Product gallery
MRP ০.৭০১০% ডিস্কাউন্ট
Best PriceTk ০.৬৩/piece
Section

Medicine overview

নির্দেশনা

HTZ একটি থায়াজাইড গোত্রীয় মূত্রবর্ধক (ডাইইউরেটিক) ঔষধ, যা নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়:

  • উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন): এককভাবে অথবা অন্যান্য উচ্চ রক্তচাপের ঔষধের সাথে সংযুক্তভাবে HTZ ব্যবহৃত হয়।
  • শরীরে পানি জমা (edema): হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতা, লিভার সিরোসিস, কিডনির সমস্যা (নেফ্রোটিক সিনড্রোম, ক্রনিক রেনাল ফেইলিউর) এবং স্টেরয়েড বা ইস্ট্রোজেন থেরাপির কারণে সৃষ্ট edema-তে HTZ ব্যবহৃত হয়।

অফ-লেবেল ব্যবহার (নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে HTZ ব্যবহৃত হতে পারে):

  • কিডনিতে বারবার ক্যালসিয়াম-জাতীয় পাথর হওয়া রোধে।
  • নেফ্রোজেনিক ডায়াবেটিস ইনসিপিডাস নিয়ন্ত্রণে।

থেরাপিউটিক ক্লাস

HTZ একটি থায়াজাইড মূত্রবর্ধক (Thiazide Diuretic) শ্রেণীর ঔষধ, যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও মূত্রবর্ধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ফার্মাকোলজি

কার্যপ্রণালী

Hydrochlorothiazide কিডনির ডিসটাল কনভোলিউটেড টিউবিউলে সোডিয়াম-ক্লোরাইড পুনঃশোষণ প্রতিরোধ করে, ফলে প্রস্রাবের মাধ্যমে সোডিয়াম, ক্লোরাইড ও পানি বেশি পরিমাণে নির্গত হয় এবং মূত্রবর্ধক প্রভাব সৃষ্টি হয়। Hydrochlorothiazide পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও বাইকার্বোনেটের নিঃসরণও বাড়ায়, তবে ক্যালসিয়াম ও ইউরিক অ্যাসিডের নিঃসরণ কমায়। দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে Hydrochlorothiazide রক্তনালীর উপর সরাসরি হালকা প্রসারণকারী প্রভাবের মাধ্যমেও রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।

ফার্মাকোকাইনেটিক্স

  • মুখে সেবনের পর ভালোভাবে শোষিত হয়; কার্যকারিতা শুরু হয় প্রায় ২ ঘণ্টার মধ্যে।
  • সর্বোচ্চ প্রভাব দেখা যায় ৪-৬ ঘণ্টার মধ্যে।
  • কার্যকারিতার স্থায়িত্ব প্রায় ৬-১২ ঘণ্টা।
  • মূলত কিডনির মাধ্যমে অপরিবর্তিত অবস্থায় নির্গত হয়; অর্ধ-জীবনকাল প্রায় ৬-১৫ ঘণ্টা।

মাত্রা ও সেবনবিধি

প্রাপ্তবয়স্কদের মাত্রা

রোগপ্রস্তাবিত মাত্রা
উচ্চ রক্তচাপশুরুতে দৈনিক ১২.৫-২৫ মি.গ্রা. HTZ, প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ৫০ মি.গ্রা./দিন পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।
edemaদৈনিক ২৫-১০০ মি.গ্রা. HTZ, একক অথবা বিভক্ত মাত্রায়; কিছু ক্ষেত্রে স্বল্প সময়ের জন্য দৈনিক ২০০ মি.গ্রা. পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে।

শিশুদের মাত্রা

৬ মাসের কম বয়সী শিশু: দৈনিক ৩.৩ মি.গ্রা./কেজি HTZ পর্যন্ত, দুই ভাগে বিভক্ত করে। ২ বছরের কম বয়সী শিশু: দৈনিক ১-২ মি.গ্রা./কেজি (সর্বোচ্চ ৩৭.৫ মি.গ্রা./দিন)। ২-১২ বছর বয়সী শিশু: দৈনিক ১-২ মি.গ্রা./কেজি (সর্বোচ্চ ১০০ মি.গ্রা./দিন)।

মাত্রা সমন্বয়

উল্লেখযোগ্য কিডনি সমস্যায় HTZ কম কার্যকর হতে পারে এবং ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স ৩০ মি.লি./মিনিটের নিচে হলে সাধারণত সুপারিশ করা হয় না। লিভার সিরোসিস রোগীদের ক্ষেত্রে HTZ সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে (বিস্তারিত সতর্কতা অংশে দেখুন)।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

  • লিথিয়াম: HTZ লিথিয়ামের রেনাল ক্লিয়ারেন্স কমিয়ে দেয়, ফলে লিথিয়াম বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে; একসাথে ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত অথবা লিথিয়ামের মাত্রা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
  • NSAIDs (যেমন ইবুপ্রোফেন): HTZ-এর মূত্রবর্ধক ও রক্তচাপ কমানোর কার্যকারিতা হ্রাস করতে পারে এবং কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
  • ডিগক্সিন: HTZ-জনিত পটাশিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি ডিগক্সিন বিষক্রিয়া ও হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
  • কর্টিকোস্টেরয়েড: HTZ-এর সাথে ব্যবহারে ইলেক্ট্রোলাইট, বিশেষত পটাশিয়ামের ঘাটতি আরও বাড়তে পারে।
  • ডায়াবেটিসের ঔষধ (ইনসুলিন/মুখে খাওয়ার ঔষধ): HTZ রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়াতে পারে, তাই ডায়াবেটিসের ঔষধের মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে।
  • কোলেস্টাইরামিন/কোলেস্টিপল: এই ঔষধগুলো HTZ-এর শোষণ কমিয়ে দিতে পারে; তাই এদের মধ্যে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধান রাখা উচিত।

প্রতিনির্দেশনা

Hydrochlorothiazide নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ব্যবহার করা নিষেধ:

  • যেসব রোগীর প্রস্রাব সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে (anuria)।
  • Hydrochlorothiazide অথবা অন্য কোনো সালফোনামাইড-জাতীয় ঔষধের প্রতি অতি সংবেদনশীলতা (অ্যালার্জি) থাকলে।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

  • ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া (HTZ-এর প্রত্যাশিত প্রভাব)
  • মাথা ঘোরা, বিশেষত চিকিৎসা শুরুর সময়
  • মাথাব্যথা
  • রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়া
  • পেটের অস্বস্তি, ক্ষুধামন্দা
  • মাংসপেশিতে খিঁচুনি

কম দেখা যায় কিন্তু গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

  • উল্লেখযোগ্য ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা (সোডিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম কমে যাওয়া, ক্যালসিয়াম বেড়ে যাওয়া)
  • গাউট (ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধির কারণে)
  • ত্বকে অ্যালার্জি, সূর্যালোকে সংবেদনশীলতা
  • হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া বা চোখে ব্যথা - তাৎক্ষণিক চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন
  • দীর্ঘমেয়াদী উচ্চ মাত্রায় HTZ ব্যবহারে ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি (সতর্কতা অংশে দেখুন)

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

HTZ গর্ভফুল অতিক্রম করতে পারে। গর্ভাবস্থায় শুধুমাত্র সুস্পষ্ট প্রয়োজন হলে এবং সম্ভাব্য উপকারিতা ভ্রূণের সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলেই HTZ ব্যবহার করা উচিত, কারণ প্রসবের কাছাকাছি সময়ে HTZ ব্যবহার করলে নবজাতকের জন্ডিস বা রক্তের প্লেটলেট কমে যাওয়ার সাথে সম্পর্ক থাকতে পারে। HTZ বুকের দুধে নির্গত হয় এবং দুধ উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে, তাই স্তন্যদানকারী মায়েদের HTZ ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সতর্কতা

ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা

HTZ রক্তে পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে। উচ্চ মাত্রায়, দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে অথবা বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে নিয়মিত ইলেক্ট্রোলাইট পরীক্ষা করা উচিত।

ডায়াবেটিস ও গাউট

HTZ রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত করতে পারে এবং ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধি করে গাউট আক্রমণ সৃষ্টি করতে পারে।

কিডনি ও লিভারের সমস্যা

উল্লেখযোগ্য কিডনি সমস্যায় HTZ কম কার্যকর হতে পারে এবং এজোটেমিয়া সৃষ্টি করতে পারে। লিভার সিরোসিস রোগীদের ক্ষেত্রে HTZ-জনিত ইলেক্ট্রোলাইট পরিবর্তন হেপাটিক কোমা সৃষ্টি করতে পারে, তাই সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।

সূর্যালোক সংবেদনশীলতা ও ত্বকের ক্যান্সার ঝুঁকি

HTZ সূর্যালোকে সংবেদনশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। কিছু গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদী উচ্চ মাত্রায় HTZ ব্যবহারের সাথে ত্বকের নন-মেলানোমা ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। রোদে বের হওয়ার সময় সানস্ক্রিন ব্যবহার এবং নিয়মিত ত্বক পরীক্ষা করানো উচিত।

চোখের সমস্যা

বিরল ক্ষেত্রে HTZ ব্যবহারের কয়েক ঘণ্টা থেকে সপ্তাহের মধ্যে হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া বা চোখের ভেতরে চাপ বেড়ে যাওয়ার (angle-closure glaucoma) মতো সমস্যা হতে পারে। এমন হলে অবিলম্বে HTZ বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

মাত্রাধিক্যতা

HTZ-এর অতিরিক্ত মাত্রা সেবনে অতিরিক্ত প্রস্রাব ও ইলেক্ট্রোলাইট ঘাটতিজনিত লক্ষণ যেমন মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাংসপেশিতে খিঁচুনি, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং অনিয়মিত হৃদস্পন্দন দেখা দিতে পারে। এর কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক (অ্যান্টিডোট) নেই। HTZ অতিরিক্ত সেবনের সন্দেহ হলে অবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালে বা জরুরি চিকিৎসা কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। বাসায় নিজে থেকে চিকিৎসার চেষ্টা করবেন না।

সংরক্ষণ

ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় (৩০°সে-এর নিচে), আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার

বয়স্ক রোগী

বয়স্ক রোগীরা HTZ-এর কারণে অতিরিক্ত মূত্রবর্ধন এবং রক্তচাপ কমে যাওয়ার প্রতি বেশি সংবেদনশীল হতে পারেন। কম মাত্রায় শুরু করে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

শিশু

HTZ শিশুদের উচ্চ রক্তচাপ ও edema চিকিৎসায় ওজন-ভিত্তিক মাত্রায় ব্যবহৃত হয় (মাত্রা ও সেবনবিধি অংশে দেখুন)। দীর্ঘমেয়াদী HTZ ব্যবহারে ইলেক্ট্রোলাইট মাত্রা ও বৃদ্ধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

Q: HTZ 25 mg Tablet কী কাজে ব্যবহৃত হয়?

A: HTZ 25 mg Tablet প্রধানত উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং হৃদযন্ত্র, লিভার বা কিডনির সমস্যাজনিত শরীরে পানি জমা (edema) কমাতে ব্যবহৃত হয়।

Q: HTZ 25 mg Tablet কীভাবে সেবন করতে হবে?

A: HTZ 25 mg Tablet সাধারণত দিনে একবার সকালে খাবারের সাথে বা ছাড়া সেবন করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত HTZ 25 mg Tablet সেবন করুন এবং ভালো লাগলেও নিজে থেকে বন্ধ করবেন না।

Q: গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে HTZ 25 mg Tablet ব্যবহার করা যাবে কি?

A: গর্ভাবস্থায় HTZ 25 mg Tablet শুধুমাত্র সুস্পষ্ট প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা উচিত। স্তন্যদানকারী মায়েদেরও HTZ 25 mg Tablet ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন, কারণ এটি বুকের দুধে নির্গত হতে পারে।

Q: HTZ 25 mg Tablet-এর সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কী কী?

A: HTZ 25 mg Tablet-এর সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে ঘন ঘন প্রস্রাব, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা এবং রক্তে পটাশিয়াম কমে যাওয়া।

Q: কাদের HTZ 25 mg Tablet সেবন করা উচিত নয়?

A: যাদের প্রস্রাব সম্পূর্ণ বন্ধ (anuria) অথবা যাদের HTZ 25 mg Tablet বা সালফোনামাইড-জাতীয় ঔষধে অ্যালার্জি আছে, তাদের এটি সেবন করা উচিত নয়।

Q: HTZ 25 mg Tablet-এর মাত্রা বেশি হয়ে গেলে কী করব?

A: HTZ 25 mg Tablet বেশি মাত্রায় সেবন করলে ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা ও রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো ঝুঁকি হতে পারে। এমন হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।

ডিসক্লেইমার

এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।

Doctor