Product gallery

Odaz200 mg/5 ml

Powder for Suspension

Azithromycin

MRP ১০০.০০১০ % ডিস্কাউন্ট
Best PriceTk ৯০.০০/15 ml bottle
Section

বিকল্প

Price
Section

Medicine overview

নির্দেশনা

অ্যাজিথ্রোমাইসিন একটি ব্রড-স্পেকট্রাম ম্যাক্রোলাইড অ্যান্টিবায়োটিক এবং বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ওষুধগুলোর একটি। এটি ইরিথ্রোমাইসিনের একটি ডেরিভেটিভ, যার গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া — যেমন Enterobacteriaceae — এর বিরুদ্ধে কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, পাশাপাশি এটি অনেক গ্রাম-পজিটিভ জীবাণুর বিরুদ্ধেও নির্ভরযোগ্য কার্যকারিতা দেখায়। অ্যাজিথ্রোমাইসিন বিশেষভাবে কার্যকর "অ্যাটিপিক্যাল" ব্যাকটেরিয়া যেমন Chlamydia trachomatis, Legionella pneumophila, Mycoplasma pneumoniae এবং Mycobacterium avium এর বিরুদ্ধে — যেসব জীবাণু প্রচলিত বিটা-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিকে সাড়া দেয় না।

শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ

সংবেদনশীল Streptococcus pneumoniae, Haemophilus influenzae এবং Moraxella catarrhalis দ্বারা সৃষ্ট কমিউনিটি-অ্যাকোয়ার্ড নিউমোনিয়া (CAP)-এর ক্ষেত্রে অ্যাজিথ্রোমাইসিন নির্দেশিত। এটি ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ (COPD)-এর তীব্র ব্যাকটেরিয়াল এক্সাসারবেশন, তীব্র ব্যাকটেরিয়াল সাইনুসাইটিস, তীব্র ওটাইটিস মিডিয়া (মধ্যকর্ণের সংক্রমণ), এবং ব্রঙ্কাইটিসের চিকিৎসায়ও ব্যবহৃত হয়।

ফ্যারিঞ্জাইটিস ও টনসিলাইটিস

Streptococcus pyogenes দ্বারা সৃষ্ট ফ্যারিঞ্জাইটিস ও টনসিলাইটিসের ক্ষেত্রে অ্যাজিথ্রোমাইসিন নির্দেশিত, বিশেষত পেনিসিলিনের মতো বিটা-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিকে অ্যালার্জি থাকা বা তা গ্রহণে অক্ষম রোগীদের জন্য দ্বিতীয় সারির বিকল্প হিসেবে।

ত্বক ও নরম কলার সংক্রমণ

Staphylococcus aureus, Streptococcus pyogenes, বা Streptococcus agalactiae দ্বারা সৃষ্ট জটিলতাবিহীন ত্বক ও ত্বক-কাঠামোগত সংক্রমণ অ্যাজিথ্রোমাইসিন দিয়ে কার্যকরভাবে চিকিৎসা করা যায়।

যৌনবাহিত সংক্রমণ (STI)

অ্যাজিথ্রোমাইসিন বিভিন্ন যৌনবাহিত সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, যেমন:

  • ক্ল্যামাইডিয়াChlamydia trachomatis দ্বারা সৃষ্ট ইউরেথ্রাইটিস ও সার্ভাইসাইটিস
  • গনোরিয়া — জটিলতাবিহীন গনোকক্কাল সংক্রমণের ক্ষেত্রে সেফট্রায়াক্সোন বা জেন্টামাইসিনের সাথে সংমিশ্রণে (বিশেষত সেফালোস্পোরিন অ্যালার্জি থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে)
  • চ্যাঙ্ক্রয়েডHaemophilus ducreyi দ্বারা সৃষ্ট
  • নন-গনোকক্কাল ইউরেথ্রাইটিস ও সার্ভাইসাইটিসMycoplasma genitalium দ্বারা সৃষ্ট

মাইকোব্যাকটেরিয়াম অ্যাভিয়াম কমপ্লেক্স (MAC)

উন্নত পর্যায়ের HIV/AIDS রোগীদের ক্ষেত্রে Mycobacterium avium কমপ্লেক্স (MAC) সংক্রমণের চিকিৎসা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক ব্যবহারের জন্য অ্যাজিথ্রোমাইসিন নির্দেশিত।

পরিপাকতন্ত্রের সংক্রমণ

Salmonella typhi দ্বারা সৃষ্ট এন্টেরিক ফিভার (টাইফয়েড)-এর চিকিৎসায় অ্যাজিথ্রোমাইসিন অফ-লেবেল ব্যবহৃত হয়, বিশেষত অন্যান্য অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ক্ষেত্রে। এটি Campylobacter গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস এবং ভ্রমণজনিত ডায়রিয়ার ক্ষেত্রেও কার্যকর।

অন্যান্য ও অফ-লেবেল ব্যবহার

  • সিস্টিক ফাইব্রোসিস: ৬ বছর বা তার বেশি বয়সী যেসব রোগীর ক্রমাগত Pseudomonas aeruginosa সংক্রমণ রয়েছে, তাদের ফুসফুসের কার্যক্ষমতা উন্নত করতে এবং এক্সাসারবেশন কমাতে সিস্টিক ফাইব্রোসিস ফাউন্ডেশন দীর্ঘমেয়াদি অ্যাজিথ্রোমাইসিন থেরাপির পরামর্শ দেয়।
  • ব্যাবেসিওসিস: অ্যাটোভাকোনের সাথে সংমিশ্রণে — IDSA অনুযায়ী পছন্দনীয় চিকিৎসা পদ্ধতি।
  • ব্রঙ্কিওলাইটিস অবলিটারান্স প্রতিরোধ: ফুসফুস প্রতিস্থাপনের পর।
  • পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ (PID): সংমিশ্রণ চিকিৎসা পদ্ধতির অংশ হিসেবে।
  • ম্যালেরিয়া: অ্যাটোভাকোনের মতো অ্যান্টিপ্রোটোজোয়াল ওষুধের সাথে সংমিশ্রণে অফ-লেবেল ব্যবহার।

দ্রষ্টব্য: COVID-19, RSV, বা ইনফ্লুয়েঞ্জাসহ ভাইরাল সংক্রমণের বিরুদ্ধে অ্যাজিথ্রোমাইসিনের কোনো প্রমাণিত কার্যকারিতা নেই। শুধুমাত্র নিশ্চিত বা ক্লিনিক্যালি সন্দেহযুক্ত ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের ক্ষেত্রেই এটি ব্যবহার করা উচিত।

ফার্মাকোলজি

অ্যাজিথ্রোমাইসিন হলো ইরিথ্রোমাইসিন থেকে প্রাপ্ত একটি সেমি-সিন্থেটিক ম্যাক্রোলাইড (অ্যাজালাইড) অ্যান্টিবায়োটিক। এর রয়েছে ব্যাপক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল কার্যকারিতা এবং কিছু স্বতন্ত্র ফার্মাকোকাইনেটিক বৈশিষ্ট্য, যা একে পুরনো ম্যাক্রোলাইড ওষুধগুলো থেকে আলাদা করে।

কার্যপ্রণালী (Mechanism of Action)

অ্যাজিথ্রোমাইসিন ব্যাকটেরিয়ার 50S রাইবোজোমাল সাবইউনিটের 23S রাইবোজোমাল RNA-এর সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করে। এই বাঁধন অ্যামিনোঅ্যাসিল-tRNA এবং দীর্ঘায়িত হতে থাকা পেপটাইড চেইনের রাইবোজোমের মধ্য দিয়ে স্থানান্তর (translocation) বাধাগ্রস্ত করে ব্যাকটেরিয়ার প্রোটিন সংশ্লেষণ প্রতিরোধ করে — যার ফলে ব্যাকটেরিয়ার বেঁচে থাকা ও বংশবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন উৎপাদন কার্যকরভাবে বন্ধ হয়ে যায়।

অ্যাজিথ্রোমাইসিন মূলত ব্যাকটেরিওস্ট্যাটিক (ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে), তবে উচ্চ মাত্রায় এটি Streptococcus প্রজাতি ও Haemophilus influenzae-এর মতো কিছু জীবাণুর বিরুদ্ধে ব্যাকটেরিসাইডাল (জীবাণুনাশক) প্রভাব দেখায়। ইরিথ্রোমাইসিনের তুলনায় এটি গ্রাম-নেগেটিভ রাইবোজোম থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রবণতা কম, যা গ্রাম-নেগেটিভ জীবাণুর বিরুদ্ধে এর উন্নততর কার্যকারিতার কারণ।

অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি অ্যাজিথ্রোমাইসিনের উল্লেখযোগ্য ইমিউনোমডুলেটরি প্রভাব রয়েছে — এটি শ্বাসনালীর নিউট্রোফিলিয়া কমায়, IL-8 জিন প্রকাশ দমন করে, এবং C-রিঅ্যাক্টিভ প্রোটিন (CRP)-এর মাত্রা কমায়, যা একে সিস্টিক ফাইব্রোসিস ও COPD-এর মতো প্রদাহজনিত শ্বাসনালীর সমস্যায় উপকারী করে তোলে।

কার্যকারিতার পরিসর (Spectrum of Activity)

  • গ্রাম-পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া: Staphylococcus aureus, Streptococcus pneumoniae, Streptococcus pyogenes, Streptococcus agalactiae
  • গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া: Haemophilus influenzae, Moraxella catarrhalis, Neisseria gonorrhoeae, Escherichia coli, Salmonella প্রজাতি, Campylobacter প্রজাতি
  • অ্যাটিপিক্যাল জীবাণু: Chlamydia trachomatis, Mycoplasma pneumoniae, Legionella pneumophila, Ureaplasma urealyticum
  • মাইকোব্যাকটেরিয়া: Mycobacterium avium কমপ্লেক্স

ফার্মাকোকাইনেটিক্স

  • শোষণ (Absorption): ২৫০ মিগ্রা ডোজের মৌখিক জৈব-উপলভ্যতা (bioavailability) প্রায় ৩৮%। খাবারের সাথে ওরাল সাসপেনশন গ্রহণ করলে সর্বোচ্চ প্লাজমা ঘনত্ব (Cmax) ৫৬% বৃদ্ধি পায়, যদিও মোট AUC অপরিবর্তিত থাকে। ক্যাপসুল ফর্ম খালি পেটে গ্রহণ করা উচিত।
  • বণ্টন (Distribution): অ্যাজিথ্রোমাইসিন শরীরের টিস্যুতে ব্যাপকভাবে বিতরিত হয় এবং এর কোষের মধ্যে প্রবেশক্ষমতা চমৎকার। এটি ত্বক, ফুসফুস, টনসিল, প্রোস্টেট, জরায়ু, সার্ভিক্স, যকৃত ও পিত্তথলিতে উচ্চ ঘনত্বে পৌঁছায়। এটি ফ্যাগোসাইটে অত্যন্ত ঘনীভূত হয়, যেখানে ইন্ট্রাসেলুলার-টু-এক্সট্রাসেলুলার অনুপাত ৩০:১-এরও বেশি — যা ওষুধটিকে সরাসরি সংক্রমণস্থলে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে।
  • প্রোটিন বন্ধন (Protein Binding): পরিবর্তনশীল — কম ঘনত্বে ৫১% থেকে উচ্চ ঘনত্বে ৭% পর্যন্ত।
  • বিপাক (Metabolism): মূলত যকৃতে। অ্যাজিথ্রোমাইসিন যকৃতে বিপাকিত হয় এবং প্রধানত পিত্তের মাধ্যমে নির্গত হয়।
  • অর্ধায়ু (Half-life): প্রায় ৬৮ ঘণ্টা — মৌখিক অ্যান্টিবায়োটিকগুলোর মধ্যে অন্যতম দীর্ঘতম অর্ধায়ু। এর ফলে দিনে একবার ডোজ দেওয়া এবং স্বল্পমেয়াদি চিকিৎসা কোর্স (সাধারণত ৩–৫ দিন) সম্ভব হয়, যা অন্যান্য অ্যান্টিবায়োটিকের দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সমতুল্য ক্লিনিক্যাল ফলাফল প্রদান করে।
  • নির্গমন (Elimination): প্রধানত পিত্তের মাধ্যমে মলে নির্গত হয়; প্রায় ৬% অপরিবর্তিত অবস্থায় প্রস্রাবের মাধ্যমে নির্গত হয়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

অ্যাজিথ্রোমাইসিনের ডোজ নির্ভর করে সংক্রমণের ধরন ও তীব্রতা, রোগীর বয়স এবং শরীরের ওজনের উপর। সবসময় আপনার নিবন্ধিত চিকিৎসকের নির্ধারিত ডোজ অনুসরণ করুন। নিজে থেকে ওষুধ সেবন করবেন না।

প্রাপ্তবয়স্ক — মুখে সেবনযোগ্য (Oral)

ইঙ্গিত (Indication) ডোজ সময়কাল
কমিউনিটি-অ্যাকোয়ার্ড নিউমোনিয়া (হালকা–মাঝারি) ১ম দিনে ৫০০ মিগ্রা, এরপর ২য়–৫ম দিনে দিনে একবার ২৫০ মিগ্রা ৫ দিন
COPD-এর তীব্র ব্যাকটেরিয়াল এক্সাসারবেশন দিনে একবার ৫০০ মিগ্রা ৩ দিন
তীব্র ব্যাকটেরিয়াল সাইনুসাইটিস দিনে একবার ৫০০ মিগ্রা ৩ দিন
তীব্র ওটাইটিস মিডিয়া ১ম দিনে ৫০০ মিগ্রা, এরপর ২য়–৫ম দিনে দিনে একবার ২৫০ মিগ্রা ৫ দিন
ফ্যারিঞ্জাইটিস / টনসিলাইটিস ১ম দিনে ৫০০ মিগ্রা, এরপর ২য়–৫ম দিনে দিনে একবার ২৫০ মিগ্রা ৫ দিন
ত্বক ও নরম কলার সংক্রমণ ১ম দিনে ৫০০ মিগ্রা, এরপর ২য়–৫ম দিনে দিনে একবার ২৫০ মিগ্রা ৫ দিন
জটিলতাবিহীন ক্ল্যামাইডিয়া / নন-গনোকক্কাল ইউরেথ্রাইটিস একবারে ১ গ্রাম একক ডোজ
জটিলতাবিহীন গনোরিয়া (জেন্টামাইসিনের সাথে) একবারে ২ গ্রাম একক ডোজ
চ্যাঙ্ক্রয়েড (H. ducreyi) একবারে ১ গ্রাম একক ডোজ
টাইফয়েড জ্বর (Salmonella typhi) দিনে একবার ৫০০ মিগ্রা ৭ দিন
MAC প্রতিরোধ (HIV/AIDS) সপ্তাহে একবার ১২০০ মিগ্রা চলমান (নির্দেশনা অনুযায়ী)
MAC চিকিৎসা (অন্যান্য ওষুধের সাথে) দিনে একবার ৫০০–৬০০ মিগ্রা চলমান (নির্দেশনা অনুযায়ী)

প্রাপ্তবয়স্ক — শিরায় প্রয়োগ (IV Infusion)

ইঙ্গিত (Indication) ডোজ মাত্রা প্রয়োগের হার (Frequency) সময়কাল
কমিউনিটি-অ্যাকোয়ার্ড নিউমোনিয়া (তীব্র) ৫০০ মিগ্রা দিনে একবার ২–৫ দিন শিরায় (IV), এরপর ৭–১০ দিন পূর্ণ করতে ৫০০ মিগ্রা মুখে সেবনযোগ্যে পরিবর্তন
পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজ (PID) ৫০০ মিগ্রা দিনে একবার ১–২ দিন শিরায় (IV), এরপর ৭ দিন পূর্ণ করতে দিনে একবার ২৫০ মিগ্রা মুখে সেবন

শিশু — মুখে সেবনযোগ্য (Oral)

ইঙ্গিত (Indication) ডোজ সময়কাল
কমিউনিটি-অ্যাকোয়ার্ড নিউমোনিয়া ১ম দিনে ১০ মিগ্রা/কেজি (সর্বোচ্চ ৫০০ মিগ্রা), এরপর ২য়–৫ম দিনে ৫ মিগ্রা/কেজি (সর্বোচ্চ ২৫০ মিগ্রা) ৫ দিন
তীব্র ওটাইটিস মিডিয়া (৫ দিনের কোর্স) ১ম দিনে ১০ মিগ্রা/কেজি, এরপর ২য়–৫ম দিনে ৫ মিগ্রা/কেজি ৫ দিন
তীব্র ওটাইটিস মিডিয়া (৩ দিনের কোর্স) দিনে একবার ১০ মিগ্রা/কেজি ৩ দিন
তীব্র ওটাইটিস মিডিয়া (একক ডোজ) একবারে ৩০ মিগ্রা/কেজি (সর্বোচ্চ ১.৫ গ্রাম) একক ডোজ
ফ্যারিঞ্জাইটিস / টনসিলাইটিস (বয়স ≥২ বছর) দিনে একবার ১২ মিগ্রা/কেজি (সর্বোচ্চ ৫০০ মিগ্রা) ৫ দিন
তীব্র ব্যাকটেরিয়াল সাইনুসাইটিস দিনে একবার ১০ মিগ্রা/কেজি (সর্বোচ্চ ৫০০ মিগ্রা) ৩ দিন
টাইফয়েড / এন্টেরিক ফিভার দিনে একবার ১০–২০ মিগ্রা/কেজি (সর্বোচ্চ ১ গ্রাম) ৫–৭ দিন

বিশেষ ডোজ বিবেচনা

বৃক্কের কার্যকারিতা হ্রাস (Renal Impairment): হালকা থেকে মাঝারি বৃক্কের কার্যকারিতা হ্রাসপ্রাপ্ত রোগীদের ক্ষেত্রে (GFR >১০ মিলি/মিনিট) ডোজ সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই। তীব্র বৃক্কের কার্যকারিতা হ্রাসের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন।

যকৃতের কার্যকারিতা হ্রাস (Hepatic Impairment): তীব্র যকৃতের কার্যকারিতা হ্রাসপ্রাপ্ত রোগীদের ক্ষেত্রে বা পূর্বে অ্যাজিথ্রোমাইসিন ব্যবহারজনিত কোলেস্ট্যাটিক জন্ডিসের ইতিহাস থাকলে অ্যাজিথ্রোমাইসিন নিষিদ্ধ। হালকা থেকে মাঝারি যকৃতের কার্যকারিতা হ্রাসের ক্ষেত্রে সতর্কতা ও ক্লিনিক্যাল পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

বয়স্ক রোগী: নির্দিষ্ট কোনো ডোজ সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই; তবে, হৃদস্পন্দনের ছন্দে অস্বাভাবিকতা (cardiac arrhythmia)-র ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে বয়স্ক রোগীদের QTc ইন্টারভাল দীর্ঘায়িত হওয়ার বিষয়ে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

মুখে সেবনযোগ্য ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল

  • অ্যাজিথ্রোমাইসিন ট্যাবলেট খাবারের সাথে বা খাবার ছাড়াই সেবন করা যায়।
  • ক্যাপসুল খাবারের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে অথবা ২ ঘণ্টা পরে সেবন করা উচিত, কারণ খাবার ক্যাপসুল ফর্মুলেশনের শোষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।
  • ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল পুরোটা একগ্লাস পানির সাথে গিলে খান। এটি চূর্ণ বা চিবিয়ে খাবেন না।
  • অ্যাজিথ্রোমাইসিনের সাথে একইসাথে অ্যালুমিনিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড সেবন করবেন না, কারণ এগুলো সর্বোচ্চ সিরাম ঘনত্ব ২৪% পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। অ্যান্টাসিড প্রয়োজন হলে অন্তত ২ ঘণ্টার ব্যবধানে সেবন করুন।
  • উপসর্গ আগেভাগে ভালো হয়ে গেলেও নির্ধারিত সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করুন — চিকিৎসা আগেভাগে বন্ধ করলে ব্যাকটেরিয়া বেঁচে থেকে সংক্রমণ পুনরায় দেখা দিতে পারে।

মুখে সেবনযোগ্য সাসপেনশন

  • অ্যাজিথ্রোমাইসিন ওরাল সাসপেনশন খাবারের সাথে বা খাবার ছাড়াই সেবন করা যায়।
  • প্রতিবার ব্যবহারের আগে সাসপেনশনটি ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন।
  • সঠিক মাত্রা নিশ্চিত করতে সরবরাহকৃত মাপার চামচ বা ওরাল সিরিঞ্জ ব্যবহার করুন। সাধারণ বাসাবাড়ির চা-চামচ ব্যবহার করবেন না।
  • প্রস্তুতকৃত সাসপেনশন ৫°C থেকে ৩০°C তাপমাত্রার মধ্যে সংরক্ষণ করুন এবং কোর্স শেষ হওয়ার পর অব্যবহৃত অংশ ফেলে দিন।

শিরায় প্রয়োগ (IV Infusion)

  • অ্যাজিথ্রোমাইসিন IV ইনফিউশন শুধুমাত্র সেসব রোগীর জন্য সংরক্ষিত, যাদের হাসপাতালে ভর্তি প্রয়োজন বা যারা মুখে ওষুধ সেবন করতে অক্ষম।
  • ৫০০ মিগ্রা ডোজ কমপক্ষে ২৫০ মিলি উপযুক্ত IV ফ্লুইড (যেমন, ০.৯% নরমাল স্যালাইন বা ৫% ডেক্সট্রোজ ইন ওয়াটার)-এ মিশিয়ে ৬০ মিনিট ধরে ধীরে IV ইনফিউশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করুন।
  • দ্রুত IV বোলাস ইনজেকশন হিসেবে প্রয়োগ করবেন না — এটি তীব্র হাইপোটেনশন সৃষ্টি করতে পারে।
  • ব্যবহারের আগে প্রস্তুতকৃত দ্রবণে কোনো কণা বা রঙ পরিবর্তন আছে কিনা তা চাক্ষুষভাবে পরীক্ষা করুন। থাকলে তা ফেলে দিন।
  • মিশ্রিত হওয়ার পর ইনফিউশন দ্রবণ কক্ষ তাপমাত্রায় (≤৩০°C) ২৪ ঘণ্টা অথবা রেফ্রিজারেটরে (৫°C) সর্বোচ্চ ৭ দিন স্থিতিশীল থাকে।
  • রোগী মুখে ওষুধ সহ্য করতে সক্ষম হওয়ামাত্র মুখে সেবনযোগ্য অ্যাজিথ্রোমাইসিনে পরিবর্তন করুন (স্টেপ-ডাউন থেরাপি)।

অ্যাজিথ্রোমাইসিনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ মিথস্ক্রিয়া (drug interaction) রয়েছে, যেগুলোর ক্ষেত্রে সতর্ক পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন অথবা একসাথে ব্যবহার এড়িয়ে চলতে হয়:

QT ইন্টারভাল দীর্ঘকারী ওষুধ (একত্রে ব্যবহার এড়িয়ে চলুন)

অ্যাজিথ্রোমাইসিন হৃদযন্ত্রের QTc ইন্টারভাল দীর্ঘায়িত করে। QT ইন্টারভাল দীর্ঘকারী অন্যান্য ওষুধের সাথে এটি একত্রে গ্রহণ করলে টরসেড ডি পয়েন্টেস (torsades de pointes)-সহ প্রাণঘাতী অ্যারিদমিয়ার (arrhythmia) ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। যেসব ওষুধের ক্ষেত্রে এড়িয়ে চলা বা অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন, তার মধ্যে রয়েছে:

  • অ্যান্টিঅ্যারিদমিক (Antiarrhythmics): অ্যামিওডারোন, সোটালল, কুইনিডিন
  • অ্যান্টিসাইকোটিক (Antipsychotics): হ্যালোপেরিডল, কুইটিয়াপিন, জিপ্রাসিডোন
  • ফ্লুরোকুইনোলোন (Fluoroquinolones): মক্সিফ্লক্সাসিন, লিভোফ্লক্সাসিন
  • ম্যালেরিয়া-প্রতিরোধী ওষুধ: ক্লোরোকুইন, হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন
  • বুপ্রেনরফিন (দীর্ঘ-কার্যকর ইনজেকশন বা ইমপ্ল্যান্ট)
  • ক্রিজোটিনিব ও অন্যান্য QT-প্রভাবযুক্ত ক্যান্সার-চিকিৎসার ওষুধ

অ্যান্টাসিড (অ্যালুমিনিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত)

অ্যালুমিনিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড অ্যাজিথ্রোমাইসিনের সর্বোচ্চ প্লাজমা ঘনত্ব (Cmax) প্রায় ২৪% পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। রোগীদের অ্যাজিথ্রোমাইসিন ও অ্যান্টাসিড কমপক্ষে ২ ঘণ্টা ব্যবধানে গ্রহণ করা উচিত।

কলচিসিন (একত্রে ব্যবহার নিষিদ্ধ)

অ্যাজিথ্রোমাইসিন P-glycoprotein (P-gp) এফ্লাক্স ট্রান্সপোর্টারকে বাধা দেয়, যা কলচিসিনের প্লাজমা মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে এবং এর ফলে কলচিসিন বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে — যার মধ্যে রয়েছে পাকস্থলী-অন্ত্রের সমস্যা, জ্বর, মায়ালজিয়া (পেশিব্যথা), প্যানসাইটোপেনিয়া এবং মাল্টি-অর্গান ফেইলিউর। কিডনি বা লিভারের সমস্যাযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এই দুটি ওষুধ একসাথে ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ, এবং অন্যদের ক্ষেত্রেও এড়িয়ে চলা উচিত অথবা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত।

ওয়ারফারিন ও অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট (রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধী ওষুধ)

অ্যাজিথ্রোমাইসিন অন্ত্রের স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়া পরিবর্তন করে ভিটামিন K শোষণে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, ফলে ওয়ারফারিনের রক্ত-পাতলাকরণ প্রভাব বেড়ে যেতে পারে। অ্যাজিথ্রোমাইসিন সেবনকালীন ও পরবর্তী সময়ে INR নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

ডিগক্সিন

অ্যাজিথ্রোমাইসিন অন্ত্রের স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়া পরিবর্তনের মাধ্যমে ডিগক্সিনের প্লাজমা মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, যা ডিগক্সিন বিষক্রিয়ার কারণ হতে পারে। এই দুটি ওষুধ একসাথে গ্রহণকালে ডিগক্সিনের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

পিমোজাইড (একত্রে ব্যবহার নিষিদ্ধ)

অ্যাজিথ্রোমাইসিনের সাথে পিমোজাইড (একটি অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ) একত্রে ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। অ্যাজিথ্রোমাইসিন CYP3A4 এনজাইমকে বাধা দিয়ে পিমোজাইডের প্লাজমা মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, যার ফলে বিপজ্জনক হৃদস্পন্দনজনিত অ্যারিদমিয়া (arrhythmia) দেখা দিতে পারে।

CYP3A4-এর মাধ্যমে বিপাকিত ওষুধসমূহ

অ্যাজিথ্রোমাইসিন CYP3A4 এনজাইমকে বাধা দিতে পারে, যার ফলে এই পথে বিপাকিত (metabolized) ওষুধগুলোর রক্তের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। কোবিসিস্ট্যাট, সাইক্লোস্পোরিন এবং কিছু নির্দিষ্ট স্ট্যাটিন-জাতীয় ওষুধ এতে প্রভাবিত হতে পারে। একসাথে প্রেসক্রাইব করার সময় সর্বশেষ ওষুধ মিথস্ক্রিয়া তথ্যভাণ্ডার (drug interaction database) দেখে নেওয়া উচিত।

জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া ভ্যাকসিন

অ্যাজিথ্রোমাইসিন জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া ভ্যাকসিনের (যেমন, BCG ভ্যাকসিন, কলেরা ভ্যাকসিন) কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। অ্যাজিথ্রোমাইসিন থেরাপি সম্পূর্ণ হওয়ার কমপক্ষে ১৪ দিন পর জীবন্ত ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা উচিত।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে অ্যাজিথ্রোমাইসিন ব্যবহার নিষিদ্ধ:

  • অ্যাজিথ্রোমাইসিনের প্রতি অতি-সংবেদনশীলতা (hypersensitivity), এরিথ্রোমাইসিন, অথবা অন্য কোনো ম্যাক্রোলাইড (macrolide) বা কেটোলাইড (ketolide) জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি অ্যালার্জির ইতিহাস থাকলে — যার মধ্যে রয়েছে অ্যানাফাইল্যাক্সিস (anaphylaxis) বা স্টিভেন্স-জনসন সিন্ড্রোমের (Stevens-Johnson syndrome) মতো গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার পূর্ব ইতিহাস।
  • পূর্বে অ্যাজিথ্রোমাইসিন ব্যবহারের সাথে সম্পর্কিত কোলেস্ট্যাটিক জন্ডিস (cholestatic jaundice) বা লিভারের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হওয়ার ইতিহাসযুক্ত রোগী।
  • মারাত্মক লিভার সমস্যাযুক্ত (severe hepatic impairment) রোগী — অ্যাজিথ্রোমাইসিন মূলত লিভারের মাধ্যমে বিপাকিত (metabolized) ও নিঃসৃত হয়; গুরুতর লিভার রোগে ওষুধটি শরীরে বিপজ্জনকভাবে জমা হতে পারে।
  • পিমোজাইডের সাথে একত্রে ব্যবহার — কারণ এতে পিমোজাইডের মাত্রা বেড়ে গিয়ে সম্ভাব্য প্রাণঘাতী হৃদস্পন্দনজনিত অ্যারিদমিয়ার (cardiac arrhythmia) ঝুঁকি থাকে।
  • যেসব রোগীর QT ইন্টারভাল দীর্ঘায়িত হওয়ার (QT prolongation) ইতিহাস আছে, অথবা যাদের হাইপোক্যালেমিয়া (hypokalemia), হাইপোম্যাগনেসেমিয়া (hypomagnesemia), অথবা উল্লেখযোগ্য ব্র্যাডিকার্ডিয়া (bradycardia) রয়েছে — তাদের ক্ষেত্রে অ্যাজিথ্রোমাইসিনের QT-দীর্ঘকারী প্রভাব হৃদযন্ত্রের জন্য অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকি তৈরি করে।

প্রতিনির্দেশনা

নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে অ্যাজিথ্রোমাইসিন ব্যবহার নিষিদ্ধ:

  • অ্যাজিথ্রোমাইসিনের প্রতি অতি-সংবেদনশীলতা (hypersensitivity), এরিথ্রোমাইসিন, অথবা অন্য কোনো ম্যাক্রোলাইড (macrolide) বা কেটোলাইড (ketolide) জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি অ্যালার্জির ইতিহাস থাকলে — যার মধ্যে রয়েছে অ্যানাফাইল্যাক্সিস (anaphylaxis) বা স্টিভেন্স-জনসন সিন্ড্রোমের (Stevens-Johnson syndrome) মতো গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার পূর্ব ইতিহাস।
  • পূর্বে অ্যাজিথ্রোমাইসিন ব্যবহারের সাথে সম্পর্কিত কোলেস্ট্যাটিক জন্ডিস (cholestatic jaundice) বা লিভারের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হওয়ার ইতিহাসযুক্ত রোগী।
  • মারাত্মক লিভার সমস্যাযুক্ত (severe hepatic impairment) রোগী — অ্যাজিথ্রোমাইসিন মূলত লিভারের মাধ্যমে বিপাকিত (metabolized) ও নিঃসৃত হয়; গুরুতর লিভার রোগে ওষুধটি শরীরে বিপজ্জনকভাবে জমা হতে পারে।
  • পিমোজাইডের সাথে একত্রে ব্যবহার — কারণ এতে পিমোজাইডের মাত্রা বেড়ে গিয়ে সম্ভাব্য প্রাণঘাতী হৃদস্পন্দনজনিত অ্যারিদমিয়ার (cardiac arrhythmia) ঝুঁকি থাকে।
  • যেসব রোগীর QT ইন্টারভাল দীর্ঘায়িত হওয়ার (QT prolongation) ইতিহাস আছে, অথবা যাদের হাইপোক্যালেমিয়া (hypokalemia), হাইপোম্যাগনেসেমিয়া (hypomagnesemia), অথবা উল্লেখযোগ্য ব্র্যাডিকার্ডিয়া (bradycardia) রয়েছে — তাদের ক্ষেত্রে অ্যাজিথ্রোমাইসিনের QT-দীর্ঘকারী প্রভাব হৃদযন্ত্রের জন্য অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকি তৈরি করে।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

অ্যাজিথ্রোমাইসিন সাধারণত রোগীরা ভালোভাবে সহ্য করতে পারেন। বেশিরভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার হয়ে থাকে এবং থেরাপি সম্পূর্ণ হওয়ার পর বা ওষুধ বন্ধ করার পর তা সেরে যায়। ১%-এরও কম রোগী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে চিকিৎসা বন্ধ করে দেন।

অত্যন্ত সাধারণ (১০%-এর বেশি)

  • পেটে ব্যথা বা খিঁচুনি
  • ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা (সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, প্রায় ৫%)
  • বমি বমি ভাব (প্রায় ৩%)
  • পেট ফাঁপা (গ্যাস)

সাধারণ (১–১০%)

  • বমি
  • ডিসপেপসিয়া (হজমে সমস্যা)
  • ক্লান্তি ও সাধারণ দুর্বলতা
  • ক্ষুধামন্দা
  • স্বাদ পরিবর্তনজনিত সমস্যা (ডিসজিউসিয়া)
  • মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা

বিরল থেকে অতি বিরল

  • হৃদযন্ত্র সংক্রান্ত: QTc ইন্টারভাল দীর্ঘায়িত হওয়া, যা বিরল ক্ষেত্রে টরসেড ডি পয়েন্টেস (torsades de pointes)-সহ প্রাণঘাতী অ্যারিদমিয়া (arrhythmia) ঘটাতে পারে। যেসব রোগীর আগে থেকে হৃদরোগ বা ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা রয়েছে, তাদের ঝুঁকি বেশি।
  • শ্রবণ সংক্রান্ত: সাময়িক শ্রবণশক্তি হ্রাস, কানে শব্দ শোনা (টিনিটাস), এবং শ্রবণজনিত অন্যান্য সমস্যা — বিশেষত উচ্চ মাত্রায় বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে।
  • লিভার সংক্রান্ত: লিভার এনজাইমের মাত্রা বৃদ্ধি, কোলেস্ট্যাটিক জন্ডিস (cholestatic jaundice), এবং বিরল ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী লিভার-বিষক্রিয়া (hepatotoxicity)। লিভারে ক্ষতির লক্ষণ দেখা দিলে (গাঢ় রঙের প্রস্রাব, জন্ডিস, ফ্যাকাশে পায়খানা, পেটের ডানদিকে উপরের অংশে ব্যথা) সাথে সাথে ওষুধ বন্ধ করতে হবে।
  • অতি-সংবেদনশীলতাজনিত প্রতিক্রিয়া: ত্বকে র‍্যাশ, আর্টিকেরিয়া (চুলকানি-ফুসকুড়ি), অ্যাঞ্জিওএডিমা এবং অ্যানাফাইল্যাক্সিস। এছাড়া স্টিভেন্স-জনসন সিন্ড্রোম, টক্সিক এপিডার্মাল নেক্রোলাইসিস (TEN), ড্রেস সিন্ড্রোম (DRESS syndrome), এবং অ্যাকিউট জেনারেলাইজড এক্সানথেমাটাস পাস্টুলোসিস (AGEP)-এর মতো গুরুতর ত্বকজনিত প্রতিক্রিয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে — এসবের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে সাথে সাথে ওষুধ বন্ধ করতে হবে।
  • স্নায়ুতন্ত্র সংক্রান্ত: বিভ্রান্তি, অস্থিরতা, এবং অত্যন্ত বিরল ক্ষেত্রে হ্যালুসিনেশন।
  • মাংসপেশি ও হাড় সংক্রান্ত: মায়াস্থেনিয়া গ্রেভিস (myasthenia gravis) আরও বেড়ে যাওয়ার বিরল কিছু ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে।
  • সুপার-ইনফেকশন: দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের ফলে স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়া ফ্লোরায় ব্যাঘাত ঘটার কারণে ক্লস্ট্রিডিওইডিস ডিফিসাইল (Clostridioides difficile)-সম্পর্কিত ডায়রিয়া (CDAD) এবং মুখ বা যোনিপথে ক্যান্ডিডিয়াসিস (ছত্রাক সংক্রমণ) হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ: গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া, হৃদযন্ত্র সংক্রান্ত উপসর্গ (বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া), অথবা লিভার-বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে সাথে সাথে অ্যাজিথ্রোমাইসিন বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থা

গর্ভাবস্থায় অ্যাজিথ্রোমাইসিন ব্যবহার সংক্রান্ত এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে বড় ধরনের জন্মগত ত্রুটি, গর্ভপাত, অথবা মা বা গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতিকর কোনো পরিণতির সাথে ওষুধের সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। ইঁদুরের ওপর পরিচালিত প্রাণী-গবেষণায় অঙ্গ গঠনের (organogenesis) সময় মুখে খাওয়ানো ডোজে টেরাটোজেনিসিটি (জন্মগত ত্রুটি সৃষ্টিকারী প্রভাব) বা ভ্রূণের বিকৃতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও, গর্ভাবস্থায় অ্যাজিথ্রোমাইসিন কেবল স্পষ্টভাবে প্রয়োজনীয় হলেই এবং মায়ের জন্য সম্ভাব্য উপকারিতা যদি গর্ভস্থ শিশুর জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি হয় তবেই ব্যবহার করা উচিত। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান অত্যন্ত জরুরি। শিরায় প্রয়োগযোগ্য (IV) ফর্মুলেশন গর্ভাবস্থায় কেবল তখনই সুপারিশ করা হয়, যখন উপযুক্ত কোনো বিকল্প পাওয়া যায় না।

বুকের দুধ খাওয়ানো (স্তন্যদান)

অ্যাজিথ্রোমাইসিন অল্প পরিমাণে মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে নিঃসৃত হয়। সীমিত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, স্বল্পমেয়াদি ব্যবহারে শিশুর আনুমানিক দৈনিক ডোজ প্রায় ০.১ থেকে ০.৭ মিগ্রা/কেজি/দিন পর্যন্ত হতে পারে — যা সাধারণত কম বলে বিবেচিত হয় এবং সুস্থ, পূর্ণ-মেয়াদে জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষতি করার সম্ভাবনা কম। তবে শিশুর মধ্যে সম্ভাব্য পাকস্থলী-অন্ত্র সংক্রান্ত প্রতিক্রিয়া (ডায়রিয়া, ক্যান্ডিডিয়াসিস, মুখে ঘা/থ্রাশ, অথবা ডায়াপার র‍্যাশ) দেখা দিচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা উচিত। কিছু অনিশ্চিত মহামারী-সংক্রান্ত (epidemiological) তথ্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, স্তন্যদানের প্রথম ২ সপ্তাহে মায়ের ম্যাক্রোলাইড (macrolide) জাতীয় ওষুধ ব্যবহারের সাথে শিশুর ইনফ্যান্টাইল হাইপারট্রফিক পাইলোরিক স্টেনোসিসের (infantile hypertrophic pyloric stenosis) কিছুটা সম্পর্ক থাকতে পারে; তবে দুটি মেটা-অ্যানালাইসিসে এই সম্পর্ক নিশ্চিত হয়নি। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় অ্যাজিথ্রোমাইসিন ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

উর্বরতা

অ্যাজিথ্রোমাইসিন মানুষের উর্বরতার ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে — এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সতর্কতা

হৃদযন্ত্রের QT ইন্টারভাল দীর্ঘায়িত হওয়া

অ্যাজিথ্রোমাইসিন হৃদযন্ত্রের QTc ইন্টারভাল দীর্ঘায়িত করে বলে প্রমাণিত হয়েছে, যা টরসেড ডি পয়েন্টেস (torsades de pointes)-এর মতো সম্ভাব্য প্রাণঘাতী অ্যারিদমিয়ার (arrhythmia) কারণ হতে পারে। যেসব রোগীর QT ইন্টারভাল দীর্ঘায়িত হওয়ার ইতিহাস আছে, অথবা যাদের হাইপোক্যালেমিয়া (hypokalemia), হাইপোম্যাগনেসেমিয়া (hypomagnesemia), ব্র্যাডিকার্ডিয়া (bradycardia) রয়েছে, অথবা যারা QT-দীর্ঘকারী অন্য কোনো ওষুধ সেবন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন — অথবা সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলুন। উচ্চ-ঝুঁকিসম্পন্ন রোগীদের ক্ষেত্রে ECG পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হতে পারে।

গুরুতর অতি-সংবেদনশীলতাজনিত প্রতিক্রিয়া

অ্যানাফাইল্যাক্সিস, অ্যাঞ্জিওএডিমা, স্টিভেন্স-জনসন সিন্ড্রোম, টক্সিক এপিডার্মাল নেক্রোলাইসিস (TEN), ড্রেস সিন্ড্রোম (DRESS syndrome), এবং AGEP-সহ গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুও ঘটেছে। কোনো ধরনের অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে অবিলম্বে অ্যাজিথ্রোমাইসিন বন্ধ করে যথাযথ জরুরি চিকিৎসা শুরু করতে হবে।

লিভার-বিষক্রিয়া (হেপাটোটক্সিসিটি)

অ্যাজিথ্রোমাইসিন থেরাপি চলাকালীন লিভারের কার্যক্ষমতায় সমস্যা, হেপাটাইটিস, কোলেস্ট্যাটিক জন্ডিস, লিভার নেক্রোসিস (কলা মৃত্যু), এবং লিভার ফেইলিউরের (মাঝে মাঝে প্রাণঘাতী) ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। লিভারের ক্ষতির লক্ষণ (বমি বমি ভাব, ক্লান্তি, গাঢ় রঙের প্রস্রাব, জন্ডিস) থাকলে পর্যবেক্ষণ করুন এবং লিভারের কার্যক্ষমতায় সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসা বন্ধ করুন। যাদের আগে থেকেই গুরুতর লিভার রোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অ্যাজিথ্রোমাইসিন ব্যবহার নিষিদ্ধ।

সুপার-ইনফেকশন এবং C. difficile-সম্পর্কিত ডায়রিয়া

অন্যান্য সব ব্রড-স্পেকট্রাম অ্যান্টিবায়োটিকের মতোই, দীর্ঘমেয়াদি অ্যাজিথ্রোমাইসিন ব্যবহারের ফলে ক্লস্ট্রিডিওইডিস ডিফিসাইল (Clostridioides difficile)-সহ অ-সংবেদনশীল জীবাণুর অতিরিক্ত বৃদ্ধি ঘটতে পারে। চিকিৎসা চলাকালীন বা পরে যদি কোনো রোগীর তীব্র, দীর্ঘস্থায়ী, বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া দেখা দেয়, তাহলে অবিলম্বে CDAD-এর জন্য পরীক্ষা করানো উচিত।

মায়াস্থেনিয়া গ্রেভিস

অ্যাজিথ্রোমাইসিন মায়াস্থেনিয়া গ্রেভিসের উপসর্গ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এই স্নায়ু-পেশিজনিত অবস্থার রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন।

৬ সপ্তাহের কম বয়সী শিশু

হাইপারট্রফিক পাইলোরিক স্টেনোসিসের (HPS) সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে নবজাতক এবং ৬ সপ্তাহের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে অ্যাজিথ্রোমাইসিন সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত। HPS-এর লক্ষণ, যেমন জোরে ছিটকে বমি হওয়া এবং খাবার সহ্য করতে না পারা, লক্ষ্য রাখুন।

অ্যান্টাসিড

রোগীদের অ্যাজিথ্রোমাইসিনের সাথে একই সময়ে অ্যালুমিনিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড খাওয়া উচিত নয়, কারণ এগুলো ওষুধের সর্বোচ্চ প্লাজমা ঘনত্ব কমিয়ে দিতে পারে। উভয় ওষুধ সেবনের মধ্যে অন্তত ২ ঘণ্টার ব্যবধান রাখুন।

অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল রেজিস্ট্যান্স

দীর্ঘমেয়াদি অ্যাজিথ্রোমাইসিন ব্যবহার — বিশেষত COPD বা সিস্টিক ফাইব্রোসিসের প্রতিরোধমূলক চিকিৎসায় — শরীরে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে ম্যাক্রোলাইড (macrolide) প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা শুরুর আগে রোগীদের নন-টিউবারকুলাস মাইকোব্যাকটেরিয়ার (nontuberculous mycobacteria) জন্য স্ক্রিনিং করানো উচিত।

গাড়ি চালানো ও ভারী যন্ত্রপাতি পরিচালনা

অ্যাজিথ্রোমাইসিন কিছু রোগীর ক্ষেত্রে মাথা ঘোরা বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। গাড়ি চালানো বা ভারী যন্ত্রপাতি পরিচালনার আগে রোগীদের নিজ নিজ প্রতিক্রিয়া যাচাই করে নেওয়া উচিত।

মাত্রাধিক্যতা

অ্যাজিথ্রোমাইসিন অতিরিক্ত মাত্রায় সেবনের (overdose) ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক (antidote) নেই। অতিরিক্ত মাত্রায় সেবনের ফলে নিম্নলিখিত সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে:

  • তীব্র বমি বমি ভাব, বমি, এবং পেটে ব্যথা
  • ডায়রিয়া
  • সাময়িক শ্রবণশক্তি হ্রাস অথবা কানে শব্দ শোনা (টিনিটাস)
  • QTc ইন্টারভাল উল্লেখযোগ্যভাবে দীর্ঘায়িত হওয়া, যার ফলে গুরুতর হৃদস্পন্দনজনিত অ্যারিদমিয়ার (cardiac arrhythmia) ঝুঁকি থাকে
  • অত্যধিক উচ্চ মাত্রায় সেবনে সম্ভাব্য লিভার-বিষক্রিয়া (hepatic toxicity)

চিকিৎসা লক্ষণ অনুযায়ী ও সহায়তামূলক (symptomatic and supportive) হয়ে থাকে। QT ইন্টারভাল দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকির কারণে অতিরিক্ত মাত্রায় সেবনের সন্দেহ হলে হৃদযন্ত্র পর্যবেক্ষণ (ECG) করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অতিরিক্ত মাত্রায় সেবনের সন্দেহ হলে, অবিলম্বে বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে (poison control center) যোগাযোগ করুন অথবা জরুরি চিকিৎসা সেবা নিন। অ্যাজিথ্রোমাইসিন শরীরের টিস্যুতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রোটিনের সাথে দৃঢ়ভাবে যুক্ত হয়ে থাকে বলে হেমোডায়ালাইসিসের মাধ্যমে তা কার্যকরভাবে অপসারণ করা যায় না।

সংরক্ষণ

  • ট্যাবলেট এবং শুকনো পাউডার ৩০°সে (৮৬°ফা)-এর নিচে তাপমাত্রায়, সরাসরি আলো ও আর্দ্রতা থেকে সুরক্ষিত, ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করুন।
  • খাওয়ার সাসপেনশন (তৈরি করার পর): ৫°সে থেকে ৩০°সে (৪১°ফা–৮৬°ফা) তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করুন। চিকিৎসার পুরো কোর্স শেষ হওয়ার পর অবশিষ্ট সাসপেনশন ফেলে দিন।
  • শিরায় প্রয়োগের (IV) ভায়াল (মিশ্রিত করার আগে): ৩০°সে (৮৬°ফা) অথবা তার নিচে তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করুন। ইনফিউশনের জন্য মিশ্রিত করার পর, দ্রবণটি ঘরের তাপমাত্রায় ২৪ ঘণ্টা অথবা ৫°সে তাপমাত্রায় ফ্রিজে সংরক্ষণ করলে সর্বোচ্চ ৭ দিন পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকে।
  • সব ধরনের ফর্মুলেশন শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
  • লেবেল বা প্যাকেজিংয়ে উল্লেখিত মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখের পর কোনো ফর্মুলেশন ব্যবহার করবেন না।
  • মিশ্রিত করা খাওয়ার সাসপেনশন অথবা শিরায় প্রয়োগের (IV) দ্রবণ হিমায়িত (ফ্রিজে জমাট) করবেন না।

শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার

শিশু রোগী

কমিউনিটি-অ্যাকোয়ার্ড নিউমোনিয়া (community-acquired pneumonia), তীব্র ওটাইটিস মিডিয়া (acute otitis media), এবং তীব্র ব্যাকটেরিয়াজনিত সাইনোসাইটিসের ক্ষেত্রে ৬ মাস বা তার বেশি বয়সী শিশুদের জন্য অ্যাজিথ্রোমাইসিন খাওয়ার সাসপেনশন অনুমোদিত। ফ্যারিঞ্জাইটিস ও টনসিলাইটিসের ক্ষেত্রে এটি ২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের জন্য অনুমোদিত। খাওয়ার সাসপেনশনের একক-ডোজ প্যাকেট (১ গ্রাম) এবং শিরায় প্রয়োগযোগ্য (IV) ফর্মুলেশন ১৮ বছরের কম বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রে নিরাপদ ও কার্যকর কি না তা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ডোজ শরীরের ওজনের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়; প্রেসক্রাইবিং চিকিৎসকের সঠিক হিসাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বয়স্ক রোগী

শুধুমাত্র বয়সের কারণে ডোজ সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই। তবে বয়স্ক রোগীদের হৃদস্পন্দনজনিত অ্যারিদমিয়ার (বিশেষত QTc দীর্ঘায়িত হওয়া এবং টরসেড ডি পয়েন্টেস) ঝুঁকি বেশি থাকে, তাই যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। উচ্চ-ঝুঁকিসম্পন্ন বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসা শুরুর আগে ECG পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।

কিডনি সমস্যাযুক্ত রোগী

মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার কিডনি সমস্যাযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে (GFR >১০ মিলি/মিনিট) ডোজ সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই। তবে মারাত্মক কিডনি সমস্যাযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে অ্যাজিথ্রোমাইসিন সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত, কারণ এই গোষ্ঠীর রোগীদের ক্ষেত্রে ওষুধের ফার্মাকোকাইনেটিক্স (pharmacokinetics) সম্পূর্ণভাবে গবেষণা করা হয়নি।

লিভার সমস্যাযুক্ত রোগী

যেহেতু অ্যাজিথ্রোমাইসিন মূলত লিভারের মাধ্যমে বিপাকিত (metabolized) ও নিঃসৃত হয়, তাই মারাত্মক লিভার রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার নিষিদ্ধ। মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার লিভার সমস্যাযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে অ্যাজিথ্রোমাইসিন সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত এবং চিকিৎসাকালীন লিভারের কার্যক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

Disclaimer

The information provided is accurate to our best practices, but it does not replace professional medical advice. We cannot guarantee its completeness or accuracy. The absence of specific information about a drug should not be seen as an endorsement. We are not responsible for any consequences resulting from this information, so consult a healthcare professional for any concerns or questions.

Doctor
Cart
Account