Product gallery
MRP ৮.০০১০% ডিস্কাউন্ট
Best PriceTk ৭.২০/piece
স্টকে নেই
Section

বিকল্প

Price
Section

Medicine overview

নির্দেশনা

Duofix একটি এনএসএআইডি (ন্যাপ্রক্সেন সোডিয়াম) এবং একটি প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (ইসোমিপ্রাজল)-এর নির্দিষ্ট মাত্রার সমন্বয়, যা নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়:

প্রতিষ্ঠিত / এফডিএ-অনুমোদিত ব্যবহার

  • যেসব প্রাপ্তবয়স্ক রোগীর দীর্ঘমেয়াদী এনএসএআইডি চিকিৎসার প্রয়োজন এবং যাদের এনএসএআইডি-জনিত পাকস্থলীর আলসার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তাদের অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস এবং অ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস-এর লক্ষণ ও উপসর্গ উপশমে Duofix ব্যবহৃত হয়।

গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা

Duofix একটি বিলম্বিত-মুক্তি (delayed-release) সমন্বয়, তাই এটি তীব্র (acute) ব্যথার প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য প্রস্তাবিত নয়, কারণ এতে থাকা ন্যাপ্রক্সেন উপাদানটি সাধারণ ন্যাপ্রক্সেনের তুলনায় ধীরে শোষিত হয়। এটি নিয়মিত, দীর্ঘমেয়াদী এনএসএআইডি প্রয়োজন এমন রোগীদের জন্য তৈরি, তাৎক্ষণিক বা প্রয়োজন-অনুসারে ব্যথা উপশমের জন্য নয়।

Duofix মূল রোগ (যেমন অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস) নিরাময় করে না, বরং এর সাথে সম্পর্কিত ব্যথা, শক্ততা ও প্রদাহ কমায়; এতে থাকা ইসোমিপ্রাজল উপাদানটি বিশেষভাবে এনএসএআইডি-জনিত পাকস্থলীর আলসারের ঝুঁকি কমানোর জন্য (সম্পূর্ণ নির্মূলের জন্য নয়) যুক্ত করা হয়েছে, স্বতন্ত্রভাবে অ্যাসিড রিফ্লাক্স চিকিৎসার জন্য নয়।

থেরাপিউটিক ক্লাস

Duofix নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ড্রাগ (এনএসএআইডি) এবং প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (পিপিআই)-এর সমন্বিত থেরাপিউটিক শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত — নির্দিষ্টভাবে একটি গ্যাস্ট্রো-প্রোটেকটিভ এনএসএআইডি সমন্বয় ওষুধ।

ফার্মাকোলজি

Naproxen Sodium + Esomeprazole-এ দুটি সক্রিয় উপাদান পরস্পর পরিপূরক প্রক্রিয়ায় কাজ করে:

  • ন্যাপ্রক্সেন (এনএসএআইডি উপাদান): ন্যাপ্রক্সেন সাইক্লো-অক্সিজেনেজ-১ ও -২ (COX-1, COX-2) এনজাইমকে অ-নির্বাচনীভাবে ও প্রত্যাবর্তনযোগ্যভাবে বাধা দেয়, ফলে ব্যথা, প্রদাহ ও জ্বর সৃষ্টিকারী প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের উৎপাদন হ্রাস পায়। এর ফলে ব্যথানাশক, প্রদাহনাশক ও জ্বরনাশক প্রভাব দেখা যায়, তবে পাকস্থলীর প্রতিরক্ষামূলক প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনও কমে যায়, যা এনএসএআইডি চিকিৎসার একটি পরিচিত ঝুঁকি — পাকস্থলীর আলসার।
  • ইসোমিপ্রাজল (পিপিআই উপাদান): ইসোমিপ্রাজল, ওমিপ্রাজলের এস-আইসোমার, একটি প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর যা পাকস্থলীর প্যারাইটাল কোষে H+/K+-ATPase ("প্রোটন পাম্প")-কে অপরিবর্তনীয়ভাবে বাধা দিয়ে মূল ও উদ্দীপিত উভয় ধরনের গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড ক্ষরণ কমায়। Naproxen Sodium + Esomeprazole-এ ইসোমিপ্রাজল উপাদানটি বিশেষভাবে ন্যাপ্রক্সেন উপাদানের সাথে সম্পর্কিত উপরের পাচনতন্ত্রের আলসারের ঝুঁকি কমাতে যুক্ত করা হয়েছে, স্বতন্ত্র অ্যাসিড রিফ্লাক্স চিকিৎসা হিসেবে নয়।

ফার্মাকোকাইনেটিক দিক থেকে, ট্যাবলেটটি এমনভাবে তৈরি যাতে ইসোমিপ্রাজল পাকস্থলীতে তাৎক্ষণিকভাবে মুক্তি পায় (ন্যাপ্রক্সেন পাকস্থলীর সংস্পর্শে আসার আগেই গ্যাস্ট্রিক pH বাড়িয়ে দেয়), অন্যদিকে এন্টেরিক-কোটেড ন্যাপ্রক্সেন কেবল ছোট অন্ত্রের উচ্চতর pH-এ পৌঁছালেই মুক্তি পায়, যা সাধারণ তাৎক্ষণিক-মুক্তি ন্যাপ্রক্সেনের তুলনায় শোষণে বিলম্ব ঘটায়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য

নির্দেশনাপ্রস্তাবিত মাত্রা
অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস (এনএসএআইডি-জনিত পাকস্থলীর আলসারের বর্ধিত ঝুঁকিসহ)Duofix (ন্যাপ্রক্সেন ৩৭৫ মি.গ্রা./ইসোমিপ্রাজল ২০ মি.গ্রা. অথবা ন্যাপ্রক্সেন ৫০০ মি.গ্রা./ইসোমিপ্রাজল ২০ মি.গ্রা.) একটি ট্যাবলেট দিনে দুইবার, সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় ও চিকিৎসার লক্ষ্য অনুযায়ী সর্বনিম্ন প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য গ্রহণ করতে হবে।

কিশোর-কিশোরী (১২ বছর ও তদূর্ধ্ব)

শরীরের ওজনমাত্রা
৫০ কেজি বা তার বেশিপ্রাপ্তবয়স্কদের মতো একই মাত্রা।
৩৮ কেজি থেকে ৫০ কেজির কমDuofix-এর ন্যাপ্রক্সেন ৩৭৫ মি.গ্রা./ইসোমিপ্রাজল ২০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট, দিনে দুইবার।

১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার প্রতিষ্ঠিত নয় (দেখুন শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার)।

সেবনবিধি

  • Duofix-এর ট্যাবলেট পানির সাথে সম্পূর্ণভাবে গিলে ফেলুন; ট্যাবলেট ভাঙা, চূর্ণ করা বা চিবানো যাবে না, কারণ এতে বিলম্বিত-মুক্তির প্রক্রিয়া নষ্ট হয়ে যায়।
  • খাবারের অন্তত ৩০ মিনিট আগে সেবন করুন।
  • Duofix তীব্র ব্যথায় প্রয়োজন-অনুসারে ব্যবহারের জন্য নয়; এটি নিয়মিত, চলমান মাত্রায় সেবনের জন্য তৈরি।

বিশেষ জনগোষ্ঠী

  • বয়স্ক রোগী: সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রা ব্যবহার করুন; বয়স্ক রোগীরা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার প্রতি বেশি সংবেদনশীল (দেখুন সতর্কতা)।
  • বৃক্কের সমস্যা: মাঝারি থেকে তীব্র বৃক্কীয় দুর্বলতায় (ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স ৩০ মি.লি./মিনিটের কম) প্রস্তাবিত নয়।
  • লিভারের সমস্যা: মৃদু থেকে মাঝারি লিভার দুর্বলতায় সতর্কতার সাথে সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রা ব্যবহার করুন; তীব্র লিভার দুর্বলতায় এড়িয়ে চলুন।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

Duofix কিছু অন্যান্য ওষুধের সাথে ক্লিনিক্যালি গুরুত্বপূর্ণ মিথষ্ক্রিয়া ঘটাতে পারে:

  • অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট (যেমন ওয়ারফারিন) ও অ্যান্টিপ্লেটলেট ওষুধ: Duofix-এর ন্যাপ্রক্সেন উপাদানের সাথে একত্রে ব্যবহারে গুরুতর পাচনতন্ত্রের রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে।
  • স্বল্প-মাত্রার অ্যাসপিরিন: Duofix-এর সাথে একত্রে ব্যবহারে শুধু ন্যাপ্রক্সেনের তুলনায় গুরুতর পাচনতন্ত্রের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে, যদিও হৃদরোগ প্রতিরোধের জন্য স্বল্প-মাত্রার অ্যাসপিরিন কখনো কখনো চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চালিয়ে যাওয়া হয়।
  • এসিই ইনহিবিটর, এআরবি ও মূত্রবর্ধক ওষুধ: Duofix-এর ন্যাপ্রক্সেন উপাদান এসব ওষুধের রক্তচাপ-নিয়ন্ত্রণ/মূত্রবর্ধক প্রভাব কমাতে পারে এবং (বিশেষত বয়স্ক বা তরল-স্বল্পতাযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে) তীব্র বৃক্কীয় ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
  • লিথিয়াম: ন্যাপ্রক্সেন লিথিয়ামের বৃক্কীয় নিষ্কাশন কমিয়ে রক্তে লিথিয়ামের মাত্রা ও বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে; Duofix-এর সাথে একত্রে ব্যবহারে লিথিয়াম মাত্রা পর্যবেক্ষণ করুন।
  • মেথোট্রেক্সেট: ন্যাপ্রক্সেন মেথোট্রেক্সেটের বৃক্কীয় নিষ্কাশন কমিয়ে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে, বিশেষত উচ্চ মাত্রায়।
  • এসএসআরআই ও অন্যান্য সেরোটোনার্জিক ওষুধ: Duofix-এর ন্যাপ্রক্সেন উপাদানের সাথে একত্রে ব্যবহারে পাচনতন্ত্রের রক্তক্ষরণের ঝুঁকি আরও বাড়ে।
  • সাইক্লোস্পোরিন ও ট্যাক্রোলিমাস: একই সাথে এনএসএআইডি ব্যবহারে এসব ওষুধের বৃক্কীয় বিষক্রিয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
  • ক্লোপিডোগ্রেল: ইসোমিপ্রাজল CYP2C19-নির্ভর ক্লোপিডোগ্রেল সক্রিয়করণে বাধা দিতে পারে, ফলে এর অ্যান্টিপ্লেটলেট প্রভাব কমতে পারে; উপযুক্ত বিকল্প না থাকলে ছাড়া একসাথে ব্যবহার সাধারণত নিরুৎসাহিত করা হয়।
  • গ্যাস্ট্রিক pH-নির্ভর শোষণযুক্ত ওষুধ (যেমন কিটোকোনাজল, আয়রন লবণ, কিছু এইচআইভি প্রোটিয়েজ ইনহিবিটর, ডিগক্সিন): Duofix-এর ইসোমিপ্রাজল উপাদান গ্যাস্ট্রিক pH বাড়িয়ে এসব ওষুধের শোষণে পরিবর্তন আনতে পারে; ডিগক্সিনের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
  • CYP2C19 প্রভাবকারী ওষুধ (যেমন রিফাম্পিন, সেন্ট জনস ওয়ার্ট, ভরিকোনাজল): এসোমিপ্রাজলের রক্তমাত্রা যথাক্রমে কমাতে বা বাড়াতে পারে।
  • করটিকোস্টেরয়েড: Duofix-এর ন্যাপ্রক্সেন উপাদানের সাথে একত্রে ব্যবহারে পাচনতন্ত্রের আলসার/রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে।

Duofix শুরু করার আগে ব্যবহৃত সকল ওষুধ, সাপ্লিমেন্ট ও ভেষজ পণ্য সম্পর্কে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে অবহিত করুন।

প্রতিনির্দেশনা

Naproxen Sodium + Esomeprazole নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে প্রতিনির্দেশিত (contraindicated):

  • ন্যাপ্রক্সেন, ইসোমিপ্রাজল, বেনজিমিডাজল গোত্রীয় ওষুধ, বা Naproxen Sodium + Esomeprazole-এর যেকোনো উপাদানের প্রতি জানা অতি সংবেদনশীলতা।
  • অ্যাসপিরিন বা অন্য এনএসএআইডি সেবনের পর হাঁপানি, আমবাত বা অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার ইতিহাস।
  • করোনারি আর্টারি বাইপাস গ্রাফট (CABG) সার্জারির পেরিঅপারেটিভ ব্যথায় ব্যবহার।
  • সক্রিয় পাচনতন্ত্রের রক্তক্ষরণ বা সক্রিয় পেপটিক আলসার রোগ।
  • গর্ভাবস্থার তৃতীয় ত্রৈমাসিক, কারণ এনএসএআইডি ব্যবহারে ভ্রূণের ডাক্টাস আর্টেরিওসাসের অকাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

Duofix-এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এর ন্যাপ্রক্সেন ও ইসোমিপ্রাজল উভয় উপাদান থেকেই হতে পারে।

সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

  • ডিসপেপসিয়া (বদহজম), ইরোসিভ গ্যাস্ট্রাইটিস/গ্যাস্ট্রাইটিস, বুক জ্বালাপোড়া
  • বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, পেটের উপরিভাগে ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য
  • মাথাব্যথা
  • শরীরে পানি জমা (পেরিফেরাল ইডিমা)
  • উপরের শ্বাসনালীর সংক্রমণের লক্ষণ

গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া (দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন)

  • পাচনতন্ত্রের রক্তক্ষরণ, আলসার বা ছিদ্রের লক্ষণ (যেমন কালো বা রক্তমিশ্রিত মল, রক্ত বমি, তীব্র পেটব্যথা) — দেখুন সতর্কতা অংশ।
  • হৃদরোগ বা স্ট্রোকের লক্ষণ (বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, শরীরের একপাশে দুর্বলতা, কথা জড়িয়ে যাওয়া)।
  • তীব্র অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার লক্ষণ (মুখ/গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, তীব্র র‍্যাশ)।
  • তীব্র চর্মরোগ প্রতিক্রিয়া (ফোসকা, ত্বক খোসা ওঠা — স্টিভেনস-জনসন সিনড্রোম বা টক্সিক এপিডার্মাল নেক্রোলাইসিসের সম্ভাবনা)।
  • লিভারের সমস্যার লক্ষণ (ত্বক/চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া, গাঢ় রঙের প্রস্রাব, অস্বাভাবিক ক্লান্তি)।
  • বৃক্কের সমস্যার লক্ষণ (প্রস্রাব কমে যাওয়া, ফোলাভাব, অস্বাভাবিক ক্লান্তি)।
  • দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে ম্যাগনেসিয়াম স্বল্পতার লক্ষণ (পেশিতে টান, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, খিঁচুনি)।
  • নতুন বা বর্ধিত উচ্চ রক্তচাপ, অথবা হার্ট ফেইলিউরের অবনতি (ফোলাভাব, হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি, শ্বাসকষ্ট)।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থা: স্পষ্ট প্রয়োজন না হলে গর্ভাবস্থায় Duofix এড়িয়ে চলা উচিত, এবং গর্ভাবস্থার তৃতীয় ত্রৈমাসিকে এটি সম্পূর্ণভাবে প্রতিনির্দেশিত, কারণ প্রায় ২০ সপ্তাহ বা তার পরে এনএসএআইডি ব্যবহারে ভ্রূণের বৃক্কীয় কার্যক্ষমতা ব্যাহত হয়ে অ্যামনিওটিক ফ্লুইড কমে যেতে পারে, এবং ৩০ সপ্তাহ বা তার পরে ব্যবহারে ভ্রূণের ডাক্টাস আর্টেরিওসাস অকালে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে কেবল তখনই ব্যবহার করা উচিত যখন সম্ভাব্য উপকারিতা ভ্রূণের সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি বলে বিবেচিত হয়, এবং কেবল চিকিৎসকের ঘনিষ্ঠ তত্ত্বাবধানে।

স্তন্যদান: ন্যাপ্রক্সেন অল্প পরিমাণে মাতৃদুগ্ধে নিঃসৃত হয়; স্তন্যপানরত শিশুর মধ্যে গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া (পাচনতন্ত্রের রক্তক্ষরণসহ) হওয়ার সম্ভাবনার কারণে, Duofix সাধারণত স্তন্যদানকালে এড়িয়ে চলা উচিত, যদি না চিকিৎসক নির্ধারণ করেন যে উপকারিতা ঝুঁকির চেয়ে বেশি — এমন ক্ষেত্রে শিশুকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

উর্বরতা: Duofix-এর ন্যাপ্রক্সেন উপাদানসহ এনএসএআইডি নারীদের প্রত্যাবর্তনযোগ্য বন্ধ্যাত্বের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে; গর্ভধারণে অসুবিধা হলে বন্ধ করার কথা বিবেচনা করা উচিত।

গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে Duofix ব্যবহারের আগে সর্বদা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সতর্কতা

হৃদরোগজনিত ঝুঁকি

Duofix-এর ন্যাপ্রক্সেন উপাদানসহ এনএসএআইডি গুরুতর হৃদরোগজনিত থ্রম্বোটিক ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে, যেমন হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক, যা প্রাণঘাতী হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে এবং হৃদরোগ বা এর ঝুঁকির কারণযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বাড়তে পারে। CABG সার্জারির পেরিঅপারেটিভ ব্যথায় Duofix প্রতিনির্দেশিত এবং হৃদরোগ থাকলে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।

পাচনতন্ত্রের ঝুঁকি

Duofix-সহ এনএসএআইডি গুরুতর পাচনতন্ত্রের রক্তক্ষরণ, আলসার ও ছিদ্র সৃষ্টি করতে পারে, যা পূর্ব লক্ষণ ছাড়াই যেকোনো সময় ঘটতে পারে এবং বিশেষত বয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হতে পারে। Duofix-এর ইসোমিপ্রাজল উপাদান শুধু ন্যাপ্রক্সেনের তুলনায় এই ঝুঁকি কমায়, তবে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করে না। পূর্বে পেপটিক আলসার বা জিআই রক্তক্ষরণের ইতিহাস থাকা রোগী এবং যারা একই সাথে করটিকোস্টেরয়েড, অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট, অন্য এনএসএআইডি বা এসএসআরআই সেবন করছেন, তাদের ঝুঁকি বেশি।

বৃক্কীয় প্রভাব

দীর্ঘমেয়াদী এনএসএআইডি ব্যবহারে রেনাল প্যাপিলারি নেক্রোসিস ও অন্যান্য বৃক্কীয় ক্ষতি হতে পারে; পূর্ব থেকে বৃক্কীয় দুর্বলতা, হার্ট ফেইলিউর, লিভার সমস্যা বা তরল-স্বল্পতাযুক্ত রোগী এবং বয়স্ক রোগীদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। মাঝারি থেকে তীব্র বৃক্কীয় দুর্বলতায় Duofix প্রস্তাবিত নয়।

লিভারের প্রভাব

লিভার এনজাইমের সামান্য বৃদ্ধি ঘটতে পারে; লিভারের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হওয়ার লক্ষণ দেখা দিলে বা লিভার পরীক্ষার ফলাফল অস্বাভাবিক থেকে যায় বা খারাপ হতে থাকলে Duofix বন্ধ করে দিতে হবে।

উচ্চ রক্তচাপ ও তরল জমা

Duofix নতুন উচ্চ রক্তচাপ বা পূর্ববর্তী উচ্চ রক্তচাপের অবনতি এবং তরল জমা/ইডিমা সৃষ্টি করতে পারে; রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ করা উচিত এবং হার্ট ফেইলিউরের রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।

দীর্ঘমেয়াদী পিপিআই-সম্পর্কিত ঝুঁকি

Duofix-এর ইসোমিপ্রাজল উপাদান দীর্ঘমেয়াদী (সাধারণত এক বছরের বেশি) ব্যবহারে হাড় ভাঙার ঝুঁকি (নিতম্ব, কব্জি, মেরুদণ্ড) এবং ম্যাগনেসিয়াম স্বল্পতার (যা পেশিতে টান, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন বা খিঁচুনি ঘটাতে পারে) সাথে সম্পর্কিত; দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে ক্যালসিয়াম/ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা পর্যায়ক্রমে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন হতে পারে।

অন্যান্য সতর্কতা

  • এনএসএআইডি ব্যবহারে অ্যানাফাইল্যাক্টয়েড প্রতিক্রিয়া ও তীব্র চর্মরোগ প্রতিক্রিয়া (স্টিভেনস-জনসন সিনড্রোম, টক্সিক এপিডার্মাল নেক্রোলাইসিস) হতে পারে; ত্বকে র‍্যাশ বা অতি সংবেদনশীলতার প্রথম লক্ষণেই Duofix বন্ধ করুন।
  • পূর্ব থেকে হাঁপানি থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন, কারণ এনএসএআইডি-সংবেদনশীল হাঁপানি আরও খারাপ হতে পারে।
  • Duofix-এর প্রদাহনাশক/জ্বরনাশক প্রভাবের কারণে এটি অন্তর্নিহিত সংক্রমণের লক্ষণ আড়াল করতে পারে।
  • চিকিৎসার লক্ষ্য অনুযায়ী সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় সর্বনিম্ন প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য ব্যবহার করুন।

মাত্রাধিক্যতা

Duofix-এর অতিরিক্ত মাত্রায় সেবনে উভয় উপাদানের সাথে সম্পর্কিত লক্ষণ দেখা দিতে পারে। ন্যাপ্রক্সেনের অতিরিক্ত মাত্রায় ঝিমুনি, তন্দ্রাচ্ছন্নতা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, বমি, পেটের উপরিভাগে ব্যথা, পাচনতন্ত্রের রক্তক্ষরণ এবং আরও গুরুতর ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ, তীব্র বৃক্কীয় ক্ষতি বা (বিরল ক্ষেত্রে) খিঁচুনি বা অচেতনতা দেখা দিতে পারে। ইসোমিপ্রাজলের অতিরিক্ত মাত্রায় সাধারণত হালকা ও ক্ষণস্থায়ী লক্ষণ দেখা যায়, যদিও অত্যধিক মাত্রার তথ্য সীমিত।

Duofix-এর অতিরিক্ত মাত্রার কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই। অতিরিক্ত মাত্রার সন্দেহ হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন অথবা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র/জরুরি সেবায় যোগাযোগ করুন। চিকিৎসা সহায়ক ও লক্ষণ-ভিত্তিক এবং তা অবশ্যই চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে (যেমন হাসপাতালে) দেওয়া উচিত; বাড়িতে নিজে থেকে অতিরিক্ত মাত্রার চিকিৎসার চেষ্টা করবেন না।

সংরক্ষণ

ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় (৩০°সে-এর নিচে), আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার

  • বয়স্ক রোগী: বয়স্ক রোগীদের রক্তে অবাঁধা ন্যাপ্রক্সেনের পরিমাণ বেশি থাকে এবং তারা সাধারণত এনএসএআইডি-সম্পর্কিত পাচনতন্ত্র, হৃদরোগ ও বৃক্কীয় পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার প্রতি বেশি সংবেদনশীল; Duofix-এর সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রা ব্যবহার করুন এবং ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করুন।
  • বৃক্কীয় দুর্বলতা: মাঝারি থেকে তীব্র বৃক্কীয় দুর্বলতায় (ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স ৩০ মি.লি./মিনিটের কম) Duofix প্রস্তাবিত নয়; মৃদু দুর্বলতায় সতর্কতার সাথে ও ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করুন।
  • লিভারের দুর্বলতা: মৃদু থেকে মাঝারি লিভার দুর্বলতায় সতর্কতার সাথে সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রা ব্যবহার করুন; তীব্র লিভার দুর্বলতায় Duofix এড়িয়ে চলুন।
  • শিশু রোগী: Duofix ১২ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে ওজন-ভিত্তিক মাত্রায় ব্যবহার করা যেতে পারে (দেখুন মাত্রা ও সেবনবিধি); ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত নয় (দেখুন মাত্রাধিক্যতা-সংশ্লিষ্ট অংশ ও নির্দেশনা)।
  • হৃদরোগ/উচ্চ রক্তচাপ: সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন; রক্তচাপ এবং তরল জমা বা হার্ট ফেইলিউরের লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করুন (দেখুন সতর্কতা অংশ)।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

Q: Duofix 375 mg+20 mg Tablet কী কাজে ব্যবহৃত হয়?

A: Duofix 375 mg+20 mg Tablet অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও অ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিসের ব্যথা, শক্ততা ও প্রদাহ কমাতে ব্যবহৃত হয়, বিশেষত যেসব রোগীর দীর্ঘমেয়াদী এনএসএআইডি চিকিৎসার প্রয়োজন এবং যাদের এনএসএআইডি-জনিত পাকস্থলীর আলসার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এটি হঠাৎ, স্বল্পমেয়াদী ব্যথার তাৎক্ষণিক উপশমের জন্য নয়।

Q: Duofix 375 mg+20 mg Tablet কীভাবে সেবন করতে হয়?

A: Duofix 375 mg+20 mg Tablet-এর ট্যাবলেট পানির সাথে পুরোপুরি গিলে খাবারের অন্তত ৩০ মিনিট আগে সেবন করুন, সাধারণত চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী দিনে দুইবার। ট্যাবলেট ভাঙা, চূর্ণ করা বা চিবানো যাবে না, কারণ এতে বিশেষ প্রলেপ নষ্ট হয়ে যায় যা ওষুধটিকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।

Q: গর্ভাবস্থায় Duofix 375 mg+20 mg Tablet ব্যবহার করা যাবে কি?

A: চিকিৎসক স্পষ্টভাবে প্রয়োজনীয় মনে না করলে গর্ভাবস্থায় Duofix 375 mg+20 mg Tablet এড়িয়ে চলা উচিত, এবং গর্ভাবস্থার তৃতীয় ত্রৈমাসিকে এটি অবশ্যই ব্যবহার করা যাবে না, কারণ এতে অনাগত শিশুর হৃদযন্ত্র ও বৃক্কের কার্যক্ষমতার ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। গর্ভবতী হলে বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা করলে Duofix 375 mg+20 mg Tablet ব্যবহারের আগে সর্বদা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Q: Duofix 375 mg+20 mg Tablet সেবনকালে কোন গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার জন্য সতর্ক থাকতে হবে?

A: Duofix 375 mg+20 mg Tablet সেবনকালে কালো বা রক্তমিশ্রিত মল, রক্ত বমি, তীব্র পেটব্যথা, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, শরীরের একপাশে হঠাৎ দুর্বলতা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, তীব্র ফোলাভাব বা তীব্র চর্মরোগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন — এগুলো গুরুতর পাচনতন্ত্রের রক্তক্ষরণ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা তীব্র অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার লক্ষণ হতে পারে।

Q: কাদের Duofix 375 mg+20 mg Tablet সেবন করা উচিত নয়?

A: যাদের ন্যাপ্রক্সেন, ইসোমিপ্রাজল বা অন্য এনএসএআইডি/অ্যাসপিরিনের প্রতি অ্যালার্জি রয়েছে (এনএসএআইডি/অ্যাসপিরিন সেবনের পর হাঁপানি বা আমবাতের ইতিহাসসহ), যাদের সক্রিয় পাকস্থলীর রক্তক্ষরণ বা আলসার রয়েছে, যারা করোনারি আর্টারি বাইপাস গ্রাফট (CABG) সার্জারি করাচ্ছেন, অথবা যেসব নারী গর্ভাবস্থার তৃতীয় ত্রৈমাসিকে আছেন, তাদের Duofix 375 mg+20 mg Tablet সেবন করা উচিত নয়।

Q: Duofix 375 mg+20 mg Tablet-এর সাথে অন্য ব্যথানাশক বা অ্যাসপিরিন সেবন করা যাবে কি?

A: চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া Duofix 375 mg+20 mg Tablet-এর সাথে অন্য এনএসএআইডি সেবন করা উচিত নয়, কারণ এতে পাকস্থলীর রক্তক্ষরণ ও আলসারের ঝুঁকি বাড়ে। হৃদরোগ প্রতিরোধের জন্য স্বল্প-মাত্রার অ্যাসপিরিন সেবন করলে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন, কারণ Duofix 375 mg+20 mg Tablet-এর সাথে এটি একত্রে সেবনে পাচনতন্ত্রের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

ডিসক্লেইমার

এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।

Doctor