
Beklo10 mg
Opsonin Pharma Ltd.

মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (Multiple Sclerosis) জনিত স্প্যাস্টিসিটি, বিশেষত ফ্লেক্সর স্প্যাজম, সংশ্লিষ্ট ব্যথা, ক্লোনাস এবং পেশির শক্তভাব উপশমে Liofen প্রতিষ্ঠিতভাবে (FDA-অনুমোদিত) ব্যবহৃত হয়।
স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি বা স্পাইনাল কর্ডের রোগজনিত স্প্যাস্টিসিটি নিয়ন্ত্রণে Liofen প্রতিষ্ঠিতভাবে ব্যবহৃত হয়।
চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সেরিব্রাল পালসির মতো অন্যান্য কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রজনিত স্প্যাস্টিসিটিতেও Liofen ব্যবহৃত হতে পারে, যদিও স্ট্রোক, সেরিব্রাল পালসি ও পারকিনসন্স ডিজিজে এর কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রিত গবেষণায় সুনির্দিষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।
রিউমাটিক ডিজঅর্ডার (যেমন সাধারণ কোমরের টান/স্ট্রেইন) জনিত পেশির খিঁচুনিতে Liofen নির্দেশিত নয়; সেক্ষেত্রে অন্য ওষুধ অগ্রাধিকার পায়।
থেরাপিউটিক ক্লাস: Liofen একটি কেন্দ্রীয়ভাবে কার্যকর কঙ্কাল পেশি শিথিলকারী (স্কেলিটাল মাসল রিল্যাক্সেন্ট), যা GABA-B রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট শ্রেণির অন্তর্গত।
উপাদান: প্রতিটি ট্যাবলেটে সক্রিয় উপাদান হিসেবে Liofen INN থাকে, সাধারণত ১০ মি.গ্রা. ও ২০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট আকারে পাওয়া যায়; কিছু বাজারে যারা ট্যাবলেট গিলতে পারেন না তাদের জন্য Liofen-এর তরল ফর্মুলেশনও রয়েছে।
সংক্ষিপ্ত বিবরণ: Liofen একটি কেন্দ্রীয়ভাবে কার্যকর পেশি শিথিলকারী ও অ্যান্টিস্প্যাস্টিক ওষুধ, যা মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস ও স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি/রোগের মতো অবস্থায় পেশির স্প্যাস্টিসিটি, খিঁচুনি, ব্যথা ও শক্তভাব কমাতে ব্যবহৃত হয়। এটি মূলত স্পাইনাল কর্ড স্তরে GABA-B রিসেপ্টরে কাজ করে স্নায়ু-পেশি রিফ্লেক্স কার্যক্রম বাধা দেয়, ফলে অনিচ্ছাকৃত পেশি সংকোচন কমে। Liofen মুখে খাওয়ার ওষুধ, সাধারণত কম মাত্রায় শুরু করে ধীরে ধীরে বাড়ানো হয় যাতে সর্বনিম্ন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সহ সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রা খুঁজে পাওয়া যায়। যেহেতু Liofen একটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র দমনকারী ওষুধ, এটি সাধারণত ঝিমুনি ও মাথা ঘোরা সৃষ্টি করে, এবং হঠাৎ বন্ধ করা যাবে না কারণ এতে হ্যালুসিনেশন ও খিঁচুনিসহ গুরুতর উইথড্রয়াল প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
কার্যপ্রণালী (মেকানিজম): Baclofen হলো নিউরোট্রান্সমিটার GABA-এর একটি স্ট্রাকচারাল অ্যানালগ এবং GABA-B রিসেপ্টরের একটি সিলেক্টিভ অ্যাগোনিস্ট হিসেবে কাজ করে। এটি মূলত স্পাইনাল কর্ডে কাজ করে অ্যাফেরেন্ট স্নায়ু প্রান্তকে হাইপারপোলারাইজ করে এবং উত্তেজক নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসরণ বাধা দেয়, ফলে মনোসিন্যাপ্টিক ও পলিসিন্যাপ্টিক রিফ্লেক্স উভয়ই দমিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় পেশির খিঁচুনি, ক্লোনাস ও শক্তভাবের তীব্রতা ও ফ্রিকোয়েন্সি কমে, তবে এটি সরাসরি নিউরোমাসকুলার জাংশন বা পেশি তন্তুতে কাজ করে না।
ফার্মাকোকাইনেটিক্স: Baclofen মুখে খাওয়ার পর দ্রুত ও মোটামুটি সম্পূর্ণরূপে শোষিত হয়, যদিও শোষণ ব্যক্তিভেদে ও মাত্রার উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। এটি যকৃতে আংশিকভাবে বিপাকিত হয়, এবং মুখে খাওয়া মাত্রার বেশিরভাগ অংশ অপরিবর্তিত অবস্থায় কিডনির মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয়। এর ইলিমিনেশন হাফ-লাইফ প্রায় ২.৫ থেকে ৪ ঘণ্টা। যেহেতু নিষ্কাশনের প্রধান পথ কিডনি, তাই কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে Baclofen শরীরে জমা হতে পারে, যার জন্য মাত্রা সমন্বয় প্রয়োজন।
Liofen-এর মাত্রা ব্যক্তিভেদে নির্ধারিত হয় এবং কম মাত্রায় শুরু করে ধীরে ধীরে বাড়ানো হয় যতক্ষণ না সহনীয় পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াসহ পর্যাপ্ত স্প্যাস্টিসিটি উপশম পাওয়া যায়। প্রাপ্তবয়স্ক, শিশু এবং কিডনি সমস্যাযুক্ত রোগীদের জন্য নিয়মে ভিন্নতা থাকে।
| রোগী/পরিস্থিতি | সাধারণ মাত্রা |
|---|---|
| প্রাপ্তবয়স্ক - প্রাথমিক টাইট্রেশন | ৩ দিনের জন্য দিনে তিনবার ৫ মি.গ্রা. মুখে, এরপর প্রয়োজন ও সহনশীলতা অনুযায়ী প্রতি ৩ দিনে প্রতি মাত্রায় ৫ মি.গ্রা. করে বাড়ানো |
| প্রাপ্তবয়স্ক - স্বাভাবিক রক্ষণাবেক্ষণ/সর্বোচ্চ মাত্রা | সাধারণত দৈনিক ৪০-৮০ মি.গ্রা. বিভক্ত মাত্রায় সর্বোত্তম ফল দেয়; সর্বোচ্চ প্রস্তাবিত মাত্রা দৈনিক ৮০ মি.গ্রা. (দিনে ৪ বার ২০ মি.গ্রা.), তবে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে কিছু রোগীর বেশি মাত্রা প্রয়োজন হতে পারে |
| শিশু (স্প্যাস্টিসিটি, বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে) | ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ট্যাবলেট ফর্মুলেশনের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত নয়; ব্যবহার করা হলে বয়স/ওজন-ভিত্তিক মাত্রা বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত হয় (দেখুন “শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার”) |
| কিডনি সমস্যা (রেনাল ইমপেয়ারমেন্ট) | সতর্কতার সাথে ব্যবহার এবং মাত্রা কমানো প্রয়োজন, কারণ Liofen মূলত কিডনির মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয় ও জমা হতে পারে (দেখুন “শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার”) |
| বন্ধ করার নিয়ম | Liofen বন্ধ করার সময় অন্তত ১-২ সপ্তাহ (বা তার বেশি সময়) ধরে ধীরে ধীরে মাত্রা কমাতে হবে; জরুরি চিকিৎসাগত পরিস্থিতি ছাড়া কখনো হঠাৎ বন্ধ করা যাবে না (দেখুন “সতর্কতা”) |
সেবনবিধি:
Baclofen বা এর ফর্মুলেশনের যেকোনো উপাদানের প্রতি জ্ঞাত অতি সংবেদনশীলতা (hypersensitivity) থাকলেই কেবল Baclofen প্রতিনির্দেশিত।
গর্ভাবস্থায় Liofen ব্যবহার নিয়ে মানবদেহে তথ্য সীমিত। প্রাণীর প্রজনন গবেষণায় সাধারণ মানব মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রায় Liofen-এর টেরাটোজেনিক প্রভাব (যেমন ভ্রূণের কঙ্কালগত অস্বাভাবিকতা) দেখা গেছে, যদিও মানুষে এটি সুনির্দিষ্টভাবে টেরাটোজেনিক বলে প্রতিষ্ঠিত নয়। গর্ভাবস্থায় Liofen কেবল তখনই ব্যবহার করা উচিত যখন মায়ের জন্য সম্ভাব্য উপকারিতা ভ্রূণের সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে স্পষ্টভাবে বেশি এবং একজন চিকিৎসকের নির্দেশনায়। গর্ভাবস্থার শেষ দিকে মা Liofen সেবন করলে বিরল ক্ষেত্রে নবজাতকের মধ্যে উইথড্রয়ালের মতো লক্ষণ (কাঁপুনি, খিটখিটে ভাব, খিঁচুনি) দেখা গেছে; সম্ভব হলে প্রসবের আগে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে মাত্রা ধীরে ধীরে কমানো হয়।
Liofen অল্প পরিমাণে বুকের দুধে প্রবেশ করে। শিশুর উপর এর প্রভাব সম্পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায়, Liofen সেবনকালে স্তন্যদান কেবল চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করেই করা উচিত, যিনি স্তন্যদানের উপকারিতা ও শিশুর ঝিমুনি বা খাওয়ায় অনীহার সম্ভাব্য ঝুঁকির মধ্যে ভারসাম্য বিবেচনা করবেন এবং প্রয়োজনে শিশুকে পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেবেন।
Liofen অতিরিক্ত মাত্রায় সেবনে বমি, উল্লেখযোগ্য পেশি দুর্বলতা (হাইপোটোনিয়া), ঝিমুনি থেকে শুরু করে অজ্ঞান অবস্থা, শ্বাসকষ্ট বা শ্বাসতন্ত্র দমন, খিঁচুনি এবং হৃদস্পন্দন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। Liofen-এর মাত্রাধিক্যতা একটি চিকিৎসাগত জরুরি অবস্থা। মাত্রাধিক্যতার সন্দেহ হলে সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিন বা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে (poison control center) যোগাযোগ করুন; বাড়িতে নিজে থেকে এটি সামলানোর চেষ্টা করবেন না। চিকিৎসা সহায়ক (সাপোর্টিভ) এবং হাসপাতালে প্রদান করা হয়, যার মধ্যে শ্বাসনালীর সহায়তা এবং শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
স্বাভাবিক তাপমাত্রায় (৩০°সে-এর নিচে), আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
Q: Liofen 10 mg Tablet কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
A: মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস এবং স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি বা রোগজনিত পেশির স্প্যাস্টিসিটি - শক্তভাব, খিঁচুনি ও অনিচ্ছাকৃত পেশি সংকোচন - কমাতে Liofen 10 mg Tablet ব্যবহৃত হয়। সাধারণ কোমরের টান বা রিউমাটিক ডিজঅর্ডারজনিত সাধারণ পেশি খিঁচুনির জন্য এটি নয়।
Q: আমি কীভাবে Liofen 10 mg Tablet সেবন করব, এবং ইচ্ছামতো বন্ধ করতে পারব কি?
A: Liofen 10 mg Tablet ঠিক প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী মুখে খেতে হয়, সাধারণত কম মাত্রায় শুরু করে ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়। ভালো বোধ করলেও নিজে থেকে হঠাৎ Liofen 10 mg Tablet বন্ধ করা উচিত নয়, কারণ হঠাৎ বন্ধ করলে হ্যালুসিনেশন, খিঁচুনি, তীব্র জ্বর এবং স্প্যাস্টিসিটি রিবাউন্ডের মতো গুরুতর উইথড্রয়াল প্রতিক্রিয়া হতে পারে। চিকিৎসা বন্ধ করতে হলে আপনার চিকিৎসক ধীরে ধীরে মাত্রা কমিয়ে আনবেন।
Q: Liofen 10 mg Tablet কি ঝিমুনি সৃষ্টি করবে, আর সেবনকালে গাড়ি চালানো যাবে কি?
A: হ্যাঁ, Liofen 10 mg Tablet সেবনে সাধারণত ঝিমুনি, মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা দেখা দেয়, বিশেষত শুরুতে বা মাত্রা বাড়ানোর পরে। Liofen 10 mg Tablet আপনার উপর কেমন প্রভাব ফেলে তা না জানা পর্যন্ত গাড়ি চালানো, যন্ত্রপাতি পরিচালনা বা পূর্ণ সতর্কতা দরকার এমন কাজ করা উচিত নয়, এবং অ্যালকোহল ও অন্যান্য সিডেটিং ওষুধ এড়িয়ে চলা উচিত কারণ এদের প্রভাব যোগ হতে পারে।
Q: গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানকালে Liofen 10 mg Tablet সেবন কি নিরাপদ?
A: গর্ভাবস্থায় Liofen 10 mg Tablet ব্যবহার নিয়ে মানবদেহে তথ্য সীমিত, এবং বেশি মাত্রায় প্রাণী গবেষণায় কিছু প্রভাব দেখা গেছে, তাই চিকিৎসক নিশ্চিত হলে যে উপকারিতা ঝুঁকির চেয়ে বেশি তখনই গর্ভাবস্থায় Liofen 10 mg Tablet ব্যবহার করা উচিত। অল্প পরিমাণ Liofen 10 mg Tablet বুকের দুধে প্রবেশ করে, তাই Liofen 10 mg Tablet সেবনকালে স্তন্যদান কেবল চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করেই করা উচিত, যিনি শিশুকে পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিতে পারেন।
Q: Liofen 10 mg Tablet কি আমার কিডনিতে প্রভাব ফেলতে পারে, নাকি কিডনি রোগ থাকলে আমার মাত্রা পরিবর্তন হবে?
A: Liofen 10 mg Tablet মূলত কিডনির মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়, তাই কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া রোগীদের রক্তে ওষুধের মাত্রা বেশি জমা হতে পারে, যা অতিরিক্ত ঝিমুনি বা বিভ্রান্তির মতো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। কিডনি রোগ থাকলে আপনার চিকিৎসক সম্ভবত Liofen 10 mg Tablet-এর কম মাত্রা নির্ধারণ করবেন এবং ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন।
Q: কেউ যদি অতিরিক্ত মাত্রায় Liofen 10 mg Tablet সেবন করে ফেলে তাহলে কী করা উচিত?
A: Liofen 10 mg Tablet-এর মাত্রাধিক্যতা একটি চিকিৎসাগত জরুরি অবস্থা এবং তীব্র ঝিমুনি, শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি এবং অজ্ঞান অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। বাড়িতে নিজে থেকে সামলানোর চেষ্টা না করে সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিন অথবা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
ডিসক্লেইমার
এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।