জেনেরিক ওষুধ

Acetylcysteine: বাংলাদেশে ব্র্যান্ড, দাম ও ব্যবহার

প্রতিষ্ঠিত ব্যবহার মিউকোলাইটিক থেরাপি: দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কাইটিস, এমফাইসেমা, ব্রঙ্কিয়েক্টেসিস, সিস্টিক ফাইব্রোসিস এবং অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের রোগে ঘন ও আঠালো শ্লেষ্মা নিঃসরণে সহায়ক থেরাপি হিসেবে…

ধরন:TabletNebuliser SolutionEffervescent Granules

Acetylcysteine সম্পর্কে

Acetylcysteine-এর নির্দেশনা

প্রতিষ্ঠিত ব্যবহার

  • মিউকোলাইটিক থেরাপি: দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কাইটিস, এমফাইসেমা, ব্রঙ্কিয়েক্টেসিস, সিস্টিক ফাইব্রোসিস এবং অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রের রোগে ঘন ও আঠালো শ্লেষ্মা নিঃসরণে সহায়ক থেরাপি হিসেবে Acetylcysteine ব্যবহার করা হয়। এছাড়া অস্ত্রোপচার-পরবর্তী শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা, ট্র্যাকিওস্টমি যত্ন এবং মিউকাস দ্বারা সৃষ্ট এটেলেক্টাসিসেও এটি সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  • অ্যাসিটামিনোফেন (প্যারাসিটামল) ওভারডোজের প্রতিষেধক: অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যাসিটামিনোফেন গ্রহণের ফলে লিভারের ক্ষতি প্রতিরোধ বা হ্রাস করতে মুখে সেবনযোগ্য বা শিরাপথে (IV) Acetylcysteine প্রয়োগ করা হয়, যা Rumack-Matthew নমোগ্রাম অনুযায়ী রক্তের মাত্রা বা উল্লেখযোগ্য গ্রহণের ইতিহাসের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।

সহায়ক / ডায়াগনস্টিক ব্যবহার

  • ব্রঙ্কোগ্রাফির মতো ডায়াগনস্টিক পরীক্ষায় শ্লেষ্মা পরিষ্কার করার জন্য সহায়ক হিসেবে Acetylcysteine ব্যবহৃত হতে পারে।

Acetylcysteine এর ব্যবহার সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।

Acetylcysteine-এর মাত্রা ও সেবনবিধি

মিউকোলাইটিক ব্যবহার (নেবুলাইজেশন/সরাসরি প্রয়োগ)

পদ্ধতিপ্রাপ্তবয়স্কদের মাত্রাফ্রিকোয়েন্সি
নেবুলাইজেশন২০% দ্রবণের ৩-৫ মি.লি. অথবা ১০% দ্রবণের ৬-১০ মি.লি.দৈনিক ৩-৪ বার
সরাসরি প্রয়োগ (ট্র্যাকিওস্টমি)১০-২০% দ্রবণের ১-২ মি.লি.প্রতি ১-৪ ঘণ্টা অন্তর প্রয়োজন অনুযায়ী

অ্যাসিটামিনোফেন ওভারডোজের প্রতিষেধক হিসেবে

পদ্ধতিমাত্রা নির্দেশনা
মুখে সেবন (৭২-ঘণ্টার প্রোটোকল)শুরুতে ১৪০ মি.গ্রা./কেজি, এরপর প্রতি ৪ ঘণ্টায় ৭০ মি.গ্রা./কেজি করে আরও ১৭টি মাত্রা
শিরাপথে (২১-ঘণ্টার প্রোটোকল)প্রথমে ১৫০ মি.গ্রা./কেজি ৬০ মিনিটে, এরপর ৫০ মি.গ্রা./কেজি ৪ ঘণ্টায়, এরপর ১০০ মি.গ্রা./কেজি ১৬ ঘণ্টায় শিরাপথে প্রয়োগ

অ্যাসিটামিনোফেন ওভারডোজে Acetylcysteine প্রয়োগ সময়-নির্ভর - গ্রহণের ৮-১০ ঘণ্টার মধ্যে শুরু করা সবচেয়ে কার্যকর এবং এটি কেবলমাত্র চিকিৎসকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে হাসপাতাল বা জরুরি বিভাগে দেওয়া উচিত। কিডনি বা লিভারের জন্য পৃথক কোনো প্রতিষ্ঠিত মাত্রা সমন্বয় নেই; প্রতিষেধক ব্যবহারে লিভারের কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

Acetylcysteine-এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

সাধারণ

  • বমি বমি ভাব ও বমি (বিশেষত মুখে সেবনকৃত প্রতিষেধক ব্যবহারে, এর অপ্রীতিকর স্বাদ ও গন্ধের কারণে)
  • নাক দিয়ে পানি পড়া, ঝিমুনি, মুখের ভেতরে প্রদাহ (ইনহেলেশন ব্যবহারে)

কম সাধারণ / গুরুতর

  • ব্রঙ্কোস্পাজম (শ্বাসনালী সংকোচন), বিশেষত হাঁপানি রোগীদের ইনহেলেশন/নেবুলাইজড Acetylcysteine ব্যবহারে
  • ফুসকুড়ি, ছত্রাক, লালভাব, এবং অ্যানাফাইল্যাক্টয়েড প্রতিক্রিয়া - বিশেষত শিরাপথে প্রতিষেধক ব্যবহারে; এগুলো প্রকৃত অ্যালার্জি না হলেও দেখতে অ্যালার্জির মতো এবং সাধারণত ইনফিউশনের গতি কমিয়ে সামলানো হয়
  • জ্বর, কাঁপুনি, রক্তচাপ হ্রাস (বিরল, শিরাপথে প্রয়োগে)

Acetylcysteine-এর প্রতিনির্দেশনা

Acetylcysteine বা এর যেকোনো উপাদানের প্রতি অতি সংবেদনশীলতা থাকলে এটি প্রয়োগ করা উচিত নয়।

Acetylcysteine সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

Acetylcysteine কী কাজে ব্যবহৃত হয়?

Acetylcysteine ফুসফুসের কিছু রোগে ঘন শ্লেষ্মা পাতলা করতে মিউকোলাইটিক হিসেবে এবং অ্যাসিটামিনোফেন (প্যারাসিটামল) ওভারডোজে লিভারের ক্ষতি প্রতিরোধে নির্দিষ্ট প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

অ্যাসিটামিনোফেন ওভারডোজের পর কত দ্রুত Acetylcysteine দিতে হয়?

অ্যাসিটামিনোফেন গ্রহণের ৮-১০ ঘণ্টার মধ্যে Acetylcysteine শুরু করলে এটি সবচেয়ে কার্যকর হয়, যা চিকিৎসক রক্তের মাত্রা ও প্রমিত নমোগ্রাম ব্যবহার করে নির্ধারণ করেন। উল্লেখযোগ্য ওভারডোজের সন্দেহ হলে পরীক্ষার ফলাফলের জন্য চিকিৎসা বিলম্বিত করা উচিত নয়।

Acetylcysteine কি অ্যালার্জির মতো প্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে?

হ্যাঁ। শিরাপথে Acetylcysteine প্রয়োগে লালভাব, ফুসকুড়ি বা অ্যানাফাইল্যাক্টয়েড প্রতিক্রিয়া হতে পারে, যদিও এগুলো প্রকৃত অ্যালার্জি নয়। এসব উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা দলকে জানান।

গর্ভাবস্থায় Acetylcysteine কি নিরাপদ?

নিয়মিত মিউকোলাইটিক ব্যবহারের জন্য গর্ভাবস্থায় Acetylcysteine কেবল স্পষ্ট প্রয়োজন হলেই এবং চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ব্যবহার করা উচিত। অ্যাসিটামিনোফেন ওভারডোজের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করা হলে, গুরুতর লিভার ক্ষতি প্রতিরোধের উপকারিতা ঝুঁকির চেয়ে বেশি বলে বিবেচিত হয়।

ইনহেলেশনের মাধ্যমে Acetylcysteine কি শ্বাসকষ্ট ঘটাতে পারে?

নেবুলাইজড Acetylcysteine মাঝেমধ্যে শ্বাসনালী সংকুচিত করতে পারে (ব্রঙ্কোস্পাজম), বিশেষত হাঁপানি রোগীদের ক্ষেত্রে। চিকিৎসার সময় সাধারণত ব্রঙ্কোডাইলেটর প্রস্তুত রাখা হয়।

কারো Acetylcysteine অতিরিক্ত গ্রহণের সন্দেহ হলে কী করা উচিত?

অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন বা জরুরি সেবা/বিষক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। Acetylcysteine এর নিজস্ব ওভারডোজ বিরল, তবে অ্যাসিটামিনোফেন বিষক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে যেকোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে জরুরি চিকিৎসা মূল্যায়ন প্রয়োজন।

ডিসক্লেইমার

এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।

DoctorBlogArticles