
Dialiptin50 mg
Drug International Ltd.

Vildus একটি ডাইপেপটিডাইল পেপটাইডেজ-৪ (DPP-4) ইনহিবিটর গোত্রের ওষুধ, যা খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের পাশাপাশি টাইপ ২ ডায়াবেটিস মেলিটাসের রক্তে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
Vildus টাইপ ১ ডায়াবেটিস মেলিটাস বা ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসের চিকিৎসার জন্য নির্দেশিত নয়।
Vildus একটি ডাইপেপটিডাইল পেপটাইডেজ-৪ (DPP-4) ইনহিবিটর শ্রেণির মুখে খাওয়ার অ্যান্টি-ডায়াবেটিক ওষুধ, যা “গ্লিপটিন” নামেও পরিচিত।
Vildagliptin DPP-4 নামক এনজাইমকে বাধা দেয়, যা GLP-1 এবং GIP নামক ইনক্রিটিন হরমোনগুলোকে দ্রুত ভেঙে ফেলার জন্য দায়ী। এই এনজাইম বাধাগ্রস্ত হলে ইনক্রিটিন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, যার ফলে অগ্ন্যাশয় থেকে গ্লুকোজ-নির্ভরশীলভাবে ইনসুলিন নিঃসরণ বৃদ্ধি পায় এবং গ্লুকাগন নিঃসরণ কমে যায়, ফলে লিভার থেকে অতিরিক্ত গ্লুকোজ উৎপাদন হ্রাস পায়।
মুখে সেবনের পর Vildagliptin দ্রুত শোষিত হয়, রক্তে সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছাতে প্রায় ১-২ ঘণ্টা সময় লাগে এবং জৈব-উপলভ্যতা প্রায় ৮৫%। এটি প্রধানত হাইড্রোলাইসিসের মাধ্যমে বিপাক হয় (সাইটোক্রোম P450 এনজাইমের উপর নির্ভরশীল নয়) এবং প্রায় ৮৫% প্রস্রাবে ও ১৫% মলে নির্গত হয়; অর্ধায়ু প্রায় ২-৩ ঘণ্টা।
Vildus ট্যাবলেট খাবারের সাথে অথবা খাবার ছাড়াই সেবন করা যায়।
| ব্যবহারবিধি | প্রস্তাবিত মাত্রা |
|---|---|
| একক থেরাপি, অথবা মেটফরমিন/থায়াজোলিডিনডাইওন/ইনসুলিনের সাথে সংযুক্ত | প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় ৫০ মিগ্রা করে দুইবার (মোট ১০০ মিগ্রা/দিন) |
| শুধু সালফোনাইলইউরিয়ার সাথে সংযুক্ত | প্রতিদিন সকালে একবার ৫০ মিগ্রা |
| মাঝারি থেকে তীব্র কিডনি সমস্যা বা শেষ পর্যায়ের কিডনি রোগ | প্রতিদিন একবার ৫০ মিগ্রা |
| লিভারের সমস্যা | প্রয়োগ করা যাবে না (প্রতিনির্দেশনা দেখুন) |
সর্বোচ্চ দৈনিক মাত্রা ১০০ মিগ্রা। কোনো মাত্রা বাদ পড়লে দ্বিগুণ মাত্রা না নিয়ে পরবর্তী নির্ধারিত সময়ে স্বাভাবিক মাত্রা সেবন করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে মাত্রা নির্ধারণ করা উচিত।
Vildus-এর ওষুধ-মিথষ্ক্রিয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ এটি সাইটোক্রোম P450 এনজাইমের উপর নির্ভরশীল নয়। নিচের মিথষ্ক্রিয়াগুলো ক্লিনিক্যালি গুরুত্বপূর্ণ:
মেটফরমিন, পিওগ্লিটাজোন, গ্লাইবুরাইড, ডিগক্সিন, ওয়ারফারিন, অ্যামলোডিপিন, রামিপ্রিল, ভালসারটান বা সিমভাস্ট্যাটিনের সাথে উল্লেখযোগ্য কোনো মিথষ্ক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রোগীর সেবনরত সকল ওষুধ ও ভেষজ সাপ্লিমেন্টের কথা চিকিৎসককে জানানো উচিত।
নিচের ক্ষেত্রে Vildagliptin ব্যবহার করা যাবে না:
Vildus-এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সাধারণত মৃদু ও সাময়িক হয়ে থাকে। সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলো নিচে দেওয়া হলো:
দীর্ঘস্থায়ী পেটে ব্যথা, ত্বক বা চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া, অস্বাভাবিক ক্লান্তি অথবা অজানা কারণে ত্বকে ফোসকা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
গর্ভাবস্থায় Vildus ব্যবহারের মানবদেহে তথ্য সীমিত। প্রাণী গবেষণায় উচ্চ মাত্রায় প্রজনন-সংক্রান্ত ক্ষতিকর প্রভাব দেখা গেছে। সতর্কতা হিসেবে, স্পষ্ট প্রয়োজন না হলে গর্ভাবস্থায় Vildus ব্যবহার করা উচিত নয়; রোগী গর্ভবতী হলে বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা করলে সাধারণত ইনসুলিন থেরাপি অগ্রাধিকার পায়, এবং চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে চিকিৎসা পরিকল্পনা পুনর্মূল্যায়ন করা উচিত।
Vildus মায়ের দুধে নির্গত হয় কিনা তা জানা নেই। শিশুর জন্য ঝুঁকি সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা যায় না বলে, স্তন্যদানকালে Vildus ব্যবহার করা উচিত নয়; উপযুক্ত বিকল্প চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
Vildus ব্যবহারে বিরল ক্ষেত্রে হেপাটাইটিসসহ লিভারের কার্যক্ষমতা হ্রাসের ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে। চিকিৎসা শুরুর আগে, প্রথম বছরে প্রতি তিন মাস অন্তর এবং তারপর পর্যায়ক্রমে লিভার ফাংশন টেস্ট করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ALT বা AST স্বাভাবিক মাত্রার ৩ গুণ বা তার বেশি (পুনরায় পরীক্ষায় নিশ্চিত) হলে অথবা জন্ডিস বা লিভারের কার্যক্ষমতা হ্রাসের অন্য লক্ষণ দেখা দিলে Vildus বন্ধ করে দিতে হবে এবং পুনরায় শুরু করা উচিত নয়।
Vildus ব্যবহারে তীব্র প্যানক্রিয়াটাইটিসের ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে। রোগীকে তীব্র, দীর্ঘস্থায়ী পেটে ব্যথার লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন করা উচিত। প্যানক্রিয়াটাইটিসের সন্দেহ হলে অবিলম্বে Vildus বন্ধ করতে হবে; নিশ্চিত হলে পুনরায় শুরু করা উচিত নয়।
বিরল ক্ষেত্রে ফোসকা ও খোসা ওঠা ত্বকের ক্ষত, যেমন বুলাস পেমফিগয়েড রিপোর্ট হয়েছে। কোনো ফোসকা বা ত্বকের ক্ষত দেখা দিলে তা জানানোর পরামর্শ দিতে হবে, এবং বুলাস পেমফিগয়েড সন্দেহ হলে Vildus বন্ধ করে দিতে হবে।
হৃদযন্ত্রের অকার্যকারিতায় আক্রান্ত রোগীদের Vildus ব্যবহারে সতর্কতা প্রয়োজন; NYHA শ্রেণি IV হৃদযন্ত্রের অকার্যকারিতায় এটি সুপারিশ করা হয় না। আগে থেকে হৃদযন্ত্রের সমস্যা থাকা রোগীদের পানি জমা বা লক্ষণ খারাপ হওয়ার জন্য পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
সালফোনাইলইউরিয়া বা ইনসুলিনের সাথে Vildus ব্যবহার করলে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি বাড়ে; সেক্ষেত্রে সালফোনাইলইউরিয়া বা ইনসুলিনের মাত্রা কমানোর প্রয়োজন হতে পারে (দেখুন ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া)।
মাঝারি থেকে তীব্র কিডনি সমস্যা এবং শেষ পর্যায়ের কিডনি রোগে মাত্রা সমন্বয় প্রয়োজন (দেখুন মাত্রা ও সেবনবিধি)। হালকা কিডনি সমস্যায় কোনো সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই।
Vildus-এর অতিরিক্ত মাত্রা সেবন সম্পর্কে তথ্য সীমিত। ক্লিনিক্যাল গবেষণায় ৪০০-৬০০ মিগ্রা মাত্রায় পেশিতে ব্যথা, মৃদু ও সাময়িক শিরশিরানি, জ্বর, পানি জমা এবং লাইপেজ ও ক্রিয়েটিন ফসফোকাইনেজের সাময়িক বৃদ্ধি দেখা গেছে, তবে অন্য কোনো গুরুতর প্রভাব পাওয়া যায়নি।
অতিরিক্ত মাত্রা সেবনের সন্দেহ হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন বা জরুরি চিকিৎসা সেবা/বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। চিকিৎসায় Vildus বন্ধ করে রোগীর লক্ষণ অনুযায়ী সহায়ক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ করা হয়; Vildus নিজে হেমোডায়ালাইসিসের মাধ্যমে কার্যকরভাবে অপসারণ করা যায় না, যদিও এর একটি প্রধান বিপাকীয় পদার্থ অপসারণযোগ্য। অতিরিক্ত মাত্রার ক্ষেত্রে নিজে থেকে কোনো ঘরোয়া চিকিৎসা নেওয়া উচিত নয়।
ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় (৩০°C এর নিচে), আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে, মূল প্যাকেটে সংরক্ষণ করুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
শুধু বয়সের কারণে সাধারণত মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন হয় না। ৭৫ বছর বা তার বেশি বয়সী রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত, কারণ এই গোষ্ঠীতে ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা সীমিত।
হালকা কিডনি সমস্যায় মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই। মাঝারি থেকে তীব্র কিডনি সমস্যা বা শেষ পর্যায়ের কিডনি রোগে দিনে একবার ৫০ মিগ্রা মাত্রা প্রস্তাবিত (দেখুন মাত্রা ও সেবনবিধি)।
লিভারের সমস্যাযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে, যাদের চিকিৎসা শুরুর আগে লিভার এনজাইম স্বাভাবিক মাত্রার ৩ গুণের বেশি, তাদের জন্য Vildus প্রতিনির্দেশিত (দেখুন প্রতিনির্দেশনা)।
১৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে Vildus ব্যবহারের সুপারিশ করা হয় না, কারণ এই বয়সসীমায় এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
Q: Vildus 50 mg Tablet কী কাজে ব্যবহৃত হয়?
A: Vildus 50 mg Tablet খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্কদের টাইপ ২ ডায়াবেটিস মেলিটাসে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি একা অথবা মেটফরমিন, সালফোনাইলইউরিয়া, থায়াজোলিডিনডাইওন বা ইনসুলিনের মতো অন্যান্য অ্যান্টি-ডায়াবেটিক ওষুধের সাথে ব্যবহার করা যায়।
Q: Vildus 50 mg Tablet কীভাবে সেবন করতে হয়?
A: সাধারণত Vildus 50 mg Tablet ৫০ মিগ্রা ট্যাবলেট দিনে একবার বা দুইবার, খাবারের সাথে বা ছাড়া, চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী সেবন করতে হয়। মাত্রা নির্ভর করে আপনি অন্য কোন ডায়াবেটিসের ওষুধ সেবন করছেন এবং আপনার কিডনির কার্যক্ষমতার উপর, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মাত্রা পরিবর্তন করবেন না।
Q: Vildus 50 mg Tablet কি রক্তে শর্করা কমিয়ে দিতে পারে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া)?
A: একা Vildus 50 mg Tablet ব্যবহারে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি কম। তবে সালফোনাইলইউরিয়া বা ইনসুলিনের সাথে ব্যবহার করলে রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, এবং চিকিৎসক সেসব ওষুধের মাত্রা কমাতে পারেন।
Q: গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে Vildus 50 mg Tablet কি নিরাপদ?
A: পর্যাপ্ত মানবদেহ নিরাপত্তা তথ্যের অভাবে গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে Vildus 50 mg Tablet সুপারিশ করা হয় না। আপনি গর্ভবতী হলে, গর্ভধারণের পরিকল্পনা করলে বা স্তন্যদান করালে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, যিনি সম্ভবত ইনসুলিনের মতো বিকল্প চিকিৎসা সুপারিশ করবেন।
Q: Vildus 50 mg Tablet সেবনে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য রাখা উচিত?
A: অধিকাংশ মানুষ Vildus 50 mg Tablet ভালোভাবে সহ্য করতে পারেন, তবে দীর্ঘস্থায়ী তীব্র পেটে ব্যথা (যা প্যানক্রিয়াটাইটিসের লক্ষণ হতে পারে), ত্বক বা চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি (যা লিভারের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে), অথবা অজানা কারণে ত্বকে ফোসকা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
Q: শিশু বা বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে কি Vildus 50 mg Tablet ব্যবহার করা যায়?
A: ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় Vildus 50 mg Tablet সুপারিশ করা হয় না। বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে, বিশেষত ৭৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের, Vildus 50 mg Tablet সাধারণত ব্যবহার করা যায় তবে নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন এবং কিডনির কার্যক্ষমতা কম হলে মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে।
ডিসক্লেইমার
এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।