
Trihexy 250 ml
Incepta Pharmaceuticals Ltd.

Hexinor একটি অ্যান্টিকোলিনার্জিক (অ্যান্টিমাস্কারিনিক) ওষুধ, যা নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়:
টারডিভ ডিস্কাইনেসিয়া (দীর্ঘমেয়াদী অ্যান্টিসাইকোটিক ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার) রোগে সাধারণত Hexinor একক চিকিৎসা হিসেবে সুপারিশ করা হয় না, কারণ এটি টারডিভ ডিস্কাইনেসিয়া আরও খারাপ করতে পারে, যদি না রোগীর সাথে সাথে পারকিনসন্স ডিজিজও থাকে।
Hexinor একটি অ্যান্টিপারকিনসনিয়ান, অ্যান্টিকোলিনার্জিক (অ্যান্টিমাস্কারিনিক) শ্রেণীর ওষুধ।
Trihexyphenidyl Hydrochloride প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রের উপর সরাসরি প্রতিরোধক (অ্যান্টিমাস্কারিনিক) প্রভাব ফেলে, যা অ্যাট্রোপিনের মতো কিন্তু সাধারণ মাত্রায় পেরিফেরাল পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে কম। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে, পারকিনসন্স ডিজিজ ও ওষুধজনিত এক্সট্রাপিরামিডাল সিন্ড্রোমে বেসাল গ্যাংলিয়ায় ডোপামিনার্জিক কার্যকলাপ কমে যাওয়া এবং কোলিনার্জিক কার্যকলাপ আপেক্ষিকভাবে বেড়ে যাওয়ার ভারসাম্য পুনঃস্থাপনে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়, ফলে কম্পন ও মাংসপেশির দৃঢ়তা কমে। এটি মসৃণ পেশিতেও হালকা রিল্যাক্স্যান্ট প্রভাব ফেলে।
ফার্মাকোকাইনেটিক্স: মুখে খাওয়ার পর পরিপাকতন্ত্র থেকে শোষিত হয়; সাধারণত প্রায় ১ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকারিতা শুরু হয়, সর্বোচ্চ প্রভাব ২-৩ ঘণ্টায় এবং কার্যকারিতা প্রায় ৬-১২ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এটি লিভারে বিপাক হয় এবং মূলত কিডনির মাধ্যমে নির্গত হয়।
Hexinor-এর মাত্রা রোগীভেদে নির্ধারণ করতে হয়, কম মাত্রায় শুরু করে ধীরে ধীরে বাড়াতে হয়। দৈনিক মোট মাত্রা সাধারণত ৩ ভাগে খাবারের সাথে দেওয়া হয়; দৈনিক ১০ মি.গ্রা.-এর বেশি মাত্রা হলে ৪ ভাগে (৩ বার খাবারের সময় এবং ১ বার ঘুমানোর আগে) দেওয়া যেতে পারে। মুখ শুকিয়ে গেলে খাবারের পরে সেবন করা যেতে পারে; অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ হলে খাবারের আগে সেবন করা যেতে পারে।
| নির্দেশনা | প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা |
|---|---|
| ইডিওপ্যাথিক পারকিনসন্স ডিজিজ (প্রাথমিক চিকিৎসা) | প্রথম দিনে ১ মি.গ্রা. দিয়ে শুরু; প্রতি ৩-৫ দিনে ২ মি.গ্রা. করে বাড়িয়ে দৈনিক ৬-১০ মি.গ্রা. পর্যন্ত (কিছু রোগীর, বিশেষত পোস্ট-এনসেফালিটিক পারকিনসনিজমে, ১২-১৫ মি.গ্রা./দিন প্রয়োজন হতে পারে) - চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে। |
| লেভোডোপার সাথে সহায়ক থেরাপি | সাধারণত দৈনিক ৩-৬ মি.গ্রা., ভাগ ভাগ মাত্রায়; একত্রে ব্যবহারের সময় লেভোডোপা ও Hexinor উভয়ের মাত্রা প্রায়ই চিকিৎসকের নির্দেশে কমানো হয়। |
| ওষুধজনিত এক্সট্রাপিরামিডাল লক্ষণ | সাধারণত দৈনিক ৫-১৫ মি.গ্রা. (পরিসর ১-১৫ মি.গ্রা.); ১ মি.গ্রা. দিয়ে শুরু করে লক্ষণ নিয়ন্ত্রিত না হওয়া পর্যন্ত ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়। অধিকাংশ রোগী ভাগ ভাগ মাত্রায় দৈনিক ৫-১৫ মি.গ্রা.-এ সাড়া দেয়। চিকিৎসক একই সাথে অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধের মাত্রাও সমন্বয় করতে পারেন। |
বন্ধ করার নিয়ম: দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর Hexinor হঠাৎ বন্ধ করা যাবে না; হঠাৎ বন্ধ করলে পারকিনসনিজমের লক্ষণ হঠাৎ ফিরে আসতে বা খারাপ হতে পারে, অথবা বিরল ক্ষেত্রে নিউরোলেপ্টিক ম্যালিগন্যান্ট সিন্ড্রোমের মতো অবস্থা তৈরি হতে পারে। মাত্রা কমাতে হলে তা ধীরে ধীরে এবং চিকিৎসকের নির্দেশনায় করতে হবে।
শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে মাত্রা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য "শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার" অংশ এবং অতিরিক্ত মাত্রার ব্যবস্থাপনার জন্য "মাত্রাধিক্যতা" অংশ দেখুন।
Hexinor-এর সাথে নিম্নলিখিত ক্লিনিক্যালি গুরুত্বপূর্ণ মিথষ্ক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়:
Hexinor শুরু করার আগে চিকিৎসককে অন্য সব ওষুধের বিষয়ে জানান।
Trihexyphenidyl Hydrochloride নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না:
Hexinor-এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মূলত এর অ্যান্টিকোলিনার্জিক প্রভাবের সাথে সম্পর্কিত এবং মাত্রা-নির্ভর; ধারাবাহিক ব্যবহারে সহনশীলতা তৈরি হওয়ায় প্রায়ই এগুলো কমে আসে।
কোনো গুরুতর বা স্থায়ী পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসককে জানান।
গর্ভাবস্থা: গর্ভবতী নারীদের মধ্যে Hexinor-এর পর্যাপ্ত ও সুনিয়ন্ত্রিত গবেষণা নেই, এবং প্রাণীর প্রজনন/টেরাটোজেনিসিটি সংক্রান্ত তথ্যও সীমিত। শুধুমাত্র স্পষ্ট প্রয়োজন হলে এবং সম্ভাব্য উপকারিতা ভ্রূণের সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলেই গর্ভাবস্থায় Hexinor ব্যবহার করা উচিত; ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
স্তন্যদান: Hexinor মায়ের বুকের দুধে নির্গত হয় কিনা তা জানা নেই। অ্যান্টিকোলিনার্জিক ওষুধ দুধ উৎপাদন কমাতেও পারে। মায়ের প্রত্যাশিত উপকারিতা শিশুর সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলে এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানেই কেবল স্তন্যদানকালে Hexinor ব্যবহার করা উচিত।
নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে Hexinor সতর্কতার সাথে এবং ঘনিষ্ঠ চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করতে হবে:
Hexinor-এর অতিরিক্ত মাত্রা গ্রহণে কেন্দ্রীয় ও পেরিফেরাল অ্যান্টিকোলিনার্জিক (অ্যান্টিমাস্কারিনিক) বিষক্রিয়া সিন্ড্রোম হতে পারে, যার মধ্যে থাকতে পারে চোখের মণি বড় হয়ে যাওয়া, ত্বক গরম-শুষ্ক-লালচে হয়ে যাওয়া, মুখ শুকানো, নিঃসরণ কমে যাওয়া, জ্বর, দ্রুত হৃদস্পন্দন, প্রস্রাব আটকে যাওয়া, এবং স্নায়বিক-মানসিক লক্ষণ যেমন বিভ্রান্তি, অস্থিরতা, দিকভ্রান্তি, হ্যালুসিনেশন ও অসংলগ্ন কথাবার্তা, যা গুরুতর ক্ষেত্রে খিঁচুনি, কোমা এবং (বিরল ক্ষেত্রে) মৃত্যু পর্যন্ত গড়াতে পারে, বিশেষত অত্যন্ত উচ্চ মাত্রায় বা অন্যান্য সিএনএস-দমনকারী ওষুধের সাথে একত্রে নিলে।
মাত্রাধিক্যতার সন্দেহ হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের কাছে যান অথবা জরুরি সেবা/বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। বাড়িতে নিজে থেকে মাত্রাধিক্যতার চিকিৎসা করার চেষ্টা করবেন না। হাসপাতালে চিকিৎসা মূলত সহায়ক (supportive) হয় এবং এতে ওষুধের শোষণ কমানো, অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ, এবং শ্বাস-প্রশ্বাস, রক্তসঞ্চালন ও শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যা চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় (৩০°সে-এর নিচে), আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার: শিশুদের মধ্যে Hexinor-এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার শুধুমাত্র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘনিষ্ঠ তত্ত্বাবধানে হওয়া উচিত, যখন চিকিৎসক মনে করেন উপকারিতা ঝুঁকির চেয়ে বেশি; শিশুদের ক্ষেত্রে রিপোর্ট করা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে হাইপারকাইনেসিয়া, আচরণগত পরিবর্তন এবং ঘুমের ব্যাঘাত।
বয়স্ক রোগী: ৬০ বছরের বেশি বয়সী রোগীরা Hexinor-এর অ্যান্টিকোলিনার্জিক প্রভাবের প্রতি বেশি সংবেদনশীল, যার মধ্যে বিভ্রান্তি ও স্মৃতিশক্তি হ্রাস অন্তর্ভুক্ত; চিকিৎসা সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রা দিয়ে শুরু করে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
কিডনি/লিভারের কার্যক্ষমতা হ্রাস: সুনির্দিষ্ট মাত্রা সমন্বয়ের প্রতিষ্ঠিত নির্দেশিকা নেই; সতর্কতার সাথে ও ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করতে হবে, কারণ কার্যক্ষমতা হ্রাসে অ্যান্টিকোলিনার্জিক বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান: উপরের "গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে" অংশ দেখুন।
Q: Hexinor 50 ml Syrup কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
A: Hexinor 50 ml Syrup পারকিনসন্স ডিজিজে কম্পন, মাংসপেশির দৃঢ়তা ও শক্তভাব নিয়ন্ত্রণে (একা অথবা লেভোডোপার সাথে একত্রে) এবং কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধের কারণে সৃষ্ট এক্সট্রাপিরামিডাল পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া (যেমন শক্তভাব, কম্পন বা অস্থিরতা) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
Q: ভালো লাগলে কি Hexinor 50 ml Syrup হঠাৎ বন্ধ করা যাবে?
A: না। কিছুদিন সেবনের পর Hexinor 50 ml Syrup হঠাৎ বন্ধ করা উচিত নয়, কারণ হঠাৎ বন্ধ করলে আপনার পারকিনসনিজম বা এক্সট্রাপিরামিডাল লক্ষণ হঠাৎ খারাপ হতে পারে, এবং বিরল ক্ষেত্রে নিউরোলেপ্টিক ম্যালিগন্যান্ট সিন্ড্রোম নামের গুরুতর প্রতিক্রিয়া হতে পারে। সবসময় চিকিৎসকের নির্দেশনায় ধীরে ধীরে মাত্রা কমান।
Q: কাদের Hexinor 50 ml Syrup সেবন করা উচিত নয়?
A: যাদের Hexinor 50 ml Syrup-এর প্রতি অতি-সংবেদনশীলতা/অ্যালার্জি আছে, যাদের নেরো-অ্যাঙ্গেল (অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার) গ্লুকোমা, মায়াস্থেনিয়া গ্র্যাভিস, বা প্যারালাইটিক ইলিয়াস/পাইলোরিক-ডিওডেনাল অবস্ট্রাকশনের মতো যান্ত্রিক অন্ত্র বাধা আছে, তাদের এই ওষুধ সেবন করা উচিত নয়, কারণ এর অ্যান্টিকোলিনার্জিক প্রভাব এসব অবস্থা গুরুতরভাবে খারাপ করতে পারে।
Q: Hexinor 50 ml Syrup-এর সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কী কী?
A: Hexinor 50 ml Syrup-এর সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে মুখ শুকানো, দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া, মাথা ঘোরা, হালকা বমি বমি ভাব, নার্ভাসনেস, কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রস্রাবে অসুবিধা এবং ঝিমুনি। এসব প্রভাব এর অ্যান্টিকোলিনার্জিক কার্যকলাপের সাথে সম্পর্কিত এবং ধারাবাহিক ব্যবহারে কিছুটা কমে আসে। বিভ্রান্তি, হ্যালুসিনেশন, দ্রুত হৃদস্পন্দন বা চোখে ব্যথা (সম্ভাব্য গ্লুকোমা) হলে সাথে সাথে চিকিৎসককে জানানো উচিত।
Q: গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে Hexinor 50 ml Syrup কি নিরাপদ?
A: গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে Hexinor 50 ml Syrup সংক্রান্ত নিরাপত্তা তথ্য সীমিত। শুধুমাত্র স্পষ্ট প্রয়োজন হলে এবং সম্ভাব্য উপকারিতা ভ্রূণের সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলে গর্ভাবস্থায় এটি ব্যবহার করা উচিত, এবং স্তন্যদানকালে শুধুমাত্র মায়ের উপকারিতা শিশুর সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলেই ব্যবহার করা উচিত। এসব ক্ষেত্রে ব্যবহারের আগে সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Q: Hexinor 50 ml Syrup কি অপব্যবহার হতে পারে?
A: হ্যাঁ। নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রায় Hexinor 50 ml Syrup-এর উদ্দীপক ও ইউফোরিয়া সৃষ্টিকারী বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এর হ্যালুসিনোজেনিক বা ইউফোরিক প্রভাবের জন্য অপব্যবহারের রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এটি শুধুমাত্র চিকিৎসকের নির্ধারিত মাত্রায় সেবন করা উচিত, কখনোই নির্ধারিত মাত্রার বেশি নয়।
ডিসক্লেইমার
এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।