Product gallery
MRP ৳ ৪৫.০০১০% ডিস্কাউন্ট
Best PriceTk ৪০.৫০/20 gm tube
১
Section

Medicine overview

নির্দেশনা

ত্বকের ফাঙ্গাল ইনফেকশন (টপিক্যাল)

Neosten ক্রিম ও টপিক্যাল সলিউশন ডার্মাটোফাইট, ইস্ট এবং মোল্ড দ্বারা সৃষ্ট ত্বকের ফাঙ্গাল ইনফেকশনের জন্য প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা, যেমন— দাদ (টিনিয়া করপোরিস), অ্যাথলিট'স ফুট (টিনিয়া পেডিস), জক ইচ (টিনিয়া ক্রুরিস), ত্বকের ভাঁজের ক্যান্ডিডিয়াসিস, পিটিরিয়াসিস ভার্সিকলর এবং এরিথ্রাসমা। এই ব্যবহারের ক্ষেত্রে Neosten শুধু ত্বকে প্রয়োগ করা হয়।

ভালভোভ্যাজাইনাল ক্যান্ডিডিয়াসিস (ভ্যাজাইনাল ট্যাবলেট)

Neosten-এর ভ্যাজাইনাল ট্যাবলেট ফর্মুলেশন যোনিপথে চুলকানি, জ্বালাপোড়া ও স্রাবের কারণ ভ্যাজাইনাল ইস্ট ইনফেকশন (Candida সংক্রমণ) চিকিৎসায় প্রতিষ্ঠিত। এই ফর্মুলেশন প্রাপ্তবয়স্ক ও কিশোরী নারীদের জন্য, শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় না।

মুখের ক্যান্ডিডিয়াসিস (ওরাল ট্রোচ)

মুখে ধীরে ধীরে গলিয়ে খাওয়ার ওরাল ট্রোচ (লজেঞ্জ) ফর্মুলেশন ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া ওরোফ্যারিঞ্জিয়াল ক্যান্ডিডিয়াসিস (মুখের থ্রাশ) চিকিৎসায় প্রতিষ্ঠিত, এবং ইমিউনোকম্প্রোমাইজড রোগীদের (যেমন কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি বা উচ্চ-মাত্রার স্টেরয়েড থেরাপির সময়) প্রতিরোধমূলক (prophylactic) ব্যবহারেও প্রযোজ্য। স্থানীয় বাজারে এই ফর্মুলেশনের প্রাপ্যতা সীমিত হতে পারে, ফার্মাসিস্টের সাথে যাচাই করে নিন।

কানের ফাঙ্গাল ইনফেকশন (ইয়ার ড্রপ)

Neosten ইয়ার ড্রপ সংবেদনশীল ফাঙ্গাস ও ইস্ট দ্বারা সৃষ্ট বহিঃকর্ণের ফাঙ্গাল ইনফেকশন (otomycosis)-এ যথাযথ কানের যত্নের সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ফাঙ্গাল কেরাটাইটিস (আই অয়েন্টমেন্ট)

Neosten আই অয়েন্টমেন্ট শুধুমাত্র চক্ষু বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ফিলামেন্টাস ফাঙ্গাস ও Candida প্রজাতি দ্বারা সৃষ্ট ফাঙ্গাল কেরাটাইটিসে ব্যবহৃত হয়। Neosten আই অয়েন্টমেন্টের এই ব্যবহার বিশেষজ্ঞ-নির্দেশিত এবং চোখ পরীক্ষা ও রোগ নির্ণয় ছাড়া কখনও নিজে থেকে Neosten আই অয়েন্টমেন্ট ব্যবহার করা উচিত নয়।

থেরাপিউটিক ক্লাস

থেরাপিউটিক ক্লাস: অ্যান্টিফাঙ্গাল (ইমিডাজল গোত্র)।

উপাদান: টপিক্যাল ক্রিম/সলিউশন – Neosten ১%; ভ্যাজাইনাল ট্যাবলেট – Neosten ১০০ মি.গ্রা., ২০০ মি.গ্রা. বা ৫০০ মি.গ্রা.; ইয়ার ড্রপ – Neosten ১%; আই অয়েন্টমেন্ট – Neosten ১%; ওরাল ট্রোচ (যেখানে পাওয়া যায়) – Neosten ১০ মি.গ্রা়।

সংক্ষিপ্ত বিবরণ: Neosten একটি অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ যা বিভিন্ন ধরনের ফাঙ্গাল ও ইস্ট ইনফেকশনের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, ফর্মুলেশনের ওপর নির্ভর করে। Neosten ত্বকের ইনফেকশনের জন্য ক্রিম/সলিউশন, ভ্যাজাইনাল ইস্ট ইনফেকশনের জন্য ভ্যাজাইনাল ট্যাবলেট, কানের ইনফেকশনের জন্য ইয়ার ড্রপ, শুধুমাত্র বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চোখের ইনফেকশনের জন্য আই অয়েন্টমেন্ট, এবং কিছু বাজারে মুখের থ্রাশের জন্য ওরাল ট্রোচ হিসেবে পাওয়া যায়। Neosten ফাঙ্গাসের কোষপর্দা নষ্ট করে ফাঙ্গাসের বৃদ্ধি বন্ধ করে। যেহেতু ফর্মুলেশনভেদে মাত্রা ও নিরাপদ ব্যবহার ভিন্ন, তাই নির্দিষ্ট ফর্মুলেশনের জন্য ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের নির্দেশ অনুযায়ী Neosten ব্যবহার করা উচিত।

ফার্মাকোলজি

Clotrimazole একটি ব্রড-স্পেকট্রাম ইমিডাজল অ্যান্টিফাঙ্গাল যা ফাঙ্গাসের সাইটোক্রোম P450-নির্ভর ১৪-আলফা-ডিমিথাইলেজ এনজাইম বাধা দিয়ে ল্যানোস্টেরল থেকে আর্গোস্টেরল (ফাঙ্গাল কোষপর্দার একটি অপরিহার্য উপাদান) তৈরিতে বাধা দেয়। আর্গোস্টেরলের অভাবে কোষপর্দার প্রবেশযোগ্যতা বেড়ে যায়, ফলে কোষের ভেতরের উপাদান বেরিয়ে যায় এবং ফাঙ্গাল কোষ মারা যায়; উচ্চ মাত্রায় Clotrimazole সরাসরি কোষপর্দা ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ক্যালসিয়াম চ্যানেলেও প্রভাব ফেলে। ফর্মুলেশনভেদে শোষণ ভিন্ন হয়— অক্ষত ত্বকে টপিক্যাল প্রয়োগের পর শোষণ নগণ্য; যোনিপথে প্রয়োগের পর প্রায় ৩-১০% রক্তে শোষিত হয় এবং যোনিতে ফাঙ্গিসাইডাল ঘনমাত্রা প্রায় ৩ দিন পর্যন্ত বজায় থাকে; ওরাল ট্রোচ ব্যবহারের পর সিস্টেমিক শোষণ ন্যূনতম, তবে ট্রোচ গলে যাওয়ার পর বেশ কয়েক ঘণ্টা লালায় ওষুধ সনাক্ত করা যায়। টপিক্যাল, ভ্যাজাইনাল, কান ও চোখের ফর্মুলেশনে সিস্টেমিক শোষণ কম হওয়ায় এসব রুটের জন্য বিস্তারিত সিস্টেমিক ফার্মাকোকাইনেটিক তথ্য (বিপাক, নিষ্কাশন) সীমিত।

মাত্রা ও সেবনবিধি

Neosten-এর মাত্রা, শক্তি ও সেবনকাল প্রতিটি ফর্মুলেশনে একরকম নয়— ত্বকের ক্রিম, ভ্যাজাইনাল ট্যাবলেট, ইয়ার ড্রপ, আই অয়েন্টমেন্ট এবং ওরাল ট্রোচ প্রতিটির নিয়ম আলাদা। ব্যবহারের আগে নির্দিষ্ট ইনফেকশনের জন্য সঠিক ফর্মুলেশন, শক্তি ও সেবনকাল সম্পর্কে ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

নিচের সারণিতে দেওয়া মাত্রা ডাক্তারের নির্ধারিত সাধারণ নির্দেশনা মাত্র, এবং সব ইনফেকশনের জন্য এক ধরনের মাত্রা প্রযোজ্য নয়।

ফর্মুলেশন / ইনফেকশনসাধারণ মাত্রা
টপিক্যাল ক্রিম/সলিউশন – দাদ, অ্যাথলিট'স ফুট, জক ইচদিনে ২-৩ বার আক্রান্ত ও আশপাশের ত্বকে পাতলা করে লাগাতে হবে, প্রায় ৩-৪ সপ্তাহ
টপিক্যাল ক্রিম/সলিউশন – কিউটেনিয়াস ক্যান্ডিডিয়াসিসদিনে ২-৩ বার পাতলা করে লাগাতে হবে, প্রায় ১-২ সপ্তাহ
টপিক্যাল ক্রিম/সলিউশন – পিটিরিয়াসিস ভার্সিকলর, এরিথ্রাসমাদিনে ২-৩ বার পাতলা করে লাগাতে হবে, প্রায় ৩ সপ্তাহ
ভ্যাজাইনাল ট্যাবলেট – প্রথমবার ইনফেকশন২০০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট প্রতি রাতে যোনিতে প্রবেশ করাতে হবে, একটানা ৩ দিন
ভ্যাজাইনাল ট্যাবলেট – বারবার ফিরে আসা ইনফেকশন১০০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট প্রতি রাতে, একটানা ৬ দিন, অথবা ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী
ভ্যাজাইনাল ট্যাবলেট – একক মাত্রার বিকল্প৫০০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট একবারে একক মাত্রায়
ইয়ার ড্রপ – কানের ফাঙ্গাল ইনফেকশনআক্রান্ত কানে দিনে ২-৩ বার ২-৩ ফোঁটা করে; ইনফেকশনের লক্ষণ কমে যাওয়ার পরও অন্তত ২ সপ্তাহ চালিয়ে যেতে হবে
আই অয়েন্টমেন্ট – ফাঙ্গাল কেরাটাইটিস (শুধুমাত্র বিশেষজ্ঞের নির্দেশে)প্রতি ৪ ঘণ্টা অন্তর বা চক্ষু বিশেষজ্ঞের নির্দেশ অনুযায়ী কনজাংটিভাল স্যাকে পাতলা করে লাগাতে হবে
ওরাল ট্রোচ – ওরোফ্যারিঞ্জিয়াল ক্যান্ডিডিয়াসিস (চিকিৎসা)১০ মি.গ্রা. ট্রোচ মুখে ধীরে ধীরে গলিয়ে খেতে হবে, দিনে ৫ বার, একটানা ১৪ দিন
ওরাল ট্রোচ – ইমিউনোকম্প্রোমাইজড রোগীদের প্রতিরোধমূলক ব্যবহার১০ মি.গ্রা. ট্রোচ মুখে ধীরে ধীরে গলিয়ে খেতে হবে, দিনে ৩ বার, ঝুঁকিপূর্ণ সময়কাল জুড়ে

সেবনবিধি

  • টপিক্যাল ক্রিম/সলিউশন: আক্রান্ত স্থান ধুয়ে শুকিয়ে নিয়ে পাতলা স্তরে লাগিয়ে আলতোভাবে মালিশ করুন; প্রয়োগের পর হাত ধুয়ে নিন।
  • ভ্যাজাইনাল ট্যাবলেট: সরবরাহকৃত অ্যাপ্লিকেটর দিয়ে ট্যাবলেটটি যোনির গভীরে প্রবেশ করান, সাধারণত রাতে শোয়ার আগে, হাঁটু ভাঁজ করে চিত হয়ে শুয়ে; প্রতিবার ব্যবহারের পর অ্যাপ্লিকেটর ধুয়ে শুকিয়ে রাখুন।
  • ইয়ার ড্রপ: মাথা কাত করে কানের ভেতরে ড্রপ দিন; ড্রপ ভালোভাবে বসার জন্য কিছুক্ষণ মাথা কাত করে রাখুন।
  • আই অয়েন্টমেন্ট: শুধুমাত্র চক্ষু বিশেষজ্ঞের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবহার করুন, টিউবের মুখ দূষিত না করার জন্য পরিষ্কার পদ্ধতিতে; চোখ লাল হওয়া বা অস্বস্তির জন্য নিজে থেকে ব্যবহার করবেন না।
  • ওরাল ট্রোচ: মুখের ভেতর সর্বোচ্চ সংস্পর্শ সময়ের জন্য ট্রোচটি ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ গলাতে দিন (চিবাবেন না বা গোটা গিলে ফেলবেন না)।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

  • ল্যাটেক্স কনডম ও ডায়াফ্রাম (ভ্যাজাইনাল ফর্মুলেশন): ভ্যাজাইনাল Neosten প্রস্তুতি, বিশেষ করে ক্রিম এবং কিছু ট্যাবলেটের বেস, ল্যাটেক্স রাবার দুর্বল করে দিতে পারে, ফলে চিকিৎসার সময় ও তার পরপরই ল্যাটেক্স কনডম ও ডায়াফ্রামের গর্ভনিরোধক/বাধাজনিত সুরক্ষা কার্যকারিতা কমে যেতে পারে; বিকল্প বা অতিরিক্ত গর্ভনিরোধক ব্যবস্থা নিয়ে ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে আলোচনা করা উচিত।
  • টাক্রোলিমাস: Neosten-এর উল্লেখযোগ্য সিস্টেমিক এক্সপোজার হলে (যেমন ওরাল ট্রোচ ব্যবহারে, বা ব্যাপক/দীর্ঘমেয়াদী ভ্যাজাইনাল বা টপিক্যাল ব্যবহারে), Neosten রক্তে টাক্রোলিমাসের মাত্রা বাড়াতে পারে, যা টাক্রোলিমাস-সংক্রান্ত বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়; একসাথে ব্যবহার ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে করা উচিত।
  • অন্যান্য টপিক্যাল বা ভ্যাজাইনাল পণ্য: ভ্যাজাইনাল Neosten ট্যাবলেটের সাথে একই সময়ে অন্য ভ্যাজাইনাল ওষুধ, ডুশ বা ট্যাম্পন ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এতে কার্যকারিতা কমতে পারে বা জ্বালাপোড়া বাড়তে পারে; অন্য টপিক্যাল ত্বকের পণ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে ফার্মাসিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী সময়ের ব্যবধান রাখুন।

প্রতিনির্দেশনা

যাদের Clotrimazole বা নির্দিষ্ট প্রস্তুতির অন্য কোনো উপাদানের প্রতি অতি সংবেদনশীলতা (hypersensitivity) রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে Clotrimazole প্রতিনির্দেশিত (contraindicated)।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

সাধারণ

প্রয়োগস্থলে হালকা প্রতিক্রিয়াই সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এবং ফর্মুলেশনভেদে কিছুটা ভিন্ন হয়: প্রয়োগস্থলে (ত্বক, যোনি, কানের নালি বা চোখ, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) হালকা জ্বালাপোড়া, চুলকানি, লালচেভাব বা অস্বস্তি; ওরাল ট্রোচের ক্ষেত্রে মুখে অস্বাভাবিক স্বাদ বা অস্বস্তি, বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে।

গুরুতর / চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন

অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে— যেমন চাকা চাকা র‍্যাশ (hives), সারা শরীরে চুলকানি, মুখ/ঠোঁট/জিহ্বা/গলা ফুলে যাওয়া, বা শ্বাসকষ্ট— তাহলে Neosten বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বিশেষভাবে ওরাল ট্রোচের ক্ষেত্রে কিছু রোগীর চিকিৎসাকালে লিভার এনজাইম বেড়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, তাই দীর্ঘমেয়াদী কোর্সে ডাক্তার মাঝেমধ্যে লিভার ফাংশন পরীক্ষা করতে পারেন। প্রয়োগস্থলে মারাত্মক ফোসকা, চামড়া ওঠা বা ক্রমবর্ধমান জ্বালাপোড়া হলেও ডাক্তারকে জানাতে হবে।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থা

টপিক্যাল ও ভ্যাজাইনাল Neosten-এর সিস্টেমিক শোষণ কম (টপিক্যাল: নগণ্য; ভ্যাজাইনাল: প্রায় ৩-১০%), এবং প্রাপ্ত মানব তথ্য— যা মূলত গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকের ভ্যাজাইনাল ব্যবহার থেকে পাওয়া— প্রস্তাবিত মাত্রায় জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ার প্রমাণ দেখায়নি। প্রথম ত্রৈমাসিকের জন্য নির্দিষ্ট তথ্য তুলনামূলক সীমিত, তাই গর্ভাবস্থায় টপিক্যাল বা ভ্যাজাইনাল Neosten শুধুমাত্র ডাক্তার প্রয়োজনীয় মনে করলেই ব্যবহার করা উচিত, এবং চিকিৎসা শুরুর আগে গর্ভবতী নারীর সবসময় ডাক্তারকে জানানো উচিত। ওরাল ট্রোচের ক্ষেত্রে সিস্টেমিক এক্সপোজার বেশি— প্রাণী গবেষণায় মানুষের মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় ক্ষতিকর প্রভাব দেখা গেছে এবং পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রিত মানব গবেষণা নেই; তাই গর্ভাবস্থায় ওরাল ট্রোচ শুধুমাত্র ডাক্তার সুবিধা-ঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় মনে করলেই ব্যবহার করা উচিত।

স্তন্যদান

টপিক্যাল বা ভ্যাজাইনাল ব্যবহারের পর সামান্য পরিমাণ Neosten বুকের দুধে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং এতে স্তন্যপান করা শিশুর ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে ধারণা করা হয়; স্তন/নিপল অংশে প্রয়োগ করা হলে স্তন্যপান করানোর আগে অবশিষ্টাংশ মুছে ফেলা উচিত। ওরাল ট্রোচ সম্পর্কে স্তন্যদানকালীন তথ্য সীমিত; ব্যবহারের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সতর্কতা

  • শুধুমাত্র বাহ্যিক/স্থানীয় ব্যবহারের জন্য (টপিক্যাল, ভ্যাজাইনাল, ইয়ার ফর্ম): Neosten-এর এই ফর্মুলেশনগুলো খাওয়ার জন্য নয় এবং, বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট চক্ষু অয়েন্টমেন্ট ছাড়া, চোখের জন্যও নয়; ভুলবশত চোখে লাগলে প্রচুর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
  • নিজে চিকিৎসা করার আগে রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করুন: প্রেসক্রিপশন ছাড়া টপিক্যাল বা ভ্যাজাইনাল Neosten শুধুমাত্র আগে থেকে ডাক্তার-নির্ণীত ইনফেকশনে বা সাধারণ, জটিলতাহীন উপসর্গে ব্যবহার করা উচিত; প্রথমবার ভ্যাজাইনাল ইনফেকশন হলে, ছয় মাসে কয়েকবারের বেশি উপসর্গ ফিরে এলে, বা প্রত্যাশিত সময়ের মধ্যে উন্নতি না হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
  • ব্যারিয়ার গর্ভনিরোধক সতর্কতা: ভ্যাজাইনাল Neosten ল্যাটেক্স কনডম ও ডায়াফ্রামের নির্ভরযোগ্যতা কমাতে পারে— বিস্তারিত জানতে ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া দেখুন।
  • পুরো কোর্স সম্পূর্ণ করুন: উপসর্গ কমে গেলেও Neosten খুব তাড়াতাড়ি বন্ধ করলে ইনফেকশন আবার ফিরে আসতে পারে; ডাক্তারের ভিন্ন নির্দেশ না থাকলে নির্ধারিত সম্পূর্ণ সময়কাল মেনে চলতে হবে।
  • মাসিকের সময় এড়িয়ে চলুন (ভ্যাজাইনাল ট্যাবলেট): ভ্যাজাইনাল ট্যাবলেট চিকিৎসা সাধারণত মাসিকের সময়ের বাইরে সম্পন্ন করা ভালো, কারণ মাসিকের রক্তস্রাব ওষুধের সংস্পর্শ সময় ও কার্যকারিতা কমাতে পারে; চিকিৎসাকালে ট্যাম্পন ব্যবহার করা উচিত নয় কারণ ট্যাম্পন Neosten শুষে নিতে পারে।
  • আই অয়েন্টমেন্টে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধান আবশ্যক: ফাঙ্গাল কেরাটাইটিস একটি গুরুতর চোখের সমস্যা বলে, Neosten আই অয়েন্টমেন্ট শুধুমাত্র চক্ষু বিশেষজ্ঞের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এবং নিয়মিত ফলো-আপসহ ব্যবহার করা উচিত।

মাত্রাধিক্যতা

Neosten-এর টপিক্যাল, ভ্যাজাইনাল, ইয়ার ও আই ফর্মুলেশনের ক্ষেত্রে সিস্টেমিক শোষণ কম হওয়ায়, ভুলবশত সামান্য পরিমাণ বেশি ব্যবহার বা সেবনে সিস্টেমিক বিষক্রিয়ার সম্ভাবনা কম; অতিরিক্ত পরিমাণ প্রয়োগ করলে স্থানীয় জ্বালাপোড়া হতে পারে। যদি Neosten ক্রিম, ট্যাবলেট, ড্রপ বা অয়েন্টমেন্ট প্রত্যাশিত পরিমাণের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলা হয়, বিশেষত কোনো শিশু, তাহলে ডাক্তার বা জাতীয় বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ওরাল ট্রোচের জন্য নির্দিষ্ট মাত্রাধিক্যতার তথ্য প্রতিষ্ঠিত নয়, তবে সহায়ক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়; অতিরিক্ত বা দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে লিভার এনজাইম বৃদ্ধি এবং বমি বমি ভাব ও বমির মতো পাকস্থলী-সংক্রান্ত উপসর্গ দেখা গেছে; নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি ট্রোচ খেয়ে ফেললে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সংরক্ষণ

পণ্যের লেবেল অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন। সাধারণভাবে, Neosten ক্রিম, সলিউশন, ভ্যাজাইনাল ট্যাবলেট, ইয়ার ড্রপ এবং আই অয়েন্টমেন্ট ২৫°C-এর নিচে তাপমাত্রায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে, শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে সংরক্ষণ করতে হবে; মোড়কে মুদ্রিত মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখের পর ব্যবহার করবেন না।

শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার

শিশু: ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী নিশ্চিত হওয়া ফাঙ্গাল ত্বক ইনফেকশনে শিশুদের ক্ষেত্রে টপিক্যাল ত্বকের Neosten (ক্রিম/সলিউশন) ব্যবহার করা যেতে পারে। ভ্যাজাইনাল ট্যাবলেট শিশুদের জন্য নয়। ইয়ার ড্রপ ও আই অয়েন্টমেন্ট শুধুমাত্র ডাক্তার/বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানেই শিশুদের ব্যবহার করা উচিত। ওরাল ট্রোচ ৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য প্রতিনির্দেশিত, এবং শিশুদের প্রতিরোধমূলক ব্যবহারের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত নয়।

বয়স্ক ব্যক্তি: টপিক্যাল, ভ্যাজাইনাল, ইয়ার বা ট্রোচ ফর্মুলেশনের Neosten ব্যবহারে বয়স্কদের জন্য নির্দিষ্ট মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন প্রতিষ্ঠিত নয়; ত্বকের সংবেদনশীলতা ও সঠিক প্রয়োগ পদ্ধতি সংক্রান্ত সাধারণ সতর্কতা প্রযোজ্য।

কিডনি সমস্যা: টপিক্যাল, ভ্যাজাইনাল, ইয়ার ও চোখের ফর্মুলেশনের সিস্টেমিক শোষণ কম হওয়ায় কিডনি সমস্যায় নির্দিষ্ট মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন প্রতিষ্ঠিত নয়; ওরাল ট্রোচ কিডনি সমস্যায় নির্দিষ্টভাবে গবেষিত হয়নি, তাই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

লিভার সমস্যা: টপিক্যাল, ভ্যাজাইনাল, ইয়ার বা আই অয়েন্টমেন্ট Neosten-এর জন্য লিভার সমস্যায় নির্দিষ্ট মাত্রা সমন্বয়ের প্রয়োজন প্রতিষ্ঠিত নয়। যেহেতু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে ওরাল ট্রোচের সাথে লিভার এনজাইম বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গেছে, বিদ্যমান লিভার রোগ থাকলে ডাক্তারের নির্দেশনায় সতর্কতার সাথে এবং পর্যায়ক্রমিক লিভার ফাংশন পরীক্ষাসহ ব্যবহার করা উচিত।

গর্ভবতী/স্তন্যদানকারী নারী: বিস্তারিত জানতে গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে অংশটি দেখুন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

Neosten 20 gm Cream কী কাজে ব্যবহৃত হয়?

Neosten 20 gm Cream একটি অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ যা ফাঙ্গাল ও ইস্ট ইনফেকশনের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। ফর্মুলেশনভেদে Neosten 20 gm Cream ত্বকের ফাঙ্গাল ইনফেকশন (যেমন অ্যাথলিট'স ফুট, দাদ, জক ইচ), ভ্যাজাইনাল ইস্ট ইনফেকশন, কানের ফাঙ্গাল ইনফেকশন, এবং বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চোখের ফাঙ্গাল ইনফেকশন ও মুখের থ্রাশের চিকিৎসা করে।

Neosten 20 gm Cream কাজ করতে কত সময় লাগে?

অনেকেই টপিক্যাল বা ভ্যাজাইনাল Neosten 20 gm Cream শুরুর প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে উপসর্গের উন্নতি লক্ষ্য করেন, তবে ইনফেকশন সম্পূর্ণভাবে সারাতে ও ফিরে আসার সম্ভাবনা কমাতে নির্ধারিত সম্পূর্ণ কোর্স (একক ভ্যাজাইনাল মাত্রা থেকে কয়েক সপ্তাহের টপিক্যাল চিকিৎসা পর্যন্ত হতে পারে) সম্পূর্ণ করা উচিত।

মাসিকের সময় কি Neosten 20 gm Cream ব্যবহার করা যায়?

ভ্যাজাইনাল Neosten 20 gm Cream ট্যাবলেট সাধারণত মাসিকের সময়ের বাইরে ব্যবহার করা ভালো, কারণ মাসিকের রক্তস্রাব যোনি টিস্যুর সাথে ওষুধের সংস্পর্শ সময় কমিয়ে কার্যকারিতা হ্রাস করতে পারে; চিকিৎসাকালে ট্যাম্পন এড়িয়ে চলা উচিত কারণ ট্যাম্পন Neosten 20 gm Cream শুষে নিতে পারে। চিকিৎসাকালে মাসিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে সময় নিয়ে ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নিন।

Neosten 20 gm Cream কি কনডম বা ডায়াফ্রামে প্রভাব ফেলে?

হ্যাঁ। ভ্যাজাইনাল Neosten 20 gm Cream প্রস্তুতি ল্যাটেক্স কনডম ও ডায়াফ্রাম দুর্বল করে দিতে পারে, ফলে চিকিৎসার সময় ও তার পরপরই এগুলো গর্ভনিরোধক বা বাধাজনিত সুরক্ষা হিসেবে কম নির্ভরযোগ্য হয়ে পড়ে; বিস্তারিত জানতে ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া দেখুন এবং অতিরিক্ত সতর্কতা নিয়ে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

গর্ভাবস্থায় Neosten 20 gm Cream কি নিরাপদ?

টপিক্যাল ও ভ্যাজাইনাল Neosten 20 gm Cream-এর সিস্টেমিক শোষণ কম, এবং প্রাপ্ত তথ্য, যা মূলত গর্ভাবস্থার পরবর্তী পর্যায়ের, প্রস্তাবিত মাত্রায় জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ার প্রমাণ দেখায়নি, যদিও প্রথম ত্রৈমাসিকের তথ্য সীমিত; ওরাল ট্রোচে সিস্টেমিক এক্সপোজার বেশি এবং মানব নিরাপত্তা তথ্য কম। গর্ভাবস্থায় Neosten 20 gm Cream শুধুমাত্র ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করা উচিত— সম্পূর্ণ বিস্তারিত জানতে গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে অংশ দেখুন।

শিশুরা কি Neosten 20 gm Cream ব্যবহার করতে পারে?

শিশুরা Neosten 20 gm Cream ব্যবহার করতে পারে কিনা তা ফর্মুলেশনের ওপর নির্ভর করে। ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী নিশ্চিত ফাঙ্গাল ত্বক ইনফেকশনে শিশুদের টপিক্যাল Neosten 20 gm Cream ক্রিম/সলিউশন ব্যবহার করা যায়। ভ্যাজাইনাল ট্যাবলেট শিশুদের জন্য নয়, এবং ৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ওরাল ট্রোচ প্রতিনির্দেশিত। সম্পূর্ণ বিস্তারিত জানতে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার অংশ দেখুন।

Neosten 20 gm Cream-এর সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী কী?

সবচেয়ে সাধারণ প্রতিক্রিয়া হলো প্রয়োগস্থলে হালকা প্রতিক্রিয়া— ফর্মুলেশন অনুযায়ী ত্বক, যোনি, কান বা চোখে জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা লালচেভাব। সম্পূর্ণ তালিকা এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন তা জানতে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অংশ দেখুন।

ভুলবশত Neosten 20 gm Cream খেয়ে ফেললে কী হবে?

Neosten 20 gm Cream-এর টপিক্যাল, ভ্যাজাইনাল, ইয়ার ও আই ফর্মুলেশনের সিস্টেমিক শোষণ কম, তাই সামান্য পরিমাণ ভুলবশত খেয়ে ফেললে গুরুতর ক্ষতির সম্ভাবনা কম, তবে ডাক্তার বা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের পরামর্শ নেওয়া উচিত, বিশেষত কোনো শিশু খেয়ে ফেললে। বিস্তারিত জানতে মাত্রাধিক্যতা অংশ দেখুন।

একই সময়ে অন্য ভ্যাজাইনাল পণ্যের সাথে কি Neosten 20 gm Cream ব্যবহার করা যায়?

ভ্যাজাইনাল Neosten 20 gm Cream ট্যাবলেটের সাথে একই সময়ে অন্য ভ্যাজাইনাল ওষুধ, ডুশ বা ট্যাম্পন ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এতে কার্যকারিতা কমতে পারে বা স্থানীয় জ্বালাপোড়া বাড়তে পারে; পণ্য একত্রে ব্যবহারের আগে ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নিন।

ডিসক্লেইমার

এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।

Doctor