
M-Son Spray50 mcg/spr
Drug International Ltd.

Nasonex একটি সিন্থেটিক কর্টিকোস্টেরয়েড যা ত্বকে প্রয়োগের জন্য, নাকে স্প্রে হিসেবে এবং শ্বাসের মাধ্যমে ইনহেলার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর প্রধান ব্যবহারগুলো হলো:
ইনহেলার ও নাসাল স্প্রে আকারে Nasonex শুধুমাত্র নিয়ন্ত্রণমূলক চিকিৎসার জন্য, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বা তীব্র উপসর্গ উপশমের জন্য নয়।
Nasonex একটি টপিক্যাল/ইনহেলড/নাসাল কর্টিকোস্টেরয়েড (গ্লুকোকর্টিকয়েড) শ্রেণির ওষুধ, যা ফর্মুলেশন অনুযায়ী মাঝারি থেকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সিন্থেটিক কর্টিকোস্টেরয়েড হিসেবে বিবেচিত।
Mometasone Furoate গ্লুকোকর্টিকয়েড রিসেপ্টরের সাথে যুক্ত হয়ে প্রদাহবিরোধী প্রভাব সৃষ্টি করে। এর ফলে প্রদাহজনক মধ্যস্থতাকারী পদার্থ (সাইটোকাইন, প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন, লিউকোট্রিন) নিঃসরণ কমে যায় এবং প্রদাহজনক কোষগুলোর (ইওসিনোফিল, নিউট্রোফিল, লিম্ফোসাইট) স্থানান্তর হ্রাস পায়।
ত্বকে প্রয়োগে এটি প্রদাহ, চুলকানি ও লালচেভাব কমায়। নাকে ব্যবহারে এটি অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের কারণে নাকের মিউকোসার প্রদাহ, বন্ধভাব ও শ্লেষ্মা নিঃসরণ কমায়। ইনহেলেশনে এটি হাঁপানির ভিত্তিতে থাকা শ্বাসনালীর প্রদাহ কমায়।
সব ফর্মুলেশনেই Mometasone Furoate-এর সিস্টেমিক শোষণ খুবই কম, যা নির্দেশিত মাত্রায় ব্যবহার করলে সিস্টেমিক কর্টিকোস্টেরয়েড প্রভাবের ঝুঁকি সীমিত রাখে।
প্রাপ্তবয়স্ক ও ২ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে: আক্রান্ত স্থানে দিনে একবার পাতলা প্রলেপ প্রয়োগ করুন; উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে এলে বন্ধ করে দিন।
| নির্দেশনা | বয়সসীমা | মাত্রা |
|---|---|---|
| অ্যালার্জিক রাইনাইটিস | ১২ বছর ও তদূর্ধ্ব | প্রতিদিন একবার প্রতি নাসারন্ধ্রে ২টি স্প্রে (মোট ২০০ mcg/দিন) |
| অ্যালার্জিক রাইনাইটিস (OTC) | ২-১১ বছর | বড়দের তত্ত্বাবধানে দিনে একবার প্রতি নাসারন্ধ্রে ১টি স্প্রে |
| নাসাল পলিপসহ রাইনোসাইনুসাইটিস | ১৮ বছর ও তদূর্ধ্ব | দিনে দুইবার প্রতি নাসারন্ধ্রে ২টি স্প্রে (মোট ৪০০ mcg/দিন পর্যন্ত) |
প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছরের বেশি বয়সীদের সাধারণত সন্ধ্যায় দিনে একবার ২২০ mcg (প্রয়োজনে দিনে দুইবার পর্যন্ত) দেওয়া হয়; ৪-১১ বছর বয়সী শিশুদের সন্ধ্যায় দিনে একবার ১১০ mcg দেওয়া হয়।
ইনহেলার ব্যবহারের পর মুখ ধুয়ে ফেলুন (গিলবেন না) যাতে মুখে ফাংগাল ইনফেকশনের (ওরাল ক্যানডিডিয়াসিস) ঝুঁকি কমে। নাসাল স্প্রে ব্যবহারের আগে ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন। Nasonex ইনহেলার ও নাসাল স্প্রে হঠাৎ উপসর্গ উপশমের জন্য নয়; হাঁপানির তীব্র উপসর্গের জন্য দ্রুত-কার্যকর ব্রঙ্কোডাইলেটর ব্যবহার করতে হবে, Nasonex নয়।
শক্তিশালী CYP3A4 ইনহিবিটর (যেমন কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, রিটোনাভির, ক্লারিথ্রোমাইসিন) Nasonex-এর বিপাক বাধাগ্রস্ত করে এর সিস্টেমিক ঘনত্ব বাড়াতে পারে, যার ফলে সিস্টেমিক কর্টিকোস্টেরয়েড প্রভাবের (যেমন অ্যাড্রিনাল সাপ্রেশন) ঝুঁকি বাড়ে। এসব ওষুধের সাথে একসাথে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন এবং রোগীকে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
অন্য কোনো উৎস থেকে সিস্টেমিক, টপিক্যাল, ইনহেলড বা নাসাল কর্টিকোস্টেরয়েড একসাথে ব্যবহার করলে সামগ্রিক সিস্টেমিক কর্টিকোস্টেরয়েড প্রভাব বেড়ে যেতে পারে।
Mometasone Furoate বা এর যেকোনো উপাদানের প্রতি পরিচিত অতি সংবেদনশীলতা (হাইপারসেনসিটিভিটি) থাকলে এটি ব্যবহার করা যাবে না।
ইনহেলার আকারে Mometasone Furoate তীব্র হাঁপানি আক্রমণ (স্ট্যাটাস অ্যাজমাটিকাস) বা হঠাৎ শ্বাসকষ্টের প্রাথমিক চিকিৎসায় ব্যবহার করা যাবে না, কারণ এটি ব্রঙ্কোডাইলেটর নয় এবং তাৎক্ষণিক শ্বাসনালীর সংকোচন উপশমে এর কোনো ভূমিকা নেই।
সঠিক মাত্রায় Nasonex ব্যবহারে সিস্টেমিক কর্টিকোস্টেরয়েড প্রভাব বিরল, তবে অতিরিক্ত বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে ঘটতে পারে।
গর্ভাবস্থা: গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে Nasonex-এর তথ্য সীমিত। সিস্টেমিক শোষণ কম হলেও, স্পষ্ট প্রয়োজন না হলে এবং সম্ভাব্য উপকারিতা ভ্রূণের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি না হলে Nasonex ব্যবহার করা উচিত নয়। শুধুমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে।
স্তন্যদান: Nasonex বুকের দুধে কী পরিমাণে নিঃসৃত হয় তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা নেই। সিস্টেমিক শোষণ কম হওয়ায় শিশুর জন্য ঝুঁকি সাধারণত সীমিত বলে মনে করা হয়, তবুও স্তন্যদানকালে ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
স্থানীয় প্রভাব: মুখমণ্ডল, কুঁচকি বা বগলে অথবা অক্লুসিভ ড্রেসিংয়ের নিচে দীর্ঘমেয়াদি Nasonex ব্যবহার এড়িয়ে চলুন, কারণ এতে ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। নাসাল ব্যবহারে নাক দিয়ে রক্তপাত ও বিরল ক্ষেত্রে পর্দা ছিদ্র হতে পারে; সম্প্রতি নাকে অস্ত্রোপচার বা আঘাত থাকলে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন।
তীব্র উপসর্গের জন্য নয়: ইনহেলার আকারে Nasonex শুধুমাত্র নিয়ন্ত্রণমূলক চিকিৎসার জন্য; হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি আক্রমণের চিকিৎসায় এটি ব্যবহার করা যাবে না এবং রোগীর কাছে দ্রুত-কার্যকর রেসকিউ ইনহেলার থাকা উচিত।
সংক্রমণ: চিকিৎসাধীন না থাকা ত্বক, নাক বা শ্বাসনালীর সংক্রমণ (ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা ভাইরাসজনিত) থাকলে Nasonex ব্যবহার করা উচিত নয়, যদি না সংক্রমণের চিকিৎসা একই সাথে চলছে। চিকেনপক্স, হাম বা সক্রিয় যক্ষ্মা থাকলে সতর্কতা প্রয়োজন।
দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব: দীর্ঘমেয়াদি বা উচ্চমাত্রায় Nasonex ব্যবহারে অ্যাড্রিনাল সাপ্রেশন এবং শিশুদের বৃদ্ধি হ্রাস হতে পারে; সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রা ব্যবহার করুন এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় থাকা শিশুদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন।
চোখের প্রভাব: দীর্ঘমেয়াদি নাসাল বা ইনহেলড ব্যবহারে গ্লুকোমা ও ছানি পড়ার ঝুঁকি থাকতে পারে; নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো উচিত।
Nasonex-এর সিস্টেমিক শোষণ কম হওয়ায় হঠাৎ মাত্রাধিক্যতায় জীবনসংশয়ী উপসর্গ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে দীর্ঘমেয়াদি বা অতিরিক্ত ব্যবহারে সিস্টেমিক কর্টিকোস্টেরয়েড আধিক্যের (হাইপারকর্টিসিজম) লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
বড় পরিমাণে ভুলবশত গ্রহণ করলে বা মাত্রাধিক্যতার উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন বা নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে/বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। এর কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক (অ্যান্টিডোট) নেই; চিকিৎসা লক্ষণভিত্তিক ও সহায়ক হবে।
ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় (৩০°সে-এর নিচে), আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে সংরক্ষণ করুন। নাসাল স্প্রে বা ইনহেলার হিমায়িত করবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
শিশুদের ক্ষেত্রে: ত্বকে ব্যবহারের জন্য Nasonex ২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে অনুমোদিত; নাসাল স্প্রে ফর্মুলেশন ও নির্দেশনা অনুযায়ী ২ বা ১২ বছর বয়স থেকে ব্যবহারযোগ্য; ইনহেলার ৪ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে অনুমোদিত। এর চেয়ে কম বয়সীদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত নয়। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় থাকা শিশুদের বৃদ্ধির হার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
বয়স্কদের ক্ষেত্রে: বয়স্ক ও তরুণ রোগীদের মধ্যে Nasonex-এর প্রতিক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি, তবে কিছু বয়স্ক রোগীর ক্ষেত্রে বাড়তি সংবেদনশীলতা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
লিভার সমস্যায়: উল্লেখযোগ্য লিভারের রোগ থাকলে Nasonex-এর প্লাজমা ঘনত্ব বাড়তে পারে; এমন রোগীদের সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
Q: Nasonex 50 mcg/spray Nasal Spray কী কী সমস্যায় ব্যবহার করা হয়?
A: ফর্মুলেশন অনুযায়ী Nasonex 50 mcg/spray Nasal Spray ত্বকের প্রদাহজনিত সমস্যা (একজিমা, সোরিয়াসিস) এর জন্য ক্রিম/অয়েন্টমেন্ট আকারে, অ্যালার্জিক রাইনাইটিস ও নাসাল পলিপের জন্য নাসাল স্প্রে আকারে, এবং হাঁপানির দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণে ইনহেলার আকারে ব্যবহার করা হয়।
Q: Nasonex 50 mcg/spray Nasal Spray কি হঠাৎ হাঁপানির আক্রমণে ব্যবহার করা যায়?
A: না। ইনহেলার আকারে Nasonex 50 mcg/spray Nasal Spray শুধুমাত্র নিয়ন্ত্রণমূলক চিকিৎসার জন্য এবং এটি তাৎক্ষণিক শ্বাসকষ্ট উপশম করে না। হঠাৎ শ্বাসকষ্টের জন্য আলাদা দ্রুত-কার্যকর রেসকিউ ইনহেলার ব্যবহার করতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
Q: গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে কি Nasonex 50 mcg/spray Nasal Spray ব্যবহার করা নিরাপদ?
A: স্পষ্ট প্রয়োজন না হলে এবং সম্ভাব্য উপকারিতা ঝুঁকির চেয়ে বেশি না হলে গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে Nasonex 50 mcg/spray Nasal Spray ব্যবহার করা উচিত নয়; শুধুমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় ব্যবহার করা উচিত, কারণ মানুষের ক্ষেত্রে তথ্য সীমিত।
Q: Nasonex 50 mcg/spray Nasal Spray-এর সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কী কী?
A: ফর্মুলেশনভেদে সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে প্রয়োগস্থলে জ্বালাপোড়া, নাসাল স্প্রে ব্যবহারে মাথাব্যথা ও নাক দিয়ে রক্তপাত, এবং ইনহেলার ব্যবহারে মুখে ফাংগাল ইনফেকশন বা কণ্ঠস্বর ভারী হওয়া। ইনহেলার ব্যবহারের পর মুখ ধুয়ে ফেললে ফাংগাল ইনফেকশনের ঝুঁকি কমে।
Q: Nasonex 50 mcg/spray Nasal Spray কি হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া যায়?
A: দীর্ঘমেয়াদি বা উচ্চমাত্রায় Nasonex 50 mcg/spray Nasal Spray ব্যবহার হঠাৎ বন্ধ করা উচিত নয়, কারণ এতে অ্যাড্রিনাল সাপ্রেশন প্রকাশ পেতে পারে; মাত্রা পরিবর্তন বা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়া উচিত।
Q: কাদের Nasonex 50 mcg/spray Nasal Spray ব্যবহার করা উচিত নয়?
A: যাদের মোমেটাসোন ফিউরোয়েট বা নির্দিষ্ট পণ্যের কোনো উপাদানে পরিচিত অতি সংবেদনশীলতা রয়েছে তাদের Nasonex 50 mcg/spray Nasal Spray ব্যবহার করা উচিত নয়, এবং ইনহেলার আকারে Nasonex 50 mcg/spray Nasal Spray তীব্র হাঁপানি আক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যাবে না।
ডিসক্লেইমার
এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।