
Biltin20 mg
Eskayef Bangladesh Ltd.

Bislor একটি দ্বিতীয় প্রজন্মের, নন-সিডেটিভ (ঘুম না আনা) H1-অ্যান্টিহিস্টামিন, যা এলার্জিজনিত উপসর্গ উপশমে ব্যবহৃত হয়।
Bislor এলার্জির মূল কারণ নিরাময় করে না, বরং যতদিন সেবন করা হয় ততদিন উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
Bilastine একটি অত্যন্ত সিলেক্টিভ পেরিফেরাল H1-হিস্টামিন রিসেপ্টর প্রতিরোধক (antagonist)। এটি প্রতিযোগিতামূলকভাবে H1 রিসেপ্টর ব্লক করে হিস্টামিন-প্রভাবিত ভাসোডাইলেশন, বর্ধিত ভাস্কুলার পারমিয়েবিলিটি, চুলকানি এবং মসৃণ পেশীর সংকোচন প্রতিরোধ করে, যা এলার্জিক প্রতিক্রিয়ায় ঘটে থাকে।
Bilastine মাস্কারিনিক, সেরোটোনার্জিক, ডোপামিনার্জিক ও অ্যাড্রেনার্জিক রিসেপ্টরের প্রতি নগণ্য আকর্ষণ দেখায়, যার কারণে এর অ্যান্টিকোলিনার্জিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম। Bilastine শরীরে উল্লেখযোগ্যভাবে বিপাকিত হয় না — প্রায় ৯৫% ডোজ অপরিবর্তিত অবস্থায়, মূলত প্রস্রাবের মাধ্যমে নির্গত হয়।
| নির্দেশনা | মাত্রা |
|---|---|
| এলার্জিক রাইনাইটিস (মৌসুমি/সারাবছর) | দিনে একবার ২০ মি.গ্রা. (১টি ট্যাবলেট) |
| দীর্ঘমেয়াদী আর্টিকেরিয়া (প্রাপ্তবয়স্ক ≥১৮ বছর) | দিনে একবার ২০ মি.গ্রা. (১টি ট্যাবলেট) |
স্থানীয়ভাবে অনুমোদিত ক্ষেত্রে, চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে বয়স-উপযোগী কম মাত্রার ফর্মুলেশন ব্যবহার করা হয়:
Bislor অবশ্যই খালি পেটে সেবন করতে হবে — খাবার গ্রহণের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে বা ২ ঘণ্টা পরে — কারণ খাবার এর শোষণ ও কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়। পূর্ণ এক গ্লাস পানির সাথে ট্যাবলেট গিলে খেতে হবে। গ্রেপফ্রুট জুস বা অন্যান্য ফলের রসের সাথে Bislor সেবন এড়িয়ে চলুন, কারণ এতে ওষুধের শোষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে (মিথষ্ক্রিয়া অংশ দেখুন)।
যদি Bislor-এর কোনো ডোজ মিস হয়ে যায়, মনে পড়ামাত্র তা সেবন করুন, তবে পরবর্তী ডোজের সময় কাছাকাছি হলে মিসড ডোজ বাদ দিন — দ্বিগুণ ডোজ নেবেন না।
Bislor-এর সাথে নিম্নলিখিত মিথষ্ক্রিয়াগুলো চিকিৎসাগতভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত:
Bilastine নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে সেবন করা উচিত নয়:
Bislor সাধারণত সহনীয়, এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার হার প্লাসিবোর কাছাকাছি। রিপোর্ট করা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো:
Bislor সেবনকালে Torsade de Pointes-এর বিরল রিপোর্ট পাওয়া গেছে, সাধারণত অন্যান্য QT-দীর্ঘকারী ঝুঁকি বা ওষুধের সাথে একত্রে সেবনের ক্ষেত্রে। বুক ধড়ফড়, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন অনুভব করলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
গর্ভাবস্থা: গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে Bislor-এর পর্যাপ্ত ও সুনিয়ন্ত্রিত গবেষণা নেই। প্রাণী গবেষণায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতিকর প্রভাব দেখা যায়নি, তবে এটি মানুষের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেয় না। সতর্কতা হিসেবে, চিকিৎসক প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত এবং সম্ভাব্য উপকারিতা যদি ভ্রূণের ঝুঁকির চেয়ে স্পষ্টভাবে বেশি না হয়, গর্ভাবস্থায় Bislor এড়িয়ে চলা উচিত।
স্তন্যদান: মায়ের বুকের দুধে Bislor নির্গত হয় কিনা তা জানা যায়নি। অনেক ওষুধ বুকের দুধে প্রবেশ করে বলে, চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে মায়ের চিকিৎসার উপকারিতা ও শিশুর জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। শুধুমাত্র স্পষ্ট প্রয়োজন হলে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করুন।
হৃদযন্ত্র সংক্রান্ত ঝুঁকি: অনুমোদিত মাত্রায় Bislor অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে QT-ইন্টারভ্যাল উল্লেখযোগ্যভাবে দীর্ঘায়িত করে না, তবে যেসব রোগীর হৃদস্পন্দনজনিত ঝুঁকির কারণ, অসংশোধিত হাইপোক্যালেমিয়া বা হাইপোম্যাগনেসেমিয়া রয়েছে, অথবা যারা অন্য QT-দীর্ঘকারী ওষুধ সেবন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন এবং যথাসম্ভব এড়ানো উচিত (প্রতিনির্দেশনা ও মিথষ্ক্রিয়া অংশ দেখুন)।
খাবারের প্রভাব: Bislor কঠোরভাবে খালি পেটে সেবন করুন; খাবার, দুধ এবং ফলের রস (বিশেষত গ্রেপফ্রুট জুস) এর শোষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে কার্যকারিতা হ্রাস করতে পারে।
বৃক্কের সমস্যা: গুরুতর বৃক্কের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে, বিশেষত P-glycoprotein প্রতিরোধক ওষুধের সাথে একত্রে সেবনের সময়, সতর্কতার সাথে Bislor ব্যবহার করতে হবে, কারণ ওষুধের এক্সপোজার বৃদ্ধি পেতে পারে।
গাড়ি চালানো ও যন্ত্র পরিচালনা: সুপারিশকৃত মাত্রায় Bislor অধিকাংশ ক্ষেত্রে গাড়ি চালানো বা সাইকোমোটর দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত করে না; তবে কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঝিমুনি হতে পারে, তাই নিজের প্রতিক্রিয়া না জানা পর্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত।
বয়স্ক রোগী: ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব রোগীদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বা কার্যকারিতায় সামগ্রিক কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি, তবে কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে বাড়তি সংবেদনশীলতা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
সুপারিশকৃত মাত্রার ১০-১১ গুণ পর্যন্ত Bislor সেবনে মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা ও বমি বমি ভাবের ঘটনা প্লাসিবোর প্রায় দ্বিগুণ হারে দেখা গেছে; এসব নিয়ন্ত্রিত গবেষণায় কোনো গুরুতর হৃদযন্ত্রঘটিত ঘটনা রিপোর্ট করা হয়নি, তবে বড় মাত্রায় মাত্রাধিক্য সেবনে, বিশেষত অন্য QT-দীর্ঘকারী ওষুধের সাথে একত্রে, QT-ইন্টারভ্যাল দীর্ঘায়িত হওয়া ও অ্যারিদমিয়ার তাত্ত্বিক ঝুঁকি থেকে যায়।
Bislor-এর মাত্রাধিক্য সেবনের জন্য কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক (antidote) নেই। মাত্রাধিক্য সন্দেহ হলে অবিলম্বে চিকিৎসা সহায়তা নিন অথবা জরুরি সেবা/বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। চিকিৎসা উপসর্গভিত্তিক ও সহায়ক, এবং এতে ECG পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে; সাধারণত বমি করানোর পরামর্শ দেওয়া হয় না। জরুরি পেশাদার চিকিৎসা ব্যতীত বাড়িতে কোনো চিকিৎসা নেওয়ার চেষ্টা করবেন না।
৩০°সে তাপমাত্রার নিচে, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
শিশু: যুক্তরাষ্ট্রে Bislor-এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা শুধুমাত্র ১২ বছর বা তদূর্ধ্ব রোগীদের এলার্জিক রাইনাইটিসের জন্য প্রতিষ্ঠিত; দীর্ঘমেয়াদী আর্টিকেরিয়ার জন্য লেবেলিং ১৮ বছর ও তদূর্ধ্ব প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বাংলাদেশসহ অনেক দেশে, চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ২ বছর বয়স থেকে বয়স-উপযোগী কম মাত্রার ফর্মুলেশনে Bislor ব্যবহৃত হয়; ২ বছরের নিচে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
বয়স্ক (≥৬৫ বছর): কোনো মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই; কম বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় নিরাপত্তা বা কার্যকারিতায় উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি।
বৃক্কের সমস্যা: হালকা থেকে মাঝারি সমস্যায় মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই; গুরুতর সমস্যায়, বিশেষত P-glycoprotein প্রতিরোধকের সাথে একত্রে সেবনের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।
যকৃতের সমস্যা: সাধারণত মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই, কারণ Bislor যকৃতে সামান্যই বিপাকিত হয়; তবে গুরুতর যকৃতের সমস্যায় সীমিত তথ্যের কারণে সতর্কতা যুক্তিসঙ্গত।
Q: Bislor 20 mg Tablet কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
A: Bislor 20 mg Tablet একটি অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধ, যা এলার্জিক রাইনাইটিসের (হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া/বন্ধ হওয়া, চোখ চুলকানো ও পানি পড়া) এবং দীর্ঘমেয়াদী আর্টিকেরিয়ার (চুলকানি ও চাকা/র্যাশ) উপসর্গ উপশমে ব্যবহৃত হয়। এটি মৌসুমি ও সারাবছর ব্যাপী উভয় ধরনের এলার্জিতেই ব্যবহার করা হয়।
Q: আমি কীভাবে Bislor 20 mg Tablet সেবন করব?
A: Bislor 20 mg Tablet দিনে একবার খালি পেটে সেবন করুন — খাবার গ্রহণের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে অথবা ২ ঘণ্টা পরে — এক গ্লাস পানির সাথে পুরো ট্যাবলেট গিলে খান। দুধ, খাবার বা গ্রেপফ্রুট জুসের মতো ফলের রসের সাথে এটি সেবন করা এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো শরীরে ওষুধ শোষণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে এবং এর কার্যকারিতা কমাতে পারে।
Q: Bislor 20 mg Tablet সেবনকালে কি গ্রেপফ্রুট জুস পান করা যাবে?
A: Bislor 20 mg Tablet সেবনের আশেপাশে গ্রেপফ্রুট জুস ও অন্যান্য ফলের রস এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এগুলো এর শোষণ প্রায় ৩০% বা তার বেশি কমিয়ে দিতে পারে, ফলে কার্যকারিতা কমে যায়। জুসের পরিবর্তে সাধারণ পানির সাথে Bislor 20 mg Tablet সেবন করুন, এবং জুস পান থেকে অন্তত ১-২ ঘণ্টা ব্যবধান রাখুন।
Q: Bislor 20 mg Tablet কি ঝিমুনি সৃষ্টি করে?
A: Bislor 20 mg Tablet একটি নন-সিডেটিভ, দ্বিতীয় প্রজন্মের অ্যান্টিহিস্টামিন এবং পুরনো (প্রথম প্রজন্মের) অ্যান্টিহিস্টামিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম ঝিমুনি সৃষ্টি করে। সুপারিশকৃত মাত্রায় এটি অধিকাংশ মানুষের গাড়ি চালানো বা সাইকোমোটর দক্ষতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত করে না, যদিও কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে সামান্য ঝিমুনি হতে পারে।
Q: গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে Bislor 20 mg Tablet সেবন কি নিরাপদ?
A: গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে Bislor 20 mg Tablet-এর ব্যবহার সম্পর্কিত তথ্য সীমিত। সতর্কতা হিসেবে, চিকিৎসক যদি নিশ্চিত না করেন যে উপকারিতা সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে স্পষ্টভাবে বেশি, তবে গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে এটি এড়িয়ে চলা উচিত। গর্ভবতী হলে, গর্ভধারণের পরিকল্পনা করলে বা বুকের দুধ খাওয়ালে Bislor 20 mg Tablet সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Q: কাদের Bislor 20 mg Tablet সেবন করা উচিত নয়?
A: যাদের Bislor 20 mg Tablet বা এর উপাদানের প্রতি জানা অ্যালার্জি/অতি সংবেদনশীলতা রয়েছে, অথবা যাদের QT-ইন্টারভ্যাল দীর্ঘায়িত হওয়া, Torsade de Pointes, বা জন্মগত লং QT সিনড্রোমের ব্যক্তিগত ইতিহাস রয়েছে, তাদের Bislor 20 mg Tablet সেবন করা উচিত নয়। Bislor 20 mg Tablet শুরু করার আগে হৃদস্পন্দনজনিত কোনো সমস্যা বা আপনি যেসব ওষুধ সেবন করছেন, বিশেষত হৃদস্পন্দনকে প্রভাবিত করতে পারে এমন ওষুধ সম্পর্কে আপনার চিকিৎসককে জানান।
ডিসক্লেইমার
এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।