নির্দেশনা
এই ট্যাবলেট নিম্নোক্ত উপসর্গে নির্দেশিত-
মাঝারী এবং মাঝারী থেকে তীব্র ব্যথায় প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে।
তীব্র ব্যথার স্বল্প মেয়াদী (৫ দিন অথবা এর কম) চিকিৎসার ক্ষেত্রে।
থেরাপিউটিক ক্লাস
Non-steroidal Anti-inflammatory Drugs (NSAIDs)
ফার্মাকোলজি
প্যারাসিটামলের ব্যথানাশক এবং জ্বর উপশমক গুণাবলীর সাথে কিছুটা প্রদাহবিরোধী কার্যকারিতাও রয়েছে। প্যারাসিটামল (অ্যাসিটামিনোফেন) প্রাথমিকভাবে সিএনএসে কাজ করে বলে মনে করা হয়, ইহা প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন এর সিনথেসিস কে ইনহিবিট করার মাধ্যমে COX-1, COX-2, and COX-3 এনজাইম এর সিনথেসিস কে ইনহিবিট করে। প্যারাসিটামল একটি প্যারা এমিনোফেনল ডেরিভেটিভ, যার ব্যথানাশক এবং জ্বর উপশমক গুণাবলীর সাথে কিছুটা প্রদাহ বিরোধী কার্যকারিতা রয়েছে। প্যারাসিটামল সর্বাপেক্ষা বেশি ব্যবহৃত এবং সর্বাপেক্ষা নিরাপদ ও দ্রূত কার্যকরী ব্যথানাশকদের একটি। এটি অধিক সহনশীল ও এসপিরিনজনিত অনেক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ামুক্ত।ট্রামাডল একটি সেন্ট্রালি কার্যকরী অপিয়ড অ্যানালজেসিক। ইহার কার্যপদ্ধতি সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত নয়। প্রাণীদের উপর পরীক্ষায় দুই ধরনের কার্যপদ্ধতি পাওয়া যায়। প্যারেন্ট এবং M1 মেটাবােলাইটের μ-অপিয়ড রিসেপ্টরের সাথে বন্ধন এবং নরএপিনেফ্রিন ও সেরেটোনিন পুনঃগ্রহন এর প্রতি দুর্বল প্রতিরােধক ক্ষমতা। প্যারেন্ট যৌগটির দূর্বল বন্ধন শক্তি এবং অর্থো-ডিমিথাইলেটেড মেটাবােলাইট M1 এর μ-অপিয়ড রিসেপ্টরের প্রতি শক্তিশালী বন্ধন উভয় কারনেই অপিয়ড এর কার্যকারিতা পাওয়া যায়। অন্যান্য অপিয়ড অ্যানালজেসিক এর মত ট্রামাডল ইনভিট্রো পরীক্ষায় নর-এপিনেফ্রিন এবং সেরেটোনিন এর পুনঃগ্রহণ করার ক্ষমতাকে প্রতিরোধ করে। এই কার্যপদ্ধতি ট্রামাডল এর সার্বিক কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মাঝারী অথবা মাঝারী থেকে তীব্র ব্যথায়: ১-২টি ট্যাবলেট প্রতি ৪ অথবা ৬ ঘন্টা পর পর এবং দিনে সর্বোচ্চ ৮টি ট্যাবলেট সেবন করা যায়। তীব্র ব্যথার স্বল্প মেয়াদী (৫ দিন অথবা এর কম) চিকিৎসায়: ২টি ট্যাবলেট প্রতি ৪ অথবা ৬ ঘন্টা পরপর (দিনে সর্বোচ্চ ৮ টি ট্যাবলেট) সেবন করা যায়।ইহা খাবারের আগে বা পরে যেকোন সময় সেবন করা যেতে পারে।
প্রতিনির্দেশনা
ট্রামাডল, প্যারাসিটামল অথবা এই ওষুধের অন্য যে কোন উপাদান বা অপিয়ড -এর প্রতি সংবেদনশীল রােগীকে এ ওষুধটি দেয়া উচিত নয়। যে সকল ক্ষেত্রে অপিয়ড প্রতিনির্দেশিত, সেসব ক্ষেত্রে এই ওযুধটিও প্রতিনির্দেশিত।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
এই ওষুধ সেবনে নিম্নলিখিত পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে: এসথেনিয়া, অবসন্নতা, হটফ্লাস, ঝিমুনি, মাথাব্যথা, কাপুনি, পেটব্যাথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া, পেট ফাঁপা, মুখগহ্বরের শুষ্কতা, বমি, এনােরেক্সিয়া, উৎকন্ঠা, দ্বিধা, ইউফোরিয়া, নির্ঘুমতা, বিচলতা, সােমনােলেন্স, প্রুরাইটাস, র্যাশ, অতিরিক্ত ঘাম ইত্যাদি।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
প্রেগনেন্সি ক্যাটাগরি-সি। গর্ভবতী মহিলাদের উপর এখনাে কোন পর্যাপ্ত এবং সুনিয়ন্ত্রিত তথ্য পাওয়া যায়নি। কেবল ভ্রনের ক্ষতির ঝুকির তুলনায় চিকিৎসায় মায়ের উপকারের পরিমান অতিমাত্রায় বিবেচিত হলে, কেবলমাত্র সে ক্ষেত্রেই গর্ভাবস্থায় এ ওষুধটি ব্যবহার করা যেতে পারে। যেহেতু নবজাতক এবং ইনফেন্টদের উপর এ ওষুধটির নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত নয়, তাই অবসটেট্রিক্যাল প্রি-অপারেটিভ মেডিকেশন এবং ডেলিভারী পরবর্তী এনালজেসিক হিসেবে মার্সিং মায়েদের ক্ষেত্রে এ ওষুধটি নির্দেশিত নয়।
সতর্কতা
এটি গাড়ী চালানাে অথবা মেশিন পরিচালনার মত জটিল কাজ করতে যে পরিমান মানসিক শারীরিক দক্ষতার প্রয়ােজন হয় তার ব্যঘাত ঘটাতে পারে।
এই ওষুধটি অ্যালকোহলযুক্ত কোমল পানীয়র সাথে সেবন করা উচিত নয়।
অন্যান্য ট্রামাডল অথবা প্যারাসিটামল যুক্ত ওষুধের সাথে এবং OTC ওষুধের সাথে একত্রে এই ওষুধটি সেবন করা উচিত নয়।
ট্রানকুলাইজার, হিপনােটিকস অথবা অন্যান্য অপিয়ড এনালজেসিক এর সাথে সেবন করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
সংরক্ষণ
আলাে ও আর্দ্রতা থেকে দূরে, ঠাণ্ডা ও শুষ্ক স্থানে রাখুন। হিমায়িত করবেন না। সকল ওষুধ শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।