
Dilator20 mg
Eskayef Bangladesh Ltd.

Bambelor হাঁপানি (Asthma) ও দীর্ঘস্থায়ী অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ (COPD)-এ শ্বাসনালীর সংকোচনজনিত সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, বিশেষত রাতের ও ভোরের দিকের শ্বাসকষ্টের লক্ষণ নিয়ন্ত্রণে।
দীর্ঘস্থায়ী বিটা-২ অ্যাড্রেনার্জিক অ্যাগোনিস্ট (Long-acting Beta-2 Agonist, LABA); ব্রঙ্কোডাইলেটর। Bambelor এই শ্রেণির একটি প্রোড্রাগ (prodrug) ওষুধ।
Bambuterol Hydrochloride একটি প্রোড্রাগ, যা শরীরে ধীরে ধীরে প্লাজমা ও যকৃতের এনজাইম (esterase) দ্বারা বিপাকিত হয়ে সক্রিয় উপাদান টারবিউটালিন (terbutaline)-এ রূপান্তরিত হয়। টারবিউটালিন শ্বাসনালীর মসৃণ পেশিতে থাকা বিটা-২ রিসেপ্টরকে উদ্দীপিত করে অ্যাডেনাইলেট সাইক্লেজ সক্রিয় করে, যার ফলে কোষে সাইক্লিক এএমপি (cAMP) বৃদ্ধি পায় এবং শ্বাসনালীর পেশি শিথিল হয়ে শ্বাসনালী প্রশস্ত হয়।
Bambuterol Hydrochloride ধীরে ধীরে রূপান্তরিত হওয়ায় এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয় (প্রায় ২৪ ঘণ্টা), যা দিনে একবার সেবনের উপযোগী করে তোলে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, Bambuterol Hydrochloride প্লাজমা কোলিনেস্টারেজ এনজাইমকেও প্রভাবিত করে, যা অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত সাক্সামিথোনিয়াম-এর প্রভাব দীর্ঘায়িত করতে পারে (বিস্তারিত ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া অংশে দেখুন)।
Bambelor-এর স্বাভাবিক শুরুর মাত্রা হলো প্রতিদিন একবার ১০ মিলিগ্রাম, রাতে শোবার আগে। প্রয়োজনে ১-২ সপ্তাহ পর চিকিৎসকের পরামর্শে মাত্রা বাড়িয়ে প্রতিদিন ২০ মিলিগ্রাম করা যেতে পারে।
| বয়স | Bambelor-এর স্বাভাবিক মাত্রা |
|---|---|
| ৬-১২ বছর | প্রতিদিন একবার ১০ মিলিগ্রাম, রাতে (চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনে বাড়ানো যেতে পারে) |
| ২-৫ বছর | প্রতিদিন একবার ১০ মিলিগ্রাম, রাতে |
| ২ বছরের কম | Bambelor-এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত নয়; ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয় না |
কিডনির কার্যকারিতা কমে থাকলে Bambelor-এর কম শুরুর মাত্রা (যেমন ৫ মিলিগ্রাম) নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং সতর্ক পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
মারাত্মক যকৃত সমস্যায় Bambelor প্রতিনির্দেশিত (contraindicated), কারণ এক্ষেত্রে টারবিউটালিনে রূপান্তর অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
Bambelor ট্যাবলেট পুরোটা পানির সাথে গিলে খেতে হবে, সাধারণত রাতে শোবার আগে, খাবারের সাথে বা ছাড়া উভয়ভাবেই খাওয়া যায়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে মাত্রা পরিবর্তন করা উচিত নয়।
Bambuterol Hydrochloride নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে প্রতিনির্দেশিত (contraindicated):
Bambelor-এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলো সাধারণত মাত্রা-সম্পর্কিত এবং বিটা-২ উদ্দীপনার কারণে হয়ে থাকে।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় Bambelor ব্যবহারের সীমিত তথ্য রয়েছে। সম্ভাব্য উপকারিতা ঝুঁকির চেয়ে স্পষ্টভাবে বেশি হলে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ীই কেবল গর্ভাবস্থায় Bambelor ব্যবহার করা উচিত। গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে বা প্রসবকালীন সময়ে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন, কারণ বিটা-২ অ্যাগোনিস্ট জরায়ুর সংকোচন কমিয়ে দিতে পারে।
স্তন্যদান: Bambelor-এর সক্রিয় উপাদান (টারবিউটালিন) সামান্য পরিমাণে বুকের দুধে যেতে পারে। চিকিৎসক প্রয়োজনীয় মনে করলেই কেবল স্তন্যদানকালে Bambelor ব্যবহার করা উচিত এবং শিশুর কোনো প্রতিক্রিয়া (অস্থিরতা, কম্পন) হচ্ছে কিনা তা লক্ষ রাখা উচিত।
গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে Bambelor ব্যবহারের আগে সর্বদা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Bambelor-এর অতিরিক্ত মাত্রা সেবনে বিটা-২ উদ্দীপনার প্রভাব বেড়ে যেতে পারে, যেমন হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, বুক ধড়ফড়ানি, কম্পন, মাথাব্যথা, অস্থিরতা, রক্তে পটাশিয়াম কমে যাওয়া, রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যাওয়া এবং বিরল ক্ষেত্রে অ্যারিদমিয়া বা খিঁচুনি।
Bambelor-এর অতিরিক্ত মাত্রা সেবনের সন্দেহ হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের জরুরি সহায়তা নিন বা নিকটস্থ হাসপাতাল/জরুরি সেবায় যোগাযোগ করুন। চিকিৎসা সাধারণত হাসপাতালে সহায়ক পদ্ধতিতে (যেমন হৃদযন্ত্র পর্যবেক্ষণ, ইলেক্ট্রোলাইট সংশোধন) করা হয়ে থাকে; নিজে থেকে কোনো ঘরোয়া চিকিৎসা করার চেষ্টা করবেন না।
৩০°সে তাপমাত্রার নিচে, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
Q: Bambelor 20 mg Tablet কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
A: Bambelor 20 mg Tablet একটি দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কোডাইলেটর, যা হাঁপানি ও দীর্ঘস্থায়ী অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ (COPD)-এর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, যাতে শ্বাসনালী খোলা থাকে এবং বিশেষত রাতে ও ভোরে শ্বাসকষ্ট নিয়ন্ত্রণে থাকে। হঠাৎ হাঁপানির আক্রমণে এটি ব্যবহার করা যায় না।
Q: আমি কি শুধু Bambelor 20 mg Tablet দিয়েই হাঁপানি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি?
A: না। Bambelor 20 mg Tablet একটি দীর্ঘস্থায়ী বিটা-২ অ্যাগোনিস্ট (LABA), যা একা হাঁপানির একমাত্র চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। ইনহেলড কর্টিকোস্টেরয়েড বা অন্য প্রদাহনাশক চিকিৎসা ছাড়া শুধু LABA ব্যবহারে তীব্র হাঁপানির আক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। সাধারণত চিকিৎসক Bambelor 20 mg Tablet-এর সাথে ইনহেলড কর্টিকোস্টেরয়েড একত্রে দিয়ে থাকেন।
Q: হঠাৎ শ্বাসকষ্ট হলে কি আমি Bambelor 20 mg Tablet ব্যবহার করতে পারি?
A: না। Bambelor 20 mg Tablet-এর কার্যকারিতা শুরু হতে সময় লাগে এবং এটি প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার জন্য, দ্রুত উপশমের জন্য নয়। হঠাৎ শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত-কার্যকর ইনহেলার ব্যবহার করুন এবং Bambelor 20 mg Tablet শুধু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত দৈনিক ব্যবহারের জন্য রাখুন।
Q: Bambelor 20 mg Tablet-এর সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কী কী?
A: Bambelor 20 mg Tablet-এর সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে হাতে সূক্ষ্ম কম্পন, মাথাব্যথা, অস্থিরতা, বুক ধড়ফড়ানি এবং মাংসপেশিতে খিঁচুনি। এগুলো সাধারণত হালকা ও মাত্রা-সম্পর্কিত। পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তীব্র, দীর্ঘস্থায়ী হলে বা হৃদস্পন্দন অনিয়মিত মনে হলে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
Q: গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে Bambelor 20 mg Tablet কি নিরাপদ?
A: গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে Bambelor 20 mg Tablet তখনই ব্যবহার করা উচিত যখন চিকিৎসক মনে করেন এর উপকারিতা সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি, বিশেষত গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। গর্ভবতী, গর্ভধারণের পরিকল্পনা করছেন বা স্তন্যদানকারী হলে Bambelor 20 mg Tablet ব্যবহারের আগে সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Q: Bambelor 20 mg Tablet-এর সাথে কোন ওষুধের মিথষ্ক্রিয়া সম্পর্কে জানা জরুরি?
A: হ্যাঁ। Bambelor 20 mg Tablet অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত সাক্সামিথোনিয়ামের প্রভাব দীর্ঘায়িত করতে পারে, তাই অস্ত্রোপচারের আগে অবশ্যই Bambelor 20 mg Tablet সেবনের কথা অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট/সার্জনকে জানান। বিটা-ব্লকার ওষুধ Bambelor 20 mg Tablet-এর কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে, এবং কিছু মূত্রবর্ধক, স্টেরয়েড বা থিওফাইলিনের সাথে একত্রে ব্যবহারে রক্তে পটাশিয়াম কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। আপনি যেসব ওষুধ সেবন করছেন তা চিকিৎসককে জানান।
ডিসক্লেইমার
এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।