জেনেরিক ওষুধ

Albumin: বাংলাদেশে ব্র্যান্ড, দাম ও ব্যবহার

Albumin হলো মানব রক্তরস (প্লাজমা) থেকে তৈরি একটি প্রোটিন দ্রবণ, যা শিরাপথে (ইনট্রাভেনাস) রক্তের আয়তন পুনঃস্থাপন এবং রক্তে অ্যালবুমিনের নিম্ন মাত্রা সংশোধনের জন্য ব্যবহৃত হয়।

ধরন:IV Infusion

Albumin সম্পর্কে

Albumin-এর নির্দেশনা

Albumin হলো মানব রক্তরস (প্লাজমা) থেকে তৈরি একটি প্রোটিন দ্রবণ, যা শিরাপথে (ইনট্রাভেনাস) রক্তের আয়তন পুনঃস্থাপন এবং রক্তে অ্যালবুমিনের নিম্ন মাত্রা সংশোধনের জন্য ব্যবহৃত হয়। প্রমাণের শক্তি অনুযায়ী এর ব্যবহারকে ভাগ করা যায়:

প্রতিষ্ঠিত ও গাইডলাইন-সমর্থিত ব্যবহার

  • হাইপোভোলেমিয়া ও শক: উল্লেখযোগ্য রক্তক্ষরণ বা গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে, যখন ক্রিস্টালয়েড দ্রবণে কাঙ্ক্ষিত হিমোডাইনামিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় না, তখন জরুরি ভিত্তিতে রক্তের আয়তন পুনঃস্থাপনে Albumin ব্যবহার করা হয়।
  • লিভার সিরোসিসে অ্যাসাইটিসের বৃহৎ-আয়তন প্যারাসেন্টেসিস: ৫ লিটারের বেশি অ্যাসাইটিক ফ্লুইড অপসারণের ক্ষেত্রে পোস্ট-প্যারাসেন্টেসিস সংবহনতান্ত্রিক সমস্যা প্রতিরোধে গাইডলাইন অনুযায়ী Albumin ব্যবহার করা হয়।
  • স্বতঃস্ফূর্ত ব্যাকটেরিয়াল পেরিটোনাইটিস (SBP): সিরোসিস রোগীদের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে সহায়ক (adjunct) হিসেবে (একক থেরাপি হিসেবে নয়) Albumin ব্যবহার করলে কিডনি সমস্যার ঝুঁকি কমে এবং বেঁচে থাকার হার উন্নত হয়।
  • হেপাটোরেনাল সিনড্রোম: ভাসোকনস্ট্রিক্টর থেরাপির (যেমন টার্লিপ্রেসিন) সাথে সহায়ক হিসেবে গাইডলাইন-নির্দেশিত সম্মিলিত চিকিৎসার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সহায়ক ব্যবহার

  • পোড়া রোগীদের ক্ষেত্রে (প্রথম ২৪ ঘণ্টা পরে): নির্দিষ্ট গুরুতর পোড়া রোগীদের ক্ষেত্রে ক্রিস্টালয়েড রিসাসিটেশনের সহায়ক হিসেবে।
  • ওপেন-হার্ট সার্জারিতে কার্ডিওপালমোনারি বাইপাসের প্রাইমিং দ্রবণ হিসেবে।
  • থেরাপিউটিক প্লাজমা এক্সচেঞ্জে (প্লাজমাফেরেসিস) প্রতিস্থাপক তরল হিসেবে।
  • নেফ্রোটিক সিনড্রোমে মূত্রবর্ধক-প্রতিরোধী গুরুতর শোথ: নির্বাচিত কঠিন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ তত্ত্বাবধানে মূত্রবর্ধকের সাথে স্বল্পমেয়াদী সহায়ক হিসেবে।

শুধুমাত্র সিরাম অ্যালবুমিনের মাত্রার উপর নির্ভর না করে, রক্তনালীর আয়তন সংক্রান্ত ক্লিনিক্যাল মূল্যায়নের ভিত্তিতে Albumin ব্যবহার করা উচিত।

Albumin-এর মাত্রা ও সেবনবিধি

Albumin-এর মাত্রা ও প্রয়োগের গতি রোগভেদে, রোগীর হিমোডাইনামিক অবস্থা এবং চিকিৎসার প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী চিকিৎসকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে নির্ধারণ করতে হয়।

নির্দেশনাপ্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রার নির্দেশনা
হাইপোভোলেমিক শকপ্রাথমিকভাবে ৫% দ্রবণ; হিমোডাইনামিক প্রতিক্রিয়া (রক্তচাপ, প্রস্রাবের পরিমাণ, কেন্দ্রীয় শিরার চাপ) অনুযায়ী মাত্রা সমন্বয় করা হয়
বৃহৎ-আয়তন প্যারাসেন্টেসিস (>৫ লিটার অ্যাসাইটিক ফ্লুইড)৫ লিটারের বেশি অপসারিত প্রতি লিটার অ্যাসাইটিক ফ্লুইডের জন্য প্রায় ৬-৮ গ্রাম Albumin (২০-২৫% দ্রবণ হিসেবে)
স্বতঃস্ফূর্ত ব্যাকটেরিয়াল পেরিটোনাইটিস (সহায়ক)প্রথম দিনে প্রায় ১.৫ গ্রাম/কেজি, তৃতীয় দিনে ১ গ্রাম/কেজি, অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে একত্রে
হাইপোঅ্যালবুমিনেমিয়া (যেমন নেফ্রোটিক সিনড্রোম, অ্যাসাইটিসসহ সিরোসিস)২০-২৫% দ্রবণ, সিরাম অ্যালবুমিন ও আয়তন অবস্থা অনুযায়ী মাত্রা ও সেবনের হার পৃথকভাবে নির্ধারিত হয়

কিডনি/লিভার সমস্যায়: নির্দিষ্ট কোনো মাত্রা সমন্বয় সূত্র প্রতিষ্ঠিত নেই; তবে কিডনি সমস্যা বা অলিগুরিয়া/অ্যানুরিয়া থাকা রোগীদের এবং তরল ধরে রাখার প্রবণতাসহ লিভার সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে তরল অতিরিক্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকায় Albumin সতর্কতার সাথে এবং ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ব্যবহার করা উচিত।

Albumin-এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

Albumin-এর অধিকাংশ প্রতিক্রিয়া মৃদু এবং ইনফিউশন-সম্পর্কিত। প্রতিবেদিত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • কাঁপুনি, জ্বর, মুখ লাল হয়ে যাওয়া
  • আর্টিকেরিয়া (চাকা চাকা দাগ), র‍্যাশ, চুলকানি
  • বমি বমি ভাব, বমি
  • নিম্ন রক্তচাপ, কদাচিৎ উচ্চ রক্তচাপ
  • হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি (টাকিকার্ডিয়া)
  • মাথাব্যথা
  • বিরল কিন্তু গুরুতর: অ্যানাফাইল্যাক্টিক/অ্যানাফাইল্যাক্টয়েড প্রতিক্রিয়া, এবং দ্রুত বা অতিরিক্ত ইনফিউশনে তরল অতিরিক্ত হওয়া/পালমোনারি এডিমা (বিস্তারিত সতর্কতা অংশে দেখুন)।

Albumin-এর প্রতিনির্দেশনা

নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে Albumin ব্যবহার করা উচিত নয়:

  • Albumin বা নির্দিষ্ট পণ্যের কোনো উপাদানের প্রতি পূর্বে গুরুতর অতিসংবেদনশীলতা (অ্যানাফাইল্যাক্সিসসহ) প্রতিক্রিয়ার ইতিহাস থাকলে।
  • স্বাভাবিক বা বর্ধিত রক্তনালী আয়তনসহ গুরুতর রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া) বা হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতা থাকলে, কারণ এতে তরল অতিরিক্ত হওয়া এবং হৃদযন্ত্রের অবনতির ঝুঁকি বেড়ে যায়।

Albumin সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

Albumin কী কাজে ব্যবহৃত হয়?

Albumin মূলত শক বা উল্লেখযোগ্য তরল ক্ষয়ের ক্ষেত্রে রক্তের আয়তন বাড়াতে, রক্তে অ্যালবুমিনের নিম্ন মাত্রা (হাইপোঅ্যালবুমিনেমিয়া) সংশোধনে, এবং লিভার সিরোসিসে বৃহৎ-আয়তন প্যারাসেন্টেসিস, স্বতঃস্ফূর্ত ব্যাকটেরিয়াল পেরিটোনাইটিস ও প্লাজমা এক্সচেঞ্জের মতো নির্দিষ্ট চিকিৎসার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

মানব রক্তরস থেকে তৈরি হওয়ায় Albumin কি নিরাপদ?

Albumin সতর্কতার সাথে স্ক্রিনিং করা রক্তরস দাতাদের কাছ থেকে তৈরি হয় এবং ঝুঁকি কমাতে ভাইরাস নিষ্ক্রিয়করণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। তবে যেকোনো প্লাজমা-জাত পণ্যের মতোই, এখনও শনাক্ত হয়নি এমন জীবাণুসহ সংক্রামক জীবাণু সংক্রমণের একটি খুবই ক্ষুদ্র, তাত্ত্বিক ঝুঁকি থেকে যায়। উপকারিতা এই ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলেই কেবল আপনার চিকিৎসক Albumin সুপারিশ করবেন।

Albumin কি অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে?

হ্যাঁ। যদিও এটি সাধারণ নয়, Albumin মৃদু কাঁপুনি, জ্বর ও চাকা চাকা দাগ থেকে শুরু করে বিরল কিন্তু গুরুতর অ্যানাফাইল্যাক্টিক প্রতিক্রিয়া পর্যন্ত অতিসংবেদনশীলতা প্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে। ইনফিউশনের সময় বা পরে চুলকানি, র‍্যাশ, শ্বাসকষ্ট বা ফোলাভাব দেখা দিলে সাথে সাথে আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীকে জানান।

গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে কি Albumin দেওয়া যায়?

গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানে Albumin নিয়ে আনুষ্ঠানিক গবেষণা হয়নি, তবে স্পষ্ট চিকিৎসাগত প্রয়োজন থাকলে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এটি ব্যবহার করা হয়, যেখানে সম্ভাব্য উপকারিতা ও ঝুঁকি বিবেচনা করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে নিজে থেকে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।

খুব দ্রুত বা বেশি পরিমাণে Albumin দিলে কী হতে পারে?

খুব দ্রুত বা অতিরিক্ত পরিমাণে Albumin প্রয়োগ করলে সংবহনতন্ত্র অতিরিক্ত চাপে পড়তে পারে, যার ফলে মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট এবং ঘাড়ের শিরা ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে, এবং গুরুতর ক্ষেত্রে পালমোনারি এডিমা বা হৃদযন্ত্রের ব্যর্থতা হতে পারে। এটিকে একটি জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাই প্রশিক্ষিত কর্মীদের দ্বারা ইনফিউশন ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে সাথে সাথে বন্ধ করা হয়।

শিশুদের কি Albumin দেওয়া যায়?

হ্যাঁ, নবজাতকসহ শিশুদের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের মতো একই ধরনের নির্দেশনায় Albumin ব্যবহৃত হয়, তবে মাত্রা শরীরের ওজন ও শিশুর অবস্থা অনুযায়ী পৃথকভাবে নির্ধারণ করা হয় এবং এটি কেবল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানেই দেওয়া হয়, কারণ বৃহৎ নিয়ন্ত্রিত শিশু-গবেষণায় এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

ডিসক্লেইমার

এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।

DoctorBlogArticles