জেনেরিক ওষুধ

Lisinopril: বাংলাদেশে ব্র্যান্ড, দাম ও ব্যবহার

Lisinopril একটি এসিই ইনহিবিটর (ACE Inhibitor) জাতীয় ওষুধ, যা নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়: উচ্চ রক্তচাপ: প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৬ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ইত্যাদি।

ধরন:Tablet

Lisinopril সম্পর্কে

Lisinopril-এর নির্দেশনা

Lisinopril একটি এসিই ইনহিবিটর (ACE Inhibitor) জাতীয় ওষুধ, যা নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়:

  • উচ্চ রক্তচাপ: প্রাপ্তবয়স্ক এবং ৬ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে, এককভাবে অথবা অন্য রক্তচাপ নিয়ন্ত্রক ওষুধের সাথে।
  • হার্ট ফেইলিউর: মূত্রবর্ধক ও প্রয়োজনে ডিজিটালিসের সাথে সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে সিস্টোলিক হার্ট ফেইলিউরের লক্ষণ কমাতে।
  • তীব্র হার্ট অ্যাটাক (Acute MI): হার্ট অ্যাটাকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হেমোডাইনামিকভাবে স্থিতিশীল রোগীদের বেঁচে থাকার হার বাড়াতে।
  • ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি (নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে): ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগে প্রোটিনুরিয়া কমাতে চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুযায়ী ব্যবহৃত হতে পারে।

Lisinopril ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

Lisinopril-এর মাত্রা ও সেবনবিধি

Lisinopril-এর মাত্রা রোগীর অবস্থা, ইঙ্গিত এবং কিডনির কার্যক্ষমতা অনুযায়ী চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।

উচ্চ রক্তচাপ

রোগীর ধরনমাত্রা
প্রাপ্তবয়স্ক (মূত্রবর্ধক ছাড়া)শুরুতে দিনে একবার ১০ মিগ্রা; সাধারণ মাত্রা ২০-৪০ মিগ্রা; সর্বোচ্চ ৮০ মিগ্রা/দিন
প্রাপ্তবয়স্ক (মূত্রবর্ধকসহ)শুরুতে দিনে একবার ৫ মিগ্রা
৬ বছর বা তদূর্ধ্ব শিশুশুরুতে ০.০৭ মিগ্রা/কেজি (সর্বোচ্চ ৫ মিগ্রা) দিনে একবার; সর্বোচ্চ ০.৬১ মিগ্রা/কেজি বা ৪০ মিগ্রা/দিন

হার্ট ফেইলিউর

শুরুতে দিনে একবার ৫ মিগ্রা (রক্তে সোডিয়াম কম বা রক্তচাপ কম থাকলে ২.৫ মিগ্রা), ধীরে ধীরে বাড়িয়ে ২০-৪০ মিগ্রা পর্যন্ত।

তীব্র হার্ট অ্যাটাক

উপসর্গ শুরুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২.৫-৫ মিগ্রা, এরপর ২৪ ঘণ্টায় ৫ মিগ্রা, ৪৮ ঘণ্টায় ১০ মিগ্রা, এরপর প্রতিদিন ১০ মিগ্রা অন্তত ৬ সপ্তাহ।

কিডনি সমস্যায় মাত্রা সমন্বয়

ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স অনুযায়ী Lisinopril-এর মাত্রা কমাতে হয় (বিস্তারিত "শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার" অংশে দেখুন)।

Lisinopril সাধারণত দিনে একবার, খাবারসহ বা ছাড়া, পানির সাথে খেতে হয়। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া মাত্রা পরিবর্তন বা বন্ধ করা উচিত নয়।

Lisinopril-এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

Lisinopril সেবনে সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলো হলো:

  • শুকনো, স্থায়ী কাশি (এসিই ইনহিবিটরের সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া)
  • মাথা ঘোরা, বিশেষত প্রথম মাত্রার পর
  • মাথাব্যথা
  • ক্লান্তি
  • বমি বমি ভাব
  • হাইপারক্যালেমিয়া (রক্তে পটাশিয়াম বৃদ্ধি)
  • রক্তচাপ কমে যাওয়া

কম দেখা যায় কিন্তু গুরুতর সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাঞ্জিওএডিমা (মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা বা গলা ফুলে যাওয়া), কিডনি বিকল হয়ে যাওয়া, নিউট্রোপেনিয়া (বিরল), লিভারের সমস্যা এবং গুরুতর ত্বকের প্রতিক্রিয়া। Lisinopril সেবনকালে মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা গিলতে সমস্যা হলে সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।

Lisinopril-এর প্রতিনির্দেশনা

Lisinopril নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ:

  • Lisinopril বা অন্য কোনো এসিই ইনহিবিটরের প্রতি অতি সংবেদনশীলতা থাকলে।
  • পূর্বে কোনো এসিই ইনহিবিটর ব্যবহারে অ্যাঞ্জিওএডিমার ইতিহাস থাকলে।
  • বংশগত বা ইডিওপ্যাথিক অ্যাঞ্জিওএডিমা থাকলে।
  • গর্ভাবস্থায় — Lisinopril গর্ভস্থ শিশুর মারাত্মক ক্ষতি বা মৃত্যু ঘটাতে পারে (বিস্তারিত "গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে" অংশে দেখুন)।
  • ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে অ্যালিস্কিরেনের সাথে Lisinopril একত্রে ব্যবহার।

Lisinopril সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

Lisinopril কী কাজে ব্যবহৃত হয়?

Lisinopril মূলত উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, হার্ট ফেইলিউর ব্যবস্থাপনা এবং হার্ট অ্যাটাকের পর বেঁচে থাকার হার বাড়াতে ব্যবহৃত হয়। কিছু ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগ প্রতিরোধেও ব্যবহৃত হতে পারে।

Lisinopril কীভাবে সেবন করতে হয়?

Lisinopril সাধারণত দিনে একবার, খাবারসহ বা ছাড়া, প্রতিদিন একই সময়ে সেবন করতে হয়। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া মাত্রা পরিবর্তন বা বন্ধ করা উচিত নয়।

গর্ভাবস্থায় কি Lisinopril নেওয়া যাবে?

না। Lisinopril-এর একটি বক্সড ওয়ার্নিং রয়েছে, কারণ এটি গর্ভস্থ শিশুর মারাত্মক ক্ষতি বা মৃত্যু ঘটাতে পারে, বিশেষত দ্বিতীয় বা তৃতীয় ত্রৈমাসিকে। Lisinopril সেবনরত অবস্থায় গর্ভধারণ শনাক্ত হলে সাথে সাথে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।

Lisinopril শুরু করার পর শুকনো কাশি হচ্ছে কেন?

শুকনো, ক্রমাগত কাশি Lisinopril-এর একটি সুপরিচিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, যা ব্র্যাডিকিনিন বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত। এটি বিপজ্জনক না হলেও বিরক্তিকর হতে পারে; সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Lisinopril সেবনের সময় মুখ বা গলা ফুলে গেলে কী করব?

মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা বা গলা ফুলে যাওয়া (অ্যাঞ্জিওএডিমা) Lisinopril-এর একটি বিরল কিন্তু প্রাণঘাতী হতে পারা প্রতিক্রিয়া। এমন লক্ষণ দেখা দিলে সাথে সাথে Lisinopril বন্ধ করে জরুরি চিকিৎসা নিন।

Lisinopril বেশি খেয়ে ফেললে কী হবে?

Lisinopril-এর অতিরিক্ত মাত্রা সেবনে রক্তচাপ হঠাৎ কমে যেতে পারে এবং মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। সন্দেহ হলে সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা সেবা নিন বা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।

ডিসক্লেইমার

এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।

DoctorBlogArticles