
Glycema10 mg
ACI Limited

Dapaglip একটি SGLT2 ইনহিবিটর গোত্রের ওষুধ, যা নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়:
Dapaglip সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম এবং প্রয়োজনে অন্যান্য ওষুধের সমন্বয়ে সম্পূর্ণ চিকিৎসা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যবহার করতে হয়।
Dapaglip "SGLT2 ইনহিবিটর (সোডিয়াম-গ্লুকোজ কো-ট্রান্সপোর্টার-২ ইনহিবিটর)" শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, যা "গ্লিফ্লোজিন" নামেও পরিচিত। এটি একটি অ্যান্টিডায়াবেটিক ওষুধ, যার হৃদযন্ত্র ও কিডনি সুরক্ষামূলক প্রভাবও রয়েছে।
Dapagliflozin Propanediol কিডনির প্রক্সিমাল টিউবিউলে অবস্থিত সোডিয়াম-গ্লুকোজ কো-ট্রান্সপোর্টার-২ (SGLT2) কে বাধা দেয়, যা রক্ত থেকে ছাঁকা গ্লুকোজের অধিকাংশ পুনঃশোষণের জন্য দায়ী। এর ফলে প্রস্রাবের মাধ্যমে গ্লুকোজ নির্গমন বৃদ্ধি পায় এবং ইনসুলিন-নিরপেক্ষভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে।
গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি Dapagliflozin Propanediol হালকা মূত্রবর্ধক (ডাইইউরেটিক) ও সোডিয়াম নিঃসরণকারী প্রভাব সৃষ্টি করে এবং গ্লোমেরুলাসের অভ্যন্তরীণ চাপ কমায়, যা হার্ট ফেইলিউরে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি এবং কিডনি রোগের অগ্রগতি কমাতে সহায়ক বলে মনে করা হয়।
| নির্দেশনা | প্রস্তাবিত মাত্রা |
|---|---|
| টাইপ ২ ডায়াবেটিস মেলিটাস | দিনে একবার ৫ মি.গ্রা.; প্রয়োজনে ও সহনযোগ্য হলে দিনে একবার ১০ মি.গ্রা. পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। |
| হার্ট ফেইলিউর | দিনে একবার ১০ মি.গ্রা.। |
| দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ | দিনে একবার ১০ মি.গ্রা.। |
| ১০ বছর ও তার বেশি বয়সী শিশু (টাইপ ২ ডায়াবেটিস) | দিনে একবার ৫ মি.গ্রা.; প্রয়োজনে দিনে একবার ১০ মি.গ্রা. পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। |
eGFR ৪৫ মি.লি./মিনিট/১.৭৩ মি² এর বেশি হলে মাত্রা পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। eGFR ২৫–৪৫ এর মধ্যে থাকলে হার্ট ফেইলিউর/কিডনি রোগের জন্য ১০ মি.গ্রা. চালিয়ে যাওয়া যেতে পারে, তবে গ্লাইসেমিক নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন করে শুরু করা উচিত নয়। eGFR ২৫ এর নিচে, ডায়ালাইসিসে থাকা বা শেষ পর্যায়ের কিডনি রোগে Dapaglip শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয় না।
মৃদু থেকে মাঝারি লিভার সমস্যায় মাত্রা পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। গুরুতর লিভার সমস্যায় Dapaglip সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে, কারণ এই ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত গবেষণা নেই।
Dapaglip ট্যাবলেট প্রতিদিন সকালে, খাবারের সাথে বা ছাড়া, পুরোটা এক গ্লাস পানির সাথে গিলে খেতে হবে। কোনো মাত্রা মিস হলে মনে পড়ার সাথে সাথে সেদিনই তা খাওয়া যেতে পারে, তবে একই দিনে দুইটি মাত্রা কখনোই একসাথে খাওয়া উচিত নয়। সবসময় চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী Dapaglip সেবন করুন।
Dapaglip এর সাথে নিম্নলিখিত ওষুধগুলোর ক্লিনিক্যালি গুরুত্বপূর্ণ মিথষ্ক্রিয়া হতে পারে:
নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে Dapagliflozin Propanediol ব্যবহার করা যাবে না:
Dapagliflozin Propanediol টাইপ ১ ডায়াবেটিস মেলিটাস বা ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসের চিকিৎসায় নির্দেশিত নয় (কিটোঅ্যাসিডোসিসের ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে সতর্কতা অংশ দেখুন)।
Dapaglip সেবনে নিম্নলিখিত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে:
গর্ভাবস্থা: কিডনির বিকাশে ক্ষতিকর প্রভাবের প্রাণী গবেষণার তথ্যের ভিত্তিতে, বিশেষত দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে Dapaglip ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয় না। একান্ত প্রয়োজন হলে এবং সম্ভাব্য উপকারিতা ভ্রূণের সম্ভাব্য ঝুঁকির তুলনায় বেশি হলেই কেবল চিকিৎসকের পরামর্শে Dapaglip ব্যবহার করা যেতে পারে; গর্ভাবস্থা নিশ্চিত হলে সাধারণত বিকল্প অ্যান্টিডায়াবেটিক চিকিৎসাই প্রাধান্য পায়।
স্তন্যদান: Dapaglip মায়ের বুকের দুধে নির্গত হয় কিনা তা জানা নেই। শিশুর কিডনির বিকাশে সম্ভাব্য প্রভাবের কারণে স্তন্যদানকালে Dapaglip ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয় না। ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
Dapaglip সেবনকালে নিম্নলিখিত সতর্কতাগুলো মেনে চলা প্রয়োজন:
Dapaglip কিটোঅ্যাসিডোসিস ঘটাতে পারে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক বা সামান্য বেশি থাকা অবস্থাতেও দেখা দিতে পারে ("ইউগ্লাইসেমিক ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস")। এটি একটি গুরুতর, প্রাণঘাতী হতে পারে এমন অবস্থা। বমি বমি ভাব, বমি, পেটে ব্যথা, ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। অস্ত্রোপচারের আগে বা তীব্র অসুস্থতা, দীর্ঘ উপবাস কিংবা অতিরিক্ত মদ্যপানের সময় চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী Dapaglip সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হতে পারে।
Dapaglip সহ SGLT2 ইনহিবিটর গোত্রের ওষুধে বিরল কিন্তু গুরুতর ও প্রাণঘাতী নেক্রোটাইজিং ফ্যাসাইটিস (ফুর্নিয়ার্স গ্যাংগ্রিন) এর ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে। যৌনাঙ্গ বা পেরিনিয়াম অঞ্চলে ব্যথা, লালচেভাব, ফোলাভাব বা জ্বরসহ অস্বস্তি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সহায়তা নিন।
Dapaglip শরীরে তরলের ঘাটতি সৃষ্টি করতে পারে, যা বিশেষত বয়স্ক, কিডনি সমস্যাযুক্ত, নিম্ন রক্তচাপযুক্ত বা মূত্রবর্ধক ওষুধ সেবনকারী রোগীদের মধ্যে লক্ষণযুক্ত রক্তচাপ কমার কারণ হতে পারে। চিকিৎসা শুরুর আগে তরলের অবস্থা মূল্যায়ন ও সংশোধন করা উচিত।
Dapaglip যৌনাঙ্গে ছত্রাক সংক্রমণ ও মূত্রনালীর সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়, যার মধ্যে ইউরোসেপসিস ও পাইলোনেফ্রাইটিসের মতো গুরুতর সংক্রমণও রয়েছে। ভালো যৌনাঙ্গ পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসককে জানানো উচিত।
Dapaglip ইনসুলিন বা ইনসুলিন সিক্রেটাগগের সাথে একত্রে ব্যবহার করলে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি বাড়ে; প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ওষুধের মাত্রা কমাতে হতে পারে।
Dapaglip শুরু করার আগে কিডনির কার্যক্ষমতা মূল্যায়ন করতে হবে এবং চিকিৎসাকালে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে, কারণ এর কার্যকারিতা ও উপযুক্ত মাত্রা eGFR এর উপর নির্ভরশীল।
Dapaglip এর অতিরিক্ত মাত্রা সেবনের ক্ষেত্রে ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা সীমিত। অতিরিক্ত মাত্রা সেবনের সন্দেহ হলে রোগীর অবস্থা অনুযায়ী উপযুক্ত সহায়ক চিকিৎসা দিতে হবে, যার মধ্যে রক্তে শর্করা, ইলেক্ট্রোলাইট, কিডনির কার্যক্ষমতা এবং তরলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত। প্রস্তাবিত মাত্রার চেয়ে বেশি Dapaglip সেবন করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন বা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন; গুরুতর লক্ষণের ক্ষেত্রে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা সেবা নিন। Dapaglip প্লাজমা প্রোটিনের সাথে উচ্চ মাত্রায় আবদ্ধ থাকে বলে হেমোডায়ালাইসিসের মাধ্যমে এটি উল্লেখযোগ্যভাবে অপসারণ হওয়ার সম্ভাবনা কম।
৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে, স্বাভাবিক ঘরের তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
বয়স্ক রোগীদের মধ্যে তরলের ঘাটতি ও এর ফলে রক্তচাপ কমে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে; বিশেষত যারা মূত্রবর্ধক ওষুধ সেবন করেন বা যাদের কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেছে, তাদের ক্ষেত্রে Dapaglip সতর্কতার সাথে ও অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ব্যবহার করতে হবে।
টাইপ ২ ডায়াবেটিস মেলিটাসে রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের জন্য ১০ বছর ও তার বেশি বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে Dapaglip অনুমোদিত। ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি, এবং হার্ট ফেইলিউর ও কিডনি রোগের নির্দেশনায় শিশুদের ক্ষেত্রে গবেষণা করা হয়নি।
কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে Dapaglip এর গ্লুকোজ-নিয়ন্ত্রণকারী কার্যকারিতা কমে যায় এবং ডায়ালাইসিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি সুপারিশ করা হয় না। মৃদু থেকে মাঝারি লিভার সমস্যায় মাত্রা পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই, তবে গুরুতর লিভার সমস্যায় সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।
Q: Dapaglip 10 mg Tablet কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
A: Dapaglip 10 mg Tablet টাইপ ২ ডায়াবেটিস মেলিটাসে রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে, হার্ট ফেইলিউরে মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি কমাতে, এবং দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের অগ্রগতি ধীর করতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহৃত হয়।
Q: Dapaglip 10 mg Tablet কীভাবে সেবন করব?
A: Dapaglip 10 mg Tablet সাধারণত দিনে একবার সকালে, খাবারের সাথে বা ছাড়া মুখে খাওয়া হয়। ট্যাবলেটটি পুরোটা পানি দিয়ে গিলে খেতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ীই সেবন করতে হবে; নিজে থেকে মাত্রা বন্ধ বা পরিবর্তন করা উচিত নয়।
Q: Dapaglip 10 mg Tablet কি রক্তে শর্করা কমিয়ে দিতে পারে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া)?
A: একা Dapaglip 10 mg Tablet সেবনে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি কম, তবে ইনসুলিন বা সালফোনাইলইউরিয়া জাতীয় ওষুধের সাথে একত্রে সেবন করলে এই ঝুঁকি বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে চিকিৎসক সংশ্লিষ্ট ওষুধের মাত্রা সমন্বয় করতে পারেন।
Q: Dapaglip 10 mg Tablet সেবনকালে কোন সতর্কতা লক্ষণগুলো খেয়াল রাখা উচিত?
A: বমি বমি ভাব, বমি, পেটে ব্যথা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি (কিটোঅ্যাসিডোসিসের সম্ভাব্য লক্ষণ), অথবা যৌনাঙ্গ বা পেরিনিয়াম অঞ্চলে ব্যথা, লালচেভাব, ফোলাভাব বা জ্বর (গুরুতর সংক্রমণের সম্ভাব্য লক্ষণ) দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। দাঁড়ালে মাথা ঘোরা বা ডিহাইড্রেশনের লক্ষণও লক্ষ্য রাখুন।
Q: গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে কি Dapaglip 10 mg Tablet ব্যবহার করা যায়?
A: শিশুর কিডনির বিকাশে সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে গর্ভাবস্থায়, বিশেষত দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে, এবং স্তন্যদানকালে Dapaglip 10 mg Tablet ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয় না। গর্ভবতী, গর্ভধারণের পরিকল্পনাকারী বা স্তন্যদানকারী মায়েদের নিরাপদ বিকল্পের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
Q: Dapaglip 10 mg Tablet কি শিশুদের জন্য ব্যবহার করা যায়?
A: নিবিড় চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ১০ বছর ও তার বেশি বয়সী শিশুদের টাইপ ২ ডায়াবেটিস মেলিটাসের চিকিৎসায় Dapaglip 10 mg Tablet দেওয়া যেতে পারে। এর চেয়ে কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এটি নিরাপদ বা কার্যকর প্রমাণিত হয়নি।
ডিসক্লেইমার
এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।