
Dulox30 mg
ACME Laboratories Ltd.

Duloxen একটি সেরোটোনিন-নরএপিনেফ্রিন রিআপটেক ইনহিবিটর (SNRI) জাতীয় ওষুধ, যার প্রমাণ-ভিত্তিক ব্যবহারসমূহ নিচে দেওয়া হলো।
সঠিক নির্দেশনা ও মাত্রা সবসময় একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।
Duloxen সেরোটোনিন-নরএপিনেফ্রিন রিআপটেক ইনহিবিটর (SNRI) শ্রেণীর একটি এন্টিডিপ্রেসেন্ট/ব্যথানাশক ওষুধ।
Duloxetine Hydrochloride মস্তিষ্কের প্রিসিন্যাপটিক নিউরনে সেরোটোনিন (5-HT) ও নরএপিনেফ্রিন (NE) এর পুনঃগ্রহণ (reuptake) সুনির্দিষ্টভাবে বাধা দিয়ে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে এই নিউরোট্রান্সমিটারগুলোর মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই দ্বৈত ক্রিয়া বিষণ্নতা ও উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করার পাশাপাশি ব্যথা নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুপথকেও প্রভাবিত করে, যার ফলে নিউরোপ্যাথিক ও পেশি-অস্থিসংক্রান্ত ব্যথায়ও এটি কার্যকর। ডোপামিন, কোলিনার্জিক, হিস্টামিন, ওপিয়য়েড, গ্লুটামেট বা GABA রিসেপ্টরের প্রতি এর সখ্যতা খুবই কম।
Duloxen চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী সঠিকভাবে সেবন করতে হবে। রোগ, বয়স এবং লিভার/কিডনির অবস্থা অনুযায়ী মাত্রা ভিন্ন হতে পারে।
| নির্দেশনা | শুরুর মাত্রা | কার্যকরী/সাধারণ মাত্রা | সর্বোচ্চ মাত্রা |
|---|---|---|---|
| বিষণ্নতা (প্রাপ্তবয়স্ক) | ৪০–৬০ মি.গ্রা./দিন | দিনে একবার ৬০ মি.গ্রা. | ১২০ মি.গ্রা./দিন |
| উদ্বেগজনিত রোগ (৬৫ বছরের কম বয়সী) | দিনে একবার ৬০ মি.গ্রা. | দিনে একবার ৬০ মি.গ্রা. | ১২০ মি.গ্রা./দিন |
| উদ্বেগজনিত রোগ (৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব) | দিনে একবার ৩০ মি.গ্রা. | দিনে একবার ৬০ মি.গ্রা. | ১২০ মি.গ্রা./দিন |
| ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথিক ব্যথা | দিনে একবার ৬০ মি.গ্রা. | দিনে একবার ৬০ মি.গ্রা. | ৬০ মি.গ্রা./দিন |
| ফাইব্রোমায়ালজিয়া (প্রাপ্তবয়স্ক) | ১ সপ্তাহ দিনে একবার ৩০ মি.গ্রা. | দিনে একবার ৬০ মি.গ্রা. | ৬০ মি.গ্রা./দিন |
| দীর্ঘস্থায়ী পেশি-অস্থি ব্যথা (প্রাপ্তবয়স্ক) | ১ সপ্তাহ দিনে একবার ৩০ মি.গ্রা. | দিনে একবার ৬০ মি.গ্রা. | ৬০ মি.গ্রা./দিন |
| উদ্বেগজনিত রোগ, শিশু (৭–১৭ বছর) | ২ সপ্তাহ দিনে একবার ৩০ মি.গ্রা. | দিনে একবার ৩০–৬০ মি.গ্রা. | ১২০ মি.গ্রা./দিন |
| ফাইব্রোমায়ালজিয়া, কিশোর (১৩–১৭ বছর) | ১ সপ্তাহ দিনে একবার ৩০ মি.গ্রা. | দিনে একবার ৬০ মি.গ্রা. | ৬০ মি.গ্রা./দিন |
Duloxen কখনোই হঠাৎ বন্ধ করা উচিত নয়; বন্ধ করার প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কমপক্ষে ১–২ সপ্তাহ (প্রয়োজনে আরও বেশি সময়) ধরে ধীরে ধীরে মাত্রা কমাতে হবে, যাতে বন্ধ করার পরবর্তী উপসর্গ এড়ানো যায় (সতর্কতা অংশ দেখুন)।
Duloxen এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ মিথষ্ক্রিয়া রয়েছে:
Duloxetine Hydrochloride নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ব্যবহার নিষিদ্ধ:
Duloxen সেবনে সাধারণ ও মৃদু থেকে শুরু করে বিরল কিন্তু গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
গর্ভাবস্থা: Duloxen শুধুমাত্র স্পষ্ট প্রয়োজন হলে এবং সম্ভাব্য উপকারিতা ভ্রূণের সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলে ব্যবহার করা উচিত; ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। গর্ভাবস্থার শেষ ত্রৈমাসিকে ব্যবহার করলে নবজাতকের শ্বাসকষ্ট, তাপমাত্রার অস্থিরতা, খাওয়াতে অসুবিধা, দুর্বল মাংসপেশির টান, কাঁপুনি ও খিটখিটে ভাবের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
স্তন্যদান: Duloxen অল্প পরিমাণে বুকের দুধে প্রবেশ করে। স্তন্যপান বন্ধ রাখা হবে নাকি ওষুধ বন্ধ রাখা হবে তা মায়ের জন্য চিকিৎসার উপকারিতা ও শিশুর ঝুঁকি বিবেচনা করে চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
Duloxen এবং অন্যান্য এন্টিডিপ্রেসেন্ট স্বল্পমেয়াদী গবেষণায় শিশু, কিশোর ও তরুণ বয়সীদের (২৪ বছর পর্যন্ত) আত্মহত্যার চিন্তা ও আচরণের ঝুঁকি বাড়ায়। সব বয়সের রোগীকেই চিকিৎসা শুরুর সময় বা মাত্রা পরিবর্তনের পর বিষণ্নতা বৃদ্ধি, অস্বাভাবিক আচরণ পরিবর্তন ও আত্মহত্যার প্রবণতার জন্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডারে শিশুদের ক্ষেত্রে Duloxen অনুমোদিত নয়।
লিভারের ক্ষতি, জন্ডিসসহ হেপাটোসেলুলার ড্যামেজ এবং বিরল ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঘটনাও রিপোর্ট করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য মদ্যপান বা দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগে Duloxen এড়িয়ে চলতে হবে, এবং জন্ডিস বা লিভারের কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হলে অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
বিশেষত অন্য সেরোটোনার্জিক ওষুধের সাথে একত্রে ব্যবহার করলে এই সম্ভাব্য জীবনসংহারী প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে (মিথষ্ক্রিয়া অংশ দেখুন)। লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মানসিক অবস্থার পরিবর্তন, স্বায়ত্তশাসিত স্নায়ুতন্ত্রের অস্থিরতা, মাংসপেশির অস্বাভাবিকতা এবং পেটের সমস্যা। সন্দেহ হলে Duloxen অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
বিশেষত চিকিৎসার প্রথম সপ্তাহে বা মাত্রা বাড়ানোর সময় এটি দেখা দিতে পারে, এবং বয়স্ক রোগী ও রক্তচাপ কমানোর ওষুধ সেবনকারীদের মধ্যে এই ঝুঁকি বেশি।
Duloxen শুরুর আগে ও চিকিৎসাকালীন নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ করতে হবে; উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।
Duloxen চোখের মণি বড় করে দিতে পারে, যা সংকীর্ণ কোণযুক্ত চোখে অ্যাংগেল-ক্লোজার আক্রমণ ঘটাতে পারে; অনিয়ন্ত্রিত ন্যারো-অ্যাংগেল গ্লুকোমায় এটি নিষিদ্ধ।
Duloxen হঠাৎ বন্ধ করলে মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, শিরশিরে অনুভূতি, খিটখিটে ভাব ও ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ওষুধ বন্ধ করতে হলে সবসময় ধীরে ধীরে মাত্রা কমাতে হবে।
NSAID, অ্যাসপিরিন, ওয়ারফারিন বা অন্যান্য রক্ত পাতলাকারী ওষুধের সাথে একত্রে ব্যবহার করলে Duloxen রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে (মিথষ্ক্রিয়া অংশ দেখুন)।
Duloxen এর অতিরিক্ত মাত্রা সেবন, একা অথবা অন্য ওষুধ বা মদের সাথে মিলিয়ে, গুরুতর ও জীবনসংহারী হতে পারে। অতিরিক্ত মাত্রার লক্ষণগুলোর মধ্যে থাকতে পারে সেরোটোনিন সিনড্রোম, খিঁচুনি, তন্দ্রাভাব, বমি এবং বিরল ক্ষেত্রে হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা।
Duloxen এর অতিরিক্ত মাত্রা সেবনের সন্দেহ হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন অথবা জরুরি চিকিৎসা সেবা/বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। বাড়িতে নিজে থেকে এটি ব্যবস্থাপনার চেষ্টা করবেন না। হাসপাতালে সহায়ক ও উপসর্গ-ভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হয়; এর কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই।
৩০°সে এর নিচে ঘরের তাপমাত্রায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
যেকোনো নির্দেশনায় Duloxen সেবনকারী শিশু, কিশোর ও তরুণ বয়সীদের বিষণ্নতা বৃদ্ধি, অস্বাভাবিক আচরণ পরিবর্তন ও আত্মহত্যার প্রবণতার জন্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে, বিশেষত চিকিৎসার প্রথম কয়েক মাসে ও মাত্রা পরিবর্তনের পর (সতর্কতা অংশে বক্সড ওয়ার্নিং দেখুন)।
বয়স্ক রোগীরা Duloxen এর প্রতি বেশি সংবেদনশীল হতে পারেন, যার ফলে হাইপোন্যাট্রেমিয়া, পড়ে যাওয়া ও দাঁড়ালে রক্তচাপ কমে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এই গোষ্ঠীতে কম শুরুর মাত্রা (যেমন উদ্বেগজনিত রোগে দিনে ৩০ মি.গ্রা.) সুপারিশ করা হয়, সাথে নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। এছাড়া গুরুতর কিডনি সমস্যা (ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স <৩০ মি.লি./মিনিট) ও দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগে Duloxen এড়িয়ে চলতে হবে।
Q: Duloxen 30 mg Tablet কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
A: Duloxen 30 mg Tablet একটি SNRI জাতীয় ওষুধ যা মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার (বিষণ্নতা), উদ্বেগজনিত রোগ, ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুর ব্যথা, ফাইব্রোমায়ালজিয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী পেশি-অস্থিসংক্রান্ত ব্যথা (যেমন দীর্ঘস্থায়ী কোমর ব্যথা বা অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ব্যথা) এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
Q: Duloxen 30 mg Tablet কাজ করতে কত সময় লাগে?
A: ব্যথার উপর কিছুটা প্রভাব ১-২ সপ্তাহের মধ্যে অনুভূত হতে পারে, তবে Duloxen 30 mg Tablet এর পূর্ণ এন্টিডিপ্রেসেন্ট ও উদ্বেগ-বিরোধী প্রভাব দেখা দিতে নিয়মিত সেবনের ৪-৬ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তাৎক্ষণিক উন্নতি না দেখলে নিজে থেকে বন্ধ করবেন না — কোনো উদ্বেগ থাকলে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন।
Q: আমি কি হঠাৎ করে Duloxen 30 mg Tablet বন্ধ করতে পারি?
A: না। Duloxen 30 mg Tablet কখনোই হঠাৎ বন্ধ করা উচিত নয়, কারণ এতে মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা ও খিটখিটে ভাবের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। চিকিৎসক আপনাকে ধীরে ধীরে মাত্রা কমানোর নির্দেশনা দেবেন।
Q: গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে Duloxen 30 mg Tablet কি নিরাপদ?
A: গর্ভাবস্থায় Duloxen 30 mg Tablet শুধুমাত্র স্পষ্ট প্রয়োজন হলেই ব্যবহার করা উচিত, কারণ সম্ভাব্য উপকারিতা ও শিশুর প্রতি সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করতে হয়, বিশেষত গর্ভাবস্থার শেষ দিকে ব্যবহার করলে। এটি অল্প পরিমাণে বুকের দুধেও প্রবেশ করে। গর্ভবতী, গর্ভধারণের পরিকল্পনাকারী বা স্তন্যদানকারী মায়েদের অবশ্যই ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
Q: Duloxen 30 mg Tablet সেবনকালে কী এড়িয়ে চলতে হবে?
A: মনোঅ্যামিন অক্সিডেজ ইনহিবিটর (MAOI) এর সাথে Duloxen 30 mg Tablet একত্রে সেবন করা যাবে না। অন্যান্য সেরোটোনার্জিক ওষুধ, NSAID, অ্যাসপিরিন ও রক্ত পাতলাকারী ওষুধের সাথে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে, কারণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। লিভারের ক্ষতির ঝুঁকির কারণে উল্লেখযোগ্য মদ্যপান এড়িয়ে চলুন। আপনি যেসব ওষুধ সেবন করছেন তা সবসময় চিকিৎসককে জানান।
Q: Duloxen 30 mg Tablet সেবনকালে কোন গুরুতর লক্ষণগুলোতে সতর্ক থাকতে হবে?
A: বিষণ্নতা বৃদ্ধি বা নতুন আত্মহত্যার চিন্তা (বিশেষত শিশু, কিশোর ও তরুণ বয়সীদের ক্ষেত্রে), ত্বক বা চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ, তীব্র মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, চোখে ব্যথা বা দৃষ্টি সমস্যা, অথবা অস্থিরতা, দ্রুত হৃদস্পন্দন ও মাংসপেশি শক্ত হওয়ার মতো সেরোটোনিন সিনড্রোমের লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ডিসক্লেইমার
এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।