
Pregaba150 mg
Opsonin Pharma Ltd.

Pegalin নিম্নলিখিত অবস্থাগুলোর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়:
Pegalin সবসময় একজন যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে।
Pegalin একটি গ্যাবাপেন্টিনয়েড শ্রেণীর ওষুধ, যা এন্টিকনভালসেন্ট (মৃগীরোগ প্রতিরোধী) এবং স্নায়বিক ব্যথা নিরাময়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এটি অপব্যবহারের ঝুঁকির কারণে শিডিউল V নিয়ন্ত্রিত পদার্থ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ।
Pregabalin কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ভোল্টেজ-গেটেড ক্যালসিয়াম চ্যানেলের আলফা-২-ডেল্টা (α2δ) সাবইউনিট-এর সাথে উচ্চ আসক্তিতে যুক্ত হয়। এর ফলে স্নায়ু প্রান্তে ক্যালসিয়ামের প্রবাহ কমে যায়, যা গ্লুটামেট, নরএপিনেফ্রিন এবং সাবস্ট্যান্স পি-এর মতো উত্তেজক নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসরণ কমিয়ে দেয়।
গঠনগতভাবে GABA-এর সাথে সম্পর্কিত হলেও, Pregabalin সরাসরি GABA রিসেপ্টরে যুক্ত হয় না। এর ফলে ব্যথা-নাশক ও এন্টিকনভালসেন্ট প্রভাব সৃষ্টি হয় স্নায়ু কোষের অতি-উত্তেজনা হ্রাসের মাধ্যমে।
ফার্মাকোকাইনেটিক্স: Pregabalin দ্রুত শোষিত হয়, প্লাজমা প্রোটিনের সাথে সামান্য পরিমাণে যুক্ত হয়, যকৃতে সামান্যই বিপাক হয়, এবং প্রধানত কিডনির মাধ্যমে অপরিবর্তিত অবস্থায় নির্গত হয়। এর অর্ধায়ু প্রায় ৬ ঘণ্টা, তাই কিডনি সমস্যা থাকলে মাত্রা সমন্বয় প্রয়োজন (মাত্রা ও সেবনবিধি দেখুন)।
Pegalin-এর মাত্রা রোগের ধরন, কিডনির কার্যক্ষমতা এবং রোগীর সাড়া অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। মাথা ঘোরা ও ঘুম ঘুম ভাব এড়াতে মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়।
| ইঙ্গিত | শুরুর মাত্রা | বৃদ্ধি | সর্বোচ্চ মাত্রা |
|---|---|---|---|
| ডায়াবেটিক পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি | ৫০ মি.গ্রা. দিনে ৩ বার (১৫০ মি.গ্রা./দিন) | ১ সপ্তাহের মধ্যে ১০০ মি.গ্রা. দিনে ৩ বার পর্যন্ত বাড়ানো যায় | ৩০০ মি.গ্রা./দিন |
| পোস্ট-হার্পেটিক নিউরালজিয়া | ৭৫ মি.গ্রা. দিনে ২ বার বা ৫০ মি.গ্রা. দিনে ৩ বার (১৫০ মি.গ্রা./দিন) | ১ সপ্তাহে ৩০০ মি.গ্রা./দিন; প্রয়োজনে ও সহনীয় হলে ২-৪ সপ্তাহ পর ৬০০ মি.গ্রা./দিন পর্যন্ত | ৬০০ মি.গ্রা./দিন |
| ফাইব্রোমায়ালজিয়া | ৭৫ মি.গ্রা. দিনে ২ বার (১৫০ মি.গ্রা./দিন) | ১ সপ্তাহে ১৫০ মি.গ্রা. দিনে ২ বার; প্রয়োজনে ২২৫ মি.গ্রা. দিনে ২ বার | ৪৫০ মি.গ্রা./দিন |
| খিঁচুনির সহযোগী চিকিৎসা (প্রাপ্তবয়স্ক) | ১৫০ মি.গ্রা./দিন, ২-৩ ভাগে বিভক্ত | সাড়া ও সহনশীলতা অনুযায়ী সাপ্তাহিক বৃদ্ধি | ৬০০ মি.গ্রা./দিন |
| স্পাইনাল কর্ড ইনজুরিজনিত স্নায়বিক ব্যথা | ৭৫ মি.গ্রা. দিনে ২ বার (১৫০ মি.গ্রা./দিন) | ১ সপ্তাহে ১৫০ মি.গ্রা. দিনে ২ বার; প্রয়োজনে ২-৩ সপ্তাহ পর ৩০০ মি.গ্রা. দিনে ২ বার | ৬০০ মি.গ্রা./দিন |
ওজন অনুযায়ী মাত্রা নির্ধারিত হয় (প্রায় ৩.৫-১৪ মি.গ্রা./কেজি/দিন, বয়স ও ওজন অনুসারে), যা কম মাত্রায় শুরু করে ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়। অন্য ইঙ্গিতে (স্নায়বিক ব্যথা, ফাইব্রোমায়ালজিয়া) ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
| ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স | মাত্রা সমন্বয় |
|---|---|
| ≥৬০ মিলি/মিনিট | সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই |
| ৩০-৬০ মিলি/মিনিট | মোট দৈনিক মাত্রা প্রায় ৫০% কমাতে হবে |
| ১৫-৩০ মিলি/মিনিট | মোট দৈনিক মাত্রা প্রায় ৭৫% কমাতে হবে |
| <১৫ মিলি/মিনিট | মোট দৈনিক মাত্রা প্রায় ৮৭.৫% কমাতে হবে (সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রা) |
| হিমোডায়ালাইসিস | প্রতি ৪ ঘণ্টার ডায়ালাইসিস সেশনের পর অতিরিক্ত মাত্রা |
এক্সটেন্ডেড-রিলিজ Pegalin ৩০ মিলি/মিনিটের কম CrCl-এ প্রস্তাবিত নয়। যকৃতের সমস্যায় মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই, কারণ Pegalin যকৃতে খুব সামান্যই বিপাক হয়।
Pegalin বন্ধ করার প্রয়োজন হলে হঠাৎ না করে অন্তত ১ সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে মাত্রা কমাতে হবে (সতর্কতা দেখুন)।
Pegalin-এর সাথে ক্লিনিক্যালি গুরুত্বপূর্ণ মিথষ্ক্রিয়াসমূহ:
Pegalin প্লাজমা প্রোটিনের সাথে উল্লেখযোগ্যভাবে যুক্ত হয় না এবং যকৃতে সামান্যই বিপাক হয়, তাই এর কোনো উল্লেখযোগ্য ফার্মাকোকাইনেটিক ওষুধ-ওষুধ মিথষ্ক্রিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
Pregabalin ঐ সকল রোগীদের ক্ষেত্রে প্রতিনির্দেশিত যাদের Pregabalin বা এর যেকোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতার (hypersensitivity) ইতিহাস রয়েছে — এতে এনজিওএডিমা এবং সাধারণ অতিসংবেদনশীলতা প্রতিক্রিয়া (যেমন শ্বাসকষ্ট, শ্বাসনালীতে শব্দ, ফুসকুড়ি) অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
Pegalin-এর সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া (১০ জনের মধ্যে ১ জনের বেশি হতে পারে):
কম সাধারণ কিন্তু গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া — এগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:
গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় Pegalin ব্যবহারের মানব তথ্য সীমিত। প্রাণী গবেষণায় প্রাসঙ্গিক মাত্রায় বিকাশজনিত ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। Pegalin গর্ভাবস্থায় শুধুমাত্র স্পষ্ট প্রয়োজন হলে এবং মায়ের সম্ভাব্য উপকারিতা ভ্রূণের সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলে ব্যবহার করা উচিত। গর্ভাবস্থায় Pegalin সেবনকারী রোগীদের অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয় (সতর্কতা অংশে হঠাৎ বন্ধ করার ঝুঁকি দেখুন)।
স্তন্যদান: Pegalin মায়ের বুকের দুধে নির্গত হয়। শিশুর উপর সম্ভাব্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার (যেমন ঝিমুনি, খাওয়ায় সমস্যা) কারণে, মায়ের চিকিৎসার গুরুত্ব বিবেচনা করে স্তন্যদান বন্ধ করবেন নাকি ওষুধ বন্ধ করবেন তা চিকিৎসকের পরামর্শে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
Pegalin সেবনের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত সতর্কতাগুলো অনুসরণ করতে হবে:
Pegalin-এর মাত্রাধিক্যতায় তীব্র ঘুম ঘুম ভাব, বিভ্রান্তি, অস্থিরতা এবং কম ক্ষেত্রে খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। Pegalin-এর মাত্রাধিক্যতার জন্য কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক (antidote) নেই।
Pegalin-এর মাত্রাধিক্যতা সন্দেহ হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন অথবা জরুরি সেবা/বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। চিকিৎসা সহায়ক ও লক্ষণভিত্তিক (শ্বাসনালী সুরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ পর্যবেক্ষণ)। কিডনি সমস্যাযুক্ত রোগীদের গুরুতর মাত্রাধিক্যতায় হিমোডায়ালাইসিসের মাধ্যমে Pegalin অপসারণ করা যেতে পারে। বাড়িতে নিজে থেকে মাত্রাধিক্যতা সামলানোর চেষ্টা করবেন না।
রুম তাপমাত্রায় (৩০°C-এর নিচে), আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
শিশুদের ক্ষেত্রে: Pegalin ১ মাস বা তার বেশি বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে আংশিক-সূচনার খিঁচুনির সহযোগী চিকিৎসা হিসেবে অনুমোদিত, ওজন অনুযায়ী মাত্রায় (মাত্রা ও সেবনবিধি দেখুন)। স্নায়বিক ব্যথা ও ফাইব্রোমায়ালজিয়ার ক্ষেত্রে ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। শিশুদের ক্ষুধা বৃদ্ধি, ওজন বৃদ্ধি ও আচরণগত পরিবর্তনের জন্য পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
বয়স্কদের ক্ষেত্রে: বয়সজনিত কিডনি কার্যক্ষমতা হ্রাসের কারণে বয়স্ক রোগীরা Pegalin-এর মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে এবং মাথা ঘোরা, ঘুম ঘুম ভাব, বিভ্রান্তি ও শোথের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হতে পারেন; কিডনির কার্যক্ষমতা অনুযায়ী সতর্কতার সাথে মাত্রা বাড়াতে হবে।
Q: Pegalin 150 mg Capsule কীসের জন্য ব্যবহৃত হয়?
A: Pegalin 150 mg Capsule ডায়াবেটিক পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি, পোস্ট-হার্পেটিক নিউরালজিয়া (হার্পিস পরবর্তী ব্যথা) এবং স্পাইনাল কর্ড ইনজুরিজনিত স্নায়বিক ব্যথা উপশমে, ফাইব্রোমায়ালজিয়া নিয়ন্ত্রণে, এবং অন্যান্য ওষুধের সাথে একত্রে আংশিক-সূচনার খিঁচুনির সহযোগী চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
Q: Pegalin 150 mg Capsule কাজ করতে কতদিন সময় লাগে?
A: কিছু রোগী প্রথম সপ্তাহেই ব্যথা কমার লক্ষণ অনুভব করেন, তবে Pegalin 150 mg Capsule-এর পূর্ণ উপকারিতা মূল্যায়নের জন্য সাধারণত কয়েক সপ্তাহ সর্বোত্তম মাত্রায় সেবন করতে হয়, কারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কমাতে মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়।
Q: আমি কি হঠাৎ Pegalin 150 mg Capsule বন্ধ করে দিতে পারি?
A: না। Pegalin 150 mg Capsule হঠাৎ বন্ধ করলে অনিদ্রা, বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা, উদ্বেগ ও ঘামের মতো প্রত্যাহার লক্ষণ দেখা দিতে পারে, এবং মৃগীরোগীদের ক্ষেত্রে এটি খিঁচুনি, এমনকি স্ট্যাটাস এপিলেপটিকাস পর্যন্ত ট্রিগার করতে পারে। সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শে অন্তত এক সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে মাত্রা কমান।
Q: Pegalin 150 mg Capsule কি অ্যালকোহল বা ওপিওয়েড ব্যথানাশকের সাথে নিরাপদ?
A: না, এই সংমিশ্রণ এড়িয়ে চলা উচিত। Pegalin 150 mg Capsule অ্যালকোহল, ওপিওয়েড, বেনজোডায়াজেপিন বা অন্যান্য সিডেটিভ ওষুধের সাথে নিলে বাড়তি ঝিমুনি, মাথা ঘোরা ও সমন্বয় সমস্যা হতে পারে, এবং ওপিওয়েডের সাথে একত্রে গুরুতর শ্বাসকষ্টের (রেসপিরেটরি ডিপ্রেশন) ঝুঁকি বিশেষভাবে বেড়ে যায়।
Q: গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে কি Pegalin 150 mg Capsule নেওয়া যাবে?
A: গর্ভাবস্থায় Pegalin 150 mg Capsule শুধুমাত্র স্পষ্ট প্রয়োজন হলেই ব্যবহার করা উচিত, কারণ মানব সুরক্ষা তথ্য সীমিত এবং প্রাণী গবেষণায় প্রাসঙ্গিক মাত্রায় ঝুঁকি পাওয়া গেছে; সম্ভাব্য উপকারিতা ভ্রূণের সম্ভাব্য ঝুঁকির বিপরীতে বিবেচনা করতে হবে। Pegalin 150 mg Capsule বুকের দুধেও প্রবেশ করে, তাই স্তন্যদান চালিয়ে যাবেন নাকি ওষুধ চালিয়ে যাবেন তা চিকিৎসকের সাহায্যে ঠিক করতে হবে। গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানকালে ব্যবহারের আগে সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Q: Pegalin 150 mg Capsule-এর সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কী কী?
A: সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলো মাথা ঘোরা, ঘুম ঘুম ভাব, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া, হাত-পা ফুলে যাওয়া এবং ওজন বৃদ্ধি। এগুলো তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন, এবং মুখ/গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক মেজাজ পরিবর্তন বা আত্মহত্যার চিন্তা দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসা সহায়তা নিন।
ডিসক্লেইমার
এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।