হেপাটিক/বাইলারি পথে বিপাকীয় উপজাত নিষ্কাশনের ইঙ্গিত দেয়)। প্রস্রাবের মাধ্যমে ০.২%-এরও কম নিষ্কাশিত হয়। এই প্রায় সম্পূর্ণভাবে অ-বৃক্কীয় (non-renal) নিষ্কাশনের কারণে কিডনির কার্যক্ষমতা কম থাকলেও মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন হয় না।

মাত্রা ও সেবনবিধি

মন্টিলুকাস্ট সোডিয়াম দিনে একবার সেবন করতে হয়। রোগীর বয়স ও রোগের ধরন অনুযায়ী মাত্রা নির্ধারিত হয়। সবসময় আপনার নিবন্ধিত চিকিৎসকের নির্ধারিত মাত্রা অনুসরণ করুন। নিজে থেকে ওষুধ সেবন করবেন না।

হাঁপানি ও অ্যালার্জিক রাইনাইটিস — স্ট্যান্ডার্ড দিনে-একবার মাত্রা

বয়সসীমা ফর্মুলেশন মাত্রা সেবনের সংখ্যা নির্দেশনা
প্রাপ্তবয়স্ক ও ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী কিশোর-কিশোরী ফিল্ম-কোটেড ট্যাবলেট ১০ মি.গ্রা. দিনে একবার (হাঁপানির ক্ষেত্রে সন্ধ্যায় সেবন করাই উত্তম) হাঁপানি এবং/অথবা ঋতুকালীন অ্যালার্জিক রাইনাইটিস
৬–১৪ বছর বয়সী শিশু চিবিয়ে খাওয়ার ট্যাবলেট বা দ্রবণীয় ট্যাবলেট ৫ মি.গ্রা. দিনে একবার (হাঁপানির ক্ষেত্রে সন্ধ্যায় সেবন করাই উত্তম) হাঁপানি এবং/অথবা ঋতুকালীন অ্যালার্জিক রাইনাইটিস
২–৫ বছর বয়সী শিশু চিবিয়ে খাওয়ার ট্যাবলেট বা ওরাল গ্র্যানিউলস ৪ মি.গ্রা. দিনে একবার হাঁপানি এবং/অথবা ঋতুকালীন অ্যালার্জিক রাইনাইটিস
৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু ওরাল গ্র্যানিউলস (৪ মি.গ্রা./৩.৫ গ্রাম স্যাশে) ৪ মি.গ্রা. (১টি স্যাশে) দিনে একবার হাঁপানি এবং/অথবা সারাবছর স্থায়ী অ্যালার্জিক রাইনাইটিস

ব্যায়াম-প্ররোচিত ব্রঙ্কোকনস্ট্রিকশন (EIB) প্রতিরোধ

বয়সসীমা মাত্রা সময় মন্তব্য
প্রাপ্তবয়স্ক ও ৬ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশু বয়স অনুযায়ী স্ট্যান্ডার্ড মাত্রা (উপরে দেখুন) ব্যায়ামের অন্তত ২ ঘণ্টা আগে যদি ইতিমধ্যে দিনে একবার মন্টিলুকাস্ট সেবন করা হয়ে থাকে, তাহলে অতিরিক্ত মাত্রা নেবেন না। শুধুমাত্র EIB চিকিৎসার জন্য এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।

মাত্রা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • সময়: হাঁপানির ক্ষেত্রে মন্টিলুকাস্ট সন্ধ্যায় সেবন করাই উত্তম — কারণ রাতে ও ভোরের দিকে হাঁপানির লক্ষণ সবচেয়ে বেশি খারাপ থাকে, এবং সন্ধ্যায় সেবন করলে ওষুধের সর্বোচ্চ প্রভাব রাতের রোগ-কার্যক্রমের সাথে মিলে যায়। হাঁপানি ছাড়া শুধু অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের জন্য দিনের যেকোনো সময় এই ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।
  • সেবনের মেয়াদ: মন্টিলুকাস্ট একটি দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ (maintenance) ওষুধ — এটি তাৎক্ষণিক ব্রঙ্কোডাইলেশন প্রদান করে না। হাঁপানিতে ক্লিনিকাল উপকারিতা ১ দিনের মধ্যেই শুরু হয়, তবে সম্পূর্ণ থেরাপিউটিক প্রভাব পেতে কয়েক সপ্তাহ নিয়মিত সেবন প্রয়োজন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মন্টিলুকাস্ট সেবন বন্ধ করবেন না।
  • যদি ইতিমধ্যে হাঁপানি বা রাইনাইটিসের জন্য দিনে একবার মন্টিলুকাস্ট সেবন করা হয়ে থাকে, তাহলে EIB-এর জন্য আলাদা কোনো অতিরিক্ত মাত্রার প্রয়োজন নেই

বিশেষ ক্ষেত্রে মাত্রা

  • কিডনির কার্যক্ষমতা কম থাকলে (Renal Insufficiency): যেকোনো মাত্রার কিডনি সমস্যায় থাকা রোগীর ক্ষেত্রে মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই — মন্টিলুকাস্ট প্রায় সম্পূর্ণভাবে বাইল/মলের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয়, প্রস্রাবে এর মাত্র ০.২%-এরও কম নির্গত হয়।
  • মৃদু থেকে মাঝারি লিভার সমস্যা (Mild-to-Moderate Hepatic Insufficiency): মৃদু থেকে মাঝারি লিভার সমস্যায় থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই। গুরুতর লিভার সমস্যায় থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত গবেষণা হয়নি; সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।
  • বয়স্ক রোগী: মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই। মন্টিলুকাস্ট ১০ মি.গ্রা.-এর ফার্মাকোকাইনেটিক প্রোফাইল ও মৌখিক জৈব-উপলভ্যতা বয়স্ক ও তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে একই রকম। বয়স্কদের ক্ষেত্রে প্লাজমা অর্ধায়ু সামান্য বেশি হলেও এর জন্য মাত্রা পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না।

ফিল্ম-কোটেড ট্যাবলেট (১০ মি.গ্রা. — প্রাপ্তবয়স্ক ও ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী কিশোর-কিশোরী)

  • মন্টিলুকাস্ট ১০ মি.গ্রা. ফিল্ম-কোটেড ট্যাবলেট খাবারের সাথে বা খাবার ছাড়া সেবন করা যায় — খাবার এর শোষণ বা জৈব-উপলভ্যতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করে না।
  • ট্যাবলেটটি এক গ্লাস পানির সাথে পুরোটা গিলে ফেলুন।
  • হাঁপানি ব্যবস্থাপনার জন্য ঘুমানোর আগে সন্ধ্যায় সেবন করুন, যাতে রাতের বেলা — যখন হাঁপানি সাধারণত সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকে — সর্বোচ্চ সুরক্ষা পাওয়া যায়।
  • হাঁপানি ছাড়া শুধু অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের ক্ষেত্রে দিনের যেকোনো সুবিধাজনক সময়ে ট্যাবলেট সেবন করা যেতে পারে।
  • ওষুধের মাত্রা ও কার্যকারিতা ধারাবাহিক রাখতে প্রতিদিন একই সময়ে সেবন করুন।

চিবিয়ে খাওয়ার ট্যাবলেট (৪ মি.গ্রা. ও ৫ মি.গ্রা. — শিশুদের জন্য)

  • ট্যাবলেটটি গেলার আগে ভালোভাবে চিবিয়ে নিন — পুরোটা গিলে ফেলবেন না।
  • খাবারের সাথে বা খাবার ছাড়া দেওয়া যেতে পারে।
  • ৫ মি.গ্রা. চিবিয়ে খাওয়ার ট্যাবলেট ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের জন্য অনুমোদিত; ৪ মি.গ্রা. চিবিয়ে খাওয়ার ট্যাবলেট ২ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য।
  • সম্পূর্ণ দ্রবীভূত হওয়া ও শোষণ নিশ্চিত করতে শিশুকে গেলার আগে ট্যাবলেটটি পুরোপুরি চিবিয়ে নিতে সহায়তা করুন।
  • হাঁপানি ব্যবস্থাপনার জন্য সন্ধ্যায় সেবন করুন।

ওরালি ডিজইন্টিগ্রেটিং (ফ্ল্যাশ/ODT) ট্যাবলেট (৪ মি.গ্রা. ও ৫ মি.গ্রা.)

  • ট্যাবলেটটি জিহ্বার ওপর রাখুন — এটি পানি ছাড়াই (কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যে) দ্রুত দ্রবীভূত হয়ে যাবে।
  • ব্লিস্টার প্যাকেজিংয়ের ফয়েল ভেদ করে ট্যাবলেট বের করবেন না — সাবধানে ফয়েল খুলে ট্যাবলেট বের করে সাথে সাথে জিহ্বার ওপর রাখুন।
  • পানির প্রয়োজন হয় না, তাই যেসব শিশু ট্যাবলেট চিবিয়ে বা গিলে খেতে পারে না, এবং যাদের গিলতে সমস্যা হয়, তাদের জন্য এই ফর্মুলেশন আদর্শ।
  • খাবারের সাথে বা খাবার ছাড়া সেবন করা যায়।

ওরাল গ্র্যানিউলস (প্রতি ৩.৫ গ্রাম স্যাশেতে ৪ মি.গ্রা. — ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য)

  • ব্যবহারের ঠিক আগে স্যাশে খুলুন। খোলা স্যাশে সংরক্ষণ করবেন না — পুরো উপাদান সাথে সাথে সেবন করান।
  • গ্র্যানিউলস নিম্নোক্ত উপায়ে দেওয়া যেতে পারে:
    • সরাসরি জিহ্বার ওপর রেখে গিলিয়ে দেওয়া
    • এক চা-চামচ (প্রায় ৫ মি.লি.) ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানির সাথে মিশিয়ে
    • এক চা-চামচ স্বাভাবিক তাপমাত্রার নরম খাবারের সাথে মিশিয়ে — উপযুক্ত খাবারের মধ্যে রয়েছে আপেল সস, গাজর, ভাত, বা আইসক্রিম
  • গ্র্যানিউলস জুস, দুধ, ফর্মুলা, বা গরম/উষ্ণ খাবার বা তরলের সাথে মেশাবেন না, কারণ এতে ওষুধের স্থিতিশীলতা প্রভাবিত হতে পারে।
  • খাবার বা পানির সাথে মেশানো হলে সাথে সাথে (১৫ মিনিটের মধ্যে) সেবন করান — পরে ব্যবহারের জন্য মিশ্রণটি সংরক্ষণ করবেন না।
  • দিনে একবার সেবন করান, হাঁপানি সংক্রান্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রে সন্ধ্যায় দেওয়া উত্তম।

ব্যায়াম-প্ররোচিত ব্রঙ্কোকনস্ট্রিকশন প্রতিরোধের জন্য

  • ব্যায়ামের অন্তত ২ ঘণ্টা আগে বয়স অনুযায়ী নির্ধারিত মাত্রা সেবন করুন।
  • ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একের বেশি মাত্রা সেবন করবেন না।
  • যেসব রোগী ইতিমধ্যে হাঁপানি বা অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের জন্য প্রতিদিন মন্টিলুকাস্ট সেবন করছেন, তাদের ব্যায়ামের আগে অতিরিক্ত মাত্রা সেবন করা উচিত নয়

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

মন্টিলুকাস্টের ওষুধ-মিথস্ক্রিয়া (drug interaction) প্রোফাইল বেশ অনুকূল। প্রস্তাবিত ক্লিনিক্যাল মাত্রায় মন্টিলুকাস্ট সাধারণত একসাথে সেবন করা অন্য ওষুধের ফার্মাকোকাইনেটিক্সকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করে না। তবে কিছু নির্দিষ্ট মিথস্ক্রিয়া সম্পর্কে ক্লিনিক্যাল সচেতনতা প্রয়োজন:

কোনো উল্লেখযোগ্য ক্লিনিক্যাল মিথস্ক্রিয়া পাওয়া যায়নি

বিশেষায়িত ওষুধ-মিথস্ক্রিয়া গবেষণা এবং ব্যাপক ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল জনগোষ্ঠীতে, প্রস্তাবিত ক্লিনিক্যাল মাত্রায় মন্টিলুকাস্ট নিম্নলিখিত ওষুধগুলোর সাথে একত্রে সেবন করা হলে কোনো দিকেই উল্লেখযোগ্য ফার্মাকোকাইনেটিক পরিবর্তন দেখা যায়নি:

  • থিওফাইলিন — থিওফাইলিনের কাইনেটিক্সে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব নেই; মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই
  • প্রেডনিসোন ও প্রেডনিসোলোন — কোনো মিথস্ক্রিয়া নেই; চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে মন্টিলুকাস্ট ইনহেলড বা মৌখিক কর্টিকোস্টেরয়েডের মাত্রা কমাতে সহায়তা করতে পারে, তবে এটি তাদের বিকল্প হতে পারে না
  • মৌখিক গর্ভনিরোধক — নরইথিন্ড্রোন ১ মি.গ্রা. / ইথিনাইল এস্ট্রাডিওল ৩৫ মাইক্রোগ্রাম সংমিশ্রণে কোনো প্রভাব পড়েনি; গর্ভনিরোধক কার্যকারিতায় কোনো প্রভাব নেই
  • টারফেনাডিন — প্রস্তাবিত মাত্রায় কোনো মিথস্ক্রিয়া নেই
  • ডিগক্সিন — কোনো উল্লেখযোগ্য ক্লিনিক্যাল মিথস্ক্রিয়া নেই
  • ওয়ারফারিন — অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট প্রভাব বা ফার্মাকোকাইনেটিক্সে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই; মন্টিলুকাস্টের জন্য নির্দিষ্টভাবে নিয়মিত INR পর্যবেক্ষণে কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই
  • থাইরয়েড হরমোন, সেডেটিভ-হিপনোটিক্স, NSAIDs, বেনজোডায়াজেপিন, ডিকনজেস্ট্যান্ট — ব্যাপক ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ব্যবহারে ক্ষতিকর ফার্মাকোকাইনেটিক মিথস্ক্রিয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি

CYP3A4 ও CYP2C8 এনজাইম ইনডিউসার — মন্টিলুকাস্টের মাত্রা হ্রাস

মন্টিলুকাস্ট প্রধানত লিভারের CYP3A4 ও CYP2C8 এনজাইম দ্বারা বিপাকিত হয়। যেসব ওষুধ এই এনজাইমগুলোকে শক্তিশালীভাবে উদ্দীপিত (induce) করে, সেগুলো মন্টিলুকাস্টের বিপাক প্রক্রিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে দ্রুততর করতে পারে, যার ফলে এর প্লাজমা ঘনত্ব ও সম্ভাব্যভাবে থেরাপিউটিক কার্যকারিতা কমে যেতে পারে:

  • ফেনোবারবিটাল: একটি শক্তিশালী লিভার এনজাইম ইনডিউসার, যা একক ১০ মি.গ্রা. মৌখিক মাত্রার পর মন্টিলুকাস্টের AUC প্রায় ৪০% কমিয়ে দেয়। যদিও মন্টিলুকাস্টের মাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে সমন্বয়ের সুপারিশ করা হয় না, এই মিথস্ক্রিয়া ক্লিনিক্যাল কার্যকারিতা কমাতে পারে — ফেনোবারবিটাল একসাথে দেওয়া হলে হাঁপানি নিয়ন্ত্রণের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
  • রিফাম্পিন (রিফাম্পিসিন): CYP3A4 ও CYP2C8-এর একটি শক্তিশালী ইনডিউসার; ফেনোবারবিটালের মতোই মন্টিলুকাস্টের প্লাজমা মাত্রা কমাতে পারে বলে ধারণা করা হয়। রিফাম্পিন একসাথে সেবন চলাকালে হাঁপানি ও রাইনাইটিস নিয়ন্ত্রণের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করুন।
  • কার্বামাজেপিন, ফেনিটোইন: এই লিভার এনজাইম ইনডিউসারগুলোও একই ধরনের প্রক্রিয়ায় মন্টিলুকাস্টের মাত্রা কমাতে পারে। হাঁপানি নিয়ন্ত্রণের যথাযথ ক্লিনিক্যাল পর্যবেক্ষণ করা বাঞ্ছনীয়।

পরামর্শ: শক্তিশালী CYP450 এনজাইম ইনডিউসার (বিশেষত ফেনোবারবিটাল বা রিফাম্পিন) মন্টিলুকাস্টের সাথে একত্রে সেবন করানো হলে উপযুক্ত ক্লিনিক্যাল পর্যবেক্ষণ করা যুক্তিসঙ্গত। হাঁপানি বা রাইনাইটিস নিয়ন্ত্রণ খারাপ হতে থাকলে, পর্যবেক্ষণের মাত্রা বাড়ানো এবং বিকল্প বা সহায়ক চিকিৎসা পর্যালোচনা করার কথা বিবেচনা করুন।

জেমফাইব্রোজিল (CYP2C8 ইনহিবিটর)

জেমফাইব্রোজিল, একটি লিপিড-হ্রাসকারী ওষুধ এবং শক্তিশালী CYP2C8 ইনহিবিটর, মন্টিলুকাস্টের প্রধান বিপাক পথ বাধাগ্রস্ত করে এর প্লাজমা AUC প্রায় ৪.৫ গুণ বাড়িয়ে দিতে দেখা গেছে। যদিও স্ট্যান্ডার্ড মাত্রায় এই মিথস্ক্রিয়া কোনো গুরুতর নিরাপত্তাজনিত সমস্যার সাথে যুক্ত বলে মনে হয় না (মন্টিলুকাস্টের থেরাপিউটিক ইনডেক্স যথেষ্ট প্রশস্ত), তবুও চিকিৎসকদের এই সম্ভাব্য উচ্চতর ওষুধ-উপস্থিতির (drug exposure) বিষয়ে সচেতন থাকা এবং মাত্রা-নির্ভর যেকোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্য পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

অন্যান্য অ্যান্টিঅ্যাজমাটিক/অ্যান্টিঅ্যালার্জিক ওষুধের সাথে অতিরিক্ত উপকারিতা

মন্টিলুকাস্ট একটি ধাপে-ধাপে (stepwise) ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির অংশ হিসেবে অন্যান্য অ্যান্টিঅ্যাজমাটিক ও অ্যান্টিঅ্যালার্জিক ওষুধের সাথে একত্রে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠিত ও ক্লিনিক্যালি উপকারী সংমিশ্রণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • ইনহেলড কর্টিকোস্টেরয়েড (ICS): মন্টিলুকাস্টের প্রদাহবিরোধী কার্যপ্রণালী ICS-এর পরিপূরক — একসাথে ব্যবহার করলে ইওসিনোফিলিক প্রদাহের অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও বিস্তৃত লক্ষণ ব্যবস্থাপনা পাওয়া যায়। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ICS + মন্টিলুকাস্ট একসাথে ব্যবহার করলে শুধু ICS একা ব্যবহারের চেয়ে ভালো হাঁপানি নিয়ন্ত্রণ পাওয়া সম্ভব।
  • স্বল্প-কার্যকরী বিটা-অ্যাগোনিস্ট (SABAs) ও দীর্ঘ-কার্যকরী বিটা-অ্যাগোনিস্ট (LABAs): মন্টিলুকাস্ট ব্রঙ্কোডাইলেটরের সাথে ফার্মাকোকাইনেটিকভাবে কোনো মিথস্ক্রিয়া করে না এবং নিরাপদে একসাথে ব্যবহার করা যায়।
  • অ্যান্টিহিস্টামিন (H1 অ্যান্টাগোনিস্ট): মন্টিলুকাস্ট ও অ্যান্টিহিস্টামিন অ্যালার্জিক প্রক্রিয়ার ভিন্ন ভিন্ন দিককে (লিউকোট্রিন বনাম হিস্টামিন) লক্ষ্য করে। এই সংমিশ্রণ চিকিৎসা অ্যালার্জিক রাইনাইটিসে অতিরিক্ত উপশম দেয় এবং কিছু রোগীর ক্ষেত্রে যেকোনো একটি ওষুধ একা ব্যবহারের চেয়ে ভালো ফল দেয় — বিশেষত নাক বন্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে (যা অ্যান্টিহিস্টামিন খুব একটা কার্যকরভাবে সামলাতে পারে না)।
  • নাকে ব্যবহারযোগ্য কর্টিকোস্টেরয়েড: রাইনাইটিসের লক্ষণ আরও সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে মন্টিলুকাস্ট নাকের স্টেরয়েডের সাথে ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রতিনির্দেশনা

নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে মন্টিলুকাস্ট সোডিয়াম সেবন করা উচিত নয় (contraindicated):

  • মন্টিলুকাস্ট সোডিয়াম বা ফর্মুলেশনের অন্য কোনো উপাদান বা এক্সিপিয়েন্টের প্রতি জানা হাইপারসেনসিটিভিটি (অতি-সংবেদনশীলতা) থাকলে। হাইপারসেনসিটিভিটি প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে অ্যানাফাইল্যাক্সিস, অ্যাঞ্জিওএডিমা, আর্টিকেরিয়া (চাকা চাকা র‍্যাশ) ও র‍্যাশ — তবে এগুলো বিরল।
  • তীব্র ব্রঙ্কোস্পাজম বা তীব্র হাঁপানির আক্রমণের তাৎক্ষণিক (rescue) চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার — মন্টিলুকাস্টের ব্রঙ্কোস্পাজমের তাৎক্ষণিক উপশমে কোনো ভূমিকা নেই। এটি ব্রঙ্কোডাইলেটর হিসেবে কাজ করে না এবং চলমান তীব্র হাঁপানির আক্রমণ বা স্ট্যাটাস অ্যাজমাটিকাস (status asthmaticus) উপশম করতে পারবে না। তীব্র আক্রমণের সময় রোগীর কাছে অবশ্যই উপযুক্ত দ্রুত-উপশমকারী ওষুধ (যেমন সালবিউটামলের মতো ব্রঙ্কোডাইলেটর) থাকতে হবে এবং তা ব্যবহার করতে হবে।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

মন্টিলুকাস্ট সোডিয়াম সব বয়সসীমার রোগীদের মধ্যে সাধারণত ভালোভাবে সহনীয়। বেশিরভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তীব্রতায় মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার হয়। নিচে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো ঘটনার হার অনুযায়ী শ্রেণিবদ্ধ করা হলো:

সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ১ থেকে প্রতি ১০ জনের মধ্যে ১ জনকে প্রভাবিত করে)

  • মাথাব্যথা — ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালগুলোতে সবচেয়ে বেশি রিপোর্ট করা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
  • পরিপাকতন্ত্রের অস্বস্তি — পেট ব্যথা, বদহজম
  • বমি বমি ভাব ও বমি
  • ডায়রিয়া
  • উপরের শ্বাসনালীতে সংক্রমণ
  • ত্বকের প্রতিক্রিয়া — র‍্যাশ, আর্টিকেরিয়া (চাকা চাকা র‍্যাশ), চুলকানি
  • জ্বর

কম দেখা যায় এমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (প্রতি ১,০০০ জনের মধ্যে ১ থেকে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ১ জনকে প্রভাবিত করে)

  • স্নায়ু ও মানসিক প্রভাব:
    • উদ্বেগ (Anxiety)
    • বিষণ্নতা (Depression)
    • খিটখিটে ভাব
    • অ্যাকাথিসিয়া (অস্থিরতা, অস্বস্তি, স্থির থাকতে না পারা)
    • অস্বাভাবিক আচরণ
    • ঘুমের সমস্যা — ঘুম না আসা (insomnia), অস্বাভাবিক স্বপ্ন
    • ঝিমুনি ও মাথা ঘোরা
  • অ্যাসথেনিয়া (দুর্বলতা ও ক্লান্তি)
  • শরীর খারাপ লাগা (Malaise)
  • আর্থ্রালজিয়া (জয়েন্টে ব্যথা)
  • মায়ালজিয়া (মাংসপেশিতে ব্যথা)
  • শোথ (Oedema) (শরীরে পানি জমা ও ফোলাভাব)
  • মুখ শুকিয়ে যাওয়া
  • রক্তক্ষরণের প্রবণতা (Haemorrhage)
  • খিঁচুনি (Seizures)
  • ত্বকে অস্বাভাবিক অনুভূতি (paraesthesia, যেমন ঝিনঝিন করা)

বিরল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (প্রতি ১,০০০ জনের মধ্যে ১ জনেরও কম রোগীকে প্রভাবিত করে) — কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর

  • অ্যাঞ্জিওএডিমা — মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা বা গলা ফুলে যাওয়া; তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা প্রয়োজন
  • আত্মহত্যার চিন্তা ও আচরণ — বিরল কিন্তু গুরুতর স্নায়ু-মানসিক প্রভাব; তাৎক্ষণিকভাবে ওষুধ বন্ধ করে চিকিৎসা মূল্যায়ন প্রয়োজন (নিচে ব্ল্যাক বক্স সতর্কতা দেখুন)
  • হ্যালুসিনেশন (মায়াদর্শন) ও দিকভ্রান্তি
  • স্মৃতিশক্তি হ্রাস ও মনোযোগে সমস্যা
  • কম্পন (Tremor)
  • বুক ধড়ফড় করা (Palpitations)
  • লিভারের সমস্যা — লিভার এনজাইম বৃদ্ধি, কোলেস্ট্যাটিক হেপাটাইটিস; বিরল এবং সাধারণত ওষুধ বন্ধ করলে সেরে যায়
  • পালমোনারি ইওসিনোফিলিয়া (ফুসফুসে ইওসিনোফিল বৃদ্ধি)
  • ইওসিনোফিলিক গ্র্যানুলোমাটোসিস উইথ পলিঅ্যাঞ্জাইটিস (EGPA) — পূর্বে চার্গ-স্ট্রস সিন্ড্রোম নামে পরিচিত ছিল; এটি ইওসিনোফিলিয়ার সাথে সম্পর্কিত একটি অত্যন্ত বিরল সিস্টেমিক ভাস্কুলাইটিস। মন্টিলুকাস্ট গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রে এটি রিপোর্ট করা হয়েছে, সাধারণত মৌখিক কর্টিকোস্টেরয়েডের মাত্রা কমানোর সময়, যা নির্দেশ করে যে এটি মন্টিলুকাস্টের কারণে সৃষ্টি হওয়ার চেয়ে আগে থেকেই থাকা EGPA প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। EGPA সন্দেহ হলে (ইওসিনোফিলিয়া, ভাস্কুলাইটিক র‍্যাশ, ফুসফুসের লক্ষণ খারাপ হওয়া, হৃদযন্ত্রের জটিলতা, পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি), মন্টিলুকাস্ট বন্ধ করে বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন নেওয়া উচিত।
  • ইরাইথেমা নোডোসাম — পায়ের সামনের অংশে (shin) ব্যথাযুক্ত লালচে-বেগুনি রঙের গোটা; একটি বিরল ত্বকীয় প্রকাশ

ব্ল্যাক বক্স সতর্কতা — স্নায়ু-মানসিক প্রতিক্রিয়া (FDA, ২০২০)

২০২০ সালের মার্চ মাসে, যুক্তরাষ্ট্রের FDA গুরুতর স্নায়ু-মানসিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত একটি ব্ল্যাক বক্স সতর্কতা মন্টিলুকাস্টের প্রেসক্রাইবিং তথ্যে যুক্ত করে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • অস্থিরতা ও আক্রমণাত্মক আচরণ
  • উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও মেজাজে পরিবর্তন
  • দিকভ্রান্তি ও বিভ্রান্তি
  • স্বপ্নে অস্বাভাবিকতা ও ঘুম না আসা
  • হ্যালুসিনেশন
  • খিটখিটে ভাব ও অস্থিরতা
  • স্মৃতিশক্তি হ্রাস ও মনোযোগের ঘাটতি
  • অবসেসিভ-কম্পালসিভ (বাধ্যতামূলক পুনরাবৃত্তিমূলক) লক্ষণ
  • আত্মহত্যার চিন্তা ও আচরণ — এমনকি সম্পূর্ণ আত্মহত্যা পর্যন্ত
  • ঘুমের মধ্যে হাঁটা (Somnambulism)
  • কম্পন (Tremor)

প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু উভয় রোগীর ক্ষেত্রেই এই স্নায়ু-মানসিক প্রভাবগুলো রিপোর্ট করা হয়েছে। মন্টিলুকাস্ট প্রেসক্রাইব করার আগে এর উপকারিতা ও ঝুঁকি সতর্কতার সাথে বিবেচনা করা উচিত, বিশেষত যেসব রোগীর উদ্বেগ, বিষণ্নতা বা মানসিক রোগের ইতিহাস রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে। রোগী ও তাদের পরিচর্যাকারীদের এই ঝুঁকি সম্পর্কে জানানো উচিত এবং চিকিৎসা চলাকালীন কোনো আচরণগত বা মেজাজের পরিবর্তন দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া উচিত। স্নায়ু-মানসিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে মন্টিলুকাস্ট বন্ধ করে দিতে হবে।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থা

মুখে সেবনের পর মন্টিলুকাস্ট প্লাসেন্টা (গর্ভফুল) ভেদ করে যায় — প্রাণীর ওপর পরিচালিত গবেষণায় (ইঁদুর ও খরগোশ) এটি নিশ্চিত হয়েছে। মানুষের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তাবিত মাত্রার চেয়েও বেশি মাত্রায়, প্রাণীদের ওপর পরিচালিত গবেষণায় মন্টিলুকাস্টকে টেরাটোজেনিক (জন্মগত ত্রুটি সৃষ্টিকারী) বা প্রজনন-সংক্রান্ত বিষক্রিয়া সৃষ্টিকারী বলে প্রমাণিত হয়নি। তবে যেহেতু প্রাণীর ওপর পরিচালিত গবেষণার ফলাফল সবসময় মানুষের ক্ষেত্রেও একই রকম হয় না, তাই গর্ভবতী নারীদের ওপর পর্যাপ্ত ও যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রিত গবেষণা নেই। মানুষের গর্ভাবস্থায় মন্টিলুকাস্টের নিরাপত্তা সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

গর্ভাবস্থায় মন্টিলুকাস্ট শুধুমাত্র স্পষ্টভাবে প্রয়োজন হলেই ব্যবহার করা উচিত — অর্থাৎ যখন মায়ের জন্য সম্ভাব্য উপকারিতা ভ্রূণের জন্য যেকোনো তাত্ত্বিক ঝুঁকিকে যৌক্তিক প্রমাণ করে। চিকিৎসকদের উচিত গর্ভাবস্থায় অচিকিৎসিত বা অপর্যাপ্তভাবে চিকিৎসাকৃত হাঁপানির ঝুঁকি (যা মা ও ভ্রূণের জটিলতা যেমন সময়ের আগে সন্তান জন্ম, কম ওজনে জন্ম, এবং প্রি-এক্লাম্পসিয়ার সাথে সম্পর্কিত) মন্টিলুকাস্টের তাত্ত্বিক ঝুঁকির বিপরীতে বিবেচনা করা। যেখানে সম্ভব, গর্ভাবস্থায় মানুষের ওপর দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা তথ্য রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠিত হাঁপানির ওষুধ (বিশেষত ইনহেলড কর্টিকোস্টেরয়েড) বেছে নেওয়া উচিত।

মার্কেটিং-পরবর্তী পর্যবেক্ষণ গবেষণা ও গর্ভাবস্থা রেজিস্ট্রিতে গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে মন্টিলুকাস্ট সেবনের সাথে বড় ধরনের জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বৃদ্ধির সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে এই বিষয়ে তথ্য এখনও সীমিত।

স্তন্যদান

মন্টিলুকাস্ট মায়ের বুকের দুধে নির্গত হয় কি না তা জানা নেই। যেহেতু অনেক লাইপোফিলিক (চর্বিতে দ্রবণীয়) ওষুধ বুকের দুধে নির্গত হয়, এবং মন্টিলুকাস্টের উচ্চ প্লাজমা প্রোটিন বন্ধন (৯৯%) বিবেচনা করে, বুকের দুধে কিছুটা স্থানান্তরের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মন্টিলুকাস্টের ন্যূনতম বৃক্কীয় (renal) নিষ্কাশন এবং প্রধানত হেপাটিক/বাইলারি পথে নিষ্কাশনের কারণে, স্তন্যপান করানোর মাধ্যমে শিশুর সংস্পর্শে আসার আনুমানিক পরিমাণ সম্ভবত কম হবে।

স্তন্যদানকারী মাকে মন্টিলুকাস্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। মন্টিলুকাস্ট সেবনকালীন স্তন্যদান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া উচিত, যেখানে শিশু ও মা উভয়ের জন্য স্তন্যদানের উল্লেখযোগ্য উপকারিতাকে শিশুর জন্য যেকোনো তাত্ত্বিক ঝুঁকির বিপরীতে বিবেচনা করতে হবে।

উর্বরতা (Fertility)

প্রাণীর ওপর পরিচালিত গবেষণায় মন্টিলুকাস্টের উর্বরতার ওপর কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। উর্বরতার ওপর প্রভাব সংক্রান্ত মানুষের কোনো তথ্য নেই, তবে এ পর্যন্ত কোনো উদ্বেগের বিষয় শনাক্ত হয়নি।

সতর্কতা

তাৎক্ষণিক (Rescue) ওষুধ নয় — তীব্র হাঁপানির আক্রমণে কোনো ভূমিকা নেই

মন্টিলুকাস্ট তীব্র হাঁপানির আক্রমণে, স্ট্যাটাস অ্যাজমাটিকাস (status asthmaticus) সহ, ব্রঙ্কোস্পাজম উপশমের জন্য নির্দেশিত নয়। এর ব্রঙ্কোডাইলেটর বৈশিষ্ট্য নেই এবং এটি তীব্র শ্বাসনালী বাধা উপশম করবে না। রোগীদের স্পষ্টভাবে পরামর্শ দেওয়া উচিত যেন তারা:

  • সবসময় উপযুক্ত দ্রুত-উপশমকারী (rescue) ওষুধ সাথে রাখেন — সাধারণত সালবিউটামলের মতো স্বল্প-কার্যকরী বিটা-অ্যাগোনিস্ট (SABA)
  • তাদের রেসকিউ ব্রঙ্কোডাইলেটরে পর্যাপ্ত উপশম না পেলে বা বেশি ঘন ঘন ব্যবহারের প্রয়োজন হলে অবিলম্বে চিকিৎসা সহায়তা নেন
  • তীব্র উপসর্গ বৃদ্ধির সময়ও মন্টিলুকাস্ট সেবন চালিয়ে যান, কারণ এটি হাঁপানির অবস্থা খারাপ করে না এবং স্বল্পমেয়াদী হাঁপানি চিকিৎসা তীব্র করার পাশাপাশি চালিয়ে যাওয়া যায়

কর্টিকোস্টেরয়েডের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করবেন না

ভালো হাঁপানি নিয়ন্ত্রণ অর্জনকারী কিছু রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে মন্টিলুকাস্ট ইনহেলড কর্টিকোস্টেরয়েডের মাত্রা ধীরে ধীরে কমাতে সহায়তা করতে পারলেও, মন্টিলুকাস্টকে হঠাৎ করে ইনহেলড বা মৌখিক কর্টিকোস্টেরয়েডের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। কর্টিকোস্টেরয়েড হঠাৎ বন্ধ করলে হাঁপানি গুরুতরভাবে বেড়ে যেতে পারে। কর্টিকোস্টেরয়েডের মাত্রা কমানো অবশ্যই তত্ত্বাবধানে ও ধাপে ধাপে করতে হবে, এবং হাঁপানি নিয়ন্ত্রণের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

স্নায়ু-মানসিক প্রতিক্রিয়া — রোগীকে পরামর্শ দেওয়া অত্যাবশ্যক

গুরুতর স্নায়ু-মানসিক প্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত FDA-এর ২০২০ সালের ব্ল্যাক বক্স সতর্কতা বিবেচনায় (পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অংশ দেখুন), মন্টিলুকাস্ট শুরু করার আগে সকল রোগী ও তাদের পরিচর্যাকারীদের বিস্তারিত পরামর্শ দিতে হবে:

  • সম্ভাব্য স্নায়ু-মানসিক প্রভাবের পরিসর ব্যাখ্যা করুন — আচরণগত পরিবর্তন ও ঘুমের ব্যাঘাত থেকে শুরু করে আত্মহত্যার চিন্তা পর্যন্ত
  • মেজাজে পরিবর্তন, আচরণগত ব্যাঘাত, বা বিষণ্নতার লক্ষণ দেখা দিলে রোগী ও পরিচর্যাকারীদের অবিলম্বে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিন
  • যাদের ব্যক্তিগত বা পারিবারিক মানসিক রোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে উপকারিতা ও ঝুঁকির অনুপাত সতর্কতার সাথে বিবেচনা করুন
  • স্নায়ু-মানসিক প্রভাব দেখা দিলে মন্টিলুকাস্ট বন্ধ করে দিতে হবে — সাধারণত ওষুধ বন্ধ করলে এই প্রভাবগুলো সেরে যায়
  • যেসব রোগীর হাঁপানি অন্য ওষুধ দিয়ে যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে না শুধুমাত্র তাদের ক্ষেত্রেই ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা এই অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকির সংস্পর্শ কমাতে সহায়তা করে

শুধুমাত্র ব্যায়াম-প্ররোচিত ব্রঙ্কোকনস্ট্রিকশনের জন্য নয়

ব্যায়াম-প্ররোচিত ব্রঙ্কোকনস্ট্রিকশনের একমাত্র বা প্রধান চিকিৎসা হিসেবে মন্টিলুকাস্ট ব্যবহার করা উচিত নয়। যেসব রোগীর মূল হাঁপানি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সামগ্রিক হাঁপানি ব্যবস্থাপনা (প্রয়োজনে ইনহেলড কর্টিকোস্টেরয়েড সহ) প্রধান চিকিৎসা কৌশল। EIB প্রতিরোধ মন্টিলুকাস্ট চিকিৎসার একটি সহায়ক উপকারিতা, একক ব্যবহারের জন্য এর কোনো নির্দেশনা নয়।

অ্যাসপিরিন-সংবেদনশীল হাঁপানি

যাদের অ্যাসপিরিনের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং NSAID-প্ররোচিত ব্রঙ্কোস্পাজমের ইতিহাস রয়েছে, তাদের মন্টিলুকাস্ট সেবনকালেও অ্যাসপিরিন ও সমস্ত নন-সিলেক্টিভ NSAID কঠোরভাবে এড়িয়ে চলতে হবে। যদিও মন্টিলুকাস্ট অ্যাসপিরিন-সংবেদনশীল হাঁপানি রোগীদের শ্বাসনালীর কার্যক্ষমতা কার্যকরভাবে উন্নত করে (অ্যাসপিরিন-প্ররোচিত প্রতিক্রিয়ার লিউকোট্রিন উপাদানকে বাধা দিয়ে), তবে এটি অ্যাসপিরিন বা NSAID-এর প্রতি ব্রঙ্কোকনস্ট্রিক্টর প্রতিক্রিয়াকে সম্পূর্ণভাবে বাধা দেয় না — এই রোগীদের ক্ষেত্রে অ্যাসপিরিন-প্ররোচিত ব্রঙ্কোকনস্ট্রিকশনকে এটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে পারে বলে প্রমাণিত হয়নি। মন্টিলুকাস্ট সেবনকারী অ্যাসপিরিন-সংবেদনশীল রোগীদের ক্ষেত্রে ভুলবশত অ্যাসপিরিন বা NSAID সেবন এখনও বিপজ্জনক।

ইওসিনোফিলিয়া ও চার্গ-স্ট্রস সিন্ড্রোম (EGPA)

মন্টিলুকাস্ট গ্রহণকারী রোগীদের মধ্যে ইওসিনোফিলিক গ্র্যানুলোমাটোসিস উইথ পলিঅ্যাঞ্জাইটিসের (EGPA, পূর্বে চার্গ-স্ট্রস সিন্ড্রোম নামে পরিচিত) বিরল কিছু ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে — সাধারণত সিস্টেমিক কর্টিকোস্টেরয়েড চিকিৎসা কমানোর সময়। মন্টিলুকাস্টের সাথে এর কার্যকারণ সম্পর্ক নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি (এটি বেশি সম্ভবত যে কর্টিকোস্টেরয়েড বন্ধ করার সময় আগে থেকেই থাকা ভাস্কুলাইটিস প্রকাশ পাচ্ছে), তবে চিকিৎসকদের রোগীদের ইওসিনোফিলিয়া, ভাস্কুলাইটিক র‍্যাশ, হৃদযন্ত্রের জটিলতা, পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি, এবং ফুসফুসের লক্ষণ খারাপ হওয়ার জন্য পর্যবেক্ষণ করা উচিত। EGPA সন্দেহ হলে, মন্টিলুকাস্ট বন্ধ করে দ্রুত বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন নেওয়া উচিত।

গাড়ি চালানো ও যন্ত্রপাতি পরিচালনা

মন্টিলুকাস্টের সাথে ঝিমুনি ও মাথা ঘোরার ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে। গাড়ি চালানো বা ভারী যন্ত্রপাতি পরিচালনার আগে রোগীদের নিজের প্রতিক্রিয়া যাচাই করা উচিত। তবে ক্লিনিক্যাল গবেষণায়, থেরাপিউটিক মাত্রায় সাইকোমোটর কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হয়নি।

মাত্রাধিক্যতা

মন্টিলুকাস্ট সোডিয়ামের থেরাপিউটিক ইনডেক্স যথেষ্ট প্রশস্ত এবং অতিরিক্ত মাত্রা সেবনের ফলে গুরুতর বিষক্রিয়া হওয়া অস্বাভাবিক। রিপোর্ট করা অতিরিক্ত মাত্রা সেবনের ঘটনা থেকে নিম্নলিখিত তথ্য জানা যায়:

  • অধিকাংশ অতিরিক্ত মাত্রা সেবনের রিপোর্টে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়নি
  • যেসব ক্ষেত্রে লক্ষণ দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি দেখা যাওয়া পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো মন্টিলুকাস্টের প্রতিষ্ঠিত নিরাপত্তা প্রোফাইলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল, যার মধ্যে রয়েছে:
    • পেট ব্যথা
    • ঝিমুনি (Somnolence)
    • তৃষ্ণা
    • মাথাব্যথা
    • বমি
    • সাইকোমোটর অতিসক্রিয়তা (অস্থিরতা, উত্তেজনা, হাইপারকাইনেসিয়া)
  • এই লক্ষণগুলো সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা ছাড়াই আপনা-আপনি সেরে গেছে।

অতিরিক্ত মাত্রা সেবনের ব্যবস্থাপনা

  • মন্টিলুকাস্টের অতিরিক্ত মাত্রা সেবনের জন্য কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক (antidote) নেই
  • ব্যবস্থাপনা লক্ষণভিত্তিক ও সহায়ক (supportive):
    • প্রয়োজন হলে পরিপাকতন্ত্র থেকে অশোষিত ওষুধ অপসারণ করা (সেবনের ১ ঘণ্টার মধ্যে উপস্থিত হলে এবং রোগী সজ্ঞান থাকলে ও শ্বাসনালী নিরাপদ থাকলে অ্যাক্টিভেটেড চারকোল দেওয়া যেতে পারে)
    • ক্লিনিক্যাল পর্যবেক্ষণ করা — ভাইটাল সাইন, সচেতনতার মাত্রা, স্নায়বিক অবস্থা
    • নির্দিষ্ট লক্ষণ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়ক চিকিৎসা
  • পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস বা হিমোডায়ালাইসিসের মাধ্যমে মন্টিলুকাস্ট শরীর থেকে অপসারণ করা যায় কি না তা জানা নেই, তবে এর উচ্চ প্রোটিন বন্ধন (৯৯%) থেকে ধারণা করা যায় যে এই দুই পদ্ধতির কোনোটিতেই এটি উল্লেখযোগ্যভাবে অপসারিত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

মন্টিলুকাস্টের অতিরিক্ত মাত্রা সেবনের সন্দেহ হলে, অবিলম্বে বিষক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন বা জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিন

সংরক্ষণ

  • মন্টিলুকাস্ট সোডিয়ামের সব ফর্মুলেশন ৩০° সেলসিয়াসের নিচে, ঠান্ডা, শুষ্ক এবং সরাসরি আলো ও আর্দ্রতা থেকে সুরক্ষিত স্থানে সংরক্ষণ করুন।
  • সব ফর্মুলেশন শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
  • প্যাকেজিং বা লেবেলে মুদ্রিত মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখের পর কোনো ফর্মুলেশন ব্যবহার করবেন না।
  • ফিল্ম-কোটেড ট্যাবলেট ও চিবিয়ে খাওয়ার ট্যাবলেট: আর্দ্রতা ও আলো থেকে সুরক্ষার জন্য মূল ব্লিস্টার প্যাকেজিংয়ে সংরক্ষণ করুন। সেবনের ঠিক আগে না হওয়া পর্যন্ত ব্লিস্টার থেকে ট্যাবলেট বের করবেন না।
  • ওরালি ডিজইন্টিগ্রেটিং (ODT/ফ্ল্যাশ) ট্যাবলেট: এগুলো আর্দ্রতা-সংবেদনশীল। ফয়েল সাবধানে খুলুন — ফয়েল ভেদ করে ট্যাবলেট বের করবেন না। মূল ব্লিস্টার প্যাকে আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন।
  • ওরাল গ্র্যানিউলস (স্যাশে): মূল সিলবদ্ধ স্যাশেতে ৩০° সেলসিয়াসের নিচে সংরক্ষণ করুন। সেবনের ঠিক আগে ছাড়া স্যাশে খুলবেন না — খোলা স্যাশে সংরক্ষণ করবেন না। খোলার পর সাথে সাথে সেবন করান (খাবারের সাথে মেশানো হলে ১৫ মিনিটের মধ্যে)।
  • বাথরুমের মেডিসিন ক্যাবিনেটে মন্টিলুকাস্ট সংরক্ষণ করবেন না, কারণ সেখানে সাধারণত আর্দ্রতা বেশি থাকে।
  • মন্টিলুকাস্টের কোনো ফর্মুলেশন হিমায়িত (ফ্রিজ) করবেন না।
  • সব ফর্মুলেশন তাপের উৎস থেকে দূরে এবং সরাসরি সূর্যালোকের বাইরে সংরক্ষণ করুন।

শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার

শিশু রোগী

৬ মাস থেকে ১৪ বছর বয়সী হাঁপানি রোগী শিশুদের ওপর পরিচালিত পর্যাপ্ত ও যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রিত ক্লিনিক্যাল গবেষণার মাধ্যমে মন্টিলুকাস্টের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই বয়সসীমার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার প্রোফাইল প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে দেখা প্রোফাইলের সাথে তুলনীয়। শিশুদের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো:

  • ৬ মাস থেকে ৫ বছর: এই বয়সসীমার জন্য ওরাল গ্র্যানিউলস (৪ মি.গ্রা. স্যাশে) প্রস্তাবিত ফর্মুলেশন। গ্র্যানিউলস সেবনের ক্ষেত্রে সহজ ব্যবস্থা রয়েছে (সরাসরি মুখে দেওয়া, বা অল্প পরিমাণ ঠান্ডা পানি বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার নরম খাবারের সাথে মিশিয়ে দেওয়া)।
  • ২ থেকে ৫ বছর: যেসব শিশু নিরাপদে চিবিয়ে খেতে পারে, তাদের জন্য ৪ মি.গ্রা. চিবিয়ে খাওয়ার ট্যাবলেটও উপযুক্ত।
  • ৬ থেকে ১৪ বছর: ৫ মি.গ্রা. চিবিয়ে খাওয়ার, দ্রবণীয়, বা স্ট্যান্ডার্ড ট্যাবলেট প্রস্তাবিত। যেসব শিশুর গিলতে সমস্যা হয়, তাদের জন্য ওরালি ডিজইন্টিগ্রেটিং ট্যাবলেট (ODT/ফ্ল্যাশ ট্যাবলেট) বিশেষভাবে সুবিধাজনক।
  • শিশু রোগীদের ক্ষেত্রেও স্নায়ু-মানসিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অংশ দেখুন) রিপোর্ট করা হয়েছে। আচরণ ও মেজাজের সতর্ক পর্যবেক্ষণ — বিশেষত যেসব শিশুর আগে থেকেই মানসিক সমস্যা রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে — গুরুত্বপূর্ণ। কোনো আচরণগত পরিবর্তন হলে তা দ্রুত জানানোর জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া উচিত।
  • ১ বছর মেয়াদের নিয়ন্ত্রিত শিশু ক্লিনিক্যাল গবেষণায় বৃদ্ধি বা বয়ঃসন্ধিতে কোনো ক্ষতিকর প্রভাবের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে এই নির্দিষ্ট বিষয়ে ১ বছরের বেশি দীর্ঘমেয়াদী তথ্য এখনও নেই।

বয়স্ক রোগী

মন্টিলুকাস্ট ১০ মি.গ্রা.-এর ফার্মাকোকাইনেটিক প্রোফাইল ও মৌখিক জৈব-উপলভ্যতা বয়স্ক ও তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের মধ্যে একই রকম। বয়স্কদের ক্ষেত্রে প্লাজমা অর্ধায়ু সামান্য বেশি (তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের ৩–৫ ঘণ্টার তুলনায় প্রায় ৬ ঘণ্টা), তবে এই সামান্য পার্থক্যের কোনো ক্লিনিক্যালি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব নেই। বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই।

বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রেও তরুণ রোগীদের মতোই একই মাত্রার সতর্কতার সাথে স্নায়ু-মানসিক প্রভাবের জন্য পর্যবেক্ষণ করা উচিত, কারণ এই জনগোষ্ঠী সাধারণভাবে ওষুধের কারণে সৃষ্ট CNS (কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র) সংক্রান্ত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার প্রতি বেশি সংবেদনশীল হতে পারে।

লিভারের কার্যক্ষমতা কম রোগী

যেহেতু মন্টিলুকাস্ট লিভারে ব্যাপকভাবে বিপাকিত হয়, লিভারের কার্যক্ষমতা ওষুধের সংস্পর্শকে প্রভাবিত করতে পারে। ক্লিনিক্যাল ফার্মাকোকাইনেটিক গবেষণায় দেখা গেছে:

  • মৃদু থেকে মাঝারি লিভার সমস্যা: মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই — মন্টিলুকাস্টের AUC বৃদ্ধি ক্লিনিক্যালি উল্লেখযোগ্য বলে বিবেচিত হয়নি।
  • গুরুতর লিভার সমস্যা: এই রোগীদের ওপর আনুষ্ঠানিক গবেষণা হয়নি। গুরুতর লিভার সমস্যায় সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে; ক্লিনিক্যাল পর্যবেক্ষণ করা বাঞ্ছনীয়। ক্লিনিক্যাল প্রতিক্রিয়া ও সহনীয়তার ওপর ভিত্তি করে মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে।

কিডনির কার্যক্ষমতা কম রোগী

যেহেতু মন্টিলুকাস্ট ও এর বিপাকীয় উপজাত প্রায় সম্পূর্ণভাবে বাইল/মলের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয় (প্রস্রাবে ০.২%-এরও কম), তাই যেকোনো মাত্রার কিডনি সমস্যায় থাকা রোগীর ক্ষেত্রে, গুরুতর কিডনি বৈকল্য বা ডায়ালাইসিসে থাকা রোগী সহ, মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই। কিডনির কার্যক্ষমতা মন্টিলুকাস্টের ফার্মাকোকাইনেটিক্সকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করে না।

Disclaimer

The information provided is accurate to our best practices, but it does not replace professional medical advice. We cannot guarantee its completeness or accuracy. The absence of specific information about a drug should not be seen as an endorsement. We are not responsible for any consequences resulting from this information, so consult a healthcare professional for any concerns or questions.

Doctor
Cart
Account