জেনেরিক ওষুধ

Zafirlukast: বাংলাদেশে ব্র্যান্ড, দাম ও ব্যবহার

Zafirlukast একটি লিউকোট্রাইন রিসেপ্টর প্রতিপক্ষ (leukotriene receptor antagonist) যা প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশুদের ক্ষেত্রে হাঁপানি (asthma) প্রতিরোধ ও দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ চিকিৎসার জন্য নির্দেশিত।

ধরন:Tablet

Zafirlukast সম্পর্কে

Zafirlukast-এর নির্দেশনা

Zafirlukast একটি লিউকোট্রাইন রিসেপ্টর প্রতিপক্ষ (leukotriene receptor antagonist) যা প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশুদের ক্ষেত্রে হাঁপানি (asthma) প্রতিরোধ ও দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ চিকিৎসার জন্য নির্দেশিত।

প্রতিষ্ঠিত ব্যবহার

  • ৫ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্রনিক হাঁপানি প্রতিরোধ ও দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ চিকিৎসা।

Zafirlukast হঠাৎ শুরু হওয়া হাঁপানির খিঁচুনি (acute bronchospasm) বা তীব্র আক্রমণ উপশমের জন্য ব্যবহৃত হয় না। এটি জরুরি ব্যবহারের ওষুধ নয়; তীব্র উপসর্গের জন্য একটি দ্রুত-কার্যকর ব্রঙ্কোডাইলেটর সর্বদা হাতের কাছে রাখা প্রয়োজন।

Zafirlukast-এর মাত্রা ও সেবনবিধি

Zafirlukast-এর মাত্রা বয়স অনুযায়ী নির্ধারিত হয় এবং উপসর্গহীন সময়েও দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ চিকিৎসার অংশ হিসেবে নিয়মিত সেবন চালিয়ে যেতে হয়।

রোগীর ধরনপ্রস্তাবিত মাত্রা
প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছর বা তদূর্ধ্ব শিশু২০ মি.গ্রা. মুখে দিনে দুইবার
৫ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশু১০ মি.গ্রা. মুখে দিনে দুইবার
বয়স্ক রোগীস্বাভাবিক প্রাপ্তবয়স্ক মাত্রা; ক্লিয়ারেন্স ২-৩ গুণ কমতে পারে, তাই পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন

Zafirlukast খাবারের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে অথবা ২ ঘণ্টা পরে সেবন করা উচিত, কারণ খাবার এর শোষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।

Zafirlukast-এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

Zafirlukast-এর সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • মাথাব্যথা
  • বমি বমি ভাব
  • ডায়রিয়া
  • গলাব্যথা ও শ্বাসনালীর সংক্রমণ
  • সাধারণ ব্যথা ও দুর্ঘটনাজনিত আঘাত

বিরল কিন্তু গুরুতর ঝুঁকি — যেমন যকৃতের ক্ষতি, মানসিক আচরণগত পরিবর্তন এবং Churg-Strauss syndrome — এর বিস্তারিত বিবরণ সতর্কতা অংশে দেওয়া আছে; এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Zafirlukast-এর প্রতিনির্দেশনা

Zafirlukast নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে প্রতিনির্দেশিত (contraindicated):

  • Zafirlukast বা এর যেকোনো উপাদানের প্রতি পরিচিত অতি সংবেদনশীলতা।
  • যকৃতের কার্যক্ষমতা হ্রাসপ্রাপ্ত রোগী, সিরোসিসসহ, কারণ Zafirlukast-এর সাথে যকৃতের ক্ষতির ঝুঁকি জড়িত (বিস্তারিত সতর্কতা অংশে দেখুন)।

Zafirlukast সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

Zafirlukast কী কাজে ব্যবহৃত হয়?

Zafirlukast একটি লিউকোট্রাইন রিসেপ্টর প্রতিপক্ষ, যা ৫ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্রনিক হাঁপানি প্রতিরোধ ও দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি হঠাৎ শুরু হওয়া হাঁপানির আক্রমণে ব্যবহৃত হয় না।

Zafirlukast কি হঠাৎ শুরু হওয়া হাঁপানির আক্রমণ থামাতে ব্যবহার করা যায়?

না। Zafirlukast জরুরি ওষুধ নয় এবং তীব্র শ্বাসকষ্ট দ্রুত উপশম করতে পারে না। Zafirlukast সেবনকারী রোগীদের সবসময় একটি দ্রুত-কার্যকর ইনহেলার হাতের কাছে রাখতে হবে।

Zafirlukast কীভাবে সেবন করতে হয়?

Zafirlukast খালি পেটে, খাবারের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে অথবা ২ ঘণ্টা পরে সেবন করতে হয়, কারণ খাবার এর শোষণ প্রায় ৪০% কমিয়ে দেয়। এটি নিয়মিতভাবে দিনে দুইবার সেবন করতে হবে, এমনকি ভালো বোধ করলেও।

Zafirlukast সম্পর্কে কোন গুরুতর ঝুঁকিগুলো জানা উচিত?

Zafirlukast-এর সাথে বিরল কিন্তু গুরুতর যকৃতের ক্ষতির সম্পর্ক আছে; ত্বক/চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া, ডান পাশে পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, ক্লান্তি বা চুলকানি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। এছাড়াও Zafirlukast বিরল ক্ষেত্রে মানসিক পরিবর্তন (যেমন বিষণ্নতা বা আত্মহত্যার চিন্তা) এবং খুব বিরল ক্ষেত্রে Churg-Strauss syndrome নামক একটি রক্তনালী ও ফুসফুসের সমস্যার সাথে সম্পর্কিত, বিশেষত স্টেরয়েডের মাত্রা কমানোর সময়। এসব উপসর্গ দেখা দিলে সাথে সাথে চিকিৎসককে জানান।

যকৃতের সমস্যা থাকলে কি Zafirlukast সেবন করা যাবে?

না। যকৃতের কার্যক্ষমতা হ্রাসপ্রাপ্ত রোগী, সিরোসিসসহ, ক্ষেত্রে Zafirlukast সম্পূর্ণ প্রতিনির্দেশিত, কারণ এর সাথে যকৃতের ক্ষতির ঝুঁকি জড়িত।

গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে Zafirlukast কি নিরাপদ?

Zafirlukast গর্ভাবস্থায় কেবল স্পষ্ট প্রয়োজন হলে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত। Zafirlukast বুকের দুধে নির্গত হয় কিনা তা নিশ্চিতভাবে জানা নেই, তাই স্তন্যদানকালে ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

ডিসক্লেইমার

এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।

DoctorBlogArticles