Product gallery
MRP ৩৬০.০০% ডিস্কাউন্ট
Best PriceTk ৩৩১.২০/10's Strip
Section

বিকল্প

Price
Section

Medicine overview

নির্দেশনা

Oxycol একটি প্রাকৃতিক পিত্ত অ্যাসিড, যা নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়:

  • পিত্তথলির পাথর দ্রবীভূতকরণ: যেসব রোগীর অস্ত্রোপচার (cholecystectomy) সম্ভব নয় বা বিলম্বিত করা হচ্ছে, তাদের ছোট থেকে মাঝারি আকারের রেডিওলুসেন্ট (নন-ক্যালসিফাইড) পিত্তথলির পাথর দ্রবীভূত করতে Oxycol ব্যবহৃত হয়।
  • দ্রুত ওজন হ্রাসের সময় পাথর প্রতিরোধ: বেরিয়াট্রিক সার্জারি বা অতি-স্বল্প ক্যালরির ডায়েটের মতো দ্রুত ওজন হ্রাসের সময় নতুন পিত্তথলির পাথর তৈরি রোধে Oxycol ব্যবহৃত হয়।
  • প্রাইমারি বিলিয়ারি কোলাঞ্জাইটিস (PBC): এই দীর্ঘমেয়াদী লিভার রোগে রোগের অগ্রগতি ধীর করতে এবং লিভারের কার্যক্রম উন্নত করতে Oxycol ব্যবহৃত হয়।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অন্যান্য কোলেস্ট্যাটিক লিভার সমস্যাতেও Oxycol ব্যবহার করা হতে পারে। প্রয়োজন না হলে অস্ত্রোপচারের বিকল্প হিসেবে Oxycol ব্যবহার করা উচিত নয়।

থেরাপিউটিক ক্লাস

পিত্ত অ্যাসিড প্রস্তুতি / হেপাটোবিলিয়ারি ও গলস্টোন-দ্রবীভূতকারী ওষুধ

ফার্মাকোলজি

Ursodeoxycholic Acid একটি প্রাকৃতিক হাইড্রোফিলিক পিত্ত অ্যাসিড, যা নিম্নোক্ত উপায়ে কাজ করে:

  • লিভারে কোলেস্টেরল সংশ্লেষণ ও পিত্তে কোলেস্টেরল নিঃসরণ হ্রাস করে এবং অন্ত্র থেকে কোলেস্টেরল শোষণ কমায়, ফলে পিত্তের কোলেস্টেরল স্যাচুরেশন কমে।
  • পাথরের পৃষ্ঠ থেকে ধীরে ধীরে কোলেস্টেরল দ্রবীভূত করতে সহায়ক একটি লিকুইড ক্রিস্টালাইন দশা তৈরি করে।
  • শরীরের নিজস্ব ক্ষতিকর, বেশি হাইড্রোফোবিক পিত্ত অ্যাসিডগুলোর স্থান দখল করে লিভার ও পিত্তনালীর কোষের ক্ষতি কমায়।
  • লিভার কোষে প্রদাহ-বিরোধী ও ইমিউনোমডুলেটরি প্রভাব ফেলে, যা PBC-এর মতো কোলেস্ট্যাটিক লিভার রোগে উপকারী।

Ursodeoxycholic Acid দিয়ে পাথর দ্রবীভূত হতে সাধারণত কয়েক মাস সময় লাগে এবং চিকিৎসক পর্যায়ক্রমে আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন।

মাত্রা ও সেবনবিধি

Oxycol-এর মাত্রা রোগের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হয় এবং সাধারণত শরীরের ওজন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। চূড়ান্ত মাত্রা ও মেয়াদ চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।

পিত্তথলির পাথর দ্রবীভূতকরণ: প্রতিদিন প্রায় ৮-১০ মি.গ্রা./কেজি, ২-৩টি বিভক্ত মাত্রায়, খাবারের সাথে সেবন করতে হয়। প্রতি ৬ মাস অন্তর আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।

দ্রুত ওজন হ্রাসের সময় পাথর প্রতিরোধ: প্রতিদিন ৬০০ মি.গ্রা. (৩০০ মি.গ্রা. দুইবার), ওজন হ্রাস কর্মসূচি শুরু থেকে চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী চলমান রাখতে হয়।

প্রাইমারি বিলিয়ারি কোলাঞ্জাইটিস (PBC): প্রতিদিন প্রায় ১৩-১৫ মি.গ্রা./কেজি, ২-৪টি বিভক্ত মাত্রায়; সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী বা আজীবন চিকিৎসা হিসেবে চলে।

ট্যাবলেট/ক্যাপসুল পুরোটা পানির সাথে গিলে ফেলতে হবে। অ্যালুমিনিয়াম-যুক্ত অ্যান্টাসিড বা cholestyramine/colestipol-এর মতো বাইল অ্যাসিড-বাইন্ডিং রেজিন থেকে Oxycol অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধানে সেবন করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মাত্রা পরিবর্তন বা ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

  • বাইল অ্যাসিড-বাইন্ডিং রেজিন (cholestyramine, colestipol) এবং অ্যালুমিনিয়াম-যুক্ত অ্যান্টাসিড Oxycol-এর শোষণ কমিয়ে এর কার্যকারিতা হ্রাস করতে পারে — এগুলো Oxycol থেকে অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধানে সেবন করতে হবে।
  • ইস্ট্রোজেন ও ইস্ট্রোজেনযুক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি পিত্তে কোলেস্টেরল নিঃসরণ বাড়িয়ে Oxycol-এর পাথর-দ্রবীভূতকরণ প্রভাব কমাতে পারে।
  • Clofibrate ও অনুরূপ লিপিড-হ্রাসকারী ওষুধ একইভাবে Oxycol-এর কার্যকারিতা কমাতে পারে।

Oxycol শুরু করার আগে সেবনরত সকল ওষুধ ও সাপ্লিমেন্টের কথা চিকিৎসককে জানান।

প্রতিনির্দেশনা

  • Ursodeoxycholic Acid বা অন্য কোনো পিত্ত অ্যাসিডের প্রতি অতি সংবেদনশীলতা।
  • ক্যালসিফাইড (রেডিওপ্যাক) পিত্তথলির পাথর — এক্ষেত্রে Ursodeoxycholic Acid কার্যকর নয়।
  • একিউট কোলিসিস্টাইটিস (Acute cholecystitis)।
  • একিউট কোলাঞ্জাইটিস (Acute cholangitis)।
  • পিত্তনালীর বাধা (Biliary obstruction)।
  • গলস্টোন প্যানক্রিয়াটাইটিস।
  • যেসব রোগীর তাৎক্ষণিক অস্ত্রোপচার প্রয়োজন।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

Oxycol সাধারণত ভালোভাবে সহনীয়। রিপোর্ট করা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • সাধারণ: ডায়রিয়া (সবচেয়ে বেশি দেখা যায়), পেটে ব্যথা, বদহজম, বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা।
  • কম সাধারণ: কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, চুল পাতলা হওয়া, র‍্যাশ, চুলকানি।
  • বিরল: পাথরে ক্যালসিয়াম জমা হওয়া, এবং PBC রোগীদের কিছু ক্ষেত্রে লিভার ফাংশন টেস্টের মান সাময়িকভাবে খারাপ হওয়া — এজন্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

Oxycol সেবনকালে পেটে ব্যথা বৃদ্ধি, জন্ডিস, বা গাঢ় রঙের প্রস্রাব দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থায় Oxycol ব্যবহারের তথ্য সীমিত, তাই সাধারণভাবে নিয়মিত ব্যবহারের সুপারিশ করা হয় না। চিকিৎসক সম্ভাব্য উপকারিতা ও ঝুঁকি বিবেচনা করে প্রয়োজন মনে করলেই কেবল গর্ভাবস্থায় Oxycol ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেবেন।

বুকের দুধে Oxycol কতটা নিঃসৃত হয় তা সম্পূর্ণভাবে জানা নেই, তবে উপলব্ধ তথ্যে শিশুর ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। স্তন্যদানকালে Oxycol ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সতর্কতা

  • Oxycol ক্যালসিফাইড বা পিগমেন্ট পাথরের ক্ষেত্রে কার্যকর নয়; চিকিৎসা শুরুর আগে আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে পাথরের ধরন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
  • দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার সময়, বিশেষত PBC রোগীদের ক্ষেত্রে, নিয়মিত লিভার ফাংশন টেস্ট করা উচিত।
  • পাথর দ্রবীভূতকরণের ক্ষেত্রে নিয়মিত আল্ট্রাসনোগ্রাফি (সাধারণত প্রতি ৬ মাসে) করে অগ্রগতি যাচাই করা হয়।
  • Oxycol বন্ধ করার পরও পাথর পুনরায় হতে পারে; দীর্ঘমেয়াদী ফলো-আপ প্রয়োজন হতে পারে।
  • বিরল ক্ষেত্রে অন্ত্রে বেজোয়ার/এন্টেরোলিথ তৈরি হতে পারে, বিশেষত অন্ত্রের সংকীর্ণতা বা স্থবিরতাজনিত সমস্যা থাকলে — নতুন পেটের উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসককে জানান।

আরও তথ্যের জন্য "প্রতিনির্দেশনা", "ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া" এবং "গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে" অংশ দেখুন।

মাত্রাধিক্যতা

Oxycol-এর অতিরিক্ত মাত্রা সেবনের ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা সীমিত। এর ফার্মাকোলজি অনুযায়ী, অতিরিক্ত মাত্রায় সেবন করলে পানির মতো পাতলা ডায়রিয়া হতে পারে, যা ওষুধ বন্ধ করার পর সাধারণত নিজে থেকেই কমে যায়। এর নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক (antidote) নেই। Oxycol অতিরিক্ত মাত্রায় সেবনের সন্দেহ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন বা নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন; চিকিৎসা মূলত উপসর্গ অনুযায়ী সহায়ক পদ্ধতিতে করা হয়।

সংরক্ষণ

৩০°C-এর নিচে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার

শিশুদের ক্ষেত্রে: সাধারণ প্রাপ্তবয়স্ক নির্দেশনার জন্য Oxycol শিশুদের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নয়। তবে বিশেষজ্ঞ শিশু লিভার/গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টের তত্ত্বাবধানে কিছু শিশু কোলেস্ট্যাটিক লিভার সমস্যায় Oxycol off-label ব্যবহৃত হয়ে থাকে, ওজন অনুযায়ী মাত্রা নির্ধারণ করে এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে।

বয়স্কদের ক্ষেত্রে: বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে Oxycol-এর নিরাপত্তা বা কার্যকারিতায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়নি, তবে সহ-অসুস্থতা ও অন্যান্য ওষুধ বিবেচনা করে মাত্রা নির্ধারণ করা উচিত।

লিভার/কিডনি সমস্যায়: লিভারের নির্দিষ্ট কোলেস্ট্যাটিক সমস্যায় Oxycol ব্যবহৃত হয়, তবে সব ধরনের লিভার রোগে নয়; বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত লিভার ফাংশন পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। উল্লেখযোগ্য কিডনি সমস্যায় সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

Q: ১. Oxycol 300 mg Tablet কী কাজে ব্যবহৃত হয়?

A: যেসব রোগীর গলব্লাডার অস্ত্রোপচার সম্ভব নয় বা বিলম্বিত করা হচ্ছে তাদের ছোট থেকে মাঝারি আকারের কোলেস্টেরল (নন-ক্যালসিফাইড) পিত্তথলির পাথর দ্রবীভূত করতে, দ্রুত ওজন হ্রাসের সময় নতুন পাথর প্রতিরোধ করতে, এবং প্রাইমারি বিলিয়ারি কোলাঞ্জাইটিস (PBC) নামক দীর্ঘমেয়াদী লিভার রোগের চিকিৎসায় Oxycol 300 mg Tablet ব্যবহৃত হয়।

Q: ২. Oxycol 300 mg Tablet দিয়ে পাথর দ্রবীভূত হতে কতদিন সময় লাগে?

A: সাধারণত কয়েক মাস থেকে প্রায় ২ বছর পর্যন্ত ধারাবাহিক চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসক নিয়মিত (সাধারণত প্রতি ৬ মাসে) আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে অগ্রগতি যাচাই করেন।

Q: ৩. Oxycol 300 mg Tablet-এর সাথে কি অ্যান্টাসিড খাওয়া যাবে?

A: অ্যালুমিনিয়াম-যুক্ত অ্যান্টাসিড Oxycol 300 mg Tablet-এর শোষণ কমিয়ে দিতে পারে। দুটো ওষুধ একসাথে প্রয়োজন হলে অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধানে সেবন করুন।

Q: ৪. গর্ভাবস্থায় Oxycol 300 mg Tablet কি নিরাপদ?

A: গর্ভাবস্থায় Oxycol 300 mg Tablet ব্যবহারের তথ্য সীমিত এবং সাধারণত নিয়মিত ব্যবহারের সুপারিশ করা হয় না। গর্ভবতী বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা করছেন এমন হলে ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Q: ৫. Oxycol 300 mg Tablet-এর সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কী কী?

A: সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলো ডায়রিয়া। এছাড়া পেটে ব্যথা, বদহজম, বমি বমি ভাব এবং মাথাব্যথাও হতে পারে। বেশিরভাগ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মৃদু হয়; পেটে তীব্র ব্যথা, জন্ডিস বা গাঢ় প্রস্রাব দেখা দিলে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।

Q: ৬. Oxycol 300 mg Tablet বন্ধ করার পর কি পাথর আবার হতে পারে?

A: হ্যাঁ, কিছু রোগীর ক্ষেত্রে Oxycol 300 mg Tablet বন্ধ করার পর পাথর পুনরায় দেখা দিতে পারে। এজন্য চিকিৎসক নিয়মিত ফলো-আপ আল্ট্রাসনোগ্রাফি বা কিছু ক্ষেত্রে স্বল্প মাত্রায় দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন।

ডিসক্লেইমার

এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।

Doctor