জেনেরিক ওষুধ

Oxygen: বাংলাদেশে ব্র্যান্ড, দাম ও ব্যবহার

Oxygen একটি মেডিকেল গ্যাস যা শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করে রক্তে কম মাত্রার Oxygen (হাইপোক্সেমিয়া) প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।

ধরন:Gas

Oxygen সম্পর্কে

Oxygen-এর নির্দেশনা

Oxygen একটি মেডিকেল গ্যাস যা শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করে রক্তে কম মাত্রার Oxygen (হাইপোক্সেমিয়া) প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়।

প্রতিষ্ঠিত ব্যবহার

  • শ্বাসকষ্ট জনিত তীব্র হাইপোক্সেমিয়া, যেমন সিওপিডি তীব্রতা, নিউমোনিয়া, শ্বাসযন্ত্রের ব্যর্থতা এবং একিউট রেসপিরেটরি ডিস্ট্রেস সিন্ড্রোম (ARDS)-এ Oxygen ব্যবহার করা হয়, যা পালস অক্সিমেট্রি বা রক্তের গ্যাস পরীক্ষার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করে দেওয়া হয়।
  • দীর্ঘমেয়াদী দীর্ঘস্থায়ী হাইপোক্সেমিয়া (যেমন গুরুতর সিওপিডি) এর ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী Oxygen থেরাপি (LTOT) প্রয়োগ করা হয়।
  • অস্ত্রোপচার ও অ্যানেস্থেসিয়ার সময় এবং পরবর্তী পুনরুদ্ধারকালে Oxygen ব্যবহৃত হয়।
  • হাইপোক্সেমিয়া সহ হৃদরোগ ও সংবহনতন্ত্রের সমস্যায় (যেমন তীব্র হার্ট ফেইলিউর) Oxygen প্রয়োগ করা হয়।
  • কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ায় উচ্চ ঘনত্বের Oxygen প্রয়োগ করা হয়।
  • নবজাতকের পুনরুজ্জীবন ও শ্বাসকষ্টে সতর্কতার সাথে মাত্রা নির্ধারণ করে Oxygen দেওয়া হয়।

সহায়ক ব্যবহার

  • প্রশমনমূলক (palliative) পরিচর্যায় প্রমাণিত হাইপোক্সেমিয়া থাকলে স্বল্পমেয়াদী উপসর্গ উপশমে।
  • ক্লাস্টার হেডেকের তীব্র আক্রমণে সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে উচ্চ প্রবাহের Oxygen।

Oxygen সবসময় চিকিৎসকের মূল্যায়নের ভিত্তিতে, সাধারণত পালস অক্সিমেট্রি বা রক্তের গ্যাস পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে, রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় প্রয়োগ করা উচিত।

Oxygen-এর মাত্রা ও সেবনবিধি

Oxygen এর মাত্রা প্রবাহ হার (লিটার/মিনিট) অথবা প্রশ্বাসে Oxygen-এর অনুপাত (FiO2) হিসেবে নির্ধারণ করা হয় এবং পালস অক্সিমেট্রি বা ধমনী রক্তের গ্যাস পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চিকিৎসকের নির্দেশনায় প্রতিটি রোগীর জন্য পৃথকভাবে সামঞ্জস্য করতে হয়।

নির্দেশনাসাধারণ প্রাপ্তবয়স্ক মাত্রা/লক্ষ্যশিশুদের মাত্রা
সাধারণ তীব্র হাইপোক্সেমিয়ানাসাল ক্যানুলা ১-৬ লিটার/মিনিট বা প্রয়োজন অনুযায়ী মাস্ক; SpO2 ৯৪-৯৮% লক্ষ্য করেচিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে বয়স অনুযায়ী উপযুক্ত SpO2 লক্ষ্য করে
হাইপারক্যাপনিয়ার ঝুঁকিসহ সিওপিডিনিয়ন্ত্রিত কম প্রবাহ/ভেঞ্চুরি প্রয়োগ; SpO2 ৮৮-৯২% লক্ষ্য করেসাধারণত প্রযোজ্য নয়
কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়ানন-রিব্রিদার মাস্কের মাধ্যমে উচ্চ ঘনত্বের Oxygen (প্রায় ১০০%) কার্বক্সিহিমোগ্লোবিন স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্তএকই নীতিতে শিশু বিশেষজ্ঞের নির্দেশনায়
দীর্ঘমেয়াদী থেরাপি (দীর্ঘস্থায়ী হাইপোক্সেমিয়া)ব্যক্তিভিত্তিক মাত্রায় (সাধারণত ১-৪ লিটার/মিনিট) SpO2 ৯০% এর উপরে রাখতে, পর্যায়ক্রমে পুনর্মূল্যায়ন সহশিশু ফুসফুস বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ব্যক্তিভিত্তিক
নবজাতকে ব্যবহারপ্রযোজ্য নয়অতিরিক্ত Oxygen এড়াতে সতর্কতার সাথে FiO2 নির্ধারণ (সাধারণত প্রিটার্ম শিশুতে SpO2 ৯০-৯৫%)

লিভার বা কিডনি দ্বারা বিপাকিত না হওয়ায় Oxygen এর জন্য কোনো রেনাল বা হেপাটিক মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন নেই।

Oxygen-এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

Oxygen এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সাধারণত উপযুক্ত থেরাপিউটিক মাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ঘনত্ব বা দীর্ঘ সময় ব্যবহারের (হাইপারঅক্সিয়া) সাথে সম্পর্কিত।

  • Oxygen বিষক্রিয়া: দীর্ঘ সময় উচ্চ FiO2 (সাধারণত ৬০% এর বেশি) এর সংস্পর্শে বুকে অস্বস্তি, কাশি, ট্র্যাকিওব্রঙ্কাইটিস এবং দীর্ঘায়িত সংস্পর্শে ARDS-এর মতো ফুসফুসের ক্ষতি হতে পারে।
  • অ্যাবজর্পশন অ্যাটেলেক্টাসিস: উচ্চ ঘনত্বের Oxygen দুর্বল বায়ুচলাচলযুক্ত অ্যালভিওলাই সংকুচিত করতে পারে।
  • শ্বাসনালী শুষ্কতা/জ্বালা: আর্দ্রতাবিহীন Oxygen, বিশেষত উচ্চ প্রবাহে, নাক ও শ্বাসনালীর মিউকাস ঝিল্লি শুষ্ক ও জ্বালাতন করতে পারে, মাঝে মাঝে নাক দিয়ে রক্ত পড়া হতে পারে।
  • রেটিনোপ্যাথি অফ প্রিম্যাচুরিটি: প্রিটার্ম শিশুদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত Oxygen এই চোখের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায় (দ্রষ্টব্য: শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার)।
  • সিএনএস Oxygen বিষক্রিয়া (খিঁচুনি): স্বাভাবিক নর্মোবারিক Oxygen থেরাপিতে বিরল; হাইপারবারিক Oxygen ব্যবহারে বেশি প্রাসঙ্গিক।

Oxygen-এর প্রতিনির্দেশনা

হাইপোক্সেমিয়া উপস্থিত থাকলে এবং তা সংশোধনের প্রয়োজন হলে Oxygen থেরাপির কোনো প্রকৃত পরম প্রতিনির্দেশনা নেই, কারণ Oxygen একটি শারীরবৃত্তীয় গ্যাস, অ্যালার্জি-সম্ভাবনাযুক্ত ফার্মাসিউটিক্যাল যৌগ নয়। তবে স্পষ্ট প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত Oxygen (হাইপারঅক্সিয়া) ক্ষতিকর হতে পারে এমন পরিস্থিতিতে, যেমন প্যারাকোয়াট বিষক্রিয়ায় নিয়মিত উচ্চ ঘনত্বে ব্যবহার এড়ানো উচিত (দ্রষ্টব্য: ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া) — এটি একটি সতর্কতা, পরম প্রতিনির্দেশনা নয়।

Oxygen সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

Oxygen কী কাজে ব্যবহার করা হয়?

Oxygen রক্তে কম মাত্রার Oxygen (হাইপোক্সেমিয়া) প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়, যেমন সিওপিডি তীব্রতা, নিউমোনিয়া, শ্বাসযন্ত্রের ব্যর্থতা, ARDS, কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়া, অস্ত্রোপচার/অ্যানেস্থেসিয়ার সময়, এবং দীর্ঘস্থায়ী হাইপোক্সেমিয়ায় দীর্ঘমেয়াদী থেরাপি হিসেবে। এটি শ্বাসের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয় এবং লক্ষ্য স্যাচুরেশন অনুযায়ী সামঞ্জস্য করা হয়।

Oxygen এর মাত্রা কীভাবে নির্ধারণ করা হয়?

Oxygen মিলিগ্রামে নয়, প্রবাহ হার (লিটার/মিনিট) বা প্রশ্বাসে Oxygen-এর অনুপাত (FiO2) হিসেবে নির্ধারণ করা হয়, যা প্রতিটি রোগীর জন্য পৃথকভাবে এবং পালস অক্সিমেট্রি বা রক্তের গ্যাস পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চিকিৎসকের নির্দেশনায় লক্ষ্য স্যাচুরেশন অর্জনের জন্য সামঞ্জস্য করা হয়।

গর্ভাবস্থায় Oxygen ব্যবহার কি নিরাপদ?

মায়ের হাইপোক্সেমিয়া নিশ্চিত বা সন্দেহ করা হলে গর্ভাবস্থায় Oxygen ব্যবহার করা হয় এবং ক্লিনিক্যাল প্রয়োজনে সাধারণত গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়, সর্বনিম্ন কার্যকর ঘনত্ব ব্যবহার করে; নির্দিষ্ট অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অতিরিক্ত Oxygen কি ক্ষতিকর হতে পারে?

হ্যাঁ। অতিরিক্ত বা দীর্ঘ সময় উচ্চ ঘনত্বের Oxygen (হাইপারঅক্সিয়া) Oxygen বিষক্রিয়া, ফুসফুসের জ্বালা, অ্যাবজর্পশন অ্যাটেলেক্টাসিস এবং প্রিটার্ম শিশুদের ক্ষেত্রে রেটিনোপ্যাথি অফ প্রিম্যাচুরিটি ঘটাতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী হাইপারক্যাপনিক শ্বাসযন্ত্র ব্যর্থতাযুক্ত কিছু রোগীর ক্ষেত্রে অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ প্রবাহের Oxygen কার্বন ডাই অক্সাইড ধরে রাখাও বাড়িয়ে দিতে পারে, তাই প্রবাহ/ঘনত্ব সবসময় চিকিৎসকের দ্বারা সামঞ্জস্য ও পর্যবেক্ষণ করা উচিত।

বাড়িতে Oxygen ব্যবহারে কী সতর্কতা প্রয়োজন?

Oxygen দহনকে সহায়তা করে বলে খোলা আগুন, স্ফুলিঙ্গ, ধূমপান এবং তেল বা গ্রিজজাতীয় পণ্য থেকে দূরে রাখা উচিত। সিলিন্ডার সোজা অবস্থায়, নিরাপদে আটকে, সুবাতাসযুক্ত স্থানে তাপ থেকে দূরে সংরক্ষণ করা উচিত, এবং সমস্ত Oxygen সরঞ্জাম শিশুদের নাগালের বাইরে রাখা উচিত।

Oxygen এর সাথে অন্য ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া আছে কি?

Oxygen দৈহিকভাবে বিপাকিত হয় না বলে এর মিথষ্ক্রিয়া কম, তবে উচ্চ ঘনত্বের Oxygen ব্লিওমাইসিন গ্রহণকারী রোগীদের ফুসফুসের বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং প্যারাকোয়াট বিষক্রিয়ায় ফুসফুসের ক্ষতি বাড়িয়ে দিতে পারে; এসব পরিস্থিতিতে চিকিৎসক সেই অনুযায়ী Oxygen ব্যবহার সামঞ্জস্য করবেন।

ডিসক্লেইমার

এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।

DoctorBlogArticles