জেনেরিক ওষুধ

Allopurinol: বাংলাদেশে ব্র্যান্ড, দাম ও ব্যবহার

প্রতিষ্ঠিত ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদী গাউট (Chronic gout): বারবার হওয়া গাউট, টোফাসিয়াস গাউট, বা কিডনিতে ইউরিক এসিড জমার সমস্যায় দীর্ঘমেয়াদী হাইপারইউরিসেমিয়া নিয়ন্ত্রণে Allopurinol ব্যবহার করা হয়।

ধরন:Tablet

Allopurinol সম্পর্কে

Allopurinol-এর নির্দেশনা

প্রতিষ্ঠিত ব্যবহার

  • দীর্ঘমেয়াদী গাউট (Chronic gout): বারবার হওয়া গাউট, টোফাসিয়াস গাউট, বা কিডনিতে ইউরিক এসিড জমার সমস্যায় দীর্ঘমেয়াদী হাইপারইউরিসেমিয়া নিয়ন্ত্রণে Allopurinol ব্যবহার করা হয়। তীব্র (acute) গাউট আক্রমণের চিকিৎসার জন্য Allopurinol নির্দেশিত নয় এবং তীব্র আক্রমণ চলাকালীন এটি শুরু করা উচিত নয়।
  • ক্যান্সার কেমোথেরাপিজনিত হাইপারইউরিসেমিয়া (Tumor lysis syndrome প্রতিরোধ): লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা বা অন্যান্য ম্যালিগন্যান্সিতে কেমোথেরাপি চলাকালীন রক্তে ও প্রস্রাবে ইউরিক এসিড দ্রুত বৃদ্ধি প্রতিরোধে Allopurinol ব্যবহৃত হয়।
  • বারবার হওয়া ক্যালসিয়াম অক্সালেট কিডনি স্টোন: পর্যাপ্ত পানি পান ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে কাজ না হলে, হাইপারইউরিকোসুরিয়াজনিত পুনরাবৃত্ত ক্যালসিয়াম অক্সালেট পাথর প্রতিরোধে Allopurinol ব্যবহার করা হয়।

যেসব ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় না

  • উপরের নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া শুধুমাত্র রক্তে ইউরিক এসিড বেশি থাকলেই (asymptomatic hyperuricemia) সাধারণত Allopurinol দেওয়া হয় না।
  • তীব্র গাউট আক্রমণের তাৎক্ষণিক চিকিৎসায় Allopurinol ব্যবহৃত হয় না - এক্ষেত্রে NSAID, কলচিসিন বা স্টেরয়েড ব্যবহার করা হয়।

Allopurinol-এর মাত্রা ও সেবনবিধি

নির্দেশনা অনুযায়ী মাত্রা

নির্দেশনাপ্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা
দীর্ঘমেয়াদী গাউট / হাইপারইউরিসেমিয়াদিনে একবার ১০০ মি.গ্রা. দিয়ে শুরু করে, প্রয়োজনে সাপ্তাহিক ব্যবধানে ১০০ মি.গ্রা. করে বাড়িয়ে সাধারণত দিনে ২০০-৩০০ মি.গ্রা. (মৃদু গাউটে) বা ৪০০-৬০০ মি.গ্রা. (মাঝারি থেকে তীব্র টোফাসিয়াস গাউটে) পর্যন্ত দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ মাত্রা দিনে ৮০০ মি.গ্রা.। দিনে ৩০০ মি.গ্রা.-এর বেশি মাত্রা সাধারণত ভাগ করে দেওয়া হয়।
কেমোথেরাপিজনিত হাইপারইউরিসেমিয়া প্রতিরোধকেমোথেরাপি শুরুর ১-২ দিন আগে থেকে দিনে ৬০০-৮০০ মি.গ্রা. ভাগ করে, পর্যাপ্ত পানি পানের সাথে।
ক্যালসিয়াম অক্সালেট কিডনি স্টোন প্রতিরোধদিনে ২০০-৩০০ মি.গ্রা., সাধারণত একবারে, পর্যাপ্ত পানি পান ও খাদ্যাভ্যাসের সাথে।

গুরুত্বপূর্ণ সেবনবিধি

  • তীব্র গাউট আক্রমণ চলাকালীন Allopurinol শুরু করা উচিত নয়; আক্রমণ সম্পূর্ণ কমে যাওয়ার পর শুরু করতে হবে। ইতিমধ্যে Allopurinol সেবনরত অবস্থায় আক্রমণ হলে, সাধারণত একই মাত্রায় চালিয়ে যাওয়া হয় এবং আক্রমণটি আলাদাভাবে চিকিৎসা করা হয়।
  • Allopurinol শুরু করার সময় গাউট আক্রমণ হতে পারে; তাই প্রথম ৩-৬ মাস প্রতিরোধমূলক হিসেবে কম মাত্রার কলচিসিন বা NSAID দেওয়া হতে পারে।
  • পেট খারাপ কমাতে খাবারের পর পূর্ণ গ্লাস পানিসহ সেবন করুন।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত দৈনিক অন্তত ২-৩ লিটার তরল পান করুন।
  • কিডনি সমস্যায় মাত্রা কমাতে হয় (বিশেষ জনগোষ্ঠীর ব্যবহার দেখুন)।

Allopurinol-এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

  • চর্মে র‍্যাশ (দেখা দিলে সতর্কতা অংশ দেখুন - র‍্যাশ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি)
  • বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া বা অন্যান্য মৃদু পাকস্থলীর সমস্যা
  • Allopurinol শুরুর সময় গাউট আক্রমণের প্রবণতা বৃদ্ধি
  • মাথাব্যথা, তন্দ্রাভাব

কম সাধারণ / মারাত্মক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

  • স্টিভেনস-জনসন সিনড্রোম, টক্সিক এপিডার্মাল নেক্রোলাইসিস, ও DRESS সিনড্রোমসহ মারাত্মক হাইপারসেনসিটিভিটি প্রতিক্রিয়া (সতর্কতা অংশ দেখুন)
  • যকৃতের কার্যক্ষমতার পরীক্ষায় অস্বাভাবিকতা, হেপাটাইটিস
  • অস্থিমজ্জা দমন (লিউকোপেনিয়া, থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া)
  • কিডনি কার্যক্ষমতার অবনতি

Allopurinol-এর প্রতিনির্দেশনা

Allopurinol বা এর যেকোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা (hypersensitivity) থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে Allopurinol সেবন নিষিদ্ধ।

Allopurinol সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

Allopurinol কী কাজে ব্যবহৃত হয়?

Allopurinol দীর্ঘমেয়াদী গাউটে রক্তের ইউরিক এসিড নিয়ন্ত্রণ করতে, কেমোথেরাপি চলাকালীন ইউরিক এসিডের বিপজ্জনক বৃদ্ধি প্রতিরোধ করতে, এবং বারবার হওয়া ক্যালসিয়াম অক্সালেট কিডনি স্টোন প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। চলমান তীব্র গাউট আক্রমণের চিকিৎসায় এটি ব্যবহৃত হয় না।

গাউট আক্রমণের সময় কি Allopurinol শুরু করা যায়?

না। তীব্র গাউট আক্রমণ চলাকালীন Allopurinol শুরু করা উচিত নয়, কারণ এটি আক্রমণ আরও খারাপ বা দীর্ঘায়িত করতে পারে। চিকিৎসক সাধারণত আক্রমণ কমে যাওয়ার পর Allopurinol শুরু করেন এবং শুরুর প্রথম কয়েক মাস নতুন আক্রমণ প্রতিরোধে কম মাত্রার কলচিসিন বা প্রদাহনাশক ঔষধ দিতে পারেন।

Allopurinol সেবনকালে চর্মে র‍্যাশ হলে কী করব?

চিকিৎসাকালে চর্মে র‍্যাশ, ফোসকা, মুখের ঘা, জ্বর, বা লিম্ফ নোড ফোলা দেখা দিলে সাথে সাথে Allopurinol সেবন বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বিরল ক্ষেত্রে Allopurinol স্টিভেনস-জনসন সিনড্রোম বা DRESS সিনড্রোমের মতো মারাত্মক প্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে, তাই দ্রুত শনাক্তকরণ ও সেবন বন্ধ করা নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

Allopurinol-এর সাথে গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ মিথষ্ক্রিয়া কী কী?

হ্যাঁ, রয়েছে। Allopurinol azathioprine ও mercaptopurine-এর রক্তমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়, তাই একসাথে ব্যবহারে এগুলোর মাত্রা যথেষ্ট কমাতে হয়। এটি warfarin-এর সাথে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, ampicillin বা amoxicillin-এর সাথে র‍্যাশের ঝুঁকি বাড়ায়, এবং থায়াজাইড মূত্রবর্ধক ও ACE ইনহিবিটরের সাথে হাইপারসেনসিটিভিটির ঝুঁকি বাড়ায়। Allopurinol শুরুর আগে আপনার সেবন করা সব ঔষধের কথা চিকিৎসককে জানান।

গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানকালে Allopurinol কি নিরাপদ?

গর্ভাবস্থায় Allopurinol ব্যবহারের তথ্য সীমিত, তাই চিকিৎসকের বিচার অনুযায়ী উপকারিতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করে একান্ত প্রয়োজনে ব্যবহার করা উচিত। Allopurinol বুকের দুধেও নিঃসৃত হয়, তাই স্তন্যদানকালেও এটি শুধুমাত্র চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করা উচিত।

Allopurinol বেশি সেবন করে ফেললে কী হবে?

অতিমাত্রায় Allopurinol সেবনের সন্দেহ হলে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা সেবা নিন বা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। বাড়িতে নিজে থেকে অতিমাত্রার চিকিৎসার চেষ্টা করবেন না; চিকিৎসক সহায়ক চিকিৎসা দেবেন, এবং প্রয়োজনে শরীর থেকে ঔষধ অপসারণে ডায়ালাইসিস ব্যবহার করা হতে পারে।

ডিসক্লেইমার

এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।

DoctorBlogArticles