মাত্রা ও সেবনবিধি
হাইপারভোলেমিক অথবা ইউভোলেমিক হাইপোনাট্রেমিয়া: সাধারণত টলভ্যাপটান এর প্রারম্ভিক ডোজ হচ্ছে দৈনিক ১৫ মি.গ্রা. খাবার আগে বা পরে যেকোন সময় খাওয়া যায়। কাঙ্খিত সোডিয়াম লেভেল অর্জন করার জন্য ২৪ ঘন্টা পর ঔষধের মাত্রা বাড়ানো হয় ৩০ মি.গ্রা. এবং দৈনিক সর্বোচ্চ ৬০ মি.গ্রা. পর্যন্ত বাড়ানো হয়।অটোসোমাল ডমিনেন্ট পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিস:
মুখে প্রাথমিক ভাবে ৬০ মি.গ্রা. প্রতি দিন দুই ভাগ করে (৪৫ মি.গ্রা. জাগ্রত হওয়ার পরে এবং ১৫ মি.গ্রা. ৮ ঘন্টা পরে দেওয়া হয়);
কমপক্ষে ৭ দিনের ব্যবধানে মাত্রাগুলি টাইট্রেট করা হয় ৯০ মি.গ্রা. প্রতিদিন দুই ভাগ করে (৬০ মি.গ্রা. জাগ্রত হওয়ার পরে এবং ৩০ মি.গ্রা. ৮ ঘন্টা পরে দেওয়া হয়) একইভাবে ১২০ মি.গ্রা. প্রতিদিন দুই ভাগ করে (৯০ মি.গ্রা. জাগ্রত হওয়ার পরে এবং ৩০ মি.গ্রা. ৮ ঘন্টা পরে দেওয়া হয়)।
সম্ভব হলে প্রস্রাবের অসমোলালিটি<৩০০ এমওএসএম/কেজি বজায় রাখতে হবে। যদি সর্বোচ্চ মাত্রা সহ্য না করতে পারে তাহলে মাত্রা কমিয়ে দিতে হবে যাতে প্রস্রাবের অসমোলালিটি ২৫০ থেকে ৩০০ এমওএসএম/কেজি অর্জন হয়।
মাত্রাধিক্যতা
সুস্থ ব্যক্তির উপর প্রয়োগ করে গবেষণায় দেখা গেছে, একক মাত্রা ৪৮০ মি. গ্রা. পর্যন্ত ও একাধিক মাত্রায় সেবন করলে সর্বোচ্চ দৈনিক ৩০০ মি. গ্রা. ৫ দিন যাবৎ দেওয়া যায়। টলভ্যাপটানের বিষক্রিয়ায় কোন নির্দিষ্ট বিষনাশক নেই। দীর্ঘ অতিসেবনের ফলে যে সকল লক্ষণ দেখলে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজনীয়: সিরামে সোডিয়ামের পরিমাণ বৃদ্ধি, পলিইউরিয়া, তৃষ্ণা এবং পানি শূন্যতা/ হাইপোভলিমিয়া। যে সকল রোগী অতিমাত্রায় টলভ্যাপটান সেবন করেছে বলে ধারণা হয়, তাদের ইলেকট্রোলাইটের পরিমাণ, ইসিজি, দেহে তরলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। পানি বা ইলেকট্রোলাইটের সঠিক পরিপূরক প্রদান করতে হবে। টলভ্যাপটান অপসারণে ডায়ালাইসিস কার্যকরী নাও হতে পারে কারণ মানব দেহে প্লাজমা প্রোটিনের সঙ্গে এর ঊচ্চ বন্ধন প্রবণতা (>৯৮%) রয়েছে।
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া
যে সকল ঔষধগুলি টলভ্যাপটান এর উম্মক্তকে প্রভাবিত করে।
সিওয়াইপি-৩ এর বাধাদায়ক: টলভ্যাপটান সিওয়াইপি ৩ এর একটি স্তর। সিওয়াইপি ৩ এর ইনহিবিটারগুলি টলভ্যাপটান এর পরিমান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে। সিওয়াইপি ৩ এর শক্তিশালী ইনহিবিটারগুলির সাথে টলভ্যাপটান ব্যবহার করবেন না এবং মাঝারি সিওয়াইপি ৩ এর ইনহিবিটারগুলির একই সঙ্গে ব্যবহার এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন।
সিওয়াইপি ৩ এর প্ররোচক: সিওয়াইপি ৩ এর প্ররোচক (যেমন, রিফাম্পিন, রিফাবিউটিন, রিফাপেনটিন, বারবিচুরেট, ফেনাইটোইন, কার্বামাজেপিন) টলভ্যাপটান এর একসাথে সেবন এড়িয়ে চলুন, কারণ এটি টলভ্যাপটানের প্লাজমা পরিমানকে কমিয়ে দেয় এবং টলভ্যাপটানের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। যদি সিওয়াইপি ৩ এর প্ররোচকের সাথে এক সাথে সেবন করা হয় তবে টলভ্যাপটানের মাত্রা বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।
পি-জিপি ইনহিবিটার (বাধাদায়ক): টলভ্যাপটানের মাত্রা কমানো যেতে পারে যখন পি-জিপি ইনহিবিটারগুলি যেমন, সাইক্লোস্পোরিন একসাথে সেবন করা হয়।
নির্দেশনা
টলভ্যাপটান নিম্নোক্ত উপসর্গে নির্দেশিত-
হাইপারভোলেমিক অথবা ইউভোলেমিক হাইপোনাট্রেমিয়া
অটোসোমাল ডমিনেন্ট পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিস
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
টলভ্যাপটান এর সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হল: তৃষ্ণা, শুকনা মুখ, দূর্বলতা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ঘন ঘন ও অতিরিক্ত প্রস্রাব হওয়া এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি।
সতর্কতা
সিরামে সোডিয়ামের খুব দ্রূত সংশোধন কারণে গুরুতর নিউরোলজিক সিকোলেই হতে পারে।
প্রতিনির্দেশনা
টলভ্যাপটান অথবা এর যে কোন উপাদানের প্রতি অতি সংবেদনশীলতা, অ্যানুউরিয়া, ভলিউম ডিপলেশন, হাইপোভোলমিক হাইপোনেট্রেমিয়া, হাইপারনেট্রেমিয়া, যে রোগীরা তৃষ্ণা বুঝতে পারেনা, গর্ভাবস্থা, স্তন্যদান।
থেরাপিউটিক ক্লাস
Selective vasopressin V2-receptor antagonist
ফার্মাকোলজি
টলভ্যাপটান একটি সিলেক্টিভ ভ্যাসোপ্রেসিন ভি২-রিসেপ্টর অ্যান্টাগনিস্ট। ভি২ রিসেপ্টরের সাথে টলভ্যাপটানের সখ্যতা ভি১ এ-রিসেপ্টারের চেয়ে ২৯ গুণ বেশি। টলভ্যাপটান ১৫ থেকে ৬০ মি.গ্রা. মুখে খেলে ভ্যাসোপ্রেসিনের এর কার্যক্ষমতা বাধাগ্রস্থ করে প্রস্রাবের নিঃসরণ বাড়ায় যা ফ্রি ওয়াটার ক্লিয়ারেন্স (অ্যাকোয়ারেসিস) বৃদ্ধি করে, প্রস্রাবের অসমোলালিটি কমায় এবং যার ফলসরূপ সিরামে সোডিয়ামের এর ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। ইউরিনের মাধ্যমে সোডিয়াম ও পটাসিয়ামের নিঃসরণ এবং প্লাজমাতে পটাসিয়াম এর ঘনত্ব উল্লেখযোগ্য ভাবে পরিবর্তিত হয়না।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
গর্ভাবস্থায় টলভ্যাপটান ব্যবহার সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়না। প্রাণীজ গবেষণায় প্রজননতন্ত্রে এর ক্ষতিকর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। গর্ভবতী মহিলাদের টলভ্যাপটান ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত। টলভ্যাপটান ব্যবহারকালীন, গর্ভধারণের সম্ভাবনা বিদ্যমান এমন নারীদের কার্যকরী গর্ভনিরোধ পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত। মাতৃদুগ্ধে টলভ্যাপটান নিঃসৃত হয় কিনা, এ সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়না।
সংরক্ষণ
আলো থেকে দূরে, ২৫°সেঃ তাপমাত্রার নিচে শুষ্ক স্থানে রাখুন। সকল ঔষধ শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।