
Cloram0.5%
Ibn-Sina Pharmaceuticals Ltd.
চোখে ব্যবহারের ক্ষেত্রে (আই ড্রপ / আই মলম) — প্রতিষ্ঠিত ব্যবহার Chloramphenicol আই ড্রপ (০.৫%) ও আই মলম (১%) চোখের উপরিভাগের ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ ইত্যাদি।
Chloramphenicol আই ড্রপ (০.৫%) ও আই মলম (১%) চোখের উপরিভাগের ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, যেমন ব্যাকটেরিয়াল কনজাংটিভাইটিস এবং কর্নিয়া/কনজাংটিভার অন্যান্য সংক্রমণে ব্যবহৃত হয়, যা Staphylococcus aureus, Streptococcus pneumoniae, Escherichia coli, Haemophilus influenzae, Klebsiella/Enterobacter প্রজাতি, Moraxella lacunata এবং Neisseria প্রজাতির মতো সংবেদনশীল জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট হয়ে থাকে। Chloramphenicol চোখের সংক্রমণে একটি প্রতিষ্ঠিত ও নির্দেশিকা-সমর্থিত প্রথম সারির স্থানীয় (topical) চিকিৎসা। সামান্য বা এমনিতেই সেরে যাওয়ার মতো সংক্রমণে বা কেবল প্রতিরোধমূলকভাবে Chloramphenicol ব্যবহার করা উচিত নয়।
মুখে খাওয়ার Chloramphenicol শুধুমাত্র গুরুতর, প্রাণঘাতী হতে পারে এমন সংক্রমণের জন্য সংরক্ষিত, যেখানে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়, প্রতিনির্দেশিত, বা পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে রয়েছে টাইফয়েড জ্বর (Salmonella typhi ও অন্যান্য Salmonella প্রজাতি), Haemophilus influenzae দ্বারা সৃষ্ট ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস এবং গুরুতর রিকেটসিয়াল সংক্রমণ। সাধারণ সর্দি-কাশি, ভাইরাল ইনফ্লুয়েঞ্জা বা সাধারণ গলাব্যথার মতো সামান্য সংক্রমণে বা প্রতিরোধমূলকভাবে Chloramphenicol কখনোই ব্যবহার করা উচিত নয়। মারাত্মক অস্থিমজ্জা বিষক্রিয়ার ঝুঁকির কারণে (সতর্কতা অংশ দেখুন), মুখে খাওয়ার Chloramphenicol কেবল চিকিৎসক ও রক্ত পরীক্ষার নিবিড় তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করা হয়।
Chloramphenicol-এর মাত্রা ও সেবনবিধি ফরমুলেশন ও নির্দেশনা অনুযায়ী উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন হয়, এবং সর্বদা একজন যোগ্য চিকিৎসকের দ্বারা নির্ধারিত হতে হবে - নিচের তথ্য একটি সাধারণ নির্দেশিকা মাত্র, সব রোগী বা সব সংক্রমণের জন্য একই মাত্রা প্রযোজ্য নয়।
| ফরমুলেশন | নির্দেশনা | জনগোষ্ঠী | সাধারণ মাত্রা |
|---|---|---|---|
| আই ড্রপ (Chloramphenicol ০.৫%) | ব্যাকটেরিয়াল কনজাংটিভাইটিস / চোখের উপরিভাগের সংক্রমণ | প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু | আক্রান্ত চোখে প্রতি ১-৪ ঘণ্টা অন্তর ১-২ ফোঁটা (তীব্র পর্যায়ে সাধারণত প্রথম ৭২ ঘণ্টায় দিনে ৪-৬ বার), উন্নতি হলে ব্যবহারের মাত্রা কমানো হয়; সাধারণত চিকিৎসার মেয়াদ প্রায় ৭ দিন এবং চিকিৎসকের পুনঃমূল্যায়ন ছাড়া ৩ সপ্তাহের বেশি চালিয়ে যাওয়া উচিত নয়। |
| আই মলম (Chloramphenicol ১%) | ব্যাকটেরিয়াল কনজাংটিভাইটিস / চোখের উপরিভাগের সংক্রমণ | প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু | নিচের নেত্রপল্লবের ভেতরে দিনে ৩-৪ বার (প্রতি ৪-৬ ঘণ্টা অন্তর) প্রায় ১ সেন্টিমিটার পরিমাণ মলম প্রয়োগ, অথবা দিনের বেলার ড্রপের পাশাপাশি রাতে শোবার আগে একবার, চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী। |
| ক্যাপসুল / সাসপেনশন | গুরুতর সিস্টেমিক সংক্রমণ (যেমন টাইফয়েড জ্বর), যেখানে নিরাপদ অ্যান্টিবায়োটিক উপযুক্ত নয় | প্রাপ্তবয়স্ক | প্রতি ৬ ঘণ্টা অন্তর বিভক্ত মাত্রায় দৈনিক ৫০ মি.গ্রা./কেজি; কম সংবেদনশীল জীবাণুর ক্ষেত্রে নিবিড় রক্ত পরীক্ষার তত্ত্বাবধানে দৈনিক ১০০ মি.গ্রা./কেজি পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে এবং যত দ্রুত সম্ভব কমিয়ে আনা হয়। |
| ক্যাপসুল / সাসপেনশন | গুরুতর সিস্টেমিক সংক্রমণ | নবজাতক-উত্তর শিশু | প্রতি ৬ ঘণ্টা অন্তর বিভক্ত মাত্রায় দৈনিক ৫০ মি.গ্রা./কেজি; গুরুতর সংক্রমণে বিশেষজ্ঞ তত্ত্বাবধানে ও রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে দৈনিক ১০০ মি.গ্রা./কেজি পর্যন্ত ব্যবহার করা যেতে পারে। |
| ক্যাপসুল / সাসপেনশন | গুরুতর সিস্টেমিক সংক্রমণ | নবজাতক | যকৃতের অপরিণত বিপাক ক্ষমতার কারণে বিশেষজ্ঞ (শিশু/নবজাতক বিশেষজ্ঞ) দ্বারা পৃথকভাবে নির্ধারিত মাত্রা প্রয়োজন; প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী বড় শিশুদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম মাত্রা ব্যবহৃত হয়, সাথে সিরাম মাত্রা ও রক্ত পরীক্ষার বাধ্যতামূলক পর্যবেক্ষণ থাকে। বিশেষজ্ঞের নির্দেশনা ছাড়া কখনও নিজে থেকে দেওয়া উচিত নয়। |
| ক্যাপসুল / সাসপেনশন | যকৃত বা বৃক্কের কার্যক্ষমতা হ্রাস | প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু | মাত্রা হ্রাস ও ঘন ঘন পর্যবেক্ষণ সুপারিশ করা হয়; সুনির্দিষ্ট সমন্বয় চিকিৎসক অঙ্গের কার্যক্ষমতা ও সম্ভব হলে সিরাম Chloramphenicol মাত্রার ভিত্তিতে ঠিক করেন। |
আই ড্রপ: হাত ধুয়ে নিন, মাথা পেছনে হেলিয়ে নিচের নেত্রপল্লব আলতোভাবে টেনে একটি ফোঁটা ফেলুন, চোখ বন্ধ করে ভেতরের কোণায় প্রায় এক মিনিট আলতো চাপ দিন যাতে ঔষধ নাক দিয়ে চলে না যায়।
আই মলম: একইভাবে নেত্রপল্লব টেনে প্রায় ১ সেন্টিমিটার মলম প্রয়োগ করুন এবং চোখ বন্ধ করে আলতোভাবে পলক ফেলুন; রাতে শোবার আগে প্রয়োগ করলে ঔষধ দীর্ঘক্ষণ কার্যকর থাকে।
ক্যাপসুল/সাসপেনশন: ক্যাপসুল পূর্ণ গ্লাস পানি দিয়ে গিলে নিন; সাসপেনশন প্রতিবার ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাপক দিয়ে মাপুন (সাধারণ চামচ নয়); সমান বিরতিতে (সাধারণত প্রতি ৬ ঘণ্টা) সেবন করুন এবং চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া কোর্স মাঝপথে বন্ধ করবেন না। কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহারকারীরা Chloramphenicol প্রয়োগের আগে লেন্স খুলে রাখবেন এবং সফট লেন্স পরার আগে শেষ মাত্রার পর অন্তত ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করবেন।
সাধারণ: প্রয়োগের সময় সাময়িক জ্বালাপোড়া বা চোখ কামড়ানো, চোখ লাল হওয়া, চুলকানি এবং সামান্য জ্বালা।
গুরুতর - দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: অ্যালার্জি বা অতি-সংবেদনশীলতার লক্ষণ (চোখের চারপাশে র্যাশ, ফোলাভাব, ফুসকুড়িজনিত ত্বকীয় প্রতিক্রিয়া); দীর্ঘমেয়াদী বা বারবার চোখে ব্যবহারে বিরল ক্ষেত্রে রক্তের সমস্যা দেখা দিতে পারে (দেখুন সতর্কতা অংশে অস্থিমজ্জা বিষক্রিয়া) - অস্বাভাবিক কালশিটে পড়া, রক্তক্ষরণ বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে ঔষধ বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সাধারণ: বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া ও মাথাব্যথা; সামান্য ত্বকীয় র্যাশ।
গুরুতর - দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: অস্থিমজ্জা দমন বা অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ার লক্ষণ যেমন অস্বাভাবিক কালশিটে পড়া বা রক্তক্ষরণ, গলাব্যথা, জ্বর বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি (সম্পূর্ণ ব্যাখ্যার জন্য সতর্কতা অংশ দেখুন); দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে অপটিক নিউরাইটিস (দৃষ্টি ঝাপসা বা কমে যাওয়া) ও পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি; নবজাতক ও কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে গ্রে বেবি সিনড্রোমের লক্ষণ - পেট ফোলা, বমি, ধীরে ধীরে ধূসর-নীলাভ ত্বকের রং, শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়া (দেখুন শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার অংশ); এবং তীব্র অ্যালার্জি/অ্যানাফাইল্যাক্সিসের লক্ষণ (শ্বাসকষ্ট, মুখ ফুলে যাওয়া, তীব্র র্যাশ)।
সাধারণ সর্দি-কাশি, ভাইরাল ইনফ্লুয়েঞ্জা বা সাধারণ গলাব্যথার মতো সামান্য সংক্রমণে অথবা প্রতিরোধমূলকভাবে Chloramphenicol কখনোই ব্যবহার করা উচিত নয়; এটি অ্যালার্জিভিত্তিক প্রতিনির্দেশনা না হলেও, সামান্য অসুখের তুলনায় Chloramphenicol-এর সম্ভাব্য গুরুতর বিষক্রিয়ার কারণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লিনিক্যাল সীমাবদ্ধতা।
ডিসক্লেইমার
এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।