
Glipita M50 mg+1000
Beximco Pharmaceuticals Ltd.

প্রাপ্তবয়স্ক টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তার জন্য খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি Sucosit M ব্যবহার করা হয়। Sucosit M ব্যবহার করা যেতে পারে-
থেরাপিউটিক শ্রেণি: অ্যান্টিডায়াবেটিক (DPP-4 ইনহিবিটর + বাইগুয়ানাইড কম্বিনেশন)। ঔষধ শ্রেণি: ডাইপেপটিডাইল পেপটাইডেজ-৪ (DPP-4) ইনহিবিটর ও বাইগুয়ানাইডের ফিক্সড-ডোজ কম্বিনেশন।
প্রতিটি Sucosit M ট্যাবলেটে দুটি সক্রিয় উপাদান থাকে-সিটাগ্লিপটিন (সিটাগ্লিপটিন ফসফেট মনোহাইড্রেট হিসেবে) এবং মেটফরমিন হাইড্রোক্লোরাইড। Sucosit M বিভিন্ন প্রস্তুতকারক ও বাজারভেদে ৫০ মি.গ্রা. + ৫০০ মি.গ্রা., ৫০ মি.গ্রা. + ১০০০ মি.গ্রা. (সাধারণ ট্যাবলেট, দিনে দুইবার সেবনযোগ্য), এবং ১০০ মি.গ্রা. + ১০০০ মি.গ্রা. (এক্সটেন্ডেড-রিলিজ ট্যাবলেট, দিনে একবার সেবনযোগ্য) মাত্রায় পাওয়া যায়।
Sucosit M একটি ফিক্সড-ডোজ কম্বিনেশন ট্যাবলেট, যা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। এতে দুটি ভিন্ন কর্মপদ্ধতির ঔষধ একত্রে থাকে-সিটাগ্লিপটিন, যা খাবারের পর শরীরের নিজস্ব ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়াতে সাহায্য করে, এবং মেটফরমিন, যা লিভার থেকে শর্করা উৎপাদন কমায় ও ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায়। Sucosit M জীবনযাত্রার সুস্থ অভ্যাসের বিকল্প নয় এবং টাইপ ১ ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় না। সাধারণত দিনে দুইবার খাবারের সঙ্গে সেবন করতে হয়, এবং সঠিক মাত্রা রোগীর কিডনি কার্যক্ষমতাসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্য বিবেচনা করে চিকিৎসক নির্ধারণ করেন। চিকিৎসাকালীন নিয়মিত ফলোআপ ও রক্ত পরীক্ষা জরুরি।
সিটাগ্লিপটিন একটি ডাইপেপটিডাইল পেপটাইডেজ-৪ (DPP-4) ইনহিবিটর। এটি খাবারের পর অন্ত্র থেকে নিঃসৃত ইনক্রেটিন হরমোন (যেমন GLP-1 ও GIP) ভেঙে যাওয়া ধীর করে দেয়, ফলে এসব হরমোনের সক্রিয় মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে অগ্ন্যাশয় থেকে গ্লুকোজ-নির্ভরভাবে ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়ে এবং লিভার থেকে গ্লুকাগন নিঃসরণ কমে, যা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। মুখে সেবনের পর সিটাগ্লিপটিন দ্রুত শোষিত হয় (রক্তে সর্বোচ্চ মাত্রা পৌঁছাতে ১-৪ ঘণ্টা লাগে), এর জৈব-উপলভ্যতা প্রায় ৮৭%, এবং খাবার এর শোষণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে না। এর একটি অংশ (প্রায় ১৬%) লিভারে বিপাক হয়, বাকি বেশিরভাগ (প্রায় ৭৯%) অপরিবর্তিত অবস্থায় কিডনির মাধ্যমে নির্গত হয়, অর্ধায়ু প্রায় ১২ ঘণ্টা। কিডনি কার্যক্ষমতা কমে গেলে রক্তে সিটাগ্লিপটিনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
মেটফরমিন বাইগুয়ানাইড শ্রেণির ঔষধ। এটি প্রধানত লিভার থেকে গ্লুকোজ উৎপাদন কমিয়ে, অন্ত্র থেকে শর্করা শোষণ কমিয়ে এবং পেশি ও চর্বি কোষে ইনসুলিনের প্রতি সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে। মুখে সেবনের পর এর জৈব-উপলভ্যতা প্রায় ৫০-৬০% (খালি পেটে), এবং খাবার এর শোষণ কিছুটা কমিয়ে দেয় ও দেরি করায়। এটি প্লাজমা প্রোটিনের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে যুক্ত হয় না এবং লিভারে বিপাক হয় না-প্রধানত কিডনির মাধ্যমে (টিউবিউলার সিক্রেশনের মাধ্যমে) অপরিবর্তিত অবস্থায় নির্গত হয়, অর্ধায়ু প্রায় ৬ ঘণ্টা। যেহেতু মেটফরমিন নির্গমনের জন্য কিডনির ওপর নির্ভরশীল, তাই নিরাপদ মাত্রা নির্ধারণে কিডনি কার্যক্ষমতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
Sucosit M-এর মাত্রা রোগীর বর্তমান ডায়াবেটিস চিকিৎসা, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের অবস্থা এবং কিডনি কার্যক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে পৃথকভাবে নির্ধারণ করা হয়। Sucosit M সাধারণত খাবারের সঙ্গে মুখে সেবন করতে হয়, এবং ট্যাবলেট কখনো ভাঙা, চূর্ণ করা বা চিবানো উচিত নয়। নিচের তথ্য সাধারণ নির্দেশিকা মাত্র; প্রকৃত মাত্রা ও সময়সূচি সবসময় একজন যোগ্য চিকিৎসক নির্ধারণ ও প্রয়োজনে পরিবর্তন করবেন, এবং এটি সব রোগীর জন্য এক রকম নয়।
| রোগীর ধরন | প্রস্তাবিত মাত্রা |
|---|---|
| যেসব প্রাপ্তবয়স্ক আগে মেটফরমিন সেবন করেননি, স্বাভাবিক থেকে হালকা কমে যাওয়া কিডনি কার্যক্ষমতা (eGFR ≥৪৫ mL/min/1.73 m²) | খাবারের সঙ্গে দিনে দুইবার ৫০ মি.গ্রা. সিটাগ্লিপটিন/৫০০ মি.গ্রা. মেটফরমিন দিয়ে শুরু করা হয়; রক্তে শর্করার প্রতিক্রিয়া ও সহনশীলতা অনুযায়ী ধীরে ধীরে সর্বোচ্চ দিনে দুইবার ৫০ মি.গ্রা./১০০০ মি.গ্রা. (দৈনিক ১০০ মি.গ্রা./২০০০ মি.গ্রা.) পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। |
| যেসব প্রাপ্তবয়স্ক ইতিমধ্যে মেটফরমিন সেবন করছেন | দিনে দুইবার ৫০ মি.গ্রা. সিটাগ্লিপটিন (দৈনিক ১০০ মি.গ্রা.) এবং ইতিমধ্যে সেবন করা মেটফরমিনের মাত্রা একসঙ্গে দিয়ে শুরু করা হয়, সর্বোচ্চ দিনে দুইবার ১০০০ মি.গ্রা. মেটফরমিন পর্যন্ত। |
| মাঝারি মাত্রার কিডনি সমস্যা (eGFR ৩০ থেকে ৪৫ mL/min/1.73 m²-এর কম) | এই পরিসরে Sucosit M দিয়ে চিকিৎসা শুরু করা সাধারণত সুপারিশ করা হয় না, কারণ এই ফিক্সড-ডোজ কম্বিনেশনে এই পর্যায়ে প্রয়োজনীয় কম মাত্রার সিটাগ্লিপটিন বিকল্প নেই; ব্যবস্থাপনা চিকিৎসকের বিচার অনুযায়ী পৃথকভাবে নির্ধারিত হবে। |
| গুরুতর কিডনি সমস্যা (eGFR ৩০ mL/min/1.73 m²-এর কম) | প্রতিনির্দেশিত-Sucosit M ব্যবহার করা যাবে না (দেখুন প্রতিনির্দেশনা)। |
| আয়োডিনযুক্ত কনট্রাস্ট ডাই ব্যবহারের আগে বা সময় | যেসব রোগীর eGFR ৩০-৬০ mL/min/1.73 m², লিভার রোগ, মদ্যপানের ইতিহাস, হৃদযন্ত্রের অকার্যকারিতা আছে, অথবা যাদের ইন্ট্রা-আর্টেরিয়াল কনট্রাস্ট ব্যবহার করা হচ্ছে, তাদের ক্ষেত্রে পরীক্ষার সময় বা তার আগে Sucosit M সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে; প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর কিডনি কার্যক্ষমতা পুনরায় পরীক্ষা করে স্থিতিশীল থাকলে তবেই আবার শুরু করা যাবে (দেখুন ঔষধের_মিথষ্ক্রিয়া ও সতর্কতা)। |
সেবনবিধি:
ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব/বমি, পেট ফাঁপা, পেটে অস্বস্তি, বদহজম, মাথাব্যথা এবং উপরের শ্বাসনালীর সংক্রমণ সাধারণত দেখা যায়। ইনসুলিন বা সালফোনাইলইউরিয়ার সঙ্গে সেবন করলে রক্তে শর্করা কমে যাওয়া (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) হতে পারে।
গর্ভবতী নারীদের ওপর Sucosit M নিয়ে পর্যাপ্ত ও সুনিয়ন্ত্রিত গবেষণা নেই। গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে মা ও শিশু উভয়ের জন্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে, যার মধ্যে রয়েছে জন্মগত ত্রুটি ও গর্ভপাতের বেশি ঝুঁকি। মেটফরমিন উপাদান নিয়ে প্রকাশিত সীমিত তথ্যে বড় ধরনের জন্মগত ত্রুটি বা গর্ভপাতের ঝুঁকি স্পষ্টভাবে বাড়তে দেখা যায়নি, এবং প্রাণী গবেষণায় উভয় উপাদানেই মানব-প্রাসঙ্গিক মাত্রায় ক্ষতির প্রমাণ মেলেনি, তবে এই কম্বিনেশন নিয়ে মানুষের ওপর তথ্য এখনো সীমিত। চিকিৎসক স্পষ্টভাবে প্রয়োজন মনে করলেই কেবল গর্ভাবস্থায় Sucosit M ব্যবহার করা উচিত, এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রক্তে শর্করা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
মেটফরমিন স্তন্যদুগ্ধে সামান্য পরিমাণে (সাধারণত মায়ের ওজন-সমন্বিত মাত্রার ১%-এরও কম) প্রবেশ করে বলে জানা গেছে, এবং এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে স্তন্যপান করা শিশুর ওপর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব দেখা যায়নি। সিটাগ্লিপটিন মানুষের স্তন্যদুগ্ধে প্রবেশ করে কিনা তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা নেই, যদিও প্রাণীর দুধে এটি পাওয়া গেছে। এই সীমিত তথ্যের কারণে, স্তন্যদানের উপকারিতা ও মায়ের Sucosit M প্রয়োজনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য বিচার করতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, এবং শিশুর মধ্যে কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে খেয়াল রাখতে হবে।
Sucosit M অতিরিক্ত মাত্রায় সেবন করলে সমস্যা হতে পারে। এর প্রভাব মূলত মেটফরমিন উপাদানের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে (পেটের সমস্যা, এবং খুব বেশি মাত্রায় বিরল ক্ষেত্রে ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস) এবং কম ক্ষেত্রে রক্তে শর্করা কমে যাওয়া। রিপোর্ট হওয়া মেটফরমিন ওভারডোজের ক্ষেত্রে (স্বাভাবিক দৈনিক মাত্রার চেয়ে বহুগুণ বেশি) প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস দেখা গেছে এবং প্রায় এক-দশমাংশ ক্ষেত্রে রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার রিপোর্ট পাওয়া গেছে, যদিও সরাসরি কারণ সবসময় নিশ্চিত করা যায়নি; সিটাগ্লিপটিনের ওভারডোজ গবেষণায় সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়েছে। ওভারডোজের লক্ষণের মধ্যে থাকতে পারে তীব্র বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া, রক্তে শর্করা কমে যাওয়া (কাঁপুনি, ঘাম, বিভ্রান্তি), অথবা ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিসের লক্ষণ (অস্বাভাবিক পেশিব্যথা, শ্বাসকষ্ট, তীব্র ক্লান্তি, পেটব্যথা, মাথা ঘোরা, বা হৃদস্পন্দন ধীর/অনিয়মিত হওয়া)। Sucosit M-এর ওভারডোজ সন্দেহ হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসক, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, অথবা পয়জন কন্ট্রোল সেন্টারে যোগাযোগ করুন; নির্দিষ্টভাবে চিকিৎসক বা পয়জন কন্ট্রোল নির্দেশ না দিলে বমি করানোর চেষ্টা করবেন না। প্রয়োজনে হাসপাতালে সাপোর্টিভ চিকিৎসা এবং হিমোডায়ালাইসিস করা হতে পারে, যা উভয় উপাদানই কার্যকরভাবে রক্ত থেকে অপসারণ করতে পারে।
Sucosit M প্যাকেজিংয়ের গায়ে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন। সাধারণত ২৫°C-এর নিচে ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে, সরাসরি আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে, শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখা উচিত। মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখের পর ব্যবহার করবেন না। প্রস্তুতকারকভেদে সংরক্ষণের নির্দেশনা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে, তাই সবসময় নির্দিষ্ট প্রোডাক্টের লেবেল দেখে নিন।
শিশুদের ক্ষেত্রে Sucosit M-এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তাই Sucosit M শিশুদের জন্য সুপারিশ করা হয় না। ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের ওপর সিটাগ্লিপটিন উপাদানের গবেষণায় প্লাসিবোর তুলনায় রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়নি। শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট মাত্রা ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার তথ্য না থাকায়, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নির্দেশনা ছাড়া শিশু বা কিশোর-কিশোরীদের Sucosit M দেওয়া উচিত নয়।
৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী রোগীদের কিডনি, লিভার বা হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে এবং ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিসের ঝুঁকিও বেশি। সাধারণত মাত্রার নিম্নসীমা থেকে Sucosit M দিয়ে চিকিৎসা শুরু করা হয় এবং কিডনি কার্যক্ষমতা আরও ঘনঘন পর্যবেক্ষণ করা হয়।
Sucosit M-এর মাত্রা কিডনি কার্যক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল। eGFR ৩০ mL/min/1.73 m²-এর কম হলে Sucosit M প্রতিনির্দেশিত, এবং eGFR ৩০-৪৫-এর মধ্যে থাকলে সাধারণত নতুন করে চিকিৎসা শুরু করা সুপারিশ করা হয় না (দেখুন মাত্রা_ও_সেবনবিধি ও সতর্কতা)।
লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে Sucosit M ব্যবহার সুপারিশ করা হয় না, কারণ ল্যাকটেট ক্লিয়ারেন্স কমে গিয়ে ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে (দেখুন সতর্কতা)।
অস্ত্রোপচার, গুরুতর অসুস্থতা, পানিশূন্যতা, অথবা টিস্যুতে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে (যেমন তীব্র হৃদযন্ত্রের অকার্যকারিতা বা সাম্প্রতিক হার্ট অ্যাটাক) সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন প্রয়োজন, কারণ এসব অবস্থায় ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিসের ঝুঁকি বাড়ে এবং সাময়িকভাবে Sucosit M বন্ধ রাখার প্রয়োজন হতে পারে।
প্রাপ্তবয়স্ক টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের পাশাপাশি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে Sucosit M 50 mg+1000 mg Tablet ব্যবহার করা হয়। এতে সিটাগ্লিপটিন ও মেটফরমিন-দুটি ভিন্নভাবে কাজ করা ঔষধ একত্রে থাকে; Sucosit M 50 mg+1000 mg Tablet টাইপ ১ ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসে ব্যবহৃত হয় না।
Sucosit M 50 mg+1000 mg Tablet সাধারণত দিনে দুইবার খাবারের সঙ্গে, পানি দিয়ে পুরোটা গিলে সেবন করতে হয়, যা পেটের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করে। সঠিক মাত্রা রোগীর বর্তমান চিকিৎসা ও কিডনি কার্যক্ষমতার ওপর নির্ভর করে, যা চিকিৎসক নির্ধারণ করেন।
Sucosit M 50 mg+1000 mg Tablet-এর সর্বোচ্চ প্রস্তাবিত দৈনিক মাত্রা ১০০ মি.গ্রা. সিটাগ্লিপটিন ও ২০০০ মি.গ্রা. মেটফরমিন, যা সাধারণত খাবারের সঙ্গে দুই ভাগে সেবন করা হয়। রোগীর রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ ও কিডনি কার্যক্ষমতা বিবেচনা করে চিকিৎসক সঠিক মাত্রা নির্ধারণ করেন।
Sucosit M 50 mg+1000 mg Tablet সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো পানীয়র সঙ্গে নয়, বরং খাবারের সঙ্গে সেবন করতে হয়, এবং খাবারের (যাতে দুধও থাকতে পারে) সঙ্গে সেবন করলে পেটের অস্বস্তি কমতে পারে। দুধের সঙ্গে সেবনে নির্দিষ্ট কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, তবে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী সবসময় খাবারের অংশ হিসেবেই Sucosit M 50 mg+1000 mg Tablet সেবন করা উচিত।
Sucosit M 50 mg+1000 mg Tablet-এর সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, পেট ফাঁপা, পেটে অস্বস্তি, বদহজম, মাথাব্যথা এবং উপরের শ্বাসনালীর সংক্রমণ। ইনসুলিন বা সালফোনাইলইউরিয়ার সঙ্গে সেবন করলে রক্তে শর্করা কমে যেতে পারে (সম্পূর্ণ তালিকা ও বিরল কিন্তু গুরুতর প্রতিক্রিয়ার জন্য দেখুন পার্শ্ব_প্রতিক্রিয়া)।
গর্ভাবস্থায় Sucosit M 50 mg+1000 mg Tablet-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই, তাই চিকিৎসক স্পষ্টভাবে প্রয়োজন মনে করলেই কেবল Sucosit M 50 mg+1000 mg Tablet ব্যবহার করা উচিত, কারণ অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস নিজেই মা ও শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। গর্ভবতী বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা করছেন এমন কেউ Sucosit M 50 mg+1000 mg Tablet সেবন করলে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত (দেখুন গর্ভাবস্থায়_ও_স্তন্যদানকালে)।
না। শিশুদের ক্ষেত্রে Sucosit M 50 mg+1000 mg Tablet-এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তাই Sucosit M 50 mg+1000 mg Tablet শিশুদের জন্য সুপারিশ করা হয় না (দেখুন শিশু_ও_বয়স্কদের_ক্ষেত্রে_ব্যবহার)।
Sucosit M 50 mg+1000 mg Tablet ইমেজিংয়ে ব্যবহৃত আয়োডিনযুক্ত কনট্রাস্ট ডাই, অ্যালকোহল, নির্দিষ্ট ডাই়ুরেটিক বা খিঁচুনির ঔষধ (কার্বনিক অ্যানহাইড্রেজ ইনহিবিটর), মেটফরমিনের নিঃসরণ কমায় এমন কিছু ঔষধ, এবং ইনসুলিন বা সালফোনাইলইউরিয়ার মতো অন্যান্য ডায়াবেটিসের ঔষধের সঙ্গে মিথষ্ক্রিয়া করতে পারে, যা রক্তে শর্করা কমে যাওয়া বা ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। Sucosit M 50 mg+1000 mg Tablet শুরু করার আগে সেবন করা সব ঔষধ, সাপ্লিমেন্ট ও স্বাস্থ্য সমস্যার কথা চিকিৎসককে জানান (দেখুন ঔষধের_মিথষ্ক্রিয়া)।
Sucosit M 50 mg+1000 mg Tablet-এর কোনো মাত্রা মিস হলে মনে পড়ামাত্র তা সেবন করুন, তবে পরবর্তী মাত্রার সময় কাছাকাছি হলে মিস হওয়া মাত্রাটি বাদ দিন। মিস হওয়া মাত্রা পূরণ করতে একসঙ্গে দুই মাত্রা সেবন করবেন না; বারবার মাত্রা মিস হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ডিসক্লেইমার
এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।