জেনেরিক ওষুধ

Haloperidol: বাংলাদেশে ব্র্যান্ড, দাম ও ব্যবহার

Haloperidol একটি প্রথম প্রজন্মের (টিপিক্যাল) অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ, যা বিউটাইরোফেনন গোত্রের অন্তর্ভুক্ত।

ধরন:TabletIM Injection

Haloperidol সম্পর্কে

Haloperidol-এর নির্দেশনা

Haloperidol একটি প্রথম প্রজন্মের (টিপিক্যাল) অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ, যা বিউটাইরোফেনন গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। প্রমাণের শক্তি অনুযায়ী এর ব্যবহারগুলো নিচে শ্রেণীবদ্ধ করা হলো।

প্রতিষ্ঠিত/অনুমোদিত ব্যবহার

  • সিজোফ্রেনিয়া: তীব্র ও দীর্ঘমেয়াদি মনোব্যাধিজনিত সমস্যার (সিজোফ্রেনিয়াসহ) চিকিৎসায়।
  • টুরেট'স ডিসঅর্ডার: মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার টিক ও ভোকাল উচ্চারণ নিয়ন্ত্রণে, যখন অন্যান্য চিকিৎসায় কাজ হয় না।
  • শিশুদের গুরুতর আচরণগত সমস্যা (স্বল্পমেয়াদি): উত্তেজনাপ্রবণ, বিস্ফোরণাত্মক আচরণ যা তাৎক্ষণিক প্ররোচনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
  • আচরণগত সমস্যাসহ অতিসক্রিয় শিশু: অন্যান্য পদ্ধতি ব্যর্থ হলে স্বল্পমেয়াদি সহযোগী চিকিৎসা হিসেবে।

নির্দেশিকা-সমর্থিত/প্রচলিত অফ-লেবেল ব্যবহার

  • জরুরি বিভাগ ও মানসিক হাসপাতালে তীব্র উত্তেজনা ও তীব্র মনোব্যাধিজনিত অবস্থায়, প্রায়শই ইনজেকশন আকারে, দীর্ঘদিনের ক্লিনিক্যাল চর্চা ও নির্দেশিকার সমর্থনে।
  • অন্যান্য চিকিৎসায় সাড়া না দেওয়া দীর্ঘস্থায়ী হেঁচকি নিয়ন্ত্রণে - একটি দীর্ঘদিনের অফ-লেবেল ব্যবহার।
  • হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ডেলিরিয়াম-সম্পর্কিত উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে (অফ-লেবেল; প্রমাণ মিশ্র, স্বল্পমেয়াদি ও সতর্ক পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করা উচিত)।

বয়স্ক ডিমেনশিয়া রোগীদের মনোব্যাধিজনিত সমস্যায় Haloperidol অনুমোদিত নয় (দেখুন সতর্কতা অংশ)।

Haloperidol-এর মাত্রা ও সেবনবিধি

Haloperidol-এর মাত্রা নির্দেশনা, উপসর্গের তীব্রতা, ফর্মুলেশন এবং রোগীর প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী নির্ধারিত হয়, সর্বদা সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রা ব্যবহার করে।

নির্দেশনাপ্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা
মাঝারি সিজোফ্রেনিয়া/মনোব্যাধিদিনে ২-৩ বার ০.৫-২ মি.গ্রা মুখে সেবন
তীব্র/দীর্ঘস্থায়ী/প্রতিরোধী সিজোফ্রেনিয়াদিনে ২-৩ বার ৩-৫ মি.গ্রা; কিছু ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে দিনে সর্বোচ্চ প্রায় ২০ মি.গ্রা পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে
তীব্র উত্তেজনা/মনোব্যাধিগভীর পেশীতে (IM) ২-৫ মি.গ্রা ইনজেকশন; প্রয়োজনে প্রতি ৪-৮ ঘণ্টায় পুনরাবৃত্তি
দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ (ডিপো ইনজেকশন)মুখে সেবনে স্থিতিশীল হওয়ার পর, পূর্ববর্তী দৈনিক মাত্রার ১০-২০ গুণ, প্রতি ৪ সপ্তাহে গভীর পেশীতে ইনজেকশন
টুরেট'স ডিসঅর্ডারদিনে ২-৩ বার ০.৫-৫ মি.গ্রা মুখে সেবন

শিশুদের মাত্রা

  • ৩-১২ বছর বয়সী শিশু (মনোব্যাধিজনিত সমস্যা): প্রাথমিক মাত্রা প্রায় ০.০৫ মি.গ্রা/কেজি/দিন, ভাগ করে, সতর্কতার সাথে বাড়ানো হয়।
  • ৩-১২ বছর বয়সী শিশু (অ-মনোব্যাধিজনিত সমস্যা): প্রায় ০.০৫-০.০৭৫ মি.গ্রা/কেজি/দিন, ২-৩ ভাগে বিভক্ত।
  • ৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

বৃক্ক/যকৃতের বিবেচনা

বৃক্কের জন্য কোনো নির্দিষ্ট মাত্রা সমন্বয়ের নিয়ম প্রতিষ্ঠিত নেই; সতর্কতা ও কম প্রাথমিক মাত্রার পরামর্শ দেওয়া হয়। যকৃতের সমস্যায়, যেহেতু Haloperidol ব্যাপকভাবে যকৃতে বিপাক হয়, কম মাত্রা ও ধীর গতিতে বাড়ানো এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

Haloperidol-এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

সাধারণ

  • এক্সট্রাপিরামিডাল উপসর্গ - ডিসটোনিয়া, অ্যাকাথিসিয়া (অস্থিরতা), পারকিনসোনিজম (কাঁপুনি, দৃঢ়তা); উচ্চ D2-রিসেপ্টর ক্ষমতার কারণে Haloperidol-এ এগুলো তুলনামূলক বেশি দেখা যায়
  • ঘুম ঘুম ভাব
  • মুখ শুকিয়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, ঝাপসা দৃষ্টি
  • ঘুমের সমস্যা, মাথাব্যথা, উদ্বেগ
  • অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন
  • প্রোল্যাকটিন বৃদ্ধি - স্তন থেকে দুধক্ষরণ, স্তন বৃদ্ধি, মাসিকের অনিয়ম
  • ওজনের পরিবর্তন

গুরুতর (কম প্রচলিত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ)

  • টার্ডিভ ডিস্কাইনেসিয়া - সম্ভাব্য অপরিবর্তনীয় অনিচ্ছাকৃত নড়াচড়া, দীর্ঘমেয়াদি ও উচ্চমাত্রার ব্যবহারে ঝুঁকি বাড়ে।
  • নিউরোলেপটিক ম্যালিগন্যান্ট সিনড্রোম (NMS) - বিরল কিন্তু প্রাণঘাতী হতে পারে।
  • QT দীর্ঘায়ন ও টরসেড দ্য পয়েন্ট, যা মারাত্মক হতে পারে।
  • খিঁচুনি (খিঁচুনির প্রবণতা কমে যাওয়া)।
  • শ্বেত রক্তকণিকা হ্রাস, বিরল ক্ষেত্রে অ্যাগ্রানুলোসাইটোসিস।
  • তীব্র অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া, ল্যারিঙ্গোস্পাজম বা ব্রঙ্কোস্পাজম (বিরল)।

Haloperidol-এর প্রতিনির্দেশনা

Haloperidol নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ব্যবহার নিষিদ্ধ:

  • Haloperidol বা এর যেকোনো উপাদানে অতি-সংবেদনশীলতা।
  • তীব্র কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র দমন বা কোমাটোজ অবস্থা।
  • পারকিনসন্স ডিজিজ (ডোপামিন রিসেপ্টর বাধাদান পারকিনসোনিয়ান উপসর্গ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে)।
  • পরিচিত QT-ইন্টারভাল দীর্ঘায়ন, যেমন জন্মগত লং QT সিনড্রোম (বিশেষত ইনজেকশনযোগ্য ব্যবহারে প্রাসঙ্গিক)।

Haloperidol সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

Haloperidol কী কাজে ব্যবহৃত হয়?

Haloperidol একটি অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ, যা প্রধানত সিজোফ্রেনিয়া ও অন্যান্য মনোব্যাধিজনিত সমস্যা, টুরেট'স ডিসঅর্ডারের তীব্র টিক এবং গুরুতর আচরণগত সমস্যা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়, সাধারণত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে।

ডিমেনশিয়া আক্রান্ত বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে Haloperidol কি নিরাপদ?

ডিমেনশিয়া-সম্পর্কিত মনোব্যাধির চিকিৎসায় Haloperidol অনুমোদিত নয়। ডিমেনশিয়া আক্রান্ত বয়স্ক রোগীদের অ্যান্টিসাইকোটিক ওষুধ, যেমন Haloperidol, দিলে মূলত হৃদরোগ বা নিউমোনিয়ার মতো সংক্রমণের কারণে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। চিকিৎসক নিরাপদ বিকল্প না পেলেই কেবল এটি ব্যবহার করা উচিত।

Haloperidol কি হৃদযন্ত্রে প্রভাব ফেলতে পারে?

হ্যাঁ। Haloperidol ইসিজি-তে QT ইন্টারভাল দীর্ঘায়িত করতে পারে, যা বিরল ক্ষেত্রে টরসেড দ্য পয়েন্ট নামক বিপজ্জনক হৃদস্পন্দন অনিয়মিততার কারণ হতে পারে, বিশেষত উচ্চমাত্রায় বা শিরাপথে (যা এই ওষুধের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত নয়) প্রয়োগ করলে। হৃদরোগ থাকলে বা হৃদস্পন্দনে প্রভাব ফেলে এমন অন্য কোনো ওষুধ খেলে চিকিৎসককে জানান।

Haloperidol-এর সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কী কী?

Haloperidol-এর সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে নড়াচড়া-সম্পর্কিত সমস্যা যেমন দৃঢ়তা, কাঁপুনি, অস্থিরতা ও পেশী খিঁচুনি (এক্সট্রাপিরামিডাল উপসর্গ), এছাড়া ঘুম ঘুম ভাব, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং প্রোল্যাকটিন বৃদ্ধির কারণে মাসিক বা স্তনের পরিবর্তন।

গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে কি Haloperidol খাওয়া যাবে?

গর্ভাবস্থায় Haloperidol কেবল স্পষ্টভাবে প্রয়োজন হলেই ব্যবহার করা উচিত, কারণ তৃতীয় ত্রৈমাসিকে সংস্পর্শে আসা শিশুর জন্মের পর প্রত্যাহার বা নড়াচড়া-সংক্রান্ত উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এটি বুকের দুধেও প্রবেশ করে, তাই Haloperidol সেবনকালে স্তন্যদান কেবল চিকিৎসকের পরামর্শে করা উচিত এবং শিশুকে পর্যবেক্ষণে রাখা উচিত।

Haloperidol-এর একটি মাত্রা মিস হলে বা বেশি খেয়ে ফেললে কী করব?

Haloperidol-এর কোনো মাত্রা মিস হলে মনে পড়ার সাথে সাথে খেয়ে নিন, তবে পরবর্তী মাত্রার সময় কাছাকাছি হলে মিসড মাত্রা বাদ দিন - দ্বিগুণ মাত্রা খাবেন না। কেউ অতিরিক্ত Haloperidol খেয়ে ফেললে অবিলম্বে চিকিৎসকের সহায়তা নিন বা জরুরি সেবা/বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন, কারণ মাত্রাধিক্যতায় তীব্র ঘুম ঘুম ভাব, নিম্ন রক্তচাপ, অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন বা কোমা দেখা দিতে পারে।

ডিসক্লেইমার

এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।

DoctorBlogArticles