জেনেরিক ওষুধ

Apremilast: বাংলাদেশে ব্র্যান্ড, দাম ও ব্যবহার

Apremilast একটি ফসফোডাইএস্টারেজ-৪ (PDE4) ইনহিবিটর, যা নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত: প্রাপ্তবয়স্কদের সক্রিয় সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস চিকিৎসায় (প্রতিষ্ঠিত/অনুমোদিত ব্যবহার)।

ধরন:Tablet

Apremilast সম্পর্কে

Apremilast-এর নির্দেশনা

Apremilast একটি ফসফোডাইএস্টারেজ-৪ (PDE4) ইনহিবিটর, যা নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত:

  • প্রাপ্তবয়স্কদের সক্রিয় সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস চিকিৎসায় (প্রতিষ্ঠিত/অনুমোদিত ব্যবহার)।
  • প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের (৬ বছর ও তদূর্ধ্ব, ওজন কমপক্ষে ২০ কেজি) মাঝারি থেকে তীব্র প্লাক সোরিয়াসিস চিকিৎসায়, যাদের ফটোথেরাপি বা সিস্টেমিক থেরাপি প্রয়োজন (প্রতিষ্ঠিত/অনুমোদিত ব্যবহার)।
  • প্রাপ্তবয়স্কদের বেহসেট রোগ (Behçet's disease) সম্পর্কিত মুখের ঘা চিকিৎসায় (প্রতিষ্ঠিত/অনুমোদিত ব্যবহার)।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে Apremilast মাঝে মাঝে অন্যান্য প্রদাহজনিত রোগে (যেমন কিছু ধরনের ওরাল লাইকেন প্ল্যানাস) অফ-লেবেল ব্যবহৃত হতে পারে, তবে এ ধরনের ব্যবহারের প্রমাণ সীমিত এবং এটি অনুমোদিত নির্দেশনা নয়।

Apremilast-এর মাত্রা ও সেবনবিধি

নির্দেশনাসেবনবিধি
সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস / প্লাক সোরিয়াসিস / বেহসেট রোগের মুখের ঘা (প্রাপ্তবয়স্ক)৫ দিন ধরে ধীরে ধীরে মাত্রা বাড়াতে হয়, শুরুতে দিনে একবার ১০ মি.গ্রা. থেকে শুরু করে প্রতিদিন ১০ মি.গ্রা. করে বাড়িয়ে, ৬ষ্ঠ দিন থেকে রক্ষণাবেক্ষণ মাত্রা হিসেবে দিনে দুইবার ৩০ মি.গ্রা.-এ পৌঁছাতে হয়।
তীব্র বৃক্ক (কিডনি) অকার্যকারিতা (CrCl <৩০ mL/min)শুধু সকালের সময়সূচী অনুসারে মাত্রা বাড়িয়ে (সন্ধ্যার ডোজ বাদ দিয়ে) রক্ষণাবেক্ষণ মাত্রা দিনে একবার ৩০ মি.গ্রা.-এ পৌঁছাতে হয়।

Apremilast ট্যাবলেট খাবারের সাথে বা ছাড়া, পুরোটা গিলে খেতে হবে। ট্যাবলেট ভাঙা, চূর্ণ করা বা চিবানো যাবে না। কোনো ডোজ মিস হলে যত দ্রুত সম্ভব তা গ্রহণ করতে হবে, তবে পরবর্তী ডোজের সময় কাছাকাছি হলে তা বাদ দিতে হবে; একসাথে দ্বিগুণ ডোজ নেওয়া যাবে না। যেহেতু প্রাথমিক মাত্রা বৃদ্ধির সময়কালে পাকস্থলী-সংক্রান্ত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বেশি দেখা যায়, তাই ধাপে ধাপে মাত্রা বৃদ্ধির সময়সূচী নির্দেশ অনুযায়ী সম্পূর্ণভাবে অনুসরণ করতে হবে; মিস হওয়া ডোজের পর মাত্রা বৃদ্ধি পুনরায় শুরু করার বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Apremilast-এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

Apremilast-এর সাথে সম্পর্কিত সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলো, বিশেষত প্রাথমিক মাত্রা বৃদ্ধির সময়কালে, নিম্নরূপ:

  • ডায়রিয়া (প্রায়ই প্রথম দিকে হয় এবং নিজে থেকেই কমে যায়)
  • বমি বমি ভাব
  • মাথাব্যথা (টেনশন হেডেক সহ)
  • উপরের শ্বাসনালীর সংক্রমণ
  • বমি
  • ওজন হ্রাস

কম দেখা গেলেও চিকিৎসাগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবের মধ্যে রয়েছে বিষণ্নতা ও মেজাজের পরিবর্তন, এবং বিরল ক্ষেত্রে অ্যাঞ্জিওএডিমার মতো অতি সংবেদনশীলতাজনিত প্রতিক্রিয়া। বিষণ্নতা/আত্মহত্যার প্রবণতা ঝুঁকি এবং ওজন পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সতর্কতা অংশ দেখুন।

Apremilast-এর প্রতিনির্দেশনা

যাদের apremilast-এর প্রতি জ্ঞাত অতি সংবেদনশীলতা (hypersensitivity) রয়েছে অথবা এর যেকোনো উপাদানের প্রতি অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে Apremilast ব্যবহার নিষিদ্ধ।

Apremilast সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

Apremilast কীসের জন্য ব্যবহৃত হয়?

Apremilast প্রাপ্তবয়স্কদের সক্রিয় সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস, ফটোথেরাপি বা সিস্টেমিক থেরাপির উপযুক্ত মাঝারি থেকে তীব্র প্লাক সোরিয়াসিস, এবং বেহসেট রোগ সম্পর্কিত মুখের ঘায়ের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়; এটি ৬ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের এবং কমপক্ষে ২০ কেজি ওজনের শিশুদের প্লাক সোরিয়াসিসের জন্যও অনুমোদিত।

Apremilast কম মাত্রায় শুরু করে ধীরে ধীরে বাড়াতে হয় কেন?

Apremilast-এর মাত্রা ৫ দিন ধরে ধাপে ধাপে বাড়ানো হয় যাতে বমি বমি ভাব ও ডায়রিয়ার মতো পাকস্থলী-সংক্রান্ত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা ও তীব্রতা কমে, যা সরাসরি পূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ মাত্রা দিয়ে চিকিৎসা শুরু করলে বেশি দেখা যায়। চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের দেওয়া মাত্রা বৃদ্ধির সময়সূচী সঠিকভাবে অনুসরণ করুন।

Apremilast কি বিষণ্নতা সৃষ্টি করতে পারে?

হ্যাঁ। Apremilast ব্যবহারের সাথে বিষণ্নতার ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গেছে, যার মধ্যে নতুন বা বেড়ে যাওয়া বিষণ্নতা এবং বিরল ক্ষেত্রে আত্মহত্যার চিন্তাও অন্তর্ভুক্ত। Apremilast গ্রহণকালে মেজাজের পরিবর্তন, উদ্বেগ, বা আত্মক্ষতির চিন্তা লক্ষ্য করলে অবিলম্বে চিকিৎসককে জানান বা জরুরি সেবা নিন, বিশেষত যদি আপনার আগে বিষণ্নতার ইতিহাস থাকে।

Apremilast কি ওজন কমিয়ে দেয়?

Apremilast ব্যবহারে অব্যাখ্যাত ওজন হ্রাসের খবর পাওয়া গেছে। চিকিৎসাকালে চিকিৎসক পর্যায়ক্রমে আপনার শরীরের ওজন পর্যবেক্ষণ করবেন, এবং কোনো উল্লেখযোগ্য বা অব্যাখ্যাত ওজন হ্রাস হলে তা দ্রুত জানানো উচিত, কারণ এর জন্য মূল্যায়ন বা ওষুধ বন্ধ করার প্রয়োজন হতে পারে।

রিফাম্পিন বা কার্বামাজেপিন, ফেনিটোইনের মতো মৃগীরোগের ওষুধের সাথে কি আমি Apremilast খেতে পারি?

না। রিফাম্পিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটোইন, ফেনোবারবিটাল এবং সেন্ট জনস ওয়ার্টের মতো শক্তিশালী CYP3A4 প্রবর্তক ওষুধ Apremilast-এর রক্তে ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয় এবং এর কার্যকারিতা নষ্ট করতে পারে। এই ওষুধগুলোর সাথে Apremilast একত্রে গ্রহণ করা উচিত নয়; আপনি যেসব ওষুধ খাচ্ছেন তা চিকিৎসককে জানান।

গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে Apremilast কি নিরাপদ?

গর্ভাবস্থায় Apremilast ব্যবহারের তথ্য সীমিত, তাই এটি শুধুমাত্র স্পষ্টভাবে প্রয়োজনীয় হলে এবং সম্ভাব্য উপকারিতা ভ্রূণের সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলে ব্যবহার করা উচিত। Apremilast বুকের দুধে নির্গত হয় কিনা তা জানা নেই, তাই স্তন্যদানকালে এটি ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ডিসক্লেইমার

এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।

DoctorBlogArticles