জেনেরিক ওষুধ

Gabapentin: বাংলাদেশে ব্র্যান্ড, দাম ও ব্যবহার

Gabapentin নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, প্রমাণের শক্তি অনুযায়ী শ্রেণীবদ্ধ: FDA অনুমোদিত ব্যবহার ৩ বছর বা তার বেশি বয়সী মৃগীরোগ (এপিলেপ্সি) রোগীদের আংশিক খিঁচুনি (partial-onset seizures) এর…

ধরন:Tablet

Gabapentin সম্পর্কে

Gabapentin-এর নির্দেশনা

Gabapentin নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, প্রমাণের শক্তি অনুযায়ী শ্রেণীবদ্ধ:

FDA অনুমোদিত ব্যবহার

  • ৩ বছর বা তার বেশি বয়সী মৃগীরোগ (এপিলেপ্সি) রোগীদের আংশিক খিঁচুনি (partial-onset seizures) এর সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে, অন্যান্য অ্যান্টিএপিলেপটিক ওষুধের সাথে একত্রে।
  • প্রাপ্তবয়স্কদের পোস্টহারপেটিক নিউরালজিয়া (হারপিস জোস্টার/দাদ রোগের পর স্থায়ী স্নায়ুর ব্যথা) এর চিকিৎসায়।

গাইডলাইন-সমর্থিত / সাধারণভাবে অফ-লেবেল ব্যবহৃত

  • ডায়াবেটিক পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি ও অন্যান্য নিউরোপ্যাথিক ব্যথার ক্ষেত্রে - এটি Gabapentin-এর FDA-অনুমোদিত নির্দেশনা নয়, তবে ক্লিনিক্যাল গাইডলাইনে নিউরোপ্যাথিক ব্যথার প্রথম সারির চিকিৎসা হিসেবে ব্যাপকভাবে সমর্থিত।
  • রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম (RLS) - এর একটি সম্পর্কিত প্রোড্রাগ ফর্মুলেশন (gabapentin enacarbil) RLS-এর জন্য FDA অনুমোদিত; সাধারণ Gabapentin কখনও কখনও চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে একইভাবে অফ-লেবেল ব্যবহৃত হয়।

মৃগীরোগে Gabapentin একা কার্যকর নয় এবং সবসময় অন্যান্য অ্যান্টিএপিলেপটিক ওষুধের সাথে একত্রে ব্যবহার করতে হয়। অন্যান্য অফ-লেবেল নির্দেশনায় শুধুমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা উচিত।

Gabapentin-এর মাত্রা ও সেবনবিধি

নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্কদের মাত্রা

নির্দেশনাসাধারণ মাত্রা
মৃগীরোগ (সহায়ক, আংশিক খিঁচুনি)প্রথম দিন ৩০০ মি.গ্রা., দ্বিতীয় দিন দিনে দুইবার ৩০০ মি.গ্রা., তৃতীয় দিন দিনে তিনবার ৩০০ মি.গ্রা. দিয়ে শুরু করে প্রয়োজন অনুযায়ী মাত্রা বাড়ানো হয়। কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ মাত্রা সাধারণত দৈনিক ৯০০-১৮০০ মি.গ্রা., তিনটি ভাগে বিভক্ত (কিছু রোগীর ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ তত্ত্বাবধানে দৈনিক ৩৬০০ মি.গ্রা. পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে)।
পোস্টহারপেটিক নিউরালজিয়াপ্রথম দিন: দিনে একবার ৩০০ মি.গ্রা.; দ্বিতীয় দিন: দিনে দুইবার ৩০০ মি.গ্রা.; তৃতীয় দিন: দিনে তিনবার ৩০০ মি.গ্রা.। প্রয়োজন ও সহনশীলতা অনুযায়ী দৈনিক সর্বোচ্চ ১৮০০ মি.গ্রা. পর্যন্ত (তিন ভাগে) বাড়ানো যেতে পারে।
নিউরোপ্যাথিক ব্যথা (অফ-লেবেল, যেমন ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি)সাধারণত দিনে একবার ৩০০ মি.গ্রা. দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে কার্যকর মাত্রায় নেওয়া হয়, সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দৈনিক ৯০০-১৮০০ মি.গ্রা়া (ভাগ করে)।

শিশুদের মাত্রা (মৃগীরোগ, সহায়ক)

৩ থেকে ১১ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে দৈনিক ১০-১৫ মি.গ্রা./কেজি (তিন ভাগে) দিয়ে শুরু করে প্রায় ৩ দিনে চিকিৎসকের মূল্যায়ন অনুযায়ী কার্যকর মাত্রায় (সাধারণত দৈনিক ২৫-৪০ মি.গ্রা./কেজি, তিন ভাগে) বাড়ানো হয়।

কিডনি সমস্যায় মাত্রা সমন্বয়

যেহেতু Gabapentin কিডনির মাধ্যমে নির্গত হয়, ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স (CrCl) অনুযায়ী মাত্রা কমানো প্রয়োজন; হেমোডায়ালাইসিসে থাকা রোগীদের প্রতিটি ডায়ালাইসিস সেশনের পর অতিরিক্ত মাত্রা প্রয়োজন হয়। চিকিৎসকের নির্দেশনায় পৃথকভাবে মাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।

সেবনবিধি

Gabapentin খাবারের সাথে বা ছাড়া সেবন করা যায়। অ্যালুমিনিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড ব্যবহার করলে, Gabapentin এর কমপক্ষে ২ ঘণ্টা পরে সেবন করুন, কারণ অ্যান্টাসিড এর শোষণ কমিয়ে দিতে পারে। ক্যাপসুল/ট্যাবলেট পানির সাথে পুরো গিলে ফেলুন; চিবাবেন না। দিনে তিনবার সেবনের ক্ষেত্রে মাত্রাগুলো সমানভাবে বিভক্ত রাখুন।

Gabapentin হঠাৎ বন্ধ করবেন না, কারণ এতে withdrawal (প্রত্যাহারজনিত) খিঁচুনি হতে পারে, এমনকি মৃগীরোগের ইতিহাস না থাকা রোগীদের ক্ষেত্রেও। বন্ধ করার প্রয়োজন হলে চিকিৎসক অন্তত এক সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন।

Gabapentin-এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

Gabapentin-এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সাধারণত মাত্রা-নির্ভর এবং মাত্রা বাড়ানোর প্রাথমিক পর্যায়ে বেশি দেখা যায়।

সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

  • মাথা ঘোরা
  • ঝিমুনি (সোমনোলেন্স)
  • পেরিফেরাল ইডিমা (হাত-পা ফুলে যাওয়া)
  • অ্যাটাক্সিয়া (হাঁটাচলায় অস্থিরতা, সমন্বয়ের সমস্যা)
  • ক্লান্তি
  • বমি বমি ভাব, বমি
  • ঝাপসা বা দ্বিগুণ দৃষ্টি
  • ওজন বৃদ্ধি

গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া (অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন)

  • মেজাজ বা আচরণে পরিবর্তন, নতুন বা বেড়ে যাওয়া বিষণ্নতা, উদ্বেগ, অস্থিরতা বা আত্মহত্যার চিন্তা (সকল অ্যান্টিকনভালসেন্টের জন্য প্রযোজ্য একটি শ্রেণীগত সতর্কতা)
  • তীব্র অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার লক্ষণ: র‍্যাশ, জ্বর, লসিকাগ্রন্থি ফুলে যাওয়া, মুখ ফুলে যাওয়া
  • শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস অবদমনের লক্ষণ, বিশেষত ওপিওয়েড বা অন্যান্য CNS ডিপ্রেসেন্টের সাথে একত্রে ব্যবহারে
  • হঠাৎ বন্ধ করলে প্রত্যাহারজনিত খিঁচুনি

Gabapentin-এর প্রতিনির্দেশনা

Gabapentin বা এর ফর্মুলেশনের যেকোনো উপাদানের প্রতি জানা অতি-সংবেদনশীলতা (hypersensitivity) থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে Gabapentin প্রতিনির্দেশিত।

Gabapentin সম্পর্কে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

Gabapentin কী কাজে ব্যবহৃত হয়?

Gabapentin প্রধানত মৃগীরোগে আংশিক খিঁচুনির সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে এবং দাদ রোগের পর স্নায়ুর ব্যথা (পোস্টহারপেটিক নিউরালজিয়া) উপশমে ব্যবহৃত হয়। চিকিৎসকের নির্দেশনায় ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথির মতো অন্যান্য স্নায়ুর ব্যথাতেও এটি সাধারণত ব্যবহৃত হয়।

ভালো লাগলে কি হঠাৎ Gabapentin বন্ধ করে দেওয়া যায়?

না। Gabapentin হঠাৎ বন্ধ করলে প্রত্যাহারজনিত খিঁচুনি হতে পারে, এমনকি মৃগীরোগ না থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও। বন্ধ করার প্রয়োজন হলে সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, যিনি অন্তত এক সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন।

ওপিওয়েড ব্যথানাশকের সাথে Gabapentin খাওয়া কি নিরাপদ?

ওপিওয়েডের সাথে Gabapentin একত্রে খেলে তীব্র ঝিমুনি এবং শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বাড়ে, যা প্রাণঘাতী হতে পারে। এই সংমিশ্রণ শুধুমাত্র চিকিৎসকের নির্দিষ্ট নির্দেশনা ও ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করা উচিত।

গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে কি Gabapentin খাওয়া যাবে?

গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে Gabapentin শুধুমাত্র চিকিৎসক যদি মনে করেন যে উপকারিতা সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি, তখনই ব্যবহার করা উচিত, কারণ মানুষের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা তথ্য সীমিত। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গর্ভাবস্থায় Gabapentin বন্ধ বা শুরু করবেন না, কারণ অনিয়ন্ত্রিত খিঁচুনিরও ঝুঁকি রয়েছে।

Gabapentin-এর একটি মাত্রা মিস হয়ে গেলে কী করব?

মনে পড়ামাত্র মিসড মাত্রা সেবন করুন, তবে পরবর্তী মাত্রার সময় কাছাকাছি হলে মিসড মাত্রা বাদ দিন। দ্বিগুণ মাত্রা সেবন করবেন না। চিকিৎসকের নির্ধারিত নিয়মিত সময়সূচি বজায় রাখুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে Gabapentin-এর মাত্রা বাদ দেবেন না।

Gabapentin-এর সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলো কী কী?

Gabapentin-এর সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে মাথা ঘোরা, ঝিমুনি, হাত-পা ফুলে যাওয়া, হাঁটাচলায় অস্থিরতা এবং ক্লান্তি। চিকিৎসা শুরুর সময় বা মাত্রা বাড়ানোর সময় এগুলো বেশি লক্ষণীয় হয়। পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী হলে, অথবা মেজাজ পরিবর্তন বা আত্মহত্যার চিন্তা দেখা দিলে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।

ডিসক্লেইমার

এই পেজে দেওয়া তথ্য যথাসম্ভব সঠিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, তবে এটি ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো তথ্য অসম্পূর্ণ বা ভুল থাকতে পারে, এবং কোনো ওষুধ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ না থাকার মানে এই নয় যে সেটি নিরাপদ। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বা কোনো সমস্যা হলে সবসময় একজন ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের সাথে কথা বলুন।

DoctorBlogArticles