Product gallery
MRP ৳ ৪০.০০১০% ডিস্কাউন্ট
Best PriceTk ৩৬.০০/piece
১
Section

বিকল্প

Price
Section

Medicine overview

নির্দেশনা

Maximox একটি ফোর্থ-জেনারেশন ফ্লুরোকুইনোলোন গোত্রের অ্যান্টিবায়োটিক, যা সংবেদনশীল ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট বিভিন্ন সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। ফ্লুরোকুইনোলোনের গুরুতর, কখনো কখনো স্থায়ী পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি থাকায়, সাইনুসাইটিস ও ব্রঙ্কাইটিসের তীব্রতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে Maximox কেবল তখনই ব্যবহার করা উচিত যখন অন্য কোনো চিকিৎসা বিকল্প নেই।

প্রতিষ্ঠিত/অনুমোদিত ব্যবহার (মুখে খাওয়া/শিরাপথে)

  • কমিউনিটি-অ্যাকোয়ার্ড নিউমোনিয়া, মাল্টি-ড্রাগ-রেজিস্ট্যান্ট স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনিয়া দ্বারা সৃষ্ট ক্ষেত্রসহ
  • একিউট ব্যাকটেরিয়াল সাইনুসাইটিস (অন্য বিকল্প না থাকলেই ব্যবহার করুন)
  • ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিসের তীব্রতা বৃদ্ধি (অন্য বিকল্প না থাকলেই ব্যবহার করুন)
  • ত্বক ও ত্বকের নিচের স্তরের সংক্রমণ (সাধারণ)
  • ত্বক ও ত্বকের নিচের স্তরের সংক্রমণ (জটিল)
  • জটিল ইন্ট্রা-অ্যাবডোমিনাল (পেটের অভ্যন্তরীণ) সংক্রমণ, প্রয়োজনে অ্যানএরোবিক জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকর অন্য ওষুধের সাথে মিলিয়ে
  • প্লেগ (নিউমোনিক ও সেপ্টিসেমিক প্লেগসহ) এবং সংস্পর্শ-পরবর্তী প্রতিরোধ

চোখের ফর্মুলেশন

Maximox-এর চোখের ড্রপ (ওফথালমিক সলিউশন) সংবেদনশীল জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট ব্যাকটেরিয়াল কনজাংটিভাইটিস-এ ব্যবহৃত হয়।

গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা

Maximox প্রস্রাবে তুলনামূলকভাবে কম মাত্রায় পৌঁছায়, তাই মূত্রনালীর সংক্রমণে এটি ব্যবহারের জন্য সুপারিশ করা হয় না। Maximox সাধারণ সর্দি বা ফ্লু-এর মতো ভাইরাসজনিত অসুখে কাজ করে না; এটি শুধুমাত্র নিশ্চিত বা দৃঢ়ভাবে সন্দেহজনক ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে ব্যবহার করা উচিত।

থেরাপিউটিক ক্লাস

Maximox ফ্লুরোকুইনোলোন (ফোর্থ-জেনারেশন) শ্রেণীর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ওষুধ।

ফার্মাকোলজি

কার্যপ্রণালী

Moxifloxacin Hydrochloride ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ গাইরেজ (টপোইসোমারেজ II) এবং টপোইসোমারেজ IV এনজাইমকে বাধা দিয়ে কাজ করে, যা ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ প্রতিলিপন, প্রতিলিখন ও মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয়। দুইটি লক্ষ্যকে একসাথে বাধা দেওয়ার কারণে এর কার্যকারিতার পরিসর বিস্তৃত এবং একক-স্তরের মিউটেশনে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ফার্মাকোকাইনেটিক্স

  • শোষণ: মুখে খাওয়ার পর দ্রুত ও প্রায় সম্পূর্ণরূপে শোষিত হয় (জৈব উপলভ্যতা প্রায় ৯০%), খাবারের প্রভাব নগণ্য।
  • বিতরণ: শরীরের বিভিন্ন টিস্যু ও তরলে, বিশেষত ফুসফুস ও সাইনাসের টিস্যুতে ভালোভাবে ছড়িয়ে পড়ে; প্লাজমা প্রোটিনের সাথে সংযুক্তি প্রায় ৩০-৫০%।
  • বিপাক: যকৃতে গ্লুকুরোনাইড ও সালফেট কনজুগেশনের মাধ্যমে বিপাক হয়, সাইটোক্রোম P450 এনজাইমের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেই।
  • নিষ্কাশন: বৃক্ক এবং পিত্ত/মলের মাধ্যমে অপরিবর্তিত ওষুধ ও এর বিপাকজাত পদার্থ নির্গত হয়; অর্ধায়ু প্রায় ১২ ঘণ্টা, যা দিনে একবার সেবনের সুযোগ দেয়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

সাধারণ সংক্রমণে Maximox-এর মাত্রা সাধারণত দিনে একবার ৪০০ মি.গ্রা.-এ স্থির থাকে; সংক্রমণের তীব্রতা অনুযায়ী মাত্রা নয়, বরং চিকিৎসার সময়কাল পরিবর্তিত হয়। চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী সঠিকভাবে Maximox সেবন করুন; চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না, মেয়াদ বাড়াবেন না, ডোজ বাদ দেবেন না, বা অন্য কাউকে দেবেন না। লক্ষণ কমে গেলেও চিকিৎসকের নির্ধারিত সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করুন, যাতে চিকিৎসা ব্যর্থতা ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির ঝুঁকি কমে।

নির্দেশনাপ্রাপ্তবয়স্কদের মাত্রাসময়কাল
কমিউনিটি-অ্যাকোয়ার্ড নিউমোনিয়া৪০০ মি.গ্রা. দিনে একবার (মুখে/শিরাপথে)৭-১৪ দিন
একিউট ব্যাকটেরিয়াল সাইনুসাইটিস (বিকল্প না থাকলে)৪০০ মি.গ্রা. দিনে একবার১০ দিন
ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিসের তীব্রতা বৃদ্ধি (বিকল্প না থাকলে)৪০০ মি.গ্রা. দিনে একবার৫ দিন
সাধারণ ত্বকের সংক্রমণ৪০০ মি.গ্রা. দিনে একবার৭ দিন
জটিল ত্বকের সংক্রমণ৪০০ মি.গ্রা. দিনে একবার৭-২১ দিন
জটিল ইন্ট্রা-অ্যাবডোমিনাল সংক্রমণ৪০০ মি.গ্রা. দিনে একবার৫-১৪ দিন
প্লেগ (চিকিৎসা বা সংস্পর্শ-পরবর্তী প্রতিরোধ)৪০০ মি.গ্রা. দিনে একবার১০-১৪ দিন, চিকিৎসক/স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী

চোখের ড্রপ: ব্যাকটেরিয়াল কনজাংটিভাইটিসে সাধারণত আক্রান্ত চোখে দিনে ২-৩ বার করে ৭ দিন, চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী; শুধুমাত্র চোখে ব্যবহার্য, মুখে খাওয়া বা ইনজেকশনের জন্য নয়।

বৃক্ক ও যকৃতের সমস্যা: বিস্তারিত দেখুন শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার অংশে।

সেবনবিধি: মুখে খাওয়ার Maximox খাবারসহ বা খাবার ছাড়া নেওয়া যায় এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। অ্যান্টাসিড, সুক্রালফেট, আয়রন, জিংক বা এসব খনিজযুক্ত মাল্টিভিটামিন শোষণ কমিয়ে দেয়, তাই এসব Maximox সেবনের অন্তত ৪ ঘণ্টা আগে বা ৮ ঘণ্টা পরে নিতে হবে। ইনজেকশন ফর্মটি কেবল ধীরগতিতে (প্রায় ৬০ মিনিট ধরে) শিরাপথে ইনফিউশন হিসেবে দিতে হয়; দ্রুত বা বোলাস ইনজেকশন হিসেবে কখনোই দেওয়া যাবে না, এবং সামঞ্জস্যতা নিশ্চিত না হলে অন্য কোনো ওষুধের সাথে একই ইনফিউশনে মেশানো যাবে না।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

Maximox-এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ মিথষ্ক্রিয়া রয়েছে:

  • অ্যান্টাসিড, সুক্রালফেট ও মাল্টিভিটামিন/মিনারেল (আয়রন, জিংক): এগুলো Maximox-এর সাথে যুক্ত হয়ে শোষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয় ও কার্যকারিতা কমায়। এসব থেকে অন্তত ৪ ঘণ্টা আগে বা ৮ ঘণ্টা পরে Maximox সেবন করতে হবে।
  • ক্লাস IA অ্যান্টিঅ্যারিদমিক (যেমন কুইনিডিন, প্রোকেইনামাইড) ও ক্লাস III অ্যান্টিঅ্যারিদমিক (যেমন অ্যামিওডারোন, সোটালল): একত্রে ব্যবহার প্রতিনির্দেশিত, কারণ এতে QT দীর্ঘায়ন ও গুরুতর হৃদস্পন্দনজনিত জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে (দেখুন প্রতিনির্দেশনা)।
  • QT ব্যবধান দীর্ঘকারী অন্যান্য ওষুধ (যেমন কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক, কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, কিছু বমিরোধী ওষুধ): একত্রে ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ QT দীর্ঘায়নের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • ওয়ারফারিন ও অন্যান্য মুখে খাওয়ার রক্ত পাতলাকারী ওষুধ: Maximox রক্ত পাতলাকারী প্রভাব বাড়িয়ে দিতে পারে; INR ও রক্তক্ষরণের লক্ষণের জন্য নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
  • ডায়াবেটিসের ওষুধ (ইনসুলিন, মুখে খাওয়ার): একত্রে ব্যবহারে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন (হাইপো ও হাইপারগ্লাইসেমিয়া উভয়ই) হতে পারে; ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে রক্তে শর্করা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
  • কর্টিকোস্টেরয়েড: একত্রে ব্যবহারে টেন্ডন প্রদাহ ও ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষত বয়স্কদের ক্ষেত্রে।
  • এনএসএআইডি: Maximox-এর মতো ফ্লুরোকুইনোলোনের সাথে একত্রে ব্যবহারে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র উদ্দীপনা ও খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

প্রতিনির্দেশনা

Moxifloxacin Hydrochloride নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে প্রতিনির্দেশিত (ব্যবহার করা যাবে না):

  • Moxifloxacin Hydrochloride বা অন্য যেকোনো কুইনোলোন/ফ্লুরোকুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক অথবা প্রস্তুতির যেকোনো উপাদানের প্রতি জ্ঞাত অতি সংবেদনশীলতা (অ্যালার্জি) থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে।
  • QT ব্যবধান দীর্ঘায়নের জ্ঞাত ইতিহাস, অসংশোধিত হাইপোক্যালেমিয়া বা হাইপোম্যাগনেসেমিয়া, অথবা অন্য QT-দীর্ঘকারী ওষুধ, বিশেষত ক্লাস IA (যেমন কুইনিডিন, প্রোকেইনামাইড) বা ক্লাস III (যেমন অ্যামিওডারোন, সোটালল) অ্যান্টিঅ্যারিদমিক ওষুধ একত্রে সেবনকারী রোগীদের ক্ষেত্রে, কারণ এতে গুরুতর, এমনকি প্রাণঘাতী হৃদস্পন্দনজনিত জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

বেশিরভাগ রোগী Maximox ভালোভাবে সহ্য করেন, তবে কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

  • বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, বমি, পেটে ব্যথা, বদহজম
  • মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা
  • স্বাদের পরিবর্তন, অনিদ্রা

কম দেখা যায় কিন্তু গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

  • টেন্ডন প্রদাহ ও ছিঁড়ে যাওয়া (বিশেষত অ্যাকিলিস টেন্ডন), যা চিকিৎসাকালীন বা চিকিৎসা শেষের পরেও হতে পারে (দেখুন সতর্কতা)
  • পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি (অবশভাব, ঝিনঝিন, দুর্বলতা), যা স্থায়ী হতে পারে
  • কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের প্রতিক্রিয়া: খিঁচুনি, বিভ্রান্তি, কম্পন, হ্যালুসিনেশন, উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং বিরল ক্ষেত্রে আত্মহত্যার চিন্তা
  • QT ব্যবধান দীর্ঘায়ন এবং বিরল ক্ষেত্রে টরসাদেস দ্য পয়েন্টসহ গুরুতর হৃদস্পন্দনজনিত জটিলতা
  • ফুলমিন্যান্ট (আকস্মিক তীব্র) হেপাটাইটিস, যা যকৃতের ব্যর্থতায় পরিণত হতে পারে (বিরল হলেও এই ওষুধের ক্ষেত্রে নির্দিষ্টভাবে রিপোর্ট হয়েছে); এছাড়া হালকা লিভার এনজাইম বৃদ্ধি ও জন্ডিসও হতে পারে
  • ফটোসেনসিটিভিটি (সূর্যের আলোর প্রতি বাড়তি সংবেদনশীলতা, যা রোদে পোড়ার প্রবণতা বাড়ায়)
  • Clostridioides difficile-জনিত ডায়রিয়া, যা মৃদু থেকে জীবন-হুমকিস্বরূপ কোলাইটিস পর্যন্ত হতে পারে
  • অতি সংবেদনশীলতাজনিত প্রতিক্রিয়া, যেমন র‍্যাশ, এবং বিরল ক্ষেত্রে গুরুতর ত্বকের প্রতিক্রিয়া (যেমন স্টিভেনস-জনসন সিনড্রোম) বা অ্যানাফিল্যাক্সিস
  • এওর্টিক অ্যানিউরিজম ও এওর্টিক ডিসেকশন (বিরল কিন্তু গুরুতর ঝুঁকি, বিশেষত ঝুঁকিপূর্ণ বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে)
  • রক্তে গ্লুকোজের ব্যাঘাত (হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা হাইপারগ্লাইসেমিয়া), বিশেষত ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে

Maximox সেবনকালে টেন্ডনে ব্যথা/ফোলা, অস্বাভাবিক অবশভাব/ঝিনঝিন, বুক ধড়ফড় বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, ত্বক/চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া, তীব্র ডায়রিয়া, হঠাৎ তীব্র বুক/পিঠ/পেটে ব্যথা বা অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় সাধারণত Maximox ব্যবহার এড়িয়ে চলা হয়। প্রাণীদেহে পরীক্ষায় দেখা গেছে ফ্লুরোকুইনোলোন, যার মধ্যে Maximox-ও রয়েছে, অপরিণত প্রাণীর তরুণাস্থি ও জয়েন্টের ক্ষতি করতে পারে, যা গর্ভস্থ শিশুর ক্ষেত্রেও তাত্ত্বিক উদ্বেগের কারণ, এবং মাতৃদেহে বিষাক্ত মাত্রায় কিছু ভ্রূণ-সংক্রান্ত প্রভাবও প্রাণীদেহে পাওয়া গেছে। Maximox কেবলমাত্র তখনই ব্যবহার করা উচিত যখন সম্ভাব্য উপকারিতা গর্ভস্থ শিশুর ঝুঁকির চেয়ে স্পষ্টভাবে বেশি এবং নিরাপদ বিকল্প অ্যান্টিবায়োটিক উপযুক্ত না হয়; ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

স্তন্যদান: Maximox মায়ের বুকের দুধে নির্গত হয় কিনা তা সুনিশ্চিতভাবে জানা নেই, তবে একই শ্রেণীর অন্যান্য ফ্লুরোকুইনোলোন সামান্য পরিমাণে বুকের দুধে নির্গত হয়। শিশুর জয়েন্ট/তরুণাস্থি ক্ষতি ও অন্যান্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে, মায়ের জন্য ওষুধের গুরুত্ব বিবেচনা করে স্তন্যপান বন্ধ রাখা বা Maximox বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের পরামর্শে নেওয়া উচিত।

সতর্কতা

চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী সঠিকভাবে Maximox সেবন করুন; চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না, মেয়াদ বাড়াবেন না, ডোজ বাদ দেবেন না, বা অন্য কাউকে দেবেন না।

  • টেন্ডন প্রদাহ ও ছিঁড়ে যাওয়া: Maximox-সহ ফ্লুরোকুইনোলোন ওষুধে টেন্ডন প্রদাহ ও ছিঁড়ে যাওয়ার (বিশেষত অ্যাকিলিস টেন্ডনে) ঝুঁকি বাড়ে, যেকোনো বয়সেই। ৬০ বছরের বেশি বয়সী, কর্টিকোস্টেরয়েড সেবনকারী ও অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা রোগীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। টেন্ডনে ব্যথা, ফোলা বা প্রদাহ দেখা দিলে সাথে সাথে Maximox বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি: Maximox সেবনের অল্প সময়ের মধ্যেই পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি দেখা দিতে পারে, যা স্থায়ী হতে পারে। লক্ষণ (ব্যথা, জ্বালাপোড়া, ঝিনঝিন, অবশভাব, দুর্বলতা) দেখা দিলে সাথে সাথে বন্ধ করুন।
  • কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের প্রতিক্রিয়া: খিঁচুনি, মস্তিষ্কের চাপ বৃদ্ধি, বিভ্রান্তি এবং বিরল ক্ষেত্রে আত্মহত্যার চিন্তাসহ মানসিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। মৃগীরোগ বা স্নায়বিক সমস্যার ইতিহাস থাকলে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন।
  • মায়াস্থেনিয়া গ্রেভিস: মায়াস্থেনিয়া গ্রেভিস আছে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার এড়িয়ে চলুন, কারণ ফ্লুরোকুইনোলোন পেশির দুর্বলতা বাড়িয়ে জীবন-হুমকিস্বরূপ শ্বাসকষ্ট তৈরি করতে পারে।
  • QT দীর্ঘায়ন: অন্য কিছু ফ্লুরোকুইনোলোনের তুলনায় Maximox-এ QT ব্যবধান দীর্ঘায়নের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। হৃদস্পন্দনজনিত জটিলতার ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের (যেমন উল্লেখযোগ্য ব্র্যাডিকার্ডিয়া, সাম্প্রতিক হার্ট অ্যাটাক, অসংশোধিত ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা) ক্ষেত্রে প্রতিনির্দেশিত সংমিশ্রণের বাইরেও সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন (দেখুন প্রতিনির্দেশনা)।
  • এওর্টিক অ্যানিউরিজম/ডিসেকশন: ফ্লুরোকুইনোলোনে এওর্টিক অ্যানিউরিজম ও ডিসেকশনের ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষত বয়স্কদের ক্ষেত্রে; অ্যানিউরিজমের ইতিহাস বা ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের ক্ষেত্রে অন্য কোনো চিকিৎসা বিকল্প না থাকলেই কেবল ব্যবহার করুন।
  • যকৃতের প্রতিক্রিয়া: Maximox-এর ক্ষেত্রে বিরল কিন্তু গুরুতর ফুলমিন্যান্ট হেপাটাইটিস, যা যকৃতের ব্যর্থতায় পরিণত হতে পারে, রিপোর্ট হয়েছে। জন্ডিস, প্রস্রাব গাঢ় হওয়া, ক্রমাগত বমি বমি ভাব বা পেটের ডানদিকের উপরের অংশে ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দিলে সাথে সাথে Maximox বন্ধ করুন।
  • C. difficile-জনিত ডায়রিয়া: চিকিৎসাকালীন বা চিকিৎসা শেষের কয়েক মাস পর পর্যন্ত হতে পারে; ডায়রিয়া হলে মূল্যায়ন করে যথাযথ ব্যবস্থা নিন।
  • ফটোসেনসিটিভিটি: চিকিৎসাকালীন অতিরিক্ত রোদ/UV এক্সপোজার এড়িয়ে চলুন এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
  • মূত্রনালীর সংক্রমণে অনুপযুক্ত: Maximox প্রস্রাবে কম মাত্রায় পৌঁছায়, তাই মূত্রনালীর সংক্রমণ চিকিৎসার জন্য এর উপর নির্ভর করা উচিত নয়।
  • শুধুমাত্র নিশ্চিত বা দৃঢ়ভাবে সন্দেহজনক ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে ব্যবহার করুন, যাতে ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হওয়া প্রতিরোধ করা যায়।

মাত্রাধিক্যতা

Maximox-এর মাত্রাধিক্যতা (ওভারডোজ) সন্দেহ হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন অথবা নিকটস্থ জরুরি বিভাগ/বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। এর কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই। চিকিৎসা মূলত সহায়ক ও লক্ষণভিত্তিক, যার মধ্যে থাকতে পারে চিকিৎসা কর্মীদের তত্ত্বাবধানে দ্রুত পাকস্থলী খালি করা/ডিকনটামিনেশন, হৃদস্পন্দনের (ইসিজি, QT দীর্ঘায়নের জন্য) ও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণসমূহের নিবিড় পর্যবেক্ষণ, পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সাধারণ সহায়ক চিকিৎসা। হেমোডায়ালাইসিস ও পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস শরীর থেকে Maximox কার্যকরভাবে অপসারণ করতে পারে না। বাড়িতে নিজে থেকে মাত্রাধিক্যতা সামলানোর চেষ্টা করবেন না।

সংরক্ষণ

ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় (৩০°সে-এর নিচে), আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার

বৃক্কের সমস্যা

যেকোনো মাত্রার বৃক্কের সমস্যায়, এমনকি হেমোডায়ালাইসিস বা CAPD-তে থাকা রোগীদের ক্ষেত্রেও, Maximox-এর মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই, কারণ বৃক্কের মাধ্যমে নিষ্কাশন এর প্রধান পথ নয়।

যকৃতের সমস্যা

Maximox-এর ক্ষেত্রে বিরল হলেও গুরুতর ফুলমিন্যান্ট হেপাটাইটিস ও যকৃতের ব্যর্থতার খবর পাওয়া যাওয়ায় যকৃতের সমস্যায় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। গুরুতর (চাইল্ড-পিউ ক্লাস C) যকৃতের সমস্যা বা অ্যাসাইটিসসহ সিরোসিসের রোগীদের ক্ষেত্রে Maximox পর্যাপ্তভাবে গবেষণা করা হয়নি, তাই সম্ভাব্য উপকারিতা ঝুঁকির চেয়ে বেশি না হলে এড়িয়ে চলা উচিত।

বয়স্ক রোগী

বয়স্ক রোগী, বিশেষত যারা কর্টিকোস্টেরয়েড সেবন করছেন বা যাদের হৃদরোগ সংক্রান্ত ঝুঁকি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে Maximox সেবনে টেন্ডন সমস্যা, QT দীর্ঘায়ন ও এওর্টিক অ্যানিউরিজম/ডিসেকশনের ঝুঁকি বেশি; উপযুক্ত সতর্কতা ও পর্যবেক্ষণসহ ব্যবহার করুন।

শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার

নিচের শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার অংশে বিস্তারিত দেখুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

Q: Maximox 400 mg Tablet কী কাজে ব্যবহার করা হয়?

A: Maximox 400 mg Tablet একটি ফোর্থ-জেনারেশন ফ্লুরোকুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক যা নিউমোনিয়া, সাইনুসাইটিস, ব্রঙ্কাইটিসের তীব্রতা বৃদ্ধি, ত্বকের সংক্রমণ এবং কিছু পেটের অভ্যন্তরীণ সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, এবং চোখের ড্রপ হিসেবে ব্যাকটেরিয়াল কনজাংটিভাইটিসেও ব্যবহৃত হয়। এটি শুধুমাত্র ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে কাজ করে, সর্দি বা ফ্লু-এর মতো ভাইরাসজনিত অসুখে নয়, এবং এটি মূত্রনালীর সংক্রমণে ব্যবহার করা হয় না।

Q: ভালো বোধ করলে কি Maximox 400 mg Tablet সেবন বন্ধ করে দেওয়া যায়?

A: না। চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী সঠিকভাবে Maximox 400 mg Tablet সেবন করুন; চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করবেন না, মেয়াদ বাড়াবেন না, ডোজ বাদ দেবেন না, বা অন্য কাউকে দেবেন না। আগেভাগে বন্ধ করলে সংক্রমণ আবার ফিরে আসতে পারে এবং অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির ঝুঁকি বাড়ে।

Q: Maximox 400 mg Tablet সেবনকালে কোন খাবার বা ওষুধ এড়িয়ে চলা উচিত?

A: হ্যাঁ। Maximox 400 mg Tablet সেবনের ৪ ঘণ্টা আগে বা ৮ ঘণ্টা পরের মধ্যে অ্যান্টাসিড, আয়রন, জিংক সাপ্লিমেন্ট বা এসব খনিজযুক্ত মাল্টিভিটামিন গ্রহণ এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো শোষণ কমিয়ে দেয়। এছাড়া হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণের ওষুধ (যেমন অ্যামিওডারোন, কুইনিডিন, সোটালল), ওয়ারফারিন, কর্টিকোস্টেরয়েড ও ডায়াবেটিসের ওষুধসহ আপনি যেসব অন্য ওষুধ সেবন করছেন তা চিকিৎসককে জানান, কারণ Maximox 400 mg Tablet-এর সাথে এগুলোর মিথষ্ক্রিয়া হতে পারে।

Q: গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে Maximox 400 mg Tablet কি নিরাপদ?

A: প্রাণীদেহে ফ্লুরোকুইনোলোনের প্রভাবের ভিত্তিতে গর্ভস্থ শিশু বা স্তন্যপানরত শিশুর সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে সাধারণত Maximox 400 mg Tablet এড়িয়ে চলা হয়। চিকিৎসক যদি নির্ধারণ করেন যে সম্ভাব্য উপকারিতা ঝুঁকির চেয়ে স্পষ্টভাবে বেশি এবং নিরাপদ বিকল্প না থাকে, কেবল তখনই এটি ব্যবহার করা উচিত।

Q: কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে Maximox 400 mg Tablet বন্ধ করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত?

A: Maximox 400 mg Tablet সেবনকালে টেন্ডনে ব্যথা বা ফোলা (বিশেষত হিলের/অ্যাকিলিস অংশে), অবশভাব বা ঝিনঝিন, বুক ধড়ফড় বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, ত্বক/চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া, তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, হঠাৎ তীব্র বুক বা পেটে ব্যথা, খিঁচুনি, বিভ্রান্তি বা অ্যালার্জির লক্ষণ (র‍্যাশ, ফোলা, শ্বাসকষ্ট) দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Q: শিশুরা কি Maximox 400 mg Tablet সেবন করতে পারে?

A: শিশুদের ক্ষেত্রে Maximox 400 mg Tablet-এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় এবং ফ্লুরোকুইনোলোন শ্রেণীর ওষুধে জয়েন্ট ও টেন্ডন সমস্যার ঝুঁকি থাকায় সাধারণত শিশুদের জন্য Maximox 400 mg Tablet সুপারিশ করা হয় না। কোনো বিশেষজ্ঞ কেবল গুরুতর পরিস্থিতিতে, উপযুক্ত বিকল্প না থাকলে, এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

ডিসক্লেইমার

এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।

Doctor