
Ipramid20 mcg/puf
Beximco Pharmaceuticals Ltd.

Iprex একটি স্বল্প-কার্যকালীন অ্যান্টিকোলিনার্জিক (অ্যান্টিমাস্কারিনিক) ব্রঙ্কোডাইলেটর, যার ব্যবহার প্রমাণের শক্তি অনুযায়ী নিচে শ্রেণীবদ্ধ করা হলো:
Iprex তীব্র ব্রঙ্কোস্পাজমের দ্রুত উপশমের জন্য একক ওষুধ হিসেবে নির্দেশিত নয়, কারণ এর কার্যকারিতা শুরু হতে স্বল্প-কার্যকালীন বিটা-অ্যাগোনিস্টের চেয়ে বেশি সময় লাগে।
অ্যান্টিকোলিনার্জিক (অ্যান্টিমাস্কারিনিক) ব্রঙ্কোডাইলেটর; Iprex শ্বাসতন্ত্রের ওষুধের স্বল্প-কার্যকালীন মাস্কারিনিক অ্যান্টাগোনিস্ট (SAMA) শ্রেণীর অন্তর্গত।
Ipratropium Bromide ব্রঙ্কিয়াল স্মুথ মাসল ও সাবমিউকোসাল গ্রন্থিতে মাস্কারিনিক (M1, M2, M3) রিসেপ্টরে অ্যাসিটাইলকোলিনের কার্যকারিতা প্রতিযোগিতামূলকভাবে ও বিপরীতযোগ্যভাবে প্রতিরোধ করে। ভেগাস স্নায়ু-নিয়ন্ত্রিত কোলিনার্জিক প্রভাব প্রতিহত করার মাধ্যমে এটি ব্রঙ্কিয়াল স্মুথ মাসলের সংকোচন হ্রাস করে (ব্রঙ্কোডাইলেশন) এবং মিউকাস গ্রন্থির নিঃসরণ কমায়। নাসাল মিউকোসায় মাস্কারিনিক রিসেপ্টর ব্লক করার ফলে নাকের পানি পড়া (rhinorrhea) কমে, কিন্তু নাক বন্ধ হওয়ার উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়ে না।
ইনহেলেশনের পর মাত্রার একটি ছোট অংশ (প্রায় ১০–৩০%) ফুসফুসে পৌঁছায়; বাকিটা গিলে ফেলা হয়। Ipratropium Bromide একটি quaternary ammonium যৌগ হওয়ায় ফুসফুস ও পাকস্থলী-নাড়ি থেকে এর সিস্টেমিক শোষণ খুবই সীমিত (জৈব-উপলভ্যতা ১০%-এর কম), যা সিস্টেমিক অ্যান্টিকোলিনার্জিক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সীমিত রাখে। ব্রঙ্কোডাইলেশন শুরু হয় প্রায় ১৫ মিনিটের মধ্যে, সর্বোচ্চ প্রভাব ১–২ ঘণ্টায় এবং কার্যকারিতা প্রায় ৪–৬ ঘণ্টা স্থায়ী হয়।
| নির্দেশনা | জনগোষ্ঠী | সাধারণ মাত্রা |
|---|---|---|
| সিওপিডি রক্ষণাবেক্ষণ (মিটার্ড-ডোজ ইনহেলার) | প্রাপ্তবয়স্ক | দিনে ৪ বার ২ পাফ (প্রায় ৩৬ mcg); ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২ পাফের বেশি নয়। |
| সিওপিডি রক্ষণাবেক্ষণ (নেবুলাইজার সলিউশন) | প্রাপ্তবয়স্ক | দিনে ৩–৪ বার ৫০০ mcg (এক ইউনিট-ডোজ ভায়াল) নেবুলাইজারের মাধ্যমে, প্রতি ডোজের মধ্যে ৬–৮ ঘণ্টা ব্যবধান। |
| তীব্র অ্যাজমা exacerbation (SABA-এর সহায়ক, নেবুলাইজড) | প্রাপ্তবয়স্ক | ৫০০ mcg নেবুলাইজড, SABA-এর সাথে সংযুক্ত, চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী পুনরাবৃত্তি (যেমন জরুরি বিভাগে প্রতি ২০ মিনিটে সর্বোচ্চ ৩ ডোজ)। |
| তীব্র অ্যাজমা exacerবেশন (শিশু, চিকিৎসকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে) | শিশু | ২৫০ mcg (ছোট শিশু) থেকে ৫০০ mcg (বড় শিশু/কিশোর) নেবুলাইজড, SABA-এর সাথে, সরাসরি চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে। |
| নাক দিয়ে পানি পড়া (নাসাল স্প্রে 0.03%) | প্রাপ্তবয়স্ক ও ≥৬ বছর শিশু | প্রতি নাসারন্ধ্রে দিনে ২–৩ বার ২ স্প্রে। |
| সর্দি-জনিত নাক দিয়ে পানি পড়া (নাসাল স্প্রে 0.06%) | প্রাপ্তবয়স্ক ও ≥৫ বছর শিশু | প্রতি নাসারন্ধ্রে দিনে ৩–৪ বার ২ স্প্রে, সর্বোচ্চ ৪ দিন পর্যন্ত। |
সিস্টেমিক শোষণ সীমিত হওয়ায় রেনাল বা হেপাটিক অক্ষমতায় Iprex-এর জন্য নির্দিষ্ট মাত্রা সমন্বয় প্রতিষ্ঠিত নয়; তবে উল্লেখযোগ্য অঙ্গ-অক্ষমতায় স্বাভাবিক ক্লিনিক্যাল সতর্কতা বজায় রাখা উচিত।
ইনহেলার ব্যবহারের আগে কৌটা ঝাঁকিয়ে নিন এবং প্রথমবার বা দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকলে প্রাইম করে নিন, চোখে স্প্রে করা এড়িয়ে চলুন। নেবুলাইজার সলিউশনের ক্ষেত্রে ইউনিট-ডোজ ভায়ালের উপাদান নেবুলাইজার চেম্বারে দিয়ে মাউথপিস বা সঠিকভাবে বসানো মাস্কের মাধ্যমে শ্বাস নিন, চোখের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। নাসাল স্প্রে প্রথম ব্যবহারের আগে প্রাইম করে নিন এবং মাথা সোজা রেখে ব্যবহার করুন। চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া নির্ধারিত মাত্রা বা সংখ্যার অতিরিক্ত Iprex ব্যবহার করবেন না।
Iprex-এর সাথে ক্লিনিক্যালি উল্লেখযোগ্য ও সুপ্রতিষ্ঠিত মিথস্ক্রিয়াসমূহ:
Iprex-এর সিস্টেমিক শোষণ সীমিত হওয়ায় সিস্টেমিকভাবে কার্যকর ওষুধের সাথে উল্লেখযোগ্য মিথস্ক্রিয়া সুপ্রতিষ্ঠিত নয়।
Ipratropium Bromide, অ্যাট্রোপিন, অথবা এর যেকোনো উপাদানের প্রতি পরিচিত অতি-সংবেদনশীলতা থাকলে Ipratropium Bromide ব্যবহার করা যাবে না। রিপোর্ট করা অতি-সংবেদনশীলতা প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে urticaria (আমবাত), angioedema (জিহ্বা, ঠোঁট বা মুখ ফুলে যাওয়াসহ), laryngospasm এবং anaphylaxis।
Iprex-এর সবচেয়ে সাধারণভাবে রিপোর্ট করা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলো এর স্থানীয় অ্যান্টিকোলিনার্জিক প্রভাবের সাথে সম্পর্কিত:
গর্ভাবস্থা: গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে Iprex-এর পর্যাপ্ত ও সুনিয়ন্ত্রিত গবেষণা নেই। সিস্টেমিক শোষণ সীমিত হওয়ায় ভ্রূণের সংস্পর্শ কম হতে পারে বলে ধারণা করা হয়, তবে সম্ভাব্য উপকারিতা ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলেই কেবল Iprex ব্যবহার করা উচিত এবং ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
স্তন্যদান: Iprex মানুষের বুকের দুধে নির্গত হয় কিনা তা জানা নেই। এর সিস্টেমিক জৈব-উপলভ্যতা কম হওয়ায় শিশুর সংস্পর্শ ন্যূনতম হতে পারে, তবে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং স্তন্যদানকালে ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
ইনহেলেশন বা নাসাল ব্যবহারের পর Iprex-এর সিস্টেমিক শোষণ সীমিত হওয়ায় দুর্ঘটনাক্রমে অতিরিক্ত মাত্রায় গুরুতর সিস্টেমিক বিষক্রিয়ার সম্ভাবনা কম; তবে অতিরিক্ত ব্যবহারে মুখ শুকিয়ে যাওয়া, ঝাপসা দৃষ্টি, টাকিকার্ডিয়া, প্রস্রাব ধরে রাখা ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো বর্ধিত অ্যান্টিকোলিনার্জিক প্রভাব দেখা দিতে পারে। মাত্রাধিক্যতা সন্দেহ হলে বা গুরুতর/অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের সহায়তা নিন বা জরুরি সেবা/বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন; চিকিৎসা মূলত উপসর্গভিত্তিক ও সহায়ক, কারণ Iprex-এর কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক (antidote) নেই।
ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় (৩০°সে-এর নিচে), আলো, অতিরিক্ত তাপ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। ইনহেলার কৌটা ছিদ্র করবেন না, ভাঙবেন না বা আগুনে ফেলবেন না, এবং হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা বা সরাসরি সূর্যালোক এড়িয়ে চলুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
Q: Iprex 20 mcg/puff Inhaler কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
A: Iprex 20 mcg/puff Inhaler একটি ইনহেলড অ্যান্টিকোলিনার্জিক ব্রঙ্কোডাইলেটর, যা মূলত ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি)-তে ব্রঙ্কোস্পাজমের দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণমূলক চিকিৎসায় এবং তীব্র অ্যাজমা exacerbation-এর জরুরি চিকিৎসায় স্বল্প-কার্যকালীন বিটা-অ্যাগোনিস্ট ইনহেলারের সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। Iprex 20 mcg/puff Inhaler-এর নাসাল স্প্রে ফর্ম অ্যালার্জিক রাইনাইটিস বা সাধারণ সর্দিতে নাক দিয়ে পানি পড়া কমাতেও ব্যবহৃত হয়।
Q: Iprex 20 mcg/puff Inhaler কি হঠাৎ অ্যাজমা আক্রমণ একাই থামাতে পারে?
A: না। সালবুটামলের মতো স্বল্প-কার্যকালীন বিটা-অ্যাগোনিস্ট রেসকিউ ইনহেলারের তুলনায় Iprex 20 mcg/puff Inhaler-এর কার্যকারিতা শুরু হতে বেশি সময় লাগে, তাই এটি হঠাৎ ব্রঙ্কোস্পাজমের একক রেসকিউ ওষুধ হিসেবে ব্যবহারের জন্য নয়। তীব্র অ্যাজমা আক্রমণে Iprex 20 mcg/puff Inhaler দ্রুত-কার্যকরী বিটা-অ্যাগোনিস্টের পরিবর্তে নয়, বরং তার সাথে সংযুক্ত করে, চিকিৎসকের নির্দেশনায় ব্যবহার করা হয়।
Q: কাদের Iprex 20 mcg/puff Inhaler ব্যবহার করা উচিত নয়?
A: Iprex 20 mcg/puff Inhaler, অ্যাট্রোপিন বা সম্পর্কিত অ্যান্টিকোলিনার্জিক উপাদানের প্রতি পরিচিত অ্যালার্জি থাকা যেকোনো ব্যক্তির Iprex 20 mcg/puff Inhaler ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এতে মুখ-গলা ফুলে যাওয়া, আমবাত বা গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। Iprex 20 mcg/puff Inhaler শুরু করার আগে আপনার পরিচিত যেকোনো ওষুধের অ্যালার্জি সম্পর্কে চিকিৎসককে অবহিত করুন।
Q: Iprex 20 mcg/puff Inhaler-এর সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কী কী?
A: Iprex 20 mcg/puff Inhaler-এর সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলো মুখ শুকিয়ে যাওয়া, কাশি, মাথাব্যথা এবং অস্বাভাবিক স্বাদ অনুভূত হওয়া। কারো কারো ক্ষেত্রে বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা বা ঝাপসা দৃষ্টি দেখা দিতে পারে, বিশেষত স্প্রে বা মিস্ট দুর্ঘটনাক্রমে চোখে গেলে। Iprex 20 mcg/puff Inhaler ব্যবহারের পরপরই যদি শ্বাসকষ্ট হঠাৎ বেড়ে যায় (paradoxical bronchospasm), তাহলে ব্যবহার বন্ধ করে সাথে সাথে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
Q: গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে Iprex 20 mcg/puff Inhaler ব্যবহার করা কি নিরাপদ?
A: গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে Iprex 20 mcg/puff Inhaler-এর ব্যবহার নিয়ে মানুষের উপর তথ্য সীমিত। ইনহেলেশন বা নাসাল ব্যবহারের পর খুব সামান্য পরিমাণ ওষুধ রক্তে শোষিত হয় বলে ভ্রূণ বা স্তন্যপায়ী শিশুর সংস্পর্শ কম হতে পারে বলে ধারণা করা হয়, তবে চিকিৎসক উপকারিতা ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে করলেই কেবল Iprex 20 mcg/puff Inhaler ব্যবহার করা উচিত। গর্ভবতী, গর্ভধারণের পরিকল্পনায় থাকা বা স্তন্যদানকারী নারীদের ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
Q: শিশুদের ক্ষেত্রে কি Iprex 20 mcg/puff Inhaler ব্যবহার করা যায়?
A: হ্যাঁ, তবে অনুমোদিত বয়স পণ্যের ধরনের উপর নির্ভর করে: Iprex 20 mcg/puff Inhaler নাসাল স্প্রে (0.03%) ৬ বছর ও তদূর্ধ্ব শিশুদের জন্য এবং 0.06% মাত্রা সর্দি-জনিত নাক দিয়ে পানি পড়ায় ৫ বছর ও তদূর্ধ্ব শিশুদের জন্য অনুমোদিত। তীব্র অ্যাজমা আক্রমণে নেবুলাইজড Iprex 20 mcg/puff Inhaler প্রায়ই চিকিৎসকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সহায়ক ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে নিয়মিত ঘরোয়া ব্যবহারের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়, তাই শিশুদের ব্যবহার সবসময় চিকিৎসকের নির্দেশনায় হওয়া উচিত।
ডিসক্লেইমার
এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।