Product gallery

Isorifam300 mg+150 mg


MRP ৳ ৬৬.৫০১০% ডিস্কাউন্ট
Best PriceTk ৫৯.৮৫/10's Strip
১
Section

Medicine overview

নির্দেশনা

Isorifam হলো দুটি প্রথম সারির যক্ষ্মা-বিরোধী ওষুধের একটি নির্দিষ্ট মাত্রার সংমিশ্রণ, যা চিকিৎসকের নির্দেশনায় বহু-ঔষধ পদ্ধতির অংশ হিসেবে যক্ষ্মা (Tuberculosis/TB) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

প্রতিষ্ঠিত ও গাইডলাইন-সমর্থিত ব্যবহার

  • সক্রিয় পালমোনারি ও এক্সট্রাপালমোনারি যক্ষ্মার কন্টিনিউয়েশন ফেজ চিকিৎসা: প্রাথমিক নিবিড় পর্যায়ে (পাইরাজিনামাইড ও ইথামবুটলসহ) চিকিৎসার পর, WHO/জাতীয় যক্ষ্মা চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুযায়ী সাধারণত অন্তত ৪ মাস ধরে Mycobacterium tuberculosis সম্পূর্ণ নির্মূলের জন্য Isorifam ব্যবহৃত হয়।
  • প্রথম সারির যক্ষ্মা-বিরোধী চিকিৎসা পদ্ধতির একটি আদর্শ অংশ (যেমন WHO-প্রস্তাবিত 2HRZE/4HR পদ্ধতি), যেখানে Isorifam রিফাম্পিসিন ও আইসোনিয়াজিড উপাদান দুটি সরবরাহ করে।

সংমিশ্রণ চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার আবশ্যক

সক্রিয় যক্ষ্মার জন্য Isorifam কখনোই একক ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। এটি শুধুমাত্র চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সম্পূর্ণ বহু-ঔষধ পদ্ধতির অংশ হিসেবেই ব্যবহারযোগ্য, কারণ একক ওষুধ ব্যবহারে দ্রুত ওষুধ-প্রতিরোধী M. tuberculosis তৈরি হতে পারে, যার মধ্যে মাল্টিড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট টিবি (MDR-TB) অন্তর্ভুক্ত।

থেরাপিউটিক ক্লাস

Isorifam যক্ষ্মা-বিরোধী ওষুধ (নির্দিষ্ট মাত্রার সংমিশ্রণ) থেরাপিউটিক শ্রেণির অন্তর্গত, যেখানে একটি রিফামাইসিন-শ্রেণির অ্যান্টিবায়োটিক (রিফাম্পিসিন) এবং একটি সিনথেটিক আইসোনিকোটিনিক অ্যাসিড হাইড্রাজাইড (আইসোনিয়াজিড) একত্রিত করা হয়েছে।

ফার্মাকোলজি

কার্যপদ্ধতি

Rifampicin + Isoniazid-এর রিফাম্পিসিন উপাদানটি ব্যাকটেরিয়ার DNA-নির্ভর RNA পলিমারেজ এনজাইমের সাথে যুক্ত হয়ে RNA সংশ্লেষণ বন্ধ করে দেয়, যা সক্রিয় ও ধীরগতির উভয় প্রকার M. tuberculosis-এর বিরুদ্ধে ব্যাকটেরিসাইডাল প্রভাব ফেলে।

আইসোনিয়াজিড উপাদানটি একটি প্রোড্রাগ, যা মাইকোব্যাকটেরিয়াল ক্যাটালেজ-পারঅক্সিডেজ (KatG) এনজাইম দ্বারা সক্রিয় হয়ে মাইকোলিক অ্যাসিড সংশ্লেষণ বাধাগ্রস্ত করে, যা মাইকোব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর গঠনের জন্য অপরিহার্য।

ফার্মাকোকাইনেটিক্স

Rifampicin + Isoniazid-এর উভয় উপাদান মুখে সেবনের পর ভালোভাবে শোষিত হয়, তবে খাবারের সাথে সেবন করলে শোষণ কমে যায় (তাই খালি পেটে সেবন উত্তম)। রিফাম্পিসিন যকৃতে বিপাকিত হয়ে মূলত পিত্তের মাধ্যমে নির্গত হয় এবং হেপাটিক সাইটোক্রোম P450 এনজাইমের একটি শক্তিশালী প্রবর্তক। আইসোনিয়াজিড N-acetyltransferase 2 (NAT2) এনজাইম দ্বারা যকৃতে বিপাকিত হয়; জেনেটিক অ্যাসিটাইলেটর অবস্থা (দ্রুত/ধীর) রক্তের মাত্রা ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি প্রভাবিত করে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

Isorifam-এর মাত্রা শরীরের ওজন অনুযায়ী নির্ধারিত হয় এবং WHO/জাতীয় যক্ষ্মা কর্মসূচির নির্দেশিকা অনুসরণ করে চিকিৎসকের দ্বারা পৃথকভাবে ঠিক করা উচিত।

শরীরের ওজনপ্রতিদিনের সাধারণ মাত্রা (Isorifam)
৫০ কেজির কমরিফাম্পিসিন ৪৫০ মিগ্রা + আইসোনিয়াজিড ৩০০ মিগ্রা দিনে একবার (উপযুক্ত ট্যাবলেট সংখ্যা অনুযায়ী)
৫০ কেজি বা তার বেশিরিফাম্পিসিন ৬০০ মিগ্রা + আইসোনিয়াজিড ৩০০ মিগ্রা দিনে একবার (উপযুক্ত ট্যাবলেট সংখ্যা অনুযায়ী)

শিশুদের মাত্রা

শিশুদের ক্ষেত্রে মাত্রা শরীরের ওজন অনুযায়ী নির্ধারিত হয় (প্রায় রিফাম্পিসিন ১০–২০ মিগ্রা/কেজি এবং আইসোনিয়াজিড ৭–১৫ মিগ্রা/কেজি প্রতিদিন, WHO-প্রস্তাবিত সীমার মধ্যে), বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে।

যকৃতের সমস্যায়

যকৃতের কার্যক্ষমতা কমে গেলে সতর্কতার সাথে ও কম মোট মাত্রায় (যেমন প্রতিদিন প্রায় ৮ মিগ্রা/কেজির বেশি নয়) ব্যবহার করতে হবে; গুরুতর/সক্রিয় যকৃতের রোগে Isorifam প্রতিনির্দেশিত (দেখুন প্রতিনির্দেশনা)।

চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী সম্পূর্ণভাবে Isorifam সেবন করুন; চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বন্ধ করবেন না, বাড়াবেন না, ডোজ বাদ দেবেন না, বা অন্য কাউকে দেবেন না। নির্ধারিত সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করা যক্ষ্মা নিরাময় এবং ওষুধ-প্রতিরোধী রোগ প্রতিরোধের জন্য অপরিহার্য।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

Isorifam-এর রিফাম্পিসিন উপাদান যকৃতের সাইটোক্রোম P450 এনজাইম (CYP3A4 সহ) এর একটি শক্তিশালী প্রবর্তক, যা অনেক সহ-প্রশাসিত ওষুধের রক্তের মাত্রা ও কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে। আইসোনিয়াজিড উপাদান কিছু ওষুধের বিপাক বাধাগ্রস্ত করতে পারে। উল্লেখযোগ্য মিথষ্ক্রিয়াসমূহ:

  • হরমোনাল জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি: রিফাম্পিসিন এর কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়; চিকিৎসার সময় ও পরে বিকল্প বা অতিরিক্ত অ-হরমোনাল জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।
  • মুখে সেবনযোগ্য রক্ত পাতলাকারী ওষুধ (যেমন warfarin): রিফাম্পিসিন এর প্রভাব কমায় (মাত্রা বাড়াতে হতে পারে), আইসোনিয়াজিড warfarin-এর মাত্রা বাড়াতে পারে; নিয়মিত INR পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
  • অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধ (প্রোটিয়েজ ইনহিবিটর, কিছু NNRTI): রিফাম্পিসিন অনেক অ্যান্টিরেট্রোভাইরালের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়; কিছু সংমিশ্রণ এড়িয়ে চলতে হয় — HIV-TB সহ-চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ পরামর্শ প্রয়োজন।
  • অ্যাজোল অ্যান্টিফাংগাল, কর্টিকোস্টেরয়েড, মুখে সেবনযোগ্য ডায়াবেটিসের ওষুধ, অ্যান্টিকনভালসেন্ট (যেমন phenytoin), থিওফাইলিন ও সাইক্লোস্পোরিন: রিফাম্পিসিন এনজাইম প্রবর্তনের মাধ্যমে এদের কার্যকারিতা কমাতে পারে; আইসোনিয়াজিড phenytoin ও carbamazepine-এর মাত্রা বাড়াতে পারে — মাত্রা সমন্বয় ও পর্যবেক্ষণ প্রায়ই প্রয়োজন।
  • অ্যালকোহল: উভয় উপাদানের সাথে যকৃতের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায় (দেখুন সতর্কতা) এবং চিকিৎসাকালে এড়িয়ে চলা উচিত।
  • অ্যালুমিনিয়াম-যুক্ত অ্যান্টাসিড: আইসোনিয়াজিডের শোষণ কমাতে পারে; কমপক্ষে ১ ঘণ্টা ব্যবধানে সেবন করুন।

Isorifam শুরু করার আগে আপনার অন্যান্য সকল ওষুধ সম্পর্কে চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টকে জানান।

প্রতিনির্দেশনা

Rifampicin + Isoniazid নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে প্রতিনির্দেশিত:

  • রিফাম্পিসিন, আইসোনিয়াজিড, অন্যান্য রিফামাইসিন/হাইড্রাজাইড যৌগ, অথবা এই প্রস্তুতির যেকোনো উপাদানের প্রতি জানা অতিসংবেদনশীলতা।
  • গুরুতর বা সক্রিয় যকৃতের রোগ (তীব্র হেপাটাইটিস বা গুরুতর যকৃত অকার্যকারিতাসহ), অথবা পূর্বে রিফাম্পিসিন বা আইসোনিয়াজিড ব্যবহারে ওষুধ-জনিত যকৃতের ক্ষতির (যেমন জন্ডিস) ইতিহাস।

গুরুতর যকৃতের ক্ষতির ঝুঁকির কারণে রিটোনাভির-বুস্টেড কিছু প্রোটিয়েজ ইনহিবিটর অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল সংমিশ্রণের সাথে Rifampicin + Isoniazid একত্রে ব্যবহার করা উচিত নয়; আপনি অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপিতে থাকলে চিকিৎসক উপযুক্ত পদ্ধতি নির্বাচন করবেন।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

যেকোনো ওষুধের মতোই Isorifam-এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে। নিম্নলিখিত যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসককে জানান।

সাধারণ

  • বমি বমি ভাব, বমি, পেটে অস্বস্তি, ক্ষুধামন্দা, ডায়রিয়া
  • প্রস্রাব, চোখের পানি, ঘাম ও লালার নিরীহ কমলা-লাল বর্ণ পরিবর্তন (রিফাম্পিসিনের কারণে); সফট কন্টাক্ট লেন্স দাগযুক্ত হতে পারে
  • মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, ঝিমুনি বা ক্লান্তি

কম সাধারণ / গুরুতর (চিকিৎসকের পরামর্শ নিন)

  • যকৃতের ক্ষতির লক্ষণ: ত্বক/চোখ হলুদ হওয়া, গাঢ় প্রস্রাব, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা, পেটের উপরের ডান দিকে ব্যথা (দেখুন সতর্কতা)
  • হাত-পায়ে অসাড়তা, ঝিনঝিন বা জ্বালাপোড়া (পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি, মূলত আইসোনিয়াজিডের কারণে)
  • চর্মে ফুসকুড়ি, চুলকানি, আমবাত, অথবা ফ্লু-জাতীয় প্রতিক্রিয়া (জ্বর, শীত অনুভূতি, পেশী ব্যথা)
  • সহজে কালশিটে পড়া বা রক্তক্ষরণ, অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে ভাব বা ক্লান্তি, গলা ব্যথা/জ্বর
  • প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা প্রস্রাবে রক্ত (বিরল)

মুখ/গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, অথবা ত্বকে ফোসকা/খোসা ওঠার মতো গুরুতর প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসা নিন।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থা: চিকিৎসা না করা হলে গর্ভাবস্থায় সক্রিয় যক্ষ্মা মা ও ভ্রূণ উভয়ের জন্য উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি বহন করে, তাই প্রয়োজন হলে সম্ভাব্য উপকারিতা সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি বিবেচনা করে চিকিৎসকের ঘনিষ্ঠ তত্ত্বাবধানে Isorifam ব্যবহার করা হয়, প্রায়ই পিরিডক্সিন (ভিটামিন B6) সহ। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গর্ভাবস্থায় শুরু বা বন্ধ করবেন না।

স্তন্যদান: সামান্য পরিমাণ রিফাম্পিসিন ও আইসোনিয়াজিড বুকের দুধে প্রবেশ করে। মায়ের যক্ষ্মা চিকিৎসার সাথে স্তন্যদান সাধারণত সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়, কারণ দুধে পরিমাণ কম এবং চিকিৎসাবিহীন মাতৃ যক্ষ্মা শিশুর জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ; শিশুকে পর্যবেক্ষণ করা উচিত এবং প্রয়োজনে শিশুর জন্য পিরিডক্সিন সম্পূরক দেওয়া হতে পারে। Isorifam ব্যবহারকালে স্তন্যদানের আগে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন।

সতর্কতা

যকৃতের ক্ষতি (গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা)

Isorifam-এর উভয় উপাদান যকৃতের ক্ষতি করতে পারে, এবং একত্রে ব্যবহারে এই ঝুঁকি যোগ হয়; বিশেষত পূর্ববর্তী যকৃত রোগ, নিয়মিত অ্যালকোহল সেবন, বয়স্ক রোগী, অপুষ্টি, বা অন্যান্য যকৃত-ক্ষতিকর ওষুধ সহ-ব্যবহারে গুরুতর ও মারাত্মক হেপাটাইটিসের খবর পাওয়া গেছে। চিকিৎসা শুরুর আগে যকৃতের কার্যক্ষমতা পরীক্ষা এবং চিকিৎসাকালে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ সুপারিশ করা হয়, বিশেষত উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের ক্ষেত্রে। যকৃতের ক্ষতির লক্ষণ (ত্বক/চোখ হলুদ হওয়া, গাঢ় প্রস্রাব, ক্রমাগত বমি বমি ভাব, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, পেটে ব্যথা) দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসা বন্ধ করে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।

পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি

আইসোনিয়াজিড পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি (হাত-পায়ে অসাড়তা, ঝিনঝিন বা জ্বালাপোড়া) সৃষ্টি করতে পারে, যা ডায়াবেটিস, অপুষ্টি, অ্যালকোহল ব্যবহারজনিত সমস্যা, HIV সংক্রমণ, কিডনি অকার্যকারিতা বা ধীর অ্যাসিটাইলেটর রোগীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। এই ঝুঁকি কমাতে Isorifam-এর সাথে প্রায়ই পিরিডক্সিন (ভিটামিন B6) সম্পূরক দেওয়া হয়।

চিকিৎসা মেনে চলা (যক্ষ্মা-বিরোধী স্টুয়ার্ডশিপ)

চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী সম্পূর্ণ চিকিৎসাকাল (প্রায়ই ৬ মাস বা তার বেশি) ধরে Isorifam সেবন করুন; চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বন্ধ করবেন না, বাড়াবেন না, ডোজ বাদ দেবেন না, বা অন্য কাউকে দেবেন না। অনিয়মিত সেবন বা অকাল বন্ধ করা চিকিৎসা ব্যর্থতা এবং মাল্টিড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট যক্ষ্মা (MDR-TB)-এর প্রধান কারণ।

অন্যান্য সতর্কতা

  • যকৃতের ক্ষতির অতিরিক্ত ঝুঁকির কারণে চিকিৎসাকালে অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
  • Isorifam শরীরের তরল পদার্থের নিরীহ কমলা-লাল বর্ণ পরিবর্তন ঘটায় এবং সফট কন্টাক্ট লেন্স স্থায়ীভাবে দাগযুক্ত করতে পারে।
  • ৩৫ বছরের বেশি বয়সী, HIV সংক্রমিত, বা অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী যকৃত-ক্ষতিকর ওষুধ সেবনকারী রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার ও ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন (দেখুন শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার)।
  • রিফাম্পিসিন হরমোনাল জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয় (দেখুন ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া) — বিকল্প জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।

মাত্রাধিক্যতা

Isorifam-এর মাত্রাধিক্যতা একটি চিকিৎসা জরুরি অবস্থা। বিশেষত আইসোনিয়াজিডের অতিরিক্ত মাত্রায় তীব্র খিঁচুনি, গুরুতর মেটাবলিক (ল্যাকটিক) অ্যাসিডোসিস, এবং অজ্ঞানতা দেখা দিতে পারে, যা সেবনের ৩০ মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঘটতে পারে; রিফাম্পিসিনের অতিরিক্ত মাত্রায় বমি বমি ভাব, বমি, অজ্ঞান হওয়া, ত্বক ও শরীরের তরলের তীব্র বাদামি-লাল/কমলা বর্ণ পরিবর্তন, এবং যকৃতের কার্যক্ষমতা হ্রাস দেখা দিতে পারে।

মাত্রাধিক্যতার সন্দেহ হলে অবিলম্বে চিকিৎসা সহায়তা নিন বা জরুরি সেবা/বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন — লক্ষণের জন্য অপেক্ষা করবেন না। ওষুধের প্যাকেট সাথে নিয়ে যান। চিকিৎসা হাসপাতালে সহায়ক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দিতে হবে (শ্বাসনালী সহায়তা, খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ, এবং আইসোনিয়াজিড মাত্রাধিক্যতার ক্ষেত্রে দ্রুত শিরাপথে পিরিডক্সিন প্রয়োগ, পাশাপাশি প্রয়োজনে গ্যাস্ট্রিক ডিকনটামিনেশন ও গুরুতর ক্ষেত্রে হেমোডায়ালাইসিস); বাড়িতে নিজে থেকে মাত্রাধিক্যতার চিকিৎসার চেষ্টা করবেন না।

সংরক্ষণ

ঘরের তাপমাত্রায় (৩০°C এর নিচে), আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার

যকৃতের সমস্যা

মৃদু থেকে মাঝারি যকৃত অকার্যকারিতায় সতর্কতার সাথে ও কম মোট মাত্রায় ব্যবহার করুন, ঘনিষ্ঠ যকৃত কার্যক্ষমতা পর্যবেক্ষণসহ; গুরুতর/সক্রিয় যকৃতের রোগে Isorifam প্রতিনির্দেশিত (দেখুন প্রতিনির্দেশনা)।

কিডনির সমস্যা

কিডনির সমস্যায় সাধারণত রিফাম্পিসিনের মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন হয় না, কারণ এটি মূলত পিত্তের মাধ্যমে নির্গত হয়; তবে গুরুতর কিডনি অকার্যকারিতায়, বিশেষত ধীর অ্যাসিটাইলেটরদের ক্ষেত্রে, আইসোনিয়াজিডের মাত্রা সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে।

বয়স্ক রোগী

৩৫ বছরের বেশি বয়সী রোগীদের যকৃতের ক্ষতির ঝুঁকি বেশি, তাই Isorifam সেবনকালে যকৃতের ক্ষতি ও পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথির লক্ষণের জন্য ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

শিশু

শিশুদের ক্ষেত্রে Isorifam প্রমিত বহু-ঔষধ যক্ষ্মা চিকিৎসা পদ্ধতির অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, শরীরের ওজন অনুযায়ী মাত্রা নির্ধারণ করে (WHO/জাতীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী), বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এবং প্রয়োজনে পিরিডক্সিন সম্পূরকসহ।

HIV সহ-সংক্রমণ / ডায়াবেটিস / অ্যালকোহল ব্যবহার

এই রোগীদের ক্ষেত্রে যকৃতের ক্ষতি ও পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথির ঝুঁকি বেশি থাকে বলে Isorifam ব্যবহারকালে বিশেষ পর্যবেক্ষণ ও প্রায়ই পিরিডক্সিন সম্পূরক প্রয়োজন হয়।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

Q: Isorifam 300 mg+150 mg Capsule কেন ব্যবহার করা হয়?

A: Isorifam 300 mg+150 mg Capsule হলো দুটি যক্ষ্মা-বিরোধী ওষুধের নির্দিষ্ট মাত্রার সংমিশ্রণ, যা অন্যান্য যক্ষ্মা-বিরোধী ওষুধের সাথে একটি সম্পূর্ণ পদ্ধতির অংশ হিসেবে যক্ষ্মা চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি একক ওষুধ হিসেবে সক্রিয় যক্ষ্মার চিকিৎসায় কার্যকর নয় এবং সেভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

Q: Isorifam 300 mg+150 mg Capsule সেবনের পর প্রস্রাব কমলা-লাল কেন হয়?

A: এটি রিফাম্পিসিন উপাদানের একটি নিরীহ প্রভাব, যা চোখের পানি, ঘাম ও লালার রংও পরিবর্তন করে। এটি কোনো সমস্যার লক্ষণ নয়, তবে চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে গেলে তা যকৃতের ক্ষতির লক্ষণ হতে পারে এবং দ্রুত চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।

Q: ভালো বোধ করলে কি আমি Isorifam 300 mg+150 mg Capsule বন্ধ করে দিতে পারি?

A: না। চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী Isorifam 300 mg+150 mg Capsule-এর সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করতে হবে, উপসর্গ আগে ভালো হয়ে গেলেও। বন্ধ করা, ডোজ বাদ দেওয়া, বা অনিয়মিতভাবে সেবন করা চিকিৎসা ব্যর্থতা ও মাল্টিড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট যক্ষ্মা (MDR-TB)-এর প্রধান কারণ, এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই ওষুধ অন্য কাউকে দেওয়া উচিত নয়।

Q: গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে Isorifam 300 mg+150 mg Capsule সেবন কি নিরাপদ?

A: চিকিৎসা না করা হলে গর্ভাবস্থায় যক্ষ্মা বিপজ্জনক, তাই প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের ঘনিষ্ঠ তত্ত্বাবধানে Isorifam 300 mg+150 mg Capsule ব্যবহার করা হয়, যেখানে সম্ভাব্য উপকারিতা সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি বিবেচিত হয়; স্তন্যদানের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য, কারণ দুধে যাওয়া পরিমাণ কম। গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানকালে ব্যবহারের আগে সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, নিজে থেকে শুরু বা বন্ধ করবেন না।

Q: Isorifam 300 mg+150 mg Capsule সেবনকালে যকৃতের কার্যক্ষমতা পরীক্ষা কেন প্রয়োজন?

A: Isorifam 300 mg+150 mg Capsule-এর উভয় উপাদান যকৃতকে প্রভাবিত করতে পারে, এবং একত্রে ব্যবহারে এই ঝুঁকি যোগ হয়। চিকিৎসা শুরুর আগে এবং চিকিৎসাকালে নিয়মিত যকৃতের কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়, বিশেষত আপনি অ্যালকোহল সেবন করলে, ৩৫ বছরের বেশি বয়সী হলে, বা পূর্বে যকৃতের রোগ থাকলে।

Q: Isorifam 300 mg+150 mg Capsule-এর অতিরিক্ত মাত্রা সেবন করলে কী করা উচিত?

A: Isorifam 300 mg+150 mg Capsule-এর মাত্রাধিক্যতা একটি চিকিৎসা জরুরি অবস্থা, বিশেষত আইসোনিয়াজিড উপাদান খিঁচুনি ও গুরুতর অ্যাসিডোসিস সৃষ্টি করতে পারে। অবিলম্বে চিকিৎসা সহায়তা নিন বা জরুরি সেবা/বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন; বাড়িতে নিজে থেকে মাত্রাধিক্যতার চিকিৎসার চেষ্টা করবেন না।

ডিসক্লেইমার

এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।

Doctor