
Flagyl400 mg
Synovia Pharma PLC

Amobin একটি নাইট্রোইমিডাজল গ্রুপের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ, যা অ্যানেরোবিক ব্যাকটেরিয়া ও কিছু প্রোটোজোয়া সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। প্রমাণের শক্তি অনুযায়ী নির্দেশনাগুলো নিম্নরূপ ভাগ করা যায়:
Amobin নাইট্রোইমিডাজল (Nitroimidazole) শ্রেণীর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল, যার অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল (অ্যানেরোবিক) এবং অ্যান্টিপ্রোটোজোয়াল উভয় কার্যকারিতা রয়েছে।
Metronidazole একটি প্রোড্রাগ, যা অ্যানেরোবিক ব্যাকটেরিয়া ও প্রোটোজোয়ার কোষে প্রবেশ করে সেখানে থাকা ইলেকট্রন-ট্রান্সপোর্ট প্রোটিনের মাধ্যমে বিজারিত হয়ে বিষাক্ত মধ্যবর্তী উপাদান ও ফ্রি র্যাডিক্যাল তৈরি করে। এগুলো মাইক্রোবিয়াল ডিএনএ-এর সাথে যুক্ত হয়ে ডিএনএ ভেঙে দেয় এবং নিউক্লিয়িক অ্যাসিড সংশ্লেষণ বাধাগ্রস্ত করে, ফলে জীবাণুর মৃত্যু ঘটে। এই প্রক্রিয়ার জন্য কম-রেডক্স পরিবেশ প্রয়োজন হওয়ায় Metronidazole শুধুমাত্র অ্যানেরোবিক ব্যাকটেরিয়া ও নির্দিষ্ট প্রোটোজোয়ার (যেমন Entamoeba histolytica, Giardia duodenalis, Trichomonas vaginalis) বিরুদ্ধে কার্যকর, এরোবিক জীবাণুর বিরুদ্ধে Metronidazole-এর কার্যকারিতা সীমিত।
ফার্মাকোকাইনেটিক্স: মুখে সেবনের পর Metronidazole ভালোভাবে শোষিত হয় (৯০ শতাংশের বেশি বায়োঅ্যাভেইলেবিলিটি), শরীরের প্রায় সব টিস্যু ও তরলে (সিএসএফ, হাড়, অ্যাবসেস সহ) ছড়িয়ে পড়ে, যকৃতে বিপাকিত হয় এবং প্রধানত কিডনির মাধ্যমে নিঃসৃত হয়। Metronidazole-এর অর্ধায়ু প্রায় ৬-৮ ঘণ্টা।
Amobin-এর মাত্রা রোগের ধরন, বয়স, ওজন এবং কিডনি/যকৃতের কার্যক্ষমতার উপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী সম্পূর্ণ মাত্রায় Amobin সেবন করুন; চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মাত্রা বন্ধ, বৃদ্ধি, বাদ বা অন্য কাউকে এই ওষুধ দেবেন না।
| রোগ | সাধারণ মাত্রা | মেয়াদ |
|---|---|---|
| অ্যানেরোবিক ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ | প্রতি ৬-৮ ঘণ্টায় ৭.৫ মি.গ্রা./কেজি (সাধারণত ৫০০ মি.গ্রা.), সর্বোচ্চ ৪ গ্রাম/২৪ ঘণ্টা | ৭-১০ দিন |
| ট্রাইকোমোনিয়াসিস | একবারে ২ গ্রাম, অথবা ২৫০ মি.গ্রা. দিনে তিনবার | একক মাত্রা বা ৭ দিন |
| অন্ত্রের অ্যামিবিয়াসিস | ৫০০-৭৫০ মি.গ্রা. দিনে তিনবার | ৫-১০ দিন |
| ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিস | ৫০০ মি.গ্রা. দিনে দুইবার | ৭ দিন |
| জিয়ার্ডিয়াসিস | ২৫০ মি.গ্রা. দিনে তিনবার | ৫-৭ দিন |
| H. pylori নির্মূল (কম্বিনেশন) | ৪০০-৫০০ মি.গ্রা. দিনে দুই-তিনবার, অন্যান্য ওষুধের সাথে | ১০-১৪ দিন |
শিশুদের ক্ষেত্রে Amobin-এর মাত্রা ওজন ও রোগ অনুযায়ী নির্ধারিত হয় (যেমন অ্যামিবিয়াসিসে প্রায় ৩৫-৫০ মি.গ্রা./কেজি/দিন তিন ভাগে)। বিস্তারিত জানতে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার অংশ দেখুন।
মৃদু-মাঝারি কিডনি সমস্যায় সাধারণত Amobin-এর মাত্রা পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না; গুরুতর কিডনি সমস্যা বা ডায়ালাইসিসে মাত্রা কমাতে হতে পারে। গুরুতর যকৃত সমস্যায় সতর্কতার সাথে কম মাত্রায় Amobin ব্যবহার করা উচিত।
Amobin-এর সাথে উল্লেখযোগ্য কিছু ওষুধের মিথষ্ক্রিয়া রয়েছে:
Metronidazole নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ব্যবহার করা উচিত নয়:
Amobin সেবনে সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া:
কম সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া:
গর্ভাবস্থা: Amobin প্লাসেন্টা অতিক্রম করে। এটি পুরনো FDA শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী Category B-এর অন্তর্ভুক্ত। গর্ভাবস্থায় শুধুমাত্র স্পষ্ট প্রয়োজনে এবং সম্ভাব্য উপকারিতা ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে Amobin ব্যবহার করা উচিত, বিশেষত প্রথম ত্রৈমাসিকে ট্রাইকোমোনিয়াসিসের চিকিৎসায় Amobin এড়িয়ে চলা উচিত (দেখুন প্রতিনির্দেশনা)।
স্তন্যদান: Amobin বুকের দুধে নিঃসৃত হয়। প্রাণী গবেষণায় ক্যান্সার-সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে হয় সাময়িকভাবে স্তন্যদান বন্ধ রাখা অথবা Amobin এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী সম্পূর্ণ মাত্রায় Amobin সেবন করুন; নিজে থেকে মাত্রা বন্ধ, পরিবর্তন বা অন্য কাউকে এই ওষুধ দেবেন না।
Amobin অতিরিক্ত মাত্রায় সেবনে বমি বমি ভাব, বমি এবং ভারসাম্যহীনতা (অ্যাটাক্সিয়া) হতে পারে; অতি উচ্চ মাত্রায় বিরল ক্ষেত্রে পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি ও খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। Amobin-এর কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক (অ্যান্টিডোট) নেই। Amobin অতিরিক্ত মাত্রায় সেবনের সন্দেহ হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন বা জরুরি সেবা/বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
৩০°C-এর নিচে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
শিশু: Amobin অ্যামিবিয়াসিস, জিয়ার্ডিয়াসিস এবং অ্যানেরোবিক সংক্রমণে শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, মাত্রা শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ওজন অনুযায়ী নির্ধারণ করবেন। অ্যামিবিয়াসিসে সাধারণত ৩৫-৫০ মি.গ্রা./কেজি/দিন তিন ভাগে ১০ দিন Amobin দেওয়া হয়। যেসব ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট গবেষণা নেই, সেখানে Amobin-এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত নয়।
বয়স্ক: সাধারণত আলাদা মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন হয় না, তবে স্নায়বিক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে বলে সতর্কতার সাথে Amobin ব্যবহার করা উচিত।
Q: Amobin 400 mg Tablet কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
A: Amobin 400 mg Tablet অ্যানেরোবিক ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, অ্যামিবিয়াসিস, জিয়ার্ডিয়াসিস, ট্রাইকোমোনিয়াসিসের মতো প্রোটোজোয়া সংক্রমণ, ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিস এবং H. pylori নির্মূল ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী সংক্রমণ প্রতিরোধে কম্বিনেশন থেরাপির অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
Q: Amobin 400 mg Tablet খাওয়ার সময় কি অ্যালকোহল পান করা যাবে?
A: না। Amobin 400 mg Tablet সেবনকালে এবং শেষ মাত্রার পর অন্তত ২৪-৭২ ঘণ্টা অ্যালকোহল এড়িয়ে চলতে হবে, কারণ এতে মুখ লাল হওয়া, বমি বমি ভাব, বমি, মাথাব্যথা ও হৃদস্পন্দন বৃদ্ধির মতো ডাইসালফিরামের মতো প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
Q: গর্ভাবস্থায় Amobin 400 mg Tablet গ্রহণ করা কি নিরাপদ?
A: Amobin 400 mg Tablet গর্ভাবস্থায় শুধুমাত্র স্পষ্ট প্রয়োজনে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত, যখন সম্ভাব্য উপকারিতা ঝুঁকির চেয়ে বেশি। প্রথম ত্রৈমাসিকে ট্রাইকোমোনিয়াসিসের চিকিৎসায় Amobin 400 mg Tablet সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়। গর্ভাবস্থায় Amobin 400 mg Tablet সেবনের আগে সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Q: Amobin 400 mg Tablet সেবনের পর প্রস্রাবের রং গাঢ় হয় কেন?
A: Amobin 400 mg Tablet প্রস্রাবের রং গাঢ় বা লালচে-বাদামি করে দিতে পারে। এটি একটি নিরীহ প্রতিক্রিয়া এবং Amobin 400 mg Tablet বন্ধ করার পর স্বাভাবিক হয়ে যায়, তবে উদ্বেগ থাকলে চিকিৎসককে জানান।
Q: Amobin 400 mg Tablet-এর একটি মাত্রা মিস হয়ে গেলে কী করব?
A: মনে পড়ামাত্র মিস হওয়া Amobin 400 mg Tablet মাত্রাটি সেবন করুন, তবে পরবর্তী মাত্রার সময় কাছাকাছি হলে মিস হওয়া মাত্রাটি বাদ দিয়ে স্বাভাবিক সময়সূচি অনুসরণ করুন। একসাথে দ্বিগুণ মাত্রা নেবেন না। চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী Amobin 400 mg Tablet-এর সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করুন।
Q: Amobin 400 mg Tablet সেবনকালে কোন গুরুতর লক্ষণে সতর্ক থাকতে হবে?
A: হাত-পায়ে ঝিনঝিন/অবশভাব, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি, তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, বা অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে Amobin 400 mg Tablet সেবনকালে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ডিসক্লেইমার
এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।