
Dexlan30 mg
Ibn-Sina Pharmaceuticals Ltd.

প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১২ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত সব মাত্রার ইরোসিভ ইসোফ্যাগাইটিস (খাদ্যনালীর অ্যাসিডজনিত ক্ষত) সারিয়ে তোলার জন্য DDR একটি প্রতিষ্ঠিত নির্দেশনা। এছাড়া সুস্থ হওয়া ইসোফ্যাগাইটিস বজায় রাখতে এবং বুক জ্বালাপোড়া নিয়ন্ত্রণে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ৬ মাস পর্যন্ত (১২-১৭ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে ১৬ সপ্তাহ পর্যন্ত) DDR ব্যবহৃত হয়।
অ্যাসিড রিফ্লাক্সজনিত বুক জ্বালাপোড়ার (হার্টবার্ন) উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে ৪ সপ্তাহ মেয়াদে DDR ব্যবহারের জন্য প্রতিষ্ঠিত নির্দেশনা রয়েছে।
DDR একটি প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (Proton Pump Inhibitor - PPI) শ্রেণির অ্যান্টিসেক্রেটরি/অ্যান্টিআলসার ওষুধ। প্রতিটি DDR ডিলেড-রিলিজ ক্যাপসুলে সক্রিয় উপাদান হিসেবে DDR ৩০ মি.গ্রা. অথবা ৬০ মি.গ্রা. থাকে। DDR পাকস্থলীতে অ্যাসিড নিঃসরণ কমিয়ে খাদ্যনালীর অ্যাসিডজনিত ক্ষত (ইরোসিভ ইসোফ্যাগাইটিস) সারাতে এবং অ্যাসিড রিফ্লাক্সজনিত বুক জ্বালাপোড়া (GERD) উপশমে ব্যবহৃত হয়। DDR একটি বিশেষ ডুয়াল ডিলেড-রিলিজ (Dual Delayed-Release) প্রযুক্তিতে তৈরি, যা দিনে একবার সেবনে দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। সাধারণত DDR মুখে খাওয়ার ক্যাপসুল হিসেবে দিনে একবার সেবন করা হয়, এবং মাত্রা ও চিকিৎসার মেয়াদ নির্ভর করে রোগের ধরনের উপর।
Dexlansoprazole হলো lansoprazole-এর R-এনানশিওমার, যা পাকস্থলীর প্যারাইটাল কোষের গায়ে থাকা হাইড্রোজেন-পটাশিয়াম ATPase (প্রোটন পাম্প) এনজাইমের সাথে অপরিবর্তনীয়ভাবে যুক্ত হয়ে তা নিষ্ক্রিয় করে দেয়, ফলে অ্যাসিড উৎপাদনের শেষ ধাপটি বন্ধ হয়ে যায়। Dexlansoprazole একটি ডুয়াল ডিলেড-রিলিজ (Dual Delayed-Release/DDR) ক্যাপসুল, যাতে ভিন্ন ভিন্ন pH-নির্ভর দ্রবণীয়তার দুই ধরনের এন্টেরিক-কোটেড গ্রানিউল থাকে; এর ফলে রক্তে Dexlansoprazole-এর ঘনত্ব দুইবার (সেবনের প্রায় ১-২ ঘণ্টা এবং ৪-৫ ঘণ্টা পর) সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় এবং প্রচলিত একক-রিলিজ PPI-এর তুলনায় দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে। Dexlansoprazole মূলত যকৃতে CYP2C19 এবং CYP3A4 এনজাইমের মাধ্যমে বিপাকিত হয় এবং এর অর্ধায়ু প্রায় ১-২ ঘণ্টা।
DDR-এর মাত্রা ও সেবনের মেয়াদ নির্দিষ্ট রোগ এবং রোগীর অবস্থার উপর নির্ভর করে, এবং তা সবার জন্য এক নয় - অবশ্যই একজন নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত হওয়া উচিত।
| নির্দেশনা | মাত্রা | মেয়াদ |
|---|---|---|
| ইরোসিভ ইসোফ্যাগাইটিস সারিয়ে তোলা | দিনে একবার DDR ৬০ মি.গ্রা. | সর্বোচ্চ ৮ সপ্তাহ |
| সুস্থ ইসোফ্যাগাইটিস বজায় রাখা / বুক জ্বালাপোড়া নিয়ন্ত্রণ | দিনে একবার DDR ৩০ মি.গ্রা. | প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬ মাস (১২-১৭ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৬ সপ্তাহ) |
| সিম্পটোমেটিক নন-ইরোসিভ GERD | দিনে একবার DDR ৩০ মি.গ্রা. | ৪ সপ্তাহ |
| মাঝারি মাত্রার যকৃতের কার্যক্ষমতা হ্রাস (Child-Pugh B), ইসোফ্যাগাইটিস সারাতে | দিনে একবার DDR ৩০ মি.গ্রা. | সর্বোচ্চ ৮ সপ্তাহ |
সেবনবিধি:
DDR সেবনে সবচেয়ে বেশি দেখা যাওয়া পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে রয়েছে ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, শ্বাসনালীর উপরিভাগের সংক্রমণ, বমি এবং পেট ফাঁপা। ১২-১৭ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে DDR সেবনে মাথাব্যথা, পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া, নাসোফ্যারিঞ্জাইটিস এবং গলাব্যথাও দেখা যেতে পারে।
গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে DDR নিয়ে পর্যাপ্ত ও সুনিয়ন্ত্রিত গবেষণা নেই। প্রাণীদের ওপর পরিচালিত গবেষণায় প্রস্তাবিত মানব মাত্রার প্রায় ১.৮ গুণ মাত্রায় DDR ব্যবহারে বাচ্চাদের হাড়ের বৃদ্ধিতে (ফিমার ওজন, দৈর্ঘ্য ও গ্রোথ প্লেটের পুরুত্ব হ্রাস) প্রভাব দেখা গেছে। তাই সম্ভাব্য উপকারিতা ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে হলেই কেবল চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গর্ভাবস্থায় DDR ব্যবহার করা উচিত।
DDR মানব বুকের দুধে নিঃসৃত হয় কিনা তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি; সম্পর্কিত lansoprazole-এর বিপাকজাত পদার্থ ইঁদুরের দুধে পাওয়া গেছে। স্তন্যদানকালে DDR ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্তন্যপানের উপকারিতা এবং মায়ের DDR গ্রহণের প্রয়োজনীয়তাকে শিশুর সম্ভাব্য ঝুঁকির বিপরীতে যাচাই করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
DDR-এর অতিরিক্ত মাত্রা সেবনের অভিজ্ঞতা সীমিত, এবং গুরুতর ক্ষতি বা মৃত্যুর কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। DDR-এর অতিরিক্ত মাত্রা সেবনের সন্দেহ হলে, চিকিৎসক বা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের নির্দিষ্ট নির্দেশ ছাড়া বমি করানোর চেষ্টা করবেন না। দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সেবা বা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের (Poison Control) সাথে যোগাযোগ করুন। DDR-এর অতিরিক্ত মাত্রার চিকিৎসা মূলত লক্ষণভিত্তিক ও সহায়ক; হেমোডায়ালাইসিসের মাধ্যমে DDR কার্যকরভাবে শরীর থেকে অপসারণ করা যায় না।
প্রোডাক্ট লেবেলে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী DDR সংরক্ষণ করুন এবং DDR শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
DDR-এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা কেবল ১২ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে DDR ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয় না, কারণ প্রাণী গবেষণায় হৃদপিণ্ডের ভাল্ভ (mitral valve) পুরু হয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকি পাওয়া গেছে; এছাড়া ১ মাস থেকে ১ বছরের কম বয়সী শিশুদের সিম্পটোমেটিক GERD-তে DDR কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। ১২ বছরের নিচে DDR ব্যবহার একমাত্র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শেই করা উচিত।
ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে বয়স্ক ও অপেক্ষাকৃত কম বয়সী রোগীদের মধ্যে DDR-এর নিরাপত্তা বা কার্যকারিতায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়নি, যদিও বয়স্কদের ক্ষেত্রে DDR শরীর থেকে নিষ্কাশন হতে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে এবং রক্তে এর মাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। শুধুমাত্র বয়সের কারণে DDR-এর মাত্রা পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই, তবে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে হাড়, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন বি১২ সংক্রান্ত ঝুঁকির জন্য বয়স্ক রোগীদের পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
কিডনির কার্যক্ষমতা কম থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে DDR-এর মাত্রা পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই, কারণ DDR মূলত যকৃতের মাধ্যমে বিপাকিত ও নিষ্কাশিত হয়, কিডনির মাধ্যমে নয়।
হালকা যকৃতের কার্যক্ষমতা হ্রাসে (Child-Pugh Class A) DDR-এর মাত্রা পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। মাঝারি মাত্রার যকৃতের কার্যক্ষমতা হ্রাসে (Child-Pugh Class B) ইরোসিভ ইসোফ্যাগাইটিস সারাতে DDR-এর মাত্রা কমিয়ে দিনে একবার ৩০ মি.গ্রা. করা হয়। তীব্র যকৃতের কার্যক্ষমতা হ্রাসে (Child-Pugh Class C) DDR ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয় না, কারণ এই ধরনের রোগীদের নিয়ে গবেষণা পরিচালিত হয়নি।
Q: DDR 30 mg Capsule কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
A: DDR 30 mg Capsule খাদ্যনালীর অ্যাসিডজনিত ক্ষত (ইরোসিভ ইসোফ্যাগাইটিস) সারাতে, সুস্থ হওয়া ইসোফ্যাগাইটিস বজায় রেখে বুক জ্বালাপোড়া নিয়ন্ত্রণে এবং অ্যাসিড রিফ্লাক্সজনিত (GERD) বুক জ্বালাপোড়ার উপসর্গ কমাতে ব্যবহৃত হয়।
Q: DDR 30 mg Capsule কীভাবে সেবন করতে হয়?
A: DDR 30 mg Capsule সাধারণত দিনে একবার মুখে, খাবার সাথে বা খালি পেটে সেবন করা হয়, এবং ক্যাপসুলটি পুরোটা গিলে ফেলতে হয়। পুরো ক্যাপসুল গিলতে সমস্যা হলে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী DDR 30 mg Capsule খুলে আপেল সসের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়।
Q: DDR 30 mg Capsule-এর স্বাভাবিক মাত্রা কত?
A: DDR 30 mg Capsule-এর মাত্রা রোগের ধরনের উপর নির্ভর করে - সাধারণত ইরোসিভ ইসোফ্যাগাইটিস সারাতে দিনে DDR 30 mg Capsule ৬০ মি.গ্রা. এবং মেইনটেন্যান্স থেরাপি বা নন-ইরোসিভ GERD-তে দিনে DDR 30 mg Capsule ৩০ মি.গ্রা. - তবে সঠিক মাত্রা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত হতে হবে।
Q: Clopidogrel-এর সাথে কি DDR 30 mg Capsule সেবন করা যায়?
A: DDR 30 mg Capsule CYP2C19-এর মাধ্যমে clopidogrel-এর সক্রিয় রূপে রূপান্তর কিছুটা কমাতে পারে; গবেষণায় এই প্রভাব ক্লিনিক্যালি গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়নি, তবে clopidogrel সেবনকারীদের DDR 30 mg Capsule শুরুর আগে চিকিৎসককে জানানো উচিত।
Q: গর্ভাবস্থায় DDR 30 mg Capsule ব্যবহার কি নিরাপদ?
A: মানুষের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় DDR 30 mg Capsule-এর নিরাপত্তা সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়; প্রাণী গবেষণায় DDR 30 mg Capsule ব্যবহারে বাচ্চাদের হাড়ের বৃদ্ধিতে কিছু প্রভাব দেখা গেছে। তাই চিকিৎসক উপকারিতা ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে করলেই কেবল গর্ভাবস্থায় DDR 30 mg Capsule ব্যবহার করা উচিত।
Q: শিশুরা কি DDR 30 mg Capsule সেবন করতে পারে?
A: DDR 30 mg Capsule কেবল ১২ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের ক্ষেত্রে অনুমোদিত; ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে DDR 30 mg Capsule সুপারিশ করা হয় না এবং ১ বছরের কম বয়সী শিশুদের সিম্পটোমেটিক GERD-তে DDR 30 mg Capsule কার্যকর প্রমাণিত হয়নি।
Q: DDR 30 mg Capsule-এর সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী কী?
A: DDR 30 mg Capsule-এর সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে ডায়রিয়া, পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, পেট ফাঁপা এবং শ্বাসনালীর উপরিভাগের সংক্রমণ।
Q: দীর্ঘমেয়াদে DDR 30 mg Capsule ব্যবহার কি নিরাপদ?
A: অন্যান্য PPI-এর মতোই দীর্ঘমেয়াদি DDR 30 mg Capsule ব্যবহারে হাড় ভাঙা, রক্তে ম্যাগনেসিয়াম কমে যাওয়া, ভিটামিন বি১২ স্বল্পতা এবং Clostridioides difficile সংক্রমণজনিত ডায়রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে; তাই DDR 30 mg Capsule চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় ও সবচেয়ে কম সময় ধরে ব্যবহার করা উচিত।
Q: DDR 30 mg Capsule-এর কোনো মাত্রা বাদ পড়লে কী করব?
A: DDR 30 mg Capsule-এর কোনো মাত্রা বাদ পড়লে মনে পড়ামাত্র তা সেবন করুন; তবে পরবর্তী মাত্রার সময় ঘনিয়ে এলে বাদ পড়া মাত্রাটি বাদ দিয়ে স্বাভাবিক সময়সূচি অনুসরণ করুন। একসাথে দুই মাত্রা DDR 30 mg Capsule সেবন করবেন না।
ডিসক্লেইমার
এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।