
Nidocard Retard2.6 mg
Drug International Ltd.

Nitrin SR হলো একটি নাইট্রেট ভাসোডাইলেটর যা প্রধানত করোনারি আর্টারি ডিজিজের কারণে সৃষ্ট এনজাইনা পেক্টোরিস (বুকে ব্যথা) ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত হয়।
তীব্র করোনারি সিনড্রোম ও পালমোনারি কনজেশনসহ তীব্র হার্ট ফেইলিওরে অন্যান্য প্রমিত চিকিৎসার সাথে সহায়ক থেরাপি হিসেবে, চিকিৎসকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে।
Nitrin SR নাইট্রেট ভাসোডাইলেটর (অর্গানিক নাইট্রেট/নাইট্রোভাসোডাইলেটর) শ্রেণীর অন্তর্গত, যা অ্যান্টি-এনজাইনাল ও অ্যান্টি-ইস্কেমিক এজেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
Nitroglycerin ভাস্কুলার স্মুথ মাসলে নাইট্রিক অক্সাইড (NO) এ রূপান্তরিত হয়, যা গুয়ানাইলেট সাইক্লেজ এনজাইম সক্রিয় করে এবং কোষের ভেতরে সাইক্লিক জিএমপি (cGMP) বৃদ্ধি করে, ফলে ভাস্কুলার স্মুথ মাসল শিথিল হয়।
Nitroglycerin শ্লেষ্মাঝিল্লি ও ত্বক দিয়ে দ্রুত শোষিত হয়। এটি যকৃতে ব্যাপক ফার্স্ট-পাস মেটাবলিজমের মধ্য দিয়ে যায় (এ কারণেই মুখে খাওয়ার ট্যাবলেটে সাবলিঙ্গুয়াল/IV পথের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রা প্রয়োজন হয়), যকৃতের রিডাক্টেজ দ্বারা ডাই-নাইট্রেট ও মনো-নাইট্রেট মেটাবোলাইটে রূপান্তরিত হয়ে মূলত প্রস্রাবের মাধ্যমে নির্গত হয়। সাবলিঙ্গুয়াল প্রয়োগে ১-৩ মিনিটের মধ্যে কাজ শুরু হয় এবং কার্যকারিতা মাত্র ২০-৩০ মিনিট স্থায়ী হয়, তাই দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরোধের জন্য প্যাচ ও এক্সটেন্ডেড-রিলিজ ট্যাবলেট ব্যবহৃত হয়।
এনজাইনা অ্যাটাক শুরু হলে একটি ট্যাবলেট (সাধারণত ০.৩-০.৬ মি.গ্রা.) জিহ্বার নিচে বা গালের ভেতরে রেখে সম্পূর্ণ গলে যেতে দিতে হবে; গিলে ফেলা যাবে না। ব্যথা না কমলে প্রতি ৫ মিনিট পর পর আরেকটি ট্যাবলেট নেওয়া যেতে পারে, তবে ১৫ মিনিটে সর্বোচ্চ ৩টি ট্যাবলেট। প্রথম মাত্রার পরও ব্যথা না কমলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সেবা নিতে হবে।
এনজাইনা উদ্রেককারী কার্যক্রমের ৫-১০ মিনিট আগে একটি মাত্রা নেওয়া যেতে পারে।
অ্যাটাক শুরু হলে জিহ্বার উপরে বা নিচে ১-২টি মিটার্ড স্প্রে প্রয়োগ করতে হবে; প্রয়োজনে প্রতি ৫ মিনিট পর পর, ১৫ মিনিটে সর্বোচ্চ ৩টি স্প্রে পর্যন্ত। স্প্রে শ্বাসের সাথে টেনে নেওয়া যাবে না।
সাধারণত কম মাত্রায় (যেমন ২.৫-২.৬ মি.গ্রা.) দিনে একবার বা দুইবার শুরু করে চিকিৎসক কর্তৃক ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়, সহনশীলতা কমাতে প্রতিদিন ১০-১২ ঘণ্টার নাইট্রেট-মুক্ত বিরতি রাখতে হয়। পুরো গিলে ফেলতে হবে; চিবানো বা গুঁড়ো করা যাবে না।
ত্বকের পরিষ্কার, লোমহীন স্থানে দিনে একবার লাগাতে হয়, ১২-১৪ ঘণ্টা রাখার পর খুলে ফেলে নাইট্রেট-মুক্ত বিরতি (সাধারণত রাতে) রাখতে হয়। মাত্রা চিকিৎসক নির্ধারণ করেন।
চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী পরিমাপ করে ত্বকে প্রয়োগ করতে হয়, একই ধরনের নাইট্রেট-মুক্ত বিরতি কৌশল অনুসরণ করে।
প্রশিক্ষিত চিকিৎসা কর্মীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ননি-PVC অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সেট দিয়ে ধারাবাহিক IV ইনফিউশন হিসেবে দেওয়া হয়, রোগীর ক্লিনিক্যাল সাড়া অনুযায়ী মাত্রা সমন্বয় করা হয়।
সাবলিঙ্গুয়াল/স্প্রে Nitrin SR-এর প্রথম মাত্রা নেওয়ার সময় রক্তচাপ হঠাৎ কমে মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার ঝুঁকি কমাতে বসে থাকা উচিত।
Nitrin SR-এর সাথে PDE5 ইনহিবিটর (সিলডেনাফিল, টাডালাফিল, ভারডেনাফিল) একসাথে ব্যবহার করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ, কারণ এতে তীব্র, প্রাণঘাতী হাইপোটেনশনের ঝুঁকি থাকে। বিস্তারিত জানতে দেখুন প্রতিনির্দেশনা।
রিওসিগুয়াটের সাথে একসাথে ব্যবহারও একই কারণে (তীব্র হাইপোটেনশন) নিষিদ্ধ। দেখুন প্রতিনির্দেশনা।
Nitroglycerin নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ:
Nitrin SR-এর সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলো মাথাব্যথা, যা প্রায়ই চিকিৎসা শুরুর সময় বেশি দেখা যায় এবং সাধারণত ব্যবহার চালিয়ে গেলে কমে আসে; এটি ওষুধের ভাসোডাইলেটিং কার্যকারিতার একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া এবং সাধারণত হালকা ব্যথানাশক দিয়ে সামলানো যায়, চিকিৎসা বন্ধ করার প্রয়োজন হয় না (তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন)।
Nitrin SR সেবনের পরও তীব্র মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হওয়া, বা বুকের ব্যথা না কমলে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নিন।
গর্ভাবস্থায় Nitrin SR শুধুমাত্র স্পষ্টভাবে প্রয়োজন হলে এবং সম্ভাব্য উপকারিতা ভ্রূণের সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলে ব্যবহার করা উচিত; মানবদেহে তথ্য সীমিত, তবে প্রাণীদের উপর গবেষণায় প্রাসঙ্গিক মাত্রায় স্পষ্ট ভ্রূণ ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের আগে সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Nitrin SR মানুষের বুকের দুধে প্রবেশ করে কিনা তা জানা নেই। সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং শিশুর প্রতি সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করে স্তন্যদানকালে ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
Nitrin SR চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে। মূল সতর্কতাগুলো হলো:
Nitrin SR-এর মাত্রাধিক্যতায় তীব্র হাইপোটেনশন, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বুক ধড়ফড়, দৃষ্টি সমস্যা, বিভ্রান্তি এবং গুরুতর ক্ষেত্রে মেথেমোগ্লোবিনেমিয়া (যা সায়ানোসিস ও শ্বাসকষ্ট সৃষ্টি করতে পারে), সার্কুলেটরি কোলাপস এবং মৃত্যু ঘটতে পারে।
মাত্রাধিক্যতার সন্দেহ হলে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিন বা তাৎক্ষণিকভাবে বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। বাড়িতে নিজে মাত্রাধিক্যতা সামলানোর চেষ্টা করবেন না। জরুরি চিকিৎসা শুধুমাত্র প্রশিক্ষিত চিকিৎসা কর্মীদের দ্বারা প্রদান করা উচিত (যেমন সঠিক অবস্থানে রাখা, অক্সিজেন, তরল সহায়তা, এবং প্রয়োজনে মেথেমোগ্লোবিনেমিয়ার নির্দিষ্ট প্রতিষেধক চিকিৎসা)।
Nitrin SR সাবলিঙ্গুয়াল ট্যাবলেট মূল কাচের পাত্রে, শক্ত করে ঢাকনা আটকানো অবস্থায়, আলো, তাপ ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন, কারণ বাতাসের সংস্পর্শে বা প্লাস্টিকের পাত্রে রাখলে কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। অন্যান্য ফর্ম (স্প্রে, প্যাচ, এক্সটেন্ডেড-রিলিজ ট্যাবলেট, অয়েন্টমেন্ট) সাধারণত ঘরের তাপমাত্রায় (৩০°C-এর নিচে), আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করতে হবে। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ট্রান্সডার্মাল প্যাচ বা স্প্রে ক্যানিস্টার ছিদ্র করা, পোড়ানো বা আগুনের কাছে রাখা যাবে না।
শিশুদের ক্ষেত্রে Nitrin SR-এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা সুপ্রতিষ্ঠিত নয়; শিশুদের মধ্যে এনজাইনা বিরল হওয়ায় ব্যবহার সাধারণত নির্দিষ্ট হাসপাতাল সেটিংয়ে (যেমন পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ারে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে IV প্রয়োগ) সীমাবদ্ধ থাকে এবং শুধুমাত্র চিকিৎসকের নিবিড় নির্দেশনায় করা উচিত।
বয়স্ক রোগীরা Nitrin SR-এর হাইপোটেনসিভ প্রভাবের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হতে পারেন এবং মাথা ঘোরার কারণে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে; মাত্রার নিম্ন সীমা থেকে শুরু করে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন।
কিডনির সমস্যায় সুনির্দিষ্ট মাত্রা সমন্বয়ের সুপ্রতিষ্ঠিত নিয়ম নেই, তবে সতর্কতার সাথে ব্যবহার ও রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। Nitrin SR যকৃতে ব্যাপকভাবে বিপাকিত হয় বলে যকৃতের উল্লেখযোগ্য সমস্যাযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ওষুধের মাত্রা পরিবর্তিত হতে পারে; চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন।
Q: Nitrin SR 2.6 mg Tablet কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
A: করোনারি আর্টারি ডিজিজের কারণে হৃদপিণ্ডে রক্তপ্রবাহ কমে গিয়ে যে এনজাইনা (বুকে ব্যথা) হয়, তা উপশম ও প্রতিরোধে Nitrin SR 2.6 mg Tablet ব্যবহৃত হয়। এটি রক্তনালী শিথিল ও প্রসারিত করে হৃদপিণ্ডের কাজের চাপ কমায় এবং রক্তপ্রবাহ বাড়ায়।
Q: বুকে ব্যথায় Nitrin SR 2.6 mg Tablet কত দ্রুত কাজ করে?
A: সাবলিঙ্গুয়াল (জিহ্বার নিচে) ট্যাবলেট ও স্প্রে ফর্মের Nitrin SR 2.6 mg Tablet সাধারণত ১-৩ মিনিটের মধ্যে কাজ শুরু করে। প্রথম মাত্রার পরও ব্যথা না কমলে ৫ মিনিট পর দ্বিতীয় মাত্রা নেওয়া যেতে পারে (১৫ মিনিটে সর্বোচ্চ ৩টি মাত্রা), এবং ব্যথা অব্যাহত থাকলে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিতে হবে।
Q: সিলডেনাফিল, টাডালাফিল বা ভারডেনাফিলের সাথে Nitrin SR 2.6 mg Tablet কেন এড়িয়ে চলতে হবে?
A: Nitrin SR 2.6 mg Tablet-এর সাথে সাধারণত ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা পালমোনারি হাইপারটেনশনে ব্যবহৃত PDE5 ইনহিবিটর যেমন সিলডেনাফিল, টাডালাফিল বা ভারডেনাফিল একসাথে নিলে তীব্র, প্রাণঘাতী মাত্রায় রক্তচাপ কমে যেতে পারে। এই সংমিশ্রণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ; Nitrin SR 2.6 mg Tablet শুরু করার আগে এসব ওষুধ ব্যবহারের কথা চিকিৎসককে জানান।
Q: Nitrin SR 2.6 mg Tablet সেবনে মাথাব্যথা হয় কেন?
A: Nitrin SR 2.6 mg Tablet রক্তনালী প্রসারিত করে বলে মাথাব্যথা এর একটি খুবই সাধারণ ও প্রত্যাশিত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, যার মধ্যে মাথার রক্তনালীও অন্তর্ভুক্ত। ব্যবহার চালিয়ে গেলে এটি প্রায়ই কমে আসে; হালকা ব্যথানাশক সাহায্য করতে পারে, তবে মাথাব্যথা তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Q: গর্ভাবস্থায় Nitrin SR 2.6 mg Tablet ব্যবহার কি নিরাপদ?
A: গর্ভাবস্থায় Nitrin SR 2.6 mg Tablet শুধুমাত্র স্পষ্টভাবে প্রয়োজন হলে এবং সম্ভাব্য উপকারিতা ভ্রূণের সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলে ব্যবহার করা উচিত। তথ্য সীমিত, তাই গর্ভবতী বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা করলে Nitrin SR 2.6 mg Tablet ব্যবহারের আগে সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Q: প্রতিদিন "নাইট্রেট-মুক্ত" বিরতি রাখতে বলা হয় কেন?
A: দীর্ঘ-কার্যকরী Nitrin SR 2.6 mg Tablet (প্যাচ বা এক্সটেন্ডেড-রিলিজ ট্যাবলেট) ক্রমাগত ব্যবহারে শরীরে সহনশীলতা তৈরি হতে পারে, যার ফলে ওষুধের কার্যকারিতা কমে যায়। প্রতিদিন প্রায় ১০-১৪ ঘণ্টার নাইট্রেট-মুক্ত বিরতি (প্রায়ই রাতে) Nitrin SR 2.6 mg Tablet-এর কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে; চিকিৎসকের নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
ডিসক্লেইমার
এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।