
Amifen50 mg/5 ml
Opsonin Pharma Ltd.

Fenamic একটি ফেনামেট গোত্রের নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ (NSAID), যা স্বল্পমেয়াদী ব্যথা উপশমে এবং মাসিকের ব্যথায় ব্যবহৃত হয়।
Fenamic দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের জন্য নয়; এটি শুধুমাত্র স্বল্প সময়ের চিকিৎসার জন্য নির্দেশিত।
Mefenamic acid মূলত সাইক্লো-অক্সিজেনেজ (COX-1 ও COX-2) এনজাইমকে অ-নির্বাচনীভাবে বাধা দিয়ে কাজ করে, যা প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন সংশ্লেষণ কমায়। প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন ব্যথা, প্রদাহ ও জ্বরের জন্য দায়ী। জরায়ুতে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের মাত্রা কমিয়ে Mefenamic acid জরায়ু সংকোচন ও মাসিকের রক্তক্ষরণও কমায়, যা ডিসমেনোরিয়ায় এর কার্যকারিতার কারণ।
মুখে খাওয়ার পর Mefenamic acid দ্রুত শোষিত হয় এবং প্রায় ২-৪ ঘণ্টার মধ্যে রক্তে সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছায়। এটি যকৃতে বিপাকিত হয় এবং মূলত কিডনির মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয়।
| নির্দেশনা | মাত্রা | মন্তব্য |
|---|---|---|
| তীব্র মৃদু-মাঝারি ব্যথা | প্রাথমিকভাবে ৫০০ মি.গ্রা., এরপর প্রতি ৬ ঘণ্টায় ২৫০ মি.গ্রা. প্রয়োজন অনুযায়ী | চিকিৎসা ৭ দিনের বেশি চালানো উচিত নয় |
| প্রাইমারি ডিসমেনোরিয়া | রক্তক্ষরণ/ব্যথা শুরু হলে প্রাথমিকভাবে ৫০০ মি.গ্রা., এরপর প্রতি ৬ ঘণ্টায় ২৫০ মি.গ্রা. | সাধারণত ২-৩ দিন বা উপসর্গ কমা পর্যন্ত চালানো হয় |
১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে Fenamic এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি; এই বয়সে এটি সুপারিশ করা হয় না।
গুরুতর কিডনি বা যকৃতের সমস্যায় Fenamic এড়িয়ে চলতে হবে (দেখুন প্রতিনির্দেশনা অংশ)। হালকা-মাঝারি সমস্যায় সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রা স্বল্পতম সময়ের জন্য ব্যবহার করে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
Fenamic খাবার বা দুধের সাথে খেলে পাকস্থলীর অস্বস্তি কম হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নির্ধারিত মাত্রা বা মেয়াদের বেশি সেবন করা উচিত নয়।
| ওষুধ/শ্রেণি | Fenamic এর সাথে মিথষ্ক্রিয়ার প্রভাব |
|---|---|
| অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট (যেমন ওয়ারফারিন), অ্যান্টিপ্লেটলেট, SSRI | রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষত পাকস্থলী-নাড়িতে; একসাথে ব্যবহারে সতর্ক পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন |
| অ্যাসপিরিন ও অন্যান্য NSAID | বাড়তি কোনো উপকার নেই কিন্তু পাকস্থলীর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে; একত্রে ব্যবহার সুপারিশ করা হয় না |
| ACE ইনহিবিটর, ARB, মূত্রবর্ধক (diuretics) | রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের কার্যকারিতা কমে; একত্রে ব্যবহারে বিশেষত বয়স্ক বা পানিশূন্য রোগীদের কিডনি ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে |
| লিথিয়াম | রক্তে লিথিয়ামের মাত্রা বিষাক্ত পর্যায়ে বাড়তে পারে; পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন |
| মেথোট্রেক্সেট | মেথোট্রেক্সেটের বিষক্রিয়া বাড়াতে পারে, বিশেষত উচ্চ মাত্রায় |
| কর্টিকোস্টেরয়েড | পাকস্থলীর ক্ষত/রক্তক্ষরণের ঝুঁকি সংযোজিতভাবে বাড়ে |
Fenamic শুরু করার আগে সেবনরত সকল ওষুধের কথা চিকিৎসককে জানান।
কালো পায়খানা, রক্ত বমি, অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ/কালশিটে দাগ, ত্বক-চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া, বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহ থেকে Fenamic এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এই সময়ে NSAID গর্ভস্থ শিশুর কিডনির কার্যকারিতায় সমস্যা করতে পারে এবং অ্যামনিওটিক ফ্লুইড কমিয়ে দিতে পারে। ৩০ সপ্তাহ বা তার পরে ব্যবহার করলে গর্ভস্থ শিশুর ডাক্টাস আর্টেরিওসাস অকালে বন্ধ হয়ে যেতে পারে, তাই তৃতীয় ত্রৈমাসিকে Fenamic সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এর আগের সময়ে শুধুমাত্র স্পষ্ট প্রয়োজনে, সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায়, স্বল্পতম সময়ের জন্য এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যবহার করা উচিত, কারণ সম্ভাব্য উপকারিতা গর্ভস্থ শিশুর প্রতি সম্ভাব্য ঝুঁকির বিপরীতে বিবেচনা করতে হবে।
স্তন্যদান: Fenamic স্তন্যদুগ্ধে অল্প মাত্রায় প্রবেশ করে। শিশুর ওপর সম্ভাব্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কারণে স্তন্যপান বন্ধ রাখা হবে নাকি Fenamic বন্ধ রাখা হবে তা মায়ের চিকিৎসাগত প্রয়োজনীয়তা ও স্তন্যদানের উপকারিতা বিবেচনা করে নির্ধারণ করতে হবে — ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
অন্যান্য NSAID এর মতো Fenamic ও গুরুতর হৃদরোগ সংক্রান্ত থ্রম্বোটিক ঘটনার (হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক) ঝুঁকি বাড়াতে পারে, যা প্রাণঘাতী হতে পারে। এই ঝুঁকি চিকিৎসার প্রথম দিকেও দেখা দিতে পারে এবং ব্যবহারের সময়কাল বাড়ার সাথে বা হৃদরোগের পূর্ব ইতিহাস থাকলে বাড়তে পারে।
Fenamic পাকস্থলী বা নাড়ির রক্তক্ষরণ, ক্ষত বা ছিদ্রের মতো গুরুতর সমস্যা ঘটাতে পারে, যা কোনো পূর্ব লক্ষণ ছাড়াই এবং চিকিৎসার যেকোনো সময়ে ঘটতে পারে এবং প্রাণঘাতী হতে পারে। বয়স্ক ব্যক্তি এবং পূর্বে পেপটিক আলসার বা পাকস্থলীর রক্তক্ষরণের ইতিহাস থাকা রোগীদের ঝুঁকি বেশি।
চিকিৎসকের পর্যালোচনা ছাড়া ব্যথার জন্য Fenamic ৭ দিনের বেশি ব্যবহার সুপারিশ করা হয় না, কারণ দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের নিরাপত্তা তথ্য সীমিত।
দীর্ঘমেয়াদী বা উচ্চ মাত্রায় Fenamic ব্যবহারে কিডনির কার্যকারিতা প্রভাবিত হতে পারে; পূর্ব থেকে কিডনি/যকৃতের সমস্যা থাকা রোগী, বয়স্ক ব্যক্তি বা diuretics/ACE ইনহিবিটর সেবনকারীদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
Fenamic রক্তক্ষরণের সময় বাড়াতে পারে এবং বিরল ক্ষেত্রে হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া বা অন্যান্য রক্তের সমস্যা ঘটাতে পারে; অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট সেবনকারী বা রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।
Fenamic জ্বর ও প্রদাহের মতো সংক্রমণের লক্ষণ আড়াল করতে পারে। বয়স্ক রোগী, যাদের গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি, এবং হাঁপানির রোগীদের (ব্রঙ্কোস্পাজমের ঝুঁকি) ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।
Fenamic এর মাত্রাধিক্যতার লক্ষণের মধ্যে থাকতে পারে ঝিমুনি, বমি বমি ভাব, বমি, পেটের উপরিভাগে ব্যথা, পাকস্থলী-নাড়ির রক্তক্ষরণ এবং গুরুতর ক্ষেত্রে খিঁচুনি বা কিডনির তীব্র ক্ষতি।
Fenamic এর মাত্রাধিক্যতা একটি চিকিৎসা জরুরি অবস্থা। অবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন বা জরুরি চিকিৎসা সেবা/বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। চিকিৎসা সহায়ক পদ্ধতিতে করা হয়; পেশাদার নির্দেশনা ছাড়া বাড়িতে মাত্রাধিক্যতার চিকিৎসার চেষ্টা করবেন না।
রুম তাপমাত্রায় (৩০°সে এর নিচে), আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
Fenamic শুধুমাত্র ১৪ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ব্যথায় ও প্রাইমারি ডিসমেনোরিয়ায় ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত; ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে Fenamic এ গুরুতর হৃদরোগ, পাকস্থলী ও কিডনি সংক্রান্ত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি। সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রা স্বল্পতম সময়ের জন্য ব্যবহার করে নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
গুরুতর কিডনি বা যকৃতের সমস্যায় Fenamic এড়িয়ে চলতে হবে (দেখুন প্রতিনির্দেশনা)। হালকা-মাঝারি সমস্যায় সতর্কতার সাথে ও পর্যবেক্ষণ করে ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিস্তারিত জানতে দেখুন "গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে" অংশ।
Q: Fenamic 50 mg/5 ml Oral Suspension কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
A: Fenamic 50 mg/5 ml Oral Suspension মূলত ১৪ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মৃদু-মাঝারি ব্যথার স্বল্পমেয়াদী উপশমে এবং বিশেষভাবে প্রাইমারি ডিসমেনোরিয়া (মাসিকের ব্যথা) কমাতে ব্যবহৃত হয়।
Q: Fenamic 50 mg/5 ml Oral Suspension কি এক সপ্তাহের বেশি খাওয়া যাবে?
A: চিকিৎসকের পর্যালোচনা ছাড়া ব্যথার জন্য Fenamic 50 mg/5 ml Oral Suspension সাধারণত ৭ দিনের বেশি টানা সেবন করা উচিত নয়, কারণ দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে পাকস্থলী-নাড়ি ও অন্যান্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। মেয়াদ সম্পর্কে সর্বদা চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।
Q: গর্ভাবস্থায় Fenamic 50 mg/5 ml Oral Suspension কি নিরাপদ?
A: গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহ থেকে Fenamic 50 mg/5 ml Oral Suspension এড়িয়ে চলা উচিত এবং তৃতীয় ত্রৈমাসিকে এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, কারণ এটি গর্ভস্থ শিশুর কিডনি এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী (ডাক্টাস আর্টেরিওসাস) অকালে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে। এর আগের সময়ে শুধুমাত্র স্পষ্ট প্রয়োজনে এবং চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা উচিত, কারণ সম্ভাব্য উপকারিতা গর্ভস্থ শিশুর প্রতি সম্ভাব্য ঝুঁকির বিপরীতে বিবেচনা করতে হবে।
Q: স্তন্যদানকালে কি Fenamic 50 mg/5 ml Oral Suspension খাওয়া যাবে?
A: Fenamic 50 mg/5 ml Oral Suspension স্তন্যদুগ্ধে অল্প মাত্রায় প্রবেশ করে। স্তন্যদানকালে Fenamic 50 mg/5 ml Oral Suspension ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, যাতে শিশুর জন্য উপকারিতা ও ঝুঁকি যাচাই করা যায়।
Q: Fenamic 50 mg/5 ml Oral Suspension এর প্রধান পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কী কী?
A: Fenamic 50 mg/5 ml Oral Suspension এর সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে পেটের অস্বস্তি, বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা। কম সাধারণ কিন্তু গুরুতর প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে পাকস্থলীর রক্তক্ষরণ/আলসার, যকৃত বা কিডনির সমস্যা এবং হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো হৃদরোগজনিত ঘটনা — এগুলো দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Q: কাদের Fenamic 50 mg/5 ml Oral Suspension খাওয়া উচিত নয়?
A: যাদের Fenamic 50 mg/5 ml Oral Suspension বা অন্য NSAID/অ্যাসপিরিনে অ্যালার্জি আছে, সক্রিয় পাকস্থলীর আলসার বা রক্তক্ষরণ আছে, ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ আছে, গুরুতর কিডনি বা যকৃতের সমস্যা আছে, যারা CABG হৃদ-অস্ত্রোপচার করছেন, এবং গর্ভাবস্থার তৃতীয় ত্রৈমাসিকে থাকা নারীদের Fenamic 50 mg/5 ml Oral Suspension খাওয়া উচিত নয়। সর্বদা আপনার সম্পূর্ণ চিকিৎসা ইতিহাস চিকিৎসককে জানান।
ডিসক্লেইমার
এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।