
Ziska Oral Saline13.95 gm
Ziska Pharmaceuticals Ltd.

G-ORS ডায়রিয়া (অতিসার) ও বমির কারণে সৃষ্ট পানিশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন) প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় সকল বয়সের রোগীদের জন্য ব্যবহৃত হয়।
G-ORS ডায়রিয়ার মূল কারণের চিকিৎসা করে না (এটি অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিডায়রিয়াল নয়); এটি শুধুমাত্র পানিশূন্যতার চিকিৎসা করে। তীব্র পানিশূন্যতা, ক্রমাগত বমি যার কারণে মুখে কিছু গ্রহণ করা যায় না, বা শক অবস্থায় দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ ও শিরাপথে তরল প্রয়োজন হয়, শুধু G-ORS এর উপর নির্ভর করা যাবে না।
G-ORS ওরাল রিহাইড্রেশন থেরাপি (তরল ও ইলেক্ট্রোলাইট পুনঃস্থাপনকারী) শ্রেণির ওষুধ, যা ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট (ORS)/ওরাল ইলেক্ট্রোলাইট সলিউশন নামেও পরিচিত।
Oral Rehydration Salt [Powder] ক্ষুদ্রান্ত্রের ব্রাশ বর্ডার কোষে সোডিয়াম-গ্লুকোজ কো-ট্রান্সপোর্ট (SGLT-1) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ করে। গ্লুকোজ ও সোডিয়াম একসাথে শোষিত হয়, এবং সংক্রামক ডায়রিয়ার (যেমন কলেরা বা রোটাভাইরাস) সময়েও এই প্রক্রিয়া কার্যকর থাকে। সোডিয়াম ও গ্লুকোজের শোষণ একটি অসমোটিক গ্রেডিয়েন্ট তৈরি করে, যা পানি ও অন্যান্য ইলেক্ট্রোলাইট (পটাশিয়াম, ক্লোরাইড) শোষণে সহায়তা করে এবং পানিশূন্যতা ও ইলেক্ট্রোলাইট ঘাটতি সংশোধন করে।
সাইট্রেট উপাদান ডায়রিয়াজনিত বিপাকীয় অ্যাসিডোসিস সংশোধনে সহায়তা করে। Oral Rehydration Salt [Powder] এর WHO লো-অসমোলারিটি ফর্মুলেশন (প্রায় ২৪৫ mOsm/L) রক্তরসের অসমোলারিটির কাছাকাছি, যা পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট শোষণ উন্নত করে এবং পূর্ববর্তী উচ্চ-অসমোলারিটি ORS ফর্মুলার তুলনায় মলের পরিমাণ কমায়।
G-ORS ব্যবহারের আগে অবশ্যই সঠিক পরিমাণ বিশুদ্ধ, নিরাপদ পানীয় জলে গুলিয়ে নিতে হবে (দেখুন "প্রস্তুত প্রণালী")। শিশুদের ক্ষেত্রে অল্প অল্প করে ঘন ঘন চুমুক দিয়ে খাওয়াতে হবে, বিশেষত বমির পর।
| বয়স গ্রুপ | প্রতিটি পাতলা পায়খানা/বমির পর পরিমাণ |
|---|---|
| ২ বছরের কম বয়সী শিশু | ৫০-১০০ মি.লি. (প্রায় ১০-২০ চা-চামচ) |
| ২-১০ বছর বয়সী শিশু | ১০০-২০০ মি.লি. (প্রায় আধা থেকে এক গ্লাস) |
| ১০ বছরের বেশি ও প্রাপ্তবয়স্ক | ২০০-৪০০ মি.লি. (প্রায় এক থেকে দুই গ্লাস) |
হালকা থেকে মাঝারি পানিশূন্যতার ক্ষেত্রে, WHO নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রথম ৪ ঘণ্টায় প্রায় ৭৫ মি.লি./কেজি শরীরের ওজন অনুযায়ী প্রাথমিক তরল প্রতিস্থাপন করা হয়, পাশাপাশি চলমান ক্ষয় পূরণের জন্য মেইনটেন্যান্স ডোজ চালিয়ে যেতে হয় এবং পুনরায় মূল্যায়ন করতে হয়। শিশু, বয়স্ক ও অন্তর্নিহিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে একজন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থেরাপি নির্ধারণ করা উচিত।
G-ORS সেবনকালে বুকের দুধ পান ও স্বাভাবিক খাদ্যগ্রহণ অব্যাহত রাখুন; খাবার বন্ধ করবেন না। বমি হলে ১০ মিনিট অপেক্ষা করে আস্তে আস্তে আবার G-ORS খাওয়ান। তীব্র পানিশূন্যতা (বসে যাওয়া চোখ, অবসাদগ্রস্ততা, পান করতে না পারা, প্রস্রাব খুব কম বা না হওয়া) একটি জরুরি চিকিৎসা অবস্থা, যাতে অবিলম্বে চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে শিরাপথে তরল প্রয়োজন হতে পারে।
G-ORS এর সাথে অন্য কোনো ওষুধের উল্লেখযোগ্য মিথষ্ক্রিয়া সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত নয়, কারণ এটি শারীরবৃত্তীয় ইলেক্ট্রোলাইট ও গ্লুকোজ দিয়ে তৈরি। তবে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো ক্লিনিক্যালি গুরুত্বপূর্ণ:
Oral Rehydration Salt [Powder] এর কোনো উপাদানের প্রতি অতি সংবেদনশীলতা থাকলে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। এছাড়া নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে যেখানে মুখে তরল গ্রহণ অনুপযুক্ত বা অনিরাপদ, সেখানে Oral Rehydration Salt [Powder] প্রতিনির্দেশিত:
সঠিকভাবে প্রস্তুত ও সেবন করলে G-ORS সাধারণত খুব ভালোভাবে সহনীয়। পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বিরল এবং সাধারণত ভুল প্রস্তুতি বা অতিরিক্ত/দ্রুত গ্রহণের সাথে সম্পর্কিত:
সঠিকভাবে প্রস্তুত ও মাত্রায় ব্যবহার করলে G-ORS গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়, কারণ এটি শরীরের স্বাভাবিক তরল ও ইলেক্ট্রোলাইট প্রতিস্থাপন করে এবং প্রচলিত অর্থে সিস্টেমিক ওষুধের মতো শোষিত হয় না। তবে যেকোনো ওষুধ বা স্বাস্থ্য পণ্যের মতো, ডায়রিয়া বা বমির কারণে পানিশূন্যতায় ভুগছেন এমন গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মায়েদের G-ORS শুধুমাত্র নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত এবং তীব্র পানিশূন্যতা বা উপসর্গের উন্নতি না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, যাতে মূল কারণ ও তরল অবস্থা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা যায়। G-ORS সেবনকালে মা ও শিশুর বুকের দুধ পান অব্যাহত রাখা উচিত, বরং অসুস্থতার সময় বাড়ানো উচিত।
G-ORS এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার জন্য সঠিক প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
সঠিকভাবে গোলানো G-ORS এর প্রকৃত মাত্রাধিক্যতা অসম্ভাব্য, তবে কম পানিতে অতিরিক্ত ঘন করে তৈরি দ্রবণ বেশি পরিমাণে সেবন করলে হাইপারন্যাট্রেমিয়া হতে পারে, যার লক্ষণ হলো খিটখিটে ভাব, অবসাদগ্রস্ততা, পেশির কাঁপুনি, বা খিঁচুনি, বিশেষত শিশু ও অল্পবয়সীদের ক্ষেত্রে। G-ORS ভুলভাবে প্রস্তুত করার ফলে তীব্র অবসাদগ্রস্ততা, খিঁচুনি, তীব্র বমি, বা চেতনার পরিবর্তনের মতো মাত্রাধিক্যতার লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে সেবন বন্ধ করুন এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা নিন বা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। সেবন বন্ধ করা ও জরুরি চিকিৎসা নেওয়া ছাড়া বাড়িতে অন্য কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসার চেষ্টা করবেন না।
রুম তাপমাত্রায় (৩০°সে এর নিচে), আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে, শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করুন। ব্যবহারের আগ পর্যন্ত স্যাশে সিলবদ্ধ রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
শিশুদের ক্ষেত্রে: WHO/UNICEF ও AAP নির্দেশিকা অনুযায়ী নবজাতকসহ সকল বয়সের শিশুতে ডায়রিয়াজনিত পানিশূন্যতার প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে G-ORS ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ও সুপারিশকৃত। মাত্রা বয়স-ভিত্তিক সারণী অনুযায়ী দিতে হবে ("মাত্রা ও সেবনবিধি" দেখুন); শিশুদের চামচ বা কাপ দিয়ে অল্প অল্প করে ঘন ঘন খাওয়াতে হবে, ফিডিং বোতলের পরিবর্তে, এবং বুকের দুধ পান/স্বাভাবিক খাদ্যগ্রহণ অব্যাহত রাখতে হবে। ২ মাসের কম বয়সী শিশু ও তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ তত্ত্বাবধান প্রয়োজন।
বয়স্কদের ক্ষেত্রে: বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে G-ORS ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে অন্তর্নিহিত কিডনি বা হৃদরোগ থাকলে সতর্কতা প্রয়োজন, কারণ এতে তরল ও ইলেক্ট্রোলাইট নিয়ন্ত্রণ প্রভাবিত হতে পারে; বিশেষত ডাই ইউরেটিক সেবনকারী বা দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্তদের জন্য চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান সুপারিশ করা হয়।
কিডনি সমস্যা: সোডিয়াম ও পটাশিয়াম নিঃসরণে বাধা থাকতে পারে বলে হাইপারক্যালেমিয়া বা তরল অতিরিক্ততার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে, তাই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন।
ডায়াবেটিস মেলিটাস: G-ORS এ গ্লুকোজ থাকে; ব্যবহারকালে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং ডায়াবেটিক রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সেবন করা উচিত।
Q: G-ORS 13.95 gm Oral Powder কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
A: G-ORS 13.95 gm Oral Powder ডায়রিয়া, বমি বা অন্যান্য কারণে তরল ক্ষয়জনিত পানিশূন্যতা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় সকল বয়সের মানুষের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি শরীর থেকে হারানো পানি, সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও অন্যান্য ইলেক্ট্রোলাইট পুনঃস্থাপন করে।
Q: G-ORS 13.95 gm Oral Powder কীভাবে সঠিকভাবে প্রস্তুত করব?
A: একটি স্যাশের সম্পূর্ণ উপাদান লেবেলে উল্লেখিত সঠিক পরিমাণ বিশুদ্ধ, নিরাপদ পানীয় জলে (সাধারণত ২০০ মি.লি., ৫০০ মি.লি., বা ১ লিটার) গুলিয়ে নিন। নির্দেশিত পরিমাণের চেয়ে কম পানি ব্যবহার করবেন না, কারণ এতে দ্রবণ ঘন হয়ে বিপজ্জনক হাইপারন্যাট্রেমিয়া হতে পারে; বাড়তি চিনি বা লবণ মেশাবেন না। পান করার আগে ভালোভাবে গুলিয়ে নিন।
Q: আমার সন্তানকে কতটুকু G-ORS 13.95 gm Oral Powder দেওয়া উচিত?
A: সাধারণ নির্দেশিকা হিসেবে: ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৫০-১০০ মি.লি., ২-১০ বছর বয়সীদের ১০০-২০০ মি.লি., এবং ১০ বছরের বেশি/প্রাপ্তবয়স্কদের ২০০-৪০০ মি.লি. G-ORS 13.95 gm Oral Powder দ্রবণ প্রতিটি পাতলা পায়খানা বা বমির পর, স্বাভাবিক তরল গ্রহণের অতিরিক্ত হিসেবে দিতে হবে। পানিশূন্যতার মাত্রা অনুযায়ী চিকিৎসক এটি সমন্বয় করতে পারেন।
Q: গোলানো G-ORS 13.95 gm Oral Powder দ্রবণ কতক্ষণ রাখা যায়?
A: পানিতে গোলানোর পর G-ORS 13.95 gm Oral Powder দ্রবণ লেবেলে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে, সাধারণত ১২-২৪ ঘণ্টার মধ্যে, ব্যবহার করতে হবে এবং ব্যাকটেরিয়া দূষণের ঝুঁকির কারণে অব্যবহৃত অংশ এরপর ফেলে দিতে হবে। পরবর্তী মাত্রার জন্য সবসময় নতুন করে তৈরি করুন।
Q: গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে G-ORS 13.95 gm Oral Powder কি নিরাপদ?
A: সঠিকভাবে প্রস্তুত ও মাত্রায় সেবন করলে G-ORS 13.95 gm Oral Powder সাধারণত গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়, কারণ এটি শুধু শরীরের স্বাভাবিক তরল ও ইলেক্ট্রোলাইট প্রতিস্থাপন করে। তবে তীব্র পানিশূন্যতায় ভুগছেন বা উপসর্গের উন্নতি হচ্ছে না এমন গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মায়েদের শুধু G-ORS 13.95 gm Oral Powder এর উপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
Q: কখন শুধু G-ORS 13.95 gm Oral Powder এর পরিবর্তে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া উচিত?
A: যদি ক্রমাগত বমি হয় যার কারণে তরল ধরে রাখা যায় না, তীব্র পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দেয় (বসে যাওয়া চোখ, খুব শুষ্ক মুখ, অবসাদগ্রস্ততা বা বিভ্রান্তি, সামান্য বা কোনো প্রস্রাব না হওয়া), মলে রক্ত থাকে, উচ্চ জ্বর থাকে, বা G-ORS 13.95 gm Oral Powder ব্যবহার সত্ত্বেও ৪৮-৭২ ঘণ্টার বেশি ডায়রিয়া অব্যাহত থাকে, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসা সহায়তা নিন - এসব পরিস্থিতিতে শুধু মুখে তরল যথেষ্ট নাও হতে পারে, শিরাপথে তরল বা আরও মূল্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।
ডিসক্লেইমার
এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।