
SuperItra65 mg
Eskayef Bangladesh Ltd.

Candifast SB একটি ট্রায়াজোল গোত্রের অ্যান্টিফাঙ্গাল (ছত্রাকনাশক) ওষুধ, যা বিভিন্ন ধরনের ছত্রাক সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
সঠিক নির্দেশনা, মাত্রা ও চিকিৎসার মেয়াদ নির্ভর করে সংক্রমণের ধরন ও তীব্রতার উপর, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া Candifast SB শুরু করা উচিত নয়।
Candifast SB সিস্টেমিক অ্যান্টিফাঙ্গাল (ট্রায়াজোল গোত্র) শ্রেণীর ওষুধ, যা ফ্লুকোনাজোলের সাথে সম্পর্কিত হলেও অ্যাসপারজিলাসসহ বিস্তৃত পরিসরের ছত্রাকের বিরুদ্ধে কার্যকর।
Itraconazole ছত্রাকের কোষ প্রাচীর তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সাইটোক্রোম P450-নির্ভর ১৪-আলফা-ডিমিথাইলেজ এনজাইমকে বাধা দেয়, যা ল্যানোস্টেরল থেকে এরগোস্টেরল তৈরির প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এরগোস্টেরল ছত্রাকের কোষ ঝিল্লির একটি অপরিহার্য উপাদান; এর ঘাটতি ও অস্বাভাবিক স্টেরল জমা হওয়ার ফলে কোষ ঝিল্লির গঠন ও কার্যকারিতা ব্যাহত হয়, ফলে ছত্রাকের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়।
খাবারের সাথে গ্রহণ করলে ও পাকস্থলীর অ্যাসিডিক পরিবেশে Itraconazole ক্যাপসুল ভালোভাবে শোষিত হয়, অন্যদিকে ওরাল সলিউশন খালি পেটে বেশি ভালোভাবে শোষিত হয়। এটি লিভারে বিপাকিত হয় এবং শরীরে দীর্ঘ সময় ধরে থাকে, ফলে মস্তিষ্কের তরলে (CSF) কম পৌঁছালেও ত্বক ও নখে উচ্চ মাত্রায় জমা হয়।
Candifast SB-এর মাত্রা সংক্রমণের ধরন, তীব্রতা এবং ব্যবহৃত ফর্মুলেশনের (ক্যাপসুল বা ওরাল সলিউশন) উপর নির্ভর করে। কিছু সাধারণ নির্দেশনা:
| সংক্রমণের ধরন | সাধারণ প্রাপ্তবয়স্ক মাত্রা | সাধারণ মেয়াদ |
|---|---|---|
| ব্লাস্টোমাইকোসিস, হিস্টোপ্লাজমোসিস | দৈনিক ২০০ মি.গ্রা. একবার বা দুইবার | কমপক্ষে ৩ মাস |
| নখের ছত্রাক সংক্রমণ | দৈনিক ২০০ মি.গ্রা. একবার (একটানা) অথবা পালস পদ্ধতি | প্রায় ১২ সপ্তাহ বা নির্দিষ্ট পালস কোর্স |
| মুখ/খাদ্যনালীর ক্যানডিডা সংক্রমণ | দৈনিক ১০০-২০০ মি.গ্রা. (ওরাল সলিউশন) | ১-৩ সপ্তাহ |
| যোনিপথের ক্যানডিডা সংক্রমণ | ২০০ মি.গ্রা. দিনে দুইবার | মাত্র ১ দিন |
| ত্বকের দাদ সংক্রমণ | দৈনিক ১০০ মি.গ্রা. | প্রায় ২ সপ্তাহ |
Candifast SB ক্যাপসুল পূর্ণ খাবারের সাথে/পরপরই সেবন করতে হয়, কারণ শোষণের জন্য খাবার ও পাকস্থলীর অ্যাসিড প্রয়োজন; অন্যদিকে ওরাল সলিউশন খালি পেটে সেবন করা ভালো। নির্ধারিত পুরো কোর্স সম্পন্ন করা জরুরি - চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মাত্রা বাদ দেওয়া, বাড়ানো-কমানো বা কাউকে ধার দেওয়া উচিত নয়।
Candifast SB লিভারের CYP3A4 এনজাইমকে শক্তিশালীভাবে বাধা দেয়, ফলে অনেক ওষুধের সাথে গুরুত্বপূর্ণ মিথষ্ক্রিয়া ঘটতে পারে।
অ্যান্টাসিড, H2-ব্লকার ও প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর জাতীয় অ্যাসিড-কমানোর ওষুধ Candifast SB ক্যাপসুলের শোষণ কমিয়ে দিতে পারে।
এটি সম্পূর্ণ তালিকা নয় - Candifast SB শুরু করার আগে বর্তমানে সেবন করা সব ওষুধের তথ্য চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জানান।
Itraconazole নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না:
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে Candifast SB ভালোভাবে সহ্য হয়, তবে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।
গর্ভাবস্থা: সাধারণত গর্ভাবস্থায় Candifast SB এড়িয়ে চলা উচিত, বিশেষ করে নখ বা ত্বকের ছত্রাক সংক্রমণের মতো জীবন-হুমকিহীন অবস্থার জন্য, কারণ পশু গবেষণায় ভ্রূণের সম্ভাব্য ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। শুধুমাত্র জীবন-সংকটাপন্ন ছত্রাক সংক্রমণের ক্ষেত্রে, যখন সম্ভাব্য উপকারিতা ভ্রূণের ঝুঁকির চেয়ে স্পষ্টভাবে বেশি, তখনই চিকিৎসকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে Candifast SB ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রজনন-ক্ষম নারীদের চিকিৎসার সময় এবং চিকিৎসা শেষ হওয়ার পরেও কিছুদিন কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
স্তন্যদান: Candifast SB সামান্য পরিমাণে বুকের দুধে প্রবেশ করে। চিকিৎসকের মূল্যায়নে মায়ের জন্য উপকারিতা শিশুর ঝুঁকির চেয়ে বেশি না হলে সাধারণত এই সময়ে স্তন্যদান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্তন্যদানকালে Candifast SB ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Candifast SB হৃদপিণ্ডের সংকোচন ক্ষমতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রমাণিত। কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলিউর বা নিলয়ের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার ইতিহাস থাকা রোগীদের নখের সংক্রমণে এটি ব্যবহার করা যাবে না। অন্যান্য গুরুতর সংক্রমণের ক্ষেত্রেও হৃদরোগের ঝুঁকি থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে এবং হার্ট ফেইলিউরের লক্ষণ দেখা দিলে তা বন্ধ করে পুনরায় মূল্যায়ন করতে হবে।
Candifast SB ব্যবহারে বিরল ক্ষেত্রে গুরুতর লিভারের ক্ষতি, এমনকি লিভার ফেইলিউর পর্যন্ত হওয়ার প্রতিবেদন পাওয়া গেছে, যার কিছু চিকিৎসার প্রথম মাসেই দেখা দিয়েছে। চিকিৎসা শুরুর আগে ও দীর্ঘমেয়াদী কোর্সে নিয়মিত লিভার ফাংশন পরীক্ষা করানো উচিত, বিশেষত আগে থেকে লিভারের সমস্যা থাকলে।
Candifast SB ক্যাপসুল খাবার ও পাকস্থলীর অ্যাসিডের উপস্থিতিতে ভালো শোষিত হয়, আর ওরাল সলিউশন খালি পেটে বেশি ভালো শোষিত হয়; দুটি ফর্মুলেশন একে অপরের সাথে মিলিগ্রাম-হিসেবে অদলবদলযোগ্য নয়।
চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী Candifast SB ঠিক নির্ধারিত মাত্রায় সেবন করুন; চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মাঝপথে বন্ধ করা, মেয়াদ বাড়ানো, মাত্রা বাদ দেওয়া বা অন্য কাউকে এই ওষুধ দেওয়া উচিত নয়, কারণ এতে ছত্রাক প্রতিরোধী হয়ে চিকিৎসা ব্যর্থ হতে পারে।
Candifast SB-এর অতিরিক্ত মাত্রা গ্রহণের প্রতিবেদন সীমিত; লক্ষণগুলো সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার বর্ধিত রূপ হতে পারে (যেমন বমি বমি ভাব, বমি, পেটের অস্বস্তি)। এর কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক (antidote) নেই। অতিরিক্ত মাত্রা সেবনের সন্দেহ হলে অবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন বা জরুরি চিকিৎসা সেবা/বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন - বাড়িতে নিজে থেকে কোনো চিকিৎসা নেওয়ার চেষ্টা করবেন না।
ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় (৩০°সে-এর নিচে), আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর ব্যবহার করবেন না।
বেশিরভাগ ইনডিকেশনের ক্ষেত্রে শিশুদের মধ্যে Candifast SB-এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক দেহের ওজন অনুযায়ী মাত্রা নির্ধারণ করেন এবং লিভারের কার্যকারিতা ও সম্ভাব্য মিথষ্ক্রিয়ার প্রতি নিবিড় নজরদারি রাখেন। অভিভাবকদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মাত্রা বা মেয়াদ পরিবর্তন করা উচিত নয়।
বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে তথ্য সীমিত; এই বয়সীদের মধ্যে হৃদরোগ, একাধিক ওষুধ সেবন ও অঙ্গের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকায় সতর্কতার সাথে Candifast SB ব্যবহার করা উচিত এবং হৃদযন্ত্র সংক্রান্ত লক্ষণ ও মিথষ্ক্রিয়ার জন্য নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
Q: Candifast SB 65 mg Capsule কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
A: Candifast SB 65 mg Capsule একটি অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ যা নখের সংক্রমণ, ত্বকের দাদ, মুখ/খাদ্যনালীর ক্যানডিডা সংক্রমণসহ হিস্টোপ্লাজমোসিস, ব্লাস্টোমাইকোসিস ও অ্যাসপারজিলোসিসের মতো গুরুতর সিস্টেমিক ছত্রাক সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। আপনার সংক্রমণ অনুযায়ী চিকিৎসক সঠিক মাত্রা ও মেয়াদ নির্ধারণ করবেন।
Q: Candifast SB 65 mg Capsule ক্যাপসুল কীভাবে সেবন করব?
A: Candifast SB 65 mg Capsule ক্যাপসুল পূর্ণ খাবারের পরপরই গিলে খেতে হয়, কারণ খাবার ও পাকস্থলীর অ্যাসিড শোষণে সাহায্য করে; খালি পেটে খেলে এর কার্যকারিতা অনেক কমে যেতে পারে। অন্যদিকে ওরাল সলিউশন সাধারণত খালি পেটে সেবন করা হয়। আপনার প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী নির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলুন।
Q: হৃদরোগ থাকলে কি Candifast SB 65 mg Capsule খাওয়া যাবে?
A: Candifast SB 65 mg Capsule-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা (Boxed Warning) রয়েছে, কারণ এটি হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে বা অতীতে কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলিউর থাকলে নখের সংক্রমণের চিকিৎসায় এটি ব্যবহার করা যাবে না। অন্যান্য গুরুতর সংক্রমণে চিকিৎসক ঝুঁকি ও উপকারিতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। চিকিৎসা শুরুর আগে হৃদরোগের ইতিহাস চিকিৎসককে জানান।
Q: কোন কোন ওষুধের সাথে Candifast SB 65 mg Capsule এড়িয়ে চলা উচিত?
A: Candifast SB 65 mg Capsule লিভারের একটি এনজাইম (CYP3A4) বাধা দেয় বলে অনেক ওষুধের সাথে গুরুতর মিথষ্ক্রিয়া ঘটাতে পারে। যেমন কিছু স্ট্যাটিন (সিমভাস্ট্যাটিন, লোভাস্ট্যাটিন), কুইনিডিন, ডোফেটিলাইড, এরগট জাতীয় ওষুধ, মুখে সেবনযোগ্য মিডাজোলাম/ট্রায়াজোলাম এবং সিসাপ্রাইড/পিমোজাইড-এর সাথে একসাথে ব্যবহার করলে গুরুতর প্রতিক্রিয়া হতে পারে। চিকিৎসা শুরুর আগে আপনার সেবন করা সব ওষুধের তালিকা চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জানান।
Q: গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে Candifast SB 65 mg Capsule কি নিরাপদ?
A: গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে জীবন-হুমকিহীন সংক্রমণের ক্ষেত্রে, সাধারণত Candifast SB 65 mg Capsule এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ ভ্রূণের সম্ভাব্য ঝুঁকি রয়েছে। শুধুমাত্র জীবন-সংকটাপন্ন সংক্রমণে উপকারিতা ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করা যেতে পারে। স্তন্যদানকালেও সাধারণত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়, কারণ এটি সামান্য পরিমাণে বুকের দুধে প্রবেশ করে। নিজের অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Q: মাত্রা মিস হয়ে গেলে বা বেশি খেয়ে ফেললে কী করব?
A: Candifast SB 65 mg Capsule-এর কোনো মাত্রা মিস হয়ে গেলে মনে পড়ার সাথে সাথে তা সেবন করুন, তবে পরবর্তী মাত্রার সময় কাছাকাছি হলে মিসড মাত্রাটি বাদ দিন - একসাথে দুই মাত্রা নেবেন না। অতিরিক্ত মাত্রা সেবনের সন্দেহ হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন বা জরুরি চিকিৎসা সেবা নিন।
ডিসক্লেইমার
এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।