জেনেরিক ওষুধ

Cotrimoxazole: বাংলাদেশে ব্র্যান্ড, দাম ও ব্যবহার

Cotrimoxazole একটি সংমিশ্রণ অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ওষুধ (সালফামেথক্সাজোল ও ট্রাইমেথোপ্রিম, যা কো-ট্রাইমক্সাজল/SMX-TMP নামেও পরিচিত) ইত্যাদি।

ধরন:TabletOral Suspension

Cotrimoxazole সম্পর্কে

Cotrimoxazole-এর নির্দেশনা

Cotrimoxazole একটি সংমিশ্রণ অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ওষুধ (সালফামেথক্সাজোল ও ট্রাইমেথোপ্রিম, যা কো-ট্রাইমক্সাজল/SMX-TMP নামেও পরিচিত), যা ব্যাকটেরিয়ার ফলিক অ্যাসিড সংশ্লেষণের দুটি ধাপকে ক্রমান্বয়ে বাধা দিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করে।

প্রমাণিত/অনুমোদিত ব্যবহার

  • সংবেদনশীল ব্যাকটেরিয়াজনিত মূত্রনালীর সংক্রমণ (Urinary Tract Infection)
  • শিশুদের কানের সংক্রমণ (Acute Otitis Media)
  • ব্রংকাইটিসের তীব্র বৃদ্ধি (প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে)
  • শিগেলোসিস (ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয়)
  • ভ্রমণকালীন ডায়রিয়া (Traveler's Diarrhea)
  • নিউমোসিস্টিস জাইরোভেসি নিউমোনিয়া (PCP) — চিকিৎসা এবং প্রথম সারির প্রতিরোধমূলক ব্যবহার, বিশেষত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে (যেমন HIV/AIDS বা প্রতিস্থাপন রোগী)

গাইডলাইন-সমর্থিত/সহায়ক ব্যবহার

  • নির্দিষ্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে টক্সোপ্লাজমোসিস প্রতিরোধ
  • নোকার্ডিওসিস, সংমিশ্রণ বা বিকল্প চিকিৎসার অংশ হিসেবে, যেখানে গাইডলাইন সমর্থন করে

Cotrimoxazole শুধুমাত্র প্রমাণিত বা সন্দেহভাজন সংবেদনশীল ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা উচিত, যাতে ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণুর বিকাশ কমানো যায়।

Cotrimoxazole-এর মাত্রা ও সেবনবিধি

Cotrimoxazole-এর মাত্রা সংক্রমণের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত হয় এবং ট্রাইমেথোপ্রিম উপাদানের হিসাবে প্রকাশ করা হয়।

রোগ/সংক্রমণপ্রাপ্তবয়স্ক মাত্রাশিশুদের মাত্রা (২ মাস বা তার বেশি)
মূত্রনালীর সংক্রমণ১টি ডাবল-স্ট্রেংথ (৮০০/১৬০ মি.গ্রা.) ট্যাবলেট প্রতি ১২ ঘণ্টা অন্তর, ১০-১৪ দিন৮ মি.গ্রা./কেজি/দিন (TMP) + ৪০ মি.গ্রা./কেজি/দিন (SMX), ১২ ঘণ্টা অন্তর ভাগ করে
শিগেলোসিস১টি ডাবল-স্ট্রেংথ ট্যাবলেট প্রতি ১২ ঘণ্টা অন্তর, ৫ দিনএকই ওজন-ভিত্তিক মাত্রা, ৫ দিন
ভ্রমণকালীন ডায়রিয়া১টি ডাবল-স্ট্রেংথ ট্যাবলেট প্রতি ১২ ঘণ্টা অন্তর, ৫ দিননিয়মিত ব্যবহৃত হয় না; চিকিৎসকের নির্দেশনা প্রয়োজন
নিউমোসিস্টিস জাইরোভেসি নিউমোনিয়া (চিকিৎসা)১৫-২০ মি.গ্রা./কেজি/দিন (TMP), ৬-৮ ঘণ্টা অন্তর ভাগ করে, ১৪-২১ দিনএকই উচ্চমাত্রার ওজন-ভিত্তিক রেজিমেন, বিশেষজ্ঞের নির্দেশনা অনুযায়ী
নিউমোসিস্টিস জাইরোভেসি নিউমোনিয়া (প্রতিরোধ)১টি ডাবল-স্ট্রেংথ বা সিঙ্গেল-স্ট্রেংথ ট্যাবলেট দৈনিক একবারচিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ওজন-ভিত্তিক মাত্রা, সপ্তাহে ৩ দিন

কিডনির সমস্যা থাকলে: ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স ১৫-৩০ মি.লি./মিনিট হলে স্বাভাবিক মাত্রার অর্ধেক দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়; ১৫ মি.লি./মিনিটের নিচে Cotrimoxazole ব্যবহার সুপারিশ করা হয় না, যদি না রোগী ডায়ালাইসিসে থাকেন এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকেন।

Cotrimoxazole ট্যাবলেট এক গ্লাস পানির সাথে সেবন করা উচিত এবং চিকিৎসাকালীন পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ বজায় রাখা উচিত। খাবারের সাথে বা ছাড়া সেবন করা যায়।

অ্যান্টিবায়োটিক স্টুয়ার্ডশিপ: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী Cotrimoxazole সম্পূর্ণ কোর্স সেবন করুন; চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মাঝপথে বন্ধ করবেন না, কোর্স দীর্ঘায়িত করবেন না, ডোজ বাদ দেবেন না, এবং অন্য কাউকে এই ওষুধ শেয়ার করবেন না।

Cotrimoxazole-এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

Cotrimoxazole সেবনে সাধারণত হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, তবে কিছু গুরুতর প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।

সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

  • বমি বমি ভাব, বমি
  • ক্ষুধামন্দা
  • ডায়রিয়া
  • ত্বকে র‍্যাশ
  • মাথাব্যথা

কম সাধারণ/গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া (বিস্তারিত সতর্কতা অংশে দেখুন)

  • গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া, যার মধ্যে রয়েছে স্টিভেনস-জনসন সিনড্রোম ও টক্সিক এপিডার্মাল নেক্রোলাইসিস
  • দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে রক্তের সমস্যা (অ্যাগ্রানুলোসাইটোসিস, অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া, থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া)
  • হাইপারক্যালেমিয়া, বিশেষত কিডনি সমস্যা বা বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে
  • যকৃতের ক্ষতি, যার মধ্যে কোলেস্ট্যাটিক জন্ডিসও রয়েছে (বিরল)
  • সূর্যালোকের প্রতি সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি
  • Clostridioides difficile-সম্পর্কিত ডায়রিয়া/কোলাইটিস

Cotrimoxazole-এর প্রতিনির্দেশনা

Cotrimoxazole নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে সেবন করা যাবে না:

  • যাদের সালফোনামাইড, ট্রাইমেথোপ্রিম বা Cotrimoxazole-এর যেকোনো উপাদানের প্রতি অতি সংবেদনশীলতা রয়েছে, অথবা যাদের এসব উপাদানের কারণে পূর্বে ইমিউন থ্রম্বোসাইটোপেনিয়ার ইতিহাস আছে।
  • যাদের ফোলেট ঘাটতিজনিত মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়া রয়েছে।
  • ২ মাসের কম বয়সী শিশু।
  • প্রসবকালীন সময়ে ও প্রসবের কাছাকাছি সময়ে থাকা গর্ভবতী নারী (নবজাতকের কার্নিক্টেরাসের ঝুঁকি)।
  • যাদের গুরুতর যকৃতের ক্ষতি রয়েছে।
  • যাদের কিডনির কার্যক্ষমতা এতটাই খারাপ যে তা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়।
  • যারা একই সময়ে ডোফেটিলাইড সেবন করছেন।

Cotrimoxazole সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

Cotrimoxazole কী কাজে ব্যবহৃত হয়?

Cotrimoxazole একটি সংমিশ্রণ অ্যান্টিবায়োটিক যা মূত্রনালীর সংক্রমণ, নির্দিষ্ট শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, ভ্রমণকালীন ডায়রিয়া, শিগেলোসিস এবং নিউমোসিস্টিস জাইরোভেসি নিউমোনিয়ার চিকিৎসা ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়, বিশেষত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।

Cotrimoxazole কীভাবে সেবন করব?

চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী এক গ্লাস পানির সাথে এবং পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ বজায় রেখে Cotrimoxazole সেবন করুন, খাবারের সাথে বা ছাড়া। লক্ষণ ভালো হয়ে গেলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোর্স মাঝপথে বন্ধ করবেন না।

গর্ভাবস্থায় কি Cotrimoxazole সেবন করা যাবে?

গর্ভাবস্থায়, বিশেষত প্রথম ত্রৈমাসিকে ও প্রসবের কাছাকাছি সময়ে, Cotrimoxazole সাধারণত এড়িয়ে চলা উচিত। শুধুমাত্র স্পষ্ট প্রয়োজনে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত, যেখানে নিরাপদ বিকল্প নেই এবং সম্ভাব্য উপকারিতা ঝুঁকির চেয়ে বেশি। প্রসবের কাছাকাছি সময়ে এটি নিষিদ্ধ।

কাদের Cotrimoxazole সেবন করা উচিত নয়?

যাদের সালফোনামাইড বা ট্রাইমেথোপ্রিমের প্রতি অ্যালার্জি রয়েছে, ২ মাসের কম বয়সী শিশু, ফোলেট ঘাটতিজনিত মেগালোব্লাস্টিক অ্যানিমিয়ার রোগী, গুরুতর যকৃত বা কিডনির সমস্যাযুক্ত রোগী, এবং প্রসবের কাছাকাছি সময়ে থাকা গর্ভবতী নারীদের Cotrimoxazole সেবন করা উচিত নয়।

Cotrimoxazole-এর সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কী কী?

Cotrimoxazole-এর সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বমি বমি ভাব, বমি, ক্ষুধামন্দা, ত্বকে র‍্যাশ এবং মাথাব্যথা। ত্বকে র‍্যাশ, জ্বর, অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ বা জন্ডিসের মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, কারণ এগুলো বিরল কিন্তু গুরুতর প্রতিক্রিয়ার লক্ষণ হতে পারে।

Cotrimoxazole অতিরিক্ত সেবন করলে কী করব?

অতিরিক্ত মাত্রায় Cotrimoxazole সেবনের সন্দেহ হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন বা জরুরি চিকিৎসা সেবা/বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। নিজে থেকে কোনো ঘরোয়া চিকিৎসা নেবেন না।

ডিসক্লেইমার

এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।

DoctorBlogArticles