জেনেরিক ওষুধ

Nitazoxanide: বাংলাদেশে ব্র্যান্ড, দাম ও ব্যবহার

Nitazoxanide একটি অ্যান্টিপ্রোটোজোয়াল (পরজীবীনাশক) ঔষধ, যা নির্দিষ্ট কিছু পরজীবী দ্বারা সৃষ্ট ডায়রিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

ধরন:TabletPowder for Suspension

Nitazoxanide সম্পর্কে

Nitazoxanide-এর নির্দেশনা

Nitazoxanide একটি অ্যান্টিপ্রোটোজোয়াল (পরজীবীনাশক) ঔষধ, যা নির্দিষ্ট কিছু পরজীবী দ্বারা সৃষ্ট ডায়রিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

প্রতিষ্ঠিত ব্যবহার

  • ১ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে Giardia lamblia দ্বারা সৃষ্ট ডায়রিয়া (জিয়ার্ডিয়াসিস) এর চিকিৎসায়।
  • ১ বছর বা তার বেশি বয়সী, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিক এমন রোগীদের মধ্যে Cryptosporidium parvum দ্বারা সৃষ্ট ডায়রিয়া (ক্রিপ্টোস্পোরিডিওসিস) এর চিকিৎসায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল (যেমন HIV/AIDS) রোগীদের ক্ষেত্রে কার্যকারিতা প্রমাণিত নয়।

আঞ্চলিক ব্যবহার

বাংলাদেশসহ কিছু অঞ্চলে Nitazoxanide Entamoeba histolytica দ্বারা সৃষ্ট ডায়রিয়া/আমাশয়েও ব্যবহৃত হয়, যা স্থানীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন ও ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত।

এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের নির্দেশনায় অন্যান্য পরজীবী সংক্রমণেও Nitazoxanide অফ-লেবেল ব্যবহৃত হতে পারে; এই ব্যবহারের প্রমাণ সীমিত।

Nitazoxanide-এর মাত্রা ও সেবনবিধি

Nitazoxanide সাধারণত খাবারের সাথে, ৩ দিনের কোর্স হিসেবে, বয়স অনুযায়ী নিম্নলিখিত মাত্রায় সেবন করতে হয়।

বয়সমাত্রাফর্মমেয়াদ
১–৩ বছর১০০ মি.গ্রা. প্রতি ১২ ঘণ্টায়সাসপেনশন (৫ মি.লি.)৩ দিন
৪–১১ বছর২০০ মি.গ্রা. প্রতি ১২ ঘণ্টায়সাসপেনশন (১০ মি.লি.)৩ দিন
১২ বছর ও তদূর্ধ্ব (প্রাপ্তবয়স্কসহ)৫০০ মি.গ্রা. প্রতি ১২ ঘণ্টায়ট্যাবলেট বা সাসপেনশন (২৫ মি.লি.)৩ দিন

Nitazoxanide সবসময় চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী সেবন করুন; চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মাত্রা বন্ধ, বৃদ্ধি, বাদ, বা অন্য কাউকে দেওয়া উচিত নয়, কারণ অসম্পূর্ণ বা অনুপযুক্ত ব্যবহার চিকিৎসার কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে।

১ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে Nitazoxanide এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত নয়।

Nitazoxanide-এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

Nitazoxanide এর সাথে সম্পর্কিত অধিকাংশ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মৃদু এবং পরিপাকতন্ত্র সংক্রান্ত।

সাধারণ

  • পেটে ব্যথা
  • ডায়রিয়া
  • মাথাব্যথা
  • বমি বমি ভাব
  • বমি (শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়)

কম সাধারণ

  • বদহজম, গ্যাস, ক্ষুধামন্দা
  • মাথা ঘোরা
  • প্রস্রাবের রঙ পরিবর্তন (ক্ষতিকর নয়)

Nitazoxanide সেবনকালে অ্যালার্জির লক্ষণ (র‍্যাশ, চুলকানি, ফোলাভাব, তীব্র মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট) অথবা তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া, উচ্চ জ্বর, বা পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, কারণ এগুলো ভিন্ন বা অধিক গুরুতর কোনো সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

Nitazoxanide-এর প্রতিনির্দেশনা

যাদের নাইটাজক্সানাইড, টিজোক্সানাইড বা এই ফর্মুলেশনের কোনো উপাদানের প্রতি জানা অতি সংবেদনশীলতা (hypersensitivity) রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে Nitazoxanide ব্যবহার নিষিদ্ধ।

Nitazoxanide সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

Nitazoxanide কী কাজে ব্যবহৃত হয়?

Nitazoxanide Giardia lamblia এবং Cryptosporidium parvum পরজীবী দ্বারা সৃষ্ট ডায়রিয়া চিকিৎসায়, এবং কিছু আঞ্চলিক নির্দেশনায় Entamoeba histolytica এর ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। সাধারণত ৩ দিনের কোর্স হিসেবে দেওয়া হয়।

Nitazoxanide কীভাবে সেবন করতে হয়?

Nitazoxanide সাধারণত খাবারের সাথে, চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতি ১২ ঘণ্টায় ৩ দিন সেবন করতে হয়। সাসপেনশন প্রতিবার সেবনের আগে ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন এবং উপসর্গ কমে গেলেও পুরো কোর্স সম্পন্ন করুন।

গর্ভাবস্থায় কি Nitazoxanide ব্যবহার করা যায়?

গর্ভাবস্থায় মানব নিরাপত্তা তথ্য সীমিত থাকায় Nitazoxanide কেবল তখনই ব্যবহার করা উচিত যখন স্পষ্টভাবে প্রয়োজনীয় এবং সম্ভাব্য উপকারিতা ভ্রূণের সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি; ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Nitazoxanide এর সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী কী?

Nitazoxanide এর সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে মৃদু পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব এবং মাথাব্যথা। তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া, উচ্চ জ্বর, বা অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।

Nitazoxanide কি একটি অ্যান্টিবায়োটিক?

না, Nitazoxanide একটি অ্যান্টিপ্রোটোজোয়াল (পরজীবীনাশক) ঔষধ, ব্যাকটেরিয়ানাশক অ্যান্টিবায়োটিক নয়, যদিও একে বিস্তৃত অর্থে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল হিসেবে ধরা হয়। এটি পরজীবীর শক্তি বিপাক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে কাজ করে।

একটি মাত্রা মিস হলে বা অতিরিক্ত মাত্রা সেবনের সন্দেহ হলে কী করব?

Nitazoxanide এর কোনো মাত্রা মিস হলে মনে পড়ার সাথে সাথে তা সেবন করুন, তবে পরবর্তী মাত্রার সময় কাছাকাছি হলে মিসড মাত্রা বাদ দিন। অতিরিক্ত মাত্রা সেবনের সন্দেহ হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন বা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন; নিজে থেকে কোনো ঘরোয়া চিকিৎসা করবেন না।

ডিসক্লেইমার

এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।

DoctorBlogArticles