জেনেরিক ওষুধ

Adrenaline: বাংলাদেশে ব্র্যান্ড, দাম ও ব্যবহার

প্রতিষ্ঠিত/জরুরি নির্দেশনা অ্যানাফিল্যাক্সিস: পোকার কামড়, খাবার, ওষুধ, ল্যাটেক্স বা অজানা কারণে হওয়া মারাত্মক অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া (অ্যানাফিল্যাক্সিস)-এর প্রথম সারির জরুরি চিকিৎসা হিসেবে…

ধরন:Injection

Adrenaline সম্পর্কে

Adrenaline-এর নির্দেশনা

প্রতিষ্ঠিত/জরুরি নির্দেশনা

  • অ্যানাফিল্যাক্সিস: পোকার কামড়, খাবার, ওষুধ, ল্যাটেক্স বা অজানা কারণে হওয়া মারাত্মক অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া (অ্যানাফিল্যাক্সিস)-এর প্রথম সারির জরুরি চিকিৎসা হিসেবে Adrenaline ব্যবহৃত হয়।
  • কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট (ACLS): অ্যাসিস্টোল, পালসলেস ইলেকট্রিক্যাল অ্যাক্টিভিটি এবং শক-অপ্রতিক্রিয়াশীল ভেন্ট্রিকুলার ফাইব্রিলেশন/ভেন্ট্রিকুলার টাকিকার্ডিয়াসহ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ব্যবস্থাপনায় অ্যাডভান্সড কার্ডিওভাসকুলার লাইফ সাপোর্ট (ACLS) প্রোটোকলের অংশ হিসেবে Adrenaline ব্যবহৃত হয়।
  • তীব্র হাঁপানি/ব্রঙ্কোস্পাজম: ইনহেলড ব্রঙ্কোডাইলেটর (যেমন সালবিউটামল) থেরাপিতে পর্যাপ্ত সাড়া না দেওয়া মারাত্মক, জীবনসংকটাপন্ন ব্রঙ্কোস্পাজম বা তীব্র হাঁপানির ক্ষেত্রে Adrenaline ব্যবহৃত হতে পারে।
  • সেপটিক শক (সহায়ক): প্রথম সারির ভ্যাসোপ্রেসর ও তরল থেরাপিতে পর্যাপ্ত সাড়া না দেওয়া সেপটিক শক-জনিত হাইপোটেনশন রোগীদের গড় ধমনী রক্তচাপ বাড়াতে সহায়ক ভ্যাসোপ্রেসর হিসেবে Adrenaline ব্যবহৃত হয়।

সংযোজন/সহায়ক ব্যবহার

  • স্থানীয় অ্যানেস্থেটিকের সংযোজক: স্থানীয়/আঞ্চলিক অ্যানেস্থেসিয়ার স্থায়িত্ব বাড়াতে এবং অস্ত্রোপচারের স্থানে রক্তক্ষরণ কমাতে লিডোকেইনের মতো স্থানীয় অ্যানেস্থেটিকের সাথে Adrenaline মেশানো হয়।
  • ক্রুপ: মাঝারি থেকে তীব্র ক্রুপ (ল্যারিঞ্জোট্র্যাকিওব্রঙ্কাইটিস)-এ শ্বাসনালীর ফোলাভাব কমাতে হাসপাতাল সেটিংয়ে নেবুলাইজড Adrenaline ব্যবহৃত হয়।

জরুরি অবস্থার বাইরে (যেমন ভ্যাসোকনস্ট্রিক্টর সংযোজক হিসেবে) Adrenaline-এর ব্যবহার প্রমিত ক্লিনিক্যাল প্রোটোকল ও চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে করা উচিত।

Adrenaline-এর মাত্রা ও সেবনবিধি

অ্যানাফিল্যাক্সিস

রোগীর ধরনমাত্রাপথ
প্রাপ্তবয়স্ক ও ৩০ কেজি বা তার বেশি ওজনের শিশু০.৩-০.৫ মিগ্রা (১ মিগ্রা/মিলি দ্রবণের ০.৩-০.৫ মিলি)ইন্ট্রামাসকুলার (উরুর সামনের-পার্শ্বে, প্রয়োজনে প্রতি ৫-১৫ মিনিটে পুনরাবৃত্তি)
৩০ কেজির কম ওজনের শিশু০.০১ মিগ্রা/কেজি (সর্বোচ্চ একক মাত্রা ০.৩ মিগ্রা)ইন্ট্রামাসকুলার, উরুর সামনের-পার্শ্বে

কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট (ACLS)

শিরাপথে/ইন্ট্রাঅসিয়াসে ১ মিগ্রা প্রতি ৩-৫ মিনিটে; শিরাপথ না থাকলে এন্ডোট্রাকিয়াল পথে ২-২.৫ মিগ্রা মিশ্রিত করে দেওয়া হয় (শোষণ কম হওয়ায় বেশি মাত্রা প্রয়োজন)।

তীব্র হাঁপানি/ব্রঙ্কোস্পাজম

ইনহেলড ব্রঙ্কোডাইলেটর ব্যর্থ হলে এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে, ইন্ট্রামাসকুলার বা সাবকিউটেনিয়াস পথে ০.৩-০.৫ মিগ্রা, প্রয়োজনে প্রতি ২০ মিনিট থেকে ৪ ঘণ্টায় পুনরাবৃত্তি।

সেপটিক শক (সহায়ক ভ্যাসোপ্রেসর)

ক্রিটিক্যাল কেয়ার সেটিংয়ে হেমোডাইনামিক মনিটরিং করে ধারাবাহিক শিরাপথ ইনফিউশন হিসেবে, সাধারণত ০.০৫-০.১ মাইক্রোগ্রাম/কেজি/মিনিট শুরু করে লক্ষ্য রক্তচাপ অনুযায়ী মাত্রা সমন্বয় করা হয়।

স্থানীয় অ্যানেস্থেটিকের সংযোজক হিসেবে

কম ঘনত্বে (সাধারণত ১:১,০০,০০০ থেকে ১:২,০০,০০০) স্থানীয় অ্যানেস্থেটিক দ্রবণের সাথে মিশিয়ে চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রমিত প্রোটোকল অনুযায়ী দেওয়া হয়।

জীবনসংকটাপন্ন অ্যানাফিল্যাক্সিস বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে Adrenaline অবিলম্বে দিতে হবে; আপেক্ষিক সতর্কতা যাচাইয়ের জন্য দেরি করা উচিত নয়। অটো-ইনজেক্টর ডিভাইসগুলো অ্যানাফিল্যাক্সিস সন্দেহ হলে রোগী, অভিভাবক বা পাশে থাকা ব্যক্তির তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্য তৈরি, এরপর জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।

Adrenaline-এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

জরুরি অবস্থায় ব্যবহৃত Adrenaline-এর সাধারণ, সাধারণত সাময়িক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • উদ্বেগ, অস্থিরতা বা ভয়ের অনুভূতি
  • কম্পন (ট্রেমর)
  • বুক ধড়ফড় ও দ্রুত হৃদস্পন্দন
  • মাথাব্যথা
  • ঘাম ও ফ্যাকাশে ভাব
  • মাথা ঘোরা
  • বমি বমি ভাব বা বমি

কম দেখা যায় কিন্তু বেশি গুরুতর প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে উল্লেখযোগ্য হাইপারটেনশন, কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়া (ভেন্ট্রিকুলার অ্যারিদমিয়াসহ), পালমোনারি এডিমা এবং, বিরলভাবে, অতিরিক্ত মাত্রা বা দ্রুত শিরাপথে দেওয়ার ক্ষেত্রে সেরিব্রাল হেমোরেজ। এসব গুরুতর প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা মূল্যায়ন প্রয়োজন।

Adrenaline-এর প্রতিনির্দেশনা

প্রকৃত জীবনসংকটাপন্ন জরুরি অবস্থায় (অ্যানাফিল্যাক্সিস বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) Adrenaline-এর কোনো পরম প্রতিনির্দেশনা নেই, কারণ চিকিৎসার উপকারিতা সবসময় ঝুঁকির চেয়ে বেশি।

জরুরি নয় এমন, ঐচ্ছিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে (যেমন স্থানীয় অ্যানেস্থেটিকের সংযোজক হিসেবে), যাদের Adrenaline বা এর ফর্মুলেশনের যেকোনো উপাদানের প্রতি জানা অ্যালার্জি (হাইপারসেনসিটিভিটি) আছে তাদের ক্ষেত্রে এটি প্রতিনির্দেশিত, এবং সীমিত সমান্তরাল রক্ত সরবরাহযুক্ত অঙ্গে (আঙুল, পায়ের আঙুল, নাক, কান বা যৌনাঙ্গ) ইস্কেমিক টিস্যু ক্ষতির ঝুঁকির কারণে ইনজেকশন দেওয়া উচিত নয়।

Adrenaline সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

Adrenaline কী কাজে ব্যবহৃত হয়?

Adrenaline একটি জরুরি ওষুধ যা মারাত্মক অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া (অ্যানাফিল্যাক্সিস), কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এবং অন্যান্য চিকিৎসায় সাড়া না দেওয়া তীব্র হাঁপানির আক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি স্থানীয় অ্যানেস্থেটিকের কার্যকারিতা দীর্ঘায়িত করতেও যোগ করা হয়।

Adrenaline কত দ্রুত কাজ করে?

ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হলে Adrenaline কয়েক মিনিটের মধ্যে কাজ শুরু করে, যে কারণে এটি অ্যানাফিল্যাক্সিসের প্রথম সারির জরুরি চিকিৎসা। এর প্রভাব স্বল্পস্থায়ী, তাই জরুরি চিকিৎসা সহায়তা না আসা পর্যন্ত প্রায়ই পুনরাবৃত্তি মাত্রা প্রয়োজন হয়।

Adrenaline কি মুখে খাওয়া যায়?

না। Adrenaline পাচনতন্ত্রে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় এবং অবশ্যই ইনজেকশনের মাধ্যমে (জরুরি অবস্থা অনুযায়ী ইন্ট্রামাসকুলার, সাবকিউটেনিয়াস বা শিরাপথে) দিতে হবে, কখনো গিলে খাওয়া যাবে না।

গর্ভাবস্থায় Adrenaline ব্যবহার কি নিরাপদ?

স্পষ্টভাবে প্রয়োজন হলেই, যেমন অ্যানাফিল্যাক্সিস বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে, গর্ভাবস্থায় Adrenaline ব্যবহার করা উচিত, যেখানে মায়ের জন্য উপকারিতা (এবং পরোক্ষভাবে শিশুর জন্যও) সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি। সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, তবে প্রকৃত জরুরি অবস্থার চিকিৎসা কখনো বিলম্বিত করা উচিত নয়।

Adrenaline-এর সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কী কী?

সাধারণ প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে উদ্বেগ, কম্পন, বুক ধড়ফড় (দ্রুত বা জোরে হৃদস্পন্দন), মাথাব্যথা, ঘাম এবং ফ্যাকাশে ভাব। জরুরি অবস্থায় Adrenaline ব্যবহারের সময় এগুলো সাধারণত সাময়িক ও প্রত্যাশিত।

কোন পরিস্থিতিতে Adrenaline দেওয়া উচিত নয়?

অ্যানাফিল্যাক্সিস বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের মতো প্রকৃত জীবনসংকটাপন্ন জরুরি অবস্থায় Adrenaline-এর কোনো পরম প্রতিনির্দেশনা নেই - এটি সবসময় দ্রুত দেওয়া উচিত। জরুরি নয় এমন ব্যবহারে, যাদের এতে জানা অ্যালার্জি আছে তাদের এবং আঙুল, পায়ের আঙুল, কান, নাক বা যৌনাঙ্গে Adrenaline ইনজেকশন এড়িয়ে চলা উচিত।

ডিসক্লেইমার

এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।

DoctorBlogArticles