
Secnid DS1 gm
Square Pharmaceuticals PLC.

Pronil DS একটি নাইট্রোইমিডাজল গোত্রের অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল ঔষধ, যা প্রোটোজোয়া ও ব্যাকটেরিয়াজনিত কিছু সংক্রমণে ব্যবহৃত হয়।
Pronil DS-এর দীর্ঘ অর্ধায়ুর কারণে অনেক ক্ষেত্রে একক মাত্রায় কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব হয়, যা রোগীর সেবনবিধি মেনে চলাকে সহজ করে।
Pronil DS নাইট্রোইমিডাজল গোত্রের একটি দ্বিতীয় প্রজন্মের অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল ঔষধ, যা মেট্রোনিডাজল ও টিনিডাজলের সাথে গঠনগতভাবে সম্পর্কিত। এটি একটি অ্যান্টিপ্রোটোজোয়াল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ঔষধ, যা মূলত অ্যানএরোবিক ব্যাকটেরিয়া ও নির্দিষ্ট কিছু প্রোটোজোয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর।
Secnidazole সংবেদনশীল অ্যানএরোবিক ব্যাকটেরিয়া ও প্রোটোজোয়ার কোষে প্রবেশ করে। কোষের ভেতরে Secnidazole-এর নাইট্রো গ্রুপ বিজারিত হয়ে বিষাক্ত মুক্ত মূলক (free radical) তৈরি করে, যা জীবাণুর ডিএনএ-কে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং নিউক্লিক অ্যাসিড সংশ্লেষণ বন্ধ করে দেয়, ফলে জীবাণু মারা যায়।
ফার্মাকোকিনেটিক্স: মুখে সেবনের পর Secnidazole দ্রুত শোষিত হয়ে প্রায় ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে সর্বোচ্চ রক্তমাত্রায় পৌঁছায়। এর অর্ধায়ু প্রায় ১৭-২৯ ঘণ্টা (সাধারণত প্রায় ২০ ঘণ্টা বলা হয়), যার ফলে একক মাত্রার পরও প্রায় ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর রক্তমাত্রা বজায় থাকে।
Pronil DS-এর মাত্রা নির্দেশনা অনুযায়ী ভিন্ন হয়। চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী Pronil DS সম্পূর্ণ কোর্স সেবন করুন; চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মাঝপথে বন্ধ করবেন না, মাত্রা বাড়াবেন না, ডোজ বাদ দেবেন না, এবং অন্য কারো সাথে এই ঔষধ শেয়ার করবেন না।
| নির্দেশনা | প্রাপ্তবয়স্কদের মাত্রা | শিশুদের মাত্রা |
|---|---|---|
| ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস | একক ২ গ্রাম মুখে সেবন | ১২ বছরের নিচে প্রতিষ্ঠিত নয়; ১২-১৭ বছরে একক ২ গ্রাম |
| ট্রাইকোমোনিয়াসিস | একক ২ গ্রাম মুখে সেবন (সঙ্গীকেও একইসাথে চিকিৎসা) | ১২ বছরের নিচে প্রতিষ্ঠিত নয়; ১২-১৭ বছরে একক ২ গ্রাম |
| তীব্র অন্ত্রের অ্যামিবিয়াসিস | একক ২ গ্রাম মুখে সেবন | প্রায় ৩০ মি.গ্রা./কেজি একক মাত্রা |
| উপসর্গহীন অ্যামিবিয়াসিস | ২ গ্রাম দৈনিক, ৩ দিন | প্রায় ৩০ মি.গ্রা./কেজি দৈনিক, ৩ দিন |
| হেপাটিক অ্যামিবিয়াসিস | ১.৫ গ্রাম দৈনিক, ৫ দিন | প্রায় ৩০ মি.গ্রা./কেজি দৈনিক, ৫ দিন |
| জিয়ার্ডিয়াসিস | একক ২ গ্রাম মুখে সেবন | প্রায় ৩০-৫০ মি.গ্রা./কেজি একক মাত্রা |
সেবনবিধি: Pronil DS ট্যাবলেট সাধারণত খাবারের সাথে সেবন করলে পাকস্থলীর অস্বস্তি কম হয়। যদি Pronil DS গ্র্যানুল আকারে থাকে, তবে পুরো প্যাকেটের উপাদান নরম খাবারের (যেমন দই বা পুডিং) উপর ছিটিয়ে ৩০ মিনিটের মধ্যে না চিবিয়ে সেবন করতে হয়; তরলে মিশিয়ে খাওয়া যাবে না।
যকৃতের সমস্যা থাকলে: যেহেতু Pronil DS যকৃতে বিপাকিত হয়, উল্লেখযোগ্য যকৃতের সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শে মাত্রা কমানো বা সেবনের ব্যবধান বাড়ানো প্রয়োজন হতে পারে।
Pronil DS-এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও সুপ্রতিষ্ঠিত মিথষ্ক্রিয়া রয়েছে:
Secnidazole নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না:
Pronil DS-এর অধিকাংশ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মৃদু ও সাময়িক।
Pronil DS সেবনকালে তীব্র ত্বকীয় প্রতিক্রিয়া, স্থায়ী স্নায়বিক উপসর্গ, বা রক্তের সমস্যার (অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ, ঘন ঘন সংক্রমণ) লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিকে Pronil DS ব্যবহার নিষিদ্ধ। পরবর্তী ত্রৈমাসিকে মানব তথ্য সীমিত থাকায় Pronil DS কেবল স্পষ্ট প্রয়োজন হলে এবং সম্ভাব্য উপকারিতা ভ্রূণের ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত।
স্তন্যদান: Pronil DS বুকের দুধে নির্গত হয়। চিকিৎসাকালীন সাধারণত স্তন্যদান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়; একক মাত্রার Pronil DS সেবনের ক্ষেত্রে অনেক নির্দেশিকা সেবনের পর প্রায় ৯৬ ঘণ্টা (প্রায় ৪ দিন) স্তন্যদান বন্ধ রাখার পরামর্শ দেয়। স্তন্যদানের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
অ্যালকোহল: Pronil DS সেবনকালে এবং শেষ মাত্রার পর অন্তত ৩ দিন অ্যালকোহল পরিহার করুন, কারণ ডাইসালফিরাম-জাতীয় প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি রয়েছে (বিস্তারিত ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া অংশে দেখুন)।
রক্তের সমস্যা: রক্তের রোগের (blood dyscrasia) ইতিহাস থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে Pronil DS সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত; বারবার বা দীর্ঘমেয়াদী কোর্সে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।
স্নায়ুতন্ত্রের রোগ: মৃগীরোগসহ সক্রিয় কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে, বিশেষত উচ্চমাত্রা বা দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে, Pronil DS সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত।
যকৃতের সমস্যা: উল্লেখযোগ্য যকৃতের সমস্যায় Pronil DS-এর মাত্রা সমন্বয় (কম মাত্রা বা সেবনের ব্যবধান বাড়ানো) বিবেচনা করা উচিত (মাত্রা ও সেবনবিধি অংশ দেখুন)।
ইস্ট সংক্রমণ: ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস বা ট্রাইকোমোনিয়াসিসের চিকিৎসায় Pronil DS ব্যবহারে পরবর্তীতে ইস্ট সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
দীর্ঘমেয়াদী প্রাণী গবেষণা: Pronil DS-এর সাথে গঠনগতভাবে সম্পর্কিত নাইট্রোইমিডাজল যৌগে দীর্ঘমেয়াদী প্রাণী গবেষণায় কার্সিনোজেনিসিটি দেখা গেছে; একক মাত্রার ক্ষেত্রে মানবদেহে এর প্রভাব স্পষ্ট নয়, তাই অপ্রয়োজনীয় বা বারবার ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত।
যথাযথ ব্যবহার: চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী Pronil DS সেবন করুন; নিজে থেকে বন্ধ করবেন না, মাত্রা বাড়াবেন না, ডোজ বাদ দেবেন না, এবং অন্য কারো সাথে শেয়ার করবেন না। শুধুমাত্র প্রমাণিত বা সন্দেহভাজন সংবেদনশীল জীবাণুর সংক্রমণেই এটি ব্যবহার করুন।
Pronil DS-এর অতিরিক্ত মাত্রা গ্রহণ সংক্রান্ত ক্লিনিক্যাল তথ্য সীমিত। অতিরিক্ত মাত্রায় সাধারণত পরিচিত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলোই তীব্র আকারে দেখা দিতে পারে, যেমন তীব্র বমি বমি ভাব, বমি, পেটব্যথা, এবং স্নায়বিক উপসর্গ (যেমন ভারসাম্যহীনতা, মাথা ঘোরা বা অসাড়তা)।
Pronil DS-এর অতিরিক্ত মাত্রা সেবনের সন্দেহ হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের সহায়তা নিন বা জরুরি চিকিৎসা সেবা/বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। এর কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই; চিকিৎসা মূলত উপসর্গ অনুযায়ী সহায়ক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে করা হয়।
স্বাভাবিক তাপমাত্রায় (৩০°সে-এর নিচে), আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
শিশু: ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস ও ট্রাইকোমোনিয়াসিসের ক্ষেত্রে Pronil DS-এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা কেবল ১২ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের রোগীদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত; ১২ বছরের কম বয়সীদের জন্য এসব ক্ষেত্রে এটি প্রতিষ্ঠিত নয়। তবে অ্যামিবিয়াসিস ও জিয়ার্ডিয়াসিসের ক্ষেত্রে অনেক দেশে ওজন-ভিত্তিক মাত্রায় (প্রায় ৩০-৫০ মি.গ্রা./কেজি) Pronil DS চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে শিশুদের ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
বয়স্ক রোগী: ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের ক্ষেত্রে Pronil DS-এর তথ্য সীমিত; যকৃত ও কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত।
Q: Pronil DS 1 gm Tablet কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
A: Pronil DS 1 gm Tablet একটি নাইট্রোইমিডাজল অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল ঔষধ, যা ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস ও ট্রাইকোমোনিয়াসিস (সাধারণত একক মাত্রায়), এবং স্থানীয় অনুমোদন ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অন্ত্রের ও যকৃতের অ্যামিবিয়াসিস এবং জিয়ার্ডিয়াসিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
Q: Pronil DS 1 gm Tablet কীভাবে সেবন করতে হয়?
A: Pronil DS 1 gm Tablet সাধারণত একক মুখে সেবনযোগ্য মাত্রা হিসেবে দেওয়া হয়, তবে কিছু নির্দেশনায় (যেমন হেপাটিক বা উপসর্গহীন অ্যামিবিয়াসিস) ৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত দৈনিক সেবন প্রয়োজন হতে পারে। ট্যাবলেট সাধারণত খাবারের সাথে সেবন করা হয়, আর গ্র্যানুল হলে তা নরম খাবারের উপর ছিটিয়ে ৩০ মিনিটের মধ্যে না চিবিয়ে খেতে হয়। চিকিৎসকের নির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করুন।
Q: Pronil DS 1 gm Tablet সেবনকালে কি অ্যালকোহল পান করা যাবে?
A: না। Pronil DS 1 gm Tablet সেবনকালে এবং শেষ মাত্রার পর অন্তত ৩ দিন অ্যালকোহল পরিহার করা উচিত, কারণ একসাথে গ্রহণে ডাইসালফিরাম-জাতীয় প্রতিক্রিয়া (মুখ লাল হওয়া, বমি বমি ভাব, বমি, মাথাব্যথা) হতে পারে।
Q: গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানকালে Pronil DS 1 gm Tablet কি নিরাপদ?
A: গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিকে Pronil DS 1 gm Tablet ব্যবহার নিষিদ্ধ। পরবর্তী ত্রৈমাসিকে চিকিৎসকের পরামর্শে কেবল স্পষ্ট প্রয়োজন হলেই ব্যবহার করা উচিত, কারণ মানব তথ্য সীমিত। স্তন্যদানকালে সাধারণত এটি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়, এবং একক মাত্রার পর প্রায় ৯৬ ঘণ্টা স্তন্যদান বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে; সেবনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Q: Pronil DS 1 gm Tablet-এর সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কী কী?
A: Pronil DS 1 gm Tablet-এর সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বমি বমি ভাব, ধাতব স্বাদ, মাথাব্যথা, পেটে অস্বস্তি, এবং ইস্ট সংক্রমণ। কম সাধারণ প্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে আমবাত, মাথা ঘোরা, এবং সাময়িক শ্বেত রক্তকণিকা হ্রাস। দীর্ঘমেয়াদী বা উচ্চমাত্রার ব্যবহারে বিরল ক্ষেত্রে ভার্টিগো, ভারসাম্যহীনতা এবং হাত-পায়ে ঝিনঝিন/অসাড়তা দেখা দিতে পারে।
Q: কাদের Pronil DS 1 gm Tablet ব্যবহার করা উচিত নয়?
A: Pronil DS 1 gm Tablet বা অন্যান্য নাইট্রোইমিডাজল ঔষধের (যেমন মেট্রোনিডাজল, টিনিডাজল) প্রতি অতিসংবেদনশীলতা থাকলে, ককেন সিনড্রোম থাকলে, বা গর্ভাবস্থার প্রথম ত্রৈমাসিকে Pronil DS 1 gm Tablet ব্যবহার করা উচিত নয়। Pronil DS 1 gm Tablet শুরু করার আগে আপনার সম্পূর্ণ মেডিকেল ইতিহাস চিকিৎসককে জানান।
ডিসক্লেইমার
এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।